রাজনীতি বনাম প্রেমনীতি

পর্ব - ১৯

🟢

" স্যার মিটিং শেষ করে বাসায় গিয়েছেন। এতোক্ষণে হয়তো পৌঁছানোর কথা।"

" মিটিং কতক্ষণ হয়েছে ?"

"প্রায় আড়াইঘন্টা। কিন্তু অমিমাংসিত।"

অমিমাংসিত কথাটা শুনে সরফরাজের কপালে ভাঁজ পড়ে। সবগুলো কাজই কেমন যেনো আজ এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। একটা বিষয় নিয়ে এতো টানা হেঁচড়া হচ্ছে বলার বাহিরে। উদগ্রীব গলায় জিজ্ঞেস করে, "সান্নিধ্যের মন মেজাজ কি খারাপ? "

" খুব খারাপ। ৬- আসনের সংসদ সদস্যের সাথে খুব ভালোরকম কথা কাটাকাটি হয়েছে । আফজাল করিম নিশ্চিত মার খাবে স্যারের হাতে। মন্ত্রী সাহেব আজকে ছিলেন জন্য স্যারকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করেছেন অনেক।"

" আচ্ছা।"

বান্দরবানের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রবেশ করেছে সরফরাজ ও আসিফ। বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল কবির আশ্বাস দিয়েছেন তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে খুঁজে বের করার জন্য। গাড়ির নাম্বার প্লেট বা কোনো ধরনের ক্লু না থাকার কারণে সময় দীর্ঘ লাগছে। কিন্তু এটা নিশ্চিত কোনো একটা চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ দু'নাম্বারি করেছে। তা নয়তো এতো প্রশাসন লোকজনকে টেক্কা দিয়ে চলা সহজ নয়। যেখানে সময় ছয় হতে সাত ঘন্টা পার হয়ে যাচ্ছে।

দুশ্চিন্তার ভাঁজ সরফরাজের আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। একে তো শেহরিনের কোনো খোঁজই মিলেনি এখন পর্যন্ত অপরদিকে সান্নিধ্যের মেজাজ আজ তুঙ্গে। সব বিপদ আর ঝড় যেনো একসাথে লেগেছে।

" সান্নিধ্য বাসায় ফিরেছে? "

"হ্যাঁ ভাইয়া ওয়াশরুমে শাওয়ার নিচ্ছে। একটু আগেই এসেছে। "

"বের হলে আমাকে ফোন দিতে বলবি। ভীষণ দরকার।"

সানজি বড় ভাইয়ের কন্ঠে দুশ্চিন্তার ভাঁজ অনুধাবন করে জিজ্ঞেস করে,

" কোনো সমস্যা হয়েছে ভাইয়া?"

"কঠিন সমস্যা হয়ে গিয়েছে। শেহরিনকে কিডন্যাপ করেছে কোনো একটা চক্র। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ। "

"কিহ্? "

অশনি বার্তা শোনা মাত্র সানজির বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠে। দু পা পিছিয়ে সে বাম হাত দ্বারা মুখ চেপে ধরে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকায়। এমন বিভীষিকাময় শব্দ তাকে যথারীতি নাজুক করে তোলে।

"শেহরিনকে.. শেহরিনকে কিডন্যাপ করা হয়েছে? ক..কখন ? কোথায়? আল্লাহ কি বলছো এসব তুমি ভাইয়া । "

" আজ দুপুরে চুয়েট ক্যাম্পাসের সামনে থেকেই। কারা করেছে কেন করেছে কিছুই বুঝতে পারছি না। "

" সান্নিধ্য ভাইয়া জানে কি?"

" নাহ্। ওকে জানানোর জন্যই ফোন করেছি্।"

"তুমি কি পাগল ভাইয়া?? দুপুর থেকে মেয়েটা নিখোঁজ তুমি এখন অব্দি ভাইয়াকে জানাওনি? "

" ও মিটিং এ ছিলো। সেখানেও পরিবেশটা ভালো ছিলো না। আমি ভেবেছিলাম বিষয়টা আমি নিজেই হয়তো ম্যানেজ করতে পারবো। বাট হাত হতে যে এভাবে বের হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি। পুলিশ লোকজন সব হন্য হয়ে খুঁজে চলেছে। আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি বাট....

শেহরিনের হাসি মাখা মুখটা ভেসে উঠতেই সানজির চোখে জলেরা এসে হানা দেয় মুহুর্তেই। বাচ্চা একটা মেয়েকে কিডন্যাপ করা হয়েছে ভাবতেই যেনো তার বুকে অসহনীয় ব্যথা শুরু হয়। কেমন আছে কি অবস্থায় আছে আল্লাহ ছাড়া কেউ ভালো জানেন না। যদি কেউ ওর কোনো ক্ষতি করে দেয়। যদি মেরেই ফেলে...

" তোমাদের এতো রাজনৈতিক ক্ষমতা এতো মানুষজন এতো সবকিছু কোনো কাজেরই না দেখছি ভাইয়া। বিপদের সময় কিচ্ছু কাজে আসছে না। কি করছো তোমরা হ্যা? পুরো চট্টগ্রাম তোমাদের এক নামে চেনে অথচ তোমরা একটা মেয়েকে খুঁজে বের করতে পারছো না।"

" সবকিছু সহজ নয় সানজি। যারা কিডন্যাপ করেছে কেউ একজন প্রশাসনের সাথে জড়িত। যার কারণ বিষয়টা পেঁচিয়ে যাচ্ছে। যাই হোক, নিজেকে শান্ত রাখ। ইনশাআল্লাহ শেহরিনের কিছু হবে না। ওকে খুঁজে বের করতে যা যা করার প্রয়োজন সব করা হবে।"

সানজি প্রতিত্তুর দেওয়া মুহুর্তে সান্নিধ্য শাওয়ার সেড়ে ওয়াশরুম হতে বের হয়। গলায় টাওয়েল ঝুলিয়ে বাম হাতে চুলের পানি ঝারতে ঝারতে এগিয়ে আসে। সানজির দিকে এক পলক তাকিয়ে কেবিনেট থেকে নিজ ফোনটা নিয়ে চালু করে ।

ধূসর নেক ক্রু টি শার্ট পরিহিত ব্যক্তিটির মুখোরেখা যথেষ্ট শান্ত ও নির্মল রয়েছে। মন মেজাজ তার ভিতরে খারাপ থাকলেও বাহির হতে তা বোঝা যায় না খুব একটা। কিন্তু এখন যা শুনবে তারপরে প্রতিক্রিয়া কেমন হবে সেটা ভাবতেই শিহরিত হয়ে উঠে সানজি। ধীর পায়ে এগিয়ে আসে সে সান্নিধ্যের পানে।

" ভাইয়া..বড়..বড় ভাইয়া কথা বলবে তোর সাথে।"

" তুই যা। আমি আমার ফোনে কল দিচ্ছি। "

"লাইনেই আছে কথা বল তুই।"

সান্নিধ্য কোনো রকম প্রতিত্তুর না করে সানজির হতে ফোনটা হাতে নেয়। কথা বলার আগ মুহুর্তে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে," কান্না করেছিস কেন? "

" ক..কই কান্না করেছি? এমনি এক কথা বলিস। "

"হু এমনি এক কথা বলি। আয়নার সামনে গিয়ে দেখে আয়।"

সানজি সরে আসে সান্নিধ্যের সামনে থেকে। আয়নার সামনে না গিয়ে পিছনে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তার চোখ দিয়ে যে পানি বের হয়েছে এটা সে নিজেও জানে। আয়না দেখার আর প্রয়োজন নেই।

সান্নিধ্য ফোনটা কানে নেওয়া মাত্র রাশভারী কন্ঠে বলে,

" কথা আছে তোর সাথে বাসায় আসবি কখন?"

" আসবো কিন্তু একটা অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। "

" কি হয়েছে? "

সরফরাজ নিজের ভিতরে চলমান অস্থিরতা দমানোর চেষ্টা করে। জীবনে কতো মার্ডার, কিডন্যাপ, হানাহানির মধ্যে থেকেছে। কত মৃত্যু,কত নৃশংসতা চোখের সামনে দেখেছে কখনো বুক অব্দি কাঁপেনি অথচ আজ সে স্বাভাবিক কথা বলতে গিয়েও খেই হারিয়ে ফেলছে বারেবারে। কন্ঠরোধ হয়ে আসছে ভিতর থেকে।

কিন্তু সময়ের পাল্লা সে ভারী হতে দেয় না বেশি। ফোনের অপর পাশে থাকা কঠিন পুরুষটাকে নিজের সমস্ত জড়তা ভীরুতা কাটিয়ে ভারী কন্ঠে বলে,

" শেহরিনকে অজ্ঞাত কিছু জানোয়ার কিডন্যাপ করেছে আজ দুপুরে। তুই ব্যস্ত ছিলি জন্য আগেই জানাতে চাইনি। দুপুর থেকে আমি আমাদের লোকজন পুলিশ নিয়ে খুঁজে চলেছি কিন্তু...

সান্নিধ্যের শ্রবণে শেহরিনের কিডন্যাপ হওয়ার কথাটা প্রবেশ করে বেশ স্পষ্টভাবেই। আর তা শোনামাত্র সেকেন্ডের মাঝে মুখোরেখায় চলে আসে আমূল পরিবর্তন। যে শান্ত নির্মল চেহারা একটু আগে পর্যন্ত ছিলো সেটা এক নিমিষেই পরিণতি নেয় কাঠিন্যতায়। দগ্ধ আগুনে তার চোখদুটো জ্বলে উঠে। হাতের মুঠো চেপে শৃগালী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে থমথমে গলায় বলে, " হ্যাভ ইউ লস্ট অফ ইউর মাইন্ড?? সিরিয়াসলি? "

" রিয়েলি সরি। বিষয়টা যে এতোটা জটিল হয়ে যাবে আই কা'ন্ট ইমাজিন। বাট আমি সবদিকে লোক লাগিয়েছি এমন কি পুলিশ এখন পর্যন্ত মাঠেই আছে। সব চেষ্টা চলছে। তুই প্লিজ হাইপার হয়ে যাস না। তোর বড় ভাই থাকতে তোর কেউ কোনদিন ক্ষতি করতে পারবে না।"

"কোথায় আছিস এখন তুই? "

" থানচি ঢুকলাম।"

" ফোন অন রাখিস।"

"আচ্ছা বের হ তুই।"

সান্নিধ্য কান হতে ফোন নামিয়ে সময় দেখো নেয় এক ঝলক্। এখন বাজে প্রায় আটটার কাছাকাছি। লম্বা সময় পার হয়ে গিয়েছে মাঝে । মস্তিষ্কের ভিতরে তার তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। কত বড় কলিজাওয়ালা চট্টগ্রামের বুকে এসেছে যে সান্নিধ্যের অতি মূল্যবান জিনিসের দিকে হাত বাড়িয়েছে। স্পর্শ করেছে তার শেহরিনকে।

শরীরের মধ্যে রক্ত টগবগিয়ে ফুটতে থাকে। চোখ বন্ধ করে সে ক্রমাগত নিঃশ্বাস নিতে নিতে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকে। কঠিন গেম খেলেছে তার বিরুদ্ধে কেউ। কঠিন গেম। পুলিশ প্রশাসনকে টক্কর দিয়ে চলেছে মানে এর পিছনে শক্ত হাত রয়েছে।

" সানজি নিচে যা আর আম্মাকে বলবি খাবার না বাড়তে। আমি এখন বের হবো সেটা জানিয়ে দিবি। আমার জবাবদিহিতা করার সময় নেই। "

" আ..আচ্ছা। "

সানজি ভাইয়ের অগ্নিমূর্তি দেখে কোনো প্রকার দ্বিরুক্তি করে না। সোজা চলে যায় সে কক্ষ ছেড়ে। এখন তার প্রধান কাজ আম্মাকে গিয়ে বুঝানো। সারাদিন পর ছেলে বাসায় এসেছে না খেয়ে বের হওয়ার কথা শুনলেই চিল্লিয়ে বাড়ি মাথায় তুলবে নিশ্চিত। কিন্তু যে পরিস্থিতি এর মধ্যে আম্মাকে ঠান্ডা করে রাখাটা বেশি জরুরি। সব দিকেই আগুন জ্বললে সমস্যা।

সান্নিধ্য তার পরিহিত নেক ক্রু টি শার্টের উপরই সাদা একটা চেক শার্ট পরিধান করে নেয়। অতঃপর কার্বাড হতে চকচকে কালো রিভলবার বের করে কোমড়ের পিছনে প্যান্টের মাঝে গুঁজে নেয় দ্রুতহাতে। মুখে মাস্ক পরিধান করতে করতে বের হয় যায় তার কক্ষ হতে।

" রিমন গাড়ি স্টার্ট করো।"

ঝড়ের বেগে সান্নিধ্য ফোন কানে নিয়ে ড্রয়িংরুম পেরিয়ে চলে যায় বাহিরে। মিসেস নাজনীন ডাইনিং হতে ছেলের এই তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে যাওয়া দেখে বেশ অবাক হন। কি এমন কাজ পড়লো হঠাৎ যে আসা মাত্র খাওয়ার সময়টুকুও হলো না। বেরিয়ে যেতে হলো? তিনি সঠিক কারণ অনুধাবন করতে না পারলেও বাড়ির বড় বউ তিথি খানিকটা সন্দেহী গলায় সানজির দিকে তাকিয়ে বলে, " সানজি কিছু হয়েছে কি? "

" কি..কি হবে ভাবি? "

" সান্নিধ্যের চেহারায় এতো সিরিয়াসভাব কেন? কি এমন হয়েছে যার জন্য তোমাকে পাঠিয়েছে আমরা জন্য কিছু জিজ্ঞেসা অব্দি না করি। কই আগে তো কখনো এমন হয়নি।"

সানজি তৃষ্ণার্ত গলা আরো শুকিয়ে উঠে। শুষ্ক ঠোঁট চেপে বলে, " সেটা আমি কিভাবে জানবো? আর রাজনীতির বিষয়গুলো তো এমনই হয়। তোমার তো জানার কথা ভাবি এরা চব্বিশ ঘণ্টাই দৌড়ের উপরে থাকে।"

সানজির উত্তর চতুর তিথির মনোঃপুত হয় না। সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, " শেহরিন মেয়েটা কে?"

সানজি বিদ্যুৎবেগে দোল খেয়ে উঠে তিথির মুখে শেহরিনের নামটা শুনে। ভাবি শেহরিনকে চিনলো কেমন করে? নাম জানলো কিভাবে ঠাহর করতে পারে না সে। তাসিন যে বলবে ও তো নামই জানে না এখন পর্যন্ত। ইয়ো পানি বলেই তো ডাকে। তাহলে?

" সত্যি করে বলো সানজি। এভাবে লুকানো ছুঁপানো বিষয়গুলো আমাদের পছন্দ নয়। আমাকে না বললে আম্মাকে অন্তত বলো শেহরিন মেয়েটার সঙ্গে সান্নিধ্যের কি সম্পর্ক?"

" সানজি..।"

" আম্মা আমি কিভাবে জানবো। আজব তো।"

তিথি দুকদম এগিয়ে আসে সানজির পানে। পাংশুটে মুখের দিকে তাকিয়ে ধীর কন্ঠে বলে," অনেক কথাই ইদানীং কানে আসছে আমাদের। কিন্তু আমরা সেটা গ্রাহ্য করছি না। দয়া করে এমন কিছু করো না তোমরা তিন ভাইবোনে মিলে যেটার কারণে অন্বেষার পরিবারের কাছে আমাদের ছোটো হতে হয়। সান্নিধ্যের বিয়ে অন্বেষার সঙ্গেই হবে এটুকু মনে রেখো।"

" এতোটা নিশ্চিত দিয়ে বলছো কিভাবে ভাবি? ব্যতিক্রম কিছু ঘটার সম্ভবনাও তো থাকতে পারে।"

তিথি মৃদু হাসে। অতঃপর নরম গলায় বলে, " ব্যতিক্রম যেনো না ঘটে সেই ব্যবস্থা আমরা করে রেখে এসেছি। সেদিন বাবা আম্মা আর আমি অন্বেষাদের বাসায় গিয়ে ওকে রিং পড়িয়ে এসেছি। সো বুঝতেই পারছো বিষয়টা কতদূর এগিয়েছে। "

সানজির বিস্ময়তার সীমা থাকে না। একটার পর একটা সংবাদ আজকে তাকে একদম ভঙ্গুর করে তুলছে। একটা চিন্তাতেই তার মাথা ফেটে যাচ্ছে এর মাঝে আবার এতোবড় ঘটনা ঘটিয়ে এসেছে।

" তোমাদের কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে ভাবি? ভাইয়ার কোনো প্রকার মতামত না নিয়েই রিং পড়িয়ে এসেছো? "

মিসেস নাজনীন রুষ্ট গলায় বলেন, " মতামতের কি আছে ? বিয়ে সংসার করতে হবে না তার? সারাজীবন এই রাজনীতির ঘানি টানলে হবে? আমার ছেলের ভবিষ্যতে আমি গুছিয়ে দিবো না তো কে দিবে? "

সানজি হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে্। মেজাজ হারিয়ে বলে, " আম্মা বিষয়টা এমন নয়। হতেও তো পারে ভাইয়ার অন্য কেউ পছন্দ থাকতে পারে। তোমরা কাজটা মোটেও ঠিক করোনি্। ভাইয়া জানলে কি হবে বুঝতে পারছো?"

" ধীরে কথা বলো। জানলে কি হবে মানে? কে পছন্দের আছে সান্নিধ্যের?"

"আম্মা শেহরিন নামে একটা মেয়ের সাথে সান্নিধ্যের নামটা আমার বেশ কয়েকবার কানে এসেছে। আমি পার্সোনালি চিনি না মেয়েটাকে। কিন্তু অনেকেই আছে যারা চিনেও বলবে না কিছু।"

সানজিকে সূক্ষ্ম ঠেস দেওয়া কথায় মিসেস নাজনীন অসন্তুষ্ট চিত্তে বলেন, " আমার তিনটে ছেলে মেয়েই হয়েছে একরকম। সবার একই ধর্ম। তবে এসব বাহানা আমি শুনবো না। বিয়ে অন্বেষার সঙ্গেই হবে এটা আমার শেষ এবং চূড়ান্ত কথা। কোনো রকমের হেরফের হবে না।"

"রিং পড়িয়ে আসা হয়েছে আম্মা। আর কোনো চিন্তা নেই। "

সানজি তিথির দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসে। যাওয়া পথে পাশ ফিরে তাকিয়ে বলে, " রিং পড়াও আর বালা পড়াও ভাবি, মনে হয় না তাতে কাজ হবে। ভাইয়াকে তো চিনোই সে কেমন। এসব মানলে তো।"

" এতোই যখন নিশ্চিত হয়ে বলছো তাহলে বলো শেহরিন কে?"

" আমি কেনো বলবো। যার বিয়ে তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো শেহরিন কে। সে ভালো বলতে পারবে।"

____________________________________

|রাত নয়টা বিশ, পাহাড়তলী মেট্রোপলিটন থানা|

শেহরিনের ফোনে শেষ লোকেশান ট্র্যাক করতে গিয়ে বারবার বিঘ্নিত হতে হচ্ছে । কোনোভাবেই কানেক্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। অতঃপর প্রায় এগারো মিনিটের মাথায় মোবাইল অপারেটর উজ্জ্বল বড়ুয়া সান্নিধ্যকে জানায় ফোনের শেষ সিগনাল পাওয়া গিয়েছে ডিসি হিলের কাছে। কিন্তু এরপরেই ফোন অফ হয়ে যায়। আর কোনো লোকেশান শো করেনি তারপর হতে।

"তার মানে যাওয়া পথে ফোনটা ফেলে দেওয়া হয়েছে বা একদম সিম খুলে ফেলা হয়েছে । যাতে না ধরতে পারা যায়। ডিসি হিল হয়ে গিয়েছে। "

সান্নিধ্যের চোখদুটো রক্তলাল হয়ে থাকলেও মাথা তার বেশ ঠান্ডা। পায়ের উপর পা তুলে বসে ডান হাত মুঠো করে থুতনির নিচে রেখে সে খুঁজতে থাকে অন্যপথ।

" স্যার সরফরাজ ভাই আসিফ ভাই পুরো থানচি খোঁজ চালিয়েছে পায়নি।"

"ওদের ফিরতে বলো।"

" জ্বি স্যার। শেহরিনের ম্যাডামের বাবা আসছেন।"

"কোথায় আছে? "

"চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন একটু আগে।"

পাহাড়তলী থানার ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার সায়েদ জসীম সান্নিধ্যেকে নানান কিছু ব্যাখা দিতে থাকেন। কিন্তু এমপি সাহেবের সেসব কথা কানে প্রবেশ করে না। সে আপন চিন্তায় মগ্ন। একের পর এক থানা হতে ফোন আসছে সবাই প্রায় আজকের মতো ব্যর্থ খোঁজাখুঁজিতে।

"রিমন ঋতমার কি অবস্থা? "

" স্যার উনি ভীষণ অসুস্থ। অতিরিক্ত আতঙ্কে একদম দূর্বল হয়ে পড়েছেন। পালস্ রেট নেমে গিয়েছিলো।"

" হসপিটালে আছে?"

" আপাতত নেই আসিফ ভাই জানিয়েছে।"

" আচ্ছা ওকে একটু ফোন দাও ।"

রিমন আসিফের হতে নাম্বার নিয়ে সরাসরি কল করে ঋতমাকে। প্রথমবার কলেই ফোন রিসিভ করা হয়। তবে সেটা ধরেন ঋতমার মা। রিমন নিজস্ব পরিচয় দিয়ে অনুরোধ করেন ঋতমার সাথে অল্পক্ষণের জন্য কথা বলবেন এমপি স্যার।

" হ্যালো।"

" জ্বি ভাইয়া। শেহরিনের খোঁজ কি পাওয়া গিয়েছে? "

" এখনো পাওয়া যায়নি। তুমি কি আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে? আই মিন তোমার শরীর যদি স্ট্যাবল থাকে।"

"জ্বি জ্বি অবশ্যই পারবো। বলুন আপনি।"

" যারা কিডন্যাপ করেছে তাদের কি মুখে আবৃত ছিলো?"

"হ্যাঁ মাস্ক দ্বারা ঢাকা ছিলো। একদম অপরিচিত। "

"ওরা কি এর আগে শেহরিন বা তোমাদের দুজনকে কখনো ডিস্টার্ব করেছে?"

" নাহ ভাইয়া। আজকেই প্রথম।একদম হুটহাট। "

" মেইন গেটের কোন পাশে ঘটেছে? "

ঋতমা খানিকটা সময় নিয়ে পুরো জিনিসটা একবার রিক্যাপ করে মস্তিষ্কে। দূর্বল কন্ঠে বলে,

"আমাদের চুয়েটের মেইন গেট হতে ডান পাশের রাস্তাটায়। খুব সম্ভবত ৩০ -৩৫ মিটার দূরত্ব হবে মেইন গেট হতে। আইস কার্নিভাল নামে যে দোকান আছে সেটার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলো গাড়ি।"

" গুড। গাড়ির নাম্বারটা হয়তো খেয়াল করোনি তাই না?"

" ঘটনাটা এতো দ্রুত ঘটেছে ওসব মাথাতেই আসেনি।"

"ভেরি নরমাল। ওকে টেক রেস্ট। ভেরি সরি টু ডিস্টার্ব ইউ।"

"ইট’স ওকে ভাইয়া। আমার খুব চিন্তা হচ্ছে। আপনি প্লিজ যেমন করে হোক শেহরিনকে খুঁজে বের করুন।"

"হুম।"

সান্নিধ্য ফোন রেখে থানা হতে বের হয়ে যায় সরাসরি। তার সঙ্গে সঙ্গে বের হয় পুলিশসহ কিছু লোকজন। চুয়েটের মেইন গেটের সেই আইস কার্নিভাল দোকানে পৌঁছাতেই দু'জন দোকানি পুলিশসহ এমপি সাহেবকে দেখে ঘাবড়ে যায় কিছুটা। দুপুরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাদেরকে দেখছে কি না কে জানে। অসম্ভবেরও কিছু নেই। একদম তাদের দোকানের সামনেই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা এবিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতো না।

সান্নিধ্য পুলিশকে নির্দেশ দেয় দু'জনের হতে প্রয়োজনীয় জবানবন্দি নেওয়ার জন্য। পুলিশ জবানবন্দি নেওয়া শুরু করলে সে দোকানে লাগানো সিসি ক্যামেরার দিকে নজর দেয়।

" সিসি ক্যামেরা কি অন?"

" জ্বি স্যার।"

রিমনকে বলার আগেই রিমন নিজ হতে বসে যায় সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেক করতে। টেনে টেনে ২:০০ এর দিকে সময়টাতে নিয়ে আসে সে। কিন্তু তখনও পুরো রাস্তা পরিষ্কার। ঠিক ২:০৭ মিনিটে চোখে পড়ে দু'জন নারী কায়াকে। দোকানের সামনে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে ঘটে যায় সেই দূর্বিষহ ঘটনা।

সান্নিধ্য শেহরিনকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পারে না। মেয়েটাকে কোনো জানোয়ার হাত দ্বারা স্পর্শ করামাত্র সে চোখ বন্ধ করে নেয় সঙ্গে সঙ্গে। এই বিভীষিকা তার পাথুরে মনে নিয়েও দেখা সম্ভব হয় না। কপালের শিরা তার দপদপ করে জ্বলছে। অথচ বাহিরটা কত শান্ত রেখেছে যেটা একদম তার সঙ্গে বেমানন।

" গাড়িটাকে স্টক করো।"

রিমন পুরো ভিডিও থামিয়ে গাড়িটার দিকে ফোকাস করে। গভীর মনোযোগে সে চেষ্টা করে নম্বর প্লেটটা দেখতে।

বিজ্ঞাপন

" স্যার গাড়ির নম্বর প্লেট ম্যাজিক মার্কার দিয়ে ঢাকা।"

সান্নিধ্য রিমনকে সরিয়ে নিজে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে থাকে। আসলেই গাড়ির নম্বর প্লেট ঢেকে রাখা হয়েছে। এবার উপায়?

" স্যার আমাদের এখন অন্য উপায় বের করতে হবে। এভাবে হবে না।"

" স্যার..."

পুলিশ কর্মকর্তা কিছু বলতে আসতেই সান্নিধ্য ইশারায় চুপ করিয়ে দেয়। কিছু একটা ভাবতেই মস্তিষ্ক তার সজাগ হয়ে উঠে। দ্রুতহাতে সে ফোন লাগায় কোনো এক ব্যক্তিকে,

" গাড়ির মডেল টয়োটা প্রিয়াস। চট্টগ্রামে দুটো শো-রুমে অ্যাভেলেবল। আমি একটা ছবি পাঠাচ্ছি দেখে বলো এটা রিয়েল নাকি ফেক।"

" জ্বি ভাই।"

গাড়িটার ছবি মডেল দেখামাত্র অপর পাশে ব্যক্তিটা অবাক কন্ঠে বলে, " ভাই এটা ফেক। পিছনে রাউন্ড শেপের মাঝে যে লাল রঙের স্টার রয়েছে এটা টয়োটা প্রিয়াসের লোগো নয়। এটা যারা চোরাকারবারির মাধ্যমে কিনে তারা ব্যবহার করে।"

" তুমি শিউর? "

"একশোভাগ ভাই। আমার নিজের শো রুম রয়েছে। আমি জানবো না। "

সান্নিধ্য এক হাতে চুল মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে শান্ত কন্ঠে বলে, " চোরাই আজাদকে পাওয়া যাবে?"

" জ্বি ভাই্। ও বলতে পারবে।"

সান্নিধ্য চোরাই আজাদের নাম্বার কালেক্ট করে তার এক ছেলেকে দ্বারা। ছেলেটা জানায়,," বেশ কিছু সময় ধরে বাঁশখালীর একটি চোরাচালান চক্র এই মডেলের গাড়ি ব্যবহার করা সে দেখেছে। এটা চোরাই আজাদেরই আনা গাড়ি ছিলো।"

" এমপি সান্নিধ্য শাহজাদ খান বলছি।"

" আরে এমপি সাব আপনি এতো রাইতে কি মনে কইরা..?"

" টয়োটা প্রিয়াস কয়টা বিক্রি করা হয়েছে?"

" হইছে কয়ডা্। কেন স্যার। নিবেন নাকি? আছে দুখানা কালেকশান। সেই সুন্দর দেখতে, সেই সুন্দর দামও।"

" কয়জন কিনেছে? "

" টেক্কা দিবেন নাকি স্যার... বারে বারে.."

"জানোয়ারের বা*চ্চা কথা কম বল। যেটা জিজ্ঞেস করেছি সেটার উত্তর দে।"

সান্নিধ্যের ক্ষেপাটে সুর শুনে তব্দা খায় চোরাই আজাদ। ফোনের দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে, " দুইজন কিনছে।গতমাসে একজন আর আজকে একজন।"

" আজকেরটার নাম বল।"

"নাম কওয়া যাইবো না স্যার। নিয়ম নাই।"

" তোর নিয়মের.....। আমি যদি আসি একবার, তোর গায়ের সব গুলো হাড্ডি আলাদা করে দিয়ে আসবো।"

"পুলিশকে যদি জানান দেন তহন?"

"পুলিশ এমনিতেই তোকে খুঁজছে।"

"রেজেক মাইরেন না স্যার।"

সান্নিধ্য ঠোঁটের উপর ঠোঁট কামড়ে নিজেকে শান্ত করতে থাকে। ধীর কন্ঠে বলে, " তোমার রিজিক থানাতেই লেখা আছে। আমি কি যাবো নাকি তোমাকে ধরে নিয়ে আসবো জুয়াড়ি ব্যাটা শালা।"

"কইতাছি।"

" তাড়াতাড়ি বল। "

" গাড়ি যার নামে কেনা হইছে তার নাম তৌসিফ আহমেদ।মীরসরাই, ম্যাজিস্ট্রেট। আপনাদের মতোই সরকারি মা'ল।"

" কয়টাকা খাওয়া হয়েছে তোর?"

"স্যার আমি ঘুষ খাই না।"

" হু তোমার বাপ খায়।"

সান্নিধ্য ফোন কেটে সরফরাজকে কল দেওয়া মুহুর্তে সরফরাজ নিজেই তাকে কল দেয়।

" হ্যালো সান্নিধ্য কি খবর?"

" মীরসরাই তৌসিফ আহমেদ এইটা কে?"

" মীরসরাই?? ও হ্যাঁ ম্যাজিস্ট্রট নতুন এসেছে। তিনমাস হলো। কেন?"

" তোর পরিচিত ?"

"মীরসরাই একবার গিয়েছিলাম গত মাসে্। তখন কথা হয়েছিলো।"

" এই ব্যাটার নাম্বার আমাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ম্যানেজ করে দে।"

"ওয়েট কর।"

সরফরাজ নাম্বার দেওয়ার আগ মুহুর্তে সান্নিধ্যের সামনে উপস্থিত হয় রিজওয়ান সাহেব। মেয়ের খবর পাওয়া মাত্র সব কাজ ফেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এসেছেন তিনি। বিবর্ণ তার মুখোরেখা। চেহারায় একরাশ মলিনতা।

" সান্নিধ্য..? "

সান্নিধ্য রিজওয়ান সাহেবের সাথে হ্যান্ডশেক করে। আশ্বস্ত কন্ঠে জবাব দেয়, " চিন্তা করবেন না। পেয়ে যাবো অতিদ্রুত। "

" কিভাবে কি হলো...? আমার মেয়েটাকে.."

রিজওয়ান সাহেবের চোখের কোণায় ভারী পানি জ্বলজ্বল করতে থাকে। উদ্ভ্রান্তের ন্যায় সে নিজেকে ধরা দেয়। সান্নিধ্য যেনো তা দেখেও দেখে না। অথচ বাহ্যিক দিকটা ভিন্ন হলেও ভিতরটা দুজনের একই হারে পুড়ে যাচ্ছে। একজন পিতা সেটাকে আটকে রাখতে চাইলেও পারছে না, আরেকজন শক্ত মানব সেটা নির্দ্বিধায় হজম করে যাচ্ছে। কারণ একটাই, শেহরিন নামটা এদের দুজনের জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। ভালোবাসা নামক সূত্রে বাঁধা।

সরফরাজ তৌসিফের নামটা ম্যানেজ করে দিতেই সান্নিধ্য কল করে সঙ্গে সঙ্গে। কিন্তু অপর পাশ হতে রিসিভ হয় না। ফের ট্রাই করতে করতে রিজওয়ান সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে,

" তৌসিফ আহমেদ কে? "

"তৌসিফ?? "

সান্নিধ্য ধারালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, " পরিচিত? "

"হ্যাঁ। পরিচিত। এই ছেলের সাথে শেহরিনের বিয়ের কথা চলেছিলো। কিন্তু আমরা তো সেটা প্রত্যাখান করে দিয়েছিলাম।"

রিজওয়ান সাহেবের উত্তরে এতোক্ষণে অংকের হিসাব মেলাতে সক্ষম হয় সান্নিধ্য। ঠোঁট গোল করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে, "ফাইনালি.. তৌসিফ আহমেদ। "

রাজনীতি বনাম প্রেমনীতি বাংলা গল্প pdf সাহিত্য

|রাত সাড়ে এগারোটা, বাঁশখালি|

তৌসিফের ফোন নাম্বারের মাধ্যমে লোকেশান ট্রাক করা হয়

চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলার ধলঘাটা এলাকায় । সান্নিধ্য পুলিশকে আসতে বারণ করলেও পুলিশ অফিসার সায়েদ জসীম তাকে বুঝায় সেখানে তার থাকাটা জরুরি। যেকোনো সময় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কিন্তু একরোখা সান্নিধ্য তা না শোনে না। যার ফলে পুলিশ অফিসার বাধ্য হয়ে দারস্থ হয় সরফরাজের। সরফরাজ ওসি সাহেবের সঙ্গে কথা বলে সান্নিধ্যকে বোঝাতে বলেন। এই তার ছেঁড়া মানুষটা যে কেনো পুলিশকে সঙ্গে নিতে চাইছে না এটা তার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। সে তো একাধারে করবে মার্ডার। পুলিশ থাকলে সেটা সম্ভব হবে না বিধায় তার এতো বারণ।

কিন্তু ওসি সাহেবের অনুরোধে সান্নিধ্য বিরক্ত হয়ে অনুমতি দেয়। সে নিজেও জানে এর পিছনে কার হাত। তবে সময় নষ্ট না করে সায়েদ জসীম সহ মোট পাঁচ হতে ছয়জনকে নিয়ে দ্রুত এসে পৌঁছায় ধলাঘাটায়।

সাগর কোলের এই অঞ্চলটিতে দিনের বেলাতেই করুণ নিস্তব্ধতা ভেসে বেড়ায়। সেখানে তো এখন মাঝরাত। ঘুটঘুটে অন্ধকার ভেদ করে দুটো গাড়ি প্রবেশ করে জঙ্গলের মাঝে। গুগল ম্যাপ অনুযায়ী লোকেশান এদিকটাই শো করছে।

অতি শিক্ষিত মানুষেরা নাকি স্বভাবে একটু বোকা হয়। সেরকম তৌসিফও অতি শিক্ষিত হয়ে বোকার মতো নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছে। ফোনটা কোনো কারণে সে অন করেছে খানিকক্ষণ হলো । আর কিডন্যাপ করে ফোন অন করে রাখা যে কতটা বোকামি এটা হয়তো তার মাথায় নেই। এমনও হতে পারে, হয়তো ভেবেছে তাকে সন্দেহ করার মতো তীক্ষ্ণ বুদ্ধি কারো জন্মাবে না। প্রশাসনের লোক সে নিজেও। ক্ষমতা তো হাতে একটু আছেই।

ঘন বন, উঁচু নারিকেল গাছের সারি আর পথে জমে থাকা কাদা সব মিলিয়ে ধলঘাটা নিজেই যেন এক আতঙ্কের প্রতিচ্ছবি। যার আশেপাশে দু চারটা বাড়ি ছাড়া পুরো নির্জনে ঢাকা।

" আপনারা আশেপাশেই থাকেন। প্রয়োজন হলে ভিতরে আসবেন।"

" স্যার আপনি একা যাবেন ? "

" রিমন যাবে।"

" কোনো কিছু..

সান্নিধ্য পকেটে ফোন ঢুকিয়ে মুখ হতে মাস্ক খুলে ফেলে। তীক্ষ্ণ গলায় জবাব দেয়, " আপনারা গেলে ক্ষতি হবে বেশি। "

জঙ্গলের ভিতরে পরিত্যক্ত দোতলা একটা বাড়ি। কয়েকশো মিটারের মধ্যে কোনে বাড়িঘর নেই। একাকী এক দালান মাথা উঁচু করে ঠাঁই হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সান্নিধ্য ভিতরে প্রবেশ করতেই নজর বুলিয়ে দেখে এটা আসলে পরিত্যক্ত এক বাড়ি। এক কথায় কুকর্মের আস্তানা। এমন আস্তানা ডিসি হিলের পাশে তার নিজেরও আছে। তাই চিনতে খুব একটা অসুবিধা হয় না।

নিচতলার পুরোটা দেয়ালে শেওলা জমানো। জানালাগুলো ভাঙা আর সামনের দরজায় ঝুলছে মরিচা ধরা তালা। তার মানে নিচতলায় কেউ নেই। সব দোতলায় রয়েছে।

----------------------------------------------

"কবুলটা বলে ফেলো শেহরিন। আর কত সময় নিবে? বাসর রাতের সময় তো পার হয়ে যাচ্ছে ।"

কালো রঙের কাঠের দরজার অপর পাশে ভেসে ওঠেছে নির্মম এক দৃশ্য। চেয়ারে বসে টেবিলের মাঝে পা তুলে দিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া উড়াচ্ছে তৌসিফ। চোখে তার ভয়ানক ক্ষিপ্রতা। সামনে বিধ্বস্ত এক রমণীকে দেখতে দেখতে সে নিজের লোলুপতা মিটিয়ে যাচ্ছে একাধারে।।

শেহরিনকে উপরতলায় আনা হয়েছে ঘন্টাখানিক আগেই। দুপুর থেকে সন্ধ্যা সাতটা অব্দি তার হাত পা মুখ বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছিলো নিচতলার ঘরে। তৌসিফ আসামাত্র টেনে হিঁচড়ে উপরে তোলা হয়েছে। দু'গাল তার লালে নিমজ্জিত। অ'সভ্য জা'নোয়ারটা এসেই সকালের প্রতিশোধ তুলেছে তার উপরে। যার কারণে ঠোঁটের কোণে রক্ত শুকিয়ে কালসিটে বর্ণ ধারণ করে আছে ।

ক্লান্ত বিহ্বল শরীর। সামান্য শক্তি নিয়ে নিজেকে ধরে রেখেছে শেহরিন। পিপাসায় গলা কাঠ হয়ে আছে। কতবার অনুনয় করেছে একটুখানি পানির জন্য। কিন্তু পাষাণ দেহী তৌসিফের পোষা কুকুরগুলো রাজি হয় নি। এক সময় কাতর হয়ে উঠলে শেহরিন চিৎকার করে পানি চাইলে তৌসিফ মুখ টিপে ধরে বলে, "কবুল বলার সাথে সাথেই পানি পাবে। তার আগে নয়। এতে যদি মরেও যাও তো আই ডোন্ট কেয়ার।"

কথাটা শোনামাত্র শেহরিনের পানির তৃষ্ণা মিটে গিয়েছে। এই অমানুষটার কথায় রাজি হওয়ার চেয়ে মারা যাওয়া অনেক ভালো। মরবে সে, তবুও কবুল শব্দ উচ্চারণ করবে না।

"এভাবে আর কতক্ষণ? "

কাজির কথায় বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় তৌসিফ। ধীরপায়ে হেঁটে শেহরিনের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। মাথা নিচু করে শেহরিনের কানের কাছে গিয়ে বলে,

"কবুল বলো.."

শেহরিন হতে আসে না কোনো প্রতিত্তুর। তৌসিফ শেহরিনের নিরবতা দেখে গর্জে ওঠে বলে, " বল কবুল। "

তীব্র গর্জনে শেহরিন কেঁপে ওঠে ভয়ানকভাবে। তার শরীর ও মস্তিষ্ক কোনো ধরনের আতঙ্ক কিংবা অস্বাভাবিকতা নিতে পারে না সহজে। হেমাটোফোবিয়া থাকার কারণে পুরো দেহ কম্পনের সাথে শ্বাসরোধ হয়ে আসছে তার। মুখ পুরোপুরি ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করছে। অনুভব করে সমস্ত শরীরও একইসাথে ঠান্ডা হয়ে আসছে। যে কোনো সময় অচেতন হয়ে পড়বে। এতোটা খারাপ পরিস্থিতির সামনে সে জীবনে কখনো মুখোমুখি হয়নি।

শেহরিনের দীর্ঘ সময়ের নিরবতা তৌসিফের ভিতরে ক্রোধের আগুন ধরায়। নিজেকে হিংস্র প্রমাণ করতে সে ঠোঁটের কোণে গুঁজে রাখা সিগারেটের জ্বলন্ত অংশটা শেহরিনের ডান হাতের তালুতে চেপে ধরে।

আগুনের স্পর্শ হাতে লাগতেই চিৎকার করে উঠতে ন্যায় শেহরিন। কিন্তু তার আগেই পিছনে হতে একজন তার মুখ চেপে ধরে।

লাল চোখে টপটপ করে গড়িয়ে পড়তে থাকে পানি। ভ্রু জোড়া উঁচুতে উঠে যায়। বিভৎস এক যন্ত্রণায় শেহরিন অনুভব করে সে হয়তো আর একটু পরেই মারা যাবে।

" স্যার দোতলার সামনের ঘরটায় দু'জন অতিথি এসেছে। আপনার সাথে দেখা করতে চাইছে ইমার্জেন্সি।"

অসময়ে অতিথি আসার কথা শ্রবণ হতেই তৌসিফ হাত ছেড়ে দেয় শেহরিনের। ভ্রু কুঁচকে আসে তার। ক্ষীপ্ত গলায় বলে, " বাড়ির ভিতরে ঢুকলো কিভাবে? পুলিশ ও তো হতে পারে?"

" পুলিশের লোক নয় স্যার। উনারা আপনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বললো।"

" ঘনিষ্ঠ? "

" হ্যাঁ"

তৌসিফ বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। শেহরিনের মুখ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া মাত্র হুংকার দিয়ে বলে, "খবরদার একটা টু শব্দ বের করবি না মুখ থেকে। একটা শব্দ কানে আসবে তো একদম মেরে ফেলবো। সবাই বের হয়ে তালা লাগিয়ে দে। একটু পরে বিয়ে ছাড়াই বাসর হবে।"

একে একে সবাই বের হ'য়ে যায় কক্ষ হতে। সবাই চলে যাওয়া মাত্র শেহরিন চোখ বন্ধ কর নেয় সঙ্গে সঙ্গে ।কারণ, সে যদি একবার এখন হাতের দিকে তাকায় এক মুহুর্ত লাগবে না তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে।

কিন্তু শয়তানটা আবার আসবে বলেছে। বিয়ে ছাড়া বাসর.. কথাটা মনে আসতেই গা গুলিয়ে উঠে তার। নিজেই নিজেকে বুঝাতে থাকে , কোনোভাবেই অবচেতন হওয়া যাবে না। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ে যাবে। যেভাবেই হোক নিজের সম্মানটুকু সে নষ্ট হতে দিবে না।

বাইরে হতে তালা লাগানো শেষে তৌসিফ একাই অতিথিদের কক্ষের দিকে পা বাড়ায়। যেহেতু দুজন তাই সে আর লোক নেয় না সঙ্গে। আন্দাজ করেছে কারা দুজন। নিশ্চয়ই ভাগ চাইতে এসেছে, " শকুনের দুই বাচ্চা ঠিকই খোঁজ পেয়েছে। "

বাঁকা হেসে সে তার লোকদেরকে নিচতলায় পাহারা দিতে যেতে বলে। একজনকে নির্দেশ দেয় কাজিকে বের করে দিতে। বিয়ের দরকার এখন নেই,বাসর হলে এমনি বিয়ে হতে বাধ্য।

নিচতলায় তৌসিফের লোকজন নামতেই পুলিশ কৌশলী হয়ে নিঃশব্দে পিছন হতে কয়েকজনকে পাকড়াও করে ধরে। সরাসরি পিস্তল উঁচিয়ে ধরতেই কেউ পালানোর উপায় খুঁজে না। চুপচাপ আত্মসমর্পণ করে নেয়। সান্নিধ্য সায়েদ জসীমকে শান্ত কন্ঠে বলে, " তৌসিফ নেই বলেছিলাম। বিশ্বাস হয়েছে? এবার এগুলো নিয়ে চলে যান।"

অফিসার সাহেব সান্নিধ্যের কথা বিশ্বাস করতে গিয়েও করে না। কেনো জানি তার মনে সন্দেহের আর্বিভাব ঘটে। কিন্তু স্যারের মুখের উপর দ্বিমত করার সাহস না পেয়ে সে বের হয়ে যায় লোকজনকে নিয়ে।

সান্নিধ্য খানিকক্ষণ নিচে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। অতঃপর এক পলক কলাপসিবল গেটের দিকে তাকিয়ে সোজা চলে যায় উপরে।

অফিসার সাহেব গাড়িতে উঠা মুহুর্তে কিছুটা দূর হতে ইঞ্জিনের শব্দে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। আর তাকানো মাত্র সে এক অবাক করা দৃশ্যের সাক্ষী হয়। পরিত্যক্ত বিল্ডিং এর গ্যারেজের পাশে দক্ষিণ সাইড হতে একটা কালো জিপ গর্জন তুলে চলে যায় চোখের পলকে তার সামনে হতে।

চূড়ান্ত বিস্ময়ে হতবিহ্বল হয়ে যায় অফিসার। হাত মুঠো করে গাড়ির বোনাটে আঘাত করে সে ক্রমাগত। মুখ হতে অস্পষ্টস্বরে উচ্চারণ করে, " শিট।"

সময়ব্যয় না করে প্যান্টের পকেট হতে তড়িঘড়ি করে ফোন বের করে সে। ওসি সাহেবকে ফোনে হতাশা কন্ঠে বলে, " স্যার এমপি স্যার আমাদের ব্যাপকভাবে বোকা বানিয়েছে। তার লোক আলাদাভাবে ইউএনওকে ধরে নিয়ে গিয়েছে আর চ্যালাগুলোকে দিয়ে গিয়েছে আমাদের কাছে। "

" হোয়াট?? কি বলছো?? তোমরা কি করছিলে?"

" স্যার উনি শুরুতে আমাদের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। নিজে শুধু মাত্র একজনকে নিয়ে ঢুকেছিলো। জাস্ট আড়াই মিনিটের মাথায় সে বাসা হতে বের হয়ে এসে আমাদেরকে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করিয়ে নিচতলায় অবস্থান করতে বলে। এই সুযোগে তার আগে হতেই ঠিক করে রাখা লোকজন পিছন গ্যারেজের পাশে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে যায়। সেখানে হয়তো আলাদাভাবে ইউএনও কে ধরে। আর এমপি সাহেব নিজে আমাদের সাথে উপস্থিত থেকে সন্দেহ মাত্রা কমায়। যাতে আমরা না বুঝতে পারি তার লোকজন আগেই উপরে কাজ সেরে ফেলছে। অতঃপর তার কৌশলে চ্যালাগুলোকে আমাদের হাতে দিয়ে আসলটাকে নিয়ে উধাও্।"

" কি ধরনের মাইন্ড গেইম খেলেছে এইটুক সময়ের মধ্যে মাই গড। দূর্ধ্বষ এক ব্যক্তি এই এমপি। একে যারা সহজভাবে নিবে তাদের কপালেই দুঃখ আছে। বয়সে কম হলে কি হবে রক্তে রাজনীতি।এসব ওর কাছে পান্তা ভাত।"

" স্যার উনি তো ডিরেক্ট মার্ডার করে দিবে।"

" তুমি বা*ল ফালিয়েছো অফিসার। এখন আমার ঘাম ছুটবে।"

" স্যার আমি শকড্। চোখের সামনে এই ব্যক্তি কিভাবে...??? "

" রাজনীতি ওর বাপের সম্পদ হবেই তো..

___________________________________

কাঠের দরজার তালা সাইলেন্সার লাগানো পিস্তলের গুলিতে খুলে যায় সঙ্গে সঙ্গে। সাদা শার্টের আড়ালে পিস্তলখানা গুঁজে শক্ত দুটো হাত দরজার পাল্লা প্রসারিত করে দু'দিকে।

অন্ধকার ঘরে মাথার উপরে টিমটিমে হলুদ ম্লান আলো ছড়িয়েছে পুরে মেঝে জুড়ে। ভ্যাপসা এক গন্ধ নাকে ভেসে আসে। তীক্ষ্ণ চোখদুটো অবিরাম খুঁজে চলে তার হারানো প্রেয়সীকে।

শেহরিনের কানে দরজা খোলার আওয়াজ আসে। তার বন্ধরত চোখ খুলতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। সেই নিকৃষ্ট মানবটাকে কি তবে তাকে শেষ করতে আবার হাজির হয়েছে? তাকে মানসিক অত্যাচারে বিধ্বস্ত করার পর এবার কি শারীরিক নির্যাতন চালাবে?

শেহরিনের হৃৎস্পন্দন ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে। নিজেকে হারানোর মুহুর্তে কানে ভাসে এক পুরুষালি ভারী স্বর,

"শেহরিন.."

শেহরিনের শরীরের লোম জেগে ওঠে।মেরুদণ্ড বয়ে শীতল স্রোত নেমে যায়। এই কন্ঠস্বর তার চেনা তার জানা। এই কন্ঠস্বর পেতে কেনো জানি না সে মরিয়া হয়ে উঠেছিলো এতোক্ষণ। তবে কি সত্যি সে এসেছে? নাকি তার মস্তিষ্ক তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

নিজের সঙ্গে একপ্রকার যুদ্ধ করে শেহরিন ধীরে ধীরে চোখ খুলতে থাকে।বিরবির করে কাঁপা কন্ঠে উচ্চারণ করে, "আল্লাহ যদি নেতাসাহেব না হয় তাহলে এক্ষুণি আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাবে। বাবা..বাবাকে তুমি বুঝিয়ে বলে দিবে তার শেহরিন ইচ্ছে করে তাকে ছেড়ে যায়নি।"

"শেহরিন.."

দ্বিতীয় বার ডাকের সঙ্গে সঙ্গে শেহরিন চোখ পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে ফেলে। আর ঠিক সেই মুহুর্তে চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক লম্বা অবায়বের পুরুষ। যার শান্ত মুখটা তার ভীষণ পরিচিত। আর তার দীর্ঘ সময়ের কামনার ব্যক্তি। বাবার কথানুযায়ী, তার নেতাসাহেব।

উচ্ছ্বসিত হয়ে সাথে সাথে ডুকরে কেঁদে উঠে শেহরিন। দূর্বল শরীরটাকে অজানা এক শক্তিতে টেনে তোলে সে। ঝড়ের বেগে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে সান্নিধ্যকে। ক্ষত হাতটাকে রেখে সে বাম হাত দিয়ে তার শার্ট খামচে ধরে। অঝোর ধারা বর্ষণ হতে থাকে তার চোখ হতে। ভঙ্গুর গলা উন্মুক্ত করে বলে উঠে,

"কোথায় ছিলেন আপনি....কেনো এতো দেরিতে আসলেন..আমি তো মরে যাচ্ছিলাম।"

" তুমি চেয়েছিলে আমি আসি??"

" আল্লাহকে বলেছি, আপনাকে যদি না পাঠায় তাহলে যেনো আমার মৃত্যু হয়।"

সান্নিধ্য শেহরিনকে আলতোহাতে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকে । অশান্ত রমণীর মাথায় ছোট করে চুমু দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে, " আল্লাহ চেয়েছেন তুমি বেঁচে থাকো। তাই হয়তো আমি এসেছি। আর ভয় নেই।

তোমার বাবা এবং আমি ব্যতিত আজকের পর থেকে কোনো অযাচিত পুরুষ তোমাকে স্পর্শ করার স্পর্ধা দেখাতে পারবে না। এটা সান্নিধ্যের ওয়াদা ।"

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি বনাম প্রেমনীতি গল্পটি মাহরিণ তৃণ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সামাজিক গল্প