কাল পুরো একটা দিনের ঘুরাঘুরি শেষে মোটামুটি মনমতো একটা বাসা খুঁজে পেয়েছে শেহরিন আর তার বাবা। চুয়েটের একদম কাছাকাছি পাহাড়তলী এলাকার খান পাড়া জামে মসজিদের ঠিক দক্ষিণে প্রান্তে। দোতলা এই বাসভবনের নিচতলায় দুটো ইউনিট। এক ইউনিটে তার মতোই দুজন চুয়েটের শিক্ষার্থী থাকে। অপর দিকের ইউনিটে নতুন একটা মেয়ে সহ সে থাকবে। মাসের শেষ দিক হওয়ায় মেয়েটি এক তারিখে উঠলেও শেহরিন বাবার উপস্থিতিতে কালকে দেখাদেখি শেষে সব ঠিকঠাক করেই উঠেছে। কারণ বাবা চলে যাবে আজকে।আর বাবা চলে গেলে এক মামা আর সে সবকিছু সামলে উঠতে পারবে না। আর তার উপরে মামার আজকে এগারোটা হতে অফিস। তাকে তো কর্মস্থলে যেতেই হবে।
কালকে সন্ধ্যা হতে আজকে বেলা দশটার মধ্যে যাবতীয় সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছে তারা তিনজনে। দুটো রুম, সাথে লাগোয়া বেলকনি সাথে একটা ছোট ড্রয়িংরুম, কিচেন আর দুটো টয়লেট। আয়তনের দিক থেকে পুরো বাসাটা একটু ছোট হলেও বেশ টিপাটাপ রয়েছে। গাছপালা দিয়ে সাজানো এই বাসাটার নাম 'শুভলতা ভিলা'।
একজন মানুষ থাকার জন্যও যে এতো জিনিস পত্র লাগে শেহরিনের জানা ছিলো না। বাবার করা লিস্ট দেখা মাত্র সে চোখ কপালে তোলে। হায় হায় কন্ঠে বলে, "বাবা লিস্টের নাম্বার তো হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলবে। এতো কেন?"
রিজওয়ান সাহেব আরো কি কি লাগবে ভাবতে ভাবতে উত্তর দেন, "চোখ বুলিয়ে দেখো অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিছুই নেই। "
শেহরিন সত্যি লিস্টখানা চোখ বুলিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। পরিশেষে তার অবাক কন্ঠস্বর হতে বের হতে বাধ্য হয়, " সত্যি তো! এগুলো সব তো আমার দরকার। "
তবে, এতোকিছুর মাঝে রান্নার ঝামেলাটা নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন রিজওয়ান সাহেব। মেয়ের খাওয়ার কষ্টটা তাকে ভীষণ পীড়া দিচ্ছিলো। মনে মনে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সামনের হোটেল মালিককে মাসিক খরচ দিয়ে তিনি খাওয়ার ব্যাপারটা সামলাবেন।
কিন্তু এরই মাঝে বাড়িওয়ালার দেওয়া সমাধানে সে বেশ নিশ্চিন্ত হয়েছেন। পাশের ইউনিটের দুটো মেয়ে নিজেরাই রান্না করে খায়। কিন্তু শেহরিন যেহেতু রান্না বিষয়ে ভীষণ কাঁচা এজন্য বাড়িওয়ালার রাখা ছুটা বুয়া এসে তাকে দুপুরের রান্না করে দিয়ে যাবে। আর বাজারটা শেহরিন নিজের কাঁধে তুলে নিলেও বাড়ির এক কর্মীকে তিনি বলে দিয়েছেন বিষয়টা দেখতে।
" ওহ্ বাবা কি সুন্দর লাগছে আমার রুমটা দেখতে তাই না? মামা..আপনার পছন্দ হ'য়েছে?"
পুরো রুমটা সুন্দরভাবে ডেকোরেশন করা শেষ। বাবা, মামা দুজনে অক্লান্ত পরিশ্রমে শেহরিনকে মোটামুটি তার নিজস্ব কক্ষের স্বাদ এনে দিয়েছে। জানালার পর্দা, বেডশীট, কুশন সবকিছুর সঙ্গে কালার ম্যাচিং করে সেট করা হয়েছে । মাঝারি সাইজের একটা কাঠের আলমারি, একটা স্ট্রান্ড মিরর, শ্যু কেবিনেট সহ আরো যাবতীয় জিনিস কালকে রাতেই কেনা শেষ।
এছাড়াও লিস্টে আরো কিছু জিনিস রয়েছে যেগুলো সে নিজে কিছু কিনবে আর বাদবাকি বড় বড় জিনিস মামা কিনে পাঠাবে।
" খুব সুন্দর হয়েছে । একদম ঢাকায় তোমার রুমটা যেমন সাজানো ওরকমই লাগছে। তবে, তোমাকে ভীষণ মিস্ করবো মামণি্। আমার খুব খারাপ লাগছে একমাত্র ভাগ্নিটাকে নিজের কাছে রাখতে না পেরে।"
" ওহহো মামা আপনি কাঁদছেন কেন? আমার কিন্তু ভীষণ কষ্ট লাগবে। আমিও কান্না করে ফেলবো্। ছুটির দিন গুলোতে তো আমরা একসাথে হবোই, সময় কাটাবো মুমু আরশ কে নিয়ে।"
শফিক সাহেব শেহরিনকে আলিঙ্গন করে নিয়ে দুফোঁটা চোখের পানি ফেলেন। সত্যি তার বুকের ভিতরে খুব কষ্ট হচ্ছে । কালকে হতে আজ পর্যন্ত নিজ হাতে সবকিছু গুছিয়ে দিতে গিয়ে তার বারেবারে হাত কেঁপেছে। কিন্তু দুলাভাই এর সিদ্ধান্তের উপর তার বিরোধিতা করার সাহস নেই। সে নিজেও জানে কেনো এই সিদ্ধান্ত !! নিরুপায় হয়ে তাই মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই।
" মন খারাপ করো না শফিক। তোমার কাছে মেয়ে থাকলো না জন্য ভেবো না দায়িত্ব শেষ। ওকে দেখভাল করে রাখার লঘু দায়িত্ব তোমার উপর থাকলো।"
" লঘু দায়িত্ব? "
" অফিস,সংসার সামলে যখন সময় পাবে অবশ্যই আমার মেয়ের খোঁজ খবর নিবে।"
শফিক সাহেব ভেজাচোখে তাকান রিজওয়ান সাহেবের দিকে। নিম্নস্বরে বলেন, " আমি ওর মামা হই দুলাভাই। পর কেউ নয়। আমার উপর কি গুরু দায়িত্ব থাকার কথা নয় ভাগ্নীকে দেখে রাখার?"
" গুরু দায়িত্ব নিলেও তুমি সেটা পালন করতে পারবে না শফিক। শেষে আবারো আজকের মতো আফসোসটা তোমাকে ভীষণ কষ্ট দিবে। আমি চাই না আমার মেয়ের কারণে তোমার আর শাহিদা কিংবা সংসারে বিরুপ পরিবেশ সৃষ্টি হোক। বাচ্চারা বড় হচ্ছে এই সময়টায় পরিবারে শান্তি বজায় রাখাটা খুবই দরকার।"
" আমি লজ্জিত দুলাভাই। আমি সত্যি লজ্জিত। মামা থাকতে ভাগ্নীকে থাকতে হচ্ছে আলাদা বাসা নিয়ে। আপা বেঁচে থাকলে যদি এমনটা দেখতেন..
রিজওয়ান সাহেব শফিক সাহেবের পিঠ চাপড়ে দিয়ে মলিন হেসে বলেন, " তোমার আপা বেঁচে থাকলে শেহরিন ঢাকার বাহিরে পা রাখতো না। পাবলিকে না হোক প্রাইভেটেই ভর্তি হতো। এই চট্টগ্রাম শহরটা শুধু তার কাছে মামার বাসা হিসেবেই থাকতো। কিন্তু ভাগ্য মানুষকে কোথায় থেকে কোথায় নিয়ে যায় বলা কঠিন। তাই মনে কষ্ট রেখো না। আল্লাহ সবকিছু ঠিক করে দিবেন।"
শফিক সাহেব শেহরিনের কপালে আলতো চুমু দিয়ে বলেন, " মামাকে ক্ষমা করে দিও মামণি। যখনই কোনো দরকার হবে তুমি শুধু আমাকে একটু জানাবা আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করবো তোমার কাছে ছুটে আসার কেমন?"
শেহরিন অতি আবেগী, ভীষণ নরম কায়া। মামার চোখ আর ভেজানো কন্ঠে তার দুটো চোখ সিক্ত হয়ে উঠেছে মুহুর্তেই। নিজেকে দমিয়ে কাতর গলায় ছোট করে উত্তর দেয়, "হু।"
প্রায় সব কাজ শেষ করতে করতে বেজে যায় এগারোটা। শফিক সাহেব বিদায় নেওয়া শেষে এবার বিদায় নেওয়ার জন্য বের হয়েছেন রিজওয়ান সাহেব। সঙ্গে রয়েছে শেহরিন। বাবাকে বিদায় জানিয়ে সে যাবে ভার্সিটিতে। পৌনে বারোটায় ল্যাব ক্লাস রয়েছে তার।
" বাবা হেঁটে যাই চলো। "
"দেরি হয়ে যাবে না তোমার?"
শেহরিন হাত ঘড়িতে সময় দেখতে দেখতে বলে, " হাতে সময় আছে বাবা। সমস্যা নেই। গাড়িতে গেলে তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবো, তোমাকে তাড়াতাড়ি বিদায় দিতে হবে। তার চেয়ে হেঁটে হেঁটে তাও কিছুক্ষণ সময় তোমার সাথে কাটাতে পারবো।"
রিজওয়ান সাহেব মেয়ের অকাট্য যুক্তি শুনে মাথা নাড়িয়ে হেসে বলেন, " পাগল মা আমার।"
" আবার কবে আসবে? "
" যখনই সুযোগ পাবো ওমনি চলে আসবো।"
" কোনো কাজের বাহানা কিন্তু আমি শুনতে চাই না। এবার কোনো ঘুরাঘুরি হলো না। ভেবেছিলাম তুমি আসলে একটু সীতাকুণ্ড ঘুরে আসবো। যাওয়া আর কই হলো?"
" আচ্ছা সামনের বার ইনশাআল্লাহ নিশ্চয়ই হবে। তবে
শোনো মা, এখন একা একা থাকবে নিজের যত্ন নিজেই নিবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের হেলাফেলা করবে না। সকালের নাস্তা না করে মোটেও ভার্সিটিতে পা রাখবে না বলে দিলাম। আমি তোমার নামে কিন্তু এই নিয়ে অবজেকশান পেয়েছি।"
অবজেকশনের নাম শুনে শেহরিন হাঁটা মন্থর করে। বাবার দিকে তাকিয়ে অবাক স্বরে বলে, " অবজেকশান পেয়েছো তুমি? বাপরে কে দিয়েছে? মামি তো কখনোই নয়। মামা?? "
" না। "
" কাজু বুয়া? "
" হ্যাঁ।"
শেহরিন আফসোস মাখা কন্ঠে বলে," ইশ্ কাজু বুয়াকে ভীষণ মিস্ করবো বাবা। বুয়া অনেক ভালো মনের একজন মানুষ। আমাকে ভীষণ আদর করতো। এই একজন মানুষই আমাকে একটু কেয়ার করতো।"
" সবজায়গাতেই ভালো মন্দ মিশিয়ে থাকে। তবে, তুমি নাস্তা করতে না কেন সেটা বলো।"
" দুঃখের কথা কি আর বলা যায় বাবা।"
" বলো তবুও একটু শুনি।"
" প্রত্যেকদিন এক ব্রেড টোস্ট,বাটার টোস্ট খেতে ভালো লাগে বলো? সকালের বেলার নাশতায় একটু ঝাল ঝাল পরোটা আলুভাজি ডিম পোস এগুলো না হলে চলে? ওই সিদ্ধ ভ্যাজভেজে পাউরুটি চাবানোর চেয়ে না খেয়ে থাকা ভালো। মামি তো ঘুম থেকে উঠেই দশটা এগোরোটায়। কাজু বুয়া এসে অন্যসব কাজ করে সোজা দুপুরের রান্নার প্রিপারেশন নেয়। ব্রেকফাস্ট তুমি গোল্লায় যাও।"
" এখানে তাহলে কি করবে?"
" ওহ বাবা..ভার্সিটি যাওয়ার আগে হাশেম মামার দোকানে গরম গরম পরোটা আর ডালভাজি খেয়ে যাবো। অনেক মজা। খাবে তুমি?চলো টেস্ট করাই আজকে।"
" না না..দরকার নেই। কিন্তু তোমার জন্য এতো অয়েলি ফুড প্রতিদিন না খাওয়াই ভালো। সকালের নাস্তায় ফলমূল, জুস একটু সিদ্ধ ডিম এনাফ। এনার্জি পাবা। "
" এনার্জি দিয়ে কি হবে? স্বাদটাই মুখ্য।"
রিজওয়ান সাহেব সরু চোখে তাকান মেয়ের দিকে। শেহরিন দাঁত বের করে হেসে বলে, " আরে চাপ নিবেন না চৌধুরী সাহেব। ধীরে ধীরে রান্না আমি নিজেই শিখে নিবো। এরপরে প্রত্যেকদিন সকালে ধোঁয়া উঠা খিচুড়ি রান্না করে আপনাকে দেখাবো আর আমি বসে বসে খাবো।"
" ধন্যবাদ আপনাকে। "
বাবা মেয়ের টুকটাক গল্প কথা চলতে চলতে এসে থামে চুয়েটের মেইন গেইটের সামনে। এতোক্ষণ উৎফুল্ল মনে কথা বলা মেয়েটা হঠাৎ করেই চুপসে যায়। গাঢ় একটু নজর দিলেই দেখা যাবে জলের কণা এসে ভীড় জমিয়েছে তার চোখের কার্নিশে।
আপনজনের বিদায় লগ্ন তাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। এই যে, বাবা এখন চলে যাবে ভীষণ কান্না পাচ্ছে তার। আর একটু ছোট হলে সে হাউমাউ করে কান্না করতো। কিন্তু এখন তো একটু বড় হয়েছে, নিজেকে সামলানোর প্রয়াস তো করতেই হবে। নয়তো লোকে মন্দ বলবে।
" নিজেকে ভালো রেখো মা। যদি কখনো মনে করো, তোমার একটা নতুন জীবন চাই। নতুন পথচলার সঙ্গী চাই। বাবাকে নির্দ্বিধায় বলবে, আমি শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকবো।"
" বিয়ের বিষয়টা নিয়ে তুমি এতো কেন উৎসাহিত বাবা?"
রিজওয়ান সাহেব মেয়ের মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন, " তোমাকে নির্দিষ্ট একটা জীবনে পৌঁছে দেওয়া বাবা হিসেবে আমার একটা বড় দায়িত্ব এবং ফরজ কাজ মা। আমি চাই, সুস্থ থেকে দেখেশুনে সেই কাজটা যথাযথভাবে পালন করতে। যাতে মেয়ের সুখটাকে আমি নিজ চোখে দেখে অনুভব করে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে পারি। কোনো আফসোস কিংবা অসমাপ্ত কাজ রেখে যেতে চাই না।"
" তুমি কি চাও আমি এখন সবার সামনে কান্না করি ? কেন তুমি বারবার আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলো বাবা? জানো আমার কতটা কষ্ট হয় ভিতরে?"
" দুঃখিত মা। রাগ করো না। জন্ম মৃত্যু এগুলো সত্য যে। মেনে নিতে হবে। যাই হোক, তুমি প্লিজ কেঁদো না। ইনশাআল্লাহ বাবা থাকবেন তোমার সাথে।"
শেহরিন বাবার বুকে আশ্রয় নেয় ঝড়ের বেগে। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে সে। রিজওয়ান সাহেবের চোখের কোণে পানি এলেও নিভৃতে এড়িয়ে যায়। সুস্পষ্ট কন্ঠ ঠিকরে বলে, " নিজেকে শক্ত করো মা। তুমি শক্ত হলে হলে আমি ভালো থাকবো। আর হ্যাঁ, তোমার প্রতি কারো নিখুঁত ভালোবাসা জন্মালে সেটাকে সম্মান না করলেও অন্তত অপমান বা হেয় করো না। তোমার কাছে তার অনুভূতির দাম না থাকতে পারে কিন্তু তার কাছে সেটা ভীষণ দামি।"
" তুমি কি ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এমপি সাহেবের কথা বলছো বাবা?"
শেহরিনের নাক টেনে ভেজানো কন্ঠ বলা কথা শুনে রিজওয়ান সাহেব আশ্চর্যান্বিত স্বরে বলেন," আমি তো নেতাসাহেবের কথা বলিনি মা। ভালো তো যে কেউ বাসতে পারে। তোমার নেতাসাহেবকেই কেন মনে হলো? "
" কেন মনে হলো জানি না। মনে হলো তাই বললাম। "
" আচ্ছা তাহলে আমরা নেতাসাহেবকেই ধরে নেই কেমন?"
" উনি কি আসলেই খারাপ? "
" আমরা কি পরিপূর্ণ ভালো? "
"উহু।"
" তাহলে তাকে খারাপ বলি কি করে?"
শেহরিন নিরুত্তর হয়ে যায়। উত্তর খুঁজে পায় না সে্। রিজওয়ান সাহেব নম্রকন্ঠে বলেন, " মানুষ যারা ভিতরে খারাপ থেকে উপরে উপরে ভালো সেজে থাকে সমাজ তাদের কদর করে বেশি। ভালোর ট্যাগ দেয়। এটা একটা সামাজিক ব্যাধি্। কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছে যাদের কাজকর্ম সমাজের চোখে হয়তো খারাপ কিন্তু তারা যা করে সেটা ভালোর জন্য করে। নিজেকে জাহির করে না সে ভালো। প্রকৃতপক্ষে আসল ভালো তারাই। নেতাসাহেব এমনিই একজন। সে অকপটে স্বীকার করে সে খারাপ। কিন্তু যারা তাকে জহুরি নজরে দেখে শুধু তারাই জানে তার ভিতরটা একদম নিখাঁদ। "
শেহরিন বাবার বুক হতে নির্নিমেষ চোখে তাকায়। মুখফুটে কোনো দ্বিরুক্তি করে না। রিজওয়ান সাহেব মেয়েকে স্নেহে যত্নে মেইন গেটের একদম অভ্যন্তরীণ স্থানে পৌঁছে দিয়ে বলেন,
" শেহরিন জীবনের কিছু কিছু জায়গায় আশা কমিয়ে গ্রহণ করে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াও্। দেখবে বিনিময়ে তুমি অনেক কিছু পেয়ে গিয়েছো। কারণ জীবনে আমরা যা চাই অনেক ক্ষেত্রেই তা আমরা পাই না। এক্ষেত্রে একমাত্র সলিউশন হাসিমুখে অ্যাকসেপ্টিং।
আল্লাহ হাফেজ। "
___________________________________
বাবাকে বিদায় দেওয়া শেষে মনমরা হয়েই ল্যাব ক্লাস শেষ করেছে শেহরিন। ক্লাস শেষে হয়েছে দেড়টার পরে। ঋতমা শেহরিনের এই মন খারাপ দেখে আর বাসায় ফেরেনি। নতুন বাসা, নতুন ছোট্ট সংসার দেখতে এসেছে তার বান্ধবীর বাসায়।
আর এতেই যেনো বেশ খানিকটা খুশি ভর করেছে শেহরিনের মনে। বাবার বিদায়ের কষ্টটাকে ভুলে প্রবল আগ্রহচিত্তে সে ঋতমাকে একে একে সব দেখাচ্ছে।
" ওয়াওও..তোমার এতো সুন্দর একটা রুম হয়েছে শেহরিন? আমি তো পুরোটাই ন্যাচারাল একটা ভাইভ পাচ্ছি। এই প্লান্টগুলো কোথায় থেকে কিনেছো?"
" বাবা কালকে খুলশী থেকে জেড প্লান্ট আর স্পাইডার প্লান্ট কিনে এনেছে। আর মামার বাসায় আমি যেদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসি তখন সাথে করে এই ফিলোডেন্ড্রন নিয়ে এসেছিলাম। ওটা আজকে মামা দিয়ে গিয়েছে।"
" আমার ভীষণ ভালো লাগছে। চারপাশে সবুজ একটা ভাইব মনে প্রশান্তি এনে দেয়। একই সাথে ম্যাচিং করে বেডশিট, পর্দা বাহ্ চমৎকার। তোমার ইন্টেরিয়র ডিজাইন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান আছে।"
শেহরিন আপ্লুত হয়ে উঠে। হাসিমুখে প্রফুল্ল কন্ঠে বলে," আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ম্যাম। তবে, এই বেলকনিতে রাখা প্লান্ট গুলো রাখার জন্য কিছু মাটির তৈরি পট লাগবে। এখানে কোথায় পাওয়া যাবে?"
ঋতমা চোখে চশমা ঠেলে ছবি তোলা বন্ধ করে। শেহরিনের দিকে এগিয়ে এসে বলে, " মা গতমাসে হালিশহর থেকে বেশ সুন্দর কিছু পট, প্ল্যান্টার কিনেছে। আমাদের ড্রয়িংরুমে সাজানো দেখেছো কি?"
" অনেক জিনিস তো ড্রয়িংরুমে। খেয়াল করেনি।"
" ওহহো। আসো তোমাকে ছবি দেখাই।"
ঋতমা শেহরিনকে গ্যালারিতে রাখা ছবিগুলো দেখাতেই শেহরিনের পছন্দের তালিকায় চলে আসে তা। সে নিবিড় চোখে দেখতে দেখতে বলে, " আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে অ্যাক্সেসরিজগুলো ।"
" কিনবে তুমি?"
" তুমি যাবে একটু সাথে?"
" হোয়াই নট? লেটস্ গো।"
শেহরিন ঋতমাকে প্রচন্ড উচ্ছ্বাসে জড়িয়ে ধরে। উৎফুল্লতায় দুই বান্ধবী মেতে উঠে বলে, " আজকে আমরা প্রচুর ঘুরবো, কেনাকাটা করবো, অনেক কিছু খাবো ঠিক আছে?"
" ওকে ডান।"
" ডান।"
" চলো তাহলে একটু পরেই বের হই। "
" ওকে। আমি মা কে আগে ইনফর্ম করি। চিন্তা করবে তাছাড়া।"
" ঠিক আছে। "
---------------------------------------
পাহাড়তলী থেকে হালিশহর যেতে যেতে সময় বাজে পৌনে পাঁচটা। আর একটু আগেই পৌঁছাতে পারতো শেহরিন ঋতমা । কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে আটকে পড়েছিলো ট্রাফিক জ্যামে। এসেই হালিশহর এক্সপ্লোর করতে বের হয়েছে তারা। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় গৌধূলী বেলায় সূর্য একদম চিকচিক করছে পানিতে।
" কি সুন্দর লাগছে দেখতে তাই না?"
" হ্যাঁ শহরটা বেশ সুন্দর। "
" এখানকার সূর্যাস্তটাও অপরূপ লাগে দেখতে।"
" দেখেছো তুমি?"
" হ্যাঁ একবার এসেছিলাম।"
লেকের ধারে ছোট ফুচকা, টকজল, ঝালমুড়ি, ছোলা মাখানো, পেঁয়াজু সবকিছুই প্রায় একটু একটু করে টেস্ট করা হ'য়েছে দু বান্ধবীর। অনেক দিন পর একটু সময় নিয়ে ঘুরতে বের হতে পেরে আনন্দের হাওয়া গা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে তাদের। দুপুর হতে পার করা মন খারাপ গুলো দলবেঁধে পালিয়েছে শেহরিনকে ছেড়ে। মেয়েটা প্রকৃতির মাঝে ডুব দিয়েছে গভীরভাবে।
" সাত নাম্বার রোডের পাশে যে দোকানটা ওটার কথা বললো?"
" হ্যাঁ। এই দেখো লিখে দিয়েছে ঠিকানা।"
" চলো যাওয়া যাক।"
'টেরাকোটা গ্যালারি' দোকানটার দুটো শাখা। শেহরিন ও ঋতমা খুঁজতে খুঁজতে এক নম্বর শাখাতে এলে দোকানটির মালিক অজিত কুমার পাল জানায় তারা যা নিতে এসেছে সেটা তাদের আরেকটা দোকানে অনেক ভালো কালেকশন রয়েছে। চেনার সুবিধার্থে ঠিকানাটা দোকান মালিক নিজেই লিখে দিয়েছেন। খুব বেশি দূরে নয়। মেইন রোডের অপজিট পাশে সাত নম্বর রোডের গলির মোড়ে।
" আংকেল.. আংকেল গাড়ি থামান তো।"
সানজির তাড়াহুড়ো কন্ঠে ড্রাইভার জামশেদ গাড়ি থামায় সঙ্গে সঙ্গে। জানালার কাচ নামিয়ে মুখ গলিয়ে বাহির পানে তাকায় সানজি। পরিচিত দুটো মুখ দেখতে পেয়েই কন্ঠ চড়ায় সে।
" এই পিচ্চি দুটো...এদিকে এসো।"
হাঁটাপথে আচমকা কারো ডাক শুনে সাইডে ঘুরে তাকায় শেহরিন ঋতমা। বাঁকানো ভ্রু দ্বয় দ্বারা গাড়ির ভিতরে বসা কোনো আগুন্তকঃকে ভালোভাবে দেখতে গিয়ে দেখতে পায় তাদের অতি পরিচিত সিনিয়র আপা সানজিকে।
" আসসালামু আলাইকুম আপু।"
"ওয়ালাইকুমুস সালাম। এখানে কি করছো মেয়েরা?"
শেহরিন ঋতমা ফুটপাতের রাস্তা থেকে নেমে এসে গাড়ির কাছকাছি দাঁড়ায়। সানজি তৎক্ষনাৎ গাড়ি হতে নেমে দু'জনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চোখ সরু করে বলে, " নেতার বাড়ির সামনে নেত্রীর পদ যাত্রা। বাহ্ বাহ্। খুব ভালো।"
সানজির কথার আগামাথা দু'জনের কেউই বুঝতে না পেরে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে একে অপরে। শেহরিন আড়ষ্টকন্ঠে জিজ্ঞেস করে, " নেতা কে আর নেত্রী কে আপু?"
" বুঝতে পারোনি?"
" না। "
"তুমিও পারোনি?"
" না আপু।"
"ওকে।মোড় হতে ডানে তাকাও। সাদা একটা বাড়ি দেখতে পাচ্ছো কি?"
"হ্যাঁ।"
"ওটা তোমার নেতাসাহেবের বাসা। আই মিন আমাদের বাসা।"
অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই আকাশ হতে ঝপাৎ হয়ে পড়ে শেহরিন। চোখদুটো তার আপনা আপনি গোল হয়ে যায়। ঋতমার হাত খামচে ধরে বলে, " তুমি জানতে?"
"না। তুমি?"
"আমি কিভাবে জানবো?"
সানজি দু'জনের হা হয়ে যাওয়া মুখ দেখে ঠোঁট টিপে হাসে। মুখোরেখা পুনরায় স্বাভাবিক করে বলে, " হয়েছে হয়েছে। কেউই চিনো না।"
" সত্যি বলছি আপু। বিশ্বাস করো।"
"করলাম তো। "
শেহরিন সানজিকে আরো ভালোভাবে বিশ্বাস করানোর জন্য হাতের মুঠোয় থাকা ঠিকানাটা উন্মুক্ত করে।
" আমরা আসলে টেরাকোটা গ্যালারিতে এসেছিলাম আপু। এই দেখো ঠিকানা।"
সানজি একপলক ঠিকানাটার দিকে তাকিয়ে বলে, " যে গ্যালারিতেই আসো এখন আমার সাথে আমার বাসায় চলো। সূদুর পাহাড়তলী থেকে হালিশহরে কুটুম এসেছে। খালিমুখে তো আর ফেরত পাঠাতে পারি না।"
সানজির মুখে ভয়াবহ কথা শুনে শেহরিনের সর্বপ্রথম মাথায় আসে নেতাসাহেবের কথা, সঙ্গে সেই প্রবাদ বাক্য। যেখানেই এমপি সাহেবের ভয় সেখানেই শেহরিনের আগমন হয়। না..না জেনেশুনে সে বাঘের খাঁচায় পা দিবে কেন।
" আপু..আপু আজকে নয়। অন্য একদিন। ছয়টা বাজে।সাতটার মধ্যে বাসায় ফিরতে হবে।"
" বাজুক সাতটা। আমি নিজে তোমাদের বাসায় রেখে আসবো।"
"আপু আজকে নয় প্লিজ।"
"কোনো কথা শুনছি না। এসেছো যখন একটু অ্যাপায়ন তো করতেই হবে। আফটার অল আমরা চাটগাঁইয়া। অতিথি অ্যাপায়ন আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। "
শেহরিন ভীত চোখে তাকায় ঋতমার দিকে। ঋতমা নিজেও দেনামোনা করতে থাকে। সানজির মুখের উপর না করার সাহস না পেলেও শেহরিনের পক্ষ নিয়ে কিছু বলবে সেটাও ভেবে পায় না। যত যাই হোক, নেতাসাহেবের অঘোষিত প্রেমিকা সে.."
"এই পিচ্চি রাস্তায় এভাবে টানাটানি করলে লোকে ভাববে আমি তোমাদেরকে গাড়ি থামিয়ে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছি। "
" না গেলে হয় না? চলো না আমরা আশেপাশে কোনো ক্যাফেতে বসি।"
সানজি হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে শেহরিনের হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
" রিলাক্স তুমি যার ভয় পাচ্ছো সে বাসায় নেই। এতোক্ষণে বের হয়ে গিয়েছে তার কর্মস্থলে। ইভেন, বাসায় আম্মা, বাবা, ভাবি, ভাইয়া কেউই নেই। আছে শুধু একটা বেবি মানকি। যে কিনা তোমাকে ভীষণ পছন্দ করে।"
বাসায় লোকজনের অনুপস্থিতির কথা শুনতেই শেহরিন কিছুটা দমে যায়। ধীর কন্ঠে বলে, " সত্যি কেউ নেই?"
" তুমি চাইলে ডাকতে পারি।"
" না.. না ঠিক আছে। "
"এবার তাহলে যাওয়া যায়? "
"আচ্ছা। "
শেহরিনের প্রথমবারের মতো পদচারণা ঘটে সুখ নিবাসে। এমপি সাহেবের বাড়িতে। বুকের ভিতরে তার অনবরত ধুকপুক করে চলেছে। কেনো জানি মনে হচ্ছে, এমপি সাহেব বাসার ভিতরেই আছে। প্রবেশ করা মাত্র তার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে্।
ইশ্ লোকটা কি ভাববে তখন? ভাববে, প্রত্যাখান করেও বাড়ি বয়ে বেড়াতে এসেছে। একটুখানি দেখার জন্য বাহানা সাজিয়ে এসেছে। লজ্জা শরম বুঝি কিচ্ছু নেই!!
ছিঃ ছিঃ আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতেই শিহরিত হয়ে উঠে ভঙ্গুর কায়া। কি করে বুঝাবে তখন, ইচ্ছে করে আসেনি সে। তার সহোদরাই তাকে জোরপূর্বক হাজির করেছে।
"রিলাক্স রিলাক্স শেহরিন। সানজি আপু তো বললো উনি বাসায় নেই। নেই মানে একদমই নেই। কোনো অস্তিত্বই নেই। তুই নিজেকে শান্ত কর। চারপাশটা তাকিয়ে দেখ কত সুন্দর। "
নিজের বিগলিত আত্মাকে শান্ত করে শেহরিন ধাতস্থ হতে থাকে। বাড়ির চারপাশটা থেকে শুরু করে লন, বাগান অদ্ভুত রকমের সুন্দর। এতো এতো ফুলের সমারোহ বাগানজুড়ে চোখ পড়তেই যেনো হৃদয় জুড়িয়ে যায়। মানতেই হবে, এই বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ বেশ শৌখিন। নয়তো এতো ফুলের সম্ভার তৈরি হওয়া অসম্ভব।
সানজি শেহরিন ঋতমাকে নিয়ে বাড়ির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। দুটো রমণীর জড়তা কাটিয়ে সহজ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলেছে তার। হেসে হেসে গল্পও জুড়ে দিয়েছে ইতিমধ্যে ।
গুটিগুটি পায়ে ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়ানো মুহুর্তে দোতলার সিঁড়ি হতে লম্বা অবায়বের সু কায়দায় নিচে নামতে দেখে থমকে তাকায় তিনজনে। সানজির মুখ থেমে যায়, হাসি বন্ধ হয়ে যায়। কেউ একজন বিস্ফোরিত নেত্র উন্মোচন করে সঙ্গে সঙ্গে। বুকের ভিতরে তার কয়েকশো বেগে হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণ শুরু হয়ে যায়।
কালো শার্ট কালো প্যান্ট পরিহিত সৌম্য পুরুষটির দৃষ্টি যখন ফ্লোরে দাঁড়ানো মানবীগুলোর দিকে পড়ে তখন তার ফোল্ড করতে থাকা হাতখানা থেমে যায় আপনাআপনি। দুটো সিঁড়ি বাদ রেখেই পায়ের গতি কমিয়ে ফেলে দাঁড়িয়ে পড়ে সে । স্থির চক্ষু তার একজনের উপর গিয়ে পড়ে যে কিনা তার হতে নিজেকে লুকাতে অদম্য চেষ্টা করে যায়।
এটা কি ভ্রম নাকি সত্যি?? সান্নিধ্যের সামনে শেহরিন দাঁড়িয়ে? সেটা আবার তারই বাসায়? আদৌও সম্ভব! মস্তিষ্কে শুরু হয় বিক্ষুব্ধ আলোড়ন। সত্য ভ্রমের যাচাই-বাছাই এর মাঝে হুট করেই অসমকালীন এক বৃষ্টি এসে নেতাসাহেবের শক্ত মনটাকে ভিজিয়ে দিয়ে যায়। ছন্দহীন মন তাকে নিশ্চিত করে এটা সত্যি। এটা তারই প্রেয়সী। তারই জারুল ফুল, সমুদ্রের নীলরাশি। যে কিনা এই মুহূর্তে তার সামনে তটস্থ চোখে তাকিয়ে আছে।
"শেহরিন এই ব্যাটাকে রাজনীতিবিদ হতে কে বলেছে? এর তো নাটক সিনেমা করা উচিত। প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড আমি একটু সময়ের জন্য ক্রাশ খেয়ে ফেলেছি।"
অপ্রত্যাশিত মুহুর্তে ঋতমার ফিসফিস কন্ঠে বলা কথায় ভ্রু কুঁচকে ঘাড় ঘুরায় শেহরিন। তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ঋতমা ফের কন্ঠ নামিয়ে বলে, " সরি বললাম তো। আমার কোনো দোষ নেই। সব দোষ এই ব্যাটার। এতো ড্যাশিং লুকে আমাদের সামনে আসতে হবে কেন? ব্ল্যাক শার্টে অস্থির লাগছে দেখতে।"
শেহরিন চোখ বড় বড় করে ঋতমাকে থামার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু বেচারি সেসবে পাত্তা না দিয়ে বলে, " এই.. এই উনি নায়কের পার্ট বাদেও ভিলেনের পার্টও কিন্তু দারুণ করতে পারবে। এটা তার সাথে একদম খাপে খাপ যাবে্।এখনকার সিনেমায় দেখো না ভিলেনগুলো কি মারাত্মক হ্যান্ডসাম হয়। নায়ক বাদ দিয়ে ভিলেনের উপর ক্রাশ খায় সবাই। এই ব্যাটা সেটার জন্যই পার্ফেক্ট হবে একদম। শুধু একটা পিস্তল হলেই এনাফ।"
" ঋতমা... ।"
শেহরিন ঋতমাকে কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারে না। অদ্ভুত অস্বস্তিতে পড়েছে সে। এলোমেলো দৃষ্টিমেলে কোনদিক হতে কোনদিকে তাকাবে ঠাহর করতে পারে না। একদম সামনে এসে পড়তে হয় তাই?অক্ষরে অক্ষরে কিছু সেকেন্ড আগে সেই ভাবনাগুলোকে এইভাবে সত্যি হতে হয়?এখন সে মুখ লুকাবে কোথায়?
সান্নিধ্য খানিক সময়ের স্থির দৃষ্টি ভঙ্গ করে। রমণীর অস্বস্তি মাখা রুপ দেখে ঠোঁট ভাঁজ করে সে সোজাসুজি আবারো উপরে চলে যায়। কোনো প্রকার টু বাক্য তার হতে আসে না। নিরবে এসে নিরবে প্রত্যাগমন করে।
আর সে চলে যেতেই কেউ একজন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। সানজির দিকে নজর ঘুরাতেই সানজি আমতাআমতা স্বরে বলে, "বিশ্বাস করো তোমার মতো আমিও শকড হয়ে গেয়েছি। নেতাসাহেব এই সময় কোনদিনও বাসায় থাকে না। আজকেই হয়তো প্রথম। এখনই চলে যাবে সে। রেডি হয়েছে দেখলে না..এসো তোমরা।"
" উপরে গিয়েছেন উনি আপু।"
"হয়তো কিছু রেখে এসেছে, ওটাই আনতে গিয়েছে। তোমার মতো একটা সুন্দর ফুটফুটে বউ নেই যে একটু গুছিয়ে দিবে। একা একা ছেলেমানুষ। বোঝেই তো.."
সানজি দু'জনকে নিয়ে নিচতলার এক কক্ষের দিকে অগ্রসর হয়। যাওয়া পথে শেহরিন ঋতমার দিকে আড়চোখে তাকাতেই ঋতমা নির্জীব স্বরে বলে, "এভাবে তাকাচ্ছো কেনো মেয়ে? ক্রাশই তো খেয়েছি, কুনজর তো আর দেইনি। তোমার নেতাসাহেব তোমারই থাকবে আমরা তো মাঝখানে দারুচিনি এলাচি।"
"ফু'মণি এসো না...। "
তাসিনের চিৎকারে রুমে ঢুকতে গিয়ে পা থামায় তিনজনে। ভিতরে হতে ভাসমান চিৎকার সানজি কপাল কুঁচকে ফেলে। কন্ঠ চড়িয়ে বলে, " কেন?"
"আমি আগে বের হবো তারপরে তোমরা ঢুকবে। ইয়ো পানিকে চোখ বন্ধ করতে বলো। "
"বেবি মানকি লাঠি আনবো?"
"ফুমণি প্লিইজজজ। তুমি.. তুমি ইয়ো পানিকে আজকে নিয়ে আসবে আমাদের বাসায় আগে বলোনি কেন?"
সানজি শেহরিনের দিকে একপলক তাকিয়ে দরজার একপাশে দাঁড়িয়ে বলে," কেন আগে বললে কি হতো?"
" আমি খালি গায়ে থাকতাম না। আমার কি মান সম্মান নেই?"
ছোট বাচ্চাটার পাকাপাকা কথায় শেহরিন ঋতমা হেসে ফেলে। শেহরিন আগ্রহী কন্ঠে জিজ্ঞেস করে, " বাচ্চাটা কে? "
"আমার বড় ভাইয়ার একমাত্র পুত্র। আমাদের বেবি মানকি।"
"বেবি মানকি?"
" হু। বেবি মানকিরা যেমন দুষ্টু। এটাও তার চেয়ে কম কিছু নয়।"
"কিন্তু ইয়ো পানি টা কে?"
সানজি শেহরিনের দিকে ফের তাকায়। ঠোঁট চেপে হেসে নিমজ্জিত কন্ঠে উগড়ে বলে,
"ধরে নাও তুমিই।"
"আমি? "
"হু। আমাদের বেবি মানকি তোমাকে ভীষণ পছন্দ করেছে। "
"কিভাবে? ওর সাথে তো আমার দেখাই হয়নি।"
" তোমার দেখা না হলেও ও তোমাকে ঠিকই দেখেছে। এবং দেখার পর এতো বেশি পছন্দ করেছে যে নামও দিয়ে ফেলেছে ইয়ো পানি.. "
"তাই বলে ইয়ো পানি..?? "
শেহরিন ঋতমার দিকে তাকিয়ে মুখে হাত দিয়ে হেসে ফেলে। সানজি শেহরিনের হাসি দেখে নিরস গলায় বলে, "হেসো না মেয়ে। এটা নিয়ে এই বাড়িতে রীতিমতো একজনের সঙ্গে কম্পিটিশন লাগে। আচ্ছা.. এসব কাহিনী পরে এক সময় বলবো। এবার আসো একটু সাইড দিয়ে বেবি মানকির যাওয়ার পথ করে দেই।"
দরজা ছেড়ে খানিকটা দূরে দাঁড়ায় তিনজনে। অতঃপর সানজি জোরগলা ছেড়ে বলে, " আমরা সাইডে দাঁড়িয়েছি। এক দৌড় দিয়ে উপরে চলে যাবি্।"
পর্দার আড়ালে থাকা নীল রঙের বিড়াল প্যান্ট পড়া তাসিন উঁকি দেয় বাহির পানে। ঠোঁট মুখ কুঁচকে বলে, "ওহহো ফুমণি চোখ বন্ধ করো তোমরা। ইয়ো পানি তো আমাকে দেখো ফেলবে।"
"এই যে চোখ বন্ধ করলাম দেখবো না তোমাকে। "
শেহরিন হতে প্রতিত্তুর পেতেই তাসিন ফোকলা দাঁতে হাসে। দৌড় দিয়ে সে বের হয়ে যায় সিঁড়ির কাছে। উপরে উঠা মাত্র ফের চিল্লিয়ে বলে, "ইয়ো পানি একটু দাঁড়াও আমি এক্ষুণি আসছি।"
"ঠিক আছে আমি অপেক্ষা করছি।"
------------------------------------------------
"স্যার আমার ভাইকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পনেরোমিনিট পর জয়েন করলে সমস্যা হবে?"
সান্নিধ্যের কথায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবাক কন্ঠে জবাব দেন,
"কি হয়েছে তোমার ভাইয়ের?"
"এক্সিডেন্ট করেছে।"
"রিয়েলি?"
"আপনার বিশ্বাস না হলে কথা বলুন। এখনো কিছুটা জ্ঞান আছে।"
" না.. না ঠিক আছে। দরকার নেই। মারবে নাকি!! তুমি পনেরোমিনিট পরেই রওনা হও। আমরা সবাই সার্কিট হাউসে অপেক্ষা করছি। তুমি এলেই মিটিংটা তাহলে শুরু করবো। ডিনার টাইমটাও পিছিয়ে দিচ্ছি সমস্যা নেই। তবুও এসো। তোমাকে দরকার সান্নিধ্য। "
"ধন্যবাদ স্যার।"
কান হতে ফোন নামায় সান্নিধ্য। সামনে ল্যাপটপ কোলে বসারত
ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ভ্রু উঁচিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে, " কি হয়েছে? "
" জীবনে তুই ভালো হবি না? আমাকে এই দিয়ে তিনবার ইমার্জেন্সিতে পাঠালি। আমি কি সরকারি মা'ল যে যখন মন চাইবে ইমার্জেন্সিতে পাঠিয়ে দিবি?"
"ভাগ্য ভালো ইমার্জেন্সিতে পাঠিয়েছি..কোমাতে..
" মাফ কর। উচ্চারণ করিস না্। তোর জানে ভয়ডর নাই ঠিক আছে বাট আমার আছে। এই পনেরোমিনিট দিয়ে কি করবি তুই?"
সান্নিধ্য হাত ঘড়িতে সময় দেখতে দেখতে বলে, " শেহরিন এসেছে। "
"কোথায়? "
"বাসায়।"
"সিরিয়াসলি? "
"হু।"
"ব্যাটা নিজের ইমার্জেন্সি কাস্টমারের জন্য আমাকে হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে পাঠিয়ে দিয়েছিস। মন্ত্রীকেও ঘোল খাইয়ে দিলি। তোরে ক্যান যে মানুষ ভোট দেয়। এখন যদি..
" বাবা..আমার পাঞ্জাবি কোথায়? টুপি কোথায়?"
তাসিনের ছুটে আসা দেখে সরফরাজ বিরক্ত হয়ে বলে, "আমি জানি না রে বাপ।"
"উফ্ বাবা তাড়াতাড়ি বের করে দাও। আমার বিয়ে করতে যেতে হবে। ইয়ো পানি এসেছে। "
সরফরাজ অবাক চোখে সান্নিধ্যের দিকে তাকিয়ে বলে, "অন্বেষাও এসেছে? "
"উহু।"
" তার মানে শেহরিনকে?"
সান্নিধ্য কোনো প্রতিত্তুর করে না। সরফরাজ নেতসাহেবের মৌনতা দেখে হাসতে হাসতে বলে, " পুরানো পাগল ভাত পায় না, নতুন পাগলের আমদানি।"
"হুঁশ ব্যাটা।"
সান্নিধ্য চলে যায় নিজ রুমে। অন্যদিকে তাসিন বাবার অপেক্ষায় না থেকে ঝটপট কেবিনেট হতে একটা লাল রঙের পাঞ্জাবি বের করে পরে নেয় আধো হাতে। যদিও বিশেষ নজরে দেখা যায় পাঞ্জাবিটা উল্টো পড়েছে। কিন্তু ছোটো মানুষের কোটায় সেটা ক্ষমাযোগ্য । মাথায় একখানা টুপি, নীল রঙের বিড়াল প্যান্টের সঙ্গে লাল রঙের পাঞ্জাবি। জামাই সাহেব একদম রেডি।
" বাবা তুমিও আসো।"
" না বাপ তুমি একাই যাও। বাবা ইমার্জেন্সিতে আছে। জ্ঞান ফিরলে যাবে। "
তাসিন দৌড়ে দরজা পার হতেই আবারো ফিরে আসে্। বির্বণ মুখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,
"বাবা প'টি এসেছে। বিয়ে একটু পরে করবো। "
"ওহ বাপজান আমার.. তাড়াতাড়ি বাথরুমে যাও্। বিয়ে তুমি প'টি করে এসেই করো। কোনো চাপ নেই।"
"তুমি ইয়ো পানিকে বলো সে যেন চলে না যায়।"
"ঠিক আছে বলছি্। তুমি টুপিটা খোলো আগে।"
----------------------------------------------
সন্ধ্যার নামার আগ মুহুর্তে সূর্য যখন মলিনতা ছড়ায় বাগানের মাঝে, ঠিক সে সময় সেখানে আগমন ঘটে এক প্রস্ফুটিত জীবন্ত ফুলের। যে কিনা তার সুবাসিত সৌরভ আর সৌন্দর্যতায় সমস্ত মলিনতাকে দূর করে উজ্জ্বলতায় ভরিয়ে তোলে মুহুর্তেই।
সাদা সালোয়ার কামিজ আর হালকা গোলাপি ওড়না পরিহিতা এই নারীকে বাগানের মাঝে ফুটে থাকা গোলাপের চেয়ে কম কিছু মনে হয় না। সারি সারি গোলাপের মাঝে একা দাঁড়িয়ে গন্ধ শুষে নেয় প্রাণপণে। হাত দ্বারা স্পর্শ করে নরম ফুলের পাপড়িগুলোকে উজ্জীবিত করে তোলে সে।
দোতলা হতে স্লাইডিং ডোর এর সম্মুখে দাঁড়িয়ে একজোড়া তীক্ষ্ণ চোখ তাকে দেখে যায় নির্বিকারচিত্তে। কালো শার্টের হাতাখানা কনুই অব্দি তুলে দু'হাত পকেটে ঢুকিয়ে স্থির হয়ে সে চোখের তৃষ্ণা মেটায়। দুদিন পরে আজ সে তার জীবন্ত ফুলকে দেখতে পেলো অবশেষে। ফুল যে নিজেই এসে তার বাগানে ধরা দিবে এটা মানতেই যেনো অবিশ্বাস লাগছে।
সান্নিধ্য ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম হাসি বজায় রেখে ভেবে চলে হালকা গোলাপি রঙের গোলাপ ফুলের কি কি নাম রয়েছে।
" কুইন এলিজাবেথ...বোনিকা..সিঁসিল ব্রুনার,,দ্যা ফেয়ারি।"
"ইয়েস দ্যা ফেয়ারি। এন্ড অনলি মাইন।"
শেহরিন নিজ উচ্ছ্বাসে ঘুরে বেড়ায়। গুণগুন করে গান গায় আপন ছন্দে। কিন্তু এই সুন্দর মুহুর্তের মাঝে সে যদি একবার জানতো কাচের জানালার অপর পৃষ্ঠে কেউ একজন দাঁড়িয়ে তাকে দেখে যাচ্ছে নিষ্পলক চাহনিতে। যার চক্ষু কোটরে শুধু মাত্র সেই বন্দি।যার বুকের ভিতরে সে দূর হতেই তুলেছে তীব্র ঝড় । যার ঠোঁটের কোণে ফোটা দূর্ভেদ্য হাসির কারণ শুধু মাত্র সে।
নিশ্চিত লজ্জায় নেতিয়ে পড়তো তার সিক্ত কায়া। মুখ তুলে তাকানোর আর অবকাশ পেতো না। লজ্জাবতী হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিতো সঙ্গে সঙ্গে।
"মনির ছোট বাগানটা খুলে ম্যাডামকে বলো সেখানে যেতে।"
"জ্বি স্যার।"
সান্নিধ্যের নির্দেশ পেতেই গেট দারোয়ান মনির এসে শেহরিনকে বাগানের পিছন দিকে ছোট আরেকটা বাগান দেখাতে নিয়ে যায়। সম্ভ্রম সুরে বলে, "ম্যাডাম আপনি এটা দেখতে পারেন। এখানে অনেক রকম ফুলের চারাও আছে। যদি আপনার প্রয়োজন হয় আমাকে জানাবেন আমি প্যাকেট করে দিয়ে দিবো।"
"ঠিক আছে।ধন্যবাদ আপনাকে।"
সন্ধ্যা নেমে যায়। দূর হতে মাগরিবের আজান ভেসে আসতেই শেহরিন বাগান পরিদর্শন শেষে তড়িঘড়ি করে পা বাড়ায় ভিতরের দিকে। সারি সারি গোলাপ ফুলের গাছ অতিক্রম করে আসতেই সে থমকে দাঁড়ায়। সবুজ ঘাসের বুকে চারটা গোলাপ মোড়ক বেঁধে রাখা হয়েছে।
"ম্যাডাম এটা আপনার জন্য। "
"আমার জন্য? "
"হ্যাঁ। "
"কে রেখেছে? "
"যেই রাখুক গোলাপগুলো আপনার।"
মনির চলে যেতেই শেহরিন আশ্চর্যান্বিত চোখে আশেপাশে তাকায়। অতঃপর ধীর গতিতে হাঁটু ভেঙে বসে গোলপের মোড়ক তুলে নেয় হাতে। স্নিগ্ধ ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে ভাবনায় মত্ত হয়ে উঠে। মন বলছে এটা একজনেরই কাজ। অবাধ্য মন সেই একজনের নামটা তাকে বারেবারে সেটা জানান দিচ্ছে। কিন্তু যার কথা ভাবছে সে আশেপাশেও নেই। কখন এসেছিলেন উনি? তার চোখে কেন পড়লো না?
সন্ধ্যার আবছায়া আলোতে শেহরিনের নজরে আসে সে একটু আগে যে চারটা ফুল স্পর্শ করেছিলো ঠিক সেই চারটা ফুলই এখানে রয়েছে। আরো একটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য সে এগিয়ে যায় গোলাপ গাছগুলোর পানে। সজাগ দৃষ্টি মেলে দেখে বুঝে যায় তার ভাবনাই সত্যি। এগুলো সেই ফুলই।
ঠোঁটের কোণে অজান্তেই তার ক্ষীণ হাসি দোল খায়। যে হাসির কারণে তার মনন মস্তিষ্ক এক অন্যরকম অনুভূতি জাগ্রত করে। গোলাপগুচ্ছ গুলো হাতের মুঠোয় চেপে ধরে চেয়ে থাকে একমনে। সে শুনেছে ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর একটা ধাপ নাকি প্রেমে পড়ার মুহুর্তটা ।যে মুহুর্তটা কারণ ছাড়াই একজন মানুষের প্রতি ভালো লাগা তৈরি করে । স্বতঃস্ফূর্ত হাসির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে কি নেতাসাহেবকে তার ভালো লাগতে শুরু করেছে? সে কি তবে, প্রেমে পড়ার ধাপে এসে পৌঁছেছে? নাকি সদ্যই জন্ম নিচ্ছে নেতাসাহেবের প্রতি তার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুভূতি। যেগুলো একসময় কালে বিবর্তনে অগভীর প্রেমসাগরে পরিণত হবে?
গাড়ির হর্ণ বাজে, শেহরিনের ধ্যান ভাঙে। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সে। সঙ্গে সঙ্গে নেতাসাহেব গাড়ির কাচ তুলে নেয়। এক লহমায় বের হয়ে যায় সুখ নিবাস হতে। দূর হতে অস্পষ্ট নেতাসাহেবকে দেখে শেহরিন ঠোঁটের সেই ক্ষীণ হাসিটাকে খানিকটা প্রশয় দেয়। অতঃপর নিমগ্ন চাহনি শেষে চক্ষু সরিয়ে গভীর দীর্ঘ শ্বাসে সে পা বাড়ায় নিজ গন্তব্যে।