.
বিহান সারাদিন দেওয়ান বাড়িতেই ছিল। বিকেলের দিকে বেরিয়ে যায় সে আর ইলহান। নূরাইসার জন্য সারাদিন অপেক্ষা করেছে ইলহান, কিন্তু সে আর একবারও তার সামনে এসে দাঁড়ায় নি। নিঃশব্দে, আড়ালে থেকেই কাটিয়ে দিয়েছে পুরো দিনটা। সেই না-পাওয়ার শূন্যতা নিয়েই শেষ পর্যন্ত বিহানের সাথে বাইরে বেরিয়েছিল ইলহান।
দু’জনে মিলে পরবর্তী পরিকল্পনা করেছে। আর্সলান ঢাকা এসেছে, এটা নিশ্চিত। তার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কিন্তু আসল সমস্যাটা অন্য জায়গায়।তৃতীয়জনকে খুঁজে বের করতে হবে। আর সেই তৃতীয়জনের একমাত্র ক্লু এখন আর্সলানই দিয়ে পারবে। মধ্যরাতে ইলহান বাড়ি ফিরে আসে। পুরো দেওয়ান বাড়ি তখন নিস্তব্ধ। কোথাও কোনো আলো নেই, কোথাও কোনো শব্দ নেই। যেনো বিশাল বাড়িটা ঘুমিয়ে পড়েছে গভীর কোনো অজানা আতঙ্কের ভেতর। ইলহান ক্লান্ত পায়ে সিঁড়ি ভেঙে দুতলায় নিজের ঘরের দিকে এগিয়ে যায়।
ঘরে ঢুকতেই চারপাশের অন্ধকার তাকে গ্রাস করে।খাটের ওপর নূরাইসা গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। নিঃশ্বাসের শব্দটুকুও খুব হালকা, যেনো একটু জোরে নিশ্বাস নিলেই ভেঙে যাবে তার ঘুম। ইলহান ধীর পায়ে এগিয়ে আসে। প্রতিটা পা ফেলতে গিয়ে মনে হয়, এই বুঝি তার ঘুম ভেঙে যাবে। খাটের কাছে এসে, নূরাইসার ঘুমন্ত মুখশ্রী দেখেই ইলহান মাটিতে বসে পড়ে। নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে তার দিকে। চোখ-মুখ ফুলে আছে। গালের ওপর শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুর রেখা স্পষ্ট। কতক্ষণ কেঁদেছে মেয়েটা, কে জানে! শুধু বোঝা যায়, কান্নাটা হালকা ছিল না। ভীষণ কষ্ট পেয়েছে ইলহানের কথায়। যে মেয়েটা কারও সামান্য দুঃখও সহ্য করতে পারে না, অপরিচিত মানুষের কষ্ট দেখলেও যার চোখ ভিজে ওঠে, সেই মেয়ের বোনদের এমন পরিণতি হলে তার মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে? এই ভাবনাই ইলহানের বুকের গভীর থেকে দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেরিয়ে এলো। সে বুঝতে পারে, সত্যিই সে অন্যায় করে ফেলেছে। তার মতো কঠিন, সংযত মানুষের বুক যদি এই অবস্থায় ভারী হয়ে ওঠে, তবে নূরাইসার মতো নরম, সংবেদনশীল মানুষের হৃদয়ে কতটা ঝড় বয়ে গেছে, তা কল্পনাও করতে পারছে না ইলহান।
ইলহান ধীরে হাত বাড়ায়। ঘুমন্ত নূরাইসার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দেয়। সেই স্পর্শে জমে থাকা অনুশোচনা যেনো আরও তীব্র হয়ে ওঠে তার বুকে।সেখানেই, মেঝেতে বসে পড়ে সে। এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরায় না তার নূরেজানের মুখ থেকে। না চাইতেও মেয়েটাকে কত কষ্ট দিয়ে ফেলেছে সে। এই উপলব্ধিটা বারবার তার বুকে আগুনের মতো দগ্ধ করছে।অনুশোচনায় জ্বলতে জ্বলতে, নিঃশব্দ অন্ধকারে বসে থাকে ইলহান, শুধু তাকিয়ে থাকে, কিছু বলার অধিকারও যেনো আর নেই তার।
পরদিন সকালে খুব ভোরে নূরাইসার ঘুম ভেঙে যায়।চোখ মেলে প্রথমেই সে যা দেখে, তাতে বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে ওঠে। ইলহান মাটিতে বসে আছে। খাটের ওপর দুই হাত রেখে, সেখানেই মাথা ফেলে ঘুমিয়ে পড়েছে। সারারাতের ক্লান্তি আর অনিদ্রা মিলেমিশে তার শরীরটাকে যেন ভেঙে দিয়েছে। চুল এলোমেলো।কপালের ভাঁজে জমে আছে অব্যক্ত ক্লান্তি। এক মুহূর্তের জন্য নূরাইসার মনে হলো, একবার ছুঁয়ে দেই... শুধু একবার। হাত বাড়ায় সে। আঙুলগুলো হালকা কাঁপে। কিন্তু ঠিক পরমুহূর্তেই গতকালের কথাগুলো ঝাঁপিয়ে পড়ে তার মনে। বলা না হওয়া অভিযোগ, জমে থাকা ব্যথা, নীরব অভিমান, সব একসাথে।হাতটা মাঝপথেই থেমে যায়। নূরাইসা ধীরে হাত গুটিয়ে নেয়।নিজেকে বোঝায়, না, এখন না। নিঃশব্দে ধীরে খাট থেকে নেমে পড়ে সে, যেনো ইলহানের নিদ্রায় বেঘাত না ঘটে। নূরাইসা ফ্রেশ হয়ে, কোনো দিকে না তাকিয়ে ঘর ছেড়ে নিচে নেমে যায়।
সকালে দেওয়ান বাড়ির সবাই একসাথে নাস্তা করে। সবাই আছে। শুধু নূরাইসা নেই। আজ সে ডাইনিং টেবিলে এলো না। রান্নাঘরের এক কোণে বসেই রইলো। হাতে নাস্তার প্লেট। কিন্তু খাওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। চোখ বারবার অন্যদিকে চলে যাচ্ছে, নিজের অজান্তেই। ইলহান বারবার তাকাচ্ছে। একবার শুধু একবার দেখার আশায়। একটু কথা বলার আশায়... শুধু একটুখানি। কিন্তু নূরাইসা আসে না।একবারও ইলহানের সামনে এসে দাঁড়ায় না।রান্নাঘরটাই যেন তার নিরাপদ দূরত্ব। ইলহান উঠে দাঁড়ায়, আবার বসে পড়ে। কোনো অজুহাত খুঁজে পায় না এগিয়ে যাওয়ার। সে ডাক দেবে তার উপায়ও নেই। বাড়ির সবাই জেনে গেলে আবার চিন্তা করবে।
কত চেষ্টা করলো সে, একটু দেখার জন্য, একটু কথা বলার জন্য। কিন্তু কিছুই হয় না। নূরাইসা নীরব। আর সেই নীরবতাই ইলহানের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি হয়ে দাঁড়ায়।
.
এমরিন ছেলে দুটোকে মে রে ফেলেছে। আফরিনকে বলেছিল, নিজের হাতে মা র তে। কিন্তু আফরিন এমনিতেই ট্রমার ভেতর ডুবে আছে। সে আর নতুন কোনো ট্রমা চায় না। তাই এমরিন আর জোর করেনি।ছেলে দুটোর লা শ সে নিজের পালিত বিদেশি কুকুরদের খাইয়েছে। এ কথা অবশ্য আফরিন জানে না। জানলে হয়তো সে ভেঙে পড়ত, অথবা আরও গভীর অন্ধকারে হারিয়ে যেত। কিন্তু এমরিন ভিন্ন, এমরিনের ভেতরে কোনো দ্বিধা নেই। তার কলিজায় যে হাত দেবে, সেই হাত, আর সেই হাতের মালিক, সে বাঁচিয়ে রাখবে না। আফরিনের মধ্যে এখনো মনশত্ব বেঁচে আছে, যেটা এমরিনের নেই। জন্মের পর থেকে সে দয়া মায়া কি জিনিষ কোনোদিন জনেই নি। এখন তার একটাই উদ্দেশ্য, তৃতীয়জনকে খুঁজে বের করার।তাকে আগে একবার জাহান্নাম থেকে ঘুরিয়ে আনতে হবে, তারপর মৃ ত্যু।
নিজের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বসে আছে এমরিন। চারপাশে বইয়ের সারি, জ্ঞান, ইতিহাস, দর্শনের ভারী নীরবতা। টেবিলের ওপর রাখা উইস্কির গ্লাসে বরফ গলছে ধীরে ধীরে। সে এক চুমুক দেয়, গলায় আগুন নেমে যায়, কিন্তু চোখে কোনো নেশা নেই। চোখ দুটো স্থির, গভীর, নিষ্ঠুর চিন্তায় ডুবে আছে। ঠিক তখনই, সশব্দে ফোনটা বেজে ওঠে। শব্দটা লাইব্রেরির নিস্তব্ধতাকে চিরে দেয়। টেবিলের ওপর পড়ে থাকা ফোনটার দিকে তাকায় সে। এক মুহূর্ত দেরি না করে হাতে তুলে নেয়। স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে নাম, আর্সলান কলিং। এটার অপেক্ষাই করছিল সে। ফোনটা রিসিভ করে কানে তুলতেই আর্সলানের রাশভারী কণ্ঠ ভেসে আসে—
-"ছেলে দুটোকে মে রে ফেললি?"
এমরিনের কণ্ঠ ঠান্ডা, নির্লিপ্ত—
-"ফেললাম!"
-"আমরা প্রতিশোধ নিতে এসেছিলাম!"
-"সেটাও নেবো!"
-"এর বাহিরেও কাজ ছিল আমাদের!"
-"সেটাও করবো!"
-"শত্রু পক্ষের মেয়ের প্রেমে পড়লি শেষে?"
এক সেকেন্ডের জন্য এমরিন ঠোঁট বাঁকায়। চোখে ক্ষীণ এক বিদ্রুপ।
-"তুইও তো পড়েছিস!"
এই পর্যায়ে আর্সলান কিছুক্ষণ চুপ থাকে। ওপাশ থেকে শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ আসে, ভারী, চাপা, অস্বস্তিকর।তারপর গভীর নিশ্বাস ফেলে সে বলে—
-"বাগানবাড়ির সবাইকে মে রে ছিস। সে কিন্তু খুব ক্ষিপ্ত আমাদের ওপর। ইলহানের ওপর প্রতিশোধ আমাদের ব্যক্তিগত। তার কিন্তু ইলহানের সাথে অন্যরকম খেলা আছে। আমাদের ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সে আমাদের সাহায্য করত। এখন তাকেও শত্রু বানিয়ে দিলি?"
এমরিন কোনো উত্তর দেয় না। ধীরে হাতে গ্লাসটা আবার তুলে নেয়। বরফের টুংটাং শব্দ ঘরের নীরবতাকে আরও ধারালো করে তোলে। এক চুমুকেই গ্লাসে থাকা উইস্কি গিলে নেয় সে। লাইব্রেরির আলোয় তার চোখ দুটো ঝিলমিল করে ওঠে, এই যুদ্ধ এখন আর শুধু প্রতিশোধ নয়, এটা নিয়তি।
-"আমার কলিজায় হাত দেওয়ার আগে ভাবা উচিত ছিল তার। এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কেনো তোরা আমায় জানাস নি? আমি প্যান্থার, শত্রুকে ভয় পাই না।ওই সুকিন সিন(son of a b i t c h) কি করবে আমি দেখে নিব। এখনো একজনকে ধরা বাকি। ওকে ধরি তারপর নিজদের প্রতিশোধ নিয়ে ভাববো।"
এমরিনের কণ্ঠে আগুন নেই, তার চেয়েও ভয়ংকর কিছু আছে। এক ধরনের নিশ্চয়তা। যেটা আসে তখনই, যখন মানুষের আর হারানোর কিছু থাকে না।ওপাশ থেকে কণ্ঠটা নরম হয়, কৌতূহল আর অবিশ্বাসে মেশানো—
-"এতো ভালবাসিস? কবে থেকে?"
এমরিন এক মুহূর্ত থামে। চোখের সামনে যেন ভেসে ওঠে প্রথম দেখা, এক ঝলক, এক নিঃশ্বাস, এক আজীবনের বন্ধন।
-"নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। যেদিন প্রথম দেখেছি সেদিন থেকেই। তোদের আগেই বোঝা উচিত ছিল কেনো আমি নুহার সাথে ওকেও সেদিন তুলে আনি নি। তারপরও আমার কাছে গোপন করে ওকে তুলে নিলি। নিলি তো নিলি আমার জানকে মৃ ত করে ছাড়লি একদম?"
লাইব্রেরির বাতাস ভারী হয়ে আসে। দেয়ালের বইগুলো যেন নীরবে সাক্ষী হয়ে থাকে, ভাঙতে থাকা এক ভাইয়ের বিশ্বাসের। ওপাশ থেকে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা আসে, অপরাধবোধে কাঁপা—
-"বিশ্বাস কর ভাই আমি জানতাম না ওরা ওর সাথে এইসব কিছু করবে। আমি তো ভেবেছিলাম মে রে ফেলবে নয়তো ব্ল্যাকমেইল করবে ইলহানকে। কিন্তু ওর মনে যে এইসব পরিকল্পনা ছিল আমি জানতাম না।"
এমরিন চোখ বন্ধ করে। এক মুহূর্তেই যেন বহু বছরের সম্পর্কের হিসাব চুকিয়ে নেয় সে।
-"তোর ভাই ম রে গেছে। যেদিন তুই আমার পিঠ পিছে গিয়েছিস সেদিনই আমায় হারিয়ে ফেলেছিস।"
ফোনের ওপাশে হঠাৎ থমকে যাওয়া নিঃশ্বাস। একটা কাঁপা ডাক—
-"হাফ?"
এমরিন চোখ মেলে তাকায়। দৃষ্টিতে কঠোরতা, কণ্ঠে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—
-"আর কখনও ডাকবি না এই নামে আমায়!"
বলেই ফোনটা কেটে দেয় এমরিন। শব্দটা শেষ হতেই লাইব্রেরিতে নেমে আসে এক অস্বস্তিকর নীরবতা।নিজের আপন ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে এই আঘাত, এমরিন কল্পনাও করতে পারেনি। দুই ভাইয়ের সম্পর্কে তবে কি সত্যিই ফাটল ধরে গেলো? নাকি এটাও কোনো নাটকের অংশ? কে জানে।
এই পুরো সময়টুকু আড়ালেই ছিল আফরিন।কথাগুলো তার কানে পৌঁছেছে। প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অভিযোগ, প্রতিটি সত্য। চুপচাপ সরে যায় সে। এখন সে বুঝে গেছে, এমরিন নির্দোষ। তবে নুহার সাথে তো সে অন্যায় করেছেই। এই সত্যটাই সবচেয়ে ভারী।
.
কেটে গেছে আরও দুই সপ্তাহ। এই দুই সপ্তাহে দেওয়ান বাড়ির প্রতিটি সদস্য একে একে এসে আফরিনকে দেখে গেছে। কেউ নীরবে, কেউ চোখের কোণে লুকানো উদ্বেগ নিয়ে, কেউ বা অপ্রকাশ্য সহানুভূতিতে।আফরিন ইলহানকে সব খুলে বলেছে। একটাও কথা গোপন রাখেনি। সঙ্গে তার পরিবারকেও জানিয়েছে সবটা। সবাই এতটুকুতেই নিশ্চিত হয়েছে, এখানে, এই বাড়িতে, আফরিন নিরাপদ। এই সময়টুকুতে ইলহান আর এমরিন আলাদা আলাদা ভাবে, নিজেদের মতো করে, সম্ভাব্য সব জায়গায় সেই তৃতীয়জনকে খুঁজে চলেছে। কেউ কাউকে খুব বেশি প্রশ্ন করছে না। কারণ তারা জানে, এই অনুসন্ধান শুধু শত্রু খোঁজা নয়, এটা অসমাপ্ত এক যুদ্ধের শেষ অধ্যায়।
এরই মধ্যে দেওয়ান বাড়ির সবাই একসাথে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। মেয়েদের এইভাবে করে রাখা, সমাজের চোখে দৃষ্টি কটু লাগতে পারে। সমাজ কথা বলবে, কানাঘুষা হবে, প্রশ্ন উঠবে। যদিও আফরিনের এই বিয়েতে কেউ খুশি না, তবুও বিয়ে তো হয়েছে। আর এমরিন যে আফরিনকে ছাড়বে না, এই সত্যটাও সবাই বুঝে গেছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ঘরোয়া ভাবেই আফরিনকে তুলে দেওয়া হবে। এতে সমাজের লোকের কিছু বলার সুযোগ থাকবে না। কারণ একটি সমাজে বাস করলে পারিপার্শ্বিক দিকগুলোও ভাবতে হয়। একই ভাবে তালুকদাররাও তাদের বৌমাকে নিয়ে যাবে। বড় করে অনুষ্ঠান করার মনমানসিকতা বর্তমানে নেই কারো।
একটি শুক্রবারে। ঘরে হালকা আয়োজন। খুব বেশি সাজসজ্জা নয়, কোনো জাঁকজমকও না। তবুও আনুষ্ঠানিকতার ন্যূনতম চিহ্নটুকু রাখা হয়েছিল, সমাজের চোখের জন্য, লোক দেখানোর জন্য। সেই আয়োজনের মাঝেই দেওয়ান বাড়ির সবাই দুই মেয়েকেই শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়। বলে দেয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বড় করে অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু কথাগুলো যতটা সহজ, বাস্তবতা ততটা নয়। যেখানে ভালোবাসা নেই, সেখানে আর অনুষ্ঠান! এই আয়োজন, এই বিদায়, সবটাই কেবল সমাজের মুখ বন্ধ করার জন্য। ভেতরের ক্ষত, অদৃশ্য যুদ্ধ, অপূর্ণ হিসাব, সেগুলো ঠিক আগের মতোই থেকে যায়।
নুহা তালুকদার বাড়ি থেকেই HSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সময় খুব বেশি হাতে নেই। দিনগুলো দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ঘরের পরিবেশ শান্ত হলেও নুহার ভেতরটা শান্ত নয়। পরীক্ষার চাপের সঙ্গে মনের অস্থিরতা জড়িয়ে আছে। বিহান তেমন একটা বাড়িতে থাকে না। বন্ধুদের সঙ্গে যে ব্যবসার কথা বাড়ির সবাই জানে, সেটাই মূলত ওদের গোপন অফিস। সেখান থেকেই তদন্তের সব কাজ চলে। বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও ভেতরে ভেতরে সেখানে যুদ্ধের নকশা আঁকা হয়, তথ্য জোগাড় হয়, হিসাব মেলানো হয়।সেখানেই ইলহান আর বিহান তাদের বেশিরভাগ সময় কাটায়।
নুহার সাথে বিহান এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। চেষ্টা করে, কিন্তু কোথাও যেন আটকে যায়। কথার মাঝখানে ফাঁক রয়ে যায়, দৃষ্টির মাঝে দূরত্ব। একটা অদৃশ্য দেয়াল এখনো দাঁড়িয়ে আছে তাদের মাঝে।অন্যদিকে, ইলহান আর নূরাইসার সেই দিনের ঝগড়ার পর আর কোনো মোলাকাত হয়নি। একই ছাদের নিচে থেকেও তারা যেন দুই ভিন্ন জগতে বাস করছে। ইলহান যতক্ষণ বাড়িতে থাকে, নূরাইসা ততক্ষণ কাজের বাহানায় নিজেকে ব্যস্ত রাখে। ইচ্ছে করেই তার সামনে যায় না। রান্নাঘর, কাজের ঘর, ফোন, সবই অজুহাত।রাতেও ইলহান আসার আগেই ঘুমিয়ে পড়ে। আর সকালে, ইলহান ওঠার আগেই উঠে যায়। দিনগুলো এমনভাবে সাজানো যে মুখোমুখি হওয়ার কোনো সুযোগই থাকে না।
যেদিন ইলহান বাড়িতে থাকে, সেদিন নূরাইসা নিজের ঘরে থাকে, কখনো ড্রয়িং রুমে বসে থাকে। সোফায় বসে বসে ইলহানের ঘুমানোর অপেক্ষা করে। অপেক্ষার ক্লান্তি একসময় তার চোখে ভর করে। না চাইলেও ঘুম এসে যায়। আর সকাল হলে, নিজেকে আবার ইলহানের ঘরেই আবিষ্কার করে। কীভাবে, কখন, সেটা সে নিজেও জানে না। এইভাবেই চলছে তাদের দিন।কথা নেই, অভিযোগ নেই, ব্যাখ্যা নেই, শুধু নীরবতার ভেতর জমে থাকা অসংখ্য না-বলা কথা।
.
প্রায় দুই মাস হতে চলল নূরাইসা ভার্সিটিতে যায় না।এক মাসের ছুটি তো নিয়েছিলই। তার ওপর আফরিন আর নুহার দেখা-শোনার দায়ে হাসপাতালেই কেটে গেছে অর্ধেক মাস। দিন-তারিখের হিসাব গুলিয়ে গেছে। কখন যে এতটা সময় পেরিয়ে গেছে সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারেনি। সামনে টেস্ট পরীক্ষা। এবার আর ভার্সিটি না গেলে চলে না। বাড়িটা এখন ফাঁকা ফাঁকা লাগে। বোনেরা নেই। একা একা থাকতে ভালো লাগে না। তার ওপর ইলহানের সাথেও ঝামেলা চলছে।তানভীর হাসপাতালে থাকে। উপমা, রুহান, দুজনেই চট্টগ্রাম ফিরে গেছে। বন্ধুদের সাথেও কতদিন কথা হয় না, সে হিসাবও নেই।
ওদিকে আফরিনের কাউন্সিলিং চলছে। এখনো সে বাইরে যাওয়ার সাহস পায় না। কোনো পুরুষের ছোঁয়া লেগে যাবে, এই ভয়টাই সবচেয়ে বড় বাধা। তবুও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। এমরিন ধৈর্য নিয়ে আফরিনের সেবা-যত্ন করছে। ফোনে দুই বোনের সাথেই কথা হয় নূরাইসার। নুহার ব্যাপারটা শুনে মন খারাপ হয়ে যায়।কিন্তু আফরিনের কথা শুনলে একটু স্বস্তি পায়। লোকটা খারাপ হলেও, আফরিনকে ভালোবাসে। এই সত্যটা অস্বীকার করা যায় না।
এইসব ভাবনার মাঝেই নূরাইসা একদম তৈরি। আজ কাউকে কিছু না বলেই সে ভার্সিটির জন্য বেরিয়ে পরলো। মনের ভেতর অনেক কিছু জমে আছে।কাউকেই বলতে পারছে না সে। কোথাও না কোথাও সেদিন ইলহানের বলা কথাগুলোর পর থেকেই সে নিজেকে ভীষণ অপরাধী ভাবছে। সে যদি দুর্বল না হতো, তাহলে ইলহান তাকে নিয়ে এতটা ভাবতো না।আর বাকিদের নিয়েও ভাবার সময় পেতো। না জেনে, না বুঝে, কোনো অপরাধ না করেও, নূরাইসা অপরাধবোধে ধুকে ধুকে ম র ছে।
ইলহানের ওপর তার কোনো রাগ নেই। তবু এই গভীর অপরাধবোধই তাকে ইলহানের সামনে যেতে বাধা দিচ্ছে। সে ভাবছে, ইলহানের থেকে দূরে থাকলেই হয়তো ইলহান বাড়ির বাকিদের দিকে মন দিতে পারবে। নিজের অস্তিত্বটাই তার কাছে যেন বোঝা হয়ে ওঠেছে। যতক্ষণ সে ইলহানের চোখের আড়ালে থাকবে, ততক্ষণই ইলহান অন্যদের কথা ভাবতে পারবে, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারবে। নূরাইসা চায়, ইলহান যেন তার উপস্থিতি টের না পায়, শুধু বাড়ির সবার দিকে মন দেয়, সবাইকে আগলে রাখে।সে সামনে থাকলে ইলহান বাকি দিকগুলোতে মনোযোগ দিতে পারে না, এই বিশ্বাসটাই তাকে নিজেকে আড়াল করতে বাধ্য করছে। বোনদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই নির্মম অন্যায়ের দায় কোথাও না কোথাও সে নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছে। কখনো কখনো এই ভাবনাও তাকে গ্রাস করে, সে না থাকলে হয়তো এসব কিছুই ঘটত না।
এইসব ভারী ভাবনার মাঝেই রিকশাটা এসে থামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। নূরাইসা নেমে পড়ে।ভাড়া মিটিয়ে বন্ধুদের ফোন করে ক্লাসে চলে যায়।ক্লাস শেষে সবাই মিলে মাঠে আড্ডা দিতে বসে পড়ে।পরিচিত হাসি, পরিচিত গলা, সবকিছুই একসাথে ফিরে আসে। এই ফাঁকে নূরাইসা তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা বলে ফেলে। চেপে রাখা কথাগুলো যেন একটু হালকা হয়। এরই মধ্যে সে জানতে পারে, মেঘের ব্রেকআপ হয়ে গেছে। মেঘ নাদিমের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে। কারণ ছেলেটা চরিত্রহীন ছিল। আর নাদিম তাকে আগেই সাবধান করেছিল।
স্মৃতির বিয়ে ঠিক হয়েছে। ফারাহর ভবঘুরে প্রেমিক আবার ঢাকা এসেছে। সে কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়ায়, ফারাহ নিজেও জানে না। সবশেষে কথা আসে নূরাইসা আর ইলহানের ব্যাপারে। সবাই তাকে বোঝায়।যুক্তি দেয়, অভিজ্ঞতা শোনায়, সাহস দেয়। কিন্তু এই মেয়ে বুঝলে তো! সে শুধু চুপ করে থাকে। চোখ নামিয়ে শোনে। কারণ কিছু অপরাধবোধ এমন হয়, যা বোঝানো যায় না, শুধু বয়ে নিয়ে বাঁচতে হয়।
.
ইলহানের ফোনে হঠাৎ করে একটি ছবি আসে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা দৃশ্যটা এক ঝলক দেখতেই তার মাথার ভেতর সবকিছু ওলটপালট করে দেয়, আর্সলান আর নূরাইসা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে কথা বলছে। ছবিটা দেখেই ইলহান আর নিজেকে সামলাতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গেই নূরাইসাকে ফোন করে। একবার। দুবার। বারবার। কিন্তু ফোন ধরে না। বাড়িতে ফোন করে জানতে পারে, নূরাইসা কাউকে কিছু না বলেই বেরিয়েছে। এই তথ্যটাই আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। রাগে ইলহানের চোখ লাল হয়ে ওঠে। চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। কোনো কথা না বলে বাইকের চাবি তুলে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সে।
চিন্তিত বিহানও পিছু পিছু বেরিয়ে যায়। রাগের বশে ইলহান কী করে বসবে, তার কোনো ঠিক নেই। আর সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়, নূরাইসা বাড়ি থেকে বেরিয়েছে, এটা কেউ জানেই না। বিকেল গড়িয়ে আসছে, সে এখনো ফেরেনি। কারো ফোনও ধরছে না।দুশ্চিন্তায় কারোরই মাথা কাজ করছে না। তাদের জীবনে বিপদ যেকোনো সময় যেকোনো মুহূর্তেই চলে আসতে পারে।
মুহূর্তের মধ্যেই দুটি বাইক ঢাকার ব্যস্ত শহরের ভিড় চিরে তীব্র গতিতে ছুটে চলল। হর্নের শব্দ, বাতাসের চাপ, মানুষের চিৎকার, সবকিছু পেছনে ফেলে খুব অল্প সময়েই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে যায়।ইলহান বাইক থেকে নেমেই এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে ফারাহদের আড্ডার জায়গার দিকে ছুটে যায়। বিহান ঠিক পেছনেই। গিয়েই ইলহান চেঁচিয়ে ওঠে—
-"নূরাইসা কোথায়?"
ফারাহ, স্মৃতি, মেঘ, নাদিম, আশিক, সবাই চমকে ওঠে। মাথা তুলে তাকিয়েই রাগান্বিত ইলহান আর চিন্তিত বিহানকে দেখে তারা ঘাবড়ে যায়। এক সাথে উঠে দাঁড়ায় সবাই। হুড়মুড় করে বলে ওঠে—
-"বাথরুমে গিয়েছে!"
ইলহান হুংকার ছেড়ে বলে—
-"একদম মিথ্যে বলবে না ফারাহ্ কোথায় ও? ফোন কেনো ধরছে না কারো?"
ফারাহ কাঁপা গলায় বলল—
-"সত্যি বলছি ভাইয়া। ও বাথরুমেই গেছে এখনো আসে নি!"
আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না ইলহান। ছুটে যায় সেদিকে। পুরো ভার্সিটি খুঁজে ফেলে ইলহান আর বিহান। করিডোর, লন, ক্যাম্পাসের অলিগলি, কোথাও নূরাইসা নেই। হতাশা আর রাগ মিলেমিশে আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। শেষমেশ আবার সেই আড্ডার জায়গায় ফিরতেই, তাদের চোখে পড়ে নূরাইসা। পরের ঘটনাটা ঘটে এক নিঃশ্বাসে। ইলহান এক দৌড়ে এসে নূরাইসার গালে সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। একটা তীক্ষ্ণ শব্দে সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়।থাপ্পড়টা এতটাই তীব্র ছিল যে, নূরাইসা দু’পা পিছিয়ে যায়। মাথাটা বামদিকে ঝুঁকে পড়ে। ইলহান দুই হাত বাড়িয়ে নূরাইসার কাঁধ শক্ত করে চেপে ধরে। নিজেদের দিকে টেনে এনে রূঢ় কণ্ঠে বলতে থাকে—
-"কোথায় ছিলি হ্যাঁ? ফোন ধরছিলি না কেনো? জানিস কতটা দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলি আমায়? পাগলের মতন খুঁজেছি তোকে কোথাও পাই নি। আর তুই এখানে দাড়িয়ে হাসাহাসি করছিস? এই লজ্জা করে না তোর। ফোন কোথায় তোর। কেনো ধরিস আমার কল বল কেনো ধরিস নি। নাগর পেয়েছিস? নাগর রক্ষা করবে তোকে? কোথায় তোর নাগর কোথায় আর্সলান বল। কি কথা বলছিলি ওর সাথে? ওর জন্য এখানে এসেছিস তাই না? তোর সাহস কত তুই কাউকে কিছু না বলে বাড়ি ছেড়ে বেড়িয়েছিস? যদি ওরা তোকে তুলে নিয়ে যেতো। আফরিন নুহার সাথে কি হয়েছে ভুলে গেছিস?"
এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে যেতে থাকে ইলহান। থামে না। একটার পর একটা বাক্য ছুড়ে দেয়। আর নূরাইসা, নির্বাক। হতভম্ব। পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। সেদিন সে বলেছিল, তার জন্য নুহাদের এই অবস্থা। আর আজ বলছে, সে নাগরের সাথে এসেছে? নাগরের জন্য কারো ফোন ধরছে না? শেষমেশ কি চরিত্র পর্যন্ত টেনে আনলো ইলহান? নূরাইসা একবারও চোখ তুলে তাকায় না। চোখ নামানোই থাকে, যেন তাকালেই ভেঙে পড়বে।
হঠাৎ করেই ইলহান তাকে বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।এত দৌড়াদৌড়ির ফলে হাঁপাচ্ছে ইলহান। বুকের ভেতরটা অস্থির হয়ে আছে। নূরাইসাকে বুকে পেয়ে একটু স্বস্তি পায়। অশান্ত বুকটা ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে। রাগের বশে কী কী বলে ফেলেছে, এই মুহূর্তে তা সে নিজেও বুঝে উঠতে পারে নি। শান্ত, অসহায় কণ্ঠে আবারও বলে ওঠে—
-"কোথায় ছিলি জান? দেখ আমার হৃদপিন্ড কত দ্রুত চলছে। কত ভয় পেয়েছিলাম আমি জানিস? একটাবার ফোন তুলতি সোনা। কেনো এতো জালাস আমায়।"
বিহান ইলহানের পেছনেই দৌড়ে আসছিল, কিন্তু তার গতির সঙ্গে পেরে উঠতে পারছিল না। দৌড় থামিয়ে শ্বাস সামলে যখন সে কাছে পৌঁছাল, তখন ইলহানকে শান্ত হতে দেখে একরাশ স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ল।অন্যদিকে বাকিদের অবস্থা শোচনীয়। ইলহানের এতগুলো রূপ একসঙ্গে দেখে তারা ভীত ও হতভম্ব। কেউ বিস্ময়ে মুখে হাত চেপে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ আবার দৃষ্টিই ফেরাতে পারছে না।
ইলহান নূরাইসাকে বুকে আগলে ধরে শান্তির নিশ্বাস নিচ্ছে। সেই শান্তি যেন বহুক্ষণ জমে থাকা ঝড়ের পরের নিস্তব্ধতা, ভারী, গভীর, অথচ ক্ষণস্থায়ী।
কিন্তু এই মুহূর্ত বেশিক্ষণ টিকে থাকল না। নূরাইসার একটি বাক্যই মুহূর্তের মধ্যে উপস্থিত সবার উপর বজ্রপাত হয়ে নেমে এলো। নূরাইসা অতি শান্ত ভঙ্গিতে নিজেকে ইলহানের বুক থেকে আলাদা করে নিয়ে বলে উঠল—
-"নাগরের সাথে ছিলাম তো কি হবে আমার? নাগর সামনে ছিল দেখে ফোন ধরি নি!"
ইলহান বিস্ময়ে কথা বলতে ভুলে গেলো। এক সেকেন্ডে যেন সব শব্দ হারিয়ে ফেলে সে। নূরাইসা উল্টো ঘুরে হাটা ধরলো। ফিরেও তাকালো না একবার। ইলহান পাথরের মতো জমে দাঁড়িয়ে রইলো। নূরাইসার প্রস্থান দেখলো শুধু।
উপস্থিত সবাই বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। নূরাইসার মুখে এই ধরনের কথা, সবার কাছেই অবিশ্বাস্য। যে মেয়ে কোনো ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্কেই জড়ায়নি, তার নাগর?
বিহান ইলহানের পেছনে দৌড়ে এসেছিল। সে শুধু থাপ্পড় দেওয়ার দৃশ্যটাই দেখেছে, কথাগুলো শোনেনি।তাই ইলহানের কাছে এসে কাঁধে হাত রেখে শান্ত কণ্ঠে বলে—
-"থাপ্পড় মারার পর কি বলেছিস ওকে? কেনো এইসব বলে গেলো?"
ইলহান মাথা নিচু করে নেয়। বুঝতে সময় লাগে না তার। ফুলের মতো পবিত্র স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেলেছে সে। এই পাপের শাস্তি, কত ভয়ংকরভাবে পেতে হবে তাকে?