নিধি তখন নিজের জন্য রান্না করছে। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সেজন্য নিজের জন্য একটু নাস্তা বানাচ্ছে। ক্ষুধা লেগেছে। ওর হাতের রান্না তো এখন আর আপাতত বাড়িতে কেউ খায় না। সেজন্য কারো জন্য রান্না করতেও হয় না। যাক গে ভালোই হয়েছে।
নুডুলস রান্না করে বাটিতে বেড়ে নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরোতেই দেখল ডাইনিং রুমে চেয়ারে বসে সালমা বেগম কেমন যেন হাঁপাচ্ছেন। প্রথম দফায় নিধি বুঝতে পারল না যে ওনার আসলে নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু ধীরে ধীরে যেন বিষয়টা নিধির বোধগম্য হলো। সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে গেল সালমা বেগমের দিকে। উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
“কি হয়েছে? এমন করছেন কেন?”
সালমা বেগম মাথা তুলে তাকালেন নিধির দিকে। তিনি কিছু বলতে পারছেন না। জোরে জোরে শুধু নিঃশ্বাস নিচ্ছেন। ইশারায় নিধিকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে ওনার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। যেন একটু ইনহেলার এনে দেয়। নিধি ঝটপট বুঝলো সেই ইশারা। নুডুলসের বাটিটা টেবিলের উপর রেখে দৌড়ে গেল সালমা বেগমের ঘরে।
তাড়াতাড়ি ইনহেলারটা নিয়ে এসে সালমা বেগমকে দিল। সালমা বেগম ইনহেলার নিলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর একটু স্বাভাবিক হলেন।
“এখন ঠিক আছেন?”
সালমা বেগম উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোধক উত্তর জানালো। নিধি আবারো জিজ্ঞেস করল,
“হঠাৎ আবার শ্বাসকষ্ট বাড়ল কেন? ওষুধ খাচ্ছেন না? দুপুরে তো আপনার ওষুধ থাকে। খাবার তো খাননি। তাহলে ওষুধ কি করে খেলেন? মানে অনিয়ম করছেন যেন আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন? মানে আসল কারণটা হলো অসুস্থ হয়ে গহন কে দুর্বল বানাতে চাইছেন?”
সালমা বেগম নির্জীব দৃষ্টিতে নিধির দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তুমি তো পুরোপুরি কেড়েই নিয়েছ। ওকে যে আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে আনব সেই পরিস্থিতি রাখনি। দুদিন পর তোমাকে নিয়ে হয়তো আলাদা বাড়িতে গিয়ে উঠবে। দুজন সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করবে। এখন আর আমার কোন কিছুই ওর উপর প্রভাব ফেলতে পারবে না। হয়তো আমি ম র লে আমার জানাজাতেও আসবে না।”
“এটা যে অসম্ভব সেটা আপনি নিজেও খুব ভালো করে জানেন। যাইহোক, খাবার খেয়ে ওষুধ খেয়ে নিন।”
“খাবো না।”
“কেন?”
“রুচি নেই মুখে। কাজের লোক কি সব রান্না করে খেতে পারি না।”
নিধির একটু হাসি পেল। আবার খারাপও লাগলো। ভাবল একটু সালমা বেগমকে সহানুভূতি জানাবে। নুডুলস এর বাটিটা সালমা বেগমের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“এই নিন শাশুড়ি আম্মা, নুডলস খান। আপনার ছেলের বউ নিজের হাতে বানিয়েছে। খুব স্বাদ। চিন্তা করবেন না, আমি বি ষ মেশাইনি। আমি ভালোবাসা দিয়ে বানিয়েছি। খেয়ে নিন। হাঁপানিও সেরে যাবে।”
কথাটা বলে নিধি নুডুলস এর বাটিটা সালমা বেগমের হাতে দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে নিলে পিছন থেকে সালমা বেগম বলে উঠলেন,
“আমি তোমাকে খুব ঘৃণা করি সেটা কি তুমি জানো? খুব ঘৃণা করি আমি তোমায়। তুমি আসার আগ পর্যন্ত সব থেকে বেশি ঘৃণা করেছি আমার স্বামী আর শাশুড়িকে। এখন তোমার মাঝে আমি সেই একই লক্ষণ গুলো দেখতে পাই। তোমার চোখে আমার জন্য কোন সম্মান নেই, কোনো ভালোবাসা নেই, কোন স্থান নেই। তুমি আমার কথা মানতে নারাজ। গহনের প্রতি আলগা দরদ দেখাও। এই বিষয়গুলোই তোমার প্রতি ঘৃণা তৈরি করেছে। তোমরা সবাই সব সময় শুধু এটাই প্রমাণ করতে চাও যে আমার থেকে বেশি তোমরা গহন কে ভালোবাসো। কিন্তু কেন করো? আমি ওকে যতটুকু ভালোবাসা দেই ততটুকুই তো ওর জন্য যথেষ্ট। এর বেশি তো ওর প্রয়োজন হওয়ার কথা না। অতটুকুই তো পেত না। আমি দিয়েছি। তারপরও কেন তোমাদের এত আলগা দরদ দেখাতে হবে?”
নিধির পা থেমে গেল। এতক্ষন মন মেজাজটা বেশ ফুরফুরেই ছিল সালমা বেগমের সাথে একটু মশকরা করার জন্য। তবে হঠাৎ করে সেটা আবার বিগড়ে গেল। পিছন ঘুরে সালমা বেগমের দিকে তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলল,
“আপনার সমস্যা কি জানেন? আপনি
ম র বে ন তবুও শোধরাবেন না। গহনকে ভালোবাসা দিয়ে ওর উপর দয়া করেননি আপনি। বরং ওকে ভালোবেসে এই বাড়িতে টিকতে পেরেছেন। নিজের ভালো থাকার জন্য গহন কে ব্যবহার করেছেন আপনি। আর আমাদের কারোর ভালোবাসা আলগা দরদ না। বরং আপনার ভালোবাসা লোক দেখানো।”
“তোমাদের সবার অতিরিক্ত ভালোবাসা গহনের প্রতি আমার বিতৃষ্ণা জন্মানোর জন্য দায়ী। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ঢোকার পর যদি সতীনের ছেলেকে দেখো তাহলে তুমি তাকে মেনে নিতে পারতে? আমার নিঃশ্বাস নেওয়াটাও তো গহনের সাথে ভালো ব্যবহারের উপর নির্ভর করত। তুমি বলোনা, তুমি পারতে এত অত্যাচার সহ্য করতে? গহন তো সামান্য উঁচু গলায় কথা বললেও তুমি সেটা মানতে পারো না। আর সেখানে আমি দিনরাত গহনের জন্য মা র খেয়েছি। তারপরও কিন্তু আমি ওকে ভালোবাসি। কিন্তু তোমাদের আলগা দরদ আমার সহ্য হয় না। সব সময় ওকে নিয়ে এত মাতামাতি আমার সহ্য হয় না। ওর জন্য যা করার আমি করব। যতটুকু ভালোবাসা দেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে হবে আমি দেব।”
“নিজের মানসিকতা ঠিক করুন। দোষ করেছে আপনার স্বামী আর শাশুড়ি। আর তার থেকে বেশি দোষ করেছে আপনার পরিবার একজন বিবাহিত পুরুষের সাথে আপনার বিয়ে দিয়ে। গহন নির্দোষ ছিল, বুঝতে পেরেছেন? মাথার মধ্যে ঢুকলো? স্বাভাবিক বিবেচনা বোধ নেই আপনার যে একটা ছোট বাচ্চা কি করে দোষী হতে পারে?”
সালমা বেগম তাচ্ছিল্য গলায় বললেন,
“কোন দোষ না করেও, সবাইকে দোষী হতে হয়। আমারও কোন দোষ ছিল না। কিন্তু তারপরও আমি সবার চোখে দোষী। কোন অপরাধ না করেও শাস্তি আমি পেয়েছি। তবে গহনের বাবা মা রা যাওয়ার পর থেকে সব ঠিক চলছিল, সব। কিন্তু তুমি সব নষ্ট করে দিলে। তোমাকে আমি কখনো ক্ষমা করব না। না চাইতেও অনেক অ ভি শা প দিয়েছি তোমায়। আর সেগুলোর জন্য আমি একটুও অনুতপ্ত না। আমি চাই তোমার জীবন ধ্বংস হোক। আমার থেকে যা কেড়ে নিয়েছো তোমার থেকে যেন তার দ্বিগুণ জিনিস কেড়ে নেয়া হয়। আমি চাই তুমি একটা কঠিন জীবন পাও। আমি যতটা কঠিন জীবন পেয়েছি তার থেকেও বেশি।”
নিধির কেন যেন রাগ হলো না সালমা বেগমের কথাগুলো শুনে। বরং কষ্ট পেল। নিধি তো ওনার মেয়ের বয়সী। তাকে এভাবে অভিশাপ দিতে পারলেন? একটুও কি কষ্ট হলো না? বিবেকেও বাঁধল না?
“গহনের বিয়ে কেন দিয়েছিলেন বলুন তো? এটা তো জানা কথা, বউ এলে ছেলেরা বদলাবেই। সব ছেলেই বদলায়। আর যদি আমাকে নিয়ে এত অসুবিধা ছিল জারা আপুর সাথে বিয়ে দিতে পারতেন।”
সালমা বেগম রাগে কটমটিয়ে বললেন,
“ওই মেয়ের জন্যই তো বিয়ে দিতে হলো এত তাড়াতাড়ি গহনের। নয়তো দিতাম না বিয়ে।”
নিধি ভ্রু কুঁচকে বলল,
“জারা আপু আবার কোথায় চিমটি কাটল আপনাকে?”
সালমা বেগম ফের রাগে কটমটিয়ে বললেন,
“ওই মেয়ে গহনের পেছনে পড়েছিল অনেকদিন থেকে। কিন্তু আমি জেনেছি অনেক পরে। আমি জানতাম ওকে সামলানো অসম্ভব। তোমাকে তবুও দু একটা কথা শোনানো যায়। কিন্তু ওই মেয়েকে একটা কথা শোনানোর উপায় নেই। আমি জানতাম যদি জুবাইদা গহন কে জারার সাথে বিয়ের ব্যাপারে বলতো গহন ওকে ফিরিয়ে দিতে পারত না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়েটা করে নিত। আমি কখনো চাইনি আমার সংসারে জারার মতন মেয়ে আসুক। সেই জন্য বাধ্য হয়ে বিয়ে দিয়েছি তোমার সাথে। আর আমি তো কখনো কল্পনাও করিনি যে তুমি এমন হবে। দেখতে গিয়ে যে মেয়েটা চোখ অব্দি তুলে তাকায়নি। আর এখন সেই মেয়ে আমার চোখে চোখ রেখে কথা বলে। যার চোখে সেদিন আমি অসহায়ত্ব আর ভয় দেখেছিলাম এখন তার চোখে তেজ আর আগুন ছাড়া কিছুই দেখি না। এতটা বদলে যাবে কি করে বুঝবো?”
নিধি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দুঃখ প্রকাশ করার ভঙ্গিতে বলল,
“আসলে আপনার কপালটাই খারাপ। সেটা অবশ্য আপনার নিজেরই দোষে। আজ যদি আমাকে প্রতিপক্ষ না ভেবে একটু ভালোবাসতেন তবে দেখতেন নিধি পাল্টা আপনাকে ঠিক কতটা ভালোবাসা দিত। আজ যদি আপনি আমাকে একটু ভালোবাসা দিতেন, আপনার ছেলে তো আপনাকে বুক উজার করে ভালোবাসা দিত। বোকা মহিলা। নিজ ইচ্ছেয় ভালোবাসাকে দূরে ঠেলে দিয়ে কপালের দোষ দেন। সময় আছে শুধরে যান। মনে রাখবেন, গহনের মতন ছেলে সারা দুনিয়া খুঁজে এলেও পাবেন না।”
___________
ঘরে এসে নিধির খুব অস্থির অস্থির লাগছে। বারবার সালমা বেগমের বলা কথাগুলো মনে পড়ে যাচ্ছে। খুব ঘৃণা করে সালমা বেগম নিধিকে। ঠিক কতটা ঘৃণা করেন সেটা হয়তো সালমা বেগম নিজেও জানেন না। তবে নিধি ওনার চোখে সেই ঘৃণাটা দেখে আন্দাজ করতে পেরেছে। সেজন্যই তো এখন আরো বেশি অস্থির লাগছে।
শেষে আর থাকতে না পেরে গহনের নাম্বারে কল করল। একবার রিং হতেই গহন ফোনটা রিসিভ করে ব্যস্ত ভঙ্গিতে বলল,
“হ্যাঁ নিধি বলো।”
গহনের কন্ঠটা শুনতেই নিধির বুক ফেটে কান্না এলো। আটকাতেই পারল না। ফোনের অপর পাশ থেকে গহন নিধির ফোঁপানোর শব্দ পেতেই কাজের হাত থেমে গেল। সন্দেহী গলায় জিজ্ঞেস করল,
“তুমি কি কাঁদছো?”
নিধি এবারে শব্দ করে কেঁদে উঠলো। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল গহন। তড়িঘড়ি করে উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
“কি হলো? কাঁদছো কেন? আবার কে কি বলল?”
নিধি ক্রন্দনরত গলায় বলল,
“আপনি কখন আসবেন? আজই আসুন। এক্ষুনি রওনা দিন। আমার ভালো লাগছে না এই বাড়িতে থাকতে। কেউ সহ্য করতে পারে না আমায়। ওরা যদি আমায়
মে রে ফেলে? ওই সাবিত যদি মদ খেয়ে এসে আমায়
খু ন করে! যদি আপনার মা আমার খাবারে বি ষ মিশিয়ে দেয়! আপনি এক্ষুনি আসুন।”
গহন নিধিকে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলল,
“আমি তো আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজে এসেছি, নিধি। আগামীকাল রাতে রওনা দেব। তুমি চিন্তা করো না এমন কিছু হবে না। ওরা কিছু করবে না। আর তাও যদি তোমার ভয় হয় আমি ফুপিকে বলছি গাড়ি পাঠিয়ে দিতে। ওখানে চলে যাও।”
নিধি জেদি গলায় বলল,
“না না না। আমি কোথাও যাব না। আপনি আসুন। নয়ত আমায় নিয়ে যান। একা একা গেলেন কেন? আমায় নিয়ে গেলেন না কেন? বউ ছাড়া থাকবেন কিভাবে? বউকে জড়িয়ে না ধরলে ঘুম হবে? আমাকে নিয়ে যান। আমি থাকবো না। আমার ভয় করছে।”
গহন পড়ল মহা বিপদে। এইতো কয়েক ঘণ্টা আগে এসেছে। অর্ধেকটা কাজও এখনো শেষ করতে পারেনি। এর মাঝেই আবার নিধি ডাকাডাকি করছে। কিভাবে যাবে গহন? গেলে তো একটা ক্ষতি হয়ে যাবে ব্যবসার।
গহন আরো কিছুক্ষণ বোঝালো নিধিকে। কান্নাকাটি করতে নিষেধ করল মেয়েটাকে। একটু হাসানোর চেষ্টাও করলো। গহনের এতো প্রচেষ্টায় লাভ হলো। শেষে নিধির কান্না থামল। কিন্তু বাড়িতে একা থাকতে এখনও ভয় পাচ্ছে। বিশেষ করে রাতে ঘুমোবে কি করে একা এই ঘরে? শেষে গহন বলল জুবাইদা কে কল করে বলবে যেন ওকে এসে নিয়ে যায়। বাধ্য হয়ে নিধি এতেই রাজি হলো।
__________
সময় তখন রাত আটটা। একটু আগে নিধি কে জারা কল করে তৈরি থাকতে বলেছে। ও এসে নিয়ে যাবে। সেই অনুযায়ীই নিধি তৈরি হয়ে বসে আছে।
এমন সময় ঘরে সিনথিয়া এলো। অনুমতি চাইলো ভেতরে আসার জন্য।
“আসবো?”
নিধি দরজার দিকে তাকিয়ে সিনথিয়া কে দেখতেই বিস্ময়ে চোখ কপালে উঠে গেল। বিস্মিত গলায় বলল,
“তুমি হঠাৎ এখানে?”
সিনথিয়া চুপচাপ ভিতরে এলো। সিনথিয়ার এমন শান্ত রুপ নিধিকে একটু অবাকই করল। মেয়েটার দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো আজও সেই একই রকম অগোছালো অবস্থা। কয়েক দিনের ব্যবধানে চোখের নিচে কালিও জমেছে। আজও সেই একই অবস্থা চুলগুলোর। জামা কাপড় গুলোও ময়লা হয়ে আছে। অবাক করার বিষয় হলো গত দুদিন যাবত নিধি সিনথিয়া কে এই একই জামায় দেখছে। তার মানে মেয়েটা দু'দিন যাবত গোসলও করে না। কি এক অদ্ভুত অবস্থা!
নিধির এসব ভাবনার মাঝেই সিনথিয়া বলে উঠল,
“তুমি তো ছোট ভাবিকে সাহায্য করতে চেয়েছিলে। কিন্তু ছোট ভাবি তোমার সাহায্য নেয়নি। আমি একটা সাহায্য চাইছি তোমার থেকে। আমায় সাহায্য করবে? আমি ঠকাবো না।”
সিনথিয়ার কথাটা শুনে নিধির কপালে গাঢ় ভাঁজ সৃষ্টি হলো। ভ্রুঁ কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“কি সাহায্য?”
“আগে বলো করবে। আর কথা দাও যে এই কথাটা আর কাউকে জানাবে না তুমি। ভাইয়াকেও না। এই কথাটা শুধু আমাদের দুজনের মাঝে থাকবে। বলো না, করবে সাহায্য?”
নিধির কাছে তো পুরো ব্যাপারটাই খটকা লাগলো। এই মেয়ে তো নিধির সাথে এত ভালোভাবে কথা বলার কথা না। তার উপরে আবার হুট করে এসে সাহায্য চাইছে। আবার বলছে কাউকে জানানো যাবে না। এমনকি গহনকেও না। নিধি যেন এতেই নিশ্চিত হয়ে গেল যে আবারও এরা কোন ষড়যন্ত্র করছে।
“অসম্ভব। তোমাদের ভালো করতে নেই সেটা আমি খুব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছি। একদম আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করবে না। তোমার মাকে গিয়ে বলে দাও বারবার একই চাল চাললে সফল হতে পারবেন না উনি। নতুন কিছু ভাবতে বল।”
সিনথিয়া নির্জীব গলায় বলল,
“আমাকে মা পাঠায়নি। আমি নিজেই এসেছি। কোন ষড়যন্ত্র করতে আসিনি। বলো না, সাহায্য করবে? কাউকে খুঁজে পাচ্ছিনা সাহায্য চাওয়ার মতন। তোমাকেই দেখলাম বোকার মত নিজ থেকে এগিয়ে গিয়ে অন্যের সাহায্য করতে চাও। তাই তোমার কাছে এলাম।”
নিধির মনটা কেন যেন একটু দুর্বল হতে চাইলো। সিনথিয়ার কথা বলার ভঙ্গিটা দেখে মনে হলো সত্যি বলছে। কিন্তু পরক্ষণেই যখন ঋতুর কথা মনে পড়লো সঙ্গে সঙ্গে আবার নিজের মত বদলে ফেলল। এরা ভালো হতেই পারে না। এদের রক্তেই ঝামেলা আছে। সঙ্গে সঙ্গে সিনথিয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলল,
“আমি তোমার কোন সাহায্য করতে পারবো না। তুমি সত্যি বলছো নাকি মিথ্যে বলছো জানি না। তবে এসব ঝামেলায় আমি আর জড়াতে চাই না। যদি সত্যি তোমার সাহায্যের প্রয়োজন হয়ে থাকে গহনের সাথে কথা বলো। আমি একা একা কিছু করতে পারব না। আমার বিশ্বাসটা নষ্ট হয়ে গেছে।”
সিনথিয়া অসহায় গলায় বলল,
“সত্যি তাহলে সাহায্য করবে না?”
নিধি অনেক কষ্টে গম্ভীর থাকার চেষ্টা করে বলল,
“না।”
সিনথিয়া আর সেখানে দাঁড়ালো না। ঢলতে ঢলতে চলে গেল। সিনথিয়া সেখান থেকে চলে যেতেই নিধির কেন যেন একটু খারাপ লাগলো। এই প্রথম সিনথিয়া কে দেখে মনে হলো মেয়েটা সত্যি অসহায়। বোধহয় সত্যি বলছিল। কিন্তু নিধি কি করবে? ও তো নিজেই সাহায্য করতে গিয়ে ফেঁসে যায়। তাই ভেবেছে আর এদের সাহায্য করতে যাবে না। অন্তত ওদের জন্য গহনের সাথে সম্পর্কটা কোন মতেই খারাপ করবে না।