তোমার নামেই গল্প হোক

পর্ব - ৯

🟢

সময় তখন রাত দুটো। নাঈম গভীর ঘুমে তলিয়ে। হঠাৎ করে এই মাঝরাতে ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনের শব্দে ঘুমটা ভাঙলো। দুচোখ থেকে ঘুমের লেস এখনো কাটেনি। পাশে হাতরে ফোনটা খুঁজে বের করে সামনে ধরতেই দেখলো নিবিড় কল করেছে। ঘড়িতে সময় দেখলো রাত দুটো বাজে। মূহুর্তের মাঝে নাঈমের দুচোখ থেকে ঘুম হাওয়া হয়ে গেল। লাফ দিয়ে উঠে বসে কলটা রিসিভ করে কানে ধরে উদ্বিগ্ন গলায় বলল,

“কি হয়েছে ভাইয়া? সব ঠিক আছে তো? এত রাতে কল করলে কেন? ভাবি, বাচ্চারা ঠিক আছে?”

অপর পাশ থেকে ভেসে এলো নিবিড়ের চিন্তিত কণ্ঠস্বর।

“ওদের তো খুঁজে পাচ্ছি না।”

নাঈম কপালে কুঁচকে বলল,

“কাকে খুঁজে পাচ্ছো না?”

“মোহিনী আর বাচ্চাদেরকে খুঁজে পাচ্ছিনা। আমি অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর পাইনি ওদের বাড়িতে। কোথাও চলে গেছে বাচ্চাদের কে নিয়ে মোহিনী। কোথায় গেছে কিছু বুঝতে পারছি না। সম্ভাব্য সব জায়গায় কল করেছি। কোন বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতেও যায়নি। ওর ফোনটাও বন্ধ। আমি কি করবো কিচ্ছু বুঝতে পারছি না। পাগল পাগল লাগছে আমার।”

হঠাৎ করে ব্যাপারটা নাঈমের মস্তিষ্ক ঠিক ধারণ করতে পারছে না। ফলস্বরুপ প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করলো,

“ভাবি আর বাচ্চাদেরকে খুঁজে পাচ্ছো না মানে কি? কেন খুঁজে পাচ্ছো না? কেন চলে গেল ওরা? ভাইয়া, ঠিকঠাক বলছো তো নাকি ঘুমের ঘোরে কল করেছো?”

নিবিড় রাগান্বিত গলায় বলল,

“আমাকে কি তোর পাগল মনে হয় যে রাত দুটোর দিকে ঘুমের ঘোরে তোকে কল দিয়ে এসব বলবো? আমি এখন গাড়ি নিয়ে সারা রাস্তা জুড়ে খুঁজছি ওদেরকে। সমস্ত জায়গায় কল করেছি কারো বাড়িতেই যায়নি।”

“হঠাৎ করে চলে গেল কেন? আবার ঝগড়া করেছো তাই না? তোমাদেরকে এতবার করে বুঝিয়ে রেখে চলে এলাম। বাবা এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন তারপরেও তোমরা সবটা ঠিক করে নেওয়ার কথা ভাবতে পারলে না? কি এমন করেছো যে ভাবি চলে গেল? তাই বলে বাড়ি ছেড়ে চলে গেল আর আমাদের কারো সাথে যোগাযোগও করলো না। নিশ্চয়ই এবারে তোমার অন্যায়টা খুব বড় ছিল তাই না?”

নিবিড় মাথাটা সিটের সাথে এলিয়ে দিয়ে বলল,

“না রে ভাই। ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গেছে। তবে তুই ঠিক বলছিস, দোষটা আমার। আমি মানছি এবারে দোষটা আমার। আমার অন্যায়টা খুব বড়। কিন্তু ভাই মোহিনী যেটা ভেবে চলে গেছে সেটা ভুল। আমায় ভুল বুঝে চলে গেছে।”

“করেছো কি সেটা একটু বলবে আমায়?”

নিবিড় একটা লম্বা শ্বাস টেনে যতটা সংক্ষেপে সম্ভব নাঈম কে সবটা বলল। মোহিনী যা বুঝেছে, সাথে আসল ব্যাপারটা কি নিবিড় সেটাও বলল। নাঈমের এখন নিবিড়কে বকাঝকা করা উচিত নাকি ওকে সান্ত্বনা দেওয়া উচিত ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। মোহিনীর ভুল বোঝাটা তো অস্বাভাবিক না। আবার এদিকে নিবিড় একদিকে যেমন অপরাধী আবার একদিকে তেমন অপরাধী না। অন্তত মোহিনী যেটা ভেবেছিল সেটা তো ঠিক না।

“আচ্ছা শোন, মিতালী তো ওই বাড়িতে আছে। তুই কল করে শুনিস কেমন যে মোহিনী ওর বাপের বাড়িতে গেছে কিনা। আর যদি যায় প্লিজ নাঈম সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানাস।”

কথাটা বলে নিবিড় কলটা কেটে দিল। আবার ফোনে নাম্বার খুঁজতে লাগলো যে কার কাছে কল করা বাকি রয়ে গেছে। আর কে এমন রয়েছে যার কাছে মোহিনী থেকে থাকতে পারে। কিন্তু অবশেষে কাউকে খুঁজে পেল না। সম্ভাব্য সব্বাইকে কল করা শেষ। কিন্তু তবুও মোহিনীর কোন খোঁজ দিতে পারেনি কেউ নিবিড় কে। তাহলে মোহিনী গেলটা কোথায়? কোথায় খুঁজবে নিবিড় এখন মোহিনী আর ওদের বাচ্চাদার কে?

____________

সকাল হতে হতে দুই বাড়ির লোক লোকজনই জেনে গেল যে মোহিনী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেছে বাচ্চাদেরকে নিয়ে নিবিড়কে কোন কিছু না জানিয়ে। নিবিড় যে সারারাত ওর কোন খোঁজ পায়নি, মোহিনীর ফোনটাও যে বন্ধ সেই খবরও সবাই জানতে পারলো। সঙ্গে সঙ্গে দু বাড়ির লোকজনই চিন্তার মাঝে পড়ে গেল। একের পর এক নিবিড় এর কাছে কল আসতে লাগল। নিবিড় প্রথম দু-একবার কল রিসিভ করে কথা বলার চেষ্টা করলো। স্বাভাবিক কোনো কথা তো হলোই না। নিজের মা-বাবার থেকে বকা শুনতে হলো। মোহিনীর মা-বাবা অবশ্য শুধু কান্নাকাটি করে বলেছে যেন তাড়াতাড়ি মোহিনীকে খুঁজে বের করে।

সারারাত নিবিড় পুরো শহর জুড়ে রাস্তায় রাস্তায় প্রতিটা অলিতে গলিতে খুঁজেছে। যাদের মুখের কথায় বিশ্বাস করতে পারছিল না যে মোহিনী ওদের বাড়িতে গেছে কিনা সরাসরি তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখে এসেছে। কিন্তু তবুও মোহিনী কে পায়নি। শেষে বাধ্য হয়ে সকালে মোহিনীর অফিসের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। ভাবলো যদি মোহিনী অফিসে আসে তাহলে অন্তত দেখা করা যাবে। অন্তত চাকরিটা তো আর এত তাড়াতাড়ি ছাড়বে না।

নিবিড় আধাঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকল কিন্তু এতক্ষনেও মোহিনীর দেখা পাওয়া গেল না। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর সাদিয়াকে অফিসে ঢুকতে দেখল। গতকাল রাত থেকে মেয়েটার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি নিবিড়। না সাদিয়ার বাড়ির ঠিকানা জানতো, না ফোন নাম্বার ছিল। নিবিড় তাড়াহুড়ো করে ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে সাদিয়ার পথ রোধ করে দাঁড়ালো। সকাল সকাল নিবিড়ের মুখটা দেখতেই সাদিয়ার মন মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। রাগান্বিত গলায় বলল,

“কি সমস্যা আপনার? আমার পথ আটকাচ্ছেন কেন আবার?”

নিবিড় যথাসম্ভব শান্ত গলায় বলল,

“দেখুন, আপনি যা ইচ্ছে আমাকে বলতে পারেন। আমি আপনাকে বাধা দেব না। শুধু একটা কথা বলুন, আপনি কি জানেন মোহিনী কোথায়? মোহিনী কি আপনার কাছে আছে?”

সাদিয়া ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,

“মানে? মোহিনী আমার কাছে থাকতে যাবে কেন? বাড়িতে নেই?”

“বাড়িতে থাকলে কি আর আপনাকে জিজ্ঞেস করতাম বলুন। গতকাল রাতে বাড়িতে গিয়ে মোহিনী আর বাচ্চাদের পাইনি। মোহিনী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেছে বাচ্চাদের নিয়ে। আমি রিকুয়েস্ট করছি আপনাকে, যদি জেনে থাকেন মোহিনী কোথায় আছে তাহলে আমাকে বলুন। অন্তত দুশ্চিন্তা হবে না আমার।”

“আরে আমি কি করে জানবো মোহিনী কোথায়। গতকাল রাতে আমি ওকে একবার কল করেছিলাম। কিন্তু নাম্বারটা বন্ধ পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম দুশ্চিন্তায় হয়তো বন্ধ করে রেখেছে। তাই বলে যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে আমি তো সেটাই জানিনা।”

নিবিড় সন্দেহী গলায় বলল,

বিজ্ঞাপন

“সত্যি জানেন না?”

“আরে বাবা না, জানি না আমি। নিজে অঘটন ঘটিয়ে এখন আমাকে আবার সন্দেহ করছেন। আসলে মোহিনী একদম ঠিকই করেছে। এমনিতেও আপনার মত মানুষের সাথে সংসার করা যায় না। আর আপনি এখন মোহিনী কে খুঁজে বেড়াচ্ছেন কেন? সঙ্গে থাকতে তো দরদ ছিল না। তখন তো চিন্তা হয়নি যে মোহিনী কখন বাড়ি ফিরছে, কখন কোথায় থাকছে। আপনি বাড়ি গিয়ে চুপচাপ ঘুমোন নয়তো প্রেমিকার সাথে আবার রেস্টুরেন্টে বসে থেকে ব্রেকফাস্ট করুন। যত্তসব।”

আরো বিড়বিঢ করে নিবিড় কে গালি দিতে দিতে সাদিয়া অফিসের ভিতরে চলে গেলে। নিবিড় বুঝলো সাদিয়া আসলেও জানেনা মোহিনীর খোঁজ।

সাদিয়ার বলা কথাগুলোর থেকে যেন নিবিড় নিজের ভুল উপলব্ধি করতে পারছে। সত্যিই তো মোহিনী যখন ওর কাছে ছিল তখন তো এভাবে ওর খোঁজ নেয়নি। তখন তো মোহিনীর কথা ভাবেনি। আর আজ যখন হারিয়ে গেছে তখন এই কয়েক ঘন্টার মাঝেই নিবিড় যেন বুঝতে পারছে মোহিনী কে ছাড়া থাকতে ওর ঠিক কতটা কষ্ট হবে। একবেলা মোহিনীর খোঁজ না পেলে ও ঠিক কতটা অস্থির হয়ে উঠবে।

____________

আজ আর অফিসে যাওয়া হয়নি নাঈমের। ঘরে বসে চুপচাপ ভাবনা চিন্তা করছে যে কি করে মোহিনীর খোঁজ পাওয়া যায়। কোথায় গেলেই বা মোহিনীর খোঁজ পাওয়া যাবে। নাঈমের এসব ভাবনার মাঝেই ওর ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলো অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে কল এসেছে। ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে মোহিনীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।

“নাঈম, আমি তোর ভাবি। চেঁচাস না। শান্ত থাক। কাউকে বুঝতে দিস না যে আমি কল করেছি।”

নাঈম তখন ঘরে একাই ছিল। কিছু বললেও আশেপাশে কেউ কিছু দেখতে পাবে না। তবে তারপরেও মোহিনীর কন্ঠটা শুনে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলো। অন্তত মোহিনীর কণ্ঠটা যে শুনতে পেয়েছে এতেই যেন শান্তি পেল। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,

“ভাবি কোথায় তুমি? চিন্তায় চিন্তায় আমরা পাগল হয়ে যাচ্ছি। গতকাল রাত থেকে ভাইয়া তোমায় খুঁজতে খুঁজতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেছে। অন্তত এখানে তো তুমি আসতে পারতে। কোথায় আছো একবার জানাতে তো পারতে অন্তত আমাদের।”

মোহিনী বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,

“জানানোর কি আছে? তোরা তো জানিসই যে আমরা দুজন কোন না কোন একদিন আলাদা হতাম। হয়তো একটু তাড়াতাড়ি হয়ে গেলাম।”

“একদম চুপ। তোমরা আলাদা হবে না। তুমি ভাইয়াকে ভুল বুঝেছো ভাবি। হ্যাঁ আমি জানি যে পরিস্থিতিতে তুমি দেখেছিলে তাতে তোমার ভুল বোঝা স্বাভাবিক। আমি তোমার দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু তুমি যেমনটা ভাবছো তেমনটা না।”

“ওহ্। তোর ভাই জানিয়েছে সব তোকে।”

“হ্যাঁ। গতকাল মাঝরাতে কল দিয়ে জানিয়েছে। প্লিজ ভাবি তুমি যেখানেই থাকো বাড়ি ফিরে এসো। নাহলে আমাকে বলো কোথায় আছো? আমি গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসছি। তুমি ভাইয়ার সাথে থাকবে না তো ঠিক আছে। তুমি আমাদের সঙ্গে থাকবে। এটাও তো তোমারই বাড়ি।”

মোহিনী একটা হতাশার শ্বাস ছেড়ে বলল,

“বাড়ি যেতে পারব না। মা-বাবার মুখোমুখি হওয়া সম্ভব না। ওখানে গেলেই তোরা সবাই আমাকে বোঝানো শুরু করবি যেন সব ঠিকঠাক করে নেই। তবে এবারে আমার পক্ষে সত্যিই সবটা মিটমাট করা সম্ভব না।”

“ভাবি এভাবে বলোনা। এটা হতে….।”

নাঈম কে নিজের কথার মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে মোহিনী ফের বলে উঠলো,

“চিন্তা করিস না আমি ঠিক আছি। ভালো আছি। আনিকা আপুর বাড়িতে এসেছি গতকাল। নিবিড় কে জানাস না। আমি ওর মুখোমুখি হতে চাই না। বাড়ির কাউকেও জানানোর দরকার নেই যে আমি কোথায় আছি। শুধু সবাইকে জানিয়ে দিস যে আমি ভালো আছি বাচ্চাদের নিয়ে। আমাকে একটু নিজেকে সামলে নিতে দে। তারপর আমি ওদের সাথে কথা বলবো। শুধু তোকে জানিয়ে রাখলাম যেন কেউ চিন্তা না করে। এখন রাখছি।”

___________

নিবিড় তখনও মোহিনীর অফিসের সামনে বসে আছে। পণ করেছে যে আজ সারাদিন অফিসের সামনে থেকে নড়বে না। এমনকি যতক্ষণ না মোহিনীর খোঁজ পাবে ততক্ষণ অফিসের সামনে থেকে নড়বেই না। কোন না কোন এক সময় মোহিনী নিশ্চয় অফিসে আসবে। নিবিড় খুব ভালো করে জানে মোহিনী চাকরিটা ছাড়বে না।

এদিকে নিবিড়ের অফিস থেকে সমানে কল আসছে। ছুটির চেষ্টা করেছিলো। তবে আজকে ছুটি পায়নি। জরুরী মিটিং আছে কিন্তু নিবিড়ের পক্ষে অফিসে যাওয়া সম্ভব ছিল না।

নিবিড়ের এসব ভাবনার মাঝে ফোনটা বেজে উঠলো। পকেট থেকে বের করে দেখলো নাঈমের নাম্বার থেকে কল এসেছে। রিসিভ করার ইচ্ছে হলো না একবার নিবিড়ের। কি উত্তর দেবে। এখনো তো খুঁজে পায়নি মোহিনীকে। আবারও বকাঝকা করবে নিবিড় কে হয়ত। এখন আর এসব শোনার ইচ্ছে করছে না। কিন্তু তারপরও কি ভেবে যেন ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে নাঈম বলে উঠলো,

“ভাবি আনিকা আপুর বাড়িতে আছে।”

খবরটা শুনতেই চমকে উঠে দাঁড়ালো নিবিড়। অবিশ্বাস্য গলায় বলল,

“কোথায় আছে? আনিকা আপুর বাড়িতে? কিন্তু আনিকা আপু তো দেশে নেই। বিদেশে কি করে চলে গেলো এক রাতের মধ্যে মোহিনী?”

“দেশে এসেছে আনিকা আপু প্রায় এক সপ্তাহ হলো। তুমি জানো না।”

নিবিড় অবিশ্বাস্য্য গলায় বলল,

“আনিকা আপু এক সপ্তাহ হলো দেশে এসেছে আর আমি জানি না! মোহিনী আবার ওখানেই গিয়ে উঠেছে! তোকে কে বলল?”

“ভাবি কল করেছিলো। আমাকে বলেছিল যেন তোমাকে খবরটা না জানাই। ভাবি আর তোমার মুখোমুখি হতে চায় না। তুমি তো আমার ভাই। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছো সেটা ভেবে আমার খারাপ লাগলো সেজন্য জানালাম। এখন একটা কথা স্পষ্ট শুনে রাখো ভাইয়া। তোমার কাছে এখনো শেষ একটা সুযোগ আছে। এই সুযোগটা যদি তুমি ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে না পারো তাহলে কিন্তু সত্যি এবার ভাবিকে হারিয়ে ফেলবে। আর এই কয় ঘন্টায় নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছো ভাবিকে ছাড়া তোমার দিন কেমন ভাবে কাটতে পারে, কতটা অসহায় হয়ে পড়বে তুমি। তাই বলছি যা বলবে ভেবেচিন্তে বলো। দয়া করে ভাবির কাছে গিয়ে আর ঝগড়াঝাঁটি করো না। একটু বুঝিয়ে বলো, ভালোবেসে কথা বলো। আর যদি তা করতে না পারো তাহলে সারা জীবনের জন্য ভাবিকে হারানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখো।”

বিজ্ঞাপন
তোমার নামেই গল্প হোক গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক ও রোমান্টিক গল্প