সাইয়ারার এমন জেদ মেশানো চড়া আর স্পষ্ট জবাব শুনে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো সবাই। ডাইনিং টেবিলে এক অদ্ভুত, থমথমে নীরবতা নেমে এলো। সবাই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। সাইয়ারা মাথা নত করে প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে।
উম্মে হাবিবা নিজেকে সামলে রাগান্বিত স্বরে বললেন,
“কী ধৃষ্টতা! বড়দের সামনে কেমন তড়তড় করে কথা বলছে!”
সাইয়ারা মুখ তুলল আবার। রুক্ষ স্বরে বলল,
“সত্য কথা বলতে ভয় পায় না এই সাইয়ারা শিকদার। আর ভুল কী বলেছি আমি? আপনাদের ছেলে যখন জ্বলজ্যান্ত বউ রেখে অন্য মেয়ের সঙ্গে প্রেম করেছে তখন কেউ তো তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেননি। উলটো তখন সবাই বলেছিলেন আমাকে রাখবেন না। তা কোথায় গেলো আপনাদের ছেলের সেই সো কল্ড প্রেমিকা? যখন দেখেছে হাঁটতে চলতে পারছে না তখনই ছেড়ে পালিয়েছে নাকি?”
সাইয়ারার কথা শুনে বাকরুদ্ধ সবাই। কেউ ভাবতেই পারেননি এই মেয়ে এভাবে কথা বলতে পারে। চোখের দৃষ্টি আর কথায় কি ধার!
তার কথার বিপরীতে আর কোনো কথা বলতে পারল না কেউ। মূলত কথা বাড়াতে চাইলো না আর। আর কিছু বললে এই মেয়ে আজকেই ঝামেলা লাগিয়ে দিবে। জাওয়াদের চেয়েও বেশি জেদি আর ঘাড় ত্যাড়া দেখা যাচ্ছে। আর রাগ তো নাকের ডগায়।
সাইয়ারা খাওয়া শুরু করল চুপচাপ। এখন যদি কেউ আর কিছু বলে তার পড়াশোনা নিয়ে তবে সে ঝড় তুলবে এই বাড়িতে তাতে যা হয় হবে।
বেশি খেতে পারল না সাইয়ারা, কয়েক লোকমা খেয়েই চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে গেলো।
জেসমিনের নানি মুখের ভাত গিলে বললেন,
“মেয়ের কি তেজ, বাপ! কথা তো না, মনে হয় মুখ দিয়ে আগুন বের হয়!”
হোসনে আরা ভাত মাখাতে মাখাতে বললেন,
“ওর দোষ কোথায়? পরিস্থিতি ওকে এমন বানিয়েছে। দোষ তো ওর বাপ-চাচাদের।”
কথাগুলো বলতে বলতে শ্বশুরের দিকে তাকালেন হোসনে আরা। সঙ্গে সঙ্গেই মাথা নিচু করে নিলেন সামিউল শিকদার। লোভে পড়ে পাপ তো করেছিলেন তিনি। তার জন্য দুটো পরিবারের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জাওয়াদ আর সাইয়ারার।
প্রায় নয় বছর আগের ঘটনা। তখন জাওয়াদ আর সাইয়ারার বিয়ের এক বছর পার হয়ে গেছে। মিরপুর ১০-এ তাদের একটা জমি ছিল, যেটা নিয়ে দীর্ঘ অনেক বছর ধরে মামলা চলছিল। জমিটা ছিল সামিউল শিকদারের বাবার নামে। তাদের জমি অন্য মানুষ দখল দিয়ে নিজেদের বলে দাবি করছিল। কোনোভাবেই তারা সেই জমি নিজেদের দখলে আনতে পারছিলেন না, কারণ সেই জমির আরেকটা দলিল সেই দখলদারদের কাছেও ছিল। একটা জমির দুটো দলিল, এবং দুই দলিলে আলাদা আলাদা মালিকের নাম উল্লেখ করা, আর দুই পক্ষেরই দাবি জমি তাদের। তখন সেই জমির বাজার মূল্য ছিল পঁচিশ কোটি, যা এখন আগের দামের দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
অনেক দৌড়ঝাঁপের পর জমিটা শিকদাররাই পান। সামিউল শিকদার আর সাজিদুল শিকদারের আর কোনো ভাইবোন না থাকায় জমির উত্তরাধিকার ছিলেন তারা দুই ভাই। কিন্তু সামিউল শিকদার ছোটো ভাইকে ঠকিয়ে, মিথ্যে বলে তার কাছ থেকে সই নিয়ে জমি বিক্রি করে দেন, আর পুরো টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেন।
জমি বিক্রি হওয়ার দুই মাস পর সাজিদুল শিকদার আর সরোয়ার শিকদার জানতে পারেন জমিটা বিক্রি হয়ে গেছে। তারা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। সাজিদুল শিকদার তো এই কথা মানতে পুরোপুরি নারাজ। নিজের আপন বড়ো ভাই, যাকে তিনি বাবার মতন সম্মান করেন, সে টাকার লোভে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করবে?
সন্ধ্যার পর সাজিদুল শিকদার ছেলে সরোয়ার শিকদারকে নিয়ে সোজা এসে হাজির হন সামিউল শিকদারের বাড়িতে। ড্রয়িংরুমে তখন সামিউল শিকদার তার দুই ছেলে জামশেদ আর জামিলকে নিয়ে চা খাচ্ছিলেন।
সাজিদুল শিকদারকে এমন ঝড়ের বেগে বাড়ির ভেতর প্রবেশ দেখে সামিউল শিকদার কিছুটা হকচকিয়ে গেলেও নিজেকে সামলে নেন। সাজিদুল শিকদার কোনো ভণিতা না করে শান্ত গলায় সরাসরি প্রশ্ন করেন,
“ভাই, আমি এসব কী শুনছি? মিরপুরের জমি নাকি বিক্রি হয়ে গেছে?”
সামিউল শিকদার চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন,
“হ্যাঁ, বিক্রি করেছি। তো?”
বড়ো ভাইয়ের এমন গা ছাড়া কথা শুনে সাজিদুল শিকদারের চড়ে যাওয়া মেজাজ আরও চড়ে যায়। প্রথমে তার গলার আওয়াজ শান্ত থাকলেও এবার কিছুটা রাগী গলায় বললেন,
“তো আবার কী? তুমি যে জমিটা বিক্রি করলা একবারও জানাইছো আমারে?”
“প্রয়োজন মনে হয়নি তাই জানাইনি। জমিটা নিয়ে তো কম বছর মামলা চলেনি। আমিই তো দৌড়াদৌড়ি করে সব উদ্ধার করলাম।”
সরোয়ার শিকদার এবার আর চুপ থাকতে পারলেন না। চাচার এমন ভাবলেশহীন কথা শুনে চোয়াল শক্ত করে বললেন,
“দৌড়াদৌড়ি আপনি একা করেননি, কাকা। আমার আব্বাও আপনার সাথে দিনের পর দিন কোর্টের বারান্দায় ঘুরেছে। আব্বাকে সরল সোজা পেয়ে আপনি ধোঁকা দিয়ে আব্বার সই নিয়েছেন! পঁচিশ কোটি টাকার অর্ধেক তো আমাদেরও প্রাপ্য। আমাদের টাকা কোথায়?”
সরোয়ার শিকদারের এমন চড়া গলার প্রশ্ন শুনে জামশেদ শিকদার তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আঙুল উঁচিয়ে বললেন,
“মুখে লাগাম দিয়ে কথা বল, সরোয়ার! আমাদের বাড়িতে এসে আব্বার মুখের ওপর গলা উঁচিয়ে কথা বলছিস কোন সাহসে? কীসের টাকা তোদের? মামলার পেছনে গত বিশ বছর ধরে যে লাখ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, উকিলের ফি দেওয়া—
মাঝপথে থামিয়ে দিলেন সরোয়ার শিকদার। আঙুল তুলে বললেন,
“একদম মিথ্যে কথা বলবে না, ভাই। মামলার পেছনে, উকিলের পেছনে টাকা আমরা খরচ করিনি? আব্বার চেয়ে জমিজমার বিষয়ে কাকা বেশি ভালো বোঝেন তাই আব্বা কাকার ওপর ভরসা করে থেকেছেন। এই জমির পেছনে যত টাকা আপনারা খরচ করেছেন তত টাকা আমরাও করেছি। কোনো ঝামেলা চাইছি না আমি, ভালোয় ভালোয় আমাদের ভাগের টাকা বুঝিয়ে দিন।”
সামিউল শিকদার অত্যন্ত কঠিন স্বরে বললেন,
“না দিলে কী করবি? আর তোকে তো আমি টাকা দিয়েছিলামই। ব্যবসার জন্য যে টাকা নিলি এখন আবার কীসের টাকা চাস? আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা পাবি তোরা, যা এখান থেকে।”
নিজের আপন ভাইয়ের মুখের এমন কথা শুনে সাজিদুল শিকদারের পায়ের তলার মাটি সরে গেল যেন। এত বড়ো বেইমানি! সরোয়ার শিকদার রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে চিৎকার করে উঠলেন,
“ব্যবসার জন্য মাত্র দশ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। আমি কিছু দিন পরই তো সেই টাকা ফেরত দিতে এসেছিলাম, আপনারাই তো রাখেননি তখন। আর এখন বলছেন মাত্র দশ লাখ টাকা দিয়ে সাড়ে বারো কোটি টাকা শোধ! তার মানে আপনি আগে থেকেই প্ল্যান করে আমাদের ঠকিয়েছেন! মিথ্যে বলে প্রতারণা করে আব্বার সই নিয়েছেন! এই টাকা কী আপনার একার বাবার সম্পত্তি নাকি? কীভাবে হজম করেন দেখি আমরাও!”
জামিল শিকদার এগিয়ে এসে সরোয়ার শিকদারের কলার চেপে ধরে বললেন,
“বেয়াদব কোথাকার! আমাদের বাড়িতে এসে আমাদেরই হুমকি দিচ্ছিস? ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো একদম।”
সরোয়ার শিকদার রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে জামিল শিকদারকে সজোরে ঘুষি দিয়ে বসেন, তারপর ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলো। জামশেদ শিকদার আর জামিল শিকদার সরোয়ার শিকদারের ওপর আরও বেশি চড়াও হলেন। হাতাহাতি শুরু হয়ে গেলো তিনজনের মধ্যে। দুই ভাইয়ের সঙ্গে পেরে উঠছেন না সরোয়ার শিকদার।
শান্ত স্বভাবের সরল সোজা সাজিদুল শিকদার প্রথমবারের মতন বড়ো ভাইয়ের উপর চিৎকার করে উঠলেন। উনার পুরো শরীর রাগে কাঁপছিল। বিশ্বাসভঙ্গ আর ভাইয়ের এমন বেঈমানিতে আগ্রাসী হয়ে বললেন,
“আমার ছেলের গায়ে হাত তোলার সাহস তোদের কীভাবে হলো? এই রক্তচোষা বেইমানের দল, তোদের আমি ছাড়ব না! আমার হকের এক একটা টাকা তোদের বুক চিরে বের করব আমি!”
সামিউল শিকদার রাগে ফেটে পড়ে বললেন,
“যেই বা/ল ছিঁড়তে পারিস ছিঁড়িস। এখন বের হ আমার বাড়ি থেকে। তোরা কোন বা/ল করতে পারবি সেটা আমি জানি।”
সামিউল শিকদারের এমন অশালীন ও অবজ্ঞাপূর্ণ কথা শোনার পর সাজিদুল শিকদারের ভেতরের শেষ ভদ্রতাবোধটুকুও দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। এত বড়ো জালিয়াতি করে আবার এত বড়ো বড়ো কথা! নিজের আপন ভাইয়ের এমন কুৎসিত ও নোংরা রূপ তিনি আগে কখনো দেখেননি। তিনি অনেক শুনেছেন ভাইয়ে-ভাইয়ে কিংবা শরিকি বিরোধে যখন বড় অঙ্কের অর্থের প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়, তখন অনেক সময় র’ক্তের সম্পর্কও ফিকে হয়ে যায়। মুখের ভাষা বদলে যায়, আচরণে নেমে আসে চরম অবক্ষয়—যা বাইরের কোনো শত্রুর কাছ থেকেও আশা করা যায় না। যে ভাই একসময় আপন থাকে, স্বার্থের সংঘাতে সেই ভাই-ই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড়ো প্রতিপক্ষ। তিনি কোনোদিন ভাবেননি তার নিজের ভাই আর তার সঙ্গে এই কথাগুলো এভাবে মিলে যাবে। তিনি গর্ব করে নিজের বড়ো ভাইয়ের কথা এলাকায় বলে বেড়াতেন, তার ভাইয়ের মতন ভাই হয় না।
নিজের আপন বড়ো ভাই, যাকে তিনি বাবার মতো সম্মান করেন, সে টাকার লোভে এমন ন্যাক্কারজনক বিশ্বাসঘাতকতা করবে তা সাজিদুল শিকদার কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। পুরো পঁচিশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা এবং তার প্রতিবাদ করায় ছেলে সরোয়ারের গায়ে হাত তোলার এই অপমান সাজিদুল শিকদারের বুকে তীরের মতো বিঁধেছে।
বাড়ির নারীরা সবাইকে থামতে বলছেন কিন্তু কেউ থামছে না। বাচ্চারা ভয়ে তটস্থ হয়ে গেছে।
উত্তেজনায় সাজিদুল শিকদারের গায়ের র’ক্ত টগবগ করে ফুটছে। তিনি সামিউল শিকদারের দিকে দুই পা এগিয়ে গিয়ে আঙুল উঁচিয়ে একদম কাঁপানো ও কড়া গলায় বললেন,
“মুখ সামলে কথা বলবি, সামিউল! র’ক্তের গরম দেখাস না। টাকার গরমে তুই ভুলে গেছিস তুই কার সাথে কথা বলছিস! তোর মতো চোর-জোচ্চোরকে ভাই বলতেও আমার ঘেন্না হচ্ছে! আমার হকের টাকা তুই একলা গিলে তোর ওই দুই কুলাঙ্গার ছেলেকে নিয়ে হজম করবি, আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখব? এত সোজা?”
“উলটাপালটা কথা বলবি তো থাপরে তোর দাঁত ফেলে দিবো।”
“দিয়ে দেখ শুধু একবার! তোর বুড়ো হাতে কত জোর আমিও দেখি। বাপ যেমন চোর, ব্যাটাগুলোও তেমন ডাকাত হইছে! অন্যের হক মে’রে বড়লোক সাজার এই খায়েশ আমি তোদের মিটিয়ে ছাড়ব। তুই নিজেরে কী ভাবিস রে? আইনের হাত কত লম্বা তোর ধারণা আছে? তোদের এই জালিয়াতি আর আমার ছেলের গায়ে হাত তোলার অপরাধে তোদের তিন বাপ-ব্যাটাকে যদি আমি জেলের ভাত না খাওয়াইছি, তবে আমি সাজিদুল শিকদারই না! তুই তোর ছেলেরা কত বড় গুন্ডা হইছিস আমিও দেখব!”
সাজিদুল শিকদারের এই অনমনীয় ও ক্ষুরধার জবাব ড্রয়িংরুমের বাতাসকে আরও ভারী করে তুলল। সামিউল শিকদারের মেজাজ এবার একদম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলো। টাকার নেশায় তিনি সত্যিই অন্ধ হয়ে গেছেন। আপন ভাইকে এমনভাবে ঠকিয়েও উনার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুতাপ নেই।
সাজিদুল শিকদার রাগারাগি করতে করতে ছেলেকে দুই ভাতিজার হাত থেকে ছাড়ানোর জন্য এগোলে জামশেদ শিকদারের ধাক্কায় উনার গলার স্বর মাঝপথেই অদ্ভুতভাবে আটকে গেলো। ঘাড়ের পেছনে তীব্র ব্যথায় উনার পুরো মুখটা বিকৃত হয়ে গেলো। উনার মনে হলো ঘাড়ের ভেতরে কিছু একটা ছিঁড়ে গেলো। দুই হাতে নিজের ঘাড় চেপে ধরে চোখ দুটো বন্ধ করে মেঝেতে আছড়ে পড়লেন।
‘আব্বা!’ বলে সরোয়ার শিকদার জামিলকে ধাক্কা দিয়ে বাবার কাছে এসে ধরলেন তাকে।
ড্রয়িংরুমের উপস্থিত সবাই মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে গেলো। সরোয়ার শিকদার চিৎকার করে বাবাকে ডাকতে লাগলেন।
“আব্বা! আব্বা, চোখ খোলো! কী হয়েছে তোমার? আব্বা!”
কিন্তু সাজিদুল শিকদার আর চোখ মেললেন না। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে উনার শরীরটা একদম নিথর, নিস্প্রাণ হয়ে গেলো। সামিউল শিকদার, জামশেদ আর জামিল হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন সাজিদুল শিকদারের নিথর দেহের দিকে। টাকার লোভ যে এত দ্রুত একটা তাজা প্রাণ কেড়ে নেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
*****
জমি বিক্রির পুরো টাকা আত্মসাৎ করা আর বাবার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃ'ত্যুর ধাক্কাটা সরোয়ার শিকদারকে ভেতরে ভেতরে পাথর বানিয়ে দিয়েছে। বাবার দাফন-কাফন শেষ হওয়ার পর বিকেলেই নিজের চোখের পানি মুছে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি সোজা থানায় গিয়ে সামিউল শিকদার, জামশেদ শিকদার এবং জামিল শিকদারের নামে প্রতারণা, জালিয়াতি, টাকা আত্মসাৎ এবং বাবার মৃ'ত্যুর জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী করে মামলা ঠুকে দিলেন। একই সাথে উনার গায়ে হাত তোলার কারণে মা'রধরের ধারাও যোগ হলো মামলায়।
সরোয়ার শিকদার আরও সিদ্ধান্ত নিলেন কিছুতেই ওই বেঈমানদের বাড়িতে সাইয়ারাকে পাঠাবেন না। জাওয়াদের সঙ্গে তালাক করিয়ে বড়ো হলে অন্য জায়গায় বিয়ে দিবেন। সাইয়ারা এখন ছোটো, জাওয়াদকে ভুলতে তার সময় লাগবে না।