সূর্যস্নাত ভালোবাসা

পর্ব - ২০

🟢

এলার্ট নোটিশ:

এই পর্বে ভালোবাসা, মানসিক টানাপোড়েন ও সংবেদনশীল মুহূর্তের বর্ণনা রয়েছে। গল্পের কিছু দৃশ্য আবেগঘন ও মানসিকভাবে তীব্র হতে পারে। অনুগ্রহ করে পাঠের আগে নিজ বিবেচনায় পড়ুন।

——————————

বিহানের জন্মদিনের পার্টি থেকে ফেরার পর থেকেই নুহার মনটা অদ্ভুতভাবে ভারী হয়ে আছে। সারাক্ষণ চুপচাপ থাকে, কারও সঙ্গে তেমন কথা বলে না। এমনকি আফরিনের প্রাণচঞ্চল কথাবার্তাও যেন তার কানে পৌঁছায় না। তাই আজ আফরিন জোর করেই ছোটো বোনকে ঘর থেকে টেনে বাইরে নিয়ে এসেছে, মনটাকে হালকা করার জন্য। দুই বোন শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ঘুরেছে, খেয়েছে, হেসেছে, মার্কেট থেকে কিছু পোশাকও কিনেছে। নভেম্বরের হালকা শীতের ছোঁয়া, তবে ঢাকা শহরের বাতাসে সেই শীতের আমেজ টের পাওয়া যায় শুধু হালকা কুয়াশায় আর রাস্তার ধারে গরম ভুট্টা বিক্রেতার ধোঁয়ায়।

আফরিন সামনে হাঁটছে, মুখে বিরতিহীন কথার স্রোত।কিন্তু নুহা পিছনে, মাথা নিচু, নীরব, নিজের ভাবনার গভীরে হারিয়ে। দুজনের মাঝের ফাঁকটা যেন শুধু রাস্তায় নয়, মনে মনেও অনেক দূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়ে গেছে। আফরিনের ফোনে কল আসে, কলটা রিসিভ করে সে আরও একটু এগিয়ে যায়। নুহা পেছনে পড়ে যায়। ঠিক তখনই, হঠাৎ এক কালো মাইক্রোবাস এসে থামে নুহার পাশে। মুহূর্তের মধ্যে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে চার-পাঁচজন মুখোশধারী পুরুষ। তারা এত দ্রুত এগিয়ে আসে যে, কেউ কিছু বোঝে ওঠার আগেই একজন নুহার মুখে ক্লোরোফর্ম মাখানো রুমাল চেপে ধরে।

নুহা ছটফট করে, হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে, তার চোখে ভয়, অসহায় আতঙ্কের ছায়া। চিৎকার করে, কিন্তু মুখ বাঁধা থাকায় বেরোয় কেবল অস্পষ্ট গোঙানির শব্দ, যা কোলাহলমুখর রাস্তায় কেউ শুনতে পায় না। মুহূর্তের মধ্যেই তারা নুহাকে টেনে তুলে গাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা জোরে বন্ধ করে দেয়। মাইক্রোবাসটি কালো ধোঁয়ার রেখা ফেলে দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যায় শহরের ভিড়ে। চোখের পলকে একটি মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আর কেউ বুঝতেও পারে না।

আফরিন তখন অনেকটা সামনে এগিয়ে গিয়েছিল। পেছনে তাকিয়ে দেখে, নুহা নেই। তার বুক ধক করে ওঠে। ফোনটা কানের থেকে সরিয়ে দ্রুত চারপাশে খোঁজে, নাম ধরে ডাকতে থাকে, কিন্তু কোনো সাড়া নেই। তার মুখে আতঙ্কের ছায়া নেমে আসে। সে নুহার নম্বরে কল দেয়, একবার, দুইবার, তিনবার, তবু কেউ রিসিভ করে না। সে ছুটে যায় আশেপাশের পথচারীদের কাছে, নুহার ছবি দেখিয়ে হাপুসনিঃশ্বাসে জিজ্ঞেস করে, "এই মেয়েটাকে কেউ দেখেছেন?" কেউ কিছু জানে না, কেউ কিছু বলতে পারে না।

ধীরে ধীরে আফরিনের পা কাঁপতে শুরু করে। ক্লান্ত, বিভ্রান্ত, হতাশ হয়ে সে রাস্তার ধারে বসে পড়ে। হাতে থাকা ব্যাগগুলো মাটিতে গড়িয়ে পড়ে যায়। কাঁপা হাতে চুল খামচে ধরে আফরিন হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে, যেন পৃথিবীর সব শব্দ থেমে যায় তার কান্নার আওয়াজে।

ঠিক সেই মুহূর্তে, কোথা থেকে যেন এক ছায়ামূর্তি এসে তার পাশে হাঁটু গেড়ে বসে। নরম অথচ রহস্যময় কণ্ঠে বলে ওঠে—

-"কাঁদছ কেন, দুষ্টু রাণী? তুমি এখানে কি করছো?"

আফরিন চোখ তুলে তাকালো। চারপাশে মানুষের ভিড়, কোলাহল, আলো–অন্ধকারের মিশেল, তবু তার চোখে যেন সব ঝাপসা। বুকের ভেতর ধুকপুক ধ্বনি যেন বুকে বাজছে ঢাকের মতো। সামনেই হাঁটু গেড়ে বসে আছে সেই নীল চোখের পুরুষ, সেদিনের দেখা, সেই পরিচিত অথচ রহস্যে মোড়া মানুষ, এমরিন রাহাফ। আফরিনের মুখের রঙ উড়ে গেছে, নিঃশ্বাস ছন্দহীন, চোখ দু’টো অস্থির। সে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলতে লাগল—

-"আমার বোনকে খুঁজে পাচ্ছি না... এইতো আমার পিছু পিছু হাঁটছিল। আমি ফোনে কথা বলছিলাম, কিন্তু এখন খুঁজে পাচ্ছি না... কোথায় গেল সে?"

তার কণ্ঠ ভেঙে গেল শেষ কথায়। শব্দগুলো গড়িয়ে পড়ল ঠিক যেন বৃষ্টির ফোঁটা, অস্থির, অসহায়, আর্তনাদময়। এমরিন কপাল কুঁচকে চুপচাপ তাকিয়ে রইল আফরিনের মুখপানে। তার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, ভাবগম্ভীর। মুহূর্তের জন্য চারপাশের শব্দ স্তব্ধ হয়ে গেল, শুধু আফরিনের শ্বাস আর শহরের হালকা বাতাসের গুঞ্জন। তারপর ধীরে, খুব শান্ত স্বরে এমরিন বলল—

-"চিন্তা করো না... হয়তো কোনো বন্ধুর সঙ্গে গিয়েছে।"

কথার শেষে সে দুই হাত বাড়িয়ে আফরিনের বাহুতে আলতো স্পর্শ করল, যেন সেই স্পর্শে শান্তনা জড়ানো ছিল। আফরিন তার দিকে তাকিয়ে অবিশ্বাসে মাথা নাড়ল—

-"না, ও আমাকে না বলে কোথাও যাবে না!"

এমরিনের গলা ভারী হলো, তবু তার কণ্ঠে ছিল অদ্ভুত প্রশান্তি—

-"হয়তো তোমাকে প্র্যাংক করছে... এত ভেবো না, বাড়ি ফিরে যাও।"

কিন্তু আফরিনের চোখে ভয়ের ছায়া আরও ঘনীভূত হলো। রাস্তার বাতিগুলোর আলো তার চোখে প্রতিফলিত হয়ে যেন প্রশ্ন তুলল, সত্যিই কি ও শুধু প্র্যাংক করছে? নাকি এর পেছনে আরও গভীর অন্ধকার লুকিয়ে আছে...

আফরিন আর ভাবতে পারল না। চোখে আতঙ্কের ছায়া, ঠোঁট কাঁপছে অনবরত। সে এমরিনের হাত সরিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নুহার ফোনে লাগাতার কল দিতে লাগল, একবার, দু’বার, তারপর আবারও... কিন্তু ওপাশে কোনো সাড়া নেই। এমরিন তার বাহু ধরার জন্য হাত বাড়িয়েও গুটিয়ে নিল সেই হয়। যেন বুঝে গেছে আফরিন এখন শুনবে না কারও কথা। সে কয়েক কদম দূরে সরে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল, অন্ধকারে রাস্তার হালকা আলোয় আফরিনকে যেন অচেনা লাগছিল। তার শরীর কাঁপছে, চোখ দিয়ে টুপটুপ করে পানি পড়ছে। ভয়ে, উৎকণ্ঠায়, অপরাধবোধে যেন তার ভেতরটা এলোমেলো হয়ে গেছে। এমরিন ধীরে এগিয়ে এল তার পাশে, কণ্ঠে অদ্ভুত শান্ত সুর—

-"এইভাবে কিছু হবে না, দুষ্টু পাখি। তুমি বাড়ি চলো। আমি তোমাকে পৌঁছে দিচ্ছি। তোমার মাথা এখন কাজ করছে না। বাড়ির লোকদের জানাও, তোমার বোনের বন্ধুদের থেকে খবর নাও। প্রয়োজনে পুলিশের কাছেও যাবে।"

আফরিন থমকে ঘুরে তাকালো তার দিকে।কথাগুলোতে যুক্তি আছে, সত্যি আছে। কিন্তু ভয়টা এত গভীর যে তার মন কিছুই ধরতে পারছে না।চোখের সামনে ভেসে উঠছে নুহার ম্লান মুখ, বিষণ্ণ চোখ। বিহান ভাই যেদিন তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, সেদিন থেকেই মেয়েটা কেমন যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কোথাও ভুল কিছু করে ফেলেনি তো? না, ভাবতে পারছে না আর আফরিন। বুকের ভেতর ধপধপ করছে হৃদস্পন্দন, শ্বাস ভারী হয়ে আসছে। একসময় নিজেকে সামলে নিয়ে সে বলল—

-"আমাকে একটু বাড়ি পৌঁছে দেবেন?"

এমরিনের ঠোঁট ধীরে প্রসারিত হলো, এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল মুখে। সে নরম কণ্ঠে বলল—

-"চলো! নিয়ে যাচ্ছি তোমায়।"

রাস্তার হালকা বাতাসে আফরিনের চুল উড়ছিল অস্থির ছন্দে। শহরের আলো যেন ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে নিভে আসছে, রাত্রির কুয়াশা নামছে নীরবে, এক অদ্ভুত ভারী নিস্তব্ধতা চারদিকে। মনে হচ্ছে, অজানা কোনো ছায়া তাদের পথ অনুসরণ করছে নিঃশব্দে।

এই নিস্তব্ধতার ভেতর, সময় থমকে দাঁড়িয়েছে যেন, আর তারই মাঝে আফরিন খেয়ালই করেনি, তার পাশের মানুষটি এই সময়ে এখানে কেন। কেনই বা সে তাকে বারবার "দুষ্টু পাখি" বলে ডাকছে। নুহার চিন্তা এতটাই জড়িয়ে ধরেছিল তাকে যে, পৃথিবীর আর কিছুই যেন তার মনে জায়গা পাচ্ছিল না। ভয়ের এক সূক্ষ্ম স্রোত নীরবে দোলা দিচ্ছিল তার ভেতরে, অথচ সে বুঝতেই পারেনি, কিছু একটা ঘটতে চলেছে, খুব শিগগিরই।

.

সন্ধ্যার আলো ফিকে হয়ে এসেছে। পাঁচতারা হোটেলের বিশাল হলরুমে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, সবাই আজ জমায়েত। নরম জ্যাজ সংগীত ভেসে আসছে কর্নারের পিয়ানো থেকে। ক্রিস্টাল লাইটের নিচে অতিথিদের হাসি আর কথাবার্তায় মিশে আছে কূটনীতি ও কৌশলের আভাস।

ইলহান কোণের দিকে দাঁড়িয়ে, হাতে ওয়াইনের গ্লাস। গাঢ় নেভি-ব্লু স্যুটে তার উপস্থিতি নিখুঁত, যেন সাফল্যের সংজ্ঞা সে নিজেই। ঠোঁটের কোণে টেনে রাখা এক অনির্দেশ্য হাসি, চোখে স্থির ঠান্ডা দৃষ্টি। বাইরে থেকে সে নিছক এক অভিজাত ব্যবসায়ী, কিন্তু ভিতরে কাজ করছে অন্য এক যন্ত্র। ঘড়ির কাঁটার নির্ভুল তাল-লয়ে সে পুরো হলরুম স্ক্যান করছে, এক মুখ থেকে আরেক মুখে দৃষ্টি সরে যাচ্ছে মাপা ছন্দে। প্রতিটি হাসি, প্রতিটি ভঙ্গি, প্রতিটি সরে যাওয়া চোখ সে মনে রাখছে। ফটোগ্রাফিক মেমোরি তার, সবকিছু তার মস্তিষ্কে জমা হচ্ছে, অজান্তেই এক অদৃশ্য পাজলের টুকরো হয়ে।

আজ সে এখানে এসেছে প্রমাণ খুঁজতে, একজন লোকের, যার নাম জানে না, কিন্তু জানে এই পার্টির মধ্যেই সে আছে। সেই লোক, যার আদেশে সীমান্ত শুদ্ধি অপারেশনের গোপন নথি পাচার করছে অন্য দেশে। দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ সেই মানুষটা আজ হাসিমুখে ওয়াইন হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর তাকে খুঁজে বের করাই ইলহানের মিশন। ঠিক তখনই, এক পরিচিত কণ্ঠ তার চিন্তার স্রোত ভাঙল।

-"কেমন আছেন, মিস্টার দেওয়ান?"

ইলহান ঘুরে তাকাল। চোখে পড়ল রায়হান তন্ময়, ঢাকা জেলার এমপি রিদওয়ান তন্ময়ের বড় ভাই। স্মার্ট স্যুট, নিখুঁত হেয়ারস্টাইল, চোখে তীক্ষ্ণ রাজনীতিক দৃষ্টি।ইলহান ঠোঁটের কোণে বিনয়ী হাসি টেনে বলল—

-"I’m all good, Mr. Raihan Tanmoy!"

রায়হান হেসে বলল—

-"শুনেছি আপনি সম্প্রতি কিছু বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করছেন? দেশের উন্নয়নের জন্য এইরকম তরুণ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন।"

ইলহান হালকা গলায় বলল—

-"দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পেলে কে না চায়, মিস্টার তন্ময়?"

দুজনের মাঝে এক মুহূর্তের নিঃশব্দ বিরতি। তারপর একজন ওয়েটার এসে দু’জনের হাতে নতুন গ্লাস তুলে দিল। গ্লাসের ভিতর লাল তরলটা নরম আলোয় ঝলমল করছে, ঠিক যেমন কথার আড়ালে লুকিয়ে থাকা গোপন উদ্দেশ্যগুলো। রায়হান গ্লাস তুলল, চোখে অদ্ভুত ঝিলিক—

-"আপনি জানেন, আজকের মিটিং শুধু ব্যবসা নিয়ে নয়, কেউ কেউ কিন্তু অন্য আগ্রহ নিয়ে এসেছে।"

ইলহান হালকা হেসে গ্লাস ঠেকাল তার গ্লাসে।

-"আপনার কথার মানে বুঝতে পারছি না।"

রায়হান একচোখ মিটমিট করে বলল—

-"আপনার মতো বুদ্ধিমান মানুষ নিশ্চয়ই বোঝেন। সীমান্তে যে কিছু অদ্ভুত চলছে, তা আমরা সবাই জানি। কেউ না কেউ ভেতর থেকে তথ্য দিচ্ছে, তাই না?"

বিজ্ঞাপন

ইলহানের মুখে অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত, তবু অন্তরে তরঙ্গ উঠল। সে গ্লাস নামিয়ে ধীর স্বরে বলল—

-"রাজনীতির ভেতরে অনেক কিছুই ঘটে, মিস্টার তন্ময়। তবে আমি কেবল ব্যবসায়ী... রাজনীতি বুঝি না।"

রায়হান হেসে গ্লাস নামাল। তার কণ্ঠে ফিসফিস সুর—

-"ব্যবসায়ী হলেও আপনি খুব শান্ত স্বভাবের সৈনিক, মিস্টার দেওয়ান।"

ইলহানের দৃষ্টি নিস্তব্ধ হলো। এক মুহূর্তের জন্য চারপাশের শব্দ থেমে গেল বলে মনে হলো। রায়হানের ঠোঁটে এখনও সেই রহস্যময় হাসি। সে চলে গেল অন্য এক দলে, কিন্তু ইলহানের কানে বাজতে থাকল শেষ কথাটা— "শান্ত স্বভাবের সৈনিক..."

ইলহান গ্লাস নামিয়ে ধীরে ঘড়ির দিকে তাকাল। রাত বাড়ছে, এবং এখনই সময়। যে লোকের জন্য সে এসেছে, সম্ভবত সে খুব কাছেই। কিছুক্ষণ পর ইলহানের শরীর অস্বাভাবিকভাবে গরম লাগতে শুরু করল। মাথার ভেতর যেন হালকা ঝিমঝিম করছে, চোখের সামনে আলো ঝাপসা। তার গলার নিচে অদ্ভুত রকমের চাপা অস্বস্তি জমছে, হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ওয়াইনের গ্লাসটা নামিয়ে সে গভীরভাবে শ্বাস নিল। এটা স্বাভাবিক নয়। তার সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মন মুহূর্তেই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করল। ড্রিঙ্কে কিছু মেশানো হয়েছে। তার ত্বক গরম, মন অস্থির, চিন্তাগুলো অসংলগ্ন হয়ে যাচ্ছে। সেই প্রশিক্ষিত সজাগতা বলছে, এখনই এখান থেকে বের হতে হবে, এক সেকেন্ড দেরি করা চলবে না। নইলে অঘটন ঘটে যাবে।

ইলহান নিঃশব্দে গ্লাসটা টেবিলে রাখল। স্ফটিকের গ্লাসে বাজল এক ক্ষীণ শব্দ, যেন সতর্কবার্তা। হলের আলো যেন হঠাৎই আরও তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছে, সুরের ঝংকার কানে বিঁধছে। পরিচিত মুখগুলো এখন অচেনা লাগছে, হাসিগুলো নকল, করমর্দনগুলো ফাঁপা। সে ঠোঁট চেপে ধীরে সামনে এগোল। প্রতিটি পায়ের ধ্বনি যেন শূন্যতার ভেতর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। বাইরের দরজার কাছাকাছি পৌঁছাতেই চোখে পড়ল, রায়হান তন্ময়। পাশে কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, গ্লাস হাতে, মুখে রহস্যময় হাসি। সেই হাসিতেই ইলহান সব বুঝে ফেলল। তারা জানত সে আজ আসবে। এই আলো-ঝলমলে আসরটাই ছিল ফাঁদ, ইলহানকে ভেঙে ফেলার, তার নামটা কলঙ্কে ডুবিয়ে দেওয়ার নিখুঁত ফাঁদ।

দ্রুত পদক্ষেপে ইলহান বেরিয়ে এলো পার্টির হল থেকে।

বাইরের ঠান্ডা বাতাস মুখে লাগতেই বুকের ভেতরের চাপা উত্তেজনা একটু কমে গেল, কিন্তু ভেতরের অস্বস্তি যেন আরও গভীর হলো। তার চোখে তখনো রয়ে গেছে সেই হাসিগুলো, তাদের ঠোঁটে টেনে রাখা বিদ্রূপের রেখা। গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল সে। স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখতেই নিজেকেই শুনতে পেল, নিচু, প্রায় গর্জে ওঠা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলছে—

-"তারা জানে আমি কে..."

এক মুহূর্তের নীরবতা। তারপর ইঞ্জিনের গর্জন। কাপা হাতে গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে গেলো সে। রাতের শহর পেছনে ফেলে ইলহানের চোখে তখন একটাই লক্ষ্য, বেঁচে ফেরা, আর সত্যটা প্রকাশ করা।

.

নিস্তব্ধ রাতের ঘন আধার ভেদ করে দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে এক কালো মাইক্রোবাস। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু গাড়ির চাকার ঘর্ষণ আর বাতাসের হুহু শব্দ শোনা যাচ্ছে। গাড়ির ভেতর টান টান উত্তেজনা, চিন্তিত মুখে বসে আছে মুখোশধারী কয়েকজন লোক, প্রত্যেকেই গম্ভীর, নিরুচ্চার।

ধীরে ধীরে চেতনা ফিরছে নুহার। মিটিমিটি চোখ খুলে তাকাতেই যেন চারদিক ঘুরে উঠলো। মাথাটা ভারি, ঝিমঝিম করছে। সে কপালে হাত দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে বসতে চাইল। মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল সন্ধ্যার ভয়ংকর সেই ঘটনাগুলো, তার বুকের ভেতর হঠাৎ এক প্রচণ্ড আতঙ্কের ঢেউ বয়ে গেল। চারপাশে তাকিয়ে দেখলো, গাড়িতে বসে থাকা প্রতিটি লোকের মুখ ঢাকা কালো মুখোশে। কারো মুখভঙ্গি, কারো দৃষ্টি কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। জানালার বাইরে তাকিয়ে নুহা বুঝলো, গাড়িটি কোনো অজানা জঙ্গলের ভিতর দিয়ে এগিয়ে চলেছে, চারপাশে শুধু অন্ধকার, গাছের ডালগুলো বাতাসে দুলে ছায়ার মতো নড়ছে। সেই দৃশ্য যেন মৃ ত্যু পুরীর নীরব প্রহর। ভয়ে তার গলা শুকিয়ে এল। ঠোঁট কাঁপতে শুরু করলো। আতঙ্কে হাতজোড় করে আল্লাহর নাম নিতে লাগলো সে, আর ঠিক তখনই অজান্তেই চিৎকার করে উঠলো—

-"কেউ আছো? বাঁ চাও! আমাকে বাঁ চাও! এরা আমাকে ধ রে নিয়ে যাচ্ছে!"

মুহূর্তেই গাড়ির ভেতর নিস্তব্ধতা ভেঙে গেল। সব মুখোশধারী চোখ রাঙিয়ে তাকালো নুহার দিকে। ড্রাইভার চেঁচিয়ে উঠলো—

-"মুখ বন্ধ কর এর!"

কিন্তু নুহা থামলো না। সে ক্রমাগত চিৎকার করে যেতে লাগলো। ঠিক তখনই এক মুখোশধারী এগিয়ে এসে তার গালে সজোরে কয়েকটি চ ড় বসিয়ে দিল। গর্জে উঠলো—

-"একটা শব্দ করবি না! চুপ থাক, না হলে এখানেই মে রে পুতে ফেলব তোকে!"

নুহা তবুও থামলো না। বাকিরা মিলে তার হাত-পা শক্ত করে চেপে ধরলো, আর সেই লোকটি আ ঘা ত করতে লাগলো একের পর এক। হঠাৎ নুহার মাথা গাড়ির জানালার ধারে আ ঘা ত পেয়ে র ক্ত ঝরতে শুরু করলো। ঠিক সেই মুহূর্তে ড্রাইভার হঠাৎ রিয়ার ভিউ মিররে চোখ ফেলতেই কিছু একটা দেখলো, অন্ধকার ভেদ করে যেন একটা আলোর রেখা তাদের পিছু নিয়েছে। সে তীব্র আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠলো—

-"এই থাম! থাম! কেউ আমাদের ফলো করছে, মেয়েটার মুখ বন্ধ কর, এখনই!"

সবাই একসাথে আতঙ্কে চমকে উঠলো। মুহূর্তেই নিস্তব্ধ রাত যেন হিমশীতল এক তলোয়ার হয়ে নেমে এলো গাড়ির ভেতর। নুহা তার আধখোলা চোখে বাইরে তাকিয়ে দেখলো, অন্ধকার চিরে কোথাও একটা ক্ষীণ আলো জ্বলজ্বল করছে, যেন মু ক্তির আশার মতো। সে বুঝলো, কেউ একজন তাদের পিছু নিয়েছে।

ড্রাইভার দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে কৌশলে গিয়ার বদলে গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিল। ইঞ্জিনের গর্জন রাতের নিস্তব্ধতা ছিন্ন করে প্রতিধ্বনিত হলো চারদিকে। গাড়ি বাঁক নিচ্ছে, ডান-বামে দুলছে, কিন্তু পিছু নেওয়া আলোটা ক্রমে আরও কাছে আসছে। ড্রাইভার রিয়ার ভিউ মিররে চোখ ফেলতেই হঠাৎ জমে গেল তার মুখ। কাচে ভেসে উঠলো এক ভ য় ং কর দৃশ্য, একটি কালো বাইক, তাতে এক রহস্যময় পুরুষ, পুরো শরীর কালো পোশাকে ঢাকা, মুখে কালো হেলমেট। বাইকের হেডলাইটের তীব্র আলো সাদা আগুনের মতো জ্বালিয়ে তুলেছে। হেডলাইট দুটি যেন অন্ধকার ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা দুটি সাদা আগুন। চালকের মুখ দেখা যায় না, শুধু আলো প্রতিফলিত হচ্ছে তার কাচের ওপর, যেন মৃ ত্যুর মুখোশ পরা এক ছায়ামানব। পুরুষটি মৃ ত্যুর মতো নিঃশব্দে, অথচ প্রচণ্ড গতিতে এগিয়ে আসছে, যেন অন্ধকারের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা কোনো প্রতিশোধের ছায়া।

কোণার সিটে নুহা আঁকড়ে ধরে বসে আছে, তার চোখ দুটো ভয়ে বিস্ফোরিত, তবুও সেই আয়নায় প্রতিফলিত আলোয় এক অদ্ভুত আশার ঝিলিক। যেন সে বুঝতে পারছে, যে ছুটে আসছে, সে মৃ ত্যু নয়, মুক্তি।

গাড়ির ভেতর সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকালো, ভয়ে স্থির, বিভ্রান্ত। নুহা বুঝলো, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। বাতাসে হঠাৎ গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো আতঙ্কের, আর চারদিকের রাত আরও গভীর, আরও ভারী হয়ে উঠলো।

.

ইলহান এলোমেলো পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছে। প্রতিটি ধাপ যেন ভারী হয়ে উঠেছে, শ্বাস প্রশ্বাস অনিয়মিত। দেয়ালে হাত রেখে কোনো রকমে ভারসাম্য রাখছে সে। শরীরের ভেতর অদ্ভুত গরম ভাব ছড়িয়ে পড়ছে, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা, মাথা ঘুরছে অনবরত।

ওয়াইনের স্বাদ এখন তিক্ত, ঠিক তেমনই তিক্ত যেমন তার মিশনের প্রতিটি গোপনতা।

ঘরের ভেতরে তখন আলো নিভু নিভু। নূরাইসা সোফার কোণে বসে আছে, চোখে অবসন্নতা, তবু জেগে।ইলহান যে আজ বাইরে গেছে, তা সে জানে। জানে, এই রাতের পথ সহজ নয়। গত সপ্তাহে আরিবার সঙ্গে ইলহানের সেই ঘটনার পর থেকেই তার মনের শান্তি হারিয়ে গেছে। সেদিন, রাগের মাথায় কেন সে আরিবাকে চড় মারল, কেন প্রতি রাতে বাইরে যায়, সব জানতে চেয়েছিল নূরাইসা। আর সেদিনই ইলহান প্রথমবারের মতো সব খুলে বলেছিল, তার মিশন, তার লড়াই, আর দেশের জন্য চলা এক গোপন যুদ্ধের গল্প।

সেই সত্য শোনার পর থেকে নূরাইসার চোখে ঘুম আসেনি এক রাতও। সে প্রতিটি রাতে জেগে থাকে, বুকের ভেতর একটা ভয় কুন্ডলী পাকিয়ে বসে থাকে, যদি আজ আর সে ফিরে না আসে? আজও সে অপেক্ষায়। দরজার পাশে বসে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে ঘড়ির কাঁটার দিকে। হঠাৎ করিডোরে পায়ের শব্দ।ভারী, টলমল, অসংলগ্ন। দরজার ফাঁক দিয়ে ইলহানকে দেখা গেল, দেয়াল ধরে হাঁটছে, শরীর দুলছে, চোখে কেমন যেন অচেনা ক্লান্তি। মাথা বারবার ঝাঁকাচ্ছে, যেন কিছু দূর করতে চাইছে নিজের ভেতর থেকে।

নূরাইসার বুক হঠাৎ ধক করে উঠল। সে দ্রুত এগিয়ে এসে ইলহানের বাহুতে হাত রাখল, কণ্ঠ কাঁপছে চিন্তা, শঙ্কা আর গভীর ভালোবাসার মিশ্র সুরে—

-"কি হয়েছে আপনার? এমন করছেন কেন?"

ইলহান ঝাপসা চোখে তাকিয়ে রইল তার দিকে। চোখ দুটি লালচে, নিঃশব্দ ঝড়ে ভরা। সেই দৃষ্টির গভীরে যেন এক অদ্ভুত অচেনা অন্ধকার, যেখানে নূরাইসা নিজের প্রতিবিম্ব চিনতে পারছে না। ভয়ে, বিস্ময়ে তার বুক কেঁপে উঠল, মনে হল, এই মানুষটি তার পরিচিত ইলহান নয়, একেবারে অপরিচিত, ভয়ংকর এক ছায়া।

কিছু বলবার আগেই ইলহান হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ল তার দিকে। নূরাইসা কিছু বোঝার আগেই সে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল তাকে, শক্ত, অপ্রতিরোধ্যভাবে। এক মুহূর্তের সুযোগও দিলো না, তার পুরুষালি ওষ্ঠ নূরাইসার নরম ওষ্ঠে আছড়ে পড়ল, যেন যন্ত্রণার, অভিমান আর অব্যক্ত ক্রোধের মিশেল সেই স্পর্শে।

নূরাইসা ছটফট করে উঠল, ভয়ে কুঁকড়ে গেল। এমন ইলহানকে সে কখনো দেখেনি, যে ইলহান একসময় তার কাঁপা হাত ধরে বলত, "ভয় পাস না, আমি আছি,"

সেই মানুষটিই আজ যেন অন্য কেউ, অপরিচিত, কঠিন, তীব্র, আর নিজের ভেতরের দহনেই যেন হারিয়ে গেছে পুরোপুরি।

ইলহানের স্পর্শে আজ অদ্ভুত এক তীব্রতা। যে স্পর্শ একসময় মায়ায় মিশে থাকত, আজ তা ক্রমে হয়ে উঠছে গাঢ়, অনিয়ন্ত্রিত, রূঢ়। নূরাইসা ভয়ে কেঁপে উঠছে, ঠোঁটে জ্বলুনি, বুকের ভেতর ব্যথা, চোখের কোণে জল। সে ইলহানকে ঠেলে দূরে সরাতে চাইলো, কিন্তু পারেনি। হতাশা আর আতঙ্কে তার হাত দুটো ইলহানের বুকে আঘাত করছে এলোপাথাড়ি। ইলহান বিরক্ত হয়ে তার অধর ছেড়ে দিয়ে দুই হাত শক্ত করে চেপে ধরল দেয়ালের সঙ্গে, মাথার ওপরে।নূরাইসার শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হয়ে এলো, চোখ বুঁজে ফেলল সে, যেন অন্ধকারেই আশ্রয় খুঁজছে। ভয়ে বুক উঠানামা করছে তীব্র ভাবে।দেহের প্রতিটি শিরায় কাঁপন ধরেছে।

ইলহান নিজেকে বোঝাতে পারছিল না। তার মন আর শরীরের মধ্যে একটি তীব্র দ্বন্দ্ব, যেন দুটোই একসাথে চলতে চায় না। অনুভূতি তীব্র, চাপা, এমনভাবে যে নিজের সংযম হারাতে বসেছে। সে চেষ্টা করছিল থামতে, নিয়ন্ত্রণ রাখতে, কিন্তু তার ভেতরের অস্থিরতা আর মানসিক যন্ত্রণার ঢেউ প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে ভেঙে দিচ্ছিল। চোখে ক্লান্তি, হাতে অস্থিরতা, শ্বাসে অজানা উত্তেজনা, সব মিলিয়ে তার ভেতরের জঞ্জাল ক্রমে আকার নিচ্ছিল, যা কেবল নিজের মধ্যে বোঝা সম্ভব। ইলহান আবারও নূরাইসার ওষ্ঠের দিকে ঝুঁকে এল, নূরাইসা মুখ ফিরিয়ে নিল তীব্র আতঙ্কে। ঠোঁটের কোণে কেটে রক্তের উষ্ণতা টের পেল সে। ইলহান তার মুখ ফিরিয়ে নেওয়া দেখে গলায় মুখ গুঁজে দিল, তীব্র, আকুল, অসংযতভাবে। নূরাইসা ব্যথায় মৃদু শব্দ করে উঠল, আর সেই শব্দের ভেতরেই মিলিয়ে গেল তার সমস্ত প্রতিবাদ। ইলহান তার গলায় শক্ত এক কামড় বসিয়ে দেয়। ইলহানের নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসছে, তার কণ্ঠে যেনো ছায়া নেমে এসেছে, অদম্য যন্ত্রণার সঙ্গে মুখ গুঁজে থাকা অবস্থায় রুদ্ধ গলায় বলল—

-"অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে নূরেজান... শান্ত করুন আমায়! আপনার সান্নিধ্য আজ আমার বড্ড প্রয়োজন!"

নূরাইসা স্থির হতে পারছে না, ভেতরটা কেঁপে উঠছে তার। কাপা কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলল—

-"ভয় লাগছে আপনাকে!"

ইলহান এত কিছু বোঝার অবস্থায় নেই। নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলছে সে। এক হাত দিয়ে নূরাইসার দুই হাত বন্দী করে রেখেছে, মাথার ওপরে। অন্য হাত বিচরণ করছে নূরাইসার সর্বাঙ্গে। সেই স্পর্শে নূরাইসা বার বার কেঁপে উঠছে। ইলহান সেই কম্পনে আরো অধৈর্য হয়ে পড়ছে, সে গভীরভাবে তার গোলদেশে এক চুমু রাখল—

-"এখনো ভয় কাটে নি?"

নূরাইসা নির্বাক। কাঁধে কাঁপন। হৃদস্পন্দন যেনো ঘরের নীরবতাকেও কাঁপিয়ে তুলছে। ইলহান যেনো নিজের মধ্যেই নেই। তার ভেতরের অস্থিরতা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সে পুনরায় ফিসফিসিয়ে বলল—

-"প্লিজ ব্লাডমুণ... একটুও ব্যথা দিব না, প্রমিস। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে জান। একটু কাছে আসি? আপন করে নেই আজ? আপনাকে একটু গভীরভাবে অনুভব করি? আজকের রাতটা শুধু আমার আর আপনার, নূরেজান। আজকের জন্য আমাকে সহ্য করে নিন... প্লিজ, বেবি। আজ ভয়টা কাটিয়ে দিব প্রমিস করছি। আমার খুব যন্ত্রণা হচ্ছে... নূরেজান, এই যন্ত্রণা থেকে আমাকে মুক্ত করুন... প্লিজ, কাছে আসি না একটু? প্লিজ..."

বিজ্ঞাপন
সূর্যস্নাত ভালোবাসা গল্পটি নওরিন ইথিকা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় ভালোবাসাময় গল্প