তালির শব্দে ঘোর কাটল ইরিনের।সে হতভম্ব হয়ে গেল তালি বাজানো শব্দে।সে পাশে তাকাতেই দেখল টেবিলে উপর থাকা স্টেমে সাদমানের ফোন রাখা এবং ফোনের অপর প্রান্তে রয়েছে আরিশ এবং ইনায়া।তারা দুজনই মূলত তালি তালি বাজাচ্ছে।ইরিন লজ্জায় শেষ একদম।তার বড় ভাই তার প্রেম কাহিনী দেখছে লজ্জা পাওয়া টাই স্বাভাবিক।ইরিন কে লজ্জা পেতে দেখে সাদমান, আরিশ এবং ইনায়া তিনজনে মিলে শব্দ করে হেসে দিল। শব্দে ঘোর কাটল ইরিনের।সে হতভম্ব হয়ে গেল তালি বাজানো শব্দে।সে পাশে তাকাতেই দেখল টেবিলে উপর থাকা স্টেমে সাদমানের ফোন রাখা এবং ফোনের অপর প্রান্তে রয়েছে আরিশ এবং ইনায়া।তারা দুজনই মূলত তালি তালি বাজাচ্ছে।ইরিন লজ্জায় শেষ একদম।তার বড় ভাই তার প্রেম কাহিনী দেখছে লজ্জা পাওয়া টাই স্বাভাবিক।ইরিন কে লজ্জা পেতে দেখে সাদমান, আরিশ এবং ইনায়া তিনজনে মিলে শব্দ করে হেসে দিল।
তখন আরিশ আর ইনায়া নাচতে নাচতে ক্লান্ত হয়ে বিছানায় বসার পরই আরিশের কল বেজে।আরিশ ফোন হাতে নিয়ে দেখল সাদমান কল করেছে।আরিশ একবার ইনায়ার দিকে তাকালো।ইনায়া আরিশ কে ইশারায় কল ধরতে বলল।আরিশ কল ধরতেই দেখল সাদমান একদম ফরলাম পোশাক পরিধান করে দাঁড়িয়ে আছে।ফোন এমন ভাবে ধরেছে আরিশ তার মুখ থেকে বুক পর্যন্ত দেখতে পারছে। সাদমান কে দেখে আরিশের মুখ আপনা আপনি হা হয়ে গেল।ইনায়া একবার ফোনের স্ক্রিনে থাকা সাদমান কে দেখছে তো আরেকবার নিজের পাশে বসে থাকা আরিশ কে দেখছে।আরিশ কে হা করে থাকতে দেখে সে ফেত করে হেসে উঠলো। তারপর হাত দিয়ে আরিশের থুতনি ধরে মুখটা বন্ধ করে দিল।এতে যেন আরিশের হুঁশ ফিরল। সাদমান আর ইনায়া দুজনেই শব্দ করে হেসে উঠলো।আরিশ ইনায়া কে হাসতে দেখে লজ্জা পেল বটে কিন্তু পরক্ষনেই সাদমান কে হাসতে দেখে তার গা জ্বলে উঠলো।সে ধমক দিয়ে
বলল ___
নায়কের মতোন সাজগোজ করে এই ভাবে জোকারের মতোন আর হাসতে হবে না আপনাকে।এখন বলুন এত সাজসজ্জা কি আমার বোনের জন্য নাকি?
আরিশের কথা শুনে ইনায়া নিজের হাসি থামিয়ে নড়ে চড়ে বসলো।সিরিয়াস ভঙ্গিতে ফোনের দিকে দৃষ্টিপাত করলো। সাদমান হাসি থামালেও মুখে স্মিত হাসির ছাপ লেগে আছে।সে কিছুটা লজ্জা পাবার ভান করে বলল___
আজ আপনার বোন কে প্রপোজ করব।তাই একটু সাজগোজ করলাম আরকি।
সাদমানের কথা শুনে ইনায়া চক্ষু চড়কগাছ।সে যেন নিজের কানে শোনা কথা বিশ্বাস করতে পারছে না।আরিশের ঠোঁট হাসি ফুটে উঠল সাদমানের কথা শুনে।সে মুখের হাসি বজায় রেখে নিজের হাত দিয়ে ইনায়ার কাঁধে রাখল এবং নিজের কাছে টেনে আনল।ইনায়া তো এখনো হতভম্ব।আরিশ সাদমান কে বলল___
তো দেখি কেমন ভাবে প্রপোজ করেন আপনি আমার বোন কে।আমার বোন যদি না করে তোকে আমি নিজ হাতে খুন করব কথাটা মাথায় রাখবি।
সাদমান শব্দ করে হেসে উঠলো।আর ইনায়া তো অবাক হয়ে কেবল এখন আরিশ কে দেখছে। সাদমান বলল__
তোর বোন কে আসতে বলেছি যখন তখন চলে আসতে পারে। এখন ফোন আমি ঠিক মতোন রাখছি।তোর ওখান থেকে মিউট করে দে।আরিশও তাই করল। এবং সালমান ফোন টেবিলের উপর সুন্দর করে সেট করে দিল।এখন কেবল ইরিনের আসার অপেক্ষা।আরিশ এই বাই ইনায়ার দিকে তাকালো।দেখল ইনায়া ডেব ডেব করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।আরিশ ইনায়া কে বলল___
"আমি জানি বউ আমি খুব হ্যান্ডসাম এবং তোমার আমকে দেখার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু এভাবে তাকিয়ে থাকলে যে আমি কন্ট্রোললেস হয়ে যাব।পরে দেখা যাবে নিজের বোনের প্রেম কিভাবে শুরু হয় তা না দেখে বাসর করা শুরু করব নিজের বউয়ের সাথে।তুমি কি তা চাও? চাইলে বলতে পার আমার কিন্তু কোনো সমস্যা নেই বরং আমি খুশিই হবো।"
আরিশের কথা শুনে ইনায়ার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল।কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে।সে আরিশের বুকে মুখ লুকালো।আরিশও ইনায়া কে নিজের সাথে জড়িয়ে নিল।ইনায়া আরিশের বুকে নাক মুখ ঘষে বলতে লাগলো ___
আপনি আমার দেখা প্রথম ভাই যে কি নিজের বোনের প্রপোজ দেখছেন।
আরিশ হাসলো কিন্তু কিছু বলল না কেবল নিজের প্রিয় মানুষটিকে বুকে নিয়ে নিজের বোনের খুশি দেখল।
______________________
আরিশের তার বাবার সাথে বসে নতুন কম্পানির বিষয়ে আলোচনা করছে। কম্পানির উদ্বোধন কাল হবে।আর কম্পানির নাম এখনো ইনায়া জানে না কারণ আরিশ তাকে তার জন্মদিনের উপহার হিসেবে দিবে।ইনায়া জন্মদিন অনেক আগে চলে গেলেও এত ঝামেলায় মাঝে আরিশ কিছুই করতে পারেনি তার ইনুর জন্য তাই এই কম্পানির নাম গোপন রাখা।আর কম্পানির উদ্বোধনের পর আরিশের মা বাবা লন্ডন চলে যাবে।আরিশ বাংলাদেশেই থাকবে নিজের ইনায়ার সাথে।আর এখানে থেকে এই কম্পানির দেখা শোনা করবে। মূলত এইসব নিয়ে বাবা ছেলে আলোচনা করছে।ইনায়া নিজের শাশুড়ির সাথে রান্না ঘরে রান্না করছে।আজ পবিত্র জুম্মা আজ আরিশ আর ইনায়ার বিয়ে উপলক্ষে এক ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়ে খুবই সাধারণ ভাবে হয়েছিল কিন্তু বাড়ির মানুষদের কে তো খাওয়ানো হয়নি তাই আজ এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুপুরে নামাজ পড়ে সবাই মিলে এক সাথে খাবে।ইনায়ার চাচাতো বোন এবং তাদের স্বামীরাও এসেছে আজ।ইনায়ার মা ঘরের কাজ শেষ করে তারপর আসল আরিশ দের বাড়ি ইনায়া এবং তার শাশুড়ি কে সাহায্য করতে। শুধু ইনায়ার মা নয় তার চাচীরাও এসেছে। এখন রান্না ঘরে সব মহিলা মিলে হাতে হাত লাগিয়ে কাজ করছে।
_____________________
ইনায়ার মতোন এইটুকুনি মেয়ে আপনাদের কে এত গুলো কথা শুনিয়ে গেল আর আপনারা চুপচাপ তার কথাগুলো হজম করে নিলেন? লজ্জা করছে না আপনাদের?
নিজের ফুফু আর বাবাকে কড়া কন্ঠে কথা গুলো বলল রূকসানা।তার গা জ্বলে উঠছে ইনায়া বলা কথাগুলো নিজের বাবার মুখ থেকে শুনে।সে থাকলে হয়তো দু চারটা লাগিয়ে দিত।
ইমন খান আমতা আমতা করে বলেন___
আমরা কি জানতাম নাকি এই মেয়ে আমাদের কে এতগুলো কথা শুনিয়ে যাবে? আগে তো কখনো চোখে চোখ রেখেও কথা বলার সাহস দেখাতো না অথচ এখন আমাদের কেই কথা শুনিয়ে চলে যায়।
ইমন খান কথাগুলো বলে থামতে না থামতেই রেশমা খান বলে উঠলো _____
এই সব কিছু হয়েছে আরিশের জন্য।ইনায়া এতটা সাহসী, প্রতিবাদী, স্বনির্ভর ছিল না যতটা এখন হয়েছে।তোমরা মান আর না মান আরিশ ইনায়া কে যতটা ভালোবেসে আগলে নিয়েছে তার ফলস্বরূপ আজ ইনায়া এত সাহসী, প্রতিবাদী,স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে।যে মেয়ে কথায় কথায় চোখে পানি ফেলত আজ সে হাসতে হাসতে উচিত কথা শোনাতে শিখে গেছে। এবং এই সকল কিছুই হয়েছে আরিশের ভালোবাসায় ফলে।
তাহলে তাদের মাঝে ফাটল ধরাতে হবে।এমন কিছু করতে হবে যাতে আরিশ ইনায়া কে যতটা ভালোবাসে তার থেকে হাজার গুণ বেশি ঘৃণা করে। সম্পদ, টাকা পয়সা পাই আর না পাই অন্তত পৈশাচিক আনন্দ পাব।এতেই চলবে।
কথাগুলো বলে বাঁকা হাসলো রূকসানা। কিন্তু ঠোঁট হতে হাসি উড়ে গেল নিজের ফুফুর কথা শুনে।
রেশমা খান বলল___
আরিশ যেই যায়গায় ইনায়ার অতীত না জেনেই তাকে আপন করে নিয়েছে এবং যখন তুই তার ব্যাপারে কটু কথা বলতে নিয়েছিলি তোকে এইভাবে শাসিয়েছে তাতেই বোঝা যায় আরিশ ইনায়ার জন্য যে কোনো পর্যায়ে যেতে পারে। তাদের মাঝে ফাটল ধরাতে গিয়ে নিজের কপালে ফাটল ধরিয়ে ফেলিস না।
______________________
তাড়াতাড়ি চলুন আরিশ আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।
হিজাব বাঁধতে বাঁধতে কথা গুলো বলল ইনায়া।
আরিশ ওয়াশ রুম থেকে জোর চিৎকার করে বলল__
আর ৫ মিনিট বউ।
ইনায়া আরিশের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকালো। তারপর আলমারি থেকে আরিশের পরার জন্য কাপড় বের করতে লাগল।সে কালো রঙের থ্রি পিস পরেছে তাই আরিশের জন্যও কালো রঙের ফর্মাল পোশাক বের করল। কিন্তু আরিশের জন্য কাপড় বের করতে গিয়ে সে একটা জিনিস লক্ষ্য করল যা সে আগে কখনো খেয়াল করেনি।তার কাছে কিছু একটা খটকা লাগলো। ওয়াশ রুমের দরজা খোলার শব্দে তার হুঁশ ফিরল। তারপর আলমারি বন্ধ করে আরিশের কাপড় বিছানার উপর রাখল।আরিশ ওয়াশ রুম থেকে টাওয়াল পরে বের হয়ে এলো।চুল দিয়ে তার টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে।আরিশ ইনায়ার সামনে এসে মাথা ঝাঁকায় ফলে ইনায়া মুখে পানি ছিটে আসে।ইনায়া রেগে যায় মাত্র সে মুখে ক্রিম লাগিয়ে হিজাব বাঁধল আর আরিশ এসে পানি ছিটিয়ে দিল।ইনায়া আরিশের উদাম বুকে ধাক্কা দেয়।আরিশ সঙ্গে সঙ্গে ইনায়ার হাত জোড়া শক্ত ধরে ফেলে এবং ইনায়ার মুখের আছে নিজের মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে___
আই নো আইম লুকিং হট বাট এই ভাবে বেড টাচ না করলেও পারো ইনু।আমার বুঝি লজ্জা করে না?
এই বলে আরিশ ইনায়ার হাত ছেড়ে দিল এবং নিজের মুখ ঢেকে নিল নিজের হাত দিয়ে।ইনায়া হতভম্ব হয়ে গেল আরিশের এমন কান্ডে।ছেলে মানুষ যে এত নাটক করতে পারে তা ইনায়ার জানা ছিল না।সে ফেত করে হেসে উঠলো। তারপর উন্মুক্ত বুকে হালকা করে চড় মেরে রুম থেকে বের হয়ে গেল।আর বের হতে হতে বলল__
নির্লজ্জ লোক।
আরিশ শব্দ করে হেসে উঠলো তারপর বিছানার উপর নিজের জন্য সাজিয়ে রাখা কাপড় দেখে মুচকি হাসলো। এবং তৈরি হতে শুরু করল।
____________________
মাওনা ফুড কিং রেস্টুরেন্টে বসে আছে আরিশ ইনায়া এবং রিফাত।রিফাত আর আরিশ কথা বলে যাচ্ছে আর ইনায়া নয় ছবি তুলছে, নয় জুস খাচ্ছে আর নয় নিজের স্বামী আর ভাইয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করছে।রিফাত একবার ইনায়া কে পর্যবেক্ষণ করে তারপর আরিশের উদ্দেশ্যে বলল___
এই তাড় ছিড়ারে কি করে আপনি সামলান ভাই?
রিফাতের কথা শুনে আরিশ হেসে উঠলো আর ইনায়া কপাল কুঁচকে রিফাতের দিকে চেয়ে রইল তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলল___
তোমার মতোন তাড় ছেঁড়ার সাথে যোগাযোগ আছে তো আমার মাথার তাড় ছেঁড়াটা কি স্বাভাবিক না?
আরিশ এইবার আরো শব্দ করে হেসে উঠলো। রিফাত হাসতে শুরু করল। এরপর রিফাত আর ইনায়া মিলে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি করল আর আরিশ নিরব দর্শকের মতোন দেখে গেল। দুজনের ঝগড়া দেখতে তার বেশ ভালোই লাগছে। দুজনের ঝগড়ার মাঝে আরিশ বলে উঠলো ___
আচ্ছা আচ্ছা আচ্ছা এই বার থামো তোমরা।আর আমকে এইটা বলো কি করে তোমাদের পরিচয় হলো।
আরিশের কথা শুনে ইনায়া এবং রিফাত থেমে গেল তারপর আরিশের দিকে দৃষ্টিপাত করল।রিফাত কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইনায়া বলে উঠলো ____
চুপ চুপ চুপ।আমি বলছি আমি বলছি।
রিফাত হেসে বলল___
তোকেই বলতে হবে।আমি তো নিজেই জানি না আমাদের পরিচয় কি করে হলো।
ইনায়া মুখ ভেংচি কেটে আরিশের দিকে তাকালো তারপর বলতে শুরু করল ____
আমি ক্লাস টেনে ছিলাম তখন আমি যেখান প্রাইভেট পড়তাম সেও সেখানে পড়ত তার এক ফ্রেন্ডের সাথে।আমার একটা বান্ধবী ছিল সে যাকে দেখতো তাকে দেখেই ক্রাশ খেত। রিফাত ভাই কে দেখেও সে ক্রাশ খেয়েছিল সে।
এই কথা শুনে রিফাত ভীষম খায়।আরিশ রিফাতের পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়।ইনায়া রিফাতের অবস্থা দেখে বাঁকা হাসে তারপর আবার বলতে শুরু করল ___
আর তখন আমার ফেইক আইডি ছিল ফেসবুক অনেক গুলো এবং আমি মোটামুটি স্টকিং করতে পারতাম।ওদের স্কুলের সব গুলো কে রিকোয়েস্ট পাঠাই এবং সবাই রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করলে সবাই আইডি ঘুরি যাতে তার কোনো ছবি খুঁজে বের করতে পারি। একজনের কভার পিকে তার ছবি দেখি সেইটার স্ক্রিন শট রাখি। কিন্তু এটা জানতাম না কোনটা তার আইডি।অথচ আমার রিয়েল আইডি দিয়ে যে তার সাথে আমার এড আছে আমি জানতাম না কারণ আমি তার নাম জানি না।পরে ফেইক আইডি দিয়ে অনেক স্টক করি এবং অনেকটা কনফিউশনে পরি যে আমার সাথে যে এড আছে সেই কি ও নাকি। পরে ফেইক আইডি দিয়ে তার এক ফ্রেন্ড কে মেসেজ দেই। এবং পরে তার আইডি নেই। এবং তার ফ্রেন্ড কে বলি যে আমি তাকে পছন্দ করি।
ইনায়ার এই কথা শুনে এই বার আরিশ ভীষম খায়।আর আরিশেল পিঠে রিফাত হাত বুলিয়ে দেয়।ইনায়া তার সামনে থাকা দুই নমুনা কে পাত্তা না দিয়ে আবার বলতে শুরু
করে ____
পরে তার আইডি তে মেসেজ দেই বলি আমি তাকে পছন্দ করি ভক্কর চক্কর কত কি।আর রিফাত ভাই তো পুরো অবাক।সে আমাকে জানে না, চিনে না অথচ আমাকে বড় বড় ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বোঝায় যে মাথা থেকে এই সব ঝেড়ে ফেলতে ব্লা ব্লা ব্লা।কার কথা কে শোনে? আমি তো আমার বান্ধবীর জন্য মেসেজ দিয়েছিলাম।পরে আমার বান্ধবী কে বলি যে আইডি পেয়েছি কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে সে নাকি এখন অন্য কাউকে লাইক করে। মাঝখান দিয়ে আমার মাথার উপর বাশ পড়ে। তারপর রিফাত ভাই কে এন তেন বুঝাই সত্য কথা বলি কত কাহিনী।পরে রিয়েল আইডি দেই ওমা পরে আমাকে ভয় দেখায় যে আমার প্রাইভেটের স্যারের কাছে নাকি নালিশ করবে। অনেক কষ্টে পাম পট্টি দিয়ে তাকে বোঝাই যাতে বিচার না দেয়।পরে সে রাজি হয়।পরে আর কি মাঝে মধ্যেই মেসেজ দিতাম।সেও দিত। আল্লাহ কি রোস্টটাই না করত আমাকে।বলতো আমার বুদ্ধি নাকি হাঁটুতে তাই আমার উচিত ডিমের কুসুম ফেলিয়ে ডিম খেতে। উগান্ডা শব্দটা আমি তো তার কাছ থেকে শিখেছিলাম।আবার নিজেই আমাকে মেসেজ দিয়ে বলতো যাতে তাকে কখনো মেসেজ না দেই আবার নিজেই আমাকে মেসেজ দিত। আমার স্টোরি দেখি অনেক সময় আমাকে এটা সেটা জ্ঞান দিত। এরপর আস্তে আস্তে আমাকে অনেক বিষয়ে সাবধান করত। আমাকে মাঝেমধ্যে মেসেজ দিয়ে আমার খোঁজখবর নিত। তারপর যখন তার এসএসসি পরীক্ষার সময় হয় তখন সে অফলাইন চলে যায় এবং আমাদের মাঝে তিন চার মাস কোন কথা হয় নি। তারপর যখন আবার তার রেজাল্ট দিল আমি তাকে মেসেজ দিলাম তখন তার রেজাল্ট জানলাম। তারপর আবার কথা শুরু হয় আমাদের। এভাবে কথা চলতে থাকে এবং আস্তে আস্তে আমাদের বন্ডিং ভালো হতে থাকে। আমি একদম তার নিজের বোনের মত হয়ে যাই। সে আমাকে একদম নিজের ছোট বোনের মতো শাসন করতো। এমনকি আমার সবথেকে খারাপ সময় সে আমার পাশে ছিল। যখন রাতে কোন চিন্তায় ঘুম আসতো না তখন তাকে মেসেজ দিলে সে আমাকে এটা সেটা বলে হাসাতো।
নিজে যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন আমাকে সময় দিয়ে আমাকে সাপোর্ট করতো। নিজে তো জন্মগতই পাগল ছিল তারপর আমাকে পাগল বানালো। এভাবেই আমাদের পরিচয় শুরু হয়েছিল।
আরিশ আর রিফাত খুব মনোযোগ সহকারে ইনায়ার কথা গুলো শুনছিল।আরিশ এতটুকু বুঝতে পেরেছিল ইনায়া চুপচাপ মেয়েদের মত দেখতে লাগলেও কিছুটা দুষ্ট। কিন্তু এতটা দুষ্ট হবে তা আর আরিশের জানা ছিল না।আর রিফাত তো মুখ ফুটে বলেই দিল____
ওরে শালা, এই কথা।তুই তো দেখি চার কদম আগে। তোরে তো আমি নিষ্পাপ নিয়ে ভাবতাম। আমার ভাবনার মাইরে বাপ। তুমি বন্ধু আমাকে ধোকা দিলা।
রিফাতের করা শুনে আরিশ আর ইনায়া দুজনেই শব্দ করে হেসে উঠলো। এইভাবেই কেটে গেল সেই সন্ধ্যা। আনন্দ,আড্ডা,খুনসুটি, হাসি তামাশার মাঝে।