তোমার নামেই গল্প হোক

পর্ব - ২

🟢

নিবিড়ের বাড়ি ফিরতে আজ বেশ অনেক রাত হয়ে গেল। রাত এগারোটা বাজছে। বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করে না কেন না যেন আজকাল। বাড়ি ফিরলেই আবার কোন না কোন বিষয় নিয়ে মোহিনীর সাথে ঝামেলা হবেই হবে। আর এই বিষয়টাই তো নিবিড়ের একদমই অপছন্দ। ও চায় না মোহিনীর সাথে ঝামেলা করতে। চায় না ওদের মাঝে দুটো কথা হোক। কিন্তু তবু কি থেকে যেন কিভাবে ঝগড়া হয়ে যায়। কখনো বড় কোন বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয় না। সব সময় ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ওদের মাঝে ঝামেলা তৈরি হয়।

অফিস থেকে বেরিয়ে ছিল সেই আটটা নাগাদ। এই তিন ঘন্টা এদিক-ওদিক হেঁটে কাটিয়ে দিয়েছে। বন্ধুদের সাথেও দেখা করতে যায়নি। কেননা ওদের দুজনের বন্ধুরা একই। ওদের সাথে দেখা করতে গেলে আবার সেই একই কথা বলবে কেন একা এসেছে, কেন মোহিনীকে নিয়ে আসেনি সঙ্গে করে।

এত ঘোরাঘুরি শেষেও সেই বাড়িতেই ফিরতে হলো। কেননা আর কোন উপায় নেই। সারাদিন যেখানেই থাকুক না কেন রাতটা তো বাড়িতে এসেই কাটাতে হবে।

কলিংবেল বাজাতেই মোহিনী এসে দরজা খুলে দিলো। মোহিনীর মুখের দিকে তাকাতেই বুঝলো মোহিনী রেগে আছে। অমনি যেন নিবিড়ের মন মেজাজটাও বিগড়ে গেল। কোন কথাই হলো না দুজনের মাঝে। মোহিনী দরজা খুলে দিয়ে সামনে থেকে সরে দাঁড়াতেই নিবিড় ভিতরে এলো। মোহিনী দরজাটা বন্ধ করে দিল।

নুসরাত বোঝানোর পর মোহিনী ভেবেছিল আজ নিবিড়ের সঙ্গে একটু আলোচনা করবে এই নিয়ে। ভুল বোঝাবুঝি গুলো মেটানোর চেষ্টা করবে। তবে মাথাটা তো গরম হয়ে আছে। মোহিনী খোঁজ নিয়েছিল যে নিবিড় তিন ঘন্টা আগেই অফিস থেকে বেরিয়েছে। অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে সময় লাগে আধা ঘন্টার মতন। বাকি আড়াই ঘন্টা কোথায় কাটালো? বাড়িতে এসে বউ-বাচ্চাকে কি সময় দেওয়া যেত না? কেন একা একা সময় কাটাতে চায় নিবিড়? কেন সবসময় বউ বাচ্চার থেকে পালিয়ে থাকতে চায়? ওর এই পালিয়ে থাকা স্বভাবের জন্যই তো আজ সম্পর্কের মাঝে এতটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে যেটা মেটানো যাচ্ছে না।

মোহিনী খাবার টেবিলে অপেক্ষা করছে নিবিড়ের জন্য। বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে অনেক আগেই। আজকাল বেশিরভাগ দিনই এমন হয় নিবিড় বাড়ি ফেরার আগে ছেলেমেয়ে দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ে। আবার অনেকদিন ছেলে মেয়ে ঘুম থেকে ওঠার আগেই নিবিড় অফিসে বেরিয়ে যায়। বাবার সাথে আজকাল তাদের দেখাই হয় না তেমন একটা।

বেশ অনেকটা সময় মোহিনী অপেক্ষা করলো খাবার টেবিলে বসে নিবিড়ের জন্য। তবে নিবিড় এলো না। শেষে বাধ্য হয়ে মোহিনী উঠে ঘরে গেল দেখার জন্য যে কি এমন রাজকার্য করছে নিবিড়।

ঘরে গিয়ে মোহিনী নিবিড়কে কোথাও দেখতে পেল না। কোথায় গেল ছেলেটা? উড়ে গেল নাকি! পর মুহূর্তেই মনে হলো ওদের দুজনের ঘর তো আলাদা। নিবিড় তো এই ঘরে মোহিনীর সঙ্গে থাকে না।

মোহিনী তাচ্ছিল্য হেসে পাশের ঘরে গেল নিবিড়কে ডাকার জন্য। গিয়ে মোহিনী যে দৃশ্যটা দেখল তাতে সর্বাঙ্গে যেন আগুন ধরে গেল। নিবিড় মশারি টানিয়ে কি সুন্দর শুয়ে থেকে ফোন চালাচ্ছে। মোহিনী ওর জন্য না খেয়ে অপেক্ষা করে বসে আছে। আর এই ছেলেটা হাতমুখ ধুঁয়ে এসে শুয়ে পড়েছে। তার মানে নিশ্চয়ই বাইরে থেকে খেয়ে এসেছে। না হলে এই ছেলেটা তো না খেয়ে রাতে ঘুমোতে পারে না। পেটে খিদে থাকলে ওর ঘুমই হবে না।

মোহিনীর ইচ্ছে করছে নুসরাত কে ডেকে এনে এই দৃশ্যটা দেখাতে। এরপরেও নুসরাত কি করে বলতো ওকে সব ঠিক করে নিতে সেটাই দেখতো।

কিভাবে সংসারে আবার সব ঠিক হবে যখন সবকিছু এলোমেলো একেবারে হয়েই গেছে। একজন চেষ্টা করলে তো আর কোন কিছু ঠিক করা সম্ভব না। দুজনকেই চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু একজন তো একেবারে হাল ছেড়েই দিয়েছে। তবে ঠিক হবেই বা কি করে। মোহিনীই বা কেন জোর করে ঠিক করতে যাবে।

“বাইরে থেকে যে খেয়ে আসবে সেই কথাটা একবার আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করো না? জানালে তোমার জন্য না খেয়ে অপেক্ষা করে থাকতাম না। আমিও মানুষ। সারাদিন খাটাখাটনি করে আসার পর আমারও খিদে পায়।”

মোহিনীর কন্ঠটা কানে যেতেই নিবিড় ফোনের স্ক্রিন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দরজার কাছে দাঁড়ানো মোহিনীর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,

“তোমায় তো আমি আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকতে বলিনি। আমারও সারাদিন খাটাখাটনি করে এসে তোমার এই ত্যাড়া কথাগুলো শুনতে ইচ্ছে হয় না। প্লিজ মোহিনী আমি ঝগড়া করতে চাইছি না। অযথা ঝগড়া করো না। তুমি ভালো থাকাে, আমাকেও ভালো থাকতে দাও।”

“কি বলতে চাইছো আমি তোমায় ভালো থাকতে দেই না? আমি তোমার খারাপ থাকার কারণ?”

নিবিড় এবার শোয়া থেকে উঠে বসে বিরক্তিকর গলায় বলল,

“সব সময় কথা এত কেন প্যাঁচাও তুমি? সব কথা ধরতেই হবে? আমি কি বলবো? তুমি তো নিজেই প্রমাণ করে দিচ্ছো তুমি আমার ভালো থাকার কারণ নাকি খারাপ থাকার কারণ। বোঝার চেষ্টা তো করো একটু আমাকে। সারাদিন অফিসে কাজ করে, বসের ঝাড়ি খেয়ে বাড়ি ফেরার পর তোমার এত বকবক ভালো লাগেনা।”

মোহিনী পাল্টা রাগান্বিত গলায় বলল,

“চাকরি কি তুমি শুধু একাই করো? আমি করি না? আমাকে বসের হাতে ঝাড়ি খেতে হয় না? আমাকে বাইরে বসের ঝাড়ি খেতে হয়, বাড়িতে এসে সংসারের এত কাজও করতে হয়, তোমার বাচ্চাদেরকে সামলাতেও হয়। আবার রাতে তুমি বাড়ি ফেরার পর তোমার কথাও শুনতে হয়। আর তুমি এক সামান্য বসের ঝাড়ি খেয়ে এসেই গরম দেখাচ্ছো! আমার জায়গায় থাকলে তো তোমায় নেওয়াই যাবে না।”

লেগে গেলে দুজনের মাঝে তুমুল ঝগড়া। এক কথা দুই কথা হতে হতে হাজার কথা উঠে গেল। প্রায় আধ ঘন্টার মতন দুজনের এমন তর্ক বিতর্ক শেষে মোহিনীই ঘরে চলে গেল কাঁদতে কাঁদতে।

নিবিড় হাতে থাকা ফোনটা বিছানার উপর ছুঁড়ে ফেলে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লো। মোহিনী কে কাঁদতে দেখলেও এখন রাগ হয় নিবিড়ের। মনে হয় মোহিনী তো তাও কাঁদতে পারে। নিবিড় তো কাঁদতেও পারে না।

মোহিনী এই দুঃখ নিয়েই ঘুমিয়ে পড়লো যে নিবিড় বাইরে থেকে খেয়ে এসে ওকে এতক্ষণ অযথা অপেক্ষা করিয়ে রাখলো। কষ্ট দিলো। তারপরেও আবার এতগুলো কথা শোনালো। এদিকে নিবিড়ের ওকে জানানোই হলো না যে আজও কিচ্ছু খেয়ে আসেনি নিবিড়। বরং এত অশান্তির কারণেই খাওয়ার ইচ্ছেই মরে গেছে।

_________

দিনটা শুক্রবার। নিবিড় কিংবা মোহিনী কারোরই অফিস নেই। সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস মোহিনীর। বিয়ের পর থেকেই সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে। নিবিড় কাজে চলে যায়। খালি পেটে তো আর যেতে দেওয়া যায় না। খাইয়ে তারপরে পাঠিয়ে দিতে হয়। সেই থেকে সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস।

সেই অভ্যাসটা এখন এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে যতই ছুটির দিন হোক না কেন তবুও আর ঘুমোতে পারে না। তবে নিবিড়ের আবার একটা বদ অভ্যাস। যতই জরুরী কাজই থাকুক না কেন, সবার আগে ঘুম। প্রত্যেকদিন অফিসে যাওয়ার আগে মোহিনী কে ওকে টেনে টেনে তুলতে হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিবিড় মোহিনী কে আর কি সাহায্য করবে, বাচ্চাদেরই বা দেখাশোনার কি দায়িত্ব নেবে। ওকে তৈরি করে অফিসে পাঠাতেই মোহিনীর অর্ধেকটা সময় চলে যায়। যদিও কয়েক বছর ধরে সবই পাল্টেছে। এখন যে যার নিজের দায়িত্ব নিজে পালন করতে পারে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে মোহিনী নিবিড় কে ডাকলো না। সকাল নয়টা বেজে গেল। ছেলে মেয়ের স্কুল আজ বন্ধ। ওদের ঘুম থেকে উঠতে উঠতে নয়টা বেজে গেল। ছেলে মেয়ে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুঁয়ে খাবার টেবিলে এসে বাবাকে দেখতে না পেয়ে সমানে মোহিনী কে জিজ্ঞেস করতেই থাকলো যে ওদের বাবা কোথায় গেছে।

প্রথম কিছুক্ষণ মোহিনী চুপ থাকলো। পরে বিরক্ত হয়ে বলেই দিল যে পাশের ঘরে ঘুমিয়েছে। ব্যাপারটা ছেলেমেয়েদের সম্পূর্ণ অজ্ঞাত ছিল যে ওদের বাবা-মা দুজনে দু ঘরে ঘুমোয়। নিবিড় অন্য ঘরের ঘুমিয়েছে দেখে ওদের আট বছরের ছেলে মাহি কৌতূহল দমিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করেই বসলো,

“বাবা ওই ঘরে। আম্মু তোমরা ওই ঘরে ঘুমোও এখন? তাহলে তোমাদের আগের ঘরে আমি ঘুমোবো।”

মোহিনী তখন ছেলেমেয়েদের জন্য প্লেটে খাবার বাড়ছে। ছেলের এমন কথা শুনে ওর কাজের হাতটা থেমে গেল। তড়িঘড়ি করে একটা অজুহাত বানিয়ে বলল,

বিজ্ঞাপন

“আমাদের ঘরের ফ্যানটা নষ্ট হয়েছে তো সেজন্য ওই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলাম। তোকে এত প্রশ্ন করতে হবে না তো। খেয়ে নে চুপচাপ। খাবারটা ভালো মানুষের মতন খেয়ে উদ্ধার কর আমায়।”

ছেলে আবার মায়ের বাধ্য। সেজন্য চুপচাপ খেতে বসলো। কিন্তু মেয়ে তো বাবাকে রেখে খেতে বসবে না। অন্যান্য দিন তো বাবাকে কাছেই পায় না। জানে আজ ছুটির দিন। বাবা বাড়িতেই আছে। সেজন্য ছুটে গেল পাশের ঘরে নিবিড়কে ডাকতে।

নিবিড় তখনও গভীর করে তুলিয়ে। রাতে মোহিনীর সাথে ঝগড়া করার কারণে বেশ অনেক রাত অব্দি অস্থিরতায় কেটেছে। কয়েকবার ভেবেছে যে গিয়ে ঝগড়াটা মিটমাট করে নেবে। একটু কথা বলবে মোহিনীর সাথে। তবে আর যেতে পারেনি। কিছু তো একটা আটকেছিল।

নিশাত দৌড়ে ঘরে গিয়ে মশারির ভেতর উঠে সমানে বাবা বাবা বলে ডাকলো। খুব অল্প সময়ের মাঝে নিবিড়ের ঘুম ভাঙলো। এভাবে ডাকাডাকি করলে কি আর ঘুমোনো যায়! তবে ভীষণ বিরক্ত হলো নিবিড়। এত সুন্দর একটা ঘুম কেউ ভাঙায়! তবে চোখ মেলে তাকিয়ে যখন মেয়ের মুখটা দেখলো অমনি বিরক্তি ভাব হাওয়া হয়ে গেল।

নিবিড় কে চোখ খুলতে দেখে নিশাত আলতো হেসে বলল,

“বাবা, চলো খাব। আম্মু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।”

নিবিড় ঘুম জড়ানো গলায় বলল,

“আরেকটু ঘুমিয়ে নেই মা। তারপর যাই।”

নিশাত জেদ ধরে বলল,

“না না। আর ঘুমোনো যাবে না। এক্ষুনি চলো। ক্ষুধা লেগেছে। চলো না বাবা। মা কিন্তু বকবে এবার।”

নিবিড় বুঝলো আর ঘুমোনো সম্ভব না। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উঠে বসতে বসতে বলল,

“তোমার মায়ের তো কাজই শুধু তোমার বাবাকে বকা।”

_______

নিবিড় হাত মুখ ড্রয়িং রুমে এলো। নিশাত ততক্ষণে টেবিলে এসে বসেছে। মোহিনী ওকে খাইয়ে দিচ্ছে। নিবিড়ের দুচোখ থেকে এখনো ঘুম যায়নি। মোহিনী একবার আড়চোখে তাকালো নিবিড়ের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে আবার নিজের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল।

নিবিড় চেয়ারে সবে বসতে ধরেছে আর অমনি কলিং বেল বেজে উঠলো। নিবিড়ের ইচ্ছে ছিল না গিয়ে দরজাটা খোলার। তবে যেহেতু মোহিনী নিশাতকে খাইয়ে দিচ্ছে তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই গিয়ে দরজা খুললো। দরজাটা খুলে সামনে নিজের মা-বাবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চোখ কপালে উঠে গেল। আরো অবাক করার বিষয় হলো শুধু ওর মা-বাবা একা না। একটু পরে দেখলো সিঁড়ি বেয়ে মোহিনীর মা-বাবাও এসেছে। নিবিড় যেই না বিস্মিত গলায় কিছু বলতে যাবে অমনি নিবিড়ের বাবা বখতিয়ার সাহেব ঠাস করে ছেলের গালে একটা চ'ড় বসিয়ে দিলেন।

শব্দটা মোহিনীর কানে যেতেই চমকে উঠে দরজার দিকে তাকিয়ে গলা উঁচিয়ে বলল,

“কি হলো নিবিড়? কে এসেছে?”

নিবিড় গালে হাত দিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকালো নিজের বাবার দিকে। কথা বলার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলল। একটু আগেও দুচোখে ভরপুর ঘুমের রেশ ছিল। একটা চ'ড় খেয়ে সেই ঘুম ছুটে পালালো।

খেয়াল করলো ওর মা-বাবা দুজনেই অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। না, এভাবে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলে তো চলবে না। জানতে তো হবে ওদের এই দৃষ্টির মানে। চ'ড়টাই বা কেন মা'র'লো সেটাও তো জানতে হবে। এই বয়সে এসে বাবার হাতে মা'র খাচ্ছে এটা কি কম অসম্মানজনক ব্যাপার!

“বাবা মা'র'লে কেন? কি করেছি আমি? বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ করে এসেই চ'ড় লাগিয়ে দিলে!”

বখতিয়ার সাহেব হিংস্র গলায় গর্জে উঠে বললেন,

“তোমার মতন অপদার্থের জন্য একটা চ'ড় অনেক কম। আমি তোমার সাহস দেখে অবাক হয়ে গেছি। কোন স্পর্ধায় তুমি আমাদের কারো সাথে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা না করে একা একা এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে? কে সাহস দিয়েছে তোমায়? তোমার মাথা দিয়ে ক’টা করে শিং গজিয়েছে সেটাই আমি দেখতে এসেছি।”

নিজের শ্বশুরের কণ্ঠ পেতেই মোহিনী আর সেখানে বসে থাকতে পারলো না। তাড়াহুড়ো করে হাত ধুঁয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। নিজের শ্বশুর-শাশুড়ি আর মা-বাবাকে একসঙ্গে দেখে মোহিনীও চমকে উঠলো। বিস্ময় ভরা কন্ঠে বলল,

“তোমরা সবাই একসঙ্গে হঠাৎ। নিবিড়, তোমার কি হয়েছে? গালে হাত দিয়ে বসে আছো কেন?”

“আরে বাবা মে'রে'ছে আমায়। দেখো না কি সব আজেবাজে কথা বলছে। আমার মাথা দিয়ে নাকও শিং গজিয়েছে। কিছুই তো বুঝতে পারছি না আমি।”

বখতিয়ার সাহেব ফের গর্জে উঠে বললেন,

“নাটক করছো এখন? আমি অবাক হচ্ছি তোমার স্পর্ধা দেখে।”

এবারে পাশ থেকে মোহিনীর মা নার্গিস খানম ইশারায় নিজের মেয়েকে দেখিয়ে রাগান্বিত গলায় বললেন,

“শুধু নিবিড় কে কেন দোষারোপ করছেন ভাই। আমার মেয়ে তো নির্দোষ না। ও তো আমাদের কাউকে না জানিয়ে এত বড় একটা পদক্ষেপ নিয়েছে। আমার জামাইকে তো আমি খুব ভালোভাবেই চিনি। ওর মতন ভদ্র ছেলে আমি আর দুটো দেখিনি। আমার মেয়েকেও তো আমি খুব ভালোভাবেই চিনি। ওর যে কত রাগ সেসব কি আমি জানিনা নাকি।”

নিবিড় আর মোহিনী দুজনেই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে। এদিকে ওদের বাবা-মা দরজায় দাঁড়িয়ে মৃদু তর্ক বিতর্ক চালাচ্ছে। মোহিনীর বাবা-মা বলছেন নিবিড় নির্দোষ। এদিকে নিবিড়ের বাবা মা বলছে মোহিনী নির্দোষ। কিন্তু কি বিষয়ে ওদের দুজনকে দোষারোপ করা হচ্ছে আবার নির্দোষ বলেও দাবি করা হচ্ছে সেটাই তো বুঝে উঠতে পারছে না।

বিজ্ঞাপন
তোমার নামেই গল্প হোক গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক ও রোমান্টিক গল্প