সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা। কলিং বেল বেজে উঠে সুখ নিবাসের। আগাম প্রস্তুত হয়ে থাকা নাজনীন বেগম এবং তার বড় ছেলের বউ তিথি সবকিছু আরেক ঝলক পরোখ করে নেয় দ্রুতচোখে। অতিথি অ্যাপায়নের জন্য সবকিছু তৈরি। ছিমছাম পরিপাটি। অতঃপর দরজা খোলার জন্য এগিয়ে যান বাড়ির কর্ত্রী মহোদয়া নিজেই।
"আসসালামু আলাইকুম।"
"ওয়ালাইকুমুস সালাম। কেমন আছেন আপা? "
"ভালো। তোমরা কেমন আছো সবাই? "
"আমরাও ভালো আছি। আর খুব যেনো ভালো থাকতে পারি সেই ব্যবস্থা করতেই এলাম আজ। পাকা কথা কিন্তু না সেড়ে আজকে উঠছি না এ বাসা থেকে।"
রাজ্জাক সাহেব কথাটা হাসতে হাসতে বললেও সেটা যে সে সত্যিকার অর্থেই বুঝিয়েছেন এটা মিসেস নাজনীন বেশ বুঝতে পারেন। চোয়ালে মৃদুমন্দ হাসি ঝুলিয়ে বলেন,"আচ্ছা। আগে ভিতরে এসো তো তোমরা।"
রাজ্জাক সাহেব মিসেস নীলা এবং তাদের একমাত্র কন্যা অন্বেষাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানান বউ শাশুড়ী মিলে। সোফায় বসতে বসতে চারদিকটা নজর বুলিয়ে মিসেস নীলা জিজ্ঞেস করেন,"বাসার সবাই কোথায়? কাউকে দেখছি না কেনো?"
"তোমার দুলাভাই একটু কাজের মাঝে আছে। এসে যাবে। বউমা সরফরাজকে ডাকো।"
"জ্বি মা।"
"আন্টি সান্নিধ্য কোথায়?"
তিথি লতাকে ইশারায় কিচেন হতে ডেকে উপরে পাঠায় সবাইকে ডেকে আনতে। শাড়ির আঁচল টেনে অন্বেষার কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে বলে,
"দেখুন মা,আপনার হবু ছোটবউমা এখনই আমার দেবরটাকে চোখে হারাচ্ছে। তার চোখ দুটো খুঁজে চলেছে সান্নিধ্য কোথায়। চিন্তা করবেন না ম্যাডাম এসে যাবে এক্ষুণি সে।"
তিথির কথায় অন্বেষা লজ্জা পায় কি না বোঝা দায়। তবে মিসেস নীলা তার হয়ে প্রফুল্ল কন্ঠে জবাব দেয়,"শুধু কি চোখে হারায় আমার মেয়ে তিথি? এমন একটা দিন নেই যে সে সান্নিধ্যের কথা বলে না। তাকে তো আমাদের দু'জনের বুঝ দিতে দিতে টায়ার্ড হয়ে যেতে হয়। জানিনা এমন নির্মমতা আর কতদিন সহ্য করতে হবে।"
" নির্মমতা বলছো কেনো নীলা? আমরাও তো চাই তোমার মেয়ে আমাদের ঘরে বউ হয়ে আসুক।"
"এভাবে আর কতদিন আশা দিয়ে রাখবেন আপা? একটা বছর তো চলেই গেলো এই বলে বলে। আমার মেয়েটাকে আপনারা সবাই অপেক্ষায় চাতক পাখি করে রেখেছেন।"
তিথি শাশুড়ী মায়ের হয়ে জোরপূর্বক মুখে হাসি টেনে বলে,"মামিমা আসলে সম্পূর্ণ বিষয়টা সান্নিধ্যকে ঘিরে। আমরা সবাই ওকে সবসময় বুঝাই এই নিয়ে। কিন্তু ছেলে তার রাজনীতির জগতে এতোটাই ব্যস্ত থাকে যে এসব কথা তার অনুধাবন করার সময়টুকু হয় না।"
"তাই বলে কি এভাবেই চলবে?"
"মোটেও না।অন্বেষার সঙ্গে সান্নিধ্যের বিয়েটা হবেই।"
ড্রয়িংরুমে চলমান গল্প গুজবের মাঝে আগমন ঘটে শাহজাহান সাহেব এবং তার বড় পুত্র ও কন্যার। সবার সঙ্গে মিষ্টিমুখে কুশলাদি বিনিময় শেষে আলাপচারিতায় ব্যস্ত হয়ে উঠে একে অপরে। তিথি লতাকে সাথে নিয়ে তাদেরকে সার্ভ করে নানারকম নাস্তা।
"একটু টেস্ট করে দেখো ভালো লাগবে।"
"সরি ভাবি। আমি ডায়েটের দিকে খুবই কনসার্ন। মিষ্টি এভয়েড করি চলি।"
"আরে মেয়ে একটু খেলে কিছুই হবে না। তোমাদের এই বয়সটাই তো খাওয়া দাওয়া করার।"
"আসলেই আমি খেতে চাই না।"
"আমার মেয়ে বডিফিটনেস ঠিক রাখতে কত কি করে তিথি জানো। নিয়ম করে জিমে যায়। পার্লার তো তার প্রত্যেক সপ্তাহে কনফার্ম। এমনি কি এতো সুন্দরী বলো !! "
তিথি অন্বেষার না বার্তায় আর দ্বিরুক্তি করে না। তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে তাকাতেই চোখ পড়ে সানজির দিকে। সানজি তাকে চোখ টিপ মেরে মুখে হাত দিয়ে নিভৃতে হাসে।
"আচ্ছা সান্নিধ্য এখনো আসছে না। সাতটা বেজে গেলো।"
"সরফরাজের বাবা ওকে ফোন করুন তো একটু।"
" সরফরাজ কল করো।"
সরফরাজ বাবার নির্দেশে ফোন করে সান্নিধ্যকে। দুবার কল কেটে গিয়ে তিনবার ফোন করতেই অপর পাশ হতে ভারী পুরুষালি গলার স্বর ভেসে আসে।
"পাঁচ মিনিট।"
"ওকে।"
ঘড়ির কাঁটায় পাঁচ মিনিটের জায়গায় পাক্কা পনেরো কি বিশ মিনিট বয়ে যায়।অতঃপর সুখনিবাসে আগমন ঘটে এমপি সাহেবের। ব্যস্তপায়ে প্রবেশ করে সে ড্রয়িংরুমে। ক্লান্তমুখে ঘামের রেশ মৃদুমন্দ। পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে রেখেছে কনুই অব্দি। পেশিবহুল হাতের শিরাগুলো তাতেই ফুটে উঠেছে স্পষ্টতভাবে।
অন্বেষা লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে পলকহীন চোখে তাকিয়ে দেখতে থাকে সান্নিধ্যকে। একদম পরিপক্ব নেতা হয়ে উঠেছে দুইটা বছরের মাঝেই।আকর্ষণীয় বলিষ্ঠ দেহের পুরুষকে সে চোখে হারায় বারে বারে।
"কি অবস্থা সান্নিধ্য? এমপি হয়ে তো তোমার দেখাই পাওয়া যায় না আর।"
"সরকার কাজ না করলে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ায় না আংকেল।"
"খাটো খাটো। এমপি হয়ে জনগণের জন্য না খাটলে পরবর্তী নির্বাচনে সিট ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবে।"
"সিট ধরে রাখার জন্য আমি কাজ করি না। জনগণের যেটা প্রাপ্য আমার যেটুকু কাজ তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি।"
মুখের উপর সপাটে উত্তরে রাজ্জাক সাহেব কিছুটা নারাজ হন সান্নিধ্যের উপরে। কিন্তু চুপচাপ সেটা সে অগ্রাহ্য করে যাওয়ার চেষ্টা করেন। খেজুরে আলাপ ছেড়ে মূল কথায় যাওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেন তিনি।গলা ঝেড়ে পরিষ্কার কন্ঠে বলেন,
"আপা দুলাভাই অনেক তো কথা হলো। এবার আমরা আসল কথায় আসি।"
"হ্যাঁ শুরু করা যাক।"
"দেখতে দেখতে এসব কথাবার্তার একবছর হয়ে গেলো। নতুন করে আর যেনো সময় বাড়াতে না হয় সেজন্য আমরা একটা যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সান্নিধ্যের কর্মজগতে ব্যস্ততার কথা ভেবে আমরা একটা সময় বের করে ওদের চারহাত একসঙ্গে মিলিয়ে দিতে চাই। দরকার হলে প্রথমে ছোট পরিসরে আকদ করা হবে। পরবর্তীতে সময় হাতে নিয়ে বড় করে আয়োজন করবো। আপনারা কি বলেন দুলাভাই ?"
শাহজাহান সাহেব এক পলক ছেলের দিকে তাকিয়ে বলেন,"না আমাদের কোনো সমস্যা নেই। সান্নিধ্য তোমার কি কোনো সমস্যা বা এই নিয়ে কোনো কথা আছে?"
সান্নিধ্য পায়ের উপর পা তুলে চায়ের কাপ টেনে নেয়। আয়েশি ভঙ্গিতে চা খেতে খেতে গম্ভীর কণ্ঠে বলে, "আমার সমস্যা পুরোটাই।"
"পুরোটাই মানে?"
"পুরোটাই বলতে এই বিয়েটা নিয়েই আমার সমস্যা।"
নাজনীন বেগম ছেলের দায়সারা উত্তরে মুখোরেখা শক্ত করেন। কঠিন গলায় উপস্থিত সবার সামনে বলেন,"বিয়ে নিয়ে সমস্যার কি আছে?তোমার সুবিধা অনুযায়ীই তো করা হচ্ছে। এতো এক্সকিউজ দেখাও কেনো সবসময় হ্যাঁ? "
"এক্সকিউজ নয় যা সত্য সেটাই বলছি।"
"আমরা বুঝতে পারছি না সান্নিধ্যের কথা। বিয়ে নিয়ে সমস্যা মানে? তুমি কি অন্বেষাকে বিয়ে করতে রাজি নও সান্নিধ্য? "
সান্নিধ্য চায়ের কাপ টেবিলে রেখে শান্ত কন্ঠ এনে বলে, "না।"
উপস্থিত সবার মুখোরেখা বিবর্ণ হয়ে উঠে এক জবাবেই ।এভাবে প্রত্যাখান শব্দটা রাজ্জাক সাহেব মিসেস নীলা অন্বেষা কেউই সহজভাবে নিতে পারে না। ঘনিয়ে আসা মেঘের মতো কালো মুখ করে অবাকন্ঠে বলে,"আপা আপনার ছেলে এগুলো কি বলছে?"
"সান্নিধ্য কথা ঠিক করে বলো। এখন "না" করছো মানে? খেলা পেয়েছো? যখন যা খুশি তাই?"
" আমার " হ্যাঁ "কবে ছিলো? আমি কি কখনো বলেছি অন্বেষাকে আমি বিয়ে করবো? বরং তোমরাই তো একে অপরে জোরাজুরি করতে এই নিয়ে।"
পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ দিকে অগ্রসর হতে থাকে। সবার অভিব্যক্তি থমথমে।উপস্থিত দু'জন ব্যক্তি ছাড়া কারোই যেন সান্নিধ্যের কথা বোধগম্য হচ্ছে না।ঠিক এই রুদ্ধধার পরিবেশে হাতে চিকেন ফ্রাই নিয়ে খেতে খেতে সোফার এক কোণায় সান্নিধ্যের পাশে এসে বসে তাসিন।
" ইয়ো পানি...সানি তোমাকে বিয়ে করবে না তাই কি হয়েছে। কেঁদো না আমি তোমাকে বিয়ে করবো।"
"তাসিন.."
" মামণি আমি বিয়ে করবো।"
" বাবা এদিকে আয়।"
সরফরাজ উত্তপ্ত মুহুর্তে ছেলের তারছেঁড়া কথায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে যায়। ছেলেটা একদম চাচার মতো হয়েছে। মুখ দিয়ে যা বের হয় সবাইকে একদম বিভ্রান্ত করে তোলে।
"সাব্বাশ ব্যাটা। তাহলে তো পাত্র রেডি। আমি উঠি।"
"যাও যাও। আমিই বিয়ে করবো। তাহলে আর স্কুলে যেতে হবে না।মিস্ও আসবে না।"
"কিসের স্কুল। আমি তোকে সারাজীবন বসিয়ে খাওয়াবো। তুই শুধু এই বিয়েটা কর চাচ্চু।"
"বাবাআ..দাদুভাই আমাকে এক্ষুণি বিয়ে দাও। আমি আর স্কুলে যাবো না আর পড়াশোনা করবো না।"
তাসিনের কাঁদো কাঁদো কন্ঠের আবদার শুনে সানজি শব্দ করে হেসে উঠে সবার মাঝে। উপস্থিত সবাই তার দিকে রুষ্ট চোখে তাকালে সাথে সাথে মুখে আঙুল দিয়ে বলে,"সরি..হুট করে বের হয়ে গেছে।"
"বউমা ওকে ঘরে নিয়ে যাও।"
তিথি স্বামীর পানে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকায়। ছেলের দুষ্টুমিতে তার মান সম্মানের একদম দফারফা। অন্যদিকে বউয়ের চোখ রাঙানিতে সরফরাজ হতাশার নিঃশ্বাস ছাড়ে। ছেলেকে অনেক চেষ্টাতেও টেনে কাছে আনতে পারে না। অবশেষে উপায়ন্তর না পেয়ে সানজি গিয়ে উঠে সান্নিধ্যের পাশ হতে টানতে থাকে তাকে।
"আমি বিয়ে করবো ফু'মণি। আমি যাবো না।"
"বিড়াল প্যান্ট পরে কেউ বিয়ে করে পঁচা? চল তোকে সাজিয়ে আনি।মাথায় টোপর দিতে হবে না? চাচ্চুর মতো পাঞ্জাবি পড়তে হবে তো।"
"চাচ্চু তোমার পাঞ্জাবি খুলে দাও।"
"হুঁশ চাচ্চুর পাঞ্জাবি ভূতের ড্রেস হবে তোর গায়ে।"
সানজি টেনেটুনে উপরে নিয়ে যায় তাসিনকে। তাসিন একহাতে লেগপিস ধরে অপর হাতে সিঁড়ির হ্যান্ডেল টেনে ধরে নিজেকে আটকানোর চেষ্টা করতে থাকে প্রাণপণে। পিছু ঘুরে অসহায় চোখে তাকিয়ে বলে,
"ইয়ো সানি..পানিকে ধরে রাখো। আমি এক্ষুণি আসছি।"
"শুধু পাঞ্জাবি পড়ে আয় তাই হবে। বিড়াল প্যান্টের সাথে পাঞ্জাবি পার্ফেক্ট কম্বিনেশন বিয়ে করার জন্য।"
" সান্নিধ্য দয়া করে এসব সার্কাস বন্ধ করবে ?"
সান্নিধ্য কিঞ্চিৎ হাসি চাপায়। পকেট হতে ফোন বের করতে করতে বলে, "আমি আমার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি বুঝতে অসুবিধা নেই কারো।"
"এমন প্রত্যাখান করে দেওয়ার কারণটা কি জানতে পারি?"
"কারণটা পার্সোনাল। ভেরি পার্সোনাল। এই মুহুর্তে বলতে পারছি না।"
"তুমি কি অন্য কাউকে পছন্দ করো?"
"সেটা আপনি জেনে কি করবেন আংকেল? "
"বলতে সমস্যা কি?"
" বহুত সমস্যা।ওকে,আমার কথা শেষ? অল ক্লিয়ার। উঠি তাহলে?"
"আমাদের কথা এখনো শেষ হয়নি।"
সান্নিধ্য বসা ছেড়ে উঠে গিয়ে আবার বসে পড়ে। হাতে থাকা ঘড়ির দিকে এক পলক নজর বুলিয়ে বলে,"শেষ করো কুইক।"
মিসেস নাজনীনের দেহ স্ফুলিংঙ্গের ন্যায় জ্বলতে থাকে। শাহজাহান সাহেব স্ত্রীর অগ্নিমূর্তি দেখে ভারী গলায় বলেন,"পাগলামি করো না সান্নিধ্য। অন্বেষার কথাটা একবার ভাবো।"
"বাবা ঠিক বলেছেন। জানো মেয়েটা তোমাকে কতটা পছন্দ করে? তুমি আসতে লেট করছিলে জন্য বারবার তোমার কথা জিজ্ঞেস করছিলো।"
"এমন মেয়ে এই যুগে আর একটা পাবে না সান্নিধ্য। সময় থাকতে অবহেলা করো না বলে দিলাম। মাথা হতে ভূত নামিয়ে ফেলো। অন্বেষা ভীষণ কেয়ারিং একটা মেয়ে। সবসময় সে তোমার জন্য পাগল হয়ে থাকে। এভাবে কষ্ট দিও না।"
সান্নিধ্য এক নজর অন্বেষার দিকে তাকায়। বিমূর্ত ভঙ্গিতে যে কিনা ঠাঁই হয়ে বসে আছে সবার সামনে।
"অন্বেষা।"
সান্নিধ্যের ডাক অন্বেষার শ্রবণে পৌঁছায়। ভারী মুখখানা তুলে তাকায় এমপি সাহেবের দিকে। তিথি শাশুড়ী মায়ের হাত ধরে আশ্বস্ত চোখে তাকায়। হয়তো ছেলের মন গলেছে অবশেষে প্রশংসাসূচক বাক্য শুনে।
সবাই অধীর আগ্রহী হয়ে উঠে সান্নিধ্যের কথা শুনতে।সান্নিধ্য ফোন খানা বন্ধ করে পকেট রেখে স্থবির হয়ে বলে, "আজ থেকে তুমি আমার স্বঘোষিত ছোটোবোন। আর বোন হয়ে ভাইয়ের জন্য এই কেয়ারিংটা ধরে রাখবে সবসময় কেমন? "
সবাইকে কয়েকশো ভোল্টেজ এর শক খাইয়ে সান্নিধ্য নির্বিকারচিত্তে উঠে যায়। যেতে যেতে গুণগুণ করে ঠোঁট নেড়ে গাইতে থাকে "বকুল ফুল.. বকুল ফুল। সোনা দিয়া..হাত মাথা কেনো বান্ধাইলি... পরের লাইন আর মনে করতে পারে না সে। কিয়ৎসেকেন্ড ভাবনা শেষে নিজমনে বলে উঠে,
" আবার ভুলে গেছি! অতিদ্রুত মুখস্থ করতে হবে।"
________________________________________
বিমর্ষ রীতিতে চলতে থাকে রাতের খাওয়া দাওয়া। যে সাড়ম্বরে রান্নাবান্না অতিথি আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছিলো মিসেস নাজনীন সবকিছু যেনো পন্ড হয়ে গিয়েছে সন্ধ্যালগ্ন হতে। অবশ্য গিয়েছে বললে ভুল হবে নিজ হাতে সব নষ্ট করেছে তার ছোট পুত্র। মনের ভিতরে ছেলের প্রতি তার অসন্তুষ্টতা কাজ করে। এর কঠিন জবাবদিহিতা নিবে সে। শুধু অতিথিগণ বিদায় হয়ে নিক একবার ।
"হয়েছে আর দিতে হবে না।খাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই
তবুও বড়আপাকে তো আর অসম্মান করতে পারি না। জোর করে হলেও দানা মুখে দিতে হচ্ছে। "
"আমি সত্যি ভাবতে পারছি না সান্নিধ্য এভাবে না করে দিবে। ওর কি একটুও রিগ্রেট ফিল হচ্ছে না? আমি ভীষণ আপসেট ওর বিহেভিয়ারে।"
নাজনীন বেগম মিসেস নীলার পাতে আচারি বেগুন তুলে দিতে দিতে বলেন,"তোমরা এসব বিষয়ে ভেবো না। যা ভাবার যা করার আমি করবো।অন্বেষাকে পুত্রবধূ করলেই তো হলো তাই না?"
"কিন্তু কিভাবে আপা। সান্নিধ্য তো..
" ওকে রাজি করানোর দায়িত্বটা আমার উপর ছেড়ে দাও। এই ছেলে কাজে পাগল হয়ে গিয়ে উল্টোপাল্টা বকছে।"
অন্বেষা নাজনীন বেগমের জোরালো কন্ঠে আশ্বস্ত বাণী শুনে নিজেকে দমায়।নরম গলায় বলে,"বিলিভ মি আন্টি.. আমি সান্নিধ্যকে সত্যি ভালোবাসি। ওকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।"
"ইয়ো পানি...তোমাকে আমি বিয়ে করবো। সানি নয়।"
মাথায় একটা গোলাকার টুপি পড়নে ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবি সঙ্গে বিড়াল প্যান্ট। বর সাহেব একদম রেডি। শব্দ করে হেঁটে এসে শাহজাহান সাহেবের কাছে দাঁড়ায় সে। পোকা খাওয়া দাঁতগুলো উন্মুক্ত করে বলে,
"দাদুভাই আমাকে বিয়ে করিয়ে দাও এখনি।"
" দিবো।খাওয়াটা শেষ করি।"
"আচ্ছা মুশকিল তো। তাসিন তুমি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছো এবার। ভয় পাও না তাই না। লাঠি আনবো?
" মামণি চাচ্চু আমাকে বিয়ে করতে বলেছে।"
"আমি বুঝি না এই বান্দাকে আবার ছাড়লো কেনো। আমার হয়েছে দুঃখ।বাবা কোথায় তোমার?"
"চাচ্চু ফু'মণি আর বাবা আমাকে নিচে পাঠিয়ে দিয়ে ঘরে আটকিয়ে দিয়েছে। বলেছে যাও তাসিন কবুল বলে এসো।"
"এই চুপ। মুখ সেলাই করে দিবো একদম। এসো বলছি।"
তিথি হাতে থাকা কাচের বোলটা শব্দ করে ডাইনিং এ রাখে। বিচ্ছুটাকে ধরতে পা বাড়াতেই বিচ্ছুটা সঙ্গে সঙ্গে টেবিলের নিচে গিয়ে আত্মগোপন করে বসে।
"বের হও বলছি তাসিন। একবার যদি ধরতে পাই তোমাকে স্কুলে একদম রেখে আসবো। আর কখনো বাসায় আনবো না।"
"মামণিই তুমি এমন করছো কেনো? আমাকে একটু বিয়ে করতে দাও না।তুমি বাবা না বিয়ে করেছো। আমি কি কিছু বলেছি?"
শাহজাহান সাহেব পানি খেতে গিয়ে বিষম খেয়ে উঠেন। রাজ্জাক সাহেব খুসখুসিয়ে কেশে উঠেন। মিসেস নীলা খাবার ছেড়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলেন,
"বাচ্চাটা দেখি ভারী দুষ্টু।"
"একদম সান্নিধ্যর মতো হয়েছে।"
"তা তো নিজের চোখেই প্রমাণ পাচ্ছি।"
তিথি হাজারো ডাকে চেষ্টায় কোনোভাবেই নতুন জামাইকে বের করতে পারে না টেবিলের নিচ হতে।রাগে দুঃখে তার কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হতে থাকে। আজ একবার হাতের মুঠোয় পাক বাপ ছেলেকে একদম গরম তেলে মচমচিয়ে ভেজে ছাড়বে সে।
"এতো কঠিনভাবে পিছলে গেলি কিভাবে?"
"জানি না। তবে মেয়েটাকে দেখলেই আমার অস্থির লাগে। কেমন অস্থির সেটাও বুঝাতে পারবো না। আমার ওকে ভীষণ ভালো লেগেছে ভাই ভীষণ।আই উইল ম্যারি হার।"
সরফরাজ দু-হাত ভাজ করে থুতনির নিচে রেখে সানজির দিকে তাকায়।সানজি হাত হতে চায়ের কাপ রেখে চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে বলে,
"আস্তে এমপি সাহেব আস্তে। এখানেই দয়া করে ব্রেক কষুন। বিয়ে অব্দি না হয় একটু ধীরে সুস্থে যান।"
"কেনো?"
"কেনো আবার? তোমার বকুল ফুল অজান্তা প্রেমিকা কি তোমাকে চিনে?"
"না।"
"তুমি যে তার প্রতি মিষ্টির শিরার মতো গলে গলে পড়ছো সে জানে?"
"না।"
"তাহলে কোনমুখে বলো তাকে বিবাহ করিতে চাও?"
সান্নিধ্য সোফায় হেলান দিয়ে পায়ের উপর পা তুলে শুয়ে পড়ে। উপরপানে চেয়ে উদাস গলায় বলে,"আমার প্ল্যান করা শেষ।"
"কি প্ল্যান করেছিস তুই?"
"কালকে ডিরেক্ট বিয়ের প্রোপ্রোজাল দিবো।"
"ওহ মাই গড। একি সর্ব্বনেশে কথা কও এমপি সাহেব? "
সান্নিধ্য ভ্রু কুঁচকে তাকায় সানজির দিকে। ভারী স্বর ভেদ করে বলে,"এতে এতো অবাক হওয়ার কি আছে?"
"ওর কথা বাদ দে। তোকে যে মেয়ে চেনে না জানে না সে কেনো তোকে বিয়ে করবে? বিয়ের প্রোপ্রোজাল দিবি আর ও তোকে অ্যাকসেপ্ট করে নিবে ভাবলি কি করে?"
"আমারো একই কথা। মাথার ব্রেইন কি কার্যালয়ে ফাইলের মধ্যে রেখে এসেছিস ভাইয়া? এসব কি প্ল্যান? ছিহঃ।"
"হাতে আমার নিরানব্বইটা কাজ। প্রেম করার সময় কোথায়? আর প্রেম করতে গেলে অনেক ইফোর্ট দিতে হয়। আমার সময় থাকলে তো ইফোর্ট দিবো। এর চেয়ে ডিরেক্ট বিয়ের প্রোপ্রোজাল দিবো।"
"যদি রাজি না হয়? "
"রাজি করাবো।"
"জোর করবি?"
" আমার মতো ভালো ছেলে পাবে একটা? ওর ভালোর জন্য হলেও আমাকে একটু জোর করতে হবে।"
সানজি বড়ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ায়। নির্লিপ্তস্বরে বলে,"ঠিকই আছে এমপি সাহেবের প্ল্যান বলে কথা। তার উপরে যোগ্য পাত্র এভাবে হাতছাড়া করা যায় নাকি। শেহরিনের উচিত এক বাক্যে রাজি হয়ে যাওয়া।"
"শেহরিন সান্নিধ্য নামেও মিল।"
সানজি ঘড়ি দেখে তাদের এই রুদ্ধ মিটিং এর সমাপ্তি টানে। বসা ছেড়ে উঠে এক হাতে চায়ের কাপটা নিয়ে অপর হাত সান্নিধ্যের দিকে পেতে দেয়।
"কি?"
"পারিশ্রমিক চাই।"
সান্নিধ্য কপাল কুঁচকে তাকায়। তীক্ষ্ণ স্বরে বলে,
"কি পরিশ্রম করেছিস তুই?"
"শেহরিন নামটা যে দিন রাত মিলে জপে যাচ্ছিস কার দৌলতে?"
"মানে?"
"এমপি সাহেব মানে মানে ছাড়ুন। ক্যাশ অন পকেট ডেলিভারি করুন। নয়তো আর কোনো হেল্প সানজি থেকে পাবেন না।"
"তুই মেয়ে না ডাকাত??"
"বেশি কথা সানজি পছন্দ করে না।"
সান্নিধ্যর সরু চোখ তাকানোর দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সানজি। তার পাতানো হাতের দিকে তাকিয়ে সান্নিধ্য করুণ নিঃশ্বাস ছাড়ে।
"ভাই বাবাকে বলে এটাকে বিদায় কর তাড়াতাড়ি বাসা থেকে। আমার ব্যাংক ব্যালেন্স জিরো হয়ে যাবে তাছাড়া ।বউ নিয়ে খাবো কি? "
"ছিহঃ এমপি সাহেব এতোটাও গরিব নন আপনি।"
"ওয়ালেট থেকে জাস্ট একটা নোট নিবি।"
সানজি আশেপাশে তাকিয়ে বেডের উপরে রাখা ওয়ালেট হতে একটা হাজার টাকা বের করে নেয়। অতঃপর এসে দাঁড়ায় বড় ভাইয়ের কাছে। সরাসরি হাত পাতে তার পানে।
"আমি কি করেছি?"
" তুমিও কাজ করিয়েছো ভাইয়া।"
"মানে? আমার তো কোনো শেহরিন নেই।"
"শেহরিন না থাকলো বেবি মানকি তো আছে। তখন ড্রয়িং রুম হতে টেনে টেনে যে বের করলাম এটার পারিশ্রমিক দাও। তুমিও পারোনি ভাবিও পারেনি।"
সরফরাজ অবাক দৃষ্টিতে সান্নিধ্যের দিকে তাকায়। সান্নিধ্য চোখ বন্ধ করে হাতখানা চোখের উপর রেখে ধীর কন্ঠে বলে,"ওকে ডাস্টবিন থেকে তুলে আনাই ভুল হয়েছে।"
"সাংঘাতিক ব্যাপার স্যাপার তো।"
"ভাইয়া তাড়াতাড়ি দাও আমার সময় নষ্ট করো না।"
উপায়ন্তর পায় না সরফরাজ। সান্নিধ্যের মতো সে নিজেও গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে যায়। পকেট হতে ওয়ালেট বের করে সেও একটা হাজার টাকার নোট গছিয়ে দিয়ে বলে, "আপনার পরিশ্রম দেখে খুবই কষ্ট পেয়েছি। এই নিন টাকা দুটো ভালো মন্দ খেয়ে শক্তি বাড়ান।"
"ধন্যবাদ ধন্যবাদ। বুঝতে পেরেছেন।"
সানজি দুই ভাইয়ের হতে টাকা উসুল করে রুম হতে বের হয়ে যায়।সরফরাজ বোনের যাওয়া পানে তাকিয়ে মৃদু হাসে। আদরের বোন তাদের।পাগলামি, অত্যাচার,আবদার নির্বিচারে হজম করা তাদের দুই ভাইয়ের কাজ।
"কি ভাবছিস?"
"কিছু না।"
"বেলকনিতে আয়।"
"আছে? "
"হু।"
"যা আসছি।"
সরফরাজ উঠে স্লাইড ডোর টেনে বেলকনিতে চলে যায়। সান্নিধ্য কিয়ৎক্ষণ চুপ করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে।অতঃপর উঠে সেন্টার টেবিল হতে ফোনটা নিয়ে চলে যায় বেলকনিতে। কালো রঙের টি শার্টটা হালকা টেনে বেলকনিতে থাকা ইজি চেয়ারে বসে পড়ে।
সরফরাজ লাইটারের আলোতে সিগারেট ধরিয়ে সান্নিধ্যকে দেয়। জ্বলন্ত বেনসনে হালকা হাওয়ায় ছাই বর্ণের ধোঁয়া উড়ে যায়। দুইভাই কিছুক্ষণ স্তব্ধ রাতে নিরবতার মাঝে কাটায়।সরফরাজ আবছা আলোতে সান্নিধ্যর দিকে তাকিয়ে বলে,
"নিজের রাগ কন্ট্রোলে আনার ট্রাই কর সান্নিধ্য। এতগুলো মার্ডার কেস অলরেডি তোর ঝুলিতে উঠে গিয়েছে আর কতো?"
" আমার পায়ে যে পা লাগাবে তাকেই আমি শেষ করে দিবো। শাহমাতকে টার্গেটে রেখেছি। ওর জাস্ট হা করার অপেক্ষায়। একদম ইনকাউন্টার ।"
"কি দরকার??"
সান্নিধ্য ধোঁয়া ছেড়ে বেতের মোড়ার উপর পা তুলে বসে।শান্ত কন্ঠে বলে, "এসব আর্বজনাকে বাঁচিয়ে রাখা মানে আমার পথের কাঁটা বিছানো। আমি সাধু বা সহৃদয়বান কোনো মানুষ নয় যে মায়া দয়া দেখিয়ে ছেড়ে দিবো। ওসব সান্নিধ্য শাহজাদ খান দ্বারা হবে না। ওকে আমি শেষ করবো মানে করবোই।"
"ওসি সাহেব ফোন করেছিলো আজকে। কথাবার্তায় বুঝা গেলো তোর প্রতি বেশ অসন্তোষ্ট।"
" হারামির বাচ্চাকে বল আমার সামনে আসতে। মুরাদের থেকে লাখ টাকা পকেটে ভরে আমার ছেলেদের নামে মামলা দিয়েছে।"
" আমি বলেছি তোর থেকে দূরে থাকতে। বাট এভাবে ডিরেক্ট মার্ডারে নিজেকে জড়াস না আর সান্নিধ্য। ছয় সাতটা করেও তোর কেনো তৃষ্ণা মেটে না। বাবা যদি একবার জানে তুলকালাম বাজিয়ে দিবে।"
সান্নিধ্য স্মিত হাসে। অদূর পানে শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,"পিস্তল হাতে নিলেই শরীরে একটা তেজ আসে। নেশার মতো কাজ করে। মনে হয় শু*য়োরের বাচ্চাগুলোকে একেবারে মাটিতে মিশিয়ে দেই।"
"এই মেজাজ নিয়ে বিয়ে করবি সংসার করবি? টিকবে তো? আমি এতো নিজেকে এতো কুল রেখেই পারি না। তুই কি করবি?"
" সান্নিধ্য সব সামলে নিতে পারবে ব্রো।চিন্তা নেই। বউ থাকবে হৃদপিণ্ডে আর আমার পিছনে লাগা কুকুরেরা থাকবে পদতলে।"
"কনফার্ম?"
"এমপি পদটা আমার অনিশ্চিত কিন্তু শেহরিন নিশ্চিত।"
সরফরাজ অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে তার ছোট ভাইকে। হাতে থাকা জ্বলন্ত সিগারেটটা তার আপনাআপনি নিঃশেষ হয়ে যেতে থাকে। খুন খারাবি মারামারির হাতে কি না শেষমেশ গোলাপ ফুল উঠেছে ? কে সেই রমণী?কে এই অবাধ্য পুরুষকে একদম ঘায়েল করে দিয়েছে?সে কি জানে এই পুরুষ কোন ধরনের তারকাঁটা। সামলে নিতে পারবে কি? নাকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘটবে?
সান্নিধ্য বসা ছেড়ে উঠে হাত ঝেড়ে নেয়। বেলকনিতে ছোট লাগোয়া বেসিনে মুখ ওয়াশ করে হালকা পানিতে চুল ভেজায়। গোলাকার আয়নায় নিজের চেহারার দিকে তাকিয়ে বলে,
"মনে হচ্ছে প্রেমিক পুরুষ হয়ে যাচ্ছি দিনদিন।"
"তোর প্রেমে পড়ার কথা শুনলে কে বেশি অবাক হয়ে বলতে পারবি?"
"আম্মা?"
"না। "
"ভাবি?"
"না।"
"বাবা?"
"উহু।"
"হুঁশ ব্যাটা কে তাহলে?"
সরফরাজ উঠে দাঁড়ায়।হাতে থাকা সিগারেটের শেষ অংশটুকু গ্রিলের ফাঁকে ফেলে দিয়ে সান্নিধ্যের পিঠ চাপড়ে বলে,
"তোর দুশমনেরা।যেগুলো এখনো পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছে। বিশেষ করে মিজানুল বকশী।"
সান্নিধ্য ভ্রু বাঁকায়।সহজ গলায় বলে,
"ওরা শীর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে বিয়ে করে বাচ্চা উৎপাদন করতে সক্ষম হলে আমি এমপি হয়ে কেনো পারবো না? শা'লা ওরা রোমান্টিক হয় কিভাবে? আমি ভালো মানুষ হয়ে এক্ষেত্রে পিছিয়ে? মানা যায়? "
"জোকস অব দ্যা নাইট সান্নিধ্য শাহজাদ খান ভালো !!"
"অবশ্যই তবে সেটা শুধু মাত্র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্টে।"