কয়েকটা দিন মোহিনী বাড়িতে ছিলো না। এই কয়েকদিনে নিবিড় বাড়ির অবস্থা একেবারে খারাপ করে ফেলেছে। একদিনের জন্যও বাড়িটা বোধহয় একটু পরিষ্কার করেনি। রান্নাঘরের অবস্থাও খারাপ করে রেখেছিলো। মোহিনী সকালে যখন রান্না করেছিল তখন কোনমতে রান্নাঘর ঠিক করেছিল। তবে বাড়ির বাদ বাকি ঘর গুলোর অবস্থা জঘন্য হয়ে গেছে।
ঘড়িতে সময় তখন রাত বারোটা। পুরো বাড়ি সুন্দর ভাবে গোছানো শেষে মোহিনী এলো রান্না ঘরে। এতক্ষণ রান্না করার সময় পায়নি। এমন অগোছালো পরিবেশে রান্না করতে পারতোই না। সেজন্য আগে বাড়ি ঘর গোছগাছ করলো। তারপরে রান্না করতে এলো।
রান্না করতে এসেও আরেক বিপদে পড়লো। সকালেই তো রান্না করার মত তেমন কিছুই ছিল না। নিবিড় মনে হয় এই ক'দিন বাজার করেনি। শুধু ডিম খেয়েই হয়তো কাটিয়েছে। সেজন্যই তো ফ্রিজে এখনো শুধু ডিমই পড়ে আছে। রান্নাঘরে ময়লার ঝুড়িতেও শুধু ডিমের খোসা পড়ে আছে।
যেহেতু ফ্রিজে তেমন কিছুই নেই আবার রাতও অনেক হয়ে গেছে। তাই মোহিনী ভাবল কোনমতে আপাতত রাতের মতন খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। কাল না হয় বাজার করে ভালো মতন রান্না করা যাবে।
রাইস কুকারে ভাত রান্না হতে দিয়ে চুলোয় ডাল সিদ্ধ করতে বসালো। অন্য চুলোয় ভর্তার জন্য কয়েকটা আলু প্রেসার কুকারে তুলে দিলো সিদ্ধ হওয়ার জন্য। ভেবেছে ডাল, আলু ভর্তা, ডিম ভাজি করবে। কিছু না থাকার মাঝে এটাই উৎকৃষ্ট খাদ্য।
মোহিনী তখন দাঁড়িয়ে থেকে ছুরি দিয়ে পেঁয়াজ মরিচ কাটছে। বাচ্চারা দুপুরের একটু খাবার ছিল ওটা খেয়েই ঘুমিয়েছে। মোহিনী ভেবেছে রান্না শেষ হতে হতে যদি আবার উঠে পড়ে ক্ষুধায় তাহলে খাইয়ে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেবে।
মোহিনীর এসব ভাবনার মাঝেই পিছন থেকে এসে নিবিড় জড়িয়ে ধরে ওর কাঁধে থুতনি রাখলো। মোহিনী গম্ভীর গলায় বলল,
“কাজ করছি আমি।”
নিবিড় নাক টানতে টানতে বলল,
“মোহিনী, দেখো না আবার জ্বর এসেছে। দেখো ঠান্ডা লেগেছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে, নাক দিয়েও পানি পড়ছে।”
মোহিনী কিঞ্চিৎ বিরক্তিকর গলায় বলল,
“তো এখানে এসেছ কেন? আমি পেঁয়াজ কাটছি। আরো সর্দি লেগে যাবে। যাও এখান থেকে। আর খুব বেশি সমস্যা হলে বিস্কিট খেয়ে ওষুধটা খেয়ে নাও।”
নিবিড় গেল না সেখান থেকে। মোহিনী কে ছাড়লোও না। বরং পর পিঠে নাক ঘষতে ঘষতে বলল,
“না যাব না। তোমায় ছাড়া ভালো লাগছে না একা একা। তুমি চলোতো। রান্না করতে হবে না। অনেকদিন রাতে ভালো করে ঘুম হয় না। আজ তোমায় জড়িয়ে ধরে একটু ঘুমোবো।”
একেই তো কাজ করতে করতে শরীর ভীষণ ক্লান্ত হয়ে গেছে মোহিনীর। তার উপরে আবার অত্যাধিক মাত্রার গরম। তার ওপরে আবার নিবিড়ের বিরক্ত করা। মাথাটা গরম হয়ে গেল মোহিনীর। হালকা রাগী গলায় বলল,
“তুমি ঘুমোবে তো যাও না। আমাকে কেন বিরক্ত করছো। দেখছ রান্না করছি। যাও তো এখান থেকে।”
নিবিড় এবারে ছেড়ে দিলে মোহিনীকে। কপাল কুঁচকে মোহিনীর দিকে তাকিয়ে কিঞ্চিত গম্ভীর বলল,
“আবার সেই একই ব্যবহার করছো আমার সাথে? আবার অবহেলা করছো মোহিনী? এতো দেখছি যেই লাউ সেই কদুই হয়ে গেল।”
সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভুলটা উপলব্ধি করতে পারলো মোহিনী। জিভে কামড় বসিয়ে নিবিড়ের দিকে তাকিয়ে অপরাধী গলায় বলল,
“সরি নিবিড়। আসলে কাজ করছিলাম তো মাথাটা গরম হয়ে ছিল। তার মাঝে তুমি এসে আমায় বিরক্ত করছো।”
নিবিড় চোখ মুখে হালকা একটু দুঃখী ভাব ফুটিয়ে তুলে বলল,
“একটু নাহয় বিরক্তই করছিলাম। তাই বলে এভাবে কথা বলবে তুমি আমার সাথে?”
মোহিনী পুনরায় অপরাধী গলায় বলল,
“ভুল হয়ে গেছে। আর এমন হবে না। বললাম তো ভুল হয়ে গেছে। রাগের মাথায় ছিলাম তো সেজন্য এমনটা বলে ফেলেছি। তুমি কিছু মনে করো না হ্যাঁ।”
নিবিড় সব অভিমান ভুলে গেল। ভুলে গেল মোহিনীর ওর সাথে করা দূর্ব্যবহারের কথা। একটু আগে যে মোহিনীর ওপর অভিমান জমেছিল সেই কথাও ভুলে গেল।
“আচ্ছা ঠিক আছে কোন ব্যাপার না। তুমি তো আমারই বউ। মাঝে মাঝে একটু রেগে গিয়ে বকাঝকা করতেই পারো। তবে আমার কি ভালো লাগলো জানো? এই যেমন তুমি তোমার ভুলটা বুঝতে পারলে। নিঃসংকোচে যে আমার কাছে নিজের ভুলটা স্বীকার করে নিলে এটাই আমার ভালো লাগলো।”
মোহিনী পাল্টা একটু হেসে বলল,
“তুমিও যে আমায় খুব তাড়াতাড়ি ক্ষমা করে দিলে এজন্য তোমাকেও ধন্যবাদ। আচ্ছা এই দিকে এসো তো। দেখি জ্বর এসেছে নাকি আবার।”
কথাটা বলে মোহিনী হাতটা ধুঁয়ে ওড়নায় ভেজা হাতটা মুছে নিবিড়ের কপালে হাত রাখলো। সত্যি জ্বর এসেছে।
“ইশ! জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। গরমের মাঝে থেকোনা এখানে। তুমি ঘরে যাও। আর বেশিক্ষণ লাগবে না। রান্না হলে আমি খেতে ডাকছি। খেয়ে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ো।”
নিবিড় কাচুমাচু করে বলল,
“একা একা ভালো লাগছে না।”
“আরে বাবা রান্নাটা তো করতে হবে। ক্ষুধা লেগেছে। খাবো না? না খেয়ে ঘুমোবো? তুমি যাও। আর বিশ মিনিট সময় দাও আমায়।”
অনিচ্ছা সত্ত্বেও চলে যেতে বাধ্য হলো নিবিড় সেখান থেকে। কেননা মোহিনী তো একা বুঝলে হবে না। মোহিনী তো একা নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখলেও চলবে না। নিবিড়েরও এমন কাজ করা যাবে না যেন মোহিনী রেগে যায়।
________
রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ। নিবিড়কে ওষুধ দিয়ে ওকে শুয়ে পড়তে বলল মোহিনী। তারপরে নিজে আগে হাত মুখ ধুঁয়ে জামা কাপড় বদলালো। পুরো শরীরে যেন ধুলো ময়লা লেগেছিল। রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় গোসলটা করতে পারলো না শুধু।
ফ্রেস হয়ে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আগে চুলটা ভালোমত আঁচড়ে বেনি করলো। ঠোঁটে একটু লিপবাম লাগিয়ে লাইটটা বন্ধ করে দিয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। মোহিনীতো ভেবেছিল নিবিড় এতক্ষণে ঘুমিয়ে গেছে। তবে নিবিড় আসলে এখনো ঘুমোতে পারেনি। মোহিনী পাশ ফিরে শুতেই নিবিড় পিছন থেকে ওকে জড়িয়ে ধরল।
নিবিড় জড়িয়ে ধরতেই মোহিনী হালকা একটু চমকে উঠে বলল,
“তুমি ঘুমোওনি এখনও?”
“না। ভালো লাগছিল না।”
“কেন কি হয়েছে? শরীর বেশি খারাপ লাগছে? দেখি জ্বর কমেনি?”
কথাটা বলে মোহিনী নিবিড়ের কপালে হাত রাখলো দেখার জন্য যে জ্বর কমেছে কিনা।
“জ্বর তো কমে গেছে। তাহলে কি হলো আবার?”
মোহিনীর প্রশ্নটার কোন উত্তর দিল না নিবিড়। মোহিনীকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে মোহিনীর গলার ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে বলল,
“জানো মোহিনী, কতদিন শান্তি মতো একটু ঘুমোই না? জানো, যখন আলাদা ঘুমোতাম তখন ঘুমের ঘোরে হাতরে তোমায় খুঁজতাম। তোমার গায়ের গন্ধ অনুভব করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু পেতাম না। আর সেই মুহূর্তে আমার ঘুমটা ভেঙে যেত। আমার খুব অস্থির লাগতো। ইচ্ছে করতো ছুটে এ ঘরে চলে এসে তোমায় জড়িয়ে ধরার। তোমার গলার ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে মন চাইতো। কিন্তু কেন যেন পারতাম না। আমাদের সম্পর্কটা খুব অদ্ভুত হয়ে গিয়েছিল, তাই না?”
মোহিনী আলতো করে নিবিড়ের চুলের ভাঁজে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
“হুম। খুব অদ্ভুত হয়ে গিয়েছিল আমাদের সম্পর্ক। খুব অদ্ভুত হয়ে গিয়েছিলাম আমরা। অদ্ভুত হয়ে গিয়েছিল আমাদের ভালোবাসা। সবকিছুর মধ্যে আমাদের জেদ কাজ করতো। আমরা ভুলেই বসেছিলাম নিবিড় যে আমরা একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারিনা। আমরা ভুলে গিয়েছিলাম আমাদের ভালোবাসার কথা, আমাদের জীবনের সংগ্রামের কথা, একে অপরের পাশে থাকার কথা। কত বড় বড় লড়াই পার করেছি আমরা দুজনে একসঙ্গে বলোতো! কত জটিল সমস্যার সমাধান করেছি। আর এই ছোট ছোট ঝগড়া গুলোকে আমরা কত বড় বানিয়ে ফেলেছিলাম। এতটাই বড় বানিয়ে ফেলেছিলাম যে আলাদা হওয়ার কথা পর্যন্ত ভেবে নিয়েছিলাম।”
মোহিনী কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে নিবিড় মাথা তুলে তাকিয়ে এক হাতে মোহিনীর মুখ চেপে ধরে বলল,
“হুঁশশ। আলাদা হওয়ার কথা আর কখনো বলোনা। আলাদা হওয়ার চিন্তা কে আমি আমাদের ভুল বলবোনা, আমি পাপ বলবো। যে পাপ আমি আর কখনো করতে চাই না। আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দশ বছর কাটিয়েছে। বন্ধু হিসেবে আরো বেশি। ঝগড়া তো আগেও হয়েছে। মনোমালিন্যও হয়েছে। কিন্তু আমরা তো কখনো আলাদা হওয়ার কথা ভাবিনি। তাহলে আমাদের তখন কি হয়ে গিয়েছিল?”
“আমরা নিজেদের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। আমরা শুধু আমাদের সংসারের কথা ভাবতাম। আমাদের ছেলে মেয়ের কথা ভাবতাম। বিশেষত আমি। আর আমার এই অবহেলার কারণে তুমিও ধীরে ধীরে দুরে চলে যাচ্ছিলে আমার থেকে। সমস্যাটা খুব ছোট ছিল নিবিড়। তবে জটিল ছিল। এতটাই জটিল ছিল যে আমাদের সেটা উপলব্ধি করতে অনেকটা সময় লেগে গেছে। আর একবার যখন উপলব্ধি করতে পেরেছি আমি এই ভুলটা আর করতে চাই না। তোমার থেকে দূরে গিয়ে আমি ভালো ছিলাম না। তোমার থেকে দূরে গিয়ে যে কষ্টটা হয়েছে আমি চাই না সেই কষ্টটা আর কখনো অনুভব করতে।”
নিবিড় মোহিনীর কপালে গাঢ় চুম্বন করে বলল,
“আমিও চাই না। তোমায় ছাড়া আমি থাকতে পারবো না। আমার চলবেই না তোমায় ছাড়া। জীবনের যে কোন পরিস্থিতিতে, যে কোন মুহূর্তে আমার শুধু তোমাকেই প্রয়োজন। তুমি পাশে থাকলে মনে হয় সব আছে। আমি সবকিছু করে নিতে পারব। সব কষ্ট সহ্য করে নিতে পারবো। কিন্তু তুমি আমার থেকে একটু দূরে চলে গেলে সেই কষ্ট আমার জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে। পারিনা তোমায় ছাড়া থাকতে। আর কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যেও না। তুমি শুধু আমার হয়ে থেকে যেও।”
মোহিনী আলতা হেসে বলল,
“তুমি রেখে দিও।”
__________
“ম্যাডাম, এই ফাইলে আপনার একটা সাইন লাগবে।”
মোহিনীর কেবিনে এসে মোহিনীর দিকে একটা ফাইল বাড়িয়ে দিয়ে কথাটা নিবিড় বলল। নিবিড়ের মুখ থেকে ম্যাডাম সম্মোধনটা শুনতেই মোহিনী চোখ গরম করে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমাকে আমি নিষেধ করেছিলাম নিবিড় যে আমায় ম্যাডাম বলে ডাকবে না। মোহিনী বলে ডাকবে।”
নিবিড় মোহিনীর কথায় আপত্তি জানিয়ে বলল,
“মোটেই না। আমি তোমাকে ম্যাডাম বলেই ডাকবো। এতে আপত্তির কি আছে? অফিসে সবাই তো তোমাকে ম্যাডাম বলেই ডাকে। এখন আমি যদি তোমাকে তোমার নাম ধরে ডাকি তাহলে এর প্রভাব তো বাকিদের ওপরও পড়বে তাই না? ওরাও তোমাকে ম্যাডাম বলে ডাকতে চাইবে না।”
“সে আমি বুঝে নেব। কিন্তু তোমার আমাকে ম্যাডাম বলে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই। বুঝতে পেরেছো?”
নিবিড় চোখ ছোট ছোট করে কিছুক্ষণ মোহিনীর দিকে তাকিয়ে রইল। আপাতত আর কিছু বলল না। মোহিনী সাইন করে দিতেই ফাইলটা নিয়ে নিবিড় বেরিয়ে এলো।
নিজের ডেস্কে এসে বসে আবারও কাজে মনোযোগ দিল। খেয়াল করল আশে পাশে বসা ওর কলিগরা কি সব যেন আলোচনা করছে। ফিসফিসিয়ে বলছে যেন নিবিড় শুনলে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে।
এমনিতেই এই অফিসে জয়েন করার পর থেকে নিবিড় খুব বেশি কারো সাথে পরিচিত হয়নি। কারো সাথে আর ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে চায় না সে। বন্ধুত্বও তৈরি করতে চায় না। একা থাকবে সেটাই ভালো। আগের অফিসে বন্ধু ভেবে একজনকে বিশ্বাস করে কিছু ব্যক্তিগত কথা বলেছিল। সে আবার সেই কাহিনী পুরো অফিসে ছড়িয়ে দিয়েছিল। আর এই ভুল নিবিড় করবে না।
কিছুক্ষণ পর লাঞ্চ ব্রেকের সময় হয়ে গেল। কেবিন থেকে বেরিয়ে মোহিনী নিবিড়ের দিকে এগিয়ে এসে বলল,
“লাঞ্চের সময় হয়ে গিয়েছে তো। যাবে না?”
নিবিড় ব্যস্ত ভঙ্গীতে বলল,
“পাঁচ মিনিট লাগবে। তুমি যাও। আমি আসছি।”
“একসঙ্গে যাই।”
“না। তুমি গিয়ে ততক্ষণে খাবার অর্ডার দাও ক্যান্টিন থেকে। আমি আসছি।”
মোহিনী আর অপেক্ষা করলো না। চলে গেল সেখান থেকে। মোহিনী চলে যেতেই এবার নিবিড়ের পাশে বসা ছেলেটা নিজের কৌতুল দমিয়ে রাখতে না পেরে নিবিড় কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“মোহিনী ম্যাডামের সাথে তোমার কি সম্পর্ক চলছে? না মানে ম্যাডাম তো খুব গম্ভীর। কারো সাথে কথাই বলে না। সেখানে তোমার সাথে দেখছি খুব ভালো করে কথা বলে। আবার তুমি তুমি করছে। একসাথে লাঞ্চে যাচ্ছো। ব্যাপার কি? ম্যাডাম যে ম্যারেড জানো তো?”
ছেলেটার কথা শুনে নিবিড় হো হো করে হেসে উঠলো। নিজের কাজ ফেলে কিছুক্ষণ আগে হাসলো। আশেপাশে বেশ কয়েকজন ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো নিবিড়ের দিকে ওকে এভাবে উদ্ভ্রান্তের মত হাসতে দেখে। ওরা তো গুরুতর কথা বলেছে। তাহলে এভাবে হাসার কি আছে?
বেশ অনেকটা সময় ধরে নিবিড়ের এই হাসি সহ্য করার পর ছেলেটা আবার বলে উঠল,
“হাসার কি আছে? ঠিক কথাই তো বলেছি। ভালোর জন্যই তোমাকে বললাম। শুনেছিলাম তো ম্যাডামের নাকি দুটো বাচ্চাও আছে।”
নিবিড় অনেক কষ্টে এবার নিজের হাসি নিয়ন্ত্রণ করে বলল,
“আর সেই বাচ্চার বাবা আমি।”
সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটা চমকে নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য গলায় বলল,
“কি? কি বললে?”
নিবিড় নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল,
“বললাম আপনাদের মোহিনী ম্যাডামের সেই বাচ্চা দুটোর বাবা আমি। আমার ওয়াইফ আপনাদের মোহিনী ম্যাডাম।”
উপস্থিত কারোরই যেন বিশ্বাস হতে চাইলো না নিবিড়ের বলা কথাগুলো। আসলে এই খবরটা অফিসের সবাই জানে না। হাতেগোনা কয়েকজন জানে। সবাইকে তো আর চেঁচিয়ে জানানোর কোন প্রয়োজন নেই। সে জন্য জানানো হয়নি। আর যারা জানেনা তাদের দলে এই কয়জন পরে।
নিবিড়ের কথাটা শুনে ভীষণ চমকালো তারা। কিছুক্ষণ থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকে ছেলেটা ফের অবিশ্বাস্য গলায় বলল,
“সত্যি তুমি মোহিনী ম্যাডামের হাসবেন্ড?”
“মিথ্যে বলার তো কোন কারণ নেই। যাইহোক এখন যাই। মোহিনী ম্যাডাম অপেক্ষা করছে আমার জন্য।”
কথাটি বলে নিবিড় উঠে যাওয়ার জন্য উদ্দ্যত হয়েও আবার থেমে গেল। পিছন ফিরে তাকিয়ে ছেলেটাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“মুখটা বন্ধ করো। মশা ঢুকে যাবে।”
কথাটা বলে ঠোঁট টিপে হাসলো নিবিড়। ছেলেটা সঙ্গে সঙ্গে নিজের মুখ বন্ধ করলো। নিবিড় চলে গেল সেখান থেকে। তবে ওর কলিগদের কাছে এখনো যেন পুরো ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য ঠেকছে। এত বড় একটা খবর জানতে পারলো না কেন ওরা?