নতুন দিগন্তবেলায় সূর্যের হাসি ছিল আজ গাঢ় উজ্জ্বল। সকাল হতে বিকেল অব্দি আকাশে ঝুড়ো ঝুড়ো সাদা মেঘেরা ঘুরেছে দলবেঁধে সঙ্গতালে। সেই সাথে বিয়ে বিয়ে এক বিশেষ সুঘ্রাণ ছড়িয়েছে চারিদিকে। ছোট্ট আয়োজন, ছোট্ট পরিসর। তবুও যেনো আনন্দ উল্লাসের কমতি নেই পাহাড় ঘেঁষে অবস্থিত খুলশীর সেই নিকুঞ্জ মহলে।
গৌধূলীর যাপন শেষ হতেই সন্ধ্যে সন্ধ্যে রব সাজে ধরণীতে। আলোক রোশনাইতে জ্বলজ্বল করে উঠে পুরো বাড়ি। মহাব্যস্ত শফিক সাহেব ও রিজওয়ান সাহেব। শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে গা জুড়ে ঘাম ঝুরছে তাদের। সব কাজ প্রায় হয়ে এসেছে। প্রশ্বস্তময় ছাদটাকে সাজানো হয়েছে বিয়ের আসর হিসেবে।
সাদা এবং হালকা গোলাপি গোলাপ দিয়ে স্টেজের ব্যাকসাইডটা করা হয়েছে ডেকোরেশান। নিউট্রাল শেডের কার্পেটের উপরে রাখা হয়েছে বর কনের জন্য হোয়াইট ডিভান।ঠিক তাদের সামনে সারি সারি করে সাজানো হয়েছে সোনালি রিবনে বাঁধা লাউঞ্জ চেয়ার।কর্ণারজুড়ে শোভা পাচ্ছে ঝকঝকে কাচের ফুলদানিতে অর্কিডফুল। সব মিলিয়ে শান্ত স্নিগ্ধ রূপে মোহনীয়তায় ঘিরেছে বিয়ের আসর।
" ভাবিজান চোখ তুলে তাকান। বিয়ের আগে একটু মনপ্রাণ দিয়ে দেখে নেই। বিয়ের পরে তো আর সুযোগ পাবো না আমরা আমজনতা ৷ তখন তো শুধু মাত্র একজনের দখলদারিত্বে চলে যাবেন। মনে হয় না সে আর আমাদের দেখার সুযোগ দিবে।"
" নেতাসাহেব চোখে হারাবে আমাদের শেহরিনকে। "
গাঢ় লাল রঙের ভেলভেট শাড়ি পড়ানো হয়েছে শেহরিনকে।শাড়ির পাড় ও আঁচল ঘিরে সোনালি সুতো আর সাদা পাথর বসানো ভারী কাজ করা। পুরো শাড়ির মাঝে ছোট ছোট ঝিকমিকি সিকুইন বসানো। শাড়ির কালারের সঙ্গে মিল রেখে ডিপ নেকলাইনের ব্লাউজে রাখা হয়েছে হালকা কাজ।
বেডের উপরে রাখা গহনার বাক্সগুলো একটা একটা করে খুলে সানজি। বরপক্ষ হতে একটু আগেই সে এসেছে কনের বাড়িতে। এসেছে বললে ভুল হবে তাকে মূলত পাঠানো হয়েছে। শাড়ি গহনাসহ সমগ্র কিছু আসিফের তত্বাবধানে সরফরাজ তাকে পাঠিয়েছে শেহরিনকে সাজানোর জন্য।
" এটা কি হাসলি নেকলেস সানজি? "
গহনার বাক্স খুলতেই মণিকা আন্টি খানিকটা অবাক চোখে তাকান। স্বর্ণের হাসলি নেকলেসটা তার বেশ চোখে ধরে।ঝকঝক করছে একদম। মনে হচ্ছে সদ্যই কিনে পাঠানো হয়েছে।
সানজি মিষ্টি হেসে প্রতিত্তুর দেয়, " জ্বি। হাসলি নেকলেস। কেমন লাগছে দেখতে? "
" খুব সুন্দর।"
শেহরিনের গলায় সযত্নে পরিয়ে দেওয়া হয় নেকলসটি। এর সাথে দেওয়া হয় একখানা সীতা হার। কানে পরানো হয় ঝুমকো। হাতে পরিয়ে দেওয়া হয় চিকন চিকন বালার সঙ্গে ফুলেল নকশা করা চূড় । মুখোরেখায় তার হালকা মেকআপের আস্তরণ। নাকে জ্বলজ্বল করে ডায়মন্ডের একটা ছোট্ট নোসপিন।
ঋতমা সুন্দর করে চুলের খোঁপায় এক গুচ্ছ গোলাপ বেঁধে মাথায় দোপাট্টা টেনে দেয়। গাঢ় লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটের প্রান্তে হালকা টিস্যু দ্বারা মুছে দিতে দিতে বলে,
" আর কি কিছু বাদ আছে? দেখে নাও ভালো করে আপু।"
সানজি শেহরিনের সম্মুখ প্রান্তে এসে দাঁড়ায়। চোখ বুলিয়ে দেখে গালে হাত রেখে ভাবতে ভাবতে বলে, " মাথার টিকলিটা বাদ পড়েছে ঋতমা।"
আরো গহনার কথা শুনতেই নয়াবধূ নড়েচড়ে উঠে। নাজুক চাহনি উপরে তুলে ধীর কন্ঠে বলে," আর নয় প্লিজ।"
" কেন ? "
" এতো গহনা একসঙ্গে পড়ার অভ্যাস আমার কখনোই ছিলো না।"
" আনকম্ফোর্টেবল লাগছে?"
"একটু।"
" আরে বাচ্চা, এই একটা দিনেই তো সাজবে। এই সুযোগ বারেবারে আসবে না। বউ সাজতে গেলে গহনা না পড়লে মানায় না বুঝতে পেরেছো। অলংকার বধূর সৌন্দর্য বাড়ায়।"
" ওটা পড়তেই হবে?"
মণিকা আন্টি বিছানায় রাখা বাদ বাকি দুটো গহনার বাক্স নেড়েচেড়ে দেখতে দেখতে বলেন," সোনায় মোড়ানো কপাল তোমার অনিভা। না করছো কেন? এতো এতো গহনা শুধু মাত্র সান্নিধ্য তোমার জন্য কিনেছে। ভাগ্য লাগে বুঝেছো। তোমার বাবার তো সুবিধাই হলো। "
শেহরিন শুকনো ঢোক গিলে। এতোকিছু তার কখনোই চাওয়ার ছিলো না৷ গহনা গাটির কথা তো দূরে থাক। নেতাসাহেব যে এমন পাগলামি করবে কে জানতো্। এমনকি কালকে রাতে উনি এসে যে বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন এ ব্যাপারেও অজ্ঞাত ছিলো সে। তবে বুঝতে পেরেছে, ইচ্ছে করেই এই লোক ধরা দেয়নি তার কাছে। অপেক্ষায় আকাঙ্ক্ষা বাড়ানোতে ভীষণ দক্ষ ।
" আচ্ছা না পরতে চাইলে থাক। এমনিতেও রাজরাণীর চাইতে কম কিছু লাগছে না আমাদের বধূকে। ভাইয়াকে কাবু করতে এইটুকুই যথেষ্ট।"
" আচ্ছা ঠিক আছে। মোটামুটি কম্পিলিট?"
" পুরোপুরি কমপ্লিট।"
সানজি এগিয়ে এসে শেহরিনকে ধীরে ধীরে বসা ছেড়ে তুলে দাঁড় করায়। মেহেদী রাঙা হাতদুটো নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে মুখে স্নিগ্ধ হাসি বজায় রেখে বলে," ভালোবাসা যে এতো সুন্দর হয় তা জানা ছিলো না। কালকে রাত বারোটার দিকে সারাদিন কাজ শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েই ভাইয়া তোমার জন্য সব কিনেছে। যদিও সঙ্গে আমি ছিলাম। বিভিন্ন নির্দেশনা আমিই দিয়েছি তবুও পছন্দটা তার ছিলো। বাট অদ্ভুত বিষয় কি জানো, সেসময় তার ভিতরে কোনো ক্লান্তির ছাপ ছিলো না। একদম ঠান্ডা। অথচ এই ব্যক্তি জীবনে কোনোদিন মেয়েদের জন্য একটা সুতোও কিনেনি। না আমার জন্য কিংবা আম্মার জন্য । তোমার কি পছন্দ হয়েছে শেহরিন? "
মেঝেতে নিবদ্ধ চোখদুটো শেহরিনের ঘোলাটে ভাব ধরে আসে। জানে না এই ছোট্ট বিষয়টা তার ভিতরে এক অন্যরকম অনুভূতি সৃষ্টি করছে কেন। সানজির করা প্রশ্নের উত্তর দিতে তার গলা কাঁপে। কিভাবে উত্তর দিবে, নেতাসাহেবের প্রতিটা পছন্দ করা জিনিসে তার গভীর আসক্তি জন্মে গিয়েছে। যার কারনে, মনস্থির করে ফেলেছে সযত্নে আজীবন আগলে রাখবে এগুলো সে ।
ছোট করে নিঃশ্বাস ছাড়ে নববধূ। এই মানুষটার ভালোবাসার মূল্য দিতে নিশ্চয়ই তাকে সর্বস্রান্ত হতে হবে। নয়তো এতো মূল্য শোধ করবে কিভাবে?
" হলো তোমাদের মা? "
" হয়ে গিয়েছে আংকেল। দেখুনতো আপনার মেয়েকে কেমন লাগছে দেখতে।"
রিজওয়ান সাহেব কক্ষে উপস্থিত হয়ে মেয়ের দিকে স্নেহভরা দৃষ্টিতে তাকান। এই আনন্দ ঘেরা দিনে, পরিপূর্ণ একটাদিনে মেয়েকে নতুন সাজে দেখে তার চোখ জুড়িয়ে গেলেও ভিতরটা শূন্যে খাঁ খাঁ করছে। মনে হচ্ছে তার কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে। মলিন এক যন্ত্রণায় সে ভিতরে ভিতরে কাতর হয়ে উঠেছে। কিন্তু মেয়ের সামনে সে তার ভিতরের যন্ত্রণাটা লুকিয়ে রাখে খুব নিরবে।
তার ছোট্ট শেহরিন। তার অন্তঃপ্রাণ। তার এই জীবনে বেঁচে থাকার অবলম্বন। হাসপাতালের বেডে নীল টাওয়েলে মুড়িয়ে থাকা সেই বাচ্চাটা আজ কত বড় হয়ে গিয়েছে । হাঁটি হাঁটি পা পা করে ধীরে ধীরে এতোটাই বড় হয়ে গিয়েছে যে, আজ তার বিয়ে। আজ তার নতুন জীবনের শুরু। কবে এতো বড় হয়ে গেলো মেয়েটা? রিজওয়ান সাহেবের চোখ আপনাআপনি ভিজে উঠে। সে কোনোভাবেই নিজেকে বুঝাতে পারছে না মেয়ে তার বড় হয়ে গিয়েছে। নতুন সংসার জীবনে পদার্পন করছে।
রিজওয়ান সাহেবের নিস্তব্ধ এই মুখ দেখে কক্ষে থাকা সবাই ধীরে ধীরে বের হয়ে যায়। বাবা মেয়ের আবেগঘন এই মুহূর্তে তাদের উপস্থিতিটা একটু অস্বস্তিদায়ক। এইতো সময়, বিয়ে হয়ে গেলে তখন ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কথা বলতে হবে। বাঁধা ধরা নিয়মের মাঝে পড়ে যেতে হবে। তখন কি আর মিলবে সময় এভাবে ?
শেহরিন তাকাতে পারে না বাবার দিকে। সোজা বক্ষঃস্থলে আশ্রয় নিয়ে চোখ বন্ধ করে জল ফেলে নিভৃতে। শরীর তার কেঁপে ওঠে। রিজওয়ান সাহেব অনুভব করেন ঠিক যে যন্ত্রণায় সে কাতর, তার মেয়েও ঠিক একই যন্ত্রণায় কাতর্। মনে মনে সৃষ্টিকর্তার কাছে সে প্রশ্ন ব্যক্ত করে, সন্তানের প্রতি এতো কেন মায়া ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছো খোদা, মানুষ বলে মায়েদের নাড়ির টান নাকি কঠিন একটা জিনিস। কিন্তু পিতা হয়ে সে যে টান অনুভব করেছে সেই টান কি তার চেয়ে ফিঁকে?
" কেঁদো না মা.."
" আমি তোমাকে ছাড়া কিভাবে থাকবো বাবা..?"
" আমি তোমার পাশে সারাজীবন আছি । তোমার বাবা তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না। হয়তো পথের দূরত্ব থাকবে কিন্তু মনের দূরত্ব কখনোই নয়।"
" মামণিকে ভীষণ মনে পড়ছে । খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। ছোটবেলায় মামণি কত আমাকে বউ সাজিয়ে দিয়েছে। অথচ আজ যখন সত্যি সত্যি বউ সেজেছি মামণি নেই।"
নিজের স্ত্রীর অকাল প্রয়াণে দগ্ধ ঘা রিজওয়ান সাহেবের বুকে আজও অক্ষত। হাসিখুশি একটা মানুষ যে কিনা তার জীবনের এক বিশেষ অংশ ছিলো, সেই তাকে এই মেয়ের দায়ভার দিয়ে আজীবনের জন্য ছুটি নিয়েছে নিরবে। একটাবার কেন ভাবেনি বাবা মেয়ে তাকে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে মিস করে। তার অভাবে তারা নিঃস্বতায় ভোগে। আজ মামণির অভাব সে কিভাবে পূরণ করবে তার মেয়ের কাছে?
" মামণির দোয়া আছে তোমার জন্য মা। সবার ভাগ্যে সবকিছু মেলে না৷ মেনে নিতে হয়। আমাদেরকেও মেনে নিতে হবে।"
"মেনে নেওয়াটা খুব কষ্টের। জানো বাবা, কালকে রাতে আমি কল্পনায় ভেবেছি যদি আজকের দিনটার জন্য ম্যাজিক হতো, কোনোভাবে যদি ফিরে আসতো মামণি আমাদের কাছে। মামণিকে বলতাম, দেখো আমি বউ সেজেছি একটু জড়িয়ে ধরে আদর করে দিয়ে যাও। একটুখানির জন্য। সেই যে ছোটবেলায় একটা চুমু দিয়ে চলে গিয়েছো আর তো আসলে না।"
মেয়ের ব্যাকুল আবদার দাঁতে দাঁত চেপে চোখের পাতা বন্ধ করে সহ্য করে যান রিজওয়ান সাহেব। মা হারা সেই ছোটো মেয়েটা আজও তার মামণিকে অন্তরে পুষে রেখেছে একইভাবে। অথচ কতই বা বয়স ছিলো সেসময় তার। এগারো কিংবা বারো?
" নিজেকে শান্ত করো মা । বাবা আছে তো । জন্ম মৃত্যু সব আল্লাহর হাতে। আল্লাহ তোমার মামণিকে অনেক ভালোবেসেছেন এজন্য আগেই নিয়ে গিয়েছেন আমাদের থেকে।"
শেহরিন কিছুক্ষণ নিরব থেকে নিজের কান্না দমায়। অতঃপর বাবার বক্ষঃস্থল হতে মাথা তুলে ভেজা চোখে তাকিয়ে বলে,
" বাবা..."
" জ্বি মা। "
" শুনেছি বাবা মায়ের ঋণ কখনোই শোধ করা যায় না । তবে অন্যদের চেয়ে আমি হয়তো একটু বেশিই ঋণী তোমার কাছে। জীবনের অর্ধেকটা সময় ব্যয় করে গেলে আমার জন্য তুমি। নিজের ভালো থাকা, নিজের একটা আলাদা জীবন নিয়ে ভাবনা পর্যন্ত করোনি কখনো। শুধু মাত্র আমার জন্য তোমার এতো স্যাক্রিফাইস। এতো সবকিছু। আমি জানি না কতটুকু ভালো মেয়ে হতে পেরেছি তোমার, কতটুকু স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। তবে, সবকিছুর জন্য আমি ক্ষমা চাইছি তোমার কাছে বাবা৷ ঋণগুলোকে তুমি মাফ করে দিও। আমার সামর্থ্যে নেই তা শোধ করার। আমি কখনোই পারবো না।"
মেয়ের কথা শুনে রিজওয়ান সাহেবের গলা রোধ হয়ে আসে। বুকের ভিতরে রক্তক্ষরণ এর মতো কিছু একটা হতে থাকে তার। নিস্তেজ স্বর ভেদ করে বলেন,
" আমাকে ভেঙো না মা। আমি নিজেকে খুব কষ্ট ধরে রেখেছি্। তুমি আমার জীবনে যে কতটা ব্লেসিং পার্ট ছিলে তা হয়তো আমি বুঝাতে পারবো না। তবে, বাবা তার মেয়েকে এতোটাই ভালোবেসেছে যে, সে ভালোর থাকার অর্থটা এখানেই খুঁজে পেয়েছে। বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার আর কখনো প্রয়োজন পরেনি। তোমার মামণি আর তুমি মিলেই আমি। এর বাহিরে কিছুই নয়।"
শেহরিন নির্নিমেষ চাহনিতে তাকিয়ে থাকে বাবার মলিন মুখের দিকে। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে তার অনবরত পানি। রিজওয়ান সাহেব মেয়ের ভঙ্গুর অবস্থা দেখে নিজেকে সামলে নেন। নিজের চোখের পানি মুছে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলেন,
"এতো সুন্দর বউ সেজেছো মা। কান্না করো না। তোমার মুখে আমি সবসময় হাসি দেখতে চাই। "
" বাবারা কি হাসি ক্রেতা হয় ? "
" তোমার এমনটা মনে হয়? "
"আমার মুখের সব হাসি তো তোমারই কেনা।"
" যে তোমার জীবনে নাম লেখাচ্ছে সেও একজন হাসি ক্রেতা। তোমার জন্য এতো এতো হাসি কিনবে যে বাবার হাসি ভুলেই যাবে তখন।"
" কখনোই ভুলবো না। তোমাদের কিনে দেওয়া হাসিগুলোকে যত্নে রাখার দায়িত্ব হবে আমার।"
রিজওয়ান সাহেব মেয়ের কপালে ছোট করে চুমু দেন। নিজহাতে চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলেন, " বিয়ের সময় মায়েরা মেয়েদেরকে নানান উপদেশ দেয়। শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার আগে সংসার ধর্মের মানে বুঝিয়ে দেয়। তোমার মামণির হয়ে কাজটা না হয় আমিই করি।"
" জ্বি বলো ।"
একটু সময় নিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে নেয় রিজওয়ান সাহেব। অতঃপর কন্ঠ পরিষ্কার করে স্থির গলায় বলেন,
" দেখো মা,প্রত্যেক প্রাণীই নতুন পরিবেশে গেলে সর্বপ্রথম অভিযোজন ক্ষমতা অর্জন করার জন্য চেষ্টা করে। কারণ তার মূল উদ্দেশ্য তাকে টিকে থাকতে হবে সেই পরিবেশে। নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে৷ ঠিক তেমনি একটা মেয়ে যখন নিজের জগত ছেড়ে অন্য একটা নতুন জগতে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাকে সেই পরিবেশ, কালচার এবং নিয়মানুবর্তিতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। তোমাকেও তাই করতে হবে। তবে, অবশ্যই সেটা ধীরে ধীরে। সময় নিয়ে। প্রথম দিন যাবে তোমার সবার সঙ্গে পরিচিত হতে। দ্বিতীয় দিন যাবে সংসারের সব চিনে নিতে, সব নিয়ম জেনে নিতে। তৃতীয় দিন নতুন কিছু একটা জানবে। এভাবে একটা একটা করে দিন পার হবে তুমি শুধু শিখতেই থাকবে। এর মাঝে তোমার হয়তো অনেক কিছুতেই একটু কষ্ট হবে বা যেটা করোনি সেটা করতে হবে। দেখা যাবে,তুমি একটু লো ফিল করছো। হচ্ছে না তোমাকে দিয়ে। এটা স্বাভাবিক। তবে সবকিছুর জন্য একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। সব সময় মনে রাখবে, শেখার পরে প্রয়োগ। তুমি শিখবে তার পরে নিজেকে প্রয়োগ করবে।"
" আচ্ছা । "
" তোমার শ্বশুর সাহেব শ্বাশুড়ি সহ বাসার সব বড়দের শ্রদ্ধা করবে। সে কাজের লোক হোক কিংবা অন্যকেউ। কখনো মনে ভেদাভেদ আনবে না। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, তুমি হয়তো কাজে অপরিপক্ক। একটু এদিক সেদিক হতে পারে। তবে নিজেকে সবসময় প্রাকটিসের উপরে রাখবে। পড়াশোনার পাশাপাশি যখনই সময় পাবে হাতে হাতে কাজ করে দিবে। কাজ দেখে কখনোই ভয় পাবে না। কারণ কাজ মানুষকে পার্ফেক্ট হিসেবে গড়ে তোলে। আর নিজের প্রতি সৎ থাকবে। অন্যায়টাকে কখনোই প্রশয় দিবে না কেমন?"
" ধন্যবাদ বাবা।"
"তোমার জন্য আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া থাকবে মা। তুমি সুখী হও জীবনে। সান্নিধ্যের মতো জীবন সঙ্গীকে নিয়ে বৃদ্ধ হও।"
শেহরিন বাবার চোখে চোখ রাখে। ঠোঁটের কোণে সূক্ষ্ম হাসি টেনে বলে,
" আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। খুব কম সন্তানই হয়তো এই সৌভাগ্য অর্জন করেছে আমার মতো। জীবনে মায়ের অভাব ঘুচাতে আমার নতুন মায়ের প্রয়োজন পড়েনি, আমার বাবাই আমার মা হয়ে উঠেছে সর্বক্ষেত্রে ।"
রিজওয়ান সাহেব নরম হেসে মেয়েকে আলিঙ্গন করে নেন। মাথায় হাত বুলিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত কন্ঠে হেসে বলেন,
"আমার মা তুমি। আমার কলিজা তুমি। এক মা আমাকে জন্ম দিয়েছে, আরেক মা আমাকে বেঁচে থাকা শিখিয়েছে এই পৃথিবীতে।"
_________________________________________
সন্ধ্যা কাটিয়ে রাতের দিকে পথযাত্রা,,
অবশেষে বিয়ে বাড়ির পূর্ণতা পায় বরের আগমনে। সেই সাথে মৃদু গুঞ্জনে মুখোরিত হয়ে উঠে পুরো বাড়ি। ঠিক সাতটার দিকে নিকুঞ্জ মহলে প্রবেশ করে দুটো সাদা কালো গাড়ি। রিজওয়ান সাহেব সহ শফিক সাহেব বের হয়ে আসেন সাদরে সম্ভাষণের জন্য।
" বাবা.. আমরা কোথায় এসেছি? "
" চাচ্চুর বিয়েতে। "
" ইয়ো সানির বিয়ে..? "
" হ্যাঁ।"
" তাহলে আমার বিয়ে কবে? "
সরফরাজ গাড়ি হতে নেমে ছেলেকে কোলে নিয়ে নামায়। পরনের পাঞ্জাবিটা তার ঠিকঠাক করে দিতে দিতে বলে, " বড় হলে তোমার বিয়ে হবে।"
" আর কত বড় হবো আমি।"
" বিছানায় শি'শি করা ছাড়ো আগে।"
তাসিন ভাবুক চিন্তায় মশগুল হয়ে উঠে। আজকে ইয়ো সানির বিয়ে? তার আগেই ইয়ো সানি বিয়ে করে নিচ্ছে? কিন্তু পানিটা কে? তার ইয়ো পানি নয়তো?
চোখ দুটো গোল গোল করে তাকায় বেবি মানকি। ভয়ার্ত স্বরে বলে,"বাবা..আমার ইয়ো পানিকে কি ইয়ো সানি বিয়ে করছে?"
সরফরাজ ছেলের দিকে হতাশ চোখে তাকায়। সে জানে এখন যদি এই কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে মুখ খোলে তাহলে আর ভিতরে প্রবেশ করতে হবে না। ইয়ো পানির শোকে এই ঘাসের মধ্যেই ছেলে তার গড়াগড়ি কান্না শুরু করে দিবে। উথাল পাথাল ঝড় বইয়ে দিবে। আর তার এই উথাল পাথাল ঝড় সামলাতে গিয়ে তাকে নাজেহাল হতে হবে করুণভাবে।
" ইয়ো পানি তো অনেক আছে বাবা।আমি তো চিনি না।"
" ওহহো বাবা আমাদের বাসায় গিয়েছিল যে ইয়ো পানিটা।"
" আমি দেখি নাই রে বাপ। "
" আমি বিয়ে করবো বাবা.."
" তোর সমান একটা পেলে বিয়ে করিয়ে দিবো। চিন্তা নেই। চল এখন মামণির কাছে যাই ।"
তাসিনকে উল্টো কোনমতো বুঝ দিয়ে হাত ধরে নিয়ে যায় সরফরাজ। রিজওয়ান সাহেব শফিকের সাহেবের আতিথিয়েতা গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে কুশল বিনিময় করে নেয় বরপক্ষের সবাই। শাহজাহান সাহেব প্রফুল্ল হেসে তার ছোট ভাই এবং ভাইয়ের বউয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন রিজওয়ান সাহেবকে।
" সেলিম সাফি খান। "
" রিজওয়ান চৌধুরী।"
কর্মদন সম্পন্ন করে হালকা আলিঙ্গন সেড়ে নেয় দু'জন। সেলিম সাহেব তার স্ত্রী সহ দুই মেয়েকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, " ভালো লাগছে বেশ।"
" ধন্যবাদ। প্লিজ ভিতরে আসুন সবাই।"
" সান্নিধ্য কোথায় ? "
শফিক সাহেব আশেপাশে তাকিয়ে সান্নিধ্যকে খুঁজতেই শাহজাহান সাহেব সরফরাজের দিকে তাকান। সরফরাজ ধীর কন্ঠে আশ্বস্ত সুরে বলে, " আসছে। "
মোট চারটে গাড়ি একে একে খুলশীতে প্রবেশ করে। প্রত্যেকটা গাড়িই নির্দেশনা মতো নিজস্ব জায়গায় অবস্থান নেয়। নিকুঞ্জ মহলের সামনে রাস্তা হতে গলির মোড়ের দু পাশে দুটো গাড়ি গিয়ে দাঁড়ায়। বাকি দুটো গাড়ি চলে যায় পিছন রাস্তার মাঝে। তন্মধ্যে একটা গাড়ি হতে মোট তিনজন মানুষ বের হয়ে তিনদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
" অল পজিশন ওকে? "
"জ্বি স্যার।"
" কোনো ধরনের সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে জানাবে।"
" অবশ্যই স্যার।"
অফ হোয়াইট পাঞ্জাবি সঙ্গে শ্যাম্পেন কালারের কটি আবৃত নেতাসাহেবের দৈহিক অবায়বে। চুলগুলো একদম জেলে আটকানো। শান্ত সজাগ তার দৃষ্টি। হাতে সিলভার রঙের ক্লাসিক ওয়াচ। সব মিলিয়ে সুর্দশন চেহারার মাঝে আজ যেনো এক অন্যরকম আভা সৃষ্টি হয়েছে সান্নিধ্য শাহজাদ খানের।
কান হতে দক্ষ হাতে ফোনটা নামিয়ে বাহিরের দিকটা আরো একবার চোখ বুলিয়ে নেয় সে। আপাতত সবকিছু তার নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। চারদিকটা লোকে ঘেরাও। কোনো প্রকার বাহিরের লোক কিংবা মিডিয়া প্রবেশের সুযোগ রাখেনি । কিছুটা সময় আসিফের সঙ্গে টুকটাক কথা সেড়ে অতঃপর চলে আসে সে অভ্যন্তরে্।
রিজওয়ান সাহেব এবং শফিক সাহেব সান্নিধ্যকে দেখামাত্র এগিয়ে এসে হাসিমুখে। পরস্পর হ্যান্ডশেক বিনিময় করে নিজে যায় তাকে মূল আসনে।
" তাসিন.. চাচিমণিকে কেমন লাগছে দেখতে ? "
সানজি তাসিনকে শেহরিনের কাছে নিয়ে আসতেই চোখদুটো তার ছানাবড়া হয়ে যায়। মুখ হা হয়ে পোকা খাওয়া দাঁত দুটো দৃশ্যমান হয়ে উঠে সঙ্গে সঙ্গে। মুহুর্তেই কাঁদো কাঁদো চেহারায় ভেসে ওঠে তার চাহনি।
" ইয়ো পানি..."
"ইয়ো সানির ইয়ো পানি।"
" আমার ইয়ো পানি এটা.. আমি বিয়ে করবো। মামণি.. মামণি আমি বিয়ে করবো।"
দেখতে দেখতেই বেবি মানকিটার চোখে পানি এসে যায়। কেঁদে ভাসিয়ে তোলে কক্ষ । উপস্থিত সবাই এক মুহূর্তের জন্য হতভম্ব হয়ে যায় তার কান্না দেখে । জোরালো গলায় চিৎকার করতেই সানজি মুখ চেপে ধরে। তিথি কাছে এসে তাসিনকে কিছুটা রাগী গলায় বলে, " তাসিন সবাই পঁচা বলবে তোমাকে কিন্তু। দুষ্টুমি করতে হয় না।"
সানজির হাতের তালুতে কামড় বসিয়ে সে শেহরিনের কাছে ছুটে যায়। শেহরিন বাচ্চাটাকে দু'হাতে কোলের মাঝে নিয়ে আদর করে দিতে দিতে বলে, " কান্না করতে হয় না বাবা।"
" তুমি ইয়ো সানিকে কেন বিয়ে করছো? তুমি তো আমার ইয়ো পানি..আমি তোমাকে বিয়ে করবো।"
তাসিনের কথায় শেহরিন বুঝতে পারে না কি উত্তর দিবে। হাসিও পাচ্ছে আবার দুঃখও লাগছে।
" তোর ইয়ো সানি যেনো এই কথা শোনে না বেবি মানকি। প্রতিদিনের মতো একদম বেঁধে রাখবে সিঁড়ির সঙ্গে। সবাই কিন্তু তখন তোকে দেখে হাসবে।"
" তোমরা সবাই পঁচা ফুমণি।"
"হু তুই অনেক ভালো। চাচিমণি ডাকবি এখন থেকে ইয়ো পানিকে। তোর জন্য আরেকটা খুঁজে দিবো চল।"
" না.. না আমার ইয়ো পানিই লাগবে। ইয়ো পানি সুন্দর।"
তাসিনের ভাঙা ভাঙা পাগলামি কথায় সবাই হেসে উঠে। তাকওয়া নিতু এসে হাঁটু গেঁড়ে বসে বলে," তুমি কি ইয়ো পানির মতোই একটা টুকটুকে বউ চাও?"
" হু।"
" আচ্ছা তাহলে তোমাকে দুই -তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। "
"কেন? "
তাকওয়া এক পলক শেহরিনের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হেসে বলে,"কারণ দুই বা তিন বছর পরে ইয়ো পানির মতোই একটা ফুটফুটে বাবু তোমাদের বাসায় আসবে। বাবুটা যখন ধীরে ধীরে বড় হবে তখন দেখবে সে ইয়ো পানির মতোই দেখতে হয়েছে। তখন তোমাকে ছোট ইয়ো পানিটাকে দেওয়া হবে। তুমি কি নিবে? "
তাসিন তাকওয়ার কথা বোঝে কি না দায়। কিন্তু আশেপাশে সবাই যখন এর ভাবার্থ বুঝতে পারে তখন একবার তিথির দিকে তো একবার শেহরিনের দিকে তাকিয়ে হাসে। সানজি নিজের উচ্ছ্বাসতা দমাতে না পেরে ঠোঁট চেপে হেসে বলে, " বাহ তাকওয়া। তুই তো একটা কাজের কাজ করলি। আজ একটা শুভদিনে আগাম শুভবার্তা দিয়ে দিলি। আল্লাহ তোর কথা কবুল করুক। নিজেদের মাঝে আত্মীয় গাঢ় হোক।"
সানজির কথায় তিথির মাঝে তেমন একটা ভাবান্তর না দেখা গেলেও শেহরিন লজ্জায় মাথা নত করে ফেলে। হাত দ্বারা নখ খুঁটতে থাকে সে৷ কান দিয়ে গরম ধোঁয়া নির্গত হয়৷ সম্পর্কের শুরুতেই সবাই একদম আগাম ভবিষ্যত বাণী করে ফেলছে।
" অনিভাকে নিয়ে এসো এখন। সবাই এসে গিয়েছে।"
" নেতাসাহেব এসেছে নাকি? "
" হ্যাঁ নেতাসাহেব এসেছে।"
শেহরিনকে লজ্জায় ডুবাতে ঋতমা সানজি দু'জন দু'পাশে গিয়ে রসিয়ে রসিয়ে বলে, " চলো চলো। নেতাসাহেব এসে গিয়েছে। আমাদের বউরাণী তো তার অপেক্ষায় এতোক্ষণ কাতর হয়েছিলো। এবার অপেক্ষার শেষ হোক।"
শেহরিন ঋতমার হাত চেপে ধরতেই ঋতমা হেসে বলে," আরে আরে.. লজ্জা পেতে হবে না। মন যে তোমার তার জন্য ছটফট করছে বুঝতে পেরেছি আমরা।"
------------------------------------------------------
" নিজেকে স্থিতিশীল রাখো মা। কোনো ভয় নেই। মুখে হাসি আনো।"
বাবার কথায় সংবেদনশীল মুখোরেখায় আলতো করে হাসি ফোটায় শেহরিন। রিজওয়ান সাহেব মেয়ের মুখে হাসি দেখে নিজের ভিতরটা ঠান্ডা করে। কোমল কন্ঠে বলেন,
" এসো।"
বাবার হাত ধরে বিছানো রেড কার্পেট পা রাখে শেহরিন। ধীরপায়ে হেঁটে চলে সে সামনে। দু'পাশ হতে মুমু আরশ সানজিসহ সবাই ফুল ছুঁড়তে থাকে। একরাশ উত্তেজনায় বউরাণীকে স্বাগতম জানায় প্রত্যেককে।
শেহরিনের আগমন হতেই সান্নিধ্য বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। চোখ গিয়ে তার স্থির হয় নববধূর পানে। নিজের ভিতরে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার সেই অনুভূতিটা তার হুট করে জেগে ওঠে। শান্ত মনটা অনাকাঙ্ক্ষিত এক বর্ষণে কাকভেজা হয়ে উঠতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে নেয় সঙ্গে সঙ্গে ।
রিজওয়ান সাহেব মেয়েকে নিয়ে স্টেজে উঠে। সান্নিধ্যের হাতে শেহরিনকে তুলে দিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত কন্ঠে বলে," কথা দিয়েছিলাম চার হাত এক করে দিবো। কথা রেখেছি। "
" এখন আমার কথা রাখার পালা।"
" বেস্ট উইশেস ফর ইউ।"
"থ্যাংকস।"
সান্নিধ্য শেহরিনকে নিয়ে এসে সোফায় বসে। এক এক করে সবাই আসতে থাকে বর কনেকে দেখতে। সান্নিধ্যের ছোট চাচা এবং চাচী আসে শেহরিনের সাথে পরিচয় পর্ব সাড়তে। নববধূর জন্য সঙ্গে আনা স্বর্ণের উপহার উন্মুক্ত করতেই শেহরিন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে উঠে। আঁড়চোখে পাশে বসা নেতাসাহেবের দিকে তাকাতেই সান্নিধ্য বাঁধ সাধে চাচা চাচিকে।
" দুই পক্ষ থেকেই বিয়েতে গিফট নিষিদ্ধ করা হয়েছে চাচ্চু। বারবার বলা হয়েছে। "
" আচ্ছা ঠিক আছে তাই বলে নতুন বউকে আমাদের তরফ থেকে কিছু দিবো না? এইটা কখনো হয় নাকি। "
" সম্ভবত শেহরিনের চাচ্চু চাচি নেই তোমরা দুজন সেই ভালোবাসাটুকু গিফট হিসেবে ওকে দিও তাই হবে। "
" ধুরু পাগল ছেলে। এটা আবার বলতে হয় নাকি। মাশাল্লাহ নতুন বউকে তো আমাদের ভীষণ পছন্দ হয়েছে। ওকে আমরা এমনি ভালোবাসবো। তবুও আমরা ওর জন্যই গিফটটা কিনেছি।"
" সবার জন্য এক নিয়ম চাচি। আপনাদেরটা নিলে শেহরিনের মামা মামিরটাও আমাকে নিতে হবে। নিয়মের বাহিরে আমি যাবো না। "
"বউমা যদি নেয় তাহলে আপত্তি কিসের?"
" হ্যাঁ হ্যাঁ বউমাকে দিচ্ছি আমরা। তোমাকে নয় ছেলে। "
" বউমা.."
" আমি নিজেই ওনাকে বলেছি গিফট নিষিদ্ধ করতে চাচ্চু।"
শেহরিনের নরম কন্ঠে কথাটা শুনতেই সেলিম সাহেব আর তার স্ত্রী অবাক চোখে একে অপরের দিকে তাকায়। সান্নিধ্য বাঁকা ঠোঁটে ক্ষীণ হেসে সেলিম সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলে, " ক্লিয়ার?"
" যাহ্ বাবা জামাই বউ দেখি একেবারে খাপে খাপ। তবে, নিলুফা, তোমাকে বলেছিলাম না আমাদের বংশে একটা উচ্চ পর্যায়ের ঘাড় ত্যাড়া পুরুষ আছে । বুঝতে পেরেছো তো সে কে?
" আচ্ছা হয়েছে। বুঝতে পেরেছি। বউমার সামনে এসব কি বলছো? "
"কিছু মনে করো না বউমা, তোমার সামনেই তোমার স্বামীকে ঘাড়ত্যাড়া বললাম।"
শেহরিন নিচু দিকে তাকিয়ে হালকা হাসে। লোকটাকে নিয়ে সবারই কিছু না কিছু অভিযোগ আছেই। তারকাঁটা, ঘাড়ত্যাড়া, মাথাগরম আরো যে কত কি শুনতে হবে তাকে।
----------------------------------------------------------
অবশেষে সবকিছু ছাপিয়ে কাঙ্ক্ষিত সন্ধিক্ষণ এসে ধরা দেয়। কাজি সাহেব এসে উপস্থিত হন বিয়ের মজলিশে। সবাই একত্রিত হতেই শুরু হয় বিয়ে পড়ানো। কাজি সাহেব বিয়ে পড়াতে থাকলে এর মধ্যে কোথায় হতে সাইজে বড় টুপি মাথায় হাজির হয় তাসিন। পড়নের পাঞ্জাবিতে তার সম্ভবত আইসক্রিমের দাগ লেগে আছে। ঠোঁটে মুখেও এক অবস্থা।
কাজি সাহেব শেহরিনের থেকে কবুল বাক্যে নেওয়ার জন্য কাছে যেতেই শেহরিনের ঘাম ছুটে যায়। এতোক্ষণের স্থির দেহ তার হুট করেই কম্পিত হতে শুরু করে। গলা শুকিয়ে আসে প্রবলভাবে।
রিজওয়ান সাহেব সানজিসহ সবাই শেহরিনের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। শেহরিন এক হাতে বাবার হাঁতটা চেপে ধরে দমকে কেঁদে উঠে।
" ভয় নেই মা। বলো তুমি।"
" বলো অনিভা।"
মাত্র তিনটে শব্দের একটা বাক্য। অথচ কত ভারী লাগছে। মুখ দিয়ে চাইলেও কেনো জানি বের হচ্ছে না। মেয়েদের জীবনে এই 'কবুল' শব্দটার এতো ওজন জানা ছিলো না শেহরিনের। পুরো মস্তিষ্ক কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য এইটুকুই যেনো যথেষ্ট।
" মা.. বাবা আছে তো। ভয় কেন পাচ্ছো তুমি?"
বাবা তার সুপারম্যান। বাবা বলেছে ভয় নেই তার মানে সত্যি ভয় নেই। চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়। শেহরিন নিজের কম্পনরত ঠোঁট উন্মুক্ত করে। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানিকে উপক্ষা করে মৃদু স্বরে বলে উঠে, " কবুল।"
" আরো দু'বার। "
কিছুটা সময় নেয় শেহরিন। এই ফাঁকে সান্নিধ্য এক নজর শেহরিনের দিকে তাকিয়ে নিজ পকেট হতে টিস্যু বের করে বাড়িয়ে দেয় তার হাতে। শেহরিন ঘোলাটে চোখে তাকিয়ে দেখে কেউ একজন তার চোখের পানি মোছার জন্য সবার সামনেই টিস্যু বাড়িয়ে দিয়েছে তার পানে। কান্নামুখো অবস্থাতেই সে ভরসা পায়। টিস্যু খানা নিয়ে হাতের মুঠোয় চেপে ধরে আগের চেয়ে কিছুটা পরিষ্কার কন্ঠে উচ্চারণ করে, " কবুল..কবুল।"
"আলহামদুলিল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহ
আলহামদুলিল্লাহ। "
রিজওয়ান সাহেব খানিকটা ঝুঁকে মেয়েকে সাদরে সান্ত্বনা দেন। অন্যদিকে কনের পালা শেষ হতেই এবার আসে বরের পালা। কাজি সাহেব প্রয়োজনীয় সব কথা উল্লেখ করে সান্নিধ্যেকে কবুল বলতে বলেন।
সান্নিধ্য কবুল বলার আগেই পাশ হতে টুপিওয়ালা সাহেব চিল্লিয়ে উঠে বলে," আমি বিয়ে করবো। আমি বলবো ক.."
পুরো কথাটা শেষ করার আগেই সরফরাজ সানজি একসাথে মুখ চেপে ধরে তার। আশেপাশে সবাই চাপা গুঞ্জনে হেসে উঠে।
সান্নিধ্য এই প্রথম হতাশার ন্যায় চোখে তাকায় তাসিনের দিকে। গম্ভীর কণ্ঠে বলে," ব্যাটা আর একটু হলেই আমার সর্বনাশ হয়ে যেতো।"
" দুঃখিত দুঃখিত আপনারা শুরু করুন।"
সরফরাজ তাসিনকে কোলে নিয়ে যেতে যেতে বলে," চল আজকে তোকে একটা ইয়ো পানি খুঁজে বিয়ে দিয়েই দিবো। বিয়ে করার মজা বুঝবি। তোকে যেহেতু পালতে পারছি আরেকটা আন্ডা বাচ্চা আসলেও সমস্যা নেই।"
" বড় আণ্ডাবাচ্চা বিয়ে করবো আমি বাবা।"
" তুই দেখি সান্নিধ্যকেও ছাড়িয়ে যাবি বাপ।"
-----------------------------------------------------
কাজি সাহেব ফের নিজ কাজে মনোযোগী হন। শুরু থেকে সবকিছু নতুন করে বলে সান্নিধ্যের থেকে কবুল বাক্যে নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হন তিনি। সান্নিধ্যকে বলা মাত্র তার উচ্চারণ করা সাড়াও।
"কবুল..কবুল..কবুল।"
" আলহামদুলিল্লাহ... আলহামদুলিল্লাহ..আলহামদুলিল্লাহ। বিয়ে সম্পন্ন হলো।"
এক ধাপ শেষ হতেই আরেকটা ধাপ শুরু হয়। কাবিননামায় স্বাক্ষর করতে গিয়ে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হয় শেহরিনকে। কলম ধরতেই তার কাঁপতে থাকা শরীরের কারণে হাতটাকে থিতু করতে পারে না কাগজের উপরে । ডান হাতটা দেখে মনে হয় আজকেই যেন প্রথম কলম ধরেছে। এতোটা নার্ভাস জীবনের কোনো পরীক্ষাতেই অনুভব করেনি।
রিজওয়ান সাহেব ফের এগিয়ে আসতেই সান্নিধ্য শেহরিনের হাত স্পর্শ করে। ডানহাতটার উপরে নিজ হাত রেখে ধীরভাবে শীতল কণ্ঠে বলে,
" আমি আছি তো.. ভয় কেন পাচ্ছো তুমি ?
একটু আগে বাবার বলা কথা নেতাসাহেবের মুখে শুনতেই শেহরিন থমকে তাকায়। সান্নিধ্য সামান্য ঠোঁট প্রসারিত করে চোখের পাতায় আশ্বস্ত জানায় তাকে্।
নেতাসাহেবের হাতখানা নিজের হাতের উপর রাখা অবস্থাতেই কোনমতে স্বাক্ষর করে সে। এই বলিষ্ঠ হাতদুটো তাকে ভিতরে বাহিরে অন্যরকম শক্তি জোগায়। ভয়েরা এই হাতদুটো দেখা মাত্র যেন পালিয়ে যায়৷ নিশ্চিন্তে নির্ভয়া হয়ে উঠে সে।
কিছুটা দূর হতে রিজওয়ান সাহেব এই অমায়িক দৃশ্যের সাক্ষী হন। চোখ তার ভেসে ওঠে জলে। অবশেষে আজ থেকে সে দায়িত্ব মুক্ত হলো্। তার মেয়েকে সে তার মনের মতো একজন শিঁরদাড়া সম্পন্ন পুরুষ মানুষের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হলো। আজ থেকে তার আর কোনো ভয় নেই। সে নিশ্চিন্তে পরপারে পাড়ি জমাতে পারবেন। আর কোনো বাঁধা নেই।
সকল কার্যাবলি সম্পন্ন শেষে খাওয়া দাওয়া সহ সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে হতে রাত সাড়ে এগোরোটা বেজে যায়। বিদায়ের ধ্বনি বেজে উঠে। একে একে সবাই পা বাড়ায় ফেরার পথে।
বিদায়কালে গাড়ির নিকটে অনেক কষ্টে আনা হয় শেহরিনকে। সাজ সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাবাকে জড়িয়ে ধরে তার কান্না মণিকা আন্টির মতো মানুষের চোখে পানি আনতে বাধ্য করে। কেউ পারে না তাকে বাবা থেকে ছড়াতে। রিজওয়ান সাহেব নিজেও ভেঙে পড়েন। আশেপাশে উপস্থিত সকলের চোখে পানি। মুমু আরশ আড়ালে চোখ লুকিয়ে কাঁদে। শফিক সাহেব এগুতে পারে না সামনে। সে নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না৷ কেনো জানি এই ভাগ্নিটার প্রতি তার অগাধ টান। ওর দিকে তাকালেই বড় আপার মুখটা ভেসে ওঠে। নিজ হাতে সে বারে বারে চোখ মুছতে থাকে।
" মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়বে তো। ওকে ছাড়াও।"
" সান্নিধ্যকে ডাকো। ও ছাড়া হবে না।"
"সান্নিধ্য কোথায়?"
" আসছে আসছে। "
সান্নিধ্য উপস্থিত হতেই তিথি এগিয়ে এসে বলে," শেহরিনকে তুমি নিয়ে এসো। আমরা পারছি না। অসুস্থ হয়ে যাবে এভাবে কান্না করলে।"
সান্নিধ্য হাতে থাকা ফোন পকেটে ঢুকিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে যায় বাবা মেয়ের কাছে। আলতো হাতে সে শেহরিনকে নিজের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করে। রিজওয়ান সাহেব বারে বারে মেয়েকে ছাড়াতে গিয়েও যখন সক্ষম হন না তখন সান্নিধ্যেকে অনুরোধ করেন যেভাবেই হোক ছাড়িয়ে নিতে। মেয়ের কান্না তার আর সহ্য হচ্ছে না।
সান্নিধ্য শফিক সাহেব দু'জন মিলে শেহরিনকে অবশেষে ছাড়াতে সক্ষম হয়। সান্নিধ্য তার নববধূকে নিজ বুকে আগলে নেয় সঙ্গে সঙ্গে। রিজওয়ান সাহেব ভীড়ের মাঝে নিজেকে আড়াল করে নেন মেয়ের থেকে। কাদেরকে জড়িয়ে ধরে সে ভেঙে পড়ে কান্নায়।
সান্নিধ্য একহাতে শাড়ির আঁচল দোপাট্টা ঠিক করে দিয়ে গাড়িতে নিয়ে গিয়ে বসায় শেহরিনকে। অতঃপর গাড়ির দরজা লাগিয়ে দিয়ে আসিফকে দ্রুত ড্রাইভিং সিটে বসার নির্দেশ দেয়।
শেহরিন জানালায় হাত বাড়িয়ে মামার হাত ধরে জোরালো গলায় কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে ডেকে উঠে। অস্ফুটে স্বরে আওড়ে বলে, " মামা আমার বাবাকে আপনারা একটু দেখে রাখবেন। আমার বাবা..."
" আমরা আছি মা। তুমি শান্ত হও।"
সান্নিধ্য গাড়িতে উঠার আগে রিজওয়ান সাহেবের সঙ্গে আরো একবার দেখা করে নেয়। সুদৃঢ় আলিঙ্গনে এবার সে নিজে পিঠে হাত রেখে তাকে সান্ত্বনা দেয়। রিজওয়ান সাহেব নিজেকে অধীর চেষ্টায় খানিকটা শান্ত করে বলেন," আমার একটা বিশেষ অনুরোধ আছে তোমার কাছে।"
"জ্বি বলুন।"
"যদি কখনো মনে হয়, আমার মেয়েটা সংসার জীবনে বা তোমার জীবনে বা তোমাদের পরিবারে অনুপযুক্ত, তাহলে দয়া করে ওকে কোনো শাস্তি না দিয়ে অক্ষত অবস্থায় আমার হাতে তুলে দিয়ে যেও বাবা। আমি কথা দিচ্ছি তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ থাকবে না। আমি আমার মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেলেই খুশি।"
সান্নিধ্য স্মিত হাসে রিজওয়ান সাহেবের কথায়। ঠান্ডা গলায় বলে,
"আমি মানুষকে মনোরঞ্জন করার জন্য কখনো কথা দেইনা। আমি আগে কথা রাখার অ্যাবিলিটি অর্জন করি, দশবার ভাবি তারপরে মানুষকে কথা দেই। সেটা ব্যক্তিগত জীবনে হোক কিংবা রাজনৈতিক জীবনে । এখনো পর্যন্ত এটা থেকে নড়চড় হয়নি, হবেও না ইনশাআল্লাহ।
ভরসা রাখতে পারেন। "
রিজওয়ান সাহেব কোনো কথা বলতে পারেন না। ধীরভাবে মাথা নাড়িয়ে সে সায় জানায়। সান্নিধ্যর উপরে তার ভরসা আছে। অগাধ ভরসা।
সবার থেকে বিদায় নেওয়া শেষে সান্নিধ্য গাড়িতে উঠা মাত্র গাড়ি ছেড়ে দেয়। জানালার গ্লাসে মাথা রেখে শেহরিন পিছু ফিরে তাকিয়ে ঠোঁট চেপে অশ্রু বির্সজন দেয় আরো একবার।
"এদিকে আসো। "
" বাবার কাছে যাবো। "
সান্নিধ্য শেহরিনকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে বলে,
" এতোদিন বাবার কাছে থেকেছো আমি কি কান্না করেছি নাকি? এবার স্বামীর কাছে থাকো।"
শেহরিন ভেজাচোখে তাকায় সান্নিধ্যের দিকে। সান্নিধ্য শেহরিনের চাহনিকে উপেক্ষা করে স্থির গলায় বলে,"গলার এগুলো খুলে ফেলবে? কষ্ট লাগছে? "
শেহরিন কোনো প্রতিত্তুর দেয় না। নিস্তেজ হয়ে নেতাসাহেবের বুকের মধ্যে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ কর ফেলে সে। শরীর তার অসাড় হয়ে আসছে। গহনা গুলো খুলে ফেললে কি যে শান্তি পেতো। কিন্তু ও বাড়িতে গিয়ে সেই তো আবার পরতেই হবে। খুলে আর লাভ কি।
সান্নিধ্য এক হাত গলিয়ে শেহরিনের গলার পিছনে হাত রেখে নেকলেসটা কিছুটা সময় নিয়ে খুলে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে গলায় হালকা লাগা অনুভব টের পায় শেহরিন। চোখ খুলে তুলে তাকাতেই দেখতে পায় নেতাসাহেব তার কাজ করে দিয়েছে। মলিন মুখে তার স্নিগ্ধ হাসি বায়। দু-হাতে সে সান্নিধ্যেকে জড়িয়ে আবারো নিশিন্তে চোখ বন্ধ করে ফেলে। এখন বেশ শান্তি লাগছে।
সান্নিধ্য আলতো হেসে শেহরিনের কপালে চুমু দিয়ে বাহিরের দিকে নজর দেয়। আকাশ জোৎস্নাতে ভরে উঠেছে। সাই সাই করে ছুটে চলেছে গাছপালা। অদূরে মাথা উঁচু করে রাখা পাহাড় ভেসে ওঠে চোখে। এই নিরব নির্জন রাত ভেদ করে অবশেষে নেতাসাহেব তার ব্যক্তিগত নেত্রীকে নিজের নামে লিখে নিয়ে ফিরছে তার নীড়ে। পুরনো কিছু পৃষ্ঠা উল্টিয়ে শুরু করতে যাচ্ছে নতুন জীবন। উন্মুক্ত করছে নতুন এক অধ্যায়।