সুখনিবাসে বিকেলে জমেছে জমজমাট আড্ডা। ড্রয়িংরুম জুড়ে গল্পের আসরে মুখোরিত মিসেস নাজনীন, বড় পুত্র বধূ তিথি এবং অন্বেষা। একদিন আগে ছেলে এবং ছেলের বউয়ের প্রস্থান খুব একটা মনে হয়তো দাগ কাটেনি মিসেস নাজনীনের। চেহারায় মলিনতার ছাপ নেই কোনো। হয়তো তাদের সিদ্ধান্তে তিনিও খুশি হয়েছেন। মনে মনে শেহরিনের প্রতি অনেক বিদ্বেষ জন্মেছিলো তার। চোখের সামনে থাকলে সেই বিদ্বেষ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতো। তার চেয়ে আপদ বিদায় হয়েছে এতেই সে সন্তুষ্ট।
"সান্নিধ্য বাসায় নেই বাসাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। আমি সত্যি বুঝি না পাগলও যেখানে নিজের ভালো বোঝে সেখানে সান্নিধ্য কেনো বুঝলো না? যে মেয়ের সংসার সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই, রান্না বান্না কিচ্ছু জানে না সেই মেয়ের সঙ্গে সুড় সুড় করে বের হয়ে গেলো বাড়ি ছেড়ে? না খেয়ে তো মরতে হবে এখন।"
"অন্বেষা কি যে বলো না তুমি। এমপি মানুষ সে। টাকার কি অভাব আছে নাকি। শেহরিনকে রান্নাঘরে ঢুকতে দিলে তো? জীবন চলবে কেনা খাবারের উপরে।"
তিথি ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে শাশুড়ী মায়ের দিকে আঁড়চোখে তাকিয়ে কথা বলে। আগুনের উপর অল্প একটুখানি ঘি ঢালতে তার প্রচেষ্টা।
"ভাবি এটা কোনো কথা হলো? সবসময় বাইরের খাবার খাওয়া কি ঠিক। আর তার উপরে সান্নিধ্য এতো কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সারাদিন শেষে বাসায় এসে একটু ভালোভাবে না খেতে পারলে কি হলো?"
"কি যেনো বাপু। এসব বুঝি না। মানুষ ভালোবাসায় পড়লে হয়তো অন্ধ হয়ে যায়। ভালো কি মন্দ কি কিছুই নজরে আসে না। বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে। সত্যি কথা বলতে সান্নিধ্যের জন্য আমার ভীষণ খারাপ লাগছে। ওকে তো আমি চিনি এরকম সেকরম খাবার খেতেই পারে না। সপ্তাহে একদিন ওর পোলাও রোস্ট রাখতেই হয় মেন্যুতে। এখন এসব সে পাবে কোথায়? ও না খেলে আমাদের গলা দিয়ে খাবার নামবে বলো?"
চলমান কথা বার্তায় মিসেস নাজনীনের মুখে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। ছেলেটার জন্য তার মন হু হু করে উঠে। ঠিকই তো বলেছে তিথি। সান্নিধ্য তো এরকম সেরকম খাবার খেতে পারে না। ছেলেটার তো হয়ে যাবে কষ্ট। ওই মেয়ের তো কিছু আসবে যাবে না।
"ফুপি তুমি সান্নিধ্যকে একটু বোঝাও। তুমি তো তোমার ছেলের কষ্টটা বুঝবে?"
"কোনো লাভ নেই আম্মাকে বলে। সান্নিধ্য বউপাগল। সে বউ ছাড়া কিছু করবে না। আম্মা আপনি বলুন কিছু কি হবে?"
মিসেস নাজনীন অন্বেষার দিকে দৃষ্টি ভেড়ান। থমথমে গলায় বলেন," আমি কি বলবো? আমার কথার কোনো দাম নেই। এই মেয়েটা অত্যাধিক ছলচাতুরী। ছেলেটাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারবে।"
অন্বেষার ভিতরে শেহরিনের দেওয়া থাপ্পড়ের অনল জেগে ওঠে। এই থাপ্পড়ের হিসেব সে প্রতি পদে পদে তুলবে। উসুল করে ছাড়বে অন্বেষার গায়ে হাত দেওয়ার পরিণাম কি হতে পারে।
ভিতরে জমা একরাশ ক্রোধকে উগড়ে দিতে বলে," শেহরিন ধড়িবাজ মেয়ে সেটা আমি আগে থেকেই জানতাম ফুপি। ওর মামির বোন মণিকা আন্টি আমার পরিচিত। সে আমাকে বলেছেন এই মেয়েটা মোটেও সুবিধার না। ইনোসেন্ট ফেস দিয়ে মানুষকে বশ করে।"
" কি বলছো তুমি অন্বেষা? আগে বলোনি কেনো আমাদের? দেখেছেন আম্মা আমি আপনাকে বলেছিলাম না এই মেয়ে সুবিধার না। এই মেয়ের ফ্যামিলির মানুষও জানে সে কেমন।"
মিসেস নাজনীন দীর্ঘ শ্বাস ফেলেন। বিরসমুখে বলেন,"আমার ছেলেটা বুঝতে পারছে না এখন। বউয়ের মোহে পড়ে দিন দুনিয়া ভুলতে বসেছে। তবে এক সময় ঠিক বুঝতে পারবে কি ভুল করেছিলো। অপয়া অলক্ষী মেয়ে একটা। আসতে না আসতেই আমার সংসারটা ভাগ করে ফেলেছে।"
"শুধু কি ভাগ ফুপি? সান্নিধ্যকেও তোমার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।"
" কাছে আনার কি কোনো উপায় নেই?"
তিথির প্রশ্নে মিসেস নাজনীন অবাক চোখে তাকালেও অন্বেষা ক্রুর হাসি হেসে বলে, "এই মেয়েকে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে৷ ওর এই ইনোসেন্ট ফেসটাকে টেনে খুলতে হবে। মুখোশ পড়ে থাকে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে ধরাশয়ী। সান্নিধ্যকে ওর কাছ থেকে সরিয়ে আনতে হবে ফুপি। নয়তো আপনার ছেলেকে আপনার সারাজীবনের জন্য হারাতে হবে। আপনি কি তাই চান?"
"কি বলছো তুমি? "
তিথি টি টেবিল হতে কফি মগটা হাতে তুলে নেয় আয়েশী ভঙ্গিতে। পায়ের উপর পা তুলে গুছিয়ে বসে বলে," কথাটা খারাপ শুনতে হলেও সত্য আম্মা। আমি বললে হয়তো বলবেন হিংসে করি জন্য বলছি। আসলে কিন্তু তা নয়। একটু চোখ কান খুলে বিষয়টা নিয়ে ভাবুন। উত্তর পেয়ে যাবেন।"
"তিথি ভাবি ঠিক বলেছে ফুপি। সময় থাকতে সর্তক হওয়া উচিত। সান্নিধ্যের থেকে শেহরিনকে তুমি নিজ হতে না সরালে সরবে না কোনোভাবেই। এই ছেলে মা বাবা সব ভুলতে বসবে ওর মায়াজালে পড়ে।"
মিসেস নাজনীনের মনে আশংকা জেগে ওঠে। সত্যি তো শেহরিনের মায়াজালে সান্নিধ্য বাসা ছেড়েছে। তাদের যে ছাড়বে না এমনটা হতে পারে না। কিন্তু সে তো ছেলেকে এভাবে হারিয়ে যেতে দিবে না।
"আমার ছেলেকে আমি কোনোভাবেই দূরে সরে যেতে দিবো না। ভেবেছে কি এই মেয়ে যা খুশি তাই? আমার ভাইটাকে মিথ্যে বদনাম দিয়ে মৃত্যু শয্যায় পাঠিয়ে দিয়েছে, সংসার ভাগ করেছে, ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে। নিজেকে খুব চালাক মনে করে তাই না?"
"কিছু একটা করতে হবে ফুপি। এই মেয়েকে এমন একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে যেনো ও চট্টগ্রাম ছেড়ে সান্নিধ্যকে ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। কোনোভাবেই ওকে সুযোগ দেওয়া যাবে না।"
"কি করতে চাও?"
"একটু ভাবতে দাও ভাবি।"
শেহরিনকে নিয়ে আঁটঘাট বাঁধার মাঝে সানজি সিঁড়ি হতে নিচে নামে। পঞ্চগড় হতে কালকে রাতে চট্টগ্রামে এসেছে সে। বাসায় আসতেই বিস্তর পরিবর্তনে ক্ষত মনটা আরো ক্ষত হয়ে উঠেছে তার। উষ্কখুষ্ক মনে নেই কোনো উচ্ছ্বাস। চোখের নিচে কালি দাগটা স্পষ্টত জানান দেয় তার ভিতরের কষ্টগুলো। এই কষ্টগুলো নিতান্তই তার একার। জাগতিক নিয়মের ভীড়ে চেপে রেখেছে নিরবে।
"সানজি কিছু লাগবে?"
"লতা কোথায়?"
"লতা তো গার্ডেনে মনে হচ্ছে। কিছু লাগবে? আমাকে বলো?"
সানজি এক পলক অন্বেষার দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। ভারী মুখে তিথির তার প্রতি ব্যস্ততা দেখে বলে," প্রয়োজন নেই আমি নিজেই করে নিতে পারবো।"
"কি করবে তুমি?"
"কফি।"
মিসেস নাজনীন সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। মেয়ের দিকে এগিয়ে মৃদু হেসে বলে,"তোমার করতে হবে না। আমি করে উপরে পাঠিয়ে দিচ্ছি।"
"আম্মা আমি নিজই পারবো।"
"পারবে জানি। আমার মেয়ে তো তুমি। না পেরে যাবে কোথায়।"
"ঠিক বলেছো ফুপি। সবাই কি আর শেহরিন নাকি! "
অন্বেষা মুখে হাত দিয়ে ব্যঙ্গত্মক হাসে। তবে হাসে না তিথি। নিজেকে সানজির সামনে রাখে সংযত। কেননা সে জানে সানজি সরফরাজ সান্নিধ্য তিনজনেই একই ধাঁচের। একজনকে স্পর্শ করলে অন্যজন অনুভব করে।
"আম্মা তোমরা যে কাজ করছিলে সেটাই বরং করো। আমি আমার কাজটা করে নিতে পারবো।"
সানজি চুপচাপ কিচেনে চলে যায়। মিসেস নাজনীন মেয়ের যাওয়া পানে তাকিয়ে হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে বসে পড়ে সোফায়।
"আমার মেয়েটা একদম ভিতর হতে ভেঙে গিয়েছে তিথি। কি করি বলো তো।"
তিথি শাশুড়ী মায়ের কথাতে মোক্ষম সুযোগ লুফে নেয়। সানজিকে নিয়ে তার এমনিতে ভীষণ ভয়। এই মেয়ে হচ্ছে এই বাড়ির অঘোষিত মাথা। সবাই একদম নম নম করে চলে। যেটা তার কাছে ভীষণ অসহ্য লাগে। কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারে না কিছু। বললেই সরফরাজ তাকে একদম সোজা কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিবে। তবে মনে মনে ভীষণ চায় এই মেয়েটাকে বিদায় করতে এই বাড়ি থেকে।
নিজের ভিতরে প্রস্ফুটিত ইচ্ছেটাকে প্রাধান্য দিতে তিথি কৌশলী হয়। সরল গলায় বলে,"আম্মা আমার মনে হয় সানজির জীবনটাকে নতুনভাবে গুছিয়ে দেওয়া উচিত । কিছুটা সময় যাক। আমরা ওর জন্য এবার চোখ কান খুলে ভালো পাত্র বাছাই করবো। নতুন জীবনে পা দিলে এসব ভুলে যাবে।"
"ঠিক বলেছ বউমা। আমিও এরকমটাই ভেবেছি। তোমার বাবাকে জানাতে হবে। এভাবে বসে থেকে মেয়েটার আমি জীবন নষ্ট হতে দিবো না।"
"যত দেরি করবেন সানজি তত ডিপ্রেশনে পড়ে যাবে। ও ভিতরে ইচ্ছেটা নষ্ট হয়ে যাবে।"
অন্বেষা কফির শেষ চুমুকটা টেনে উঠে পড়ে। মুখে স্মিত হাসি টেনে বলে," আমি একটু সানজির সাথে কথা বলে আসছি।"
"ওকে একটু বোঝাও।"
"চিন্তা করবে না ফুপি আমি দেখছি।"
সানজির বানানো কফি প্রায় হয়ে এসেছে। নিজস্ব কাপটাতে এখন ঢালা বাকি। এই সময় পিছন হতে ভেসে আসে কারো চিকন গলার স্বর। একপলক পিছু ফিরে তাকাতেই দেখতে পায়
অন্বেষা এসেছে। কপাল তার কিঞ্চিৎ বেঁকে আসলেও নিজেকে রাখে স্বাভাবিক ।
অন্বেষা কিচেন কেবিনেটের সঙ্গে হেলে দাঁড়ায়। দু-হাত বুকের সাথে ভাঁজ করে বলে,"দেখো যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে মন খারাপ করো না। মুভ অন করার চেষ্টা করো সানজি। এসব ধরে রেখে কি লাভ বলো। তার চেয়ে এমন কাউকে খুঁজে নাও জীবনে যে তোমাকে ভালো রাখবে।"
"তুমি দেখি ভালো মোটিভেটর হয়ে গিয়েছো।"
সানজির ঠেস দেওয়া কথায় অন্বেষা বাঁকা হাসে। মাথা নাড়িয়ে সায় জানিয়ে বলে,"মন্দ বলোনি। আফটার অল আমিও তো তোমার মতো কষ্ট পেয়েছি। তাই তোমার কষ্টটা বুঝতে পারছি।তবে ন্যাচারাল রিভেঞ্জ বলতেও যে কিছু আছে সেটা কিন্তু প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। সান্নিধ্য আমাকে যেমনভাবে ঠকিয়েছে, সান্নিধ্যের বোন হয়ে তুমিও সেভাবে ঠকে গেলে।"
কফি মগে নাড়তে থাকা চামচটা থেমে যায় সানজির। মুখ ঘুরিয়ে অন্বেষার পানে তাকিয়ে বলে, "কি বললে তুমি? ন্যাচারাল রিভেঞ্জ? ন্যাচারাল রিভেঞ্জ মানে বুঝো তুমি? নাকি আন্দাজেই বলছো? সিরিয়াসলি?"
"এতো অবাক হচ্ছো কেনো? না বোঝার কি আছে?"
"না সত্যি আমি বুঝতে পারছি না। আমার ভাইয়ের তোমার সাথে রিলেশন ছিলো কবে? তোমাকে ঠকিয়েছেই বা কবে? যেসব কথাবার্তা হয়েছে সব তো পারিবারিকভাবে হয়েছে। যেখানে ভাইয়ার সম্পূর্ণ অমত ছিলো। তোমরা নিজেরা জোর করেছো।"
অন্বেষা তাচ্ছিল্য মাখা হাসি হাসে। সোজা হয়ে সানজির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে," তোমার শ্রদ্ধেয় মাতা মানে আমার ফুপি কিন্তু নিজে চাইতো। সে কিন্তু আমাকে পুত্রবধূ করতে কম তোষামোদ করেনি৷ আমাকে সঙ্গ দিয়েছে। এসব কিছুই হতো না। সান্নিধ্য ঠিকই আমার মাঝে মজে যেতো। বাট মাঝখান থেকে একটা থার্ড ক্লাস মেয়ে এসে সব উল্টো পাল্টা করে দিয়েছে। আমার থেকে সান্নিধ্যকে কেড়ে নিয়েছে।"
সানজির কপাল ক্রমেই বেঁকে আসে। মুখোরেখা হয়ে উঠে শক্ত। তেজালো স্বর টেনে বলে,"এক্সকিউজ মি তুমি থার্ড ক্লাস কাকে বললে? শেহরিন থার্ড ক্লাস? "
"নিঃসন্দেহে।"
"চুপপ। নিজে থার্ড ক্লাস হয়ে অন্যকে থার্ড ক্লাস বলতে লজ্জা করে না বেয়াদব মেয়ে।"
"সানজি.. মুখ সামলে কথা বলো। তোমার সাহস হয় কি করে আমাকে থার্ড ক্লাস বলার।"
অন্বেষার ক্রুব্ধ দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সানজি। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জোরালো গলায় বলে, "একদম কথা বলবি না। অনেক বলে ফেলেছিস তুই। মিথ্যে দরদ দেখাতে এসেছিস? তোর এসব নাটক আমার খুব ভালো করে জানা আছে।"
অন্বেষা বাঁকানো ভ্রু সোজা হয়ে যায়। ঠোঁটের কোণে ফিরে আসে তার ব্যঙ্গত্মক হাসি।
"এবার বুঝেছি যা হয়েছে একদম ঠিক হয়েছে। তোমার মতো মেয়ের এমনই হওয়া উচিত। যে ছেলে চলে গিয়েছে তাকে ধন্যবাদ দিতে হবে। খুব ভালো হয়েছে।"
"তো? তার জন্য কি আমি মরে গিয়েছি? তোর মতো কুঁটকাচালি করতে গিয়েছি? নিজের মেন্টালিটির সাথে আমাকে মেলাতে আসিস? ছিঃ!"
"এই মেয়ে ভদ্রভাবে কথা বল। খুব দেমাগ দেখাস তাই না? ভাইয়েরা মাথায় তুলে নাচায় জন্য খুব সাহস তোর। একদম উপড়ে ফেলবো বলে দিলাম। আমাকে চিনিস না তুই।"
সানজি মুখ ঘুরিয়ে লম্বা শ্বাস টেনে নেয়। বিদ্রুপ হেসে বলে,"আমি শেহরিন না আমি সানজি। আমার জন্ম বেড়ে ওঠাই মারামারি হানাহানির মধ্যে হয়েছে। রাজনীতির ঘরের মেয়ে আমি। এসব আজাইরা কথা আমাকে শোনাতে আসবি না। উপড়ে তো আমার তোকে ফেলা উচিত। তোদের মতো কিটের জন্য শেহরিনকে এই বাসা ছাড়তে হয়েছে। নিজ সংসার ছাড়তে হয়েছে।"
"ওহহহ আচ্ছা তাই বুঝি? তা তোর খুব কষ্ট হচ্ছে? একমনে কত কষ্ট পাবি আর। বিয়ে ভাঙার বেশি ব্যথা দিচ্ছে নাকি শেহরিন চলে যাওয়াতে? কেনো জানি আমার তোর দুটো কষ্টতেই খুব আনন্দ লাগছে। ভীষণ মজা পাচ্ছি।"
"তোর মজাতে আমি থু ফালাই। তোকে আমার অনেক আগে থেকে চেনা আছে। ভেবেছিলি কি আত্মীয়ের কোঠায় এই বাসাতে নিজের আস্তানা গেঁড়ে বসবি? এতো তো সহজ না। সান্নিধ্য কি চাইবে আমি নিজেই তো চাইনি তুই আমার ভাইয়ের বউ হ। এজন্য তো শেহরিনকে আমার ভাইয়ের জীবনে আনতে এতো ইফোর্ট দিয়েছি।"
অন্বেষার চোখ জ্বলে উঠে সানজির মুখ ফুটে বলা কঠিন কথায়।গলা বাড়িয়ে বলে," তার মানে এসবকিছুর পিছনে তোর হাত ছিলো?"
"কেনো জানি তোর ভিতরে এখন যে আগুন জ্বলছে এতে আমি ভীষণ মজা পাচ্ছি।"
"তোকে তো.."
অন্বেষা বিক্ষুব্ধ রেশে সানজির গায়ে হাত তোলার আগেই হাত পাকড়ে ধরে সানজি। হাত ঘুরিয়ে উল্টোদিকে পেঁচিয়ে মুচড়ে ধরে সে।
"খবরদার এই ভুল করতে আসবি না। তাহলে বেঁচে ফিরে যেতে পারবি না। একদম জানে মেরে ফেলবো।"
" ছা..ছাঁড় বলছি।"
সানজি ছাড়ার বদলে দ্বিগুণ জোরে হাত মুচড়ে ধরে। চোখ মুখ তার রাগে লাল হয়েছে এসেছে। কপালে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে,"তোকে যদি আমি নেক্সট টাইম আমার বাসায় দেখি তো ঠ্যাং ভেঙে হাত ধরিয়ে দিবো। জন্মের মতো সুখনিবাস ভুলিয়ে দিবো। সান্নিধ্যের পিছনে লাগতে যাস না সাবধান করে দিচ্ছি। ও যদি তোকে একবার টার্গেট করে তো সোজা কবরে চলে যাবি।"
সানজি ধাক্কা দিয়ে অন্বেষাকে ফ্লোরে ফেলে দেয়। দু কদম এগিয়ে এসে সামনে দাঁড়িয়ে ক্রোধান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফের বলে, "সোজা বের হয়ে যাবি নয়তো তোর চুলের মুঠি ধরে আমি বের করে দিবো। উঠ।"
অন্বেষার জ্বলন্ত চোখে আগুন ঠিকরে বের হচ্ছে। শরীর কাঁপছে অসম ধারায়। হাত তার লাল টকটকে হয়ে গিয়েছে। আর একটু হলে হয়তো রক্ত বের হয়ে যেতো। ফুঁসতে ফুঁসতে সে লম্বা শ্বাস টেনে নেয়। চোখে মুখে লেপ্টে থাকা সামনের চুলগুলো সরিয়ে বলে," শেহরিনকে তো আমি নিশ্চিহ্ন করবোই সাথে তোকেও করবো। অন্বেষার জাত চেনাবো তোদেরকে।"
সানজি হাঁটু ভেঙে বসে। ধুম করে চুলের মুঠি টেনে ধরে অন্বেষার। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,"তোর মতো একশো অন্বেষার জন্য এক সানজিই যথেষ্ট। চরিত্রহীন তোর চাচা, চরিত্রহীন তুই। এই মুখ নিয়ে কথা বলতে লজ্জা করে না?"
"আল্লাহ এসব কি হচ্ছে? সানজি...অন্বেষা??কি করছো? আম্মা.."
তিথির চিৎকারে মিসেস নাজনীন ড্রয়িংরুম হতে দ্রুতপায়ে এগিয়ে আসেন কিচেনে। ফ্লোরে বসা অন্বেষার চুলের মুঠো ধরে থাকা সানজির পানে বিস্ফোরিত নেত্রে তাকান। অস্ফুটস্বরে স্বরে চিৎকার দিয়ে বলেন," কি করছো.. "
মিসেস নাজনীন তিথি দুজনে মিলে সানজির হাত হতে অন্বেষার চুল ছাড়াতে চেষ্টা করেন। অন্বেষা দু'হাতে নিজেও তাকে দমাতে চেষ্টা করে।
"সানজি ছাড়ো বলছি..ছাড়ো..এসব কি করছো?"
"সানজি প্লিজ এরকম করো না। সানজি.. কথা শোনো বলছি।"
ক্রমাগত তোড়জোড়ে সানজি অন্বেষার চুল ছেড়ে দেয়। উঠে দাঁড়াতেই তিথি আশ্চর্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে," সানজি তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছো? এরকম কেউ করে?"
" যে যেরকম তার সাথে সেরকম করা উচিত। ওর হয়ে আমার কাছে সাফাই গাইতে আসবে না বললাম। সব চোরের এক মাথা।"
"মানে?"
সানজি তিথির প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিকে উপেক্ষা করে। জবাব না দিয়েই মিসেস নাজনীনের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে,"তোমার ভাইয়ের মেয়েকে যদি আমার বাসার ত্রিসীমানায় দেখি আম্মা সেইদিন সানজি তোমার কাছে হবে সবচেয়ে খারাপ মেয়ে। বিষয়টা মাথায় রেখো।"
সানজি জোরালো পায়ে প্রস্থান নেয়। আর তার যাওয়ার পানে তিনজোড়া চোখ অবাক দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে থাকে। ঠাহর করতে পারে না এটা সানজি কি না! এই মেয়ের রাগ তো সান্নিধ্যেকে হার মানাবে।
______________________________________
এভারকেয়ার হসপিটাল, সন্ধ্যা সাতটা।
একদিন পেরিয়ে আজ হসপিটালে এসেছে শেহরিন। গাইনোকোলজিস্ট ডা: ফারজানা হাসিন এর অ্যাপায়নমেন্ট নিয়েছে সে। সঙ্গে সান্নিধ্য না এলেও এসেছে আসিফ। সান্নিধ্য আসা পথে রয়েছে। হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।
"আপু আসুন ভিতরে।"
"সিরিয়াল?"
আসিফ মৃদু হেসে বলে,"আপনার ক্ষেত্রে সিরিয়াল লাগবে না।"
শেহরিন হাতের মুঠোয় ওড়না চেপে ধরে। বুকের ভিতরে তার ঝড় বইছে। অদ্ভুত দোলাচলে দুলছে সে। যদিও মেডিকেল অ্যাবরশনে সেরকম কোনো ভয় নেই তবুও তার অস্বস্তি হচ্ছে। গলা শুকিয়ে আসছে বারে বারে। গাইনি বিভাগের ওয়েটিং প্লেস হতে ভেসে আসা জীবাণুনাশকের গন্ধে মনে হচ্ছে পেট উগড়ে বমি আসবে। এসির ঠান্ডা শীতল আবহও যেনো তার ঘাম রোধ করতে পারছে না।
আসিফের দিকে শেহরিনের নাজুক অবস্থা দেখে মুখ খোলার আগেই পিছনে হতে ভেসে আসে নীল রঙের ড্রেসকোড পরিহিত এক নার্সের। মৃদু হাসি মুখে রেখে বলে,"ম্যাম আসুন প্লিজ।"
" আ..আসছি।"
শেহরিন চোখ বন্ধ করে নিঃশ্বাস ছাড়ে। এমপির ওয়াইফ হিসেবে বাড়তি পাওনা এতো এতো পেশেন্ট উপেক্ষা করে তাকে আগে ডাকা। হয়তো সান্নিধ্য বলে দিয়েছে কিংবা হসপিটাল অথোরিটি সান্নিধ্যের লোকেদের পরিচিত। কিন্তু এসব কিছু তার চোখে লাগে না। ভিতরটা কেমন গুমরে গুমরে উঠছে তার। কেনো এমন হচ্ছে সে নিজেও জানে না।
"আপু আপনার কি কোনো সমস্যা হচ্ছে?"
"উনার আসতে কি দেরি হবে?"
"একটু দেরি হবে। ভাই চট্টগ্রামের বাহিরে গিয়েছিলেন সেখান থেকেই ফিরছেন। তবে ১৫ মিনিটের মধ্যে এসে যাবে শিউর। আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে বলেছে।"
"ওহহ আচ্ছা।"
কালকে রাতে ডা: ফারজানা হাসিনের সঙ্গে কথা হয়েছে শেহরিনের। প্রেগনেন্সি কিটে পজিটিভ এসেছে। ম্যাম সবকিছু শুনে তাকে মেডিকেল অ্যাবরশনটাই সাজেস্ট করেছে। দুই মাস যেহেতু মেডিকেল অ্যাবরশনেই হয়ে যাবে। আজকে সরাসরি সাক্ষাৎ এ হয়তো সেটা চূড়ান্ত করা হবে।
" ভাইয়া উনি আসুক তারপরে যাই?"
"কিন্তু ভাই তো বলেছেন চেম্বারে যেতে।"
"সমস্যা নেই।"
আসিফ কিছু একটা ভেবে ঘড়ি দেখে। অতঃপর নার্সকে বলে পনেরো মিনিট পর কল করার জন্য। নার্সটি মাথা নাড়িয়ে চলে যেতেই শেহরিন নরম গলায় বলে,"একটু ওদিকটা হেঁটে আসি। আমার সাফোকেশন হচ্ছে খুব।"
"আচ্ছা ঠিক আছে আপু।"
শেহরিন পা বাড়াতেই আসিফও তার পিছে হাঁটা ধরে। শেহরিন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে বলে, "আপনার আসতে হবে না। আপনি এখানে বসুন প্লিজ।"
"আমার দায়িত্ব আপু। না করবেন না । আপনাকে একা ছাড়লে ভাই মেরে ফেলবে আমাকে।"
আসিফের মৃদু ভয়ার্ত স্বরে বলা কথায় শেহরিন ছোট করে নিঃশ্বাস ছেড়ে চুপচাপ করিডোর ধরে হাঁটতে থাকে্। দু-দিনই শরীরটা একদম ভেঙে পড়েছে তার। সেই সাথে ওভারথিংকিং হচ্ছে প্রচুর। সবকিছু এলোমেলো লাগছে। আজকে ভার্সিটিও মিস গিয়েছে। সারারাত নিদ্রাহীন থেকে সকালে পারেনি উঠতে। পুরনো অসুখ আবার ভিতরে দানা বাঁধছে কি না কে জানে।
রেডিওলজি বিভাগের সামনে বেশ কিছু মানুষের জটলা বেঁধেছে। লোকজনের ভীড়ের মধ্যে হতে ভেসে আসছে একজন মেয়ে মানুষের জোরালো গলায় কান্না। শেহরিন হাঁটা পথে থমকে দাঁড়ায়। পিছু ঘুরে আসিফের দিকে তাকিয়ে বলে, "কি হয়েছে ওখানে?"
"মনে হচ্ছে কোনো সমস্যা।"
হসপিটাল মানুষের বেদনার জায়গা। এইখানে চোখের জল কিংবা বিষন্ন মনটাই সবাই সর্বক্ষণিক সঙ্গী। কান্নাটাও হয়তো স্বাভাবিক। শেহরিনের ভিতরে খারাপ লাগে মেয়ে মানুষটার কান্নার শব্দ শুনে। মেয়েটার মুখ সে দেখতে চেষ্টা করলেও পারে না। অন্য একজন মেয়ে এবং পুরুষ তাকে সামলানোর চেষ্টা করছে ক্রমাগত।
"আপু ভাই এসে গিয়েছেন প্রায়। চলুন তাহলে যাওয়া যাক।"
শেহরিন মাথা নাড়ায়। উৎসুক ভীড়ের দিকে এক পলক তাকিয়ে বিরবির করে বলে উঠে,
"মানুষের কান্নার শব্দের মতো ভয়ানক শব্দ আর হয়তো কিছু নেই। পাথরও যেনো গলে যায় এই একটা শব্দে।"
চোখ সরে আসে তার। পা বাড়ায় পিছু ফেরার। একটা মুহুর্ত! হুট করে ঘড়ির কাঁটা থেমে যায়। মস্তিষ্ক বিগলিত হয়ে উঠে। শীর দাঁড়া বেয়ে শীতল স্রোত নেমে যায়। শেহরিনের আত্মা কেঁপে অসাড় হয়ে আসে দেহ। চোখদুটো বড় বড় করে সে পদযাত্রা থামিয়ে ফেলে। এক ঝটকায় সে পিছু ঘুরে তাকায়। অস্ফুটস্বরে আর্তনাদ করে উঠে বলে,"জাফরিন?"
লম্বা বছর পার করে সেই পুরনো মুখের আচানক দেখা। সেই পরিচিত মুখটাকে এক পলক নিজের চক্ষু কোটরে বন্দি হতেই শেহরিন থমকে যায়। অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে কান্নারত সেই মেয়েকে নিজের হারিয়ে যাওয়া বান্ধবী বলে বিবেচনা করে্ সে। সত্যি জাফরিন। এটা জাফরিন। তার কিন্ডারগার্টেনের সেই সঙ্গী। তার কলেজের সেই স্বার্থপর বান্ধবী।
পিছনে হতে ক্রমাগত আসিফের ডাক শেহরিনের স্থির কায়াকে নড়াতে পারে না। বরং শুকিয়ে যাওয়া গলায় সে বহুকষ্টে উচ্চারণ করে, "ভাইয়া একটু দেখুন ওখানে কি হয়েছে। প্লিজ একটু দেখুন প্লিজ....
শেহরিনের ক্রমাগত আহাজারিতে আসিফ উপায়ন্তর না পেয়ে পা বাড়ায় সেদিকে। উৎসুক জনতার ভীড় ঠেলে এগিয়ে যায় সেদিকে।
শেহরিন নিজের জায়গা পরিবর্তন করে এক সাইডে এসে দাঁড়ায়। আজ কত বছর পর জাফরিনকে এতো কাছ থেকে দেখছে সে। আজ কতবছর হয়ে গেলো যোগাযোগ নেই তাদের। ইশশ মেয়েটা কতো শুকিয়ে গিয়েছে। আগের জাফরিনের সঙ্গে এই জাফরিনের মিল খুঁজে পায় না সে। কি হয়েছে ওর? কেনো এভাবে কাঁদছে? ও কি কষ্ট পেয়েছে?
আসিফ আসতে দেরি করায় পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এক আন্টিকে শেহরিন জিজ্ঞেস করে ওখানে কি হয়েছে। মধ্যে বয়স্ক আন্টিটা এক নজর সেদিক তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে,
"মেয়েটার মিস ক্যারেজ হয়েছে। মেনে নিতে পারছে না। প্রেগনেন্সি রিপোর্ট ছিঁড়ে ফেলেছে্। অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। আল্লাহ মেয়েটাকে ধৈর্য্য দান করুক। কঠিন একটা সিচুয়েশন।"
"আ..আন্টি ওর কি হাসবেন্ড আছে ওখানে?"
"আমি চিনি না। তবে একটা ছেলেকে দেখলাম ওকে ধরে রেখেছে। মেয়েটার কান্না আমার সহ্য হচ্ছে না। আমি নিঃসন্তান। আমার এই কষ্ট মৃত্যুর মতো কঠিন যন্ত্রণা দেয়। আল্লাহ সবাইকে মা হওয়ার মতো সৌভাগ্য দান করুক এই দোয়া করি সবসময়। ওই মেয়েটার কষ্ট আমি খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছি মা। "
শেহরিনের চোখ অজান্তেই ঘোলাটে ভাব ধরে। শরীর তার অসহনীয় পর্যায়ে কাঁপছে। দুজন মানুষের সন্তান নিয়ে হাহাকার তার হৃদয় ছুঁয়ে যায় চুপিসারে। যে রহমতের জন্য জাফরিনের চিৎকার করা কান্না, সামনে দাঁড়ানো মানুষটার করুণ নিঃশ্বাস সেই রহমত আল্লাহ তাকে দান করেছে। সেটা সে অস্বীকার করছে কিভাবে? আল্লাহর কাছে তো বরং শুকরিয়া জানানো উচিত না চাইতেও আল্লাহ তাকে মা হওয়ার সৌভাগ্য দান করছে। এটা কি যথেষ্ট নয়?
কাঁপা হাতটা আপনা আপনি শেহরিনের পেটে চলে যায়। মাথা নিচু করতেই এক ফোঁটা জল স্বচ্ছ ফ্লোরের উপর গিয়ে পড়ে। কানে ভেসে আসছে জাফরিনের চিৎকার, জাফরিনের সন্তান বিয়োগের কষ্টের সমাহার। চোখ বন্ধ করে ফুঁপিয়ে উঠে সে।
"শেহরিন.. "
নেতা সাহেবের কন্ঠস্বর কর্ণপাত হতেই শেহরিন মুখ তুলে তাকায়। দৌড়ে গিয়ে জাপ্টে ধরে শব্দ করে কেঁদে উঠে সে। সান্নিধ্যের ক্লান্ত মুখোরেখা অস্থির হয়ে উঠে তার অর্ধাঙ্গিনীর কান্নায়। তার চওড়া বুক হতে শেহরিনের মাথা আলতো হাতে টেনে তোলে। ব্যস্তগলায় জিজ্ঞেস করে, "কি হয়েছে?"
"আমি বাসায় যাবো নেতাসাহেব। আমাকে বাসায় নিয়ে চলুন।"
"ডাক্তার দেখাবে না?"
" না..আমি ডাক্তার দেখাবো না। আমি 'মা' হবো। আমি মা হতে চাই।"