তোমার নামেই গল্প হোক

পর্ব - ৪

🟢

সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল। দুপুর গড়িয়ে বিকেলও হয়ে গেল কিন্তু তবুও নিবিড় বাড়ি ফিরল না। মোহিনী মিতালীকে দিয়ে কয়েকবার কল করিয়েছিল নিবিড়কে। তবে নিবিড়ের ফোনটা বন্ধ দেখাচ্ছে। দুপুরে খেতে এলো না বাড়িতে। সকালে রাগারাগি করে বেরিয়ে গেছিলো। কে জানে এখন কোথায় আছে। অফিসও তো আজ বন্ধ। চিন্তায় থাকতে না পেরে মোহিনী ওদের কয়জন বন্ধুদেরকেও কল করেছিলো যাদের কাছে নিবিড় যেতে পারে। তবে তাদের কারো সাথেই কোন যোগাযোগ করেনি নিবিড়।

বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা থেকে রাত হয়ে গেল তখন মোহিনীর চিন্তা তরতর করে বাড়লো। এখন দুশ্চিন্তা হচ্ছে। মাথার মধ্যে নানা ধরনের খারাপ চিন্তা উঁকি দিচ্ছে। শুধু মনে হচ্ছে কোন বিপদ না হয়ে যায় নিবিড়ের। কিংবা রাগের মাথায় কোন ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে ফেলে।

পরিবারের লোকজনেরও যে চিন্তা হচ্ছে না তেমনটা না। তবে সব থেকে বেশি অস্থির মোহিনীকেই হতে দেখা গেল।

নার্গিস খানম তো মেয়ের উপরে ভীষণ রেগে আছেন। ওনার ধারণা মতে মোহিনীর কারণেই নিবিড় বাড়ি ফেরেনি। মোহিনীর যে অতিরিক্ত খ্যাচখ্যাচ করার স্বভাব আছে সেটা উনি খুব ভালোভাবেই জানেন।

মোহিনী কে অস্থির হয়ে ঘরের মাঝে পায়চারি করতে দেখে সাজেদা বেগম ওর দিকে এগিয়ে এসে মোহিনীর কাঁধে হাত রাখলো। মোহিনী ওনার দিকে তাকিয়ে অসহায় মুখ করে বলল,

“কেন ওকে ওভাবে বলতে গিয়েছিলে মা? যা কথা শোনার আমি শুনে নিতাম। ওকে কেন ওভাবে বলতে গিয়েছিলে? জানোই তো ওর মাথা গরম। কে জানে এখন কোথায় আছে! সারাদিন আদৌ কিছু খেয়েছে কিনা! আমিতো জানি ও এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। কিন্তু তবুও অশান্তি হবে ভেবে বাড়ি ফিরছেনা।”

সাজেদা বেগম মোহিনীর মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,

“চিন্তা করিস না মা চলে আসবে। তুই একটু গিয়ে বসতো। নয়তো এখন তুই অসুস্থ হয়ে যাবি। আর নিবিড় যথেষ্ট বড় হয়েছে। এখনো যদি ওকে নিয়ে এই চিন্তাগুলো করতে হয় তাহলে আমার সত্যিই কিছু বলার নেই। ওকে বাড়ি ফিরতে দে তারপর আমি ওর সাথে কথা বলব।”

মোহিনী তড়িৎ গতিতে বলে উঠলো,

“না মা। তুমি আর ওকে কিছু বলবে না।

প্রয়োজন নেই আর কিছু বলার। তোমরা কেন বুঝতে পারছো না বলোতো যে আমাদের দুজনের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বলেই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। তোমরা তো চাও আমরা যেন খুশি থাকি। তাহলে কেন বাধা দিচ্ছো? প্লিজ মা তুমি নিবিড়কে আর কিছু বলবে না, কোন বকাঝকা করবে না। নাহলে দেখবে বাড়ি ফেরার পর আবার এই রাতেই বেরিয়ে যাবে।”

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন সাজেদা বেগম। উনি বুঝতে পারছেন ওনার ছেলে ঠিক কত বড় একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। মোহিনীর মতো মেয়ে কে কেউ কখনো হাতছাড়া করে! এত ভালো স্ত্রী পাওয়া কি কম ভাগ্যের ব্যাপার! দুজনের মধ্যে এত ঝামেলা কিন্তু তারপরও মোহিনী চিন্তা করছে নিবিড় কে নিয়ে সারাদিন খেয়েছে কিনা, এখন কোথায় আছে, আদৌও ঠিকঠাকভাবে আছে কিনা সেসব নিয়ে ভাবছে। আবার দুজনে আলাদা হতেও চাইছে। কি যে এক ঝামেলায় পড়েছেন এই দুটোকে নিয়ে।

________

ঘড়িতে সময় তখন রাত বারোটার কাছাকাছি। মোহিনী আর উপরে থাকতে না পেরে বাড়ির নিচে নেমে এসেছে। আজকাল তো বেশিরভাগ দিনই নিবিড় দেরিতে বাড়ি ফেরে। ভাবলো বারোটা যেহেতু বেজে গেছে আর বাইরে থাকবে না। আর নিবিড় এলে এক সেকেন্ড দেরি করেও নিবিড়ের সাথে দেখা করা যাবে না।

মোহিনী শুধু একবার একটু নিজের চোখে দেখতে চায় যে নিবিড় ঠিক আছে, সুস্থ আছে। তাহলেই তো মোহিনী একটু শান্তি পায়। অন্তত ফোনে যদি একটু নিবিড়ের কন্ঠটা শুনতে পারতো ভালো লাগতো। কিন্তু অসভ্য বেয়াদব ছেলেটা ফোনটাও বন্ধ করে রেখেছে। রাখবেই তো। মোহিনী কে কষ্ট দিয়ে তো এই ছেলে আজকাল পৈশাচিক আনন্দ পায়।

নিবিড় হেঁটে হেঁটে বাড়ির পথে আসছিল। সারাদিন পুরো শহরটা হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়িয়েছে। কিছু খায়ওনি। না শরীরে ক্লান্তি আছে, না পেটে খিদে আছে। মনে তো শান্তি নেইই।

বাড়ির কাছাকাছি এসে দরজার সামনে মোহিনী কে এভাবে অস্থির হয়ে পায়চারি করতে দেখে কপাল কোঁচকালো নিবিড়। এত রাতে মোহিনী কেন বাড়ির নিচে পায়চারি করছে? কারো কিছু হয়েছে নাকি? বিপদ হলো না তো? হতেও পারে। নিবিড় তো আর সংবাদ পাওয়ার মত কোন ব্যবস্থা রাখেনি। ফোনটাই বন্ধ করে রেখেছিল।

মোহিনীর দিকে এগিয়ে এসে চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলো,

“মোহিনী, কি হয়েছে? তুমি এত রাতে নিচে কেন?”

নিবিড়ের কন্ঠটা পেতেই মোহিনী তড়িৎ গতিতে তাকালো ওর দিকে। এতক্ষণ বেশ শান্ত ছিল। যদিও দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। তবে এবারে নিবিড় কে দেখে নিজের কান্নাটা আর কোনমতেই আটকাতে পারলো না।

ভুলে গেলে ওদের মাঝে হওয়া সকল মনোমালিন্যের কথা। দুজন যে শেষবার ঝগড়াঝাঁটি করে আলাদা হয়েছিল সেসবও ভুলে গেল। নিজেকে সামলাতেই পারল না মোহিনী। আশেপাশে মানুষজন আছে নাকি নেই সেদিকেও ওর খেয়াল নেই। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে দুহাতে শক্ত করে নিবিড়ের গলা জড়িয়ে ধরলো।

অনেকগুলো দিন পর মোহিনী আবার জড়িয়ে ধরল নিবিড় কে। নিবিড় একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেল। একেই তো হঠাৎ করে এভাবে জড়িয়ে ধরেছে তার উপরে আবার কাঁদছে। নিবিড়ের হিসাব মত মোহিনীর তো এখন ওকে জড়িয়ে ধরার কথা ছিল না। বরং দরজার কাছে দাঁড়িয়েই ঝগড়া শুরু করে দেওয়া উচিত ছিল। কিংবা পায়ের জুতা খুলে পেটানো উচিত ছিল। তাহলে কাঁদছে কেন? তার মানে নিবিড় চলে যাওয়ার পর কি সব ঝড় মোহিনীর উপর দিয়ে বয়ে গেছে? দুই পক্ষ কি মোহিনীকে গালাগালি করেছে?

এদিকে মোহিনী কেঁদেই যাচ্ছে তো কেঁদেই যাচ্ছে। ওর কান্নার বেগ বাড়ছে বই কমছে না। নিবিড় ওকে দুহাতে আগলে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“কি হয়েছে মোহিনী? কাঁদছো কেন? বাড়ির লোক বেশি বকাবকি করেছে?”

মোহিনী কান্নার তোপে কোন উত্তর দিতে পারলো না। বরং ধীরে ধীরে হাতের বাঁধন আরো শক্ত হলো।

নিবিড় আবার জিজ্ঞেস করলো,

“কি হয়েছে বলো আমায়? কেউ কিছু বলেছে? একবার আমায় বলো কে কি বলেছে বাকিটা আমি দেখে নেব।”

মোহিনী এবারও কোন উত্তর দিতে পারল না। সিঁড়ির দিকে তাকাতেই নিবিড় দেখলো বাড়ির লোকজন নিচে নামছে। ওদের দিকে এগিয়ে আসতেই নিবিড় রাগান্বিত গলায় সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“কি করেছো তোমরা ওর সাথে? খুব বেশি দরকার ছিল ওকে বকাবকি করার? ভুলটা তো আমিও করেছিলাম। আমার অনুপস্থিতিতে শুধু ওকে ঝাড়ি মেরেছো কেন? আমাকে চড় মেরেছিলে যথেষ্ট ছিল না কি? আমি কথাও শুনে নিতাম। ওকে কেন বকতে গেছো? তোমরা জানো না আমি পছন্দ করি না এসব। আমার বউ কে যা ইচ্ছে তাই আমি বলবো। তোমরা কেন বলবে?”

উপস্থিত প্রত্যেকে তাজ্জব বনে গেল নিবিড়ের কথা শুনে। ওরা মোহিনী কে বকেছে জন্য কাঁদছে ছেলেটা বলে কি! নিজের দোষ তো দেখতেই পায় না। মিতালী মৃদু রাগী কন্ঠে বলে উঠলো,

“আমরা তোমার বউকে বকেছি জন্য কাঁদছে নাকি তোমার কোন খোঁজ খবর ছিল না জন্য কাঁদছে সেটা জিজ্ঞেস করো তুমি তোমার বউকে। আমরা কেউ কিচ্ছু বলিনি তোমার বউকে। তোমার সারাদিন খোঁজ ছিলো না জন্য ভয় পেয়ে গিয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

নিবিড় মিতালীকে একটা ধমক দিয়ে বলল,

“তুই চুপ কর তো। নিশ্চয়ই তুই কিছু বলেছিস। তুই যে সব থেকে বেশি বলেছিস সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। খবরদার আমার বউকে আর কিছু বলবি না। আমাদের ঝামেলা মেটানোর প্রয়োজন নেই তোমাদের। আমরা নিজেরাই মিটিয়ে নিতে পারবো।চুপচাপ যে যার বাড়ি চলে যাও। মোহিনী, ওপরে চলো।”

কথাটা বলে নিবিড় মোহিনী কে নিয়ে উপরে চলে গেল। বাড়ির লোকজন অসহায় মুখ করে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। এখন তো সত্যি মনে হচ্ছে ওনারা এদের ঝামেলা মেটাতে এসে ভুল করেছেন। এই দুজন কখনো আলাদা হবেনা। একে অপরকে ছাড়া যারা কয়েক ঘন্টা থাকতে পারে না তারা নাকি আবার সারা জীবনের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করছে। ব্যাপারটা পুরোই হাস্যকর।

__________

কাঁদতে কাঁদতে মোহিনীর হেঁচকি উঠে গেছে। নিবিড় গ্লাসে করে পানি এনে মোহিনীকে খাইয়ে দিল। তারপর আবার নিজে গিয়ে গ্লাসটা জায়গামতন রেখে এলো। বাড়িঘর অগোছালো হয়ে থাকবে এই ব্যাপারটা মোহিনীর পছন্দ না। প্রত্যেকটা জিনিস জায়গা মত থাকা চাই। কোন কোণায় এক বিন্দু ময়লাও মোহিনীর অপছন্দ। সে জন্য নিবিড়েরও সেভাবেই থাকতে থাকতে এখন সে রকমই অভ্যাস হয়ে গেছে।

গ্লাসটা রেখে এসে সোফায় বসা মোহিনীর পায়ের কাছে দুই হাঁটু গেড়ে বসে বলল,

“এবার থামো। আর কিছু বলবে না ওরা।”

মোহিনী মাথা তুলে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে হেঁচকি তুলতে তুলতে বলল,

“কোথায় ছিলে সারাদিন?”

“শহরেই ছিলাম। আর কোথায় যাব?”

“বাড়ি ফেরোনি কেন?”

“ইচ্ছে করছিলো না।”

“কেন ইচ্ছে করছিলো না?”

নিবিড় এবার বিরক্তিকর গলায় বলল,

“জানোই তো কেন ইচ্ছে করে না আজকাল বাড়ি ফিরতে। সারাক্ষণ শুধু তোমার সাথে ঝগড়া হয়। এত ঝগড়া করতে আমার ভালো লাগেনা। তুমি তো আজকাল আর আমার সাথে স্বাভাবিক কোনো কথাবার্তা বলতেই পারো না। সব সময় ঝগড়া করতে হয়। মানে ঝগড়া না করলে আজকাল তোমার পেটের ভাত হজমই হয় না মোহিনী। তুমি আর আমায় বোঝোই না। আর এই কারণে আমার বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করে না।”

মুহূর্তের মাঝে মোহিনীর মেজাজটা তুমুল বিগড়ে গেল। রাগান্বিত গলায় বলল,

“তাহলে ফিরতে গেছো কেন বাড়িতে? বাইরেই থাকতে। রাস্তায় রাত কাটাতে। আমার মুখ যেহেতু দেখতে ইচ্ছে করে না তাহলে তো বাড়ি ফিরে আসার কোন প্রয়োজন ছিল না। আর সারাক্ষণ আমিই শুধু ঝগড়া করি তুমি কিছু করো না? কি প্রমাণ করতে চাইছো তুমি খুব ভালো আর আমি খুব খারাপ? সংসারে যত অশান্তি সব আমার জন্য তৈরি হয়?”

নিবিড় জোর গলায় বলল,

“অবশ্যই তোমার জন্য তৈরি হয়। এই যেমন এখন তুমি অশান্তি তৈরি করছো। আচ্ছা মানলাম আমি না হয় একটা কথা বলে ফেলেছি, তুমি কি একটু চুপ থাকতে পারতে না? সব সময় কেন প্রত্যুত্তর করতেই হবে মোহিনী? তুমি তো আগে এমন ছিলে না। তুমি আগে যথেষ্ট ধৈর্যশীল ছিলে। তুমি এখন অনেক বদলে গেছো।”

“বদলে তো তুমিও গেছো নিবিড়। আমি আগেও যেমন ছিলাম এখনো তেমন আছি। আমি আগেও এভাবে প্রত্যুত্তর করতাম। কিন্তু তখন তুমি আমাকে আশকারা দিতে। আর এখন বিরক্ত হও। যদি বিরক্ত হওয়ারই ছিল তাহলে কেন আমাকে আশকারা দিয়েছিলে? কেন আমার অভ্যাসটা খারাপ বানিয়েছো? আচ্ছা মানলাম আমি খারাপ, তুমিতো ভালো। তাহলে আমি একটা কথা বললে তুমি চুপ থাকতে পারো না?”

নিবিড় দুহাতে নিজের মাথার চুল খামচে ধরে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলল,

“বাড়ি ফেরাটাই আমার ভুল হয়েছে। হয় আমার তোমাদের কাউকে কোন কিছু না বলে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। নয়তো রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে কোন একটা ট্রাকের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়া উচিত ছিল। মানে একেবারে কাহিনী খতম হয়ে যেত। রোজ রোজ এই অশান্তির মাঝে পড়তে হতো না।”

মোহিনী অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল নিবিড়ের দিকে। নিবিড়ের বলা শেষের কয়েকটা কথায় খুব খারাপ লাগলো। খুব কষ্ট পেল। মোহিনী এতটাই বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে নিবিড়ের জন্য যে এখন নিজের জীবনটাই শেষ করে দিতে চাইছে! নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে চাইছে! এতটাই অসহ্যকর হয়ে উঠেছে নিবিড় এর কাছে ওদের সংসার! অবিশ্বাস্য গলায় নিবিড় কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আমি তোমার কাছে এতটা বিরক্তিকর হয়ে উঠেছি নিবিড়? তাহলে ভালোবাসা আর একটুও নেই?”

নিবিড় নিজেই নিজের কপাল চাপড়ালো। বোঝাতে চাইলো কি মোহিনীকে আর বুঝলো কি। কি বলতে চাইলো আর বলে ফেলল কি। কিছুক্ষণ নিজেই নিজের কপাল চাপড়ানো শেষে মোহিনীর দিকে এগিয়ে গিয়ে শান্ত গলায় ওকে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলল,

“লিসেন মোহিনী, আমি এভাবে বলতে চাইনি। তুমি আমার জন্য বিরক্তকর না। আমি বোঝাতে চেয়েছি আমাদের মাঝে হতে থাকা এই ঝগড়াগুলো আমার কাছে বিরক্তিকর। রোজ রোজ...…।”

নিবিড় কে নিজের কথা সম্পন্ন করতে না দিয়ে মোহিনী হাত উঠিয়ে ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

“থাক নিবিড়। আর বলতে হবে না। আমার যা বোঝার আমি বুঝে গিয়েছি। ঝগড়া তো আমার সাথেই করো। তার মানে বিরক্তিকর আমি। অবশ্য আমি যদি বিরক্তিকর না হতাম তোমার জন্য তাহলে কি ডিভোর্সের জন্য তুমি যেতে নুসরাতের কাছে।”

“সে তো তুমিও গিয়েছিলে। তারমানে আমিও তোমার কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠেছি। আমাদের সংসারটা তোমার কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠেছে। তার মানে তুমিও মুক্তি চাও আমার থেকে।”

বাড়ির লোকজন একটু ধীরে সুস্থে ওপরে আসছিল ইচ্ছাকৃতভাবে। ভাবছিল একটু সময় দুজনে একসাথে থাকুক। একটু টুকটাক কথাবার্তা বলুক। তবে ওরা আন্দাজে করতে পারেনি যে নিবিড় আর মোহিনীকে দেওয়া সময়টা ওরা ভালো কাজে না লাগিয়ে ঝগড়া শুরু করে দেবে। উপরে এসে যখন দুজনের মাঝে এমন বাকবিতন্ডা চলতে দেখলো সবাই তাজ্জব বনে গেল। দরজার কাছে কয়েক সেকেন্ড থমকে দাড়িয়ে রইল সকলে।

ভিতরে এসে ওরা দুজনকে থামানোর চেষ্টা করলো। থেমেও গেল দুজনে। বড়রা মিলে বকাবকি করলো। চুপচাপ দুজনে মাথা পেতে বড়দের সব বকা শুনলো। তারপরে আর কি? দুজনে দু দিকে চলে গেল। দুজনে দু ঘরে গিয়ে দরজাটা ঠাস করে বন্ধ করে দিল।

ওনারা ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না যে এতক্ষণ যাবত দুজনকে বুঝিয়ে লাভটা কি হলো। ফলাফল তো শুণ্য।

বিজ্ঞাপন
তোমার নামেই গল্প হোক গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক ও রোমান্টিক গল্প