|ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল, রাত দুইটা|
শেহরিনকে হসপিটালাইজড করা হয়েছে একঘন্টা যাবত। সান্নিধ্যের সংলগ্ন থাকাকালীন সময়ের দেড় মিনিটের মাথায় সে অবচেতন হয়ে যায়। নিজের সঙ্গে করা যুদ্ধে হার মেনে সে শরীর ছে্ড়ে দিতেই সান্নিধ্য কিভাবে যে তাকে হসপিটালে এনেছে সেটার সাক্ষী একমাত্র রিমন। আল্লাহ সহায় ছিলেন কেউ গাড়ি চাপা পড়েনি। ঝড়োগতিতে ছুটেছে চাকা। এদিকে একমুহূর্ত নষ্ট করার সময়টুকুও ছিলো না। শেহরিনের শরীর এতোটাই হিম হয়ে গিয়েছিলো যে তার পালস রেটটুকু অনুভব করা সম্ভব হচ্ছিলো না। আর এতেই দ্বিকবিদিক হারিয়েছিলো এমপি সাহেব।
শেহরিনকে হসপিটালে আনা মাত্র ডাক্তাররা তাকে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সরাসরি আইসিইউতে পাঠানোর। কারণ পেশেন্টের যা অবস্থা যেকোনো সময় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হবে।
কিন্তু সিনিয়র ড.নির্মল বসু নিজস্বভাবে পর্যবেক্ষণ শেষে আপত্তি জানান এ বিষয়ে। তিনি সাজেস্ট করেন প্রাথমিকভাবে কেবিন হতে ট্রিটমেন্ট চালু করার জন্য। আপাত সময়ের জন্য আইসিইউ তে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেননা, আইসিইউর পরিবেশে তার জ্ঞান ফিরলে ভীতি হয়ে আরো অ্যাংজাইটি বেড়ে যেতে পারে। ফলে কন্ডিশন আরো খারাপের দিকে যাবে। কেবিনে থেকে যদি অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিকে নিয়ে আসা যায় সেটাই পেশেন্টের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে আর যদি স্বাভাবিক না হয় তাহলে আইসিইউ তে।
সিনিয়র ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাকি দু'জন ডাক্তার সহমত পোষণ করেন তার সাথে। সেই অনুযায়ী কেবিন থেকেই ট্রিটমেন্ট শুরু করেন তারা। শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা হওয়ার কারণে শেহরিনকে দেওয়া হয় হাই ফ্লো অক্সিজেন মাস্ক। সেই সাথে চলে তার ভাইটাল মনিটরিং।
হসপিটাল করিডোরে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে নির্নিমেষ চাহনিতে তাকিয়ে আছেন রিজওয়ান সাহেব। কেন যেনো মনে হচ্ছে রাতের নিকষ কালো আঁধার তার জীবনে নেমে এসেছে প্রগাঢ়ভাবে । করেছে বিবর্ণ, বিধ্বস্ত। কারণ রঙিন যা কিছু সব তার মেয়ের মাঝে ঘেরা। সে অসুস্থ তো পুরো দুনিয়া অচল, পুরো দুনিয়া অসহ্য। বুকের মধ্যেখানিতে অদ্ভুত এক ব্যথায় তিক্ত হয়ে চোখের পাতা তার নামে থেকে থেকে। কখন মেয়ে বাবা বলে ডাকবে এই প্রতীক্ষায় কাটে রাত । নিজের অস্থির মনকে দমাতে না পেরে একটু পর পরই কেবিনে গিয়ে উঁকি দিয়ে আসেন তিনি।
নীল রঙের পোশাক পরিহিত এক দূর্বল কায়া অবচেতন হয়ে ঘুমিয়ে আছে। মুখে তার অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া। ডান হাতটা সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো।
চোখের সামনে ভেসে উঠতেই কলিজা কেঁপে ওঠে রিজওয়ান সাহেবের। পুরুষ মানুষ হওয়ার সুবাদে সে পারছে না মেয়ের এই অবস্থা দেখে হাউমাউ করে কাঁদতে। গলার মধ্যে দলা পাকিয়ে কান্না আটকিয়ে রেখেছে নিদারুণ কষ্টে। কারণ মেয়েকে সে নিজে শিখিয়েছে, বাবারা কখনো কাঁদে না,বাবারা সবসময় কাঁদা মুছিয়ে দেয়। সেই হিসেবে, আজ নিয়মের ব্যতয় ঘটে কি করে?
" আসসালামু আলাইকুম আংকেল।"
রিজওয়ান সাহেব, পুরুষ কন্ঠ শ্রবণে চোখের কোণে জমে থাকা পানি মোছেন সন্তপর্ণে। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখতে পান অপরিচিত এক জনকে। খানিক সেকেন্ডের স্থির দৃষ্টি বিনিময়ে তিনি বুঝে যান, খুব পরিচিত একজনের সঙ্গে চেহারায় কিছুটা মিল। মনে মনে আন্দাজও করে নেন ব্যক্তিটা কে হতে পারে।
" ওয়ালাইকুমুস সালাম।"
" সরফরাজ খান। সান্নিধ্যের বড় ভাই।"
"রিজওয়ান চৌধুরী, শেহরিনের বাবা।"
"জ্বি আপনাকে আমি চিনি। সান্নিধ্য আপনার কথা বলেছে।"
রিজওয়ান সাহেব মলিন হাসেন। হ্যান্ডশেক করা শেষে সরফরাজের পিঠ চাপড়ে দিয়ে নিষ্প্রাণ কন্ঠে বলেন,
" অনেক কষ্ট দিয়েছি তোমাদের বাবা। আমার মেয়েটাকে খুঁজে বের করতে তোমরা যে সাহায্যটা করেছো এটা আমি কখনোই ভুলবো না। আমি চিরঋণী তোমাদের কাছে। "
" এগুলো বলে আমাদের ছোট করবেন না আংকেল। এটা এখন আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে গিয়েছে । আপনার মেয়ে আমার বোনের সমতুল্য, আমার ভাইয়ের জীবনের বিশেষ কেউ। তার বিপদে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবো সেটা কখনোই হয় না।"
" তোমরা আমার মেয়েকে এতোটা আপন করে কিভাবে নিয়েছো?"
সরফরাজ মৃদু হাসে। দুপুর হতে সারাদিনের ছোটাছুটিতে তার মুখোরেখায় এখন গাঢ় ক্লান্তির ছাপ। সান্নিধ্য তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে বাসায় যেতে বললেও সে যায়নি। শেহরিনের বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য, শেহরিনকে একবার দেখার জন্য আবার ছুটে এসেছে হাসপাতালে ।
" বসে কথা বলি? "
" শিউর.. শিউর প্লিজ।"
করিডোরের পাশে থাকা দুটো সোফায় দুজন বসে পড়ে। মধ্যেরাতের নিরবতা বিস্তার করছে পুরো হসপিটাল জুড়ে। পেশেন্টদের আনা গোনা ধরতে গেলে বেশ কম। শান্ত নিরব পরিবেশ।সরফরাজ রিজওয়ান সাহেবের প্রশ্নের উত্তরে স্বতঃস্ফূর্ত কন্ঠে বলে,
" আপন করে নেওয়ার কারণটা হয়তো খুব সিম্পল। সহজ ভাবে ভাবতে গেলে, ভাই ভালোবাসে এই জন্য। তবে, আমি আমার ছোটবোনের থেকে শেহরিনের ব্যাপারে শুনেছি, জেনেছি। ভালো লেগেছে। যদিও এখনো সে পরিবারের কেউ হয়ে উঠেনি তবে আশা করছি অতিদ্রুত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।"
" ইউ আর সো কাইন্ড হার্টেড মাই বয়। থ্যাংকিউ সো মাচ। তবে, সান্নিধ্যের ভালোবাসার ব্যাপারটা আমাকে বেশ অবাক করে।"
" আচ্ছা এটা সান্নিধ্যের দোষ নাকি গুণ বলতে পারি না। অ্যাকচুয়াল কারণটা হচ্ছে , সান্নিধ্য সবাইকে ভালোবাসতে পারে না। ও ভালোবাসার ব্যাপারে এতোটাই কনসার্ন যে নিজ পরিবারের সদস্যদেরও সেখানে ছাড় দেয় না। আমাদের সাধারণত পরিবার বা নিকটাত্মীয় বা ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে একটা ভালোবাসা বা টান থেকে থাকে। বাট ওর সেই টানটা নেই। খুব বেছে বেছে কিছু মানুষকে ভালোবাসবে। আর ওর ভালোবাসাটা এতোটাই মজবুত হবে যে, অপর পক্ষের মানুষ তাকে ভালোবাসতে বাধ্য হবে। খুব বেশি নয়, হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন হয়তো সেই লিস্টে রয়েছে। আমার মনে হয়, সেখানে শেহরিন বর্তমানে টপে আছে।"
" তুমি নেই? "
রিজওয়ান সাহেবের প্রশ্ন করা মাত্র হেসে উঠে দু'জনে। সরফরাজ মাথা নাড়িয়ে বলে, " অল্প কিছু মানুষের ভীড়ে কোনোমতো স্থান পেয়ে আছি। বিকজ, হোয়েন ইট কামস টু লাভ, হি ইজ ভেরি ডিসক্রিট।"
" আমি বুঝতে পেরেছিলাম এই ছেলেটার ভালোবাসা বেশ প্রখর। কারণ অনেকেই আছে যারা ভালোবাসার শুরুতেই নিজেকে জাহির করে, ক্ষমতা দেখায়, আধিপত্য বিস্তার করে। বুঝায়, সে যে ভালোবাসে এটাই অনেক বড় কিছু। বাট নেতাসাহেবের মধ্যে আমি এসব কিছুই পাইনি। বরং আমার মেয়ের রিজেকশনটাও বেশ ধৈর্য্যের সহিত নিয়েছিলো সে। তার নিজের প্রতি নিজের আত্মবিশ্বাস দেখে আমি যথারীতি অবাক হয়েছিলাম।
ঠিক সেকারণে আমি শেহরিনের মাঝে প্রথমেই কোনো নেগেটিভিটি তৈরি করিনি। ওকে সবসময় বলেছি অবজার্ভ করো, দেখো, বোঝো, জানো। অতঃপর মন যেটা বলে সেটা শুনো। এখন মনে হয়, আমার মেয়েটাও কিছুটা তার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েছে। হয়তো ভালোবাসাও তৈরি হতে পারে।"
" তাহলে আর দেরি কি শুভ কাজটা চলুন আমরা মিলেই সম্পন্ন করে দেই। আমার ভাইটাকে একমাত্র শেহরিনই পারবে ঠান্ডা করতে।কারণ, যখনই শেহরিনকে নিয়ে আমরা কোনো কথা বলি সে একদম বরফের ন্যায় শীতল হয়ে যায়। যে কেউ দেখে বলবে, এতো ভালো মানুষ আগে কখনো দেখেনি।"
রিজওয়ান সাহেব দু-হাত বুকের সাথে ভাঁজ করে ছোট করে নিঃশ্বাস ছাড়েন। ধীরস্থির গলায় বলেন, " নেতাসাহেবের সবগুণই আমাকে মুগ্ধ করে কিন্তু দু একটা দোষ আবার চিন্তিত করে তোলে... পুলিশ মামলা মোকদ্দমা কোর্ট রায় এগুলোতে আমাদের অভ্যস্ততা নেই। সেখানে এই ছেলে নির্দ্বিধায় অস্ত্র নিজহাতে তুলে নেয়।"
সরফরাজ মনে মনে যেটা নিয়ে একটু ভাবনায় পড়েছিলো সেটাই সত্যি হয়। সঙ্গোপনে নিঃশ্বাস সে নিজেও ছেড়ে বলে,
" বুঝতে পেরেছি বিষয়টা। এটা আসলে স্বাভাবিক। একজন বাবা, মেয়ের সেফটির জন্য সবদিকে চিন্তা ভাবনা করেই আগাবে। সান্নিধ্যের দোষটাই হচ্ছে এটা। স্বভাবে বেপরোয়া। ভয় করে না সহজে । ওকে যে ঘা দিবে তাকে সে উল্টো ঘা দিয়েই ছাড়বে। আমি সবসময় চেষ্টা করি ইভেন করে চলেছি অন্তত মার্ডার নামক শব্দটা থেকে তাকে দূরে রাখতে। মারপিট হয়তো আটকাতে পারবো না। রাজনীতি করতে হলে এটা আবশ্যক। কিন্তু...
" আমার মেয়ে কতটা দূর্বল এসব বিষয়ে সেটা নিজ চোখে দেখতে পারছো বাবা। আমি কিছুটা চিন্তায় আছি এই নিয়ে... হ্যাঁ এটা বুঝতে পারছি ভালোবাসায় কমতি হবে না কিন্তু সে যদি সুস্থই না থাকে তাহলে কিভাবে একটা সুন্দর জীবন বা সংসার গড়বে?
সরফরাজ খানিকটা ভাবুক দৃষ্টি মেলে তাকায়। কিছু সেকেন্ডের নিরবতা শেষ পরিষ্কার কন্ঠে বলে, " মানুষ ভয় কাটায় ভয়ের মধ্যে দিয়ে গিয়ে। আমি বলছি না শেহরিনকে শক্ত হতে বা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে। কখনোই বলবো না। শুধু আমি কেন, আমার বিশ্বাস সান্নিধ্য নিজেও কখনো শেহরিনকে জোর করে মানিয়ে নিতে বলবে না। বরং শেহরিন যেনো কম্ফোর্ট জোনে থাকে সেটা সে নিশ্চিত করবে যেভাবেই হোক না কেনো। আমি এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। আর রইল ডার্ক সাইডটা। মানুষের জীবন পরিবর্তনশীল আংকেল। সময়ের সাথে সাথে সান্নিধ্যের হয়তো বুঝ আসবে, নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে শিখবে, বেপরোয়া ভাব কমবে। এই যে তার ছোট ভালোবাসার জগত সেটাও হয়তো একসময় প্রশ্বস্ত হবে। সবকিছুরই একটা সময় আছে।"
রিজওয়ান সাহেব নিশ্চুপ থাকেন। সরফরাজ নরম গলায় ফের বলে, " আপনার কাছে আমার অনুরোধ, শেহরিন যদি নিজ হতে সান্নিধ্যকে চায় আপনি প্লিজ না করবেন না। ওদের দু'জনকে একটা পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করে দিবেন। শেহরিন সান্নিধ্যের জীবনে আসলে সব ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। দেখবেন, ওরা ওদের মতো গুছিয়ে নিতে পারবে নিজেদেরকে । আমরা অযথাই হয়তো চিন্তা করছি। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার আমি বড় ভাই হিসেবে আমার একটা বোনকে আগলে রাখতে পারলে আরেকটা বোনকে কেন পারবো না? সঙ্গে আমার পরিবার তো আছেই । "
কিছুটা অবাক দৃষ্টি মেলেন রিজওয়ান সাহেব। সরফরাজের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে নির্মেদ স্বরে বলেন, " তোমাকে দেখে আমি বেশ আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি বাবা। আজকাল এটা খুবই রেয়ার। ভাই হয়ে ভাইয়ের জন্য এতো ভালোবাসা? আমার তো বলতে ইচ্ছে করছে, হাউ ক্যান ইট পসিবল?? এরকমটা এই আধুনিক যুগে হয় কখনো?"
" আধুনিক যুগে হয়তো কমই হয়। বাট নাইন্টিস কিডস্ আমরা। সেজন্যই হয়তো।"
" তুমি হাসছো? আমি রীতিমতো অবাক হচ্ছি।"
সরফরাজ হাসা কমিয়ে স্থির হয়ে বলে, " ওকে ওকে লেট মি ডিসক্রাইভড, আসলে জন্মের পর চোখের খোলার সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পেলাম বাবা তুখোড় রাজনীতিবিদ, আম্মা কর্মজীবী নারী। অতঃপর পাঁচ বছর বয়সে ফ্যামিলিতে আগমন হলো আরেক তুখোড় মাথা গরম রাজনীতিবিদের। বাবা মা দু'জনেই ব্যস্ত। সো আমাদের দাদুর কাছেই বড় হওয়া। কিন্তু ছয় বছর বয়সে পা রাখার আগেই দাদু মারা গেলেন। সান্নিধ্যের তখন এক বছর ছুঁইছুঁই। এখন যত যাই হোক, কর্ম ফেলে তো আর থাকা যায় না। আম্মা অনেক চেষ্টা করতেন সবকিছু ম্যানেজ করে চলার। আমি যেহেতু বড় তাই আমার দায়িত্ব ছিলো সান্নিধ্যকে দেখে রাখার। সেই যে দেখা শুরু হলো আজ পর্যন্ত সেটা চলমান। বের হতে পারিনি। আমার ছোট একটা বাচ্চা আছে। আমি যতোবার ওকে দেখি মনে হয় এটা সেই সান্নিধ্য। যাকে আমি নিজ হাতে মানুষ করেছি। বাবার বিরুদ্ধে কোট কাচারি হয়েছে অনেক, আম্মাকে সেখানে দৌড়াতে হতো সবসময়। বেকায়দায় পড়তাম আমি। বিকেলে খেলটাকে মিস্ করতাম। মাঠে গিয়ে, এক হাতে ব্যাট অপর হাত ওকে ধরে রেখেছি।"
" সাব্বাশ ব্যাটা । তোমার বাবা মা ভীষণ লাকি এমন একটা দায়িত্বশীল ছেলে পেয়ে। যদি ভুল না করি বোনটাও তো তোমার হাতেই মানুষ হয়েছে? "
সরফরাজ ক্ষীণ হাসে। চাপা কন্ঠে বলে, " হ্যাঁ ভাইবোন আমার হাতেই মানুষ হয়েছে। তবে, সানজি আমাদের দুই ভাইয়ের কাছে সবচেয়ে বেশি আদরের। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, আমাদের আদরের বোন আমাদের রক্তের কেউ নয়। "
" সরি? বুঝতে পারলাম না তোমার কথা।"
" সানজিকে দত্তক নেওয়া হয়েছে। ওর যখন জন্ম হয় তখনই ওর মা মারা যায়। নাজির আংকেল ছিলেন আমার বাবার সহকারী। ১৯৯৮ সালে বাবার নির্বাচনী প্রচরণায় জুলফিকার সিকদারের গুলিতে মারা যান তিনি। তখন সানজির বয়স সাত মাস। নাজির আংকেলের বৃদ্ধা মা এক নবজাতক সন্তান নিয়ে ঠাঁই নেন আমাদের বাসায়। তিনি আমাদের হাতে অলিখিত চুক্তিতে আজীবনের জন্য সানজিকে তুলে দেন। একটা বোন পেয়ে আমরা তো ভীষণ খুশি। আমার বাবা মা ও নিজ সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে নেন। আমরা বিষয়টা এতোটাই প্রাইভেট রেখেছি যে খুব কাছের কয়েকজন আত্মীয় স্বজন ছাড়া সারা দুনিয়া জানে সানজি আমাদের নিজের বোন। আমরা আড়াইবছর এই কারণে চট্টগ্রামের বাহিরে থেকেছি। যাতে আশেপাশের মানুষ কখনো সন্দেহ না করতে পারে। ইভেন আমার ওয়াইফও জানে না। কোনো এক কারণে যদি মন মালিন্য হয় যদি হুট করে বলে ফেলে.. আমরা সেটা মেনে নিতে পারবো না। আমার বোন আমাদের দুই ভাইয়ের কলিজা।"
" মাই গড। স্পিচলেস আমি। তোমাদের চেহারার সাথে তোমার বোনের চেহারার নাকি অনেক মিল শেহরিন আমাকে বলেছে।"
" তাই নাকি। শেহরিনের কাছে হয়তো এক লেগেছে। আর হতেও পারে, আল্লাহ হয়তো ওকে আমাদের আপন করার জন্য কিছুটা মিল দান করেছেন। একেকজনের দৃষ্টিতে মানুষ এক এক রকম। আর ছোট থেকে একসাথে বেড়ে উঠা জেনেটিক্যালি হয়তো মিল নেই তবে স্বভাবে চরিত্রে এক আছে। "
" এটা সঠিক। ভালোবাসা তোমাদেরকে একত্রিত করেছে। আচ্ছা ওয়ান মোর কোয়শ্চেন, বাই এনি চান্স যদি তোমাদের আত্মীয় স্বজন বলে ফেলে?"
" সেরকমটা চান্স নেই। আমার একটাই চাচা কোনো ফুফু নেই। চাচা সারাজীবন বিদেশেই থেকেছেন। দেশে এসেছেন ছয় সাত বছর আগে। নানা নানু জানতেন তারা তো মারাই গিয়েছেন।দুজন মামা আছেন। উনারা এতোকাল যেহেতু বলেনি, মনে হয় না কখনো বলবে। আর এখন তো মুখ খোলার সাহসই পাবে না কারণ..
" কারণ সান্নিধ্য....।"
সরফরাজ মাথা নেড়ে হেসে সায় জানায়। রিজওয়ান সাহেব সোফায় শরীর এলিয়ে দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলেন, " ডিরেক্ট শ্যুট করে দিবে নিশ্চয়ই? "
" এ ব্যাপারে আমি আপনাকে চোখ বন্ধ করে নিশ্চিয়তা দিতে পারি। বলেছি না, ও যাদেরকে ভালোবাসবে তাদের জন্য জান দিবে নির্দ্বিধায়। এজন্যই লিস্টে সংখ্যা কম রাখে।"
" লিস্ট সংখ্যা কম তাহলে কিভাবে কি ম্যানেজ করে?"
" ও খুব স্বাভাবিক ভাবে চলে। কথায় আর কাজে বুঝিয়ে দেয় প্রত্যেকের সীমারেখা। হয়তো এতে কেউ বুঝে যায় কেউ বোঝে না।"
" ভেরি ইন্টেলিজেন্ট এন্ড চুজি পার্সন। আমাদের সাথে কেউ দীর্ঘ সময় আলাপন করলেই ভালোবাসা তৈরি হয়ে যায়। এই যে তোমার সাথে আমার কথা হচ্ছে তোমাকে তো আমার বেশ ভালো লেগে গিয়েছে।"
সরফরাজ যৎকিঞ্চিত হেসে প্রতিত্তুর দেয়, " ওকে যদি এ ব্যাপারে প্রশ্ন করি, ডিরেক্ট উত্তর দিবে ভালোবাসাটা ভীষণ দামি একটা অনুভূতি। অযথা অপচয় করার কোনো মানে নেই। "
" নেতা হয়ে এই কথা? তাহলে জনসেবা?"
" ওটা ওর প্রফেশন ওর দায়িত্ব। হয়তো এটাকেও লিস্টে রেখেছে। তবে, কাজের প্রতি সৎ থাকলে ভালোবাসা প্রকাশ করার প্রয়োজন হয় না। মানুষ এমনি বুঝে যায়। "
" সঠিক। তবে আমি ভেবেছিলাম কি জানো, একটাই মেয়ে যেহেতু্ আমার, মেয়েজামাই একটু ধীর স্থির শান্ত স্বভাবের চয়েস করবো। কিন্তু কি আর করা উপরওয়ালার খেল। নিলাম মেনে। এমন ভাইবোনের মাঝে নিজের মেয়েটাকে রেখে নিশ্চিন্তে পরপারে চলে যেতে পারবো। আল্লাহ সবদিকে পরিপূর্ণ না করলেও কিছুদিকে পরিপূর্ণ রাখেন যাতে মানুষ সন্তুষ্ট হতে পারে। আমি সন্তুষ্ট তোমাদের বন্ধনে। গড ব্লেস ইউ মাই বয়। তোমার মতো বিগ ব্রো প্রত্যেক ঘরে ঘরে হোক।"
" ধন্যবাদ আংকেল। "
______________________________________
রাত তিনটে পঁয়তাল্লিশ।
চট্টগ্রাম শহরের ডিসিহিলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক পরিত্যক্ত দালানের ভেতরে চলছে শান্ত মস্তিষ্কের এক জটিল খেলা।
শেষ রাতের মৃদু বাতাসে সেখান হতে নাকে ভেসে আসছে ইট, সিমেন্ট আর মরিচা ধরা লোহার গন্ধ। একটি ছোট আবদ্ধ কক্ষ। দেয়ালজুড়ে জমাট বাঁধা নোংরা মাকড়সার জাল। আর বিস্তীর্ণ ফাটলের দাগ।
কক্ষের মাঝখানে একটি কাঠের চেয়ারে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা রয়েছে ইউএনও সাহেব । পড়নে তার দামি স্যুট ব্যুট ছিঁড়ে খুঁড়ে এখন নোংরায় জর্জরিত । মুখে কালো রঙের একটা কাপড় বাঁধা। চোখ দুটো ঘোলাটে, চুল উস্কখুষ্ক।
কপালে বেঁধে দেওয়া রক্তমাখা কাপড় ভিজে উঠেছে প্রায় । এখানে আসার সাথে সাথে আসিফের ক্রোধে শিকার হয়েছে সে। বেচারার সারাদিন ঘুরে ঘুরে মেজাজ বিক্ষিপ্ত বনে চলে গিয়েছিলো। সান্নিধ্যের হসপিটাল হতে আসার আগেই তাই নিজের খায়েশ কিছুটা পূর্ণ করেছে। যদিও নিজ হতে থামেনি সান্নিধ্যের বাকি ছেলেপেলেরা তাকে থামিয়েছে জোরাজুরি করে।
রাত গভীর। জঙ্গলের মাঝ হতে ভেসে আসে কুকুরের করুণ ডাক। তৌসিফের সামনের চেয়ারটায় পায়ের উপর পা তুলে
ধীর ভঙ্গিতে বসে আছে সান্নিধ্য। মুখোরেখা তার বেজায় শান্ত। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট, যেখান হতে উড়ছে ধোঁয়ার একটি ক্ষীণ স্রোত। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে সামনে বসা সেই বড় কলিজওয়ালার দিকে।
কিয়ৎ সময় পার হয়। সান্নিধ্য ধীরে ধীরে সিগারেটটা মুখে নিয়ে একটা টান দেয়। আগুনের গোলা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সেই সাথে মুখোশের মতো নিষ্প্রাণ মুখটা ও তার রক্তিম আভায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। খানিক সেকেন্ড পরেই সিগারেটটা নামিয়ে ফেলে ঠোঁটের অগ্রপ্রান্ত হতে। রিমনকে দিয়ে ইশারায় মুখ খোলায় ইউএনও সাহেবের। অতঃপর নিঃশ্বাস ছেড়ে ঠান্ডা গলায় বলে,
" আগে কোথায় পোস্টিং ছিলো?"
" মাদারীপুর।"
" কয় টাকা খেয়ে বদলি নিয়ে এখানে আসা হয়েছে? "
" সবাইকে নিজের মতো ভাবা বোকামি।"
" হু। সঠিক।"
" আমাকে ছেড়ে দেওয়া হোক। "
"কেন বাবা কষ্ট হচ্ছে তোমার ?"
তৌসিফ চোখ তুলে তাকায় সান্নিধ্যের দিকে্। নিরেট স্বরে বলে," ক্ষমতা কিন্তু আমারও আছে এমপি সাহেব। সরকারের লোক আমি নিজেও সো বেশ বাড়াবাড়ি করো না।"
" তোমার ক্ষমতা দেখার জন্যই তো এতো যত্ন করে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে তুলে নিয়ে এসেছি। জানতামই পুলিশ থাকলে জমবে না। দেখাও এখন... "
" ছেঁড়ে দে বলছি।"
"ছাঁড়বো সময় হলে ।"
সান্নিধ্য হাতের ঘড়ির দিকে এক পলক তাকিয়ে সময় দেখে নিয়ে বলে, " চারটার সময় লা লিগা না? "
"জ্বি ভাই।"
"তা ইউএনও সাহেব কোন দল? "
তৌসিফ সান্নিধ্যের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে কোনো জবাব দেয় না। সান্নিধ্য সিগারেট টানতে টানতে বলে, " না জবাব দিলে থেরাপি দেওয়া হবে।"
" বার্সেলোনা।"
" রিয়াল মাদ্রিদ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে? "
"লিভারপুল।"
" ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আসিফ ..এ শালা তো দেখি সব দিক থেকেই আমার বিপক্ষে।"
আসিফ হাসতে হাসতে বলে,
"এল ক্লাসিকো।"
সান্নিধ্য সিগারেটটা বাম হাতে নিয়ে পকেট হতে ফোন বের করে।
সরফরাজ হতে একের পর এক কল আসা দেখে ফোনটা বন্ধ করে পকেটে ঢুকিয়ে নেয়।
"আমাকে চেনাজানা ছিলো? "
" হু।"
" কি ব্যাপার শুধু আমিই চিনতাম না এই ব্যাটারে।"
" তিন মাস হলো এসেছে ভাই।"
" তিনমাস? তুমি তিনমাস এসেই সান্নিধ্যের পিঠে ছুরি চালানোর সাহস দেখিয়েছো। সাহস আছে। "
" শেহরিন আমার। শেহরিনকে আমি ভালোবাসি এবং ওর সাথে বিয়ে আমারই হবে। কোনো কুকুর এসে ঘেউ ঘেউ করলেও কাজ হবে না।"
এতোক্ষণ অব্দি এমপি সাহেবের মন মস্তিষ্ক ঠান্ডা থাকলেও তৌসিফের মুখের কথা তাকে উত্তপ্ত করে তোলে মুহুর্তেই । চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় সে । তার দৈহিক উচ্চতার ছায়া মেঝেতে পড়ে পুরো রুমটাকে গ্রাস করে নেয়।
সান্নিধ্য এগিয়ে আসে ধীর পায়ে। তৌসিফের খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়। সামান্য ঝুঁকে ঠান্ডা গলায় নির্দেশ দেয়,
" ডান হাত খুলে দাও ওর।"
রিমন আদেশ পাওয়া মাত্র এগিয়ে এসে দড়ি বাঁধা ডান হাত খুলতে শুরু করে তৌসিফের। অর্ধেক খোলা শেষ হতেই সান্নিধ্য তাকে থামিয়ে নিজেই দ্রুত বাঁধন ধরে টেনে আলগা করে নেয়। শক্ত হাতে তৌসিফের ডান হাতের তালুটা উন্মুক্ত করে।
জ্বলন্ত সিগারেট সেই সাথে উন্মুক্ত হাতের তালু। তৌসিফের চোখে আতঙ্কের রেশ ঠিকরে বের হয়। জোরে জোরে নিশ্বাস প্রবাহিত হয় নাসাপথ দিয়ে। এক মুহূর্তে মনে পড়ে, তার সাথে যেটা ঘটতে যাচ্ছে এখন সেটা কয়েক ঘন্টা আগে একজনের সাথে ঘটিয়ে এসেছে সে নিজেই । শেহরিনের হাত পুড়িয়েছে এভাবে।
সিগারেটের আগুনে জ্বলন্ত অংশটা লাল, উত্তপ্ত। সান্নিধ্য একপলক তৌসিফের চোখের দিকে তাকায়। অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে সিগারেটের জ্বলন্ত প্রান্তটা চেপে ধরে তৌসিফের কোমল তালুর ওপরে।
ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট এভাবে চলতে থাকতে। চর্বি পোড়ার এক আর্দ্র শব্দ কক্ষে মিশে যায়। তৌসিফের গলা ফাটা চিৎকার ভেসে বেড়ায়। রিমন এসে ফের তার মুখের ভেতরে কাপড় গুঁজে দেয়। ফলে গলা ফাটা চিৎকার রুপ নেয় বিকট আওয়াজে।
সান্নিধ্য হাত বাড়াতেই আরেকটা জ্বলন্ত সিগারেট তার হাতে দেওয়া হয়। সেটা সে বাম হাত দিয়ে তৌসিফের মুখ হতে কাপড় সরিয়ে পুরো জ্বলন্ত অংশটা পুরো ঠোঁটজুড়ে লেপে দেয়।
তৌসিফের সমস্ত দেহ বিদ্যুতের মতো ঝলকে ওঠে। শরীর টলে উঠে সেই সাথে। ঘোলাটে চোখ দুটো যেন এখন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসবে।
সান্নিধ্য চোয়াল শক্ত করে হিংস্র স্বর উন্মুক্ত করে বলে, " এই মুখ দিয়ে আমার শেহরিনের নাম ভুলেও বের হবে না। মাইন্ড ইট? হেই বাস্টার্ড.. মাইন্ড ইট !!
সান্নিধ্য গর্জনে তৌসিফ কোনমতে মাথা নাড়ায়। পুরো কক্ষ কেঁপে ওঠে সেই সাথে। আসিফ রিমন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ভাইয়ের এরুপ তাদের চেনা।
আগুনের স্পর্শে মুখমণ্ডল বিকৃত হতে থাকে তৌসিফের। অসহ্য যন্ত্রণায় সে ছটফট করতে থাকে। কপালে শিরা ফুলে উঠেছে, মুখের মাংসপেশিগুলো টানটান।
সান্নিধ্যের মুখে কোনো অনুশোচনা নেই বরং বরফ শীতল তৃপ্তি তার চোখে মুখে। সে সিগারেটটা সরায়। তৌসিফের হাতের তালুতে, ঠোঁটে এখন কালো, গভীর পোড়া দাগ। চারপাশের চামড়া লাল, ফোস্কা পড়তে শুরু করেছে।
তৌসিফের মাথা ঝুঁকে পড়ে। হাঁপাতে থাকে অবিরামভাবে। সান্নিধ্য ক্রোধান্বিত স্বর ভেদ করে বলে,
"এটা তো স্রেফ শুরু ইউএনও সাহেব। এখনই এভাবে মাথা নিচু করলে হবে? তোমার করা প্রতিটি জুলুমের হিসাব নেওয়া হবে। আমার শেহরিনের ফেলা প্রতিটি অশ্রুর বিনিময় হবে তোমার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি মাংস, ভেঙে ফেলা প্রতিটি হাড়।"
সান্নিধ্য পিছিয়ে যায়। তার চোখের দৃষ্টি ধীর ধীরে আরো ক্রুব্ধ হয়ে ওঠে। পড়নের শার্টের হাতা গুটিয়ে ঘড়ি খুলে ফেলে দেয়। ফুলে উঠা পেশিগুলো ম্লান আলোতে দৃশ্যমান হয়ে উঠে।
প্রথম মুষ্টি আসে তৌসিফের পেটে। গভীর নিস্তব্ধ একটা শব্দ ভেদ করে যায়। এক মুহুর্ত সময় ব্যয় না করে হাতের কনুই দ্বারা জোরালো আঘাত তৌসিফের গালে চাবুকের মতো এসে লাগে । তার মাথা ঝাঁকি দিয়ে একদিকে ঘুরে যায়। মুখ হতে ছিটকে বেরিয়ে আসে রক্ত।
সান্নিধ্যের হাত থামে না। তৌসিফের বাঁধা অবস্থায়ই ঘুষির পর ঘুষি বসায় তার চোখে মুখ গলায় । প্রতিটি ঘুষি তার হিসেবকৃত। প্রতিটি ঘুষি নিখুঁত। প্রতিটি ঘুষি নৃশংস।
মুখজুড়ে ক্রোধের ঝড় বইতে থাকে । নিজের হাত রক্তাক্ত হয়ে উঠলে সে পাশে পড়ে থাকা একটা লৌহ দন্ড তুলে নেয় হাতে। বুক বরাবর আঘাত করে বসতেই তৌসিফ চোখ বড় বড় হয়ে শরীর ছেড়ে দেয়। মুখ হতে বেরিয়ে আসে তীব্র গোঙানির আওয়াজ। আর একটু হলেই যেনো তার নিঃশ্বাস বের হয়ে আসবে। চোখ মুখে আঁধার ঘনিয়ে সে চেয়ারসহ পড়ে যায় মাটিতে।
সান্নিধ্যের চোখে তখনও ঝরছে আগুনে। যে আগুন তাকে অন্যায়ের ইন্ধন জ্বালাতে সাহায্য করে । পা দিয়ে সে গলা চেপে ধরে তৌসিফের ।
জ্ঞান হারানোর কিনারায় এসে দাঁড়ায় তৌসিফ । শ্বাস প্রশ্বাস তার ক্ষীণ হতে ক্ষীনতর হতে থাকে্। সান্নিধ্য হাতের সেই লৌহ দন্ড দিয়ে পরপর তার দুতো হাতের কবজি বরাবর আঘাত করে।তৌসিফ অনুভব করে দুটো হাত তার চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। সামান্যতম শক্তি খুঁজে পায় না।
" কিছুই না শুধু মাত্র স্পর্শ করার নমুনা ।"
" ভাই মরে যাবে মনে হচ্ছে।"
সান্নিধ্য কোমড় হতে পিস্তল বের করে। বুক বরাবর নিশানা করে ট্রিগারে হাত রাখে। সময়ের ব্যাপার প্রেস করা। কিন্তু অসময়ে ঝড়োবেগে সরফরাজ সেখানে এসে উপস্থিত হয়। দৌড়ে এসে সান্নিধ্যকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয় সেখান হতে।
" এনাফ সান্নিধ্য.. আর না। "
" তুই সর। "
" ও এমনিতেই মরে যাবে। "
" আমার হাতে মরুক। "
" তোর হাতেই মরেছে। প্লিজ আর না... "
" ধুর ব্যাটা..সর তুই। "
সরফরাজ সান্নিধ্যকে টেনে ধরে আসিফ রিমনকে ক্রুদ্ধ স্বরে নির্দেশ করে তৌসিফকে সরিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু আসিফ রিমন দুজনেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সান্নিধ্য হতে কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তারা এক পা নড়ে না।
" তুই কি চাস আমি তোর গায়ে হাত তুলি? "
" তোল হাত। তবুও আমি ওকে শেষ করবো। এখনও ওর নিঃশ্বাস চলছে। ও শেহরিনের গায়ে হাত দিয়েছে। ও শেহরিনের হাত পুড়িয়েছে। মেয়েটাকে কষ্ট দিয়েছে।"
" তুই যা শাস্তি দিয়েছিস বেঁচে থাকলেও ও প্রতি মুহুর্তে মৃত্যুর স্বাদ পাবে ভাই। তুই শান্ত হও। তোর সঙ্গে এখন শেহরিনের জীবন জড়িয়ে। এইটা মাথায় রেখে মানুষ খুন কর।"
দুইভাইয়ের চলমান ধ্বস্তাধস্তিতে সান্নিধ্য এক পর্যায়ে শান্ত হয়ে যায়। শেহরিনের সঙ্গে নিজের জীবন জড়ানোটা তার মস্তিষ্কে এসে পৌঁছায়। দৃষ্টি স্থির হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে। মেয়েটা রক্ত ভয় পায়, পিস্তল ভয় পায়। অথচ এই দুটোই তার হাতে। তাহলে কি শেহরিন...
সান্নিধ্য হাত হতে পিস্তল ছুড়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। পকেট হতে টিস্যু বের করে হাত মুছতে মুছতে বলে, " শু*য়োর বাচ্চাকে সোজা কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দিয়ে আসো।"
এতোক্ষণে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি হতে নির্দেশনা আসতে আসিফ রিমন কাজে লেগে পড়ে। বাইরে হতে তাদের লোক ডেকে এনে তুলে নিয়ে যায় তৌসিফকে।
সরফরাজ ধারালো স্বরে বলে, " চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের গেটের সামনে রেখে আসো। "
সান্নিধ্য হাত পরিষ্কার করা থামিয়ে তাকাতেই সরফরাজ সঙ্গে সঙ্গে বলে, " একদম চুপ। বেশি বুঝতে আসবি না। আমি এখন যেটা বলবো সেটাই মানতে হবে। ইউএনও এইটা। বিষয়টা উপর পর্যায়ে যাবে। মা*রা তুমি খাবে সান্নিধ্য, যদি সে নিখোঁজ হয়। যে অবস্থা এর, সরকারি হাসপাতালে থাকলে এমনি হয়তো মারা যাবে। আর মারা না গলেও কোনো ভাবে বেঁচে গেলে আজীবন পঙ্গুর মতো বেঁচে থাকবে্। আমাকে কেস্ সাজাতে দাও্। কালকে সকালে ওসি সাহেবের কাছে জবাব দিতে হবে।"
" ওসি সাহেবের **"
" চুপ। একটা কথা না। ওদের বল ।"
সান্নিধ্য হাতের টিস্যু মুঠো করে ফেলে দিয়ে আসিফ রিমনকে সরফরাজের কথামতো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়।
উত্তাল পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয় সময়ের ব্যবধানে। বদ্ধ কক্ষ হতে সবাই চলে যেতেই সান্নিধ্য নিজেও বের হয়ে যায়। তার পিছু পিছু আসে সরফরাজ।
" শেহরিনের কি অবস্থা এখন? "
" আছে ভালো।জ্ঞান ফিরেছে । তুই যাবি হাসপাতালে? "
" হু।"
" তোকে এই অবস্থায় দেখলে আবার জ্ঞান হারাবে।"
সান্নিধ্য প্যান্টের পকেট হতে গাড়ির চাবি বের করতে গিয়ে হাত থামিয়ে সরফরাজের দিকে তাকায়। সরফরাজ নির্বিকারচিত্তে গাড়ির দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে বলে, " তাকিয়ে লাভ নেই। বাসায় যা। শাওয়ার নিয়ে একটা ঘুম দে। মাস্তানদের মতো চেহারা কাটিয়ে তারপরে ওর সাথে দেখা কর। সুস্থ ফিল করবে মেয়েটা।"
সান্নিধ্যের হাত হতে চাবিটা কেড়ে নিয়ে সরফরাজ নিজে গাড়িতে ঢুকে যায়। নিজে ড্রাইভিং সিট দখল করে সান্নিধ্যকে রিলাক্সে বসার সুযোগ দেয়।
" উঠ ব্যাটা পাঁচটা বেজো গেলো। আমার এনার্জি ডাউন আজকের মতো।"
সকাল দশটা,
ঝকঝকে মিষ্টি রোদের সম্ভার সাদা রঙের পর্দা ছাপিয়ে প্রবেশ করেছে কেবিনজুড়ে । শেহরিনের শারীরিক অবস্থার বেশ খানিকটা উন্নত হলেও ভীষণ দূর্বল সে। হাতের ক্ষতটা সাড়তে বেশ সময় লাগবে।
অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভোর রাত হতেই স্বাভাবিকে এসেছে। ড.নির্মল বসু ছয়টার সময় এসে ফাইনাল চেক আপ করে গিয়েছেন। এখন মোটামুটি সে আশংকামুক্ত। তবে ডিসচার্জ দেওয়ার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এখন পর্যন্ত। কালকে রাতে শেহরিনের অবস্থা নাজুক করে তুলেছিলো প্রত্যেককে। ড.নির্মল বসুর প্রথম সাজেস্টেই বলে দিয়েছেন ভালো সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতে। এভাবে নাজুক হয়ে চললে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে যেকোনো সময়। আল্লাহ সহায় ছিলেন জন্য অল্পের উপর দিয়ে বেঁচে গিয়েছে এ যাত্রায়।
রিজওয়ান সাহেব শেহরিনের সাথে সাক্ষাৎ শেষে মাত্র বের হয়েছেন কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। এছাড়া তিনি তার এক ডাক্তার বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করবেন দেশের বাহিরে ভালো একজন সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানোর জন্য।
নীল রঙের হাসপাতালের ড্রেস পড়া দূর্বল রমণী ঠোঁট মুখ কুঁচকে আছে। সামনে বাড়ন্ত স্যুপ একবার টেস্ট করে তার আর দ্বিতীয় বার মুখে তোলার রুচি হচ্ছে না। এতো বাজে স্যুপ সে আগে কখনো খায়নি।
" ম্যাম প্লিজ একটু ট্রাই করুন। না খেলে আরো উইক হয়ে যাবেন তো ।"
" আমি খেতে পারছি না।"
"একটু ট্রাই করুন।"
"হচ্ছে না।"
"এক্সকিউজ মি.. "
হুট করে ভরাট পুরুষালি কন্ঠে নার্সসহ শেহরিন চোখ তুলে চায়।
সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত সুঠামদেহী এক পুরুষ সামনে উপস্থিত । যাকে দেখামাত্র শেহরিন চোখ নামিয়ে ফেলে সঙ্গে সঙ্গে। নেতিয়ে পড়ে ভঙ্গুর কায়া। যতদূর মনে পড়ে কালকে সেই দূর্গম রাতে সে নিজ হতে নেতাসাহেবকে জড়িয়ে ধরেছিলো। কান্নায় ভাসিয়েছিলো তার চওড়া বুকটা । সহজ স্বীকারোক্তি দিয়েছিলো, তিনি না এলে সে মরে যেতো। সবকিছু মন থেকে বললেও এখন কেন জানি না তার ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে। ওই ধারালো চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা নেই তার। ইশ্ নেতাসাহেবের প্রেমে এইভাবে সে ফেঁসে গেলো তাই? এই লোকের সমস্ত কথা সত্য প্রমাণিত হলো তবে?
" প্লিজ.. "
" শিউর.. "
শেহরিনের সামনে হতে নার্সটি উঠে সান্নিধ্যকে জায়গা করে দেয়। সান্নিধ্য ধীর পায়ে এগিয়ে এসে শেহরিনের সামনে বসতেই লাজুক রমণীর গায়ের লোম জাগ্রত হয়ে উঠে। বুকের মধ্যে অজানা অস্থিরতায় এলোমেলো হয়ে পড়ে সে।
" খাচ্ছো না কেন? "
শেহরিন নিশ্চুপ হয়ে মাথা নিচু করে থাকে। মনের মধ্যে জবাব এসে থাকলেও মুখে উচ্চারণ করে না সে।
সান্নিধ্য শেহরিনের চুপচাপ ভঙ্গিমা দেখে আর কিছু বলে না। পাঞ্জাবির হাতা টান করে সিলভার ঘড়িটা ঠিকঠাক করে নেয় সে।অতঃপর নার্সের হাত হতে স্যুপের বাটিটা নিজহাতে তুলে নেয়।
স্যুপটা বেশ গরম থাকায় বাম হাতের তালুতে নিয়ে ডান হাতে চামচ দিয়ে নাড়তে থাকে সে।
শেহরিন ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকায়। সামনে বসারত গম্ভীর পুরুষের দিকে তাকায় সে নিচু চোখে।
সতেজ চেহারা। মুখোরেখায় শীতলতার রেশ। মাত্র হয়তো শাওয়ার নিয়ে এসেছেন উনি । চুলগুলো এখনো ভেজা রয়েছে গিয়েছে। মুখে হালকা খোঁচানো দাড়িতে নেতাসাহেবকে দেখে শেহরিনের মনের অস্থিরতা আরো গাঢ় হয়। মস্তিস্ক তাকে কড়া নেড়ে জানায়, লোকটা সুপুরুষ।
"আমাকে পরে দেখো। আগে খাওয়াটা শেষ করো।"
কর্ণে গরম কিছু ঢাললে যেমন অনুভূত হয় সান্নিধ্যের কথা শোনামাত্র শেহরিনের সেই দশা হয়। এক ঝটকায় চোখ সরিয়ে নেয় সে। হাতের মুঠোয় কোলের উপর থাকা কভার শিটটা চেপে ধরে সে।
"ছিঃ ছিঃ শেহরিন তুই শেষ..তুই শেষ আজকে। আর কতো? "
লজ্জায় হাবুডুবু খেয়ে বেহাল দশা রমণীর। এই মুহুর্তে প্রেশার চেক করলে নিঃসন্দেহে হাই প্রেশারের মাত্রা ছাড়াবে।
শেহরিনের লজ্জায় লাল হওয়া মুখ দেখে সান্নিধ্য অন্তরালে মৃদু হাসে। অতঃপর শান্ত কন্ঠে বলে,
" হা করো শেহরিন। "
"খা..খাবো না।"
" কেন খাবা না ?"
শেহরিনের হয়ে উত্তর দেয় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নার্সটি।
" স্যার ম্যামের কাছে বিস্বাদ লাগছে। আমি বারবার ট্রাই করতে বলেছি কিন্তু উনি নাছোড়বান্দা।"
সান্নিধ্য নার্সের কথানুযায়ী হাতে থাকা স্যুপের বোলটা হতে খানিকটা স্যুপ চামচে তুলে নিজে টেস্ট করে। মুখে দেওয়ার সাথে সাথে কপাল খানিকটা ভাঁজ হয়ে এলেও শেহরিন ফের মুখ তুলে তাকাতেই সেই ভাঁজ অদৃশ্য হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে ।
" ঠিকঠাকই আছে। খাওয়া যাবে সমস্যা নেই ।"
"ঠিকঠাক ? "
" হ্যাঁ । হা করো।"
" ঠিক নেই।"
" তুমি কি বিরিয়ানি খেতে চাচ্ছো? নিয়ে আসবো? "
শেহরিন সান্নিধ্যের ত্যাড়া কথায় মুখ ফুলায়। সে কখন বলেছে বিরিয়ানি খাবে? হাসপাতালে কোনো পেশেন্ট বিরিয়ানির আবদার করে নাকি? স্যুপের যে অবস্থা নিজে তার জায়গায় হলে বুঝতো।
মুখের সামনে চামচ তুলে ধরতেই শেহরিন বাধ্য হয়ে হা করে। না খেলে এই লোক নিশ্চিত আরো কথা শুনাবে। পলিটিক্যাল পার্সন বলে কথা। পেটে পেটে প্যাঁচ, কথায় কথায় প্যাঁচ।
অতি সন্তপর্ণে সান্নিধ্য স্যুপটা খাইয়ে দিতে থাকে শেহরিনকে। নার্সটির দায়িত্ব আপাতত না থাকাতে সে মেডিসিনগুলো রেডি করে দিয়ে চলে যায়।
বেয়াড়া চুলগুলো তখন হতে শেহরিনকে ডিস্টার্ব করছে। ডান হাতটা মোটামুটি অচল হওয়ার কারণে সে পারছে না চুলগুলোকে ধরে ক্লেচারে বাঁধতে। নার্সটা থাকাকালীন চুলটা কেন খুললো না। আজব!
সান্নিধ্য খাওয়ানোর মাঝে শেহরিনের মুখোরেখায় খানিকটা বিরক্তি ভাব লক্ষ করে্। কারণ খুঁজতেই চোখে ধরা পড়ে মেয়েটার চুল তাকে জ্বালাতন করছে। বারবার মুখের সামনে উড়ে উড়ে আসছে।
খানিকসেকেন্ড ভাবনায় পড়ে সান্নিধ্য। শেষ হওয়া স্যুপের বাটিটা রেখে সে উঠে পড়ে। টিস্যু দ্বারা হাতটা মুছে জানালার কার্নিশে দাঁড়িয়ে পকেট হতে ফোন বের করে। সরাসরি ইউটিউবে প্রবেশ করে লিখে সার্চ করে, "হাউ টু টাই হেয়ার উইথ আ ক্লিপ?"
সার্চ করার সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো ভিডিও এসে যায় সামনে্। সান্নিধ্য হালকা স্ক্রল করে দেখে মোটামুটি শ'খানেক হবে।কপাল কুঁচকে যায় তার। এতো কেন? হাজার নিয়ম, হাজার পদ্ধতি।
বেরিয়ে আসে সে। এসব দেখার প্রয়োজন নেই। তার চেয়ে নিজে যেভাবে পারবে সেভাবেই আটকিয়ে দিবে্।
" এটা দিয়ে চুল বাঁধে?"
"হু।"
" নাম কি? "
"ক্লেচার।"
সান্নিধ্য চুপচাপ ক্লেচারটা নিয়ে শেহরিনের পিছনে চলে আসে। আলতো হাতে চুলগুলো সে মুঠো পাকিয়ে কোনমতে পেঁচাতে থাকে।
সুনিপুণ যত্ন। সুন্দর এক মুহূর্ত। শেহরিনের মধ্যে অদ্ভুত এক ভালোলাগার অনুভূতিরা হুট করে ডানা মেলে উড়তে থাকে। মাথা নিচু করে সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে নিজের হাতের দিকে। ঠোঁটের কোণে ফোটে তার স্বতঃস্ফূর্ত এক হাসি। যে হাসিতে জানালার ফাঁকে উড়ে চলা নীল আকাশে সাদা মেঘেরাও সায় মেলায়। প্রশান্তির এক হাওয়া এসে তার গায়ে দোল দিয়ে যায়। মনের ভিতরে সঙ্গোপনে প্রশ্নেরা এসে জমাট বাঁধে। শুধায়, তবে ভালোবাসা বুঝি একেই বলে ??