রাজনীতি বনাম প্রেমনীতি

পর্ব - ১২

🟢

" আমাদের চট্টগ্রামের নতুন ভাবি।এমপি সাহেবের জানে জিগার। শেহরিন সাবরিনা অনিভা। ভবিষ্যতে প্রজন্মে যে কি না নিজেও হবে পলিটিক্সের মাঠে আইকনিক লিডার।

এক্সকিউজ মি, মিসেস এমপি সাহেবা আমি কি আগে আগেই একটা অটোগ্রাফ পেতে পারি?"

"ঋতমা..."

"প্লিজ প্লিজ প্লিজ। একটু দয়া করুন। এখন কোনোভাবে অটোগ্রাফ নিয়ে রাখলে পাঁচ দশবছর পর হলেও আপনি আমাকে চিনতে পারবেন। নয়তো বলবেন হু আর ইউ? আমি তোমাকে চিনি না। ঋতমা আবার কে? এই নাম আমি কখনো শুনিইনি।"

" বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে না এবার?"

শেহরিন দু'হাত কোমড়ে চেপে চোখ সরু করে তাকায় ঋতমার দিকে। স্বল্প রাগের ভাঁজে সে কপাল কুঁচকে ফেলে। থমথমে মুখ করতেই ঋতমা এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রেখে হাসতে হাসতে বলে," হোয়াই ইউ অ্যাংরি কিউট লেডি? ব্যাটা প্রো লেভেলের হ্যান্ডসাম আছে। আহ্ কি তার ভালোবাসা। সিরিয়াসলি !! ফার্স্টে তো আমি বিলিভই করতে পারছিলাম না। সে শুধু মাত্র তোমার জন্য আমাকে কোথায় থেকে কোথায় থেকে খুঁজে বের করেছে।"

"তোমার খোঁজ পেলো কিভাবে?"

"আই ডোন্ট নো। অবাক তো আমি নিজেও হয়েছিলাম। বাট পলিটিশিয়ান পার্সনদের সবদিকে হাত থাকে। এটা ওদের জন্য ইজি একটা ম্যাটার। তার উপরে তো এমপি বলে কথা। আলাদাই একটা পাওয়ার।"

কথা বলতে বলতে চুয়েট সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে দু'জনে। স্যারের দেওয়া বইয়ের কিছু তালিকা ঘেঁটেঘুটে ডিজিটাল কিয়স্কে যায়। সেখানে বইয়ের নাম, লেখকের নাম সার্চ করতে করতে শেহরিন নিষ্প্রাণ কন্ঠে বলে, " আমার হয়েছে জ্বালা। এই পাগল লোক আমার মাথা খারাপ করে দিচ্ছে একদম।"

"পাগল কেন বলছো? বলো তোমার ভালোবাসায় সে দিওয়ানা হয়ে গিয়েছে। তোমাকে ছাড়া সে আর কিছুই চোখে দেখতে পারছে না। বাট প্রেম হলোটা কিভাবে? দু'জন ডেইটে গিয়েছিলে?"

কম্পিউটার হতে চোখ তোলে শেহরিন। মুখ কালো করে বলে,"তুমি তো দেখে এমপি সাহেবের চেয়েও একধাপ এগিয়ে। আমি নিজেই তার প্রেম কিভাবে হলো বুঝলাম না আর তুমি সরাসরি ডেইটে চলে গিয়েছো। আচ্ছা তোমার কি মনে হয় আমি তার সঙ্গে ডেইটে যাবো? "

"না যাওয়ার কি আছে? ডেইটে গিয়েই তো প্রেম হয়।"

"ওহহো ঋতমা তোমারও মাথা শেষ। বাদ দাও। স্ট্রেন্থ অফ ম্যাটেরিয়ালস্ বুকটা তিন নম্বর সেকশনে শো করছে। চলো যাই।"

শেল্ফ হতে প্রয়োজনীয় তিনটা বই খুঁজে নেয় দু'জনে। স্যারের রেফান্সকৃত বই এগুলো। ঋতমা বইয়ের উপরে হালকা লেপ্টে থাকা ধূলো ঝাড়তে ঝাড়তে বলে, " তুমি কি রাজনীতি একেবারেই পছন্দ করো না? "

" সত্যি পছন্দ করি না।"

"আচ্ছা, রিলাক্স মাইন্ডে একটু অবজার্ভ করো তো, যদি তোমার এই অপছন্দের বিষয়টাই তোমার জীবনে কোনোভাবে প্রবেশ করে তাহলে কি তুমি মেনে নিবে?"

" এখানে দুটো জিনিস ম্যাটার করে। ফার্স্ট অফ অল আমার নিয়তি সৃষ্টিকর্তা অনেক আগেই লিখে রেখেছেন। সেটা ঘটবেই। সো যাই হোক না কেন আমাকে মেনে নিতেই হবে। আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা যদি আমাকে অপশন বের করে দেন তাহলে আমি আমার অপছন্দনীয় বিষয়টা ইগনোর করার চেষ্টা করবো।"

" ওকে, আমি জাস্ট ডেইলি লাইফ থেকে ধারণা নিয়ে বলছি বাস্তবে আমার অভিজ্ঞতা কম - মানুষ নাকি যেটা পছন্দ করে না, সেটাই তার জন্য নির্ধারিত হয়ে থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এটার সাথে নিজেকে রিলেট করতে পারো কি?"

শেহরিন বই গুলো মূল ডেস্কে নিয়ে যায় লাইব্রেরিয়ানের কাছে ইস্যু করতে।লাইব্রেরি কার্ড সহ বইগুলো জমা দিতে দিতে বলে,

" আমার কিছু ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। দেখা গিয়েছে আমি যেটা চাই না সেটাই আমার সামনে উপস্থিত।"

"তখন কিভাবে নিজেকে ম্যানেজ করতে ?"

"নিজে তো পারতামই না। বাবার শরণাপন্ন হতাম। বাবার থেকে কিছু সাইকোলজিক্যাল কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা নিতাম। বাবা বলতেন, বিষয়টাকে রিফ্রেমিং করো আই মিন প্রত্যেক জিনিসকে এক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখো। তাহলে কোনো না কোনো সময় বুঝতে পারবে এই পরিস্থিতি থেকেও আমি নতুন কিছু শিখতে পেরেছি, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা গেইন করেছি।"

"এটা ঠিক। আমরা আমাদের চাহিদা অনুযায়ী কিছু না পেলে সেটার প্রতি এক ধরনের নেগেটিভিটি বায়াস তৈরি করি। "

"ইয়েস্ একই সাথে কগনিটিভ ডিসসোনেন্স ক্রিয়েট হয়। মানসিক চাপে ভুগি।"

বই ইস্যুকরণ শেষ হতেই বেরিয়ে পড়ে লাইব্রেরি হতে দুজনে। ঋতমা শেহরিনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে, " তুমি পারবে।"

"কি পারবো।"

"রাজনীতির মাঠে গোল দিতে। তোমার ভিতরে মানিয়ে নেওয়া সম্পর্কে বেশ পজিটিভ চিন্তা ধারা আছে। দেখা যাবে তোমার এতো অপছন্দের ভীড়েও একদম সাবলীলভাব চলতে পারছো তুমি এমপি সাহেবের সাথে। আর একটু এদিক সেদিক হলে আংকেল তো রয়েছেন বুঝানোর জন্য। হি ইজ আ জিনিয়াস পার্সন।"

" এই পৃথিবীতে আমার মতো অধম ব্যক্তি আর কেউ নেই জানো কি? এতোই অধম যে,যার কোনো সাপোর্টার নেই। সব এমপি সাহেবের সাপোর্টার। ব্যাটা এমপির নির্ঘাত আধ্যাত্মিক কোনো শক্তি রয়েছে। একশোহাত দূর থেকেও নিজের দিকে টেনে নেয় সবাইকে। আমার বাবাও এটা নিয়ে মজা নেয়,তুমিও নিচ্ছো। কোথায় যাই আমি বলো?"

ঋতমা শব্দ করে হেসে উঠে। শেহরিনের হাঁটার সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বলে, " আধ্যাত্মিক শক্তি থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। ভোটের মাঠে জনগণের মন আদায় করে নিতে এটা বেশ কার্যকরী। আই থিংক রাজনৈতিক নেতাদের এটা একটা অন্যতম গুণ।"

" রাজনীতি !! চার অক্ষরের সবচেয়ে অপছন্দীয় ওয়ার্ড। পৃথিবী হতে বিলুপ্ত হয়ে যাক। শেহরিন একটু দম নিয়ে বাঁচুক। আর পারি না বাপু সত্যি।"

"এখনই এই কথা বললে হবে? নেতা সাহেবের মনে কেবল প্রেমের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মেঘ ডাকবে, আঁধার ঘনাবে, ঝড় উঠবে কত কি? নেগেটিভিটি বায়াস কমাও মেয়ে। আংকেলের কথা মানতে শিখো। একসাথে লম্বা সময় পাড়ি দিতে হবে না?"

একাডেমিক রোড ধরে হেঁটে আসতে আসতে শেহরিন থমকে দাঁড়ায়। দীর্ঘ শ্বাস ছুঁড়ে বলে, " বাই এনি চান্স যদি আমার কপালটা উনার সাথে লেখা থাকে তাহলে আমি নিশ্চিত আমাকে সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। যেটা আমি কখনোই চাই না। রাজনীতি খুনাখুনি হানাহানি মারামারি আমার দূর্বল চিত্ত মেনে নিতে পারবে না।"

"হুঁশ কে বলে তুমি দূর্বল। ইউ আর আ স্ট্রং এন্ড পাওয়ারফুল লেডি।"

" কে বলেছে তোমাকে? আমি হচ্ছি সেরা নাক কাঁদুনে,ছিঁচকাদুন একটা, ভীতুর ডিম। একটু কেউ বকা দিলেই চোখে পানি এসে জমা হয়, একটু কেউ বাজে কথা বললে নিতে পারি না সহজভাবে। নিজেকে বুঝতে পারি না। সবশেষে সেই বাবার কাছে গিয়েই আমাকে সান্ত্বনা কুঁড়াতে হয়। একে বলে স্ট্রং গার্ল?"

"স্ট্রং এর ফুল মিনিং এটা নয় শেহরিন। স্ট্রং হচ্ছে যে অচেনা অজানা পরিবেশে, অস্থিতিশীল মুহুর্তে নিজেকে শান্ত রেখে সবকিছু ম্যানেজ করতে পারে। নিজের ভিতরে একটু হলেও সাহস রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হতে পারে্। কষ্ট হচ্ছে তাও নিজেকে নিজের অবস্থান থেকে সরিয়ে আনে না সেটাকে বুঝায়। তুমি যেটা বলেছো এটা হচ্ছে আমাদের ইমোশনের একটা জায়গা। অভ্যন্তরীণ ইস্যু।বাহ্যিক বিষয়টাও স্ট্রং এর একটা মিনিং বেয়ার করে।"

প্রশাসনিক ভবন কাটিয়ে আর একটু সামনে যেতেই শেহরিন ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে বলে, " আমাকে এতোকিছু বুঝিয়ে লাভ নেই বাচ্চা। আমি কোনো নেতা সাহেবের হয়ে স্লোগান দিচ্ছি না এটা কনফার্ম থাকো।"

"ওকে কনফার্ম থাকলাম। কিন্তু যদি এর হেরফের হয় বাচ্চা তাহলে তোমার সঙ্গে আমার বোঝাপড়া হবে আলাদা। দরকার হলে আমেরিকা থেকে ইমার্জেন্সি টিকিট কেটে দেশে আসবো আমি। এসেই তোমাকে আমি ধরবো।"

"ভয় লাগছে এখন একটু।"

" হুহ। পেতে থাকো। সিরিয়াস আমি।"

" লুকাবো আমি তখন।"

"তোমার নেতা সাহেবকে নিয়ে পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম তল্লাশি চালিয়ে যাবো।"

শেহরিন ঋতমার চোখ পাকানো দেখে হেসে ফেলে। হাত ধরে টানতে টানতে বলে, " আমি জীবনেই বিয়ে করবো না তার চেয়ে।এসো এখন।"

"হেই শেহরিন।"

মেইন গেটের কাছাকাছি আসতেই পিছন হতে পুরুষালি ডাকে ঘুরে তাকায় শেহরিন ঋতমা। খানিকটা দৌড়ে এসে তাদের সামনে উপস্থিত হয় আরেফিন। কাঁধে কালো ব্যাগ ঝুলানো ঝাঁকড়া চুলের ছেলেটা বিস্তর হাসি হেসে বলে, " আ.. বাসায় ফিরেছো?"

"হ্যাঁ। কিছু বলবে?"

"থ্যাংকস।"

" থ্যাংকস্ কেন?"

"তোমার নোটটা আজকের টেস্টের জন্য বেশ হেল্পফুল ছিলো। লাস্ট টাইম প্রিপারেশনে কিছুটা হলেও আন্সার করতে পেরেছি। বিগ থ্যাংকস টু ইউ।"

"ইটস্ ওকে। এভাবে বলতে হবে না। ক্লাসমেট আমরা। "

"ক্লাসমেট থেকে ফ্রেন্ড হতে পারি কি আমরা?"

শেহরিন ঋতমা একে অপরের দিকে তাকায়। বন্ধুত্বের জন্য নির্দ্বিধায় আবদার করা ছেলেটাকে দেখে খানিকটা অবাক হয় তারা। এই ছেলেটা চট্টগ্রামের লোকাল সাথে ওদের একটা বড় সার্কেল রয়েছে ভার্সিটিতে।নিঃসন্দেহে ফ্রেন্ডের অভাব নেই। সেখান থেকে এসে দু'জনের সাথে ভাব করতে আসায় শেহরিন ভ্রু জোড়া উঁচুতে তুলে বলে, "আর ইউ শিউর?"

"হোয়াই নট?"

ঋতমা আবছা হেসে বলে, "ওকে। ভালো হলো একটা নতুন ফ্রেন্ড পেয়ে। শেহরিনের আর একা লাগবে না এখন।"

"কেনো তুমি কোথায় যাবে?"

"ওয়ে টু অ্যাবরড।"

" সো স্যাড!! বন্ধুত্বের শুরুতেই বিচ্ছেদ।"

" হাহা।হ্যাঁ। বাট বিষয়টা স্যাডিস্টিক। ইয়ার ফাইনাল চলে আসছে এখনও আমরা ফ্রেন্ড হিসেবে নতুন করে পরিচিত হচ্ছি।"

আরেফিন দুপকেটে হাত ঢুকিয়ে কাঁধ ঝাঁকিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত কন্ঠে বলে, " যদি তোমরা চাও তাহলে আমার সার্কেলে অ্যাড হতে পারো। আমরা ওয়ার্ম ওয়েলকাম জানাবো ডেফিনেটলি।"

"নো থ্যাংকস। ইট’স এনাফ ফর আস।"

" অহ্ কফি??"

"ফ্রেন্ডশীপ ট্রিট??"

"ইয়েস সামথিং লাইক দ্যাট।"

শেহরিন হাত ঘড়িতে সময় দেখে নেয়। বারোটা প্রায় বাজতে চলেছে। তার মানে বাসায় পৌঁছানোর যথেষ্ট সময় হাতে আছে। আবার মোজাম্মেল আংকেলও আসবে পৌনে দুটোর দিকে তাকে নিতে। এতোক্ষণ সময় এমনি বসে থাকতে হতোই। তার চেয়ে বরং নিউ ফ্রেন্ডশীপ সেলিব্রেশন করাই যায়।

" যাওয়া যাক।"

রাজনীতি বনাম প্রেমনীতি বাংলা গল্প pdf সাহিত্য

|উইন্ড অফ চেঞ্জ রেস্টুরেন্ট,দুপুর একটা দশ |

টানা পঁয়তাল্লিশ মিনিট ধরে অপেক্ষায় বসে আছে দুটো প্রাণী। এক প্রাণী স্থির হয়ে বসে ত্যক্ত বিরক্ত হলেও আরেক প্রাণী তার কর্মে ব্যস্ত। এদিক ওদিক ছুটে বেড়িয়ে রেস্টুরেন্ট মাথায় তোলা সাড়া। বেবি মানকি কি আর সাঁধে নাম রাখা হয়েছে তার।

সানজি উত্তপ্ত চোখে আরো একবার সময় দেখে নেয়। মন চাইছে তার দৌড়ে গিয়ে কয়েক ঘা বসিয়ে দিয়ে আসতে। এতোক্ষণ অপেক্ষায় রাখার কোনো মানে হয়। এতো কিসের কাজ? নেতা হয়েছে জন্য কি কাজের পাহাড় খনন করতে হবে নাকি সবসময়।

"ভাইয়া তুই আসবি নাকি তোর অফিসে গিয়ে ভাংচুর করে আসবো। বেবি মানকি কিন্তু সাথেই আছে।"

" এসেছি।"

"কোথায়? "

সান্নিধ্য জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেয়। গাড়ি হতে নেমেই সরাসরি সে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে। খানিক সেকেন্ড চোখ বুলিয়ে চলে যায় সানজি তাসিনের আসনের দিকে। সাথে রয়েছে নিত্যকার সঙ্গী আসিফ।

কিন্তু জনাব আসিফের মুখোরেখায় খুব একটা সন্তুষ্ট ভাব নেই। নেতা সাহেবের অতিরিক্ত বেপরোয়া চলাফেরায় সে চিন্তিত। শরীরে ভর ডরও নেই মরার ভয়ও নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো রকমের প্রোটোকল ছাড়াই নেতা সাহেব অবাধে চলাফেরা করে। অথচ যেখানে প্রোটোকল নিয়ে যায় সেখানে একা একাও সে যেতে পারবে। নিশ্চিত তামাশা ছাড়া কিছু নয়।কারণ ড্রেনে যেমন মশা ভনভন করে এর শত্রুরাও তেমন চারপাশে ভনভন করে। কিন্তু কে শোনে কার কথা!! নেতা সাহেবকে হাজার বুঝিয়েও আজ অব্দি কোনো লাভ পায়নি সে।

"ইয়ো সানিই... এতোটা সময় পরে আসলে কেন? জানো আমার কতোটা ক্ষুধা পেয়েছে?"

"এই ব্যাটা আল্লাহর দোহাই লাগে রেস্টুরেন্টে অন্তত মান সম্মান খাইস না। চুপচাপ বস।"

" কালা ভুনা অর্ডার করো।"

সান্নিধ্য চেয়ার টেনে বসে ব্যস্ত ভঙ্গিতে। মুখে হতে মাস্ক খুলে পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে ভাঁজ করে নেয়। সামনে রাখা টিস্যু হতে দুটো টিস্যু নিয়ে মুখের উপর জমা বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছতে মুছতে গম্ভীর কণ্ঠে বলে, " সময় পঞ্চাশ মিনিট। এর মধ্যে যা ইচ্ছা খাবি। পঞ্চাশ মিনিট শেষ হবে আমি এখান থেকে বের হয়ে যাবো। বিল তোরা দুজনে দিবি।"

"পঞ্চাশ মিনিট তো খাবার তৈরি করতেই যাবে। খাবো কখন তাহলে?"

" স্টুপিড।এতোক্ষণ তাহলে বসেছিলি কেন? অর্ডার দিয়ে রাখলে কি হতো?"

"ওহ স্টুপিড। আমরা ট্রিট নিতে এসেছি কোনো অনুদান নয়। পঁয়তাল্লিশ মিনিট অপেক্ষা করিয়েছিস। পঞ্চাশ প্লাস পঁয়তাল্লিশ টোটাল পঁচানব্বই মিনিট পরে তুই বের হবি। এর আগে বের হবি তো শেহরিনকে অন্যত্র পাত্রস্থ করতে আমার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি থাকবে। "

আসিফ আশেপাশে সূক্ষ্ম নজর বুলিয়ে সান্নিধ্যের পাশে চেয়ারটায় বসে। সানজির দিকে তাকিয়ে বলে, "ভাবির নাম ভাঙিয়ে খেয়ে যাচ্ছো, থ্রেট দিচ্ছো, কাজটা ঠিক হচ্ছে না।"

"তুমি আর কিছু বইলো না আসিফ ভাই। তোমার থেকে আমি এখনও পাঁচশো টাকা পাই। নিশা নামের মেয়েটার ফোন নাম্বার তো আমিই এনে দিয়েছিলাম তোমাকে।"

আসিফ হুট করে কেশে উঠে ডিরেক্ট অ্যাকশনে। এই মেয়ে হাটে হাড়ি ভাঙতে সবসময় প্রস্তুত থাকে যেনো। কার সামনে কি বলতে হবে এটা নিয়ে একটু ও ভাবে না। অথচ নিশা তার কোনকালে অমানিশায় পরিণত হয়ে গিয়েছে তার নেই ঠিক ঠিকানা। আর এ বেচারি এখনও আছে পাঁচশো টাকা নিয়ে।অথচ এই এক পাঁচশো টাকা তার থেকে দুবার নেওয়া সাড়া।

সান্নিধ্য এক পলক আসিফের দিকে তাকাতেই আসিফ এলোমেলো দৃষ্টিতে অন্যদিকে ফিরে তাকায়।

"ধ্যাৎ সেঁধে সেঁধে লজ্জা!! "

কথায় আছে, যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়। কিন্তু প্রচলিত কথাটাকে একটু উল্টে পাল্টে সান্নিধ্য শেহরিনের গল্পকথা অনুযায়ী ভাবতে গেলে হয়,"যেখানে এমপির সাহেবের ভয়, সেখানেই শেহরিনের আগমন হয়।"

হলোও তাই। ঘুরেফিরে শেহরিনেরও আগমন ঘটে সেই উইন্ড অফ চেঞ্জ রেস্টুরেন্টে। একই ছাদের তলায় আবারো দুজনে। ঋতমা আরেফিনের সাথে সাথে সে আসন গ্রহণ করে এমপি সাহেব হতে কিছুটা দূরের টেবিলে। যদিও একদমই সম্মুখীন নয় তবে একটু চোখ খুলে ভালোভাবে তাকালেই একে অপরকে নজরে আসবে।

বিজ্ঞাপন

খানিকক্ষণ গল্প গুজব চলে তাদের মধ্যে। কফি খাওয়ার কথা বলে আসলেও মাঝদুপুরে তাদের সবার লেগেছে ভারী খাবারের ক্ষুধা। একে একে তাই নিজেদের পছন্দমতো দিতে থাকে খাবারের অর্ডার । শেহরিন মেনু কার্ড হতে মুখ তুলে ঋতমাকে কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে যায়। স্থির হয়ে মস্তিষ্কের সঙ্গে কিছু সেকেন্ড বোঝাপড়া করে সে। অতঃপর রাউন্ত টেবিলে তার সম্মুখে বসা ঋতমাকে পাশ কাটিয়ে কাত হয়ে সে চোখ মেলে সুদূরে বসা এমপি সাহেবের দিকে।

বিস্ময়ে গোল হয়ে উঠে তার চোখদুটো। নিজ চক্ষুকে বিশ্বাস করা দায়।এই লোক এখানে কেন? দুহাত সে থুতনির নিচে রেখে হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে। চাপা কন্ঠস্বরে বলে,

"পৃথিবী গোল নয় গোল হচ্ছে চট্টগ্রাম। এমন গোল যে, যেদিকে যাই, যেদিকে তাকাই শুধু মাত্র একজন ব্যক্তিকেই দেখতে পাই।"

"কাকে দেখছো?"

"আছে একজন।"

আরেফিনের জিজ্ঞাস্য দৃষ্টিকে খুব একটা পাত্তা দেয় না শেহরিন। থুতনি চেপে সে বসে থাকে দৃষ্টি নিচু রেখে। ঋতমা ভ্রু যুগল বাঁকিয়ে কিছু একটা ভেবে পিছনে তাকায়।খানিকক্ষণ খোঁজাখুঁজি শেষে মেলে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির দেখা। সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত সুর্দশন নেতা সাহেবকে দেখামাত্র সে মুখ টিপে হেসে শেহরিনের দিকে তাকিয়ে গলার স্বর টানে। শেহরিন চোখ তুলে তাকায় ঋতমার দিকে।চোখের ইশারায় আরেফিনকে দেখিয়ে মৌনতা বজায় রাখতে বলে চুপিসারে।

টেবিলের অপর প্রান্তে এতো সময়ের মাঝে সানজির চোখে ঠিকই ধরা পড়েছে শেহরিন। ঠোঁটের উপর ঠোঁট চেপে সে একবার তার ভাইয়ের দিকে তো একবার শেহরিনের দিকে তাকিয়ে হাসে। যতসম্ভব এমপি সাহেব তার প্রেয়সীকে এখনও দেখতে পাইনি। তার মনোযোগ নিবদ্ধ রয়েছে ফোনের দিকে।

" ছেলেটা কে?"

"হু?"

"পাশের ছেলেটা কে?"

গমগমে কন্ঠে ভাসা কথায় সানজি অবাক হয়ে সান্নিধ্যের দিকে তাকায়। ফোন হতে দৃষ্টি না তুলেই বেচারা কখন ধরে ফেললো শেহরিনকে, বোধগম্য হয় না তার।

" মাথার পিছনেও চোখ আছে নাকি তোর? দেখলি কখন?"

"যেটা প্রশ্ন করেছি সেটার অ্যান্সার দে।"

" ব্যাগ আছে সাথে ফ্রেন্ড হয়তো।"

তাসিন বসা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। চক্ষু সরু করে বলে,"কার কথা বলছো তোমরা।"

" তোর ইয়ো সানির পানিকে দেখবি?"

"কোথায়?"

"পিছনে ঘুরে তাকা। ইয়েলো রঙের ড্রেস পড়ে বসা মেয়েটা। তোর আপকামিং চাচিমণি হবে। "

তাসিন সঙ্গে সঙ্গে পিছু ঘুরে তাকায়। জুহুরি চোখে কতক্ষণ তাকিয়ে খুঁজাখুঁজির পরে বের করে ইয়েলো রঙের ড্রেস পরিহিতা মেয়েটাকে।

" মুখে হাত দিয়ে আছে যে?"

"হু হু।"

তাসিন সামনে ঘুরে বুকে হাত চেপে ধরে। মুখ ফুলিয়ে বলে,

"ইয়ো সানিই আগের পানি তুমি নাও..এই পানি আমি নিবো। এটা আমার। ফু মণি..আমি এই পানিকেই বিয়ে করবো।"

সান্নিধ্য স্থির দৃষ্টিতে কিয়ৎক্ষণ তাকিয়ে থাকে তাসিনকে দেখে।

সানজি আসিফ মুখ লুকিয়ে হাসে সান্নিধ্যের মুখোরেখার অবস্থা দেখে। বেচারা নেতা সাহেবের হয়েছে দুঃখ। প্রতিপক্ষের শেষ নেই তার।

" মাথার উপরে রিং লাইটের সাথে ঝুলিয়ে রেখে দিবো তোকে।"

" আমি জানি না। ইয়েলো পানিই আমার লাগবে। না হলে আমি স্কুলে যাবো না,মিস্ এর কাছে যাবো না, চাউমিন খাবো না,পটি করবো না।"

"এই ব্যাটা চুপ।"

"আসিফ ওর মুখে কস্টেপ লাগিয়ে দাও।"

আসিফ বসা ছেড়ে উঠে তাসিনের মুখ চেপে ধরে নিজের কোলের মধ্যে নিয়ে বসায়। তাসিন বন্ধ মুখে কাইকুঁই করতে করতে হাত পা ছুঁড়ে।

" আচ্ছা আচ্ছা ইয়েলো পানি তোর...তাও থাম বাবা তুই।"

ফুমণির আশ্বস্ততায় হাত পা ছোঁড়া বন্ধ করে তাসিন স্থির হয়। দুহাত দিয়ে আসিফের হাত ঠেলে সরিয়ে লম্বা করে শ্বাস টেনে বলে, " সত্যি আমার? "

"সত্যি তোর।"

"তাহলে বাবাকে বলো এক্ষুনি বিয়ে দিতে।"

"হাফ প্যান্ট পরপ বিয়ে করবি?"

"তো কি হয়েছে? বিড়াল প্যান্ট তো আর পরেনি।"

"পাঞ্জাবি না পরলে বিয়ে হয় না।"

"ইয়ো সানিই তোমার পাঞ্জাবিটা দাও তো। বিয়ে করেই আবার ফেরত দিয়ে দিবো।"

সান্নিধ্য এক নজর পিছনে শেহরিনের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টি ঘুরিয়ে আনে তাসিনের দিকে। শান্ত কন্ঠে বলে, " তোকে তো বয়েজ স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়নি। তোর ক্লাসে তো অনেক গার্লস আছে। একটাকেও বিয়ে করতে মন চায়নি?"

তাসিন আসিফের কোল ডিঙিয়ে টেবিলে রাখা টিস্যু গুলো ছিঁড়তে ছিঁড়তে মুখ গোমরা করে বলে, " আদিবাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ও এখনও বেডে হিসু করে।"

হতভম্ব তিনজনে। সানজি নিজের হাসি দমিয়ে কড়া গলায় বলে,

"ছিঃ তাসিন। এসব নোংরা কথা বলতে হয় না।"

"ইয়ো সানিই তো বললো।"

"ভাইয়া চুপ থাক ওর সাথে আর কোনো কথা বলিস না।"

" তুই নিজেও তো একই কাজ করিস।"

"মাঝে মধ্যে করি সবসময় না।"

ঘড়ির কাঁটা তখন দুটো পনেরো। খাবার এসেছে খানিকক্ষণ হলো। সান্নিধ্যের খাবার খাওয়া মুহুর্তেই ফোন আসে তোড়জোড় করে। বাম হাতে ফোনটা রিসিভ করে দেড় মিনিটের আলাপন সাড়ে। অতঃপর আসিফের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে,

"সমাবেশ তিনটায় আসিফ?"

" আহসান ভাই তো তাই বলছে।"

"যেতেই তো দেড়ঘন্টার মতো লাগবে। উঠো কুইক।"

কোনমতে বোতলের পানি নিঃশেষ করে উঠে পড়ে সান্নিধ্য। মুখে মাস্ক পড়ে নেয় ব্যস্তহাতে। ওয়ালেট হতে দুহাজার টাকার নোট বের করে দিয়ে বলে," ঠিকভাবে খেয়ে সরাসরি বাসায় যাবি। গাড়ি না আসা অব্দি বের হবি না।"

" খাওয়াটা শেষ কর।"

"সময় নেই।"

সান্নিধ্য আসিফকে উঠতে দেখেই মাথা নিচু করে এক হাতে মুখ আড়াল করে খেতে থাকে শেহরিন। সে এখন অব্দি জানে নেতাসাহেব তাকে দেখতে পায়নি। তাই সর্তক দৃষ্টিতে চোখে চোখে রেখেছিলো তাকে। উঠার দৃশ্যই দেখামাত্রই নিজেকে লুকিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে সে।

অন্যদিকে মুখ লুকানো নারীকে প্রকাশ্যে ধরা দিতে সান্নিধ্য সরাসরি তার টেবিলে এসেই নক করে। মুখে মাস্ক পরিহিত থাকায় আরেফিন এক ঝলকেই চিনতে পারে না এমপি সাহেবকে। কপাল কুঁচকে তাকাতেই সান্নিধ্য ভারী গলায় জিজ্ঞেস করে,

"নাম কি?"

"আরেফিন।"

"আফরিন?"

"আফরিন নয় আরেফিন।"

"সেম ডিপার্টমেন্ট? "

ঋতমা মুখ তুলে জোরপূর্বক হাসি টেনে বলে, " জ্বি আমাদের ফ্রেন্ড "

" তোমাকে দেখেছি কি কোথাও?"

"জ্বি ঋতমা আমি..ওই যে শেহরিন..।

" ওহ আচ্ছা, চিনতে পেরেছি।"

সান্নিধ্য ঘড়িতে সময় দেখে এক নজর শেহরিনের দিকে তাকায়। মাথা নিচু করে চামচ দিয়ে খুটখুট করা রমণীর দিকে দৃষ্টি রেখে ঋতমার উদ্দেশ্য বলে, "তোমার ফ্রেন্ডকে মাথা তুলে খেতে বলো। এভাবে মাথা নিচু করে রাখলে ঘাড় থেকে মাথা নামতে সময় লাগবে না। কেউ কেউ তো আবার ভাবে চোখ বন্ধ করলেই মানুষ তাকে দেখতে পায় না।"

শেহরিন ঠোঁট কামড়ে চুপ করে কথা শুনে যায়। কোনো প্রকার টু বাক্য করে না। এখন কথা বলা মানেই যেঁচে গিয়ে খাল কেটে কুমির আনা। নেতার মুখ হতে তো আবার বুলেট ছোঁড়ে। আরেফিনের সামনে কিছু বললে পুরো ভার্সিটি জানাজানি হয়ে যাবে। তার চেয়ে চুপ থাকাই শ্রেয়।

কিয়ৎসেকেন্ডের ব্যবধানে যখন বোঝে সামনে দাঁড়ানো লম্বা দৈহিক অবায়ব আর নেই তখন সে মাথা তুলে তাকায়।

এমপি সাহেব যাওয়া মাত্র আরেফিন অবাক চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,

"তোমাদের পরিচিত? "

" পরিচিত নয় আবার পরিচিত। আই মিন হালকা পরিচিত।"

"হালকা পরিচিত আবার কেমন?"

"ওই হলো একটা। বুঝবে না খাওয়া স্ট্রার্ট করো।"

"ওকে্।"

ঋতমা খেতে খেতে চশমা ঠিক করে শেহরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

"এমপি সাহেব প্রোটোকল ছাড়াই রেস্টুরেন্টে ঘুরে বেড়ায়? বিষয়টা ইন্টারেস্টিং লাগলো। তাও সানজি আপুদেরকে সময় দিতে। এরকম দৃশ্য খুব কমই দেখা যায় রাজনৈতিক পার্সনদের মধ্যে।"

আরেফিন লাচ্ছির স্ট্র দ্বারা লম্বা সিপ নিয়ে হেসে বলে," হেই ডোন্ট সে দ্যাট। রাজনীতিবিদরা কঠিন গেইম খেলতে এক্সপার্ট। উনাকে দেখা যাচ্ছে একা।বাট আশেপাশে উনারই বহুত লোক সেট করা আছে। এই রেস্টুরেন্টে এতোক্ষণ চিরুনি তল্লাশি করলে দেখা যেতো আশেপাশে যে সমস্ত লোক ঘুরছে মোস্ট অফ দেম এই এমপির লোক। ওরা জনগণকে শো করে একরকম। বাট রিয়েলে অন্যরকম।"

"সিরিয়াসলি?? "

"ড্যামেন শিউর। আর এই যে এমপি এটা তো ডেঞ্জারাস পার্সন। চট্টগ্রামে আমরা লোকাল আমরা.."

এতোক্ষণ মৌনব্রত পালন করা শেহরিন আরেফিনের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে আগ্রহী দৃষ্টি মেলে। কিন্তু ঋতমা বিষয়টা অনুধাবন করা মাত্র আরেফিনকে থামিয়ে দেয় তৎক্ষনাৎই। এই ছেলে এখন নেগেটিভ কথা বার্তায় পরিস্থিতি গরম করে তুলবে। কি রেখে কি বলে আরেকজনের মনে আরো বিষ ঢেলে দিবে। এমনিতেই মেয়ে দশ হাত দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এমপি সাহেবের নামে আরো উল্টোপাল্টা শুনলে একশো হাত দূরে যেতে তাকে কেউ আর আটকাতে পারবে না।

" ডেঞ্জারাস সঙ্গে কুলিং পার্সনও। রাজনৈতিক নেতাদের সব গুণ থাকতে হয়। এনিওয়ে আমরা আমাদের টপিকে ফিরি এসব বাদ দেই।"

" আচ্ছা আরেফিনের কথাটা শুনি আগে?"

ঋতমা মুখ এগিয়ে আনে শেহরিনের পানে। কৌতূহল চোখে তাকিয়ে বাঁকা হেসে ফিসফিস করে বলে,

"কেন? এমপি সাহেব সম্পর্কে এতো জানার আগ্রহ?

ভালো ভালো। ক্রমশ উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছো তুমি।"

"ঋতমা..."

"বুঝি বুঝি। নেতা সাহেব তোমার দিকে কতবার তাকিয়েছে জানি না। বাট আমি তোমারটা গণনা করেছি। দেড় ঘন্টায় ছত্রিশ বার। ওহ মাই গড। ওহ মাই গড। কি প্রেম.. কি ভালোবাসা!! "

"তুমি যা ভাবছো তা নয় বিশ্বাস করো।"

"আচ্ছা করলাম বিশ্বাস।"

"মোটেও করোনি।"

"একটা টিপস্ দেই শুনবে।"

"কি?"

"চোখে চোখে এতো কথা.. মুখে কেনো বলো না। এই গান আমার আগেই শোনা হয়ে গেছে। তুমি না শুনে থাকলে আজকেই বাসায় গিয়ে শুনবে। আমি শতভাগ নিশ্চিত শোনার সময় তুমি তোমার কল্পনায় নেতাসাহেবকে দেখতে পাবে ।"

শেহরিন নির্নিমেষ চাহনিতে তাকিয়ে থাকে ঋতমার দিকে। আর কিছু তার বলার নেই, বুঝানোর নেই। তবে গানটা সে বাসায় গিয়ে শুনবে। উচ্চশব্দে শুনবে। কি আছে এই গানের মাঝে সেটা সে বের করেই ছাড়বে। আর নেতাসাহেব কোথায় থেকে আসে তার কল্পনায় সেটাও দেখে ছাড়বে। সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। এভাবে আর কতো??

বিজ্ঞাপন
রাজনীতি বনাম প্রেমনীতি গল্পটি মাহরিণ তৃণ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সামাজিক গল্প