ইনায়ার সকালে ঘুম ভাঙতেই নিজেকে আরিশের বাহুডোরে আবিষ্কার করল।আরিশ এখনো ঘুমাচ্ছে।ইনায়া দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সকাল সাড়ে সাতটা বাজে ।রাত করে ঘুমানোর কারণে আজ ফজরে দুজনের মাঝে কেউই উঠতে পারে নি।ইনায়া আরিশের বুক থেকে মাথা তুলে আরিশের দিকে তাকালো।আরিশের ঘুমন্ত মুখশ্রী দেখে ইনায়া যেন নতুন করে প্রেমে পরে গেল আরিশের।ইনায়া আস্তে আস্তে আরিশের বাহুডোর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।এর মাঝেই আরিশের ঘুম ভেঙ্গে গেল এবং সে নড়ে চড়ে উঠে ছোট্ট ছোট্ট করে চোখ খুলল কিন্তু তা ইনায়া লক্ষ্য করল না।সে তো আরিশের বাহুডোর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে ব্যস্ত ছিল। আরিশও কিছু বলল না সে দেখতে চেয়েছিল ইনায়া কি করে। তাই চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর নাটক করল।ইনায়া নিজেকে ছাড়িয়ে আরিশের উপর ঝুঁকে আরিশ কে দেখতে লাগলো।
তারপর বলতে শুরু করল ____
আমি জানি আপনি এখন ঘুমাচ্ছেন আমি যা বলব তা আপনার কর্ণপাত হবে না। কিন্তু কি জানেন অতীতের পর থেকে আমার নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে খুব ভয় করে। একবার না পেয়ে হারানোর যন্ত্রণা আমি ভোগ করেছি। আপনাকে পেয়ে হারানোর যন্ত্রণা আমি সহ্য করতে পারবো না। জানি না কখন,কিভাবে আপনি আমাকে নিজের মায়ায় আবদ্ধ করে ফেলেছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন আরিশ আপনাকে আমি ভীষণ ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি। যা আমি কখনো কথাই প্রকাশ করতে পারবো না। আর হয়তো প্রকাশ করতে চাইও না। আপনি না হয় কষ্ট করে আমার মন পড়ে নিয়েন? এতোটুকু করতেই পারবেন আপনি আপনার ইনুর জন্য তাই না?
তখনই আরিশ বলে উঠলো ____
তোমার জন্য আমি সব কিছুই করতে পারব বউ জান।আর এইটা তো খুবই সামান্য।
ইনায়া হকচকিয়ে গেল আরিশের হঠাৎ করে কথা বলায়। সে ভাবলো হয়তো আরিশ ঘুমের ঘোরে কথা বলছে।ইনায়া তাই সাহস নিয়ে নিজের কান আরিশের মুখের কাছে নিয়ে গেল।এই সুযোগেই আরিশ ইনায়া কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিজের চোখ জোড়া খুলে ফেলল।
ইনায়া ভরকে গেল এমন আকস্মিক আক্রমণে।সে শক্ত করে চোখ বন্ধ করে ফেলল। বুঝতে পারেনি প্রতিবারের মতোন এই বারও আরিশের কাছে ধরা খেয়ে যাবে।আরিশের দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছে না। লজ্জায় মুক লুকালো আরিশের প্রশস্ত বুকে।আরিশ আগলে নিল তার ইনু কে।
তারপর ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল ____
ভালোবাসি মুখে বললেই প্রকাশ পায় না ইনু। ভালোবাসা প্রকাশ পায় যত্নে, ব্যবহারে, ইফোরট্সেএ।আর তোমার মাঝে আমি সব কিছুই দেখতে পাই।তাই তোমার কখনোই আমার কাছে মুখে স্বীকারোক্তি দিতে হবে না।আমি তোমার চোখ পড়ে বুঝে নিব।আমি তোমার মনের কথা আড়ি পেতে শুনে নেব।কেবল আমার ভালোবাসায় সায় দিয়।
ইনায়া কিছু বলল না কেবল আরিশের বুকে শুয়ে থেকে তার কথা গুলো শুনল। কিন্তু জানি না হঠাৎ তার কি হলো নিজ থেকেই আরিশের গলায় পর পর চুমু খেল।আরিশ আবেশে চোখ বন্ধ করে নিল।তার ভীষণ ভালো লাগে যখন ইনায়া কথা না বলে কাজে কিছু প্রকাশ করে।আর কোনো কিছু প্রকাশ করার তরিকা যদি এমন রোমান্টিক হয় তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই।ইনায়া আরিশের গলায় চুমু খেতে খেতে আরিশের কন্ঠ নালিতে চুমু খেল। বরাবরই আরিশের এডাম অ্যাপলের প্রতি তার নজর ছিল।যখন প্রথম বার আরিশ কে কাছ থেকে দেখে ছিল তখনই এইদিকে তার নজর চলে যায়। কিন্তু তখন পর পুরুষ বলে নিজের চোখের দৃষ্টিকে হেফাজত করেছিল। কিন্তু এখন তো আর আরিশ তার জন্য পর পুরুষ না। তাই সে দেখতে পারবে, ছুঁতে পারবে, এমনকি চুমু খেতে পারবে। এবং এখন সে তাই করছে। কিন্তু সে কি জানে তার এমন করাতে আরিশের কি অবস্থা হচ্ছে। হয়তো জানে না নয়তো সে এতক্ষনে থেমে যেত। অন্যদিকে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই নিজের ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে এমন স্পর্শ পেয়ে আরিশের জান যায় যায় অবস্থা।সে অনেক কষ্টে নিজেকে কন্ট্রোল করে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল__
ইই,, ইন,, ইনু জান প্লিজ থামো। আদার ওয়াইজ আই উইল লস মাই কন্ট্রোল।
ইনায়া থেমে গেল।আরিশের গলা থেকে নিজের মুখ বের করে আরিশের পানে তাকালো।আরিশকে চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসলো।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আরিশের দিকে। মেয়েলি লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে আরিশের গোলাপী ঠোঁটে টুপ করে চুমু খেয়ে বিছানা থেকে নেমে পরলো।আরিশ বেচারা হা হয়ে গেল।সে বুঝতে পারলো না তার সাথে কি হয়েছে।সে ঠোঁটে হাত দিয়ে বিছানায় উঠে বসলো এবং অবাক নয়নে ইনায়া কে দেখতে লাগলো।ইনায়া আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুলে খোঁপা করছে। এমন ভাব করছে যেন কিছুই ঘটেনি।আরিশ ইনায়া দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।ইনায়া আয়না দিয়ে আরিশের চেহারা দেখছে এবং মিটমিট করে হাসছে।
আরিশ অভিমানী কন্ঠে বলল____
যখন চুমু দিয়েছিলে তখন ভালো করে দিতে।
ইনায়া ভাব নিয়ে বলল___
এখন মুড নেই।
আরিশ বিছানা ছেড়ে নেমে ইনায়ার কাছে আসতে আসতে বলল___
হ্যাঁ এখন আমার মুড বানিয়ে নিজের মুড অফ করে দিলে।হাউ রুড।
ইনায়া ঠোঁট কামড়ে হাসলো। তারপর বলল___
শুনুন আপনার সাথে ফালতু আলাপ করার সময় নেই। আমার কলেজ যেতে হবে।
আরিশ এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল___
তোমার আর কি? আমার যে এখন শাওয়ার নিতে হবে? তাও তোমার জন্য।
ইনায়া অবাক হয়ে আরিশ কে জিজ্ঞেস করল__
এত সকালের শাওয়ার নিতে যাবেন কোন দুঃখে? আমি আবার কি করলাম?
আরিশ কিছু বলল না কেবল বাঁকা হেসে কাভার্ড থেকে নিজের কাপড় বের করে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল।
ইনায়া বোকার মতোন আরিশের যাওয়ার পানে চেয়ে রইল।আরিশের কথার মানে বুঝতে পেরেই তার কান দিয়ে ধোঁয়া বের হলো।সে ওয়াশরুমের দরজার কাছে গিয়ে জোরে জোরে দুইটা ধাক্কা দিয়ে বলল___
আপনি আপনি আপনিইইইইইই দিনে দিনে নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছেন।
আরিশ ওয়াশরুমের ভেতর থেকে বলল___
আমি রাতে নির্লজ্জ হলে তুমি আমাকে সামলাতে পারবে না তাই তোমার কথা ভেবে দিনে নির্লজ্জ থাকি। কিন্তু চিন্তা করোনা উগান্ডা গিয়ে সারাক্ষণই নির্লজ্জ থাকবো।
ইনায়া বাক্য হারা হয়ে গেল আরিশের এমন লাগামহীন কথায়। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল___
অসভ্য লোক।
বলেই ড্রয়িং রুমে থাকা ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য নিজেদের রুম থেকে বের হল।
__________
কি অবস্থা তোমার?
রুকসানা ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক ব্যক্তি কে বলল।উপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি জবাব দিল___
এইতো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। আপনি?
রূকসানা হাফ ছেড়ে বলল___
আর কি করে ভালো থাকবো? তোমার কথা চিন্তা করলে মাঝে মাঝে কষ্ট হয়।
উপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি কিছু না বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করল___
ঠিক বুঝলাম না যদি একটু ক্লিয়ার করে বলতেন।
রূকসানা বাঁকা হেসে বলল ____
ইনায়া তো দিব্যি বিয়ে করে স্বামীর সাথে সুখে দিন কাটাচ্ছে।
উপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি বাসা থেকে উঠে গেল এবং বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করল___
ইনায়া বিয়ে করে ফেলছে? কিন্তু এইটা কি করে সম্ভব? ও তো আমাকে __
আর কিছু বলতে পারলো না ব্যক্তিটি।
রূকসানা বলল___
হ্যাঁ ভালোবাসতো কিন্তু এখন তার জীবনে আরিশ এসেছে। তারা আজ হানিমুনে যাবে তাই ভাবলাম তোমাকে জানিয়ে দেই। তাহলে আজ রাখছি তুমি মেডিকেল স্টুডেন্ট অবশ্যই তুমি ব্যস্ত।
নিজের মত কথা বলে রূকসানা ফোন থেকে দিল।অপর পাশের ব্যক্তিটিকে কিছু বলার সুযোগ দিল না। কারণ সে জানে এখন অপর পাশের ব্যক্তি কি স্তব্ধ হয়ে আছে। কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
রূকসানা কাকে কল দিয়েছে? কি মনে হয় আপনাদের?
____________
আরিশ ইনায়াকে বাইকে করে কলেজের সামনে নামিয়ে দিল।ইনায়া নামতেই আরিশ সেই আগের মতন খুব যত্ন সহকারে ইনায়ার মাথা হেলমেট খুলে দিল। তারপর বলল____
মনে আছে ইনু যখন প্রথমবার তুমি আমার বাইকে উঠেছিলে তখন আমার শার্টের কলার ধরে পুরো রাস্তা এসেছিলে।আর আজকে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে এসেছো।
ইনায়া লাজুক হাসলো আরিশের কথায়। তারপর বলল____
কারণ তখন আপনি আমার উগান্ডা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা চাচাতো ভাই ছিলেন। কিন্তু এখন আপনি আমার উগান্ডা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা জামাই।
আরিশ শব্দ করে হেসে দিল। তারপর বলল___
হয়েছে মেডাম এখন কলেজে যান।আমি প্রথম ক্লাসের পর এসে আপনার কলেজের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে আপনার ছুটি নিচ্ছি।
ইনায়া মাথা নেড়ে কলেজের গেট পর্যন্ত যায় তারপর কিছু একটা মনে করে আবার পিছনে ফিরে। আরিশ এখনো তার দিকেই তাকিয়ে আছে।ইনায়া আশে পাশে তাকিয়ে দেখলো মানুষ নেই তাই আরিশ কে ফ্লাইং কিস ছুড়ে দৌড় দিল।আরিশ কিছুক্ষণ অবাক হয়ে থাকলেও পরক্ষণেই শব্দ করে হেসে উঠলো। এবং বাইক ঘুরিয়ে আবার বাড়ির দিকে চলে এলো।
______________
ইনায়া কলেজে গিয়ে ব্যাগ রেখেই বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিতে শুরু করল। তার বিয়ে সম্পর্কে কলেজের কেউই জানে না। সে চায় না এখন এই বিষয়ে কাউকে কিছু জানাতে। আর আরিশ যেহেতু আগেও তাকে কলেজে ছেড়ে গিয়েছিল ,তাই সবাই আরিশ কে তার চাচাতো ভাই হিসেবে চিনে। এজন্য আজ আর কোন প্রশ্ন করল না কেউ। কেবল আরিশ কে দেখে ইনায়ার ফ্রেন্ডরা তার প্রশংসা করল।বলল ছেলেটা খুবই সুদর্শন। তাদের এমন চাচাতো ভাই থাকলে তারা এতদিনে এই ছেলেকে কিডন্যাপ করে বিয়ে করে ফেলত।ইনায়া কেবল হাসলো। এখন যদি বলে যে তার এই চাচাতো ভাইয়ের সাথে তার বিয়ে হয়ে গেছে তাহলে সবাই তাকে কথা শুনাবে। কারণ ইনায়া সবসময় বুক ফুলিয়ে বলতো ___
আমার এইসব কাজিন রিলেটেড কোন কিছুই পছন্দ না। আর যাই হোক কখনো নিজেদের ভেতর বিয়ে করব না। অথচ সে নিজে এখন নিজের আপন চাচাতো ভাইকে বিয়ে করে বসেছে।
বড্ড হাস্যকর শোনাচ্ছে।
প্রথম ক্লাস করেই ইনায়া ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে বারান্দায় উঁকিঝুকি মারতে লাগলো। দেখার চেষ্টা করল আরিশ এসেছে কিনা। তার বান্ধবীদেরকে বলেছে যে তার পরিবারের সাথে বেড়াতে যাবে বলে আজ তার চাচাতো ভাই এসে ছুটি নিয়ে যাবে। ইনায়া বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে এবং কলেজের গেটের দিকে তার দৃষ্টি। তার বিরক্ত লাগছে আরিশ এখনো আসছে না কেন।আরিশ কখন আসবে ,আর কখন তার ছুটি নিবে এবং কখনই বা তারা বাড়ি ফিরে তৈরি হবে। এমন সময় তার আশেপাশে থাকা মেয়েদের বলতে থাকা কথা তার কানে এলো। একজন মেয়ে বলছে____
প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে একটি সুদর্শন ছেলে ঢুকেছে। এত সুদর্শন ছেলে সে কখনো এইখানে দেখেনি।
আরেকজন বলছে ____
ইস্ এই ছেলের জন্য তো আমি নিজের বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্রেকআপ করতে রাজি। শুধু যদি ছেলেটা রাজি হয়ে যায়।
তার সাথে জন বলে উঠলো ___
রাজি হাওয়া তো দূরের কথা ছেলেটি যখন কলেজকে দিয়ে ঢুকলো তখন তো কারোর দিকে তাকিয়েও দেখে না সোজা প্রিন্সিপাল রুমে চলে গেল।
তখনই প্রথম যে কথা বলেছিল সেই মেয়েটি বলে উঠলো___
আরে হতে পারে কোন দরকার ছিল বলে তাকাইনি।
ইনায়া এদের কথা শুনে প্রিন্সিপাল রুমের দিকে ওকি ঝুঁকি মারতে শুরু করল। সেখানে প্রিন্সিপালের সামনে বসে আছে একটি ছেলে। সে ছেলেটির পিঠ দেখেই বুঝতে পারল এটি তার আরিশ। কিন্তু পরক্ষণেই তার মাথায় রাগ উঠে গেল। অন্য মেয়েরা কেন তার স্বামীকে দেখবে? এটা সে মোটেও বরখাস্ত করবে না। আরিশ কেবল তার। অন্য কেউ আরিশ কে তার কাছ থেকে কেড়ে নিতে আসলে সে তার হাত কেটে ফেলবে।
ইনায়া নিজে নিজে বিড়বিড় করছিল তখনই পাশে থাকা মেয়ে গুলো উৎফুল্ল কন্ঠে বলল____
ওই দেখ ছেলে টা প্রিন্সিপাল রুম থেকে বের হয়ে উপরের দিকে তাকাচ্ছে।
ইনায়া তাদের কথা শুনে নিচের দিকে তাকাতেই আরিশের চোখে চোখ পরে গেল।আরিশের শীতল দৃষ্টিতে ইনায়ার চোখ পরতেই তার রাগ ঠান্ডা হয়ে গেল। গরম মাথা একদম ঠান্ডা হয়ে গেল। ঠোঁটে আপনা আপনি হাসি ফুটে উঠলো। আরিশও মুচকি হাসলো এবং ইশারা করল চলে আসতে।ইনায়া মাথা নাড়ালো।সে দোতালায় ছিল।
তখনই মেয়েগুলো জোরে বলে উঠলো ___
দেখ দেখ ছেলেটি আমার দিকে তাকিয়ে ইশারা করছে।
ইনায়া আর সহ্য করতে পারল না।সে মেয়ে গুলোর কাছে গিয়ে আঙুল তুলে দাঁতে দাঁত চেপে বলল____
উনার দিকে কু নজর দিলে চোখ তুলে ফেলব। আমাকে ডাকছে তোমাদের কে না। হ্যান্ডসাম ছেলে দেখলেই মুখ দিয়ে লোল পরে না? চোখ হেফাজতে রাখো নয়তো ইনায়া ইফরাহ খান চোখ তুলে ফেলবে।
কথা গুলো বলেই ইনায়া দৌড় দিয়ে ক্লাস রুমে থেকে ব্যাগ নিয়ে নিচে যেতে লাগলো। আরিশ পকেটে হাত ঢুকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ইনায়া আসতেই তার কাছ থেকে ব্যাগ নিয়ে জিজ্ঞেস করল___
ওই মেয়েদের সাথে ঝগড়া করছিলে নাকি।
ইনায়ার রাখ উঠে গেল সে আরিশের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল___
তার মানে মেয়েগুলো ঠিকই বলছিল আপনি তাদেরকে দেখছিলেন তাই না?
আরিশ অবাক হয়ে গেল।ইনায়া কি বলছে তার মাথায় ঢুকছে না।সে তো কেবল ইনায়া কে দেখছিল। তারপর তোতলাতে তোতলাতে বললো ___
আস্তাগফিরুল্লাহ বউ আমি কেবল তোমাকে দেখি। তুমি হীনা গোটা পৃথিবী আমার জন্য অন্ধকার।
ইনায়া কিছুটা দমে গেল তারপর বলল___
আর বলবেন না মেয়ে গুলো আপনাকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিল তাই আমিও কথা শুনিয়ে দিয়ে এসেছি।
ইনায়ার কথা শুনে আরিশেল ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।সে ইনায়ার কিছুটা কাছে এসে বলল____
উঁহু,,, জেলাস?
ইনায়া সাবলীলভাবে জবাব দিল _____
অবশ্য জেলাস।আমার অধিকার আছে আপনার প্রতি পসেসিভ থাকার। আপনি কেবল আমার। একান্তই আমার।
আরিশ কেবল অবাক নয়নে চেয়ে রইল ইনায়ার পানে। তার বলার মতন কিছু নেই।নেই বললে ভুল হবে বরং তার গলা দিয়ে যেন কোনো শব্দ বের হবে না। সে যে ইনায়া কে পেয়ে কতটা খুশি হয়েছে তা কেবল সে নিজেই জানে।
ইনায়া আরিশ কে তাড়া দিয়ে বলল ____
উফ্ আর দাঁড়িয়ে থেকে মানুষ কে দেখাতে হবে না যে আপনি হ্যান্ডসাম।আমি দেখেছি এতেই যথেষ্ট চলুন এখন।
আরিশ শব্দ করে হেসে দিয়ে বলল____
যো হুকুম মেম।
তারপর দুজন মিলে কলেজ থেকে বের হয়ে বাড়ি চলে এলো।
__________
বাড়ি ফিরেই ইনায়া আগে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশ রুমে ঢুকে পরলো। একদম গোসল করেই বের হবে। গোসল শেষ করে বের হয়ে যখন দেখল আরিশ নিশ্চিন্তে বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় আছে তার মেজাজ চাঙ্গে উঠে গেল।সে হাতে থাকা তয়লা আরিশের মুখের উপর ছুড়ে মারলো।আরিশ হকচকিয়ে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে নিজের সামনে থাকা রমণীর দিকে করতে শুকনো ঢোক গিলল।ইনায়া রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।আরিশ নিজের বত্রিশ দাঁত বের করে ইনোসেন্ট হেসে ইনায়ার রাগ কমানোর চেষ্টা করল কিন্তু এতে যেন ইনায়ার রাগ আরো বেড়ে গেল।সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল____
একেই তো কাল রাতে আমাকে বলেছেন যে আজ আমাদের ফ্লাইট।না আমার কোনো প্রস্তুতি আছে আর না আপনার কোনো চিন্তা আছে। কত সুন্দর নিশ্চিন্তে এখানে শুয়ে আছেন। এখনো যে গোছগাছ করিনি এই খেয়াল মাথায় আছে?তা থাকবে কেন? বিয়ে করেছেন তার মানে বউ সব করবে, আপনার আর কি? শুয়ে বসেই সময় কাটাবেন।
কথা গুলো বলেই ইনায়া লাগেজ বের করার জন্য আলমারি খুলল। কিন্তু সেখানে কোনো লাগেজ না পেয়ে তার ধৈর্য্য বাঁধ ভেঙে গেল।তার একটা বদ অভ্যাস হলো রাগ উঠলেই তার কান্নাকাটি করতে ইচ্ছে করে। এখনো তার তাই ইচ্ছে করলো।হুট করেই ডুকরে কেঁদে উঠলো।আরিশ যেন হতভম্ব হয়ে গেল ইনায়া কে হঠাৎ কাঁদতে দেখে।সে ভাবলো হয়তো ইনায়া ব্যাথা পেয়েছে তাই তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে নেমে ইনায়ার কাছে গেল এবং ইনায়া কে নিজের বুকে আগলে নিয়ে চিন্তিত সুরে বলল_____
কি হয়েছে ইনু?কোথাও ব্যাথা পেয়েছো?আমি কি কোনো কষ্ট দিয়েছি? কলেজে কেউ কি কিছু বলেছিল?বলো জান আমি আছি তো।
ইনায়া বরাবরই যখন কাঁদত তখন তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কেউই ছিল না। প্রথম কারো সান্তনা পেয়ে তার যেন আগের জমানো এখন কান্না একসাথে বের হয়ে আসতে চাইলো।সেও নিজেকে আর বাধা দিল না।আরিশের বুকে মুখ গুজে কাঁদতে লাগলো।আরিশ বুঝতে পারছি না এখন যে কি করবে। ইনায়া কে নিয়ে আস্তে আস্তে বিছানার দিকে আসলো এবং সে নিজে বসে ইনায়া কে তার কোলা বসলো।ইনায়া নিজের দুই হাত দিয়ে আরিশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল ____
জানেন আমার রাগ উঠলেই কাঁদতে ইচ্ছে করে। কখনো কারোর সাথে রাগ দেখাইনি।এখন হয়তো মাঝেমধ্যে আপনার সাথে রাগ করি কিন্তু পরক্ষণে ভয় থাকে যদি আপনি আমাকে ছেড়ে চলে যান।
কথাগুলো বলেই ইনায়া আবার কেঁদে উঠলো।আরিশ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নরম সুরে বলল___
ছেড়ে যাওয়ার জন্য তোমাকে জড়িয়ে ধরিনি ইনু। তুমি যত খুশি তত রাগ করবে আমার সাথে। আমি তোমার রাগ কমিয়ে দিব। তোমাকে না বলেছি কান্না না করতে? তোমার চোখের পানি দিয়ে আমি সহ্য করতে পারিনা। আমি ঘৃণা করি তোমার চোখের পানি কে। তুমি কেবল আমার দেওয়া সুখের যন্ত্রণায় কান্না করবে। দুঃখে নয়।
এমন সময় আরিশের এহেন কথায় ইনায়ার কান্না থেমে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল। আরিশের টিশার্টের নিজের চোখ, মুখ ,নাক ডলে মিছে রাগ দেখিয়ে বলল____
লাগেজ বের কোথায় রেখেছেন পাচ্ছি না খুঁজে।একেই তো কোনো গোছগাছ করিনি।
আরিশ ইনায়ার মুখ নিজের হাতের মাঝে নিয়ে উপরে তুলল। তারপর ইনায়ার চোখের পাতায় চুমু খেয়ে বলল ____
আমি লাগেজ বের করে সব কাপড় গুছিয়ে ফেলেছি।
ইনায়া অবাক দৃষ্টিতে আরিশের দিকে তাকালো।আরিশ মাথা নেড়ে আবার বলতে শুরু করল ___
আমি বিয়ে করেছি বউকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য না। বরং বউ কে আদর সোহাগ দেওয়ার জন্য।
ইনায়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরিশ ইনায়ার ঠোঁট জোড়া দখল করে নিল। ইনায়া পরম আবেশে চোখ বন্ধ করে নিল। খামচে ধরলো আরিশের পরনের টিশার্ট।