রুফটপ রেস্টুরেন্টের আলো-আঁধারি ঘেরা পরিবেশটা যেন সন্ধ্যার মুগ্ধতায় ডুবে আছে। ওপরে নরম হালকা বাতাস, চারপাশে ছোট ছোট টিমটিমে লাইটের মালা, যেন আকাশের তারারা নেমে এসেছে শহরের বুকের উপর। পেছনে বাজছে মৃদু জ্যাজ সুর, তাতে কফি আর গ্রিলড মাংসের গন্ধ মিশে এক অচেনা প্রশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে বাতাসে। টেবিলগুলো ফুলে ফুলে সাজানো, গোলাপ, জারবেরা আর লিলির গন্ধে এক অনিন্দ্য রোম্যান্টিক আবহ। সন্ধ্যার আলো যখন কাঁচের দেয়ালে প্রতিফলিত হয়ে পড়ছে, তখন মনে হয়, সময়টাও আজ যেন একটু থমকে গেছে।
দরজা ঠেলে ইলহান প্রবেশ করলো। পাশে নূরাইসা আর নুহা। আজ সে যেন অন্য এক মানুষ, চোখে আনন্দের ঝিলিক, ঠোঁটে আত্মবিশ্বাসী এক হাসি, যেন গর্ব মিশে আছে তার প্রতিটি পদক্ষেপে। আজকের সন্ধ্যাটা তার জন্য বিশেষ, জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা সে আজ তুলে ধরবে আপন বন্ধুদের সামনে।
এক কোণে বসে আছে তার পুরোনো দিনের সঙ্গীরা, কলেজ জীবনের হাসিখুশি দলটি। টেবিলজুড়ে হাসি, আড্ডা, গল্পের উচ্ছ্বাস। ইলহান এগিয়ে গেলো, একে একে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করল, কেউ কেউ উঠে এসে জড়িয়ে ধরল। সেই বহুদিন আগের সখ্য, সেই বন্ধুতার হাসি ফিরে এলো বাতাসে, যেন বছরগুলো ফুরিয়েই যায়নি কোনোদিন।
কিছুক্ষণ পর সে হালকা ভঙ্গিতে হাত তুলল। পাশে দাঁড়ানো দুইজনের দিকে ইঙ্গিত করল। নূরাইসা আর নুহা একটু ইতস্তত করল, তারপর বিনয়ী হাসি মুখে এগিয়ে এলো। তাদের উপস্থিতিতে আলো যেন আরেকটু নরম হয়ে এলো, বাতাসে অদ্ভুত এক উষ্ণতা মিশে গেল।
ইলহান এবার গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, স্বর তার গম্ভীর অথচ মোলায়েম—
-"ওদের সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। ও সাইমন, পাশে ওর স্ত্রী সাথী। ও জাকারিয়া, পাশে ওর স্ত্রী আয়শা আর ওদের ছোট্ট ছেলে আয়মান। ও মুবিন পাশে ওর স্ত্রী বেলি। ও হেলেনা, ওর স্বামী আরিফ আর মেয়ে জয়া। আর ও রাধা, ওর স্বামী কানাডায় থাকে। আর ও রুহি, ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে, বর বিদেশে আছে, এক বছর পর ফিরলেই বিয়ে।"
পরিচয় পর্বে চারপাশে মৃদু হাসি আর কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ল। কেউ গ্লাসে চুমুক দিল, কেউ চোখাচোখি করে হেসে উঠল। বাতাসে জমে থাকা নীরবতা ভেঙে গেল ধীরে ধীরে। তারপর ইলহান মুখে সেই পরিচিত আত্মবিশ্বাসী হাসিটা নিয়ে একটু থামল, তারপর বলল—
-"And now... meet my lovely wife, Nuraisha Inaya Dewan. আর ও আমার চাচাতো বোন, নুহা ইসরা দেওয়ান!"
নূরাইসা আর নুহা একসাথে মাথা নিচু করে বিনয়ভরে সালাম জানাল সবার উদ্দেশ্যে। সবার মুখে তখন উষ্ণ প্রতিউত্তর, সবাই প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকাল। পরিবেশটা যেন হঠাৎই প্রাণবন্ত হয়ে উঠল, চেয়ার টেনে বসার শব্দ, হাসির ফোয়ারা, আলোয় ভেসে ওঠা মুখগুলো যেন একেকটা গল্প হয়ে উঠছে।
জাকারিয়া, সাইমন, মুবিনরা তখন ইলহানকে ঘিরে পুরোনো দিনের গল্পে ডুবে গেছে।
-"মনে আছে তোদের, সেই ক্যান্টিনের ঘটনা?" হাসির ঝড়ে গ্লাসে ধাক্কা লাগছে, গল্পের ফাঁকে পরিবেশকরা কফি আর পাস্তা পরিবেশন করছে।
অন্যদিকে, মেয়েদের টেবিলে শুরু হলো আলাদা আড্ডা। নূরাইসাকে ঘিরে সবাই কৌতূহলে মাতোয়ারা।
হেলেনা চোখে দুষ্টুমি মেখে মুখে এক চিলতে হাসি টেনে বলল—
-"তো চাচাতো বোনই বুঝি এখন ঘরও সামলায়?"
বেলি কণ্ঠস্বর ভেসে এল—
-"জানো তো ইসা, বিহানের বাচ্চাটা ছাড়া আমাদের কাউকে তোমার জামাই তোমাদের বাড়িতে নেইনি কোনোদিন।"
নূরাইসা হালকা হাসলো, যেন তার ভেতরে অচেনা কৌতূহল জাগল। পাশে বসা রাধা হঠাৎই দুষ্টু চোখে তাকিয়ে বলল—
-"বাসর রাত কেমন ছিল ইসা? কিছু দিয়েছে তোমায়?"
নূরাইসা অবুঝ চোখ মেলে চেয়ে রইলো। তার চাহনিতে একধরনের সরলতা, যা উপস্থিত সবাইকে হাসতে বাধ্য করল। সে ধীরস্বরে বলল—
-"আমাকে তো কিছু দেয়নি। কিছু কি দিতে হয়, আপু?"
এবার হেলেনা একটু গর্বের ভঙ্গিতে এগিয়ে এসে নিজের হাত মেলে ধরলো। আঙুলে জ্বলজ্বল করছে একটি আংটি। তার চোখে-মুখে রোমাঞ্চিত স্মৃতি।
-"হ্যাঁ, অবশ্যই দিতে হয়। বাসর রাতে উপহার তো প্রথা। এই দেখো, তোমার ভাইয়া আমাকে এই আংটিটা দিয়েছিল।"
রাধাও তখন নিজের গলার কাছে হাত দিয়ে হালকা টান দিলো। ঝলমল করছে একটি ডায়মন্ড চেইন, যেন আলো পেয়ে খেলা করছে। রাধার চোখে তখন একধরনের মিষ্টি স্মৃতি। যদিও সে হিন্দু, তবু তাদের সমাজেও এমন রীতি চলে, সেই গর্ব সে লুকোল না।
নূরাইসা এবার হালকা হেসে বলল—
-"আমাকে অনেক স্বর্ণ কিনে দিয়েছে। আমি তো এত সাজগোজ করি না। যেগুলো দিয়েছে সব মা আর বড় মার আলমারিতে রাখা আছে।"
পাশ থেকে নুহা মুখ বাঁকিয়ে মজা করলো—
-"আরে গাধি, এটা তোর একটা স্পেশাল গিফট। লাখ টাকার গয়না তো সবাই পায়। কিন্তু বাসর রাতের উপহারটা আলাদা, সেটা হয় বিশেষ।"
তার কথায় সবাই দুষ্টুমি-ভরা হাসি হেসে উঠলো। রুহি মজা করে নুহার গলা জড়িয়ে ধরলো—
-"বাহ! বেশ ভালো তো। তুমি দেখছি খুব জানো এইসব ব্যাপারে!"
নুহা মুখ নামিয়ে হালকা লাজুক ভঙ্গিতে হাসলো, যেন নিজের অভিজ্ঞতা গোপন করছে। আর ঠিক সেই মুহূর্তে নূরাইসা টিটকিরি মেরে বলে উঠলো—
-"জানবে না কেন? ভালোবাসা বোঝার আগেই তো নিজের জন্য জামাই ঠিক করে রেখেছে!"
চারপাশে এক মুহূর্তের জন্য যেনো ঝড় বয়ে গেল। সবাই হঠাৎ বিষ্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে উঠলো। তারপরই একসাথে চিৎকার করে উঠলো—
-"কিহহহহ!"
নূরাইসা তৎক্ষণাৎ আঙুল তুলে দরজার দিকে ইশারা করলো। চারপাশে আলো-ঝলমলে রুফটপ রেস্টুরেন্ট, টেবিলের উপর ফেয়ারি লাইট জ্বলজ্বল করছে, আকাশ মাথার উপর ঝলমল করছে নক্ষত্রে। সেই পরিবেশের ভেতর দিয়ে বিহান দ্রুত পদক্ষেপে ভেতরে ঢুকছে। কানে ফোন, পদক্ষেপ দৃঢ়, পরনে সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট। চুলগুলো পরিপাটি করে আঁচড়ানো, ফর্সা গায়ের রঙে আলোর ঝিলিক পড়ছে। লম্বা, সুউচ্চ দেহে এক অদ্ভুত আকর্ষণ, যেনো রাতের শহরের আলোকে হার মানিয়েও তার সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ছে। নূরাইসা দুষ্টু হাসি চেপে বললো—
-"ঐযে জামাই এসে গেছে।"
মুহূর্তেই সবার চোখ দরজার দিকে। অবাক, বিস্মিত। রুহি হঠাৎ বলে উঠলো—
-"বিহানের সাথে প্রেম করো তুমি?"
নুহা তখন অসহায় মুখে উত্তর দিলো—
-"বেটা বুঝলে তো! সেই কবে থেকে লাইন মারছি। সবাই জানে.... শুধু এই গোবরমাথাটাই বুঝল না।"
মুহূর্তেই চারপাশে হাসির বিস্ফোরণ। রুফটপের খোলা আকাশ কেঁপে উঠলো সেই খিলখিল শব্দে। পাশের টেবিলে বসা কয়েকজন অবাক হয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো—
-"কি হয়েছে? তোমরা এত হেসে মরছো কেনো?"
নুহা তখনো হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠলো—
-"ওই আপুর বাসর রাত নিয়ে কথা বলছিলাম।"
এই কথা শুনে নূরাইসার চোখ লাল হয়ে উঠলো। রাগ আর লজ্জার আগুনে সে যেনো সবাইকে পুড়িয়ে দিতে চাইলো। কিন্তু চারপাশে কেউ থামলো না, সবাই মিটিমিটি হেসে চললো। সেই রুফটপ রেস্টুরেন্টের উষ্ণ আলোকিত পরিবেশ, আকাশের নিচে তারার ঝিকিমিকি, আর বন্ধুদের প্রাণখোলা হাসি, সব মিলে মুহূর্তটা হয়ে উঠলো অমলিন, অবিস্মরণীয়।
.
অন্যদিকে রেস্টুরেন্টের এক কোণে, শহরের ঝলমলে আলোকে পেছনে ফেলে বিহান আর ইলহান দাঁড়িয়ে আছে। কাঁচের দেয়াল ভেদ করে চোখে পড়ছে দূরের উজ্জ্বল শহর। রাতের হাওয়ায় উড়ছে সিগারেটের ধোঁয়া, মাঝে মাঝে ঝিকিমিকি ফেয়ারি লাইটে তা ভেসে যাচ্ছে আকাশের দিকে। দু’জনের নিঃশব্দ কথোপকথনের ভেতর হঠাৎই বিহান আকাশের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন ছুঁড়লো—
-"তুই তো ইসাকে ভালবাসিস না। তাহলে কেনো করলি এই বিয়ে?"
ইলহান সিগারেটের টান দিলো, ধোঁয়ার কুণ্ডলী অন্ধকার আকাশে ভেসে গেলো। গভীর দৃষ্টি রেখে শান্ত কণ্ঠে সে বলল—
-"ও দাদুর মায়ের মতো দেখতে। দাদু চাইতেন, দাদুর মা যেমন এই বাড়িতে বউ হয়ে রাজত্ব করেছে, ও-ও তেমন করুক। দাদু কখনো ওকে বাইরের কারো সাথে বিয়ে দিতেন না। আর তুই তো জানিস, আমি দাদু-দাদীর কথা ফেলতে পারি না।"
বিহান নিঃশ্বাস ফেলে থমকে দাঁড়াল। তার চোখে কৌতূহল আর বিস্ময়ের ছায়া। সে আবার জিজ্ঞেস করল—
-"তাহলে তুই ইসার সাথে যেইসব আচরণ করছিস, সেসব কেনো?"
ইলহান ধীরস্থিরভাবে ধোঁয়া উড়াতে উড়াতে উত্তর দিলো—
-"ও আমাকে ভীষণ ভয় পায়। আমি চাই, ও এই ভয়টা কাটিয়ে উঠুক। দেখ, সবার সাথে কীভাবে হাসি-খুশি কথা বলছে, কত চঞ্চল! অথচ আমি আশেপাশে থাকলেই তার আলো নিভে যায়। আমি চাই, ওর সব বাচ্চামি, সব চঞ্চলতার কেন্দ্রবিন্দু আমি হই। আমার সামনে নির্দ্বিধায় নিজেকে প্রকাশ করুক। ভয় না পেয়ে... একদম নিজের মতো করে।"
ইলহানের কথা শুনে বিহান নিঃশব্দে ঘুরে তাকালো। দূরে টেবিলের পাশে সবাই একসাথে হেসে খুনসুটি করছে। নূরাইসা হাসছে, তার চঞ্চলতা চারপাশ ভরিয়ে তুলছে। সেই দৃশ্য দেখে বিহানের মনে হালকা আলোড়ন জাগলো। ধীরে ধীরে ইলহানের দিকে ফিরে এসে সে বলল—
-"আর ভালোবাসা?"
ইলহান তখনও আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার চোখে যেনো এক অদৃশ্য শূন্যতা। নিস্তরঙ্গ কণ্ঠে বলল—
-"ওর মুখ আমি বিয়ের পর প্রথমবার ভালোভাবে দেখেছি। এতদিন ও আমার সামনে আসত না, কাছে থাকতো না। ভালোবাসা জন্মাবে কিভাবে?"
বিহান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। প্রশ্ন তার ঠোঁটে ঝুলে আছে। সে ধীরে ধীরে বলল—
-"তাহলে... ভালোবাসাবিহীন জীবন পার করবি?"
ইলহান এবার সোজা দাঁড়ালো, নিঃশ্বাস ছেড়ে আবার ধোঁয়া উড়িয়ে দিলো। তার ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা, অথচ চোখের ভেতরে লুকানো কষ্টের ছায়া। গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
-"বিয়ের আগেই যে ভালোবাসা থাকতে হবে, তার তো কোনো মানে নেই।"
বিহান হতবাক। এক পা এগিয়ে জিজ্ঞেস করল—
-"মানে?"
শহরের আলো তখন নীচে ঝলমল করছে, রাতের আকাশে নক্ষত্রেরা সাক্ষী হয়ে আছে। তাদের দুজনের কথোপকথনে জমে উঠছে অদ্ভুত এক নীরব নাটকীয়তা, যেনো কেউ শুনছে না, অথচ পুরো আকাশ তা শুনছে।
ইলহান এবার ধীরে ধীরে বিহানের দিকে ফিরে দাঁড়াল। সিগারেটের ধোঁয়া ঠোঁট ছেড়ে আকাশের দিকে ভেসে উঠলো। কণ্ঠে অদ্ভুত দৃঢ়তা, অথচ চোখের গভীরে লুকানো এক অচেনা কোমলতা—
-"বিয়ের পরও ভালোবাসা হয়। আমি চাই, ও আমাকে ভয় না পাক। আমার জন্য ওর মনে ধীরে ধীরে ভালোবাসা জন্মাক। এমন এক ভালোবাসা, যা মুহূর্তের আবেগ নয়, বরং স্থায়ী। আর সেই ভালোবাসা যেনো মৃত্যুর পরও অটুট থাকে।"
বিহান হেসে উঠলো। সেই হাসি ছিল বন্ধুর প্রতি ভালবাসায় ভরা। ছোটবেলার বন্ধু, কত রাত-দিন একসাথে কাটিয়েছে! ইলহানের মন কে জানে না সে? এই অতিচালক, একগুঁয়ে বন্ধুটি আসলে চায়, তার বউ আগে তার প্রেমে পড়ুক। যেনো সেই প্রেম ভিক্ষা করা নয়, অর্জন করা হয়।
বিহান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর হালকা কণ্ঠে প্রশ্ন করলো—
-"কালকের ব্যাপারে বলেছিস ইসাকে?"
ইলহান সিগারেটটা শেষ করে পায়ের নিচে মুছে ফেললো। তারপর শান্ত গলায় বলল—
-"বাসায় গিয়ে বলব।"
.
রুহান ও তানভীরের নামে এক বিশাল পার্সেল এসে পৌঁছেছে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দুই ভাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল, কৌতূহল যেন চোখের কোণে ঝিলিক দিচ্ছে। পার্সেলটা এত বড় যে দুজনকে মিলে টেনে তুলতে হলো। ভারি বাক্সটি কষ্টেসৃষ্টে বয়ে নিয়ে এল তারা ইলহানের ঘরে।
রুহান ও তানভীর ততক্ষণে পার্সেল খোলায় ব্যস্ত। প্যাকেটের স্তর ভেদ করে যখন শেষমেশ কাঠের ফ্রেমটি দেখা দিল, তখন ঘরে যেন এক মুহূর্তের জন্য নিঃশব্দতা নেমে এলো। একটি ছবির ফ্রেম। ইলহান ও নূরাইসার বিয়ের দিন তোলা তাদের সেই কাপল পিক। দুজন এক দুপট্টার নিচে, একে অপরের মুখে আলো-ছায়ার খেলায় আবিষ্ট করে রেখেছে সেই মুহূর্ত। যেন সময় থমকে আছে।
দুই ভাই এক দৃষ্টিতে ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর পরস্পরের দিকে তাকিয়ে নীরব হাসি বিনিময় করল, তাদের চাওয়ায় মিশে ছিল গর্ব, স্নেহ আর অদৃশ্য এক মায়া। বেডের উপরের দেয়ালটা এতদিন ফাঁকা ছিল, আজ সেটি যেন নতুন প্রাণ পেল। তারা সাবধানে, নিখুঁতভাবে, দেয়াল জুড়ে টানিয়ে দিল বিশাল ফ্রেমটি। ঘরটা এক মুহূর্তে যেন অন্য এক রূপ নিল। কাজ শেষে দুই ভাই নিচে নেমে গেল হাসতে হাসতে, হালকা হেলতে দুলতে, সন্তুষ্ট, সফল।
.
নূরাইসা নিজের ঘরে প্রবেশ করে চোখ মেলে তাকাতেই তার নিঃশ্বাস যেন আটকে গেল। দেয়ালজুড়ে ঝুলছে সেই ছবি, এক অপরূপ মুহূর্তের বন্দি স্মৃতি। দুপট্টার নিচে নূরাইসা ও ইলহানের মুখে আলো পড়েছে এমনভাবে, যেন কোনো রূপকথার গল্পের চরিত্রত তারা। নূরাইসা কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকল, চোখে এক মিশ্র অনুভূতির আভা।
ইলহানরা সবাই ফিরে এসে ফ্রেশ হয়ে নিয়েছে। নুহা ইতিমধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে। নূরাইসা ঘুমোতে যাবে, এমন সময় বেলকনি থেকে ইলহানের কণ্ঠ ভেসে এলো—
-"নূরেজান!"
নূরাইসা অবাক হয়ে ঘুরে তাকালো। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ইলহান, চুপচাপ, গম্ভীর, তবু চোখে এক অজানা কোমলতা। ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো সে। কাবার্ড খুলে কয়েকটি বক্স বের করল। তারপর নূরাইসাকে নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড় করালো।
নূরাইসা প্রশ্নভরা চোখে তাকিয়ে রইলো। ইলহান প্রথম বক্সটি খুলল। ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো এক টুকরো স্বর্ণের নাকফুল, ঝলমলে, কিন্তু সূক্ষ্ম। বিয়ের সময় সে নাকফুল দেয়নি। এবার নিজের হাতে সেই নাকফুলটি নূরাইসার নাকে পরিয়ে দিলো। নূরাইসা স্তব্ধ। অবিশ্বাসে, মুগ্ধতায় তার চোখ বড় হয়ে উঠল। এ কি সেই ইলহান? যে মানুষটাকে দেখে একসময় ভয়ে কাঁপত সে? যে সারাক্ষণ গম্ভীর মুখে, দূরত্বের দেয়াল তুলে ঘুরে বেড়াত? দু’দিনে এত পরিবর্তন কীভাবে সম্ভব!
ভাবনার ভেতরেই ইলহান একে একে বাক্সগুলো খুলে ফেলেছে। পাতলা স্বর্ণের চেইন, চিকন চুরি, সবই একে একে নূরাইসার গায়ে পরিয়ে দিচ্ছে। তারপর তাকে আয়নার দিকে ঘুরিয়ে নরম অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল—
-"আপনি যে বিবাহিতা, এইগুলোই তার প্রমাণ। খবরদার, ভুলেও কোনোদিন এগুলো খুলবেন না।"
নূরাইসার ঠোঁটে লাজুক হাসি ফুটে উঠল। মাথা নিচু করে হালকা করে সায় জানালো সে। লজ্জায় আর ভয়ে তার গাল রক্তাভ, যেন সকালের লালচে আভা মুখজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইলহান চুপচাপ তাকিয়ে রইলো, নিষ্পলক। সেই দৃশ্য, সেই মুখ, যেন তার সামনে সময় থেমে গেছে। হঠাৎই কিছু মনে পড়তেই সে ঝুঁকে নূরাইসার ঘাড়ে হালকা কামড় বসালো।
নূরাইসা চমকে উঠল। আয়নায় ইলহানের প্রতিবিম্বের দিকে গেল তার দৃষ্টি। ইলহান ধীরে মুখ তুলল, আয়নায় চোখে চোখ রাখল, তারপর নিচু, গাঢ় কণ্ঠে বলল—
-"যেই স্বর্ণগুলো দিলাম, এগুলো বাসর রাতের উপহার নয়। আমি জানতাম না, বাসর রাতে বউকে কিছু দিতে হয়, তাই দিতে পারিনি। কিন্তু এখন যেই কামড়টা দিলাম... এটাই নিঃসন্দেহে আপনার বাসর রাতের উপহার। ভুলেও এই স্বর্ণগুলোকে বাসরের উপহার ভাববেন না।"
নূরাইসা স্থির দাঁড়িয়ে রইলো। আয়নায় তাদের দুজনের প্রতিবিম্ব, এক অদ্ভুত আকর্ষণ, আর নীরব আলোর মতো নেমে আসা সম্পর্কের উষ্ণ বন্ধনে জড়িয়ে রইল।
ইলহান নূরাইসাকে ছেড়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। নূরাইসা ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। এই পুরুষটা আধপাগল নাকি? এক মুহূর্ত আগে যে মানুষটা তার ঘাড়ে কামড় বসিয়েছে, পরের মুহূর্তেই সে নির্লিপ্তভাবে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়েছে। নূরাইসা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না, ইলহানের এমন পরিবর্তনের মানে কী! এই মানুষটা যেন ক্রমেই তার কাছে এক রহস্য হয়ে উঠছে।
চিন্তার ভেতরেই সে ধীরে বিছানার দিকে এগিয়ে গিয়ে শুয়ে পড়ল। আর শোওয়ার সাথে সাথেই ইলহান ঠিক গত রাতের মতো তাকে আঁকড়ে ধরল, আষ্টেপিষ্টে, নিঃশ্বাসের ফাঁকে ফাঁকে নূরাইসার বক্ষপিঞ্জরে গুঁজে নিল তার মুখ।
নূরাইসার শরীর মুহূর্তেই থমকে গেল। এই স্পর্শগুলো যেন তার বুকের ভেতর ঝড় তোলে। পেটের মধ্যে প্রজাপ্রতি উড়ে। শীতল স্পর্শ, তবে শরীরে দাবানল ছড়িয়ে দেয়। অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে, অথচ প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়েও থেমে যায় সে, কি করবে, কি বলবে, কিছুই বুঝতে পারে না।
ইলহান কিছুক্ষণ নীরব থেকে হঠাৎ নিচু গলায় বলল—
-"কাল আমি অফিসের কাজে বিদেশ যাচ্ছি। সাথে বিহানও যাবে। ৪-৬ মাস পর ফিরব।"
নূরাইসা স্তব্ধ। বিস্ময়ে যেন নিঃশ্বাস আটকে গেল তার।এই খবর সে জানত না, কেউই বলেনি তাকে। চোখের পলক দ্রুত পড়ল। অবাক কন্ঠে সে বলল—
-"আমাকে তো আগে বলেননি... বাড়িতে সবাই জানে?"
-"হুম!" সংক্ষিপ্ত জবাব ইলহানের।
-"শুধু আমি জানতাম না?"
-"এখন জানলেন।"
কথাগুলো শোনামাত্রই নূরাইসার বুকের মধ্যে অদ্ভুত এক শূন্যতা তৈরি হলো। কেনো যেন মনটা হালকা কষ্টে ভরে গেল। বাড়ির প্রতিটি মানুষ জানে, শুধু সে জানে না। তার এতটুকু গুরুত্বও কি নেই এই বাড়িতে?
নিচু কণ্ঠে বলল সে—
-"এই জন্যই এত তাড়াহুড়ো করে বিয়েটা করলেন?"
ইলহান মুখ তুলে তাকালো। নূরাইসার কণ্ঠে সে যে আঘাত শুনল, তা তার অজান্তেই বুকের ভেতর ছুঁয়ে গেল। নরম স্বরে জিজ্ঞেস করল—
-"রাগ করেছেন?"
নূরাইসা চুপ। কিছু না বলে ধীরে বলল—
-"আমাকে বলার প্রয়োজন ছিল না। শুরুতে যখন জানাতে পারেননি, তখন যাওয়ার আগে বলারই বা কী দরকার ছিল? আমি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ মানুষ নই!"
বলে ইলহানের বাহু নিজের গা থেকে সরিয়ে উল্টো ঘুরে শুয়ে পড়ল। তার কণ্ঠে অভিমান, নিঃশ্বাসে তাপ, চোখে জল জমে উঠছে।
ইলহান চুপচাপ তাকিয়ে রইল তার পিঠের দিকে।
বুঝে গেল, তার নববধু সত্যিই রেগে গেছে, কষ্ট পেয়েছে। তবে ইলহান কি এমনিতে ছেড়ে দেওয়ার মানুষ? ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফুটল। পেছন থেকে ধীরে, দৃঢ়ভাবে আবারও জড়িয়ে ধরল নূরাইসাকে। তার ঘাড়ের ভাজে মুখ গুঁজে দিলো, বলল না কিছু, শুধু নিঃশব্দে নিজের উষ্ণতায় ঢেকে রাখল তাকে।
নূরাইসা কেঁপে উঠল, তবুও জেদে অটল রইল।
চোখ বন্ধ করে ভাবল, এই মানুষটাকে বোঝা সত্যিই অসম্ভব। তবু তার বুকের ভেতর যেন ধীরে ধীরে এক মায়া জন্ম নিচ্ছে। কেনো এই টান অনুভব করছে সে? কেনো ইলহানের যাওয়ার কথা শুনে বুকে চিনচিন ব্যথা করছে? অচেনা, অথচ অজান্তেই আপন হয়ে উঠছে ইলহান যা নূরাইসা বুঝতেও পারছে না।
.
ভোর চারটা। বাড়ির চারপাশ এখনো নিঃস্তব্ধ, শুধু পাখিরা মাঝেমধ্যে ঘুম ভাঙার আগমনী ডাক দিচ্ছে।
হঠাৎই ইলহানের ফোন বেজে উঠল। সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা শেষ করেই ইলহান ধীরে ঘুমন্ত নূরাইসার দিকে ঝুঁকল। নরম কণ্ঠে বলল—
-"নূরেজান, উঠুন... যেতে হবে আমাকে।"
নূরাইসা আধো ঘুমে চোখ মেলল। চারপাশের আলো এখনো ফিকে ধূসর, সে কিছুক্ষণ কিছুই বুঝতে পারল না। চোখের পাতা কাঁপতে কাঁপতে ধীরে বলল—
-"এত সকালে যাবেন মানে?"
ইলহান ব্যাগ গোছাতে গোছাতে উত্তর দিল—
-"বিহান ফোন করেছিল। আমাদের ফ্লাইটের টিকিট ভোরেই।"
নূরাইসা মলিন মুখে মাথা নাড়ল। ঘুমচোখে বিছানা ছেড়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিল। এদিকে ইলহান তখনই পুরো তৈরি। নূরাইসা তার দিকে তাকিয়ে হালকা গলায় বলল—
-"আপনি বসুন, আমি কিছু খাবার বানিয়ে নিয়ে আসছি।"
ইলহান এক মুহূর্তের জন্য থামল, তারপর ঠান্ডা গলায় বলল—
-"তার প্রয়োজন নেই। বাইরে খেয়ে নেব।"
নূরাইসা মুখ নামিয়ে নিচু স্বরে বলল—
-"কিন্তু... বাড়ির কেউ যাবে না আপনার সাথে?"
ইলহান ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে নিতে নিতে উত্তর দিল—
-"সকালের ফ্লাইট, তাই সবাইকে উঠতে মানা করেছি। সকালে ঘুম ভাঙলে জানবে আমি গন্তব্যে রওনা হয়েছি।"
নূরাইসা আর কিছু বলল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল, চোখে একরাশ অজানা কষ্ট। ইলহান আড়চোখে তাকাল, তার নববধুর চোখ চিকচিক করছে, যেন নোনাজলের ঢেউ আটকে আছে পাপড়ির কিনারায়।
হঠাৎ হেসে উঠল সে, ঠাট্টা মিশ্রিত কণ্ঠে বলল—
-"চোখ চিকচিক করছে কেনো, নূরেজান?
আমাকে তো ভয় পান। আমি গেলে তো আপনার শান্তি, খুশি হওয়ার কথা!"
নূরাইসা চোখ তুলে তাকালো। আর মুহূর্তেই নোনাজল গড়িয়ে পড়ল তার চোখ দিয়ে। অশ্রুকণাগুলো মেঝেতে পড়ার আগেই ইলহান তার সামনে হাত পেতে দাঁড়িয়ে গেল। সব অশ্রু এসে পড়ল সেই দু’টি কঠিন অথচ স্নেহময় হাতের মুঠোয়। ইলহান সযত্নে হাতের তালু তুলে ধরে সেই নোনাজল ঠোঁটে ছুঁয়ে গিলে ফেলল।
নূরাইসা স্তব্ধ। তার বুকের ভেতর কেমন যেন দপদপ করছে, চোখের পাতা স্থির হয়ে গেছে বিস্ময়ে। সে কিছু বলার আগেই ইলহান তাকে টেনে নিলো নিজের বুকে।
মাথার ওপরে আলতো করে একটি চুমু রেখে বলল নরম অথচ দৃঢ় কণ্ঠে—
-"দ্রুত ফিরে আসব। আমার অনুপস্থিতিতে আপনার চোখ দিয়ে যেন আর অশ্রু না গড়ায়, বুঝলেন?"
নূরাইসা কিছু বলল না। চুপচাপ মুখ গুঁজে রইল স্বামীর বুকে। তার কাঁধ কাঁপছে মৃদু, ভয়, অভিমান, অজানা কষ্ট, সব একাকার। কিছুক্ষণ পর ইলহান নরমভাবে তাকে আলাদা করে সোজা দাঁড় করাল। চোখেমুখে একটুখানি দুষ্টু হাসি ফুটে উঠেছে। নূরাইসা নতমুখে দাঁড়িয়ে আছে, লজ্জায়, কষ্টে, না হয়তো অজানায়।
ইলহান মাথাটা একটু কাত করে ঝুঁকল তার দিকে, ঠোঁটের কোণে খেলা করল এক দুষ্টু বাঁকা হাসি।ফিসফিস করে বলল—
-"একটা চুমু খাই?"
নূরাইসা তোরখ করে তাকাল। তার চোখ বিস্ফারিত, গাল দুটো এক মুহূর্তেই টকটকে লাল হয়ে উঠল। কান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে উত্তাপ। সে হকচকিয়ে এক ধাপ পেছনে সরে গেল, কাঁপা কণ্ঠে বলল—
-"আপনি এত নির্লজ্জ, আগে তো জানতাম না!"
ইলহান মুচকি হেসে উত্তর দিল—
-"আগে কি বউ ছিলেন?"
নূরাইসা চঞ্চল চোখে এদিক ওদিক তাকিয়ে বিড়বিড় করলো—
-"অসভ্য পুরুষ!"
ইলহান হেসে ফেলল এবার, চোখে দুষ্টু ঝিলিক—
-"বউয়ের সঙ্গে অসভ্যতা না করে কি সাধু হয়ে থাকতে বলছেন? শুনুন, মিসেস ইলহান, আপনার স্বামী এতটাও সাধু পুরুষ নয়! সামনে হালাল জিনিষ রেখে কেউ উপস করে না।"
নূরাইসা মুখে কিছু না বললেও চোখ-মুখের লজ্জা, অভিমান আর অস্থিরতা সব একসাথে ফুটে উঠল।
সে কাপা কন্ঠে বলল—
-"আপনি এইসব অশালীন কথা বলছেন কেনো? লজ্জা লাগছে না?"
ইলহান মুচকি হেসে বলল—
-"বউয়ের কাছে লজ্জা দেখলে পুরুষত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠবে!"
নূরাইসার কান তৎক্ষণাৎ লাল হয়ে গেল। চোখ নামিয়ে ফেলল সে, তবুও বুকের ভেতর ধকধক করছে যেন কোনো অজানা আগুন। ইলহান কয়েক পা এগিয়ে এল। ধীরে ঝুঁকে নূরাইসার কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিস করে বলল—
-"অস্লীল কথা তো এখনো শুরুই করিনি, নূরেজান। তার আগেই বদনাম করছেন! বউয়ের সঙ্গে না বললে কার সঙ্গে বলব বলুন? প্রতিবেশীর বউয়ের সাথে?"
তার কণ্ঠে হালকা হাসির রেশ, তবুও সেই স্বর যেন নূরাইসার বুকের গভীরতায় নেমে যায়। ইলহান এক মুহূর্ত চুপ থেকে কণ্ঠ নামিয়ে বলল—
-"আপনি চাইলে যাওয়ার আগে বাকি সব অশালীন কথাগুলো বলে যেতেই পারি।"
নূরাইসা আর তাকাতে পারল না। লজ্জায় কুঁকড়ে গেল সে, মুখ আরও নিচু করে ফেলল। চুলের গোছা মুখের পাশে নেমে এসে তার কপালে পড়েছে, ইলহান সেই দৃশ্যটা উপভোগ করছে নিঃশব্দে। মুখে একরাশ দুষ্টু হাসি টেনে, সিনা টানটান করে দাঁড়িয়ে ইলহান বলল—
-"যদি চান, যাওয়ার আগে সেই নিষিদ্ধ চাওয়া গুলোকেও একটু প্রশ্রয় দিয়ে যাই?"