মোটামুটি সাত দিনের যাত্রা। রাতের মাঝেই লাগেজ প্যাক করা শেষে করে ভোর হতে না হতেই রওনা দিয়েছে শেহরিন। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হতে সোজা ঢাকা। সেখান হতে বিদেশ পাড়ি।
সূর্য ধরণীজুড়ে প্রস্ফুটিত হয়। সেই সাথে বাড়ে বেলা। প্রিয়তমার ফ্লাইট যখন চট্টগ্রামের আকাশ ছাড়ে প্রেমিক সাহেবের তখন সদ্য ভাঙা ঘুম চোখ হতে নামে। কপাল কুঁচকে বালিশে মুখ গুঁজে থেকে সে কারো কর্কশধ্বনিতে বেজায় বিরক্ত হয়ে উঠে।
"ভাইয়া...উঠ..ভাইয়া।"
" চুপ।"
"উঠিস না কেন? কখন থেকে ডাকছি। কথা কানে যায় না?"
" মুখ বন্ধ করে সোজা জায়গা ছেড়ে চলে যা বেয়াদব। "
"তুই বেয়াদব। বেয়াদব এমপি।"
"উঠবো আমি?"
"উঠার জন্যই তো বলছি। আম্মা ডাকছে নাস্তা করার জন্য।"
"লেট হবে আমার।"
সানজির ধৈর্য্যসীমা অতিক্রম করে। চার পাঁচ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে থেকে অনবরত ডাকছে সে। অথচ এমপি সাহেবের ঘুম ভাঙে না কোনোভাবেই। এখন ভেঙেছে তো ভেঙেছে সরাসরি বকা ছুঁড়ে দিচ্ছে। বেডসাইডে রাখা পানির গ্লাস হতে খানিকটা পানি হাতে তুলে সে ছু্ঁড়ে মারে সান্নিধ্যের মুখ বরাবর।
কুঁচকানো কপাল দ্বিগুণ হারে কুঁচকে যায় সান্নিধ্যের। মুখোরেখা তার পানির ছিটায় ভিজে উঠে। চোখ খুলে বিরক্তি ভঙ্গিতে তাকায় সানজির দিকে।
"সোজাপথে কাজ না হলে বাঁকাপথে হাঁটতে হয়। তাড়াতাড়ি নিচে আয় আম্মা ডাকছে।"
"আজকে তোর বিয়ের কথা কনফার্ম হবে।ওয়েট কর।"
" তোর বিয়ের চিন্তা কর আগে।"
সানজি মুখ ঝামটা মেরে চলে যায় ঘর ছেড়ে। সান্নিধ্য দীর্ঘ শ্বাস ফেলে আবারো ঘুমের প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু ভাগ্য আর ঘুম তার বরাবরই বিপরীতে।চোখ বন্ধ করা মাত্র যান্ত্রিক মুঠোফোন তার ভাইব্রেট শুরু করে দেয়।প্রথমবার ফোন না ধরলেও দ্বিতীয়বার সে বাধ্য হয় ফোন রিসিভ করতে।
"পিস্তল লোড করে নিয়ে গিয়ে আমি তোমাকে টাইমিং সেন্স শিখিয়ে দিয়ে আসবো রিমন।"
"স্যার আমি আরহাম বলছি।"
সান্নিধ্য খানিকটা মাথা তুলে কপাল ভাঁজ করে। ফোনের স্ক্রিনে ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে দেখে আরহামের কল এটা।
"বলো।"
"স্যার লতিফ মির্জা দশটায় আপনার অফিসে আসছেন।"
"এতো সকালে কেন?"
"উনি আজকেই আবার ঢাকা ব্যাক করবেন। মিটিং টা শেষ করতে চান তাড়াতাড়ি।"
"সব ব্যাটার আমার ঘুমের সাথে শত্রুতা।"
"জ্বি স্যার?"
"নাথিং। কনফার্ম করো।"
"ওকে স্যার।"
আটটা বিশ..আটটা পঁচিশ.. অবশেষে আটটা ত্রিশের ঘরে ঘড়ির কাঁটা প্রবেশ করলে ঘুম থেকে উঠে সান্নিধ্য। তবে উঠলেও চোখে তখনো ঘুমের রেশ খানিকটা লেপ্টানো। ফোনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেইল চেইক করে সে সরাসরি চলে যায় ফ্রেশ হতে। আজকে এমনিতে লম্বা কাজের শিডিউল রয়েছে তার। বিশেষ করে বিকেল বেলাতে। সবগুলো কাজের মধ্যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে কথা।
তেলে ভাজা আলু পরোটার উপর চিনি ছড়িয়ে নিয়েছে তাসিন। দুই হাত ডুবিয়ে ছিঁড়েখুঁড়ে পরোটার জানের অবস্থা বেহাল দশা।
আধাঘন্টা হলো সে খেতে বসেছে। এক টুকরো এক টুকরো করে মুখে নিয়ে লম্বা সময় ধরে চাবিয়ে যাচ্ছে । আর এসব কিছু যে তার স্কুলে না যাওয়ার বাহানা সেটা ডাইনিং এ উপস্থিত সবাই প্রায় জানে। সে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে যেন স্কুলের সময়টা অনায়াসে পার হয়ে যায়। তবে, এক্ষেত্রে তিথিও ছেলের প্রতি বিশেষ নজরদারি রেখেছে। নয়টা বাজলেই টেনেটুনে সে নিয়ে যাবে স্কুলে। এতে খাওয়া হোক বা না হোক।
" সান্নিধ্য কি নাস্তা করবে না?"
"সেটা তোমার ছেলেকেই জিজ্ঞেস করো গিয়ে বাবা। তার চোখে ঘুমই তো ভাঙে না। প্রতিদিন আমাকে অ্যালার্ম বাজাতে হয়।"
" অ্যালার্ম বাজানো ভালো কাজ তো। এটাও এক ধরনের শারিরীক ব্যায়াম"
সানজি খেতে খেতে বড় ভাইয়ের দিকে চোখ সরু করে তাকায়। নিরস গলায় বলে, "এসব শারিরীক ব্যায়াম আমার লাগবে না। আমার গলা এমনিতেই পরিষ্কার আছে। আমি এই চাকরি থেকে রিজেইন নিলাম। তোমার ছোটভাইকে বলে দিয়ো বেতন যেনো পরিশোধ করে।"
"কিসের বেতন? "
"বারে এই যে কষ্ট করে যেয়ে যেয়ে ডাকি। এটা কাজ নয়? "
"এটাতেও বেতন থাকতে হবে?"
"ভাবি ভাইয়াকে বুঝাও তো দেখি।"
তিথি শ্বশুর সাহেবকে খাবার সার্ভ করে। যৎসামান্য হেসে প্রতিত্তুর দেয়,"তোমাদের ভাই বোনের হিসেব তোমরা ভালো বুঝো। তবে এটা ঠিক এতো কষ্ট করে যেহেতু ডেকেছো পারিশ্রমিক পাওনাটা বৈধ।"
"আমিও তো চাচ্চুকে একদিন ডেকেছিলাম তাহলে আমার বেতন কোথায় মামণি?"
"তুমি বেশি কথা বলো না। সব খেয়ালে আছে আমার। তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে রেডি হও। স্কুলে যেতে হবে।"
"বাবা আমার পেটে ব্যথা...
" তাসিন..."
"এসব পুরনো হয়ে গিয়েছে। নতুন কিছু ট্রাই কর বেবি মানকি।"
সান্নিধ্য তাসিনের পিঠ চাপড়ে চেয়ার টেনে বসে। এতোক্ষণে তার আসার সময় হলো। অন্যদিকে এমপি সাহেবের আগমনে শাহজাহান সাহেব এবং নাজনীন বেগম চোখেচোখে অব্যক্ত ভাষা বিনিময় করেন। শাহজাহান সাহেব চোখের পাতা ফেলে আশ্বস্ত করেন স্ত্রী সাহেবাকে।
" ইয়ো সানি... তুমি একটা শিখিয়ে দাও।"
"বিয়ে কর।"
তাসিন খাওয়া ছেড়ে অসহায় চোখে তাকায় তার চাচ্চুর দিকে। ভাঙা কন্ঠে বলে, " আমি তো বিয়ে করতেই চাই। কিন্তু ইয়ো পানিই তো আমাকে বিয়ে করে না।"
"বাচ্চা মানুষকে এসব কানপোড়া না দিয়ে নিজে সেই চিন্তা করলে খুশি হতাম।"
সান্নিধ্য রুটির সাথে ডালভাজি নিয়ে খাওয়া শুরু করে। মায়ের কথায় মাথা নাড়িয়ে সায় জানাতে জানাতে বলে,"অতি শীঘ্রই নিজের একটা ব্যবস্থা করে ফেলবো। চিন্তা করো না তোমরা।"
"কি ব্যবস্থা?"
"তুমি যেটা বুঝালে।"
নাজনীন বেগম ছেলের ভাবসাব সঙ্গে প্যাঁচানো কথা সহজভাবে ধরতে পারেন না। মুখ কালো করে স্বামীর পানে তাকাতেই শাহজাহান সাহেব কন্ঠ পরিষ্কার করে বলেন, "এনগেজমেন্ট এর কথা চলছে সামনের সপ্তাহে। অন্বেষার সঙ্গে কথা বলে নিও।"
"অন্বেষার এনগেজমেন্ট? বাহ্ ভালো তো। বেবি মানকি..সত্যি তোর কপালটাই খারাপ।"
"বাজে কথা বন্ধ করো। তোমার সঙ্গেই অন্বেষার এনগেজমেন্ট হবে।"
সান্নিধ্য আরেকটা রুটি সঙ্গে অল্প একটু সবজি তুলে নেয় প্লেটে। বেশ মনোযোগে নাস্তা খেতে থাকে সে। বাবার কথার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায় না দেখে উপস্থিত সবাই তাদের খাওয়া থামিয়ে তার দিকে চেয়ে থাকে। এমপি সাহেবের সঙ্গে শান্ত শব্দটা একদমই বেমানন। পরিবারের কারোই সেটা বোধগম্য হয় না।
সান্নিধ্য খাওয়ার মাঝে এক পলক তাকিয়ে দেখে আগুন্তকঃ হয়ে তাকে দেখছে সবাই। ভ্রু দ্বয় বাঁকা করে জিজ্ঞেস করে,
"কি হয়েছে?"
" কিছু হয়নি। এনগেজমেন্ট সামনে তোর। রেডি থাক।"
"হু।"
নাজনীন বেগম ছেলের রাজি রাজি মনোভাব দেখে মুখে লেপটে থাকা আঁধার দূর করেন। সন্তুষ্ট চিত্তে স্বতঃস্ফূর্ত হাসি হেসে বলেন,
"আমার ছেলে রাজি না হয়ে পারে? আপনি ওদের ডেট ফিক্সড করতে বলুন তাহলে। আর দেরি করতে চাই না।"
"এখনই?"
"হ্যাঁ এখনই।"
শাহজাহান সাহেব পকেট হতে ফোন বের করেন। রাজ্জাক সাহেবের নাম্বার ডায়াল করে কল করার পূর্ব মুহুর্তে কি ভেবে হাত থামিয়ে নেন। সান্নিধ্যের দিকে এক পলক তাকিয়ে পরিষ্কার কন্ঠে বলেন,
" সান্নিধ্য ডেট ফিক্সডের কথা কিন্তু কনফার্ম করছি। আল্লাহর ওয়াস্তে পরে যেন কোনো ঝামেলা করো না।"
"ঝামেলা আমার আপন খালাতো ভাই বাবা।"
"মানে?"
"মানে ঝামেলা ছাড়া আমি চলতে পারি না।"
শাহজাহান সাহেব স্থির দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিয়ৎক্ষণ। অতঃপর হতাশার নিঃশ্বাস ছেড়ে ডায়াল করা নাম্বার কেটে পকেটে ফোনটা ঢুকিয়ে নেন।
"কি হলো? ফোন পকেটে রাখলেন কেন?"
"তোমার ছেলেকে বলো।"
"এসব কি হচ্ছে আমাকে দয়া করে একটু বলবে?"
"সান্নিধ্য কেন এমন করছো?আম্মা কিন্তু ভীষণ রাগ করছেন তোমার উপরে।অন্বেষা এতো ভালো একটা মেয়ে। ওকে বিয়ে করতে তোমার কি এতো সমস্যা বলো তো।"
তিথির কথায় সান্নিধ্য কোনো জবাব দেয় না। সে তার কাজে মত্ত থাকে। খাওয়া প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এখনই উঠে যাবে।
"কিছু একটা বলবে তো?"
"রাতে একটু স্পেশাল কিছু তৈরি করে রেখো ভাবি। আমার পার্সোনাল গেস্ট আসার সম্ভাবনা রয়েছে।"
"স্পেশাল গেস্ট ফর স্পেশাল ডিস্।"
"কে আসবে?"
"আসলেই দেখতে পাবে।"
"দুপুরে বাসায় আসবে না?"
"না।"
সান্নিধ্য খাওয়া শেষ করে উঠে যায়। সরফরাজ একনজর সেদিকে তাকিয়ে সানজির দিকে দৃষ্টিপাত করে বলে, "খাওয়া শুরু কর। তুই যেটা ভেবেছিলি আমিও সেটা ভেবেছিলাম। এখন ক্লিয়ার হলো এমপি সাহেব এতো ভালো কোনো কালেই ছিলো না যে এক বাক্যে কোনো কথায় রাজি হবে।"
"সহমত ভাইয়া।আমি তো চমকে গিয়েছিলাম এক মুহূর্তে ওর কথা শুনে।"
"ইয়ো সানির যেহেতু রাতে গেস্ট আসবে তাহলে আমি আজকে স্কুলে যাবো না বাবা।"
"চাচ্চুর গেস্টের সাথে তোর কি কাজ বাবা?"
"অনেক কাজ। তুমি বুঝবে না।"
সরফরাজ তিথির কড়া চাহনি দেখে খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়ে। ছেলেকে টেনে বের করে কোলে তুলে নিয়ে বলে,
"আমাকে আর মারিস না বাবা। চল স্কুলে যাই।"
"বাবা আমার টয়লেট এসেছে।"
"স্কুলে অনেক টয়লেট আছে। যেটাতে খুশি যাস। দরকার হলে সবগুলো টয়লেটেই ট্রায়াল দিস।তবুও স্কুলে চল।"
____________________________________
|সদরঘাট, বেলা দশটা|
এমপি সাহেবের কার্যালয়টি কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে সদরঘাটে অবস্থিত। তৃতীয় তলা বিশিষ্ট উঁচু এই বিল্ডিং এ সান্নিধ্যের নিজস্ব অফিস কক্ষটির স্থান পড়েছে দ্বিতল ভবনে।
কক্ষটি প্রশস্ত, পরিপাটি এবং আধুনিক ডিজাইনে ঘেরা। দেয়ালে সুসজ্জিত করে টানানো রয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র সহ বিভিন্ন গণ্য মান্য ব্যক্তির ছবি। জানালার পাশে ভারী ক্রিম রঙের কার্পেটে ঢাকা মেঝেতে একটি বড় কাঠের টেবিল স্থাপন করা হয়েছে। যার চারপাশে কালো লেদার চেয়ার সাজানো। টেবিলের এক কোণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও অন্য কোণে একটি ছোট বইয়ের স্ট্যান্ডে সংবিধান ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি সজ্জিত।
এক কোণে একটি গ্লাস ক্যাবিনেটে ট্রফি, স্মারক ও সম্মাননা পত্র সাজানো। দেয়ালঘেঁষে একটি সোফা সেট রাখা আছে। যেটা নির্ধারিত থাকে অতিথিদের বসার জন্য। কাঁচে আবৃত কাঠের আলমারিতে স্থান পেয়েছে সমস্ত ফাইল, রিপোর্ট ও সরকারি গেজেট।
লতিফ মির্জার মিটিংটা পিছিয়ে দুপুরের পরে চলে গিয়েছে। এর মাঝে এসেছে অন্য একটা প্রকল্পের কাজ। এই মুহূর্তে অফিসে উপস্থিত রয়েছেন স্থানীয় সরকারের ইঞ্জিনিয়ার। পৌরসভার একজন কর্মকর্তা এবং তার একান্ত সচিব।
ধীর হাতে ফাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখছে এমপি সাহেব। নির্বিঘ্নে কয়েকটা পৃষ্ঠা উল্টিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
"এই রাস্তাটা তো দুইবার মেরামতের টেন্ডার হয়েছে। কাজ শেষ হচ্ছে না কেন? প্রতি মাসে কমপ্লেন আসে পানিতে ডুবে যায়, গর্তে দুর্ঘটনা হয়। এটা কি গ্রহণযোগ্য?"
ইঞ্জিনয়ার মাহবুব সাহেব ধীর কন্ঠে প্রতিত্তুর দেয়,
"স্যার প্রকল্পটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিনভিউ কনস্ট্রাকশন’ পেয়েছিল। কিন্তু তাদের কাজের গতি খুবই ধীর।"
"খুবই ধীর? "
"জ্বি স্যার।"
"আপনারা কোন ব্যবস্থা নেননি?"
"আমরা নোটিশ দিয়েছি স্যার।"
"নোটিশে কি হয়? শুধু কাগজে কলমে চালান দেওয়া। মাঠে গিয়ে তদারকি করছেন না কেন?"
পৌরসভার কর্মকর্তা রফিক নমুজ হেসে বলে,
"স্যার, আসলে বৃষ্টির মৌসুমে কাজ বন্ধ থাকে। তারপর বাজেট রিভিশন।"
সান্নিধ্যের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠে। তীক্ষ্ণ চোখজোড়ায় তাকিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বলে,
"বাজেট রিভিশন? টাকার অজুহাত? এই রাস্তার জন্য ২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। টেন্ডার দেওয়ার সময় ঠিকাদার বলেছিল ৬ মাসে শেষ করবে। এখন ১ বছর পার।"
"স্যার, সমস্যা হলো মূল ঠিকাদার সাবকন্ট্রাক্টরদের উপর ছেড়ে দিয়েছে। তারা নিম্নমানের মেটেরিয়াল ব্যবহার করে। আমরা টেস্ট করলে পাস করছে না।"
"টাকাটা পকেটে ঢুকছে, কাজ হচ্ছে না? এটা কি দুর্নীতি না অদক্ষতা?"
রফিক সাহবে এমপি সাহেবের গরম মেজাজে কিছুটা ভীত হন। বিপরীতে চাপা গলায় বলেন,
"স্যার, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাহেবের লোকজনও এই প্রকল্পে জড়িত। তাদের চাপে আমরা...
"আমি আসলে ভালো হতে চাই কিন্তু আপনাদের কারণে ভালো হতে পারিনা বুঝতে পেরেছেন। একটা কিছু হলেই তো অভিযোগ আমার দিকে ছুঁড়তে সময় নেন না আপনারা। কিন্তু নিজেদের কাজের কোনো ঠিকানা নেই।আপনাদের কাজও আমাকে দেখতে হয়। সব যদি আমাকেই করতে হয় তাহলে আপনাদের আমি ছুটি দিয়ে দেই। ছুটি নিয়ে নিন কেমন?"
"সরি স্যার আসলে...
" আসল নকল বাদ দিন। আপনাদের কথা আমি শুনতে চাই না।
আজই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করুন। ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ারিং টিম এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সবার জবাবদিহি নিবো আমি।"
"জ্বি স্যার।"
সান্নিধ্য চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়।টেবিল চেপে খানিকটা ঝুঁকে ধারালো স্বরে বলে,"ইঞ্জিনিয়ারিং টিম সাইট পরিদর্শন না করেই শুধু কাগজে রিপোর্ট লিখে দেয়। আর আপনারা সেটা নিয়ে আমার কাছে নাটক করতে আসেন।ধান্দাবাজি বন্ধ করুন। আমার সঙ্গে অনন্ত ধান্দাবাজি করতে আসবেন না।
৭ দিনের মধ্যে একটি অডিট রিপোর্ট চাই আমার। যদি দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, যে পকেটে টাকা ভরা হয়েছে সেই পকেট কাটতে আমি এক সেকেন্ড সময় ও নিবো না মনে রাখবেন। আর এই রাস্তা ১ মাসের মধ্যে শেষ করুন নতুন ঠিকাদার দিয়ে।"
"জ্বি..জ্বি স্যার।"
দুপুর তিনটা। স্থানীয় সরকারের প্রকল্পের কাজটার মোটামুটি সমাধা করে সান্নিধ্যের লাঞ্চ কম্পিলিট হয়। পকেট হতে ফোনটা বের করে সে তার শেহরিন নামক বকুল ফুলকে এক পলক দেখে নেয়। বকুল ফুলের মতোই মিষ্টি সুবাসিত ঘ্রাণে সে নিমগ্ন চোখে তাকিয়ে দেখে তাকে। মেয়েটাকে দেখলেই এই রাগী মানুষটার মন গলে নরম হয়ে যায়। ভিতরটা তার অন্যরকম ভালো লাগায় প্লাবিত হয়ে উঠে। ঠোঁটের কোণে ফোটে সূক্ষ্ম হাসি।
দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হয়। আরহাম সম্মানসূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
"স্যার, লতিফ মির্জা সাহেব ওয়েটিং রুমে এসে বসেছেন। ভিতরে আসতে বলবো কি?"
"এক মিনিট পরে।"
"জ্বি স্যার।"
সান্নিধ্য একটা মিনিটের মধ্যে দ্রুত ফোন লাগায় রিমনকে। কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই অপর পৃষ্ঠ হতে আসে প্রতিত্তুর।
"তুমি একটু পরেই বের হবে। সাড়ে পাঁচটার মধ্যেই শেহরিনকে নিয়ে আসবে।কোনো প্রব্লেম যেনো না হয়। আমি মিটিং এ থাকবো। তবে ফোন খোলা থাকবে। আপডেট জানাবে।"
"ওকে স্যার।"
লতিফ মির্জা বয়োজ্যেষ্ঠ ভদ্রলোক মহাশয়। পরনে পরিপাটি ধূসর স্যুট। সঙ্গে রয়েছেন তার দুই সহকারী একজন আইনজীবী এবং একজন প্রকল্প ব্যবস্থাপক। কক্ষে প্রবেশ করে হাসিমুখে করমর্দন করেন এমপি সাহেবের সাথে।
"প্লিজ টেক সিট।"
প্রারম্ভরিক কথাবার্তা সম্পন্ন হয়। সবকিছুর খোঁজ খবরাখবর নেওয়া শেষে চলে যায় তারা মূল কথায়। লতিফ মির্জা সাহেব হালকা গলায় বলেন,
"আমাদের তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ খুব জরুরি। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে এই প্রকল্পটি কি বাস্তবায়ন করা যায় না ?"
"ভালো উদ্যোগ। ইতিমধ্যে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এমন ফান্ড আছে। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সাথে কথা বলে টেন্ডার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পারি। তবে স্থান নির্বাচন ও স্থানীয় কমিউনিটির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। আর সে কাজটা আপনাকে করতে হবে।"
"আমি নিজেই কমিউনিটির নেতাদের সংগঠিত করব। আপনি শুধু প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সমর্থন দিন। গত তিনবছর ধরে আমি আমার কাজটা সম্পন্ন করতে পারছি না।আপনার মতো সবাই এমন আশ্বাস দেয় এমপি সাহেব। বাট গদি পেলে সব ভুলে যায়। "
সান্নিধ্য কিঞ্চিৎ হেসে ফোনে আসা মেসেজের দিকে তাকিয়ে দেখতে দেখতে বলে," কিন্তু আপনারা তো তাদেরই পছন্দ করেন বেশি। তোষামোদ করতে তো বাকি রাখেন না। "
"যেমন।"
"এই যে কাজ হাসিলের জন্য আমাকে এতো তোষামোদ করছেন সামনাসামনি। কিন্তু আড়ালে গেলেই এমপি সাহেব দু নাম্বার। টাকায় ডুবে থাকে,কাজের কাজ কিছু করে না।"
লতিফ মির্জা প্রতিত্তুরে বেশ কিছু কথা বলতে শুরু করেন। এক নাগাড়ে পুরো রাজনৈতিক হালচালের বিচার বিশ্লেষণ অব্দি করে ফেলেন। কিন্তু এমপি সাহেবের কানে সেসব কথা পৌঁছায় না। তার সম্পূর্ণ মনোযোগ রিমনের হতে আসা মাত্র ক্ষুদে বার্তায়।
"ম্যাডাম বাসায় নেই স্যার। উনার খোঁজ কেউ দিতে পারছে না।আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয় শেহরিন বলতে নিকুঞ্জ মহলে কেউ নেই বা থাকে না এমনটাই জানিয়েছেন এই বাসার দারোয়ান। "
সান্নিধ্য পলকহীন চোখে তাকিয়ে দেখে। ক্ষুদে বার্তার একটা শব্দও তার বোধগম্য হয়ে উঠে না। প্রথমত শেহরিন কোথাও এভাবে হুট করে যেতেই পারে না,দ্বিতীয়ত ঠিকানা ভুলের তো কোনো চান্স নেই। সানজি তো মিথ্যা কখনোই বলবে না তাকে।"
দ্রুতহাতে টাইপিং করে সে। ক্ষুদে বার্তার পাল্টা জবাবে লিখে," দারোয়ানকে ছেড়ে ওই বাসায় যারা আছে তাদের সাথে কথা বলো।"
"বাসায় কেউ নেই স্যার। বাসা লক। কক্সবাজার গিয়েছেন সবাই।"
" তাহলে শেহরিনও কক্সবাজার গিয়েছে। সিম্পল একটা জিনিস পেঁচিয়ে দিচ্ছো কেন?"
"স্যার সত্যি বলছি দারোয়ান নিজমুখে বলেছে শেহরিন নামে কাউকে সে চেনে না এবং এই বাসায় শেহরিন নামে কেউ থাকে না।"
সান্নিধ্যের কপালের ভাঁজগুলো ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে থাকে। ফোনের দিক হতে তার দৃষ্টি সরে না। এমপি সাহেবের ফোনের পানে গভীর মনোযোগ দেখে লতিফ সাহেব গলা খাকরি দেন। সুস্পষ্ট কন্ঠে বলেন,"আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আমার কথা এমপি সাহেব?"
"পাচ্ছি। কন্টিনিউ করতে থাকুন। এক জায়গায় গিয়ে আমি দাঁড়ি বসিয়ে দিয়ে আসবো।"
কিছু সেকেন্ডের ভাবনা শেষে সান্নিধ্যর মস্তিষ্কে কিছু একটার ইঙ্গিত দেয়। ফের দ্রুতহাতে টাইপিং শুরু করে সে, "স্টুপিড। শেহরিনের নাম অন্যকিছুও হতে পারে। সানজি ফুল নেম আমাকে বলেছিলো কিন্তু এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে না। জিজ্ঞেস করো।"
"স্যার অনিভা।"
"শেহরিনই হয়তো অনিভা।"
"অন্য কেউও তো হতে পারে স্যার। বাড়িওয়ালার ও মেয়ে আছে।"
" কু পরামর্শ কম করে দাও। পজিটিভ থাকো। তুমিও শিউর নয় আমিও শিউর নয়। সো নেগেটিভে যাচ্ছো কেন?আমি তোমাকে একটা ছবি পাঠাচ্ছি সেটা দেখে শিউর হয়ে জানাও।"
"জ্বি স্যার।"
"এমপি সাহেব আমার মনে হচ্ছে আপনি অন্যকাজে ব্যস্ত। আমি শুধু শুধুই বলে যাচ্ছি। আপনি হয়তো কিছুই শুনছেন না। "
সান্নিধ্য লতিফ সাহেবের সদ্য বলা কথা শুনেও শোনে না। রিমনকে ছবি দেখিয়ে নিশ্চিত হয়েছে অনিভাই শেহরিন। মামার বাসার সবাই তাকে অনিভা নামে চেনে।তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও এমপি সাহেবের শেহরিন এমপি সাহেবকে বোকা বানিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়েছে অনেক আগেই।
" এক্সকিউজ মি.."
সান্নিধ্য বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। অবস্থা তার রফাদফা। ফোনের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে লতিফ সাহেবকে তড়িৎ গলায় বলে,
"আমি আমার সচিবকে বলে দিচ্ছি আগামী সপ্তাহেই এই কাজটা নিয়ে প্রাথমিক মিটিং ডাকা হবে। আপনার সাথে যৌথভাবে আমরা এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করব। চিন্তা করবেন না। আমি একটু ব্যস্ত..প্লিজ।"
লতিফ সাহেব সান্নিধ্যের মাঝে এলোমেলো ভাব দেখে আর কিছু বলেন না। বেশ কিছুক্ষণ হলোই বুঝতে পারছেন এমপি সাহেবের মন এবং মনোযোগ দুটোই অন্যদিকে। মনে হয় না পরের একটা কথাও তিনি শুনেছেন। শুনলে এভাবে চুপচাপ মুখে কুলুপ এঁটে থাকতেন না। চুপ থাকার মানুষ সে নয়।
মুখনিঃসৃত ধারালো বাণীতে একদম ঘায়েল করে দিতে সবর্দা প্রস্তুত থাকে সে।
যাই হোক, মানুষটা যে খুব একটার সুবিধা গোছের নয় এটা মোটামুটি সবাই জানে। লতিফ সাহেবেরও বর্হিভূত নয়। তাই বিনাবাক্যে মাথা নাড়িয়ে উঠে পড়েন তিনি। সৌজন্যেমূলক হাসি হেসে বিদায় নেয় এমপি সাহেবের থেকে।
"কক্সবাজার যাও।"
"স্যার ম্যাম কক্সবাজার যায়নি।ঢাকা গিয়েছে।"
"ঢাকা কোথায় বাসা সেটা জানা নেই। কক্সবাজারে ওর মামার থেকে ঠিকানা নিয়ে আসো।"
রিমনের ঘাম ছুটে যায়। আঙুল দ্বারা কপাল মুছে নিরাশ গলায় বলে,"স্যার কক্সবাজারে কিভাবে খুঁজে পাব তাকে। দারোয়ানের থেকে যে ফোন নাম্বারটা নিয়েছি সেটাও বন্ধ বলছে।"
"কক্সবাজারে সমস্ত হোটেল চেইক করলে খুঁজে পাওয়া যাবে। দরকার হলে লোক লাগাও।"
"জ্বি স্যার।"
------------------------------------------------------
সময় দীর্ঘ হতে হতে ঘড়িতে বিকেল পাঁচটা ছেড়ে রাত আটটা বাজলেও এমপি সাহেবের নিজের বাজে বারোটা। এ বেলার সমস্ত কাজ মিটিং মিছিল বাদ রেখে সে অস্থিরচিত্তে তার প্রেয়সীকে খুঁজে বেড়ায়। ঢাকার উদ্দেশ্য ফ্লাইটের টিকিট ইতিমধ্যে সে নিশ্চিত করে ফেলেছে। এখন অপেক্ষা শুধু রিমনের হতে সঠিক ঠিকানাটা জানা।
"স্যার বসুন্ধরা, ব্লক ডি, রোড নাম্বার ৩১০। ম্যামের বাবার নাম রিজওয়ান আহমেদ।"
"তুমি কোথায় আছো?"
"আমি কক্সবাজার যাওয়া পথেই ওখানকার লোক দ্বারা খবর পেয়েছি। স্যার আমার মনে হচ্ছে ম্যাম আপনাকে দেখে ভয় পেয়ে চলে গিয়েছে।"
সান্নিধ্য অফিস হতে বের হতে হতে গাড়িতে উঠে বসে। আসিফকে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে শক্ত গলায় বলে, "তোমার কি মনে হয় আমি তোমার ম্যামকে পিস্তল ঠেকিয়ে বিয়ের কথা বলেছি?"
"জ্বি না স্যার।কিন্তু এভাবে ম্যাম চলে গেলো....
"ম্যামকে আনার দায়িত্ব আমার। তুমি নিজের দায়িত্ব সামলাও। যত সব গন্ডগোল সব তোমার কারণে হয়েছে।"
"সরি স্যার বুঝতে পারিনি এরকম হয়ে যাবে।"
"ঢাকায় না পেলে তোমার খবর আছে রিমন।"
সান্নিধ্য ফোন কেটে দেয়। ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ছেড়ে দু'হাত ছড়িয়ে দেয় দুপাশে। চোখ বন্ধ করে নিজের ভিতরে অস্থিরতা দমানোর প্রয়াস করতে থাকে ।মেয়েটা এভাবে চলে গেলো কেন? সত্যি কি ভয় পেয়ে নাকি অন্যকিছু?
"প্রেম করার সময় নেই আমার অথচ এই মেয়ে নির্দ্বিধায় নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে আমাকে।"
এগারোটা সাতচল্লিশ মিনিট,
লম্বা আকাশ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় এসে পৌঁছায় এমপি সাহেব। এয়ারপোর্টের যাবতীয় কাজকর্ম শেষ করে বের হতে হতে অনায়সে বেজে যায় সাড়ে বারোটার কাছাকাছি।
"ভাই আমার মনে হয় এখন ভাবির বাসায় না যাওয়াই ভালো। বিষয়টা খারাপ দেখায়। আমরা কোথাও স্টে করে সকালে যাই?"
"মাত্র বারোটা বাজে।"
"একটা বাজবে।"
"কই থাকবো?"
"জ্বি ভাই?"
আসিফের জিজ্ঞাস্যসূচক দৃষ্টিতে সান্নিধ্য দু-হাত পাঞ্জাবির পকেটে ঢুকিয়ে নির্বিকার চিত্তে দাঁড়িয়ে থাকে। মাথাটা তার সত্যি হয়তো গেছে। ঢাকায় তার অসংখ্য নেতাকর্মী সহ অনেক আত্মীয় স্বজনের বাস। অথচ সে থাকার জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। তার কাছে মনে হচ্ছে এক শেহরিন ছাড়া ঢাকায় তার আর কোনো আপনজন নেই। শেহরিনই তার একমাত্র আশ্রয়স্থল।
" কিছু না। প্যান প্যাসিফিকে চলো।"
"ঠিক আছে।"
সান্নিধ্য সামনে দুকদম আগায়। এর মাঝে বিকট ভাইব্রেটে ফোন আসে তার। লাউডস্পিকার অন করে রিসিভ করা মাত্র শুনতে পায় এক অমোঘ বাণী।
"স্যার ম্যাম ঢাকাতেও নেই। উনি মালয়েশিয়া গিয়েছেন উনার বাবার সাথে।"
সান্নিধ্যর দৃষ্টি স্থির হতেই আসিফের আত্মা শুকিয়ে যায়। নির্নিমেষ চাহনিতে তাকিয়ে শুকনো গলায় বলে, "ভাই মালয়েশিয়ার ভিসার মেয়াদ আপনার দুই মাস আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আর আপনি মালয়েশিয়া গেলেও ভাবি হয়তো ততক্ষণে ইন্দোনেশিয়া চলে যাবে।"
ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যেরাত। ঢাকা শহরের যানজটের তীব্র শব্দ তখনও বিদ্যমান। সান্নিধ্য ফোন বন্ধ করে পকেটে রেখে গাড়ির সঙ্গে হেলান দিয়ে দাঁড়ায় । ক্লান্ত শরীর। কপালে জমা মৃদু মৃদু ঘামের কণা চিকচিক করছে। দু'হাত বুকের সঙ্গে ভাঁজ করে সে গভীর দীর্ঘ শ্বাস ফেলে।অদূরে দৃষ্টি মেলে নির্মেদ কন্ঠে বলে,
"একবার দেশে আসো শুধু। সোজা তুলে নিয়ে আসবো।"