অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৬৭

🟢

বাড়ি ফিরতে ফিরতে তাদের রাত হয়ে গেল।গাড়ি থেকে নেমে আরিশ ইনায়া কে বলল ঘরে চলে আসতে সে আসছে কিছুক্ষণের ভেতর।ইনায়াও লক্ষী মেয়ের মতন ইরিন দের সাথে চলে এলো। কেবল আরশি আর সাদমান রয়ে গেল গাড়িতে।আসার সময় তারা এক গাড়িতেই এসেছে।ইরিন সোজা নিজের ফ্ল্যাটে চলে গেল। যাওয়ার আগে ইনায়াকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। জড়িয়ে ধরে তো কেঁদেই দিয়েছিল।ইনায়াও তাকে আগলে নিল।সেও জানে ইরিনের চোখে পানি কষ্টের নয় বরং নিজের একতরফা ভালোবাসার পূর্ণতায় খুশির পানি।ইনায়া ইরিনকে শান্তনা দিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দিয়ে নিজেও ঘরে চলে আসলো।ক্লান্ত শরীরে রুমে এসে বসলো ইনায়া। আস্তে আস্তে মাথা থেকে হিজাব খুলে ফেলল।এখন যেন হালকা লাগছে। আলসেমি ছেড়ে বিছানা থেকে উঠে ওয়াশ রুমে চলে গেল। চোখে মুখে পানি দিয়ে তারপর বের হলো। ফলস্বরূপ পরনের লাল শাড়ি অনেকটা ভিজে গেল।ইনায়া তয়লা দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বারান্দায় চলে গেল। রাতের আকাশ তারায় দিয়ে ভরা‌। বারান্দায় শীতল হাওয়া বইছে।আরিশ আর সাদমান সবে মাত্র ফিরল। সাদমান সোজা যেই রুমে থাকতো সেই রুমে চলে গেল এবং আরিশ ফ্ল্যাটের দরজা লাগিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। রুমে গিয়ে ইনায়া কে দেখতে না পেয়ে বারান্দার দিকে দৃষ্টিপাত করতেই দেখতে পেল লাল রঙের শাড়ির আঁচল বাতাসে উড়ছে।আরিশ বুঝে ফেলল তার প্রিয়শী বারান্দায়।সে নিজের পরনের কোর্ট খুলে সোফার উপর রাখলো তারপর নিঃশব্দে এগিয়ে গেল বারান্দার দিকে।ইনায়া হাতে তয়লা নিয়েই আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ করে কানের কাছে গরম নিঃশ্বাস পরতেই হাত থেকে তয়লা পরে গেল।কানে ভেসে এলো পুরুষালি কন্ঠে গাওয়া গানের লাইন।আরিশ ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে গান গাইতে

লাগলো ___

তোমায় ছোঁয়ার ইচ্ছে আমায় ভীষণ পীড়া দিচ্ছে

বলো কবে ছুঁতে দিবে, তুমি আবার আমার হবে

বলো কোন তারিখে, কবে

আমার একলা একা থাকা, একা স্মৃতি ধরে রাখা

আর পারছি না এভাবে, তুমি আমার আবার হবে

বলো কোন তারিখে, কবে?

ইনায়ার সমস্ত শরীর দিয়ে বিদ্যুৎ বয়ে গেল।কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। এমন মূহুর্তে নিজের কাছের মানুষটির থেকে এমন গান শুনে ইনায়ার মন দিয়ে এক অজানা অনুভূতি বয়ে গেল।ইনায়া চোখ বন্ধ করে নিজের শাড়ির আঁচল শক্ত করে খামচে ধরলো।আরিশ যেন আরো উতলা হয়ে উঠলো। তারপর দুজনের মাঝে থাকা সামান্য দূরত্ব গুছিয়ে দিল‌‌। এতটুকু দূরত্বও যেন তার সহ্য হচ্ছিলনা।ইনায়া নিজের শরীরের ভার আরিশের বুকের উপর ছেড়ে দিল।আরিশ নিজের দু হাত দিয়ে ইনায়া কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। নিজের এক হাত আস্তে আস্তে নিয়ে গেল ইনায়ার উন্মুক্ত পেটে।এতেই যেন ইনায়ার শরীর দিয়ে বিদ্যুৎ বয়ে গেল।শরীর তার অবশ হয়ে এলো‌।আরিশ ছোট্ট ছোট্ট করে তার ঘাড়ে চুমু খেতে লাগলো। ইনায়া গোঙিয়ে উঠল ।আরিশ দেখলো সে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে তাই আর সময় নষ্ট না করে ইনায়া কে পাজা কোলে তুলে নিল। হঠাৎ এমন হওয়ায় ইনায়া হকচকিয়ে উঠলো কিন্তু নিজের চোখ খোলার সাহস পেল না। মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি এবং ভয় উভয় এক সাথে কাজ করছে। সে ভয়ে এবং লজ্জায় মুখ লুকায় আরিশের বুকে।আরিশ ইনায়া কে কোলে করে বিছানায় শুইয়ে দিল। এবং নিজেও আছো অবস্থায় রইল ইনায়ার উপর। তার গরম নিঃশ্বাস ইনায়ার মুখের উপর পরছে। ইনায়া শক্ত করে আরিশের শার্টের কলার খামচে ধরে থাকে। সে আজ আর বাঁধা দিতে চায় না আরিশ কে। কিন্তু তবুও তার ভয় করছে। আরিশ ইনায়ার ভীত মুখশ্রী দেখে ঠোঁট কামড়ে হেসে উঠল।

তারপর একদম ইনায়ার মুখের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল ___

বউ কন্ট্রোল ইওরসেল্ফ। আমি ভীষণ ক্লান্ত আজ আর কিছু করতে পারবো না গো সোনা। কিন্তু তুমি যেভাবে আমাকে নিজের কাছে টানছো কখন জানি আমি নিজের ক্লান্তি ভুলে গিয়ে কন্ট্রোললেস হয়ে পরি। পরে দেখা যাবে আমাকে সামলাতে গিয়ে তুমি নিজেও ক্লান্ত হয়ে পড়বে।

কথাগুলো বলে আরিশ ইনায়ার বন্ধ করে রাখা চোখে জোড়ায় চুমু খেলো।আরিশের কথা শুনে ইনায়া লজ্জায় লাল হয়ে গেল।আরিশ তখন যেভাবে তার কানের কাছে গান গেল, যেভাবে তাকে বারান্দা থেকে রুমে নিয়ে আসলো তাতে অন্য কিছু মনে করা খুবই স্বাভাবিক। ইনায়াও তাই ভেবেছিল কিন্তু এখন আরিশের কথায় তার লজ্জায় ইচ্ছে করছে মাটি ফাঁক করে ভেতরে চলে যেতে।আরিশ ইনায়া কে লজ্জা পেতে দেখে শব্দ করে হেসে উঠলো তারপর বলল___

হয়েছে লজ্জা পেতে হবে না। ঘুমিয়ে পড়ো আজ অনেক ধকল গিয়েছে তোমার উপর।

ইনায়া কেবল মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।আরিশ এখনো ইনায়ার উপর আধশোয়া অবস্থায় থেকে ইনায়া কে দেখে যাচ্ছে।ইনায়া তা লক্ষ্য করে আমতা আমতা করে বলল ____

শ,,, সরুন আমি আমি শাড়ি বদলাবো।

ইনায়া কে আমতা আমতা করতে দেখে আরিশ বাঁকা হেসে হাস্কি স্বরে বলল ____

তুমি বললে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি।আগেই বলেছিলাম শাড়ি খুলার জন্য তো আমি আছিই তাই না?

আরিশের কথায় ইনায়ার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।সে যেন আর লজ্জা সইতে পারছে না।তার মতে আরিশ আজ যা বলবে তাতেই সে লজ্জা পাবে।তাই কাঁপা কাঁপা হাতে আরিশকে নিজের থেকে দূরে ঠেলতে শুরু করলো।আরিশ দুষ্টু হেসে ইনায়ার হাতের কবজি ধরে মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে শব্দ করে চুমু খেল এবং ইনায়ার উপর থেকে সরে গিয়ে বলতে লাগলো ___

আমি চাই বলি দূরে সরে গেলাম। নয়তো তুমি আজ আমায় যতই ঠেলতে কিন্তু দূরে সরাতে পারতে না।

ইনায়া নিজের লজ্জা আড়াল করতে তারাতাড়ি বিছানা থেকে উঠে পরলো। তড়িঘড়ি করে ওয়ারড্রব থেকে জামা কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। ওয়াশ রুমে দরজা লাগানো লাগে আরিশের দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে বলল____

দিন পে দিন নির্লজ্জ বেহায়া হয়ে যাচ্ছেন আপনি।

কথাটি বলেই দরজা লাগিয়ে দিল। আরিশ এতক্ষণ বিছানায় শুয়ে শুয়ে ইনায়ার কর্মকাণ্ড দেখছিল। ইনায়া দরজা লাগাতেই সে অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ে।ইনায়া ওয়াশ রুম থেকে আরিশের হাসির শব্দ পেল। তার মুখেও এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।

আরিশ বিছানা থেকে উঠে সোফার উপরে রাখা কোর্ট হাতে নিল এবং কোর্টের পকেট থেকে ইনায়ার জন্য আনা পাসপোর্ট বের করল। এই পাসপোর্ট আসবে বলেই সে এবং সাদমান পরে ফিরেছে।আরিশের এক লোক এসে পাসপোর্ট দিয়ে গেছে। সাদমান যখন জিজ্ঞেস করল তারা হানিমুনে কোথায় যাবে তখন আরিশ উত্তরে বলেছিল উগান্ডা।বেস এতোটুকু শুনেই সাদমান হাসতে হাসতে মাটিতে বসে পড়ল। আরিশ দেখেও উপেক্ষা করলো। কারণ সে খুব ভালো করেই জানে এমন কথা শুনলে শুধু সাদমান কেন যে কোন মানুষই হাসবে। সাদমান হাসতে হাসতে বলল____

ভাই টাকা তো তোর কাছে কম না তাহলে কিপটামি কেন করবি? হানিমুন করার জন্য আরো কত দেশ ছিল সব দেশ রেখে উগান্ডা। সিরিয়াসলি?

আরিশ বিরক্ত হয়ে বলল___

বিজ্ঞাপন

একদম বেশি কথা বলবি না। আমি কোন কিপটামি করছি না।আমার ইনু কথায় কথায় এই জায়গার নাম বলে তাই ভাবলাম এই জায়গায় নিয়ে গিয়ে তার শখ পূরণ করব।শোন কেবল মানুষ মুখ ফুটে যা বলে তাই মানুষের মনের ইচ্ছা না। সময় মানুষ কথায় কথায় যে সব কথা বলে সেসবের মাঝেও নিজেদের ইচ্ছা প্রকাশ করে।আর খুব কম মানুষ এই জিনিসটি বুঝতে পারে।

সাদমানের হাসি থেমে গেল আরিশের কথায়।সে বুঝতে পারলো আরিশ ইনায়া মুখ দিয়ে কখন কি বলে প্রত্যেকটি কথা লক্ষ্য করে এবং তা মনে রাখে। সাদমান মুচকি হাসলো।

ইনায়া সেলোয়ার কামিজ পরে ওয়াশ রুম থেকে বের হল।আরিশ কে একই কাপড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বিচলিত হয়ে বলল___

এমা আপনি দেখছি এখনো কাপড় চেঞ্জ করেননি। যান আগে চেঞ্জ করে আসেন।

আরিশ ইনায়ার কথার উত্তর না দিয়ে ধীরে ধীরে ইনায়রার দিকে এগিয়ে গেল তারপর পাসপোর্ট তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল___

আলমারিতে রেখে দাও। কাল কলেজে গিয়ে কলেজ থেকে ছুটি নিয়ে আসবে কিছুদিনের। চিন্তা করো না আমিই যাব ছুটির জন্য। এবং কাল রাত ১২:২৫ এ আমাদের ফ্লাইট

ইনায়া‌‌ অবাক নয়নে আরিশের দিকে তাকিয়ে আছে।আজ একের পর এক ঝটকা খাচ্ছে যেন সে। সকালেই এত বড় উপহার পেল সে। এখন আবার বলছে তাদের ফ্লাইট নাকি আছে।ইনায়ার মনে হচ্ছে সে যেন আকাশে ভাসছে।ইনায়া উৎফুল্ল কন্ঠে জিজ্ঞেস করল ___

এমা কিসের ফ্লাইট? কোথায় যাব আমরা? আমি তো কিছুই জানিনা। আর আপনি আমাকে আগে বলবেন না? আমি তো কোন গোছগাছ করিনি। কালকে ফ্লাইট হলে কেমনে কি করব? একটা প্রস্তুতির মত ব্যাপার আছে তাই না? আর বাড়ির বড়দেরও তো বলা হয়নি। আপনি এমন কেন?

আরিশ ঠোঁট কামড়ে হাসলো।ইনায়া যখন খুব দ্রুত একসাথে অনেক গুলো কথা বলে আরিশের তা শুনতে বেশ লাগে।আরিশ কে নিজের কথার উত্তর না দিয়ে হাসতে দেখে ইনায়ার ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙে গেল।অবাক বিষয় হলো যেই মেয়েটি আগে বছরের পর বছর অপেক্ষা করত আজ সে এক মুহূর্ত অপেক্ষা করতে প্রস্তুত নয়।আর এই অবনতি হয়েছে কেবল আরিশের আশকারায়।আরিশ যেন তাকে কোন কিছুর জন্য অপেক্ষা করাতে প্রস্তুতই নয়।তার একটাই কথা অতীতে যা হয়েছিল তা অতীত। এবং ইনায়ার বর্তমান এবং ভবিষ্যতে সে অতীতের কোন স্থান দিবে না। এবং ইনায়া নিজের নতুন কিছু অবনতির জন্য ইনায়া আজকাল বিশ ভালো আছে। বলতে গেলে খুব সুখী আছে। কিছুর জন্য এখন আর তার কষ্ট পেতে হয় না। মন থেকে যে কাউকে বিশ্বাস করার সাহস হারিয়ে গিয়েছিল তা যেন নতুন করে জন্মাতে শুরু করেছে।আর সকল কিছু হয়েছে আরিশের জন্য।আরিশের ভালোবাসায়, যত্নে।

আরিশ ইনায়া কে ধৈর্য হারা হতে দেখে হেসে বলল___

উফ্ বউ আমরা তোমার সব থেকে পছন্দের জায়গায় যাব। তুমি গেস করো কোথায় যাবো।

ইনায়া আরিশের কাছ থেকে সরাসরি উত্তর আশা করে যখন পেল না এখন নিজেই ভাবনা সাগরের ডুব দিল। কিছুক্ষণ ভাবার পর তখন দেখল তার মাথায় কিছু আসছে না সে গেস করতে পারছে না তখন বিরক্ত হয়ে বলল___

এর জন্যই তো আমি বলি যে আপনি উগান্ডার মেন্টাল হসপিটাল থে...

নিজের কথা সম্পন্ন করার আগেই সে থেমে গেল। পরক্ষণে এসে বুঝতে পারল আরিশের কথাল মানে।তার মানে আরিশ উগান্ডা যাওয়ার কথা বলছিল।ইনায়ার যেন বিশ্বাস হলো না। সবার কাছে মজার লাগলেও কথায় কথায় উগান্ডা শব্দটি ব্যবহার করতে করতে তার খুব শখ জেগে ছিল যে জীবনে একবার হলেও উগান্ডা যাবে। কিন্তু ভাবতে পারিনি কখনো তার এই স্বপ্ন পূরণ হবে। ইনায়ার খুশিতে আত্মহারা হয়ে বলল__

উগান্ডা??

আরিশ ইনায়ার মুখের হাসি দেখে মুচকি হাসলো এবং মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো।ইনায়া নিজের উত্তর পেয়ে খুশিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল আরিশের বুকে।আরিশ এমন তোর জন্য প্রস্তুত ছিল না সে ইনায়াকে নিজের বুকে আগলে ধরলেও দুই কদম পিছিয়ে গেল।ইনায়া আরিশ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে খুশিতে বলতে লাগলো___

উফ্ আপনি বিশ্বাস করবেন না আপনি আমার কত বড় স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছেন। যবে থেকে এই শব্দটি ব্যবহার করি তবে থেকে খুব ইচ্ছে ছিল জীবন একবার হলেও উগান্ড যাব। কিন্তু সবাই আমাকে নিয়ে মজা নিবে, আমার ইচ্ছাকে হাসিতে উড়িয়ে দিবে বলে কাউকে আমি বলিনি। কিন্তু আপনাকে না বলাতে ও আপনি বুঝে ফেললেন? কি করে পারেন আমাকে এতটা ভালবাসতে?কি করে পারেন আমাকে এতটা বুঝতে? আমি তো নিজেও নিজেকে এতটা বুঝতে পারিনা।

আরিশ ইনায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল___

আমি তোমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি। আমি তোমাকে তোমার থেকেও বেশি বুঝি। তাই আমাকে কোন কিছু না বললেও তা আমি বুঝতে পারবো। এবং আমি অন্যদের মতো তোমার ইচ্ছাকে হাসিতে উড়িয়ে দিব না বরং তা পূরণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

ইনায়া আরিশের বুকেই মুখ গুঁজে দিয়ে মুচকি হাসলো। তারপর বলল____

থ্যাংক ইউ সো মাচ। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আরিশ দুষ্টু হেসে বলল____

কেবল ধন্যবাদ কাজ হবে না।

ইনায়া আরিশের বুক থেকে মুখ তুলে তাকায় এবং জিজ্ঞেস করল ___

তাহলে?

আরিশ কিছু না বলে ইনায়ার মুখ আলতো করে নিজের দু হাতের মাঝে নেয়।তার দৃষ্টি ইনায়ার ঠোঁটের দিকে আর ইনায়ার দৃষ্টি আরিশের চোখের দিকে। আরিশের দৃষ্টি লক্ষ্য করতেই বুঝে গেল আরিশ কি চায়। লজ্জায় সে নিজের মুখ নিচু করল।আরিশ আবার তার মুখ উপরের দিকে তুলে ইনায়ার নাকের ডগায় থাকা ছোট্ট তীলে শব্দ করে চুমু খেল। ইনায়া আবেশে চোখ বন্ধ করে দিল। আরিশ আস্তে আস্তে ইনায়ার ঠোঁটের দিকে অগ্রসর হলো।মিলন ঘটলো তাদের ওষ্ঠ দ্বয়ের মাঝে। দুজনেই এক আবেশে হারিয়ে গেল।আরিশ খুব যত্ন সহকারে ইনায়ার ঠোঁটের মধু পান করতে লাগলো যেন সে খুব তৃষ্ণার্ত।

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস