ইনায়ার টনক নড়তেই মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল। শেষ মেশ কিনা খাট ভেঙে গেল? যদি কেউ যানে তাহলে আর মানসম্মান কিছুই থাকবে না।আর নতুন খাট ভাঙলোই বা কি করে।আরিশ এখনো বিরক্তিকর ভঙ্গিমাতে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে।তারা যে এখনো ভাঙা খাটে শুয়ে আছে এই দিকে যেন আরিশের কোনো খেয়ালই নেই।ইনায়ার মেজাজ গরম হয়ে গেল।সে আরিশের উন্মুক্ত বুকে নিজের দু হাত দিয়ে চড় দিল।
"আহ্।"
আরিশ আর্তনাদ করে উঠলো।ইনায়া কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল____
"লজ্জা করছে না আপনার? এখনো আমার উপর শুয়ে আছেন।উঠুন তো। আপনি যেমন আপনার খাটও তেমন।এত জোরেই লাফ দিলেন যে খাট ভেঙে নিয়ে পড়লেন? আরে আমাদের ঘরে যেই খাট আছে সেইটা আমার মায়ের বিয়ের সময় কিনেছিল এখনো যদি সবাই মিলে খাটে নাগিন কিংবা লুঙ্গি ডান্স করি তারপরও তো খাট ভাঙবে না।আর আপনি লাফ দিয়েই খাট ভেঙে ফেললেন। ছিঃ ছিঃ, আমার আর কোনো মান ইজ্জত রাখলেন না আপনি।"
আরিশ ইনায়ার কথা গুলো শুনছিল।তার অনেক হাসি পাচ্ছিল কিন্তু এখন হাসা মানে আগুন ঘি ঢালা।তাই অনেক কষ্টে নিজের হাসি চেপে রেখে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল__
"আমার কি দোষ ইনু তুমিই বল।আমি তো নিজের লোক দিয়েই ঘরের সকল জিনিস আনিয়েছি। কিন্তু আমি তো আর এখানের কিছু চিনতাম না তাই তো রমিম ভাইয়া (ইমন খানের ছেলে) ব্যবস্থা করে দিয়েছে।এখন ওরা যদি টাকা নিয়ে ডুবলিকেট জিনিস দেয় তাতে আমার কি দোষ? আমার থেকে ভালো তুমিই তাদের চেন ওরা কত টাকা মেরে খেতে পারে।"
আরিশ কথাগুলো বলে থামলো।ইনায়া বুঝল এতে আরিশের কোনো দোষ নেই রমিম ভাইয়া টাকা বেশি নিয়ে নিজের পকেটে গুঁজেছে এবং ভুবলিকেট জিনিস দিয়েছে সস্তায়।ইনায়া হতাশার শ্বাস ছাড়লো।
আরিশ ঠোঁটে দুষ্টু হাসি নিয়ে বলল____
"ইনু, আমার কিন্তু এই ভাঙা খাটে রোমান্স করতে কোনো অসুবিধা নেই। মানুষ রোমান্স করে খাট ভাঙে। আমরা না হয় ভাঙা খাটে রোমান্স করব।ইউনিক কিছু হবে কিন্তু।কি বল?"
ইনায়ার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল আরিশের এমন অদ্ভুত কথায়। লজ্জায় লাল হয়ে গেল সে। অনেক কষ্টে কন্ঠে রাগের আভাশ মিশিয়ে বলল___
এই সরুন তো। যতসব উল্টো পাল্টা বুদ্ধি এবং কথা।উঠুন বলছি আমার উপর থেকে নয়ত খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু বলে দিলাম।
আরিশ হেসে আস্তে আস্তে ইনায়ার উপর থেকে উঠে গেল।ইনায়া উঠতে নিয়ে আবার পড়ে গেল।তা দেখে আরিশ শব্দ করে হেসে ফেলল।ইনায়া আরিশের দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকাতেই আরিশ ঠোঁটের উপর আঙুল রেখে চুপ করল। অনেক হাসি পাচ্ছে তার কিছু বউয়ের ভয়ে হাসতে পারছে না বেচারা।ইনায়া অনেক কষ্টে ভাঙা খাট থেকে উঠে মেঝেতে দাঁড়ালো তারপর আরিশের তাকিয়ে চোখ গরম করে বলল____
এই খাট ভেঙে যাওয়া কথা যদি বাইরে যায় আর কেউ যদি এইটা নিয়ে মজা করে তাহলে আগামী একশো কোটি বছর আপনি আমাকে ছুঁতে পারবে না এই বলে দিলাম।
আরিশ ইনায়ার কথা শুনে ঠোঁট থেকে আঙুল সরিয়ে বাচ্চাদের মতোন ঠোঁট উল্টে বলল___
সোজাসুজি বললেই পার যে তোমাকে না ছুঁতে।এত নাটক করার কি আছে ইনু?
আরিশের এমন বাচ্চামি দেখে ইনায়া হাসি আসল কিন্তু সে নিজেকে অনেক কষ্টে সামলিয়ে তারপর বলল__
আমি পাশের রুমে যাচ্ছি।কারোর যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে আসতে পারে।
এই বলে চলে যাচ্ছিল আবার থেমে গিয়ে বলল__
ওহ্ হ্যাঁ যার এই ভাঙা খাটে রোমান্স করতে অসুবিধা হবে না তার আর যাই হোক এই খাটে ঘুমাতেও কোনো অসুবিধা হবার কথা না।সে তাহলে এখানেই ঘুমাক।
এই বলে ইনায়া রুম থেকে বের হয়ে গেল।আরিশ ইনায়ার যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তারপর আনমনে কিছু একটা ভেবে হেসে উঠলো। তারপর ইনায়ার পিছন পিছন দৌড় দিল।
______________
রেশমা খান ভাবছে কি করে ইনায়া কে নিজের পক্ষে আনবে এবং আরিশের থেকে সম্মতি এবং টাকা পয়সা হাত করবে।আরিশদের তো আর কম নেই। চোখ তার ঘুম নেই পাশ থেকে রেশমা খানের স্বামী বলল___
এত কি ভাবছো?
রেশমা খান বলল__
ভাবছি কি করে ইনায়া কে আমার ভক্ত করে আরিশের কিছু ভোগ করব।আর ইমন ভাইয়ের তো সন্তান বেশি সেই হিসেবে তো তার সম্পদ লাগবে বেশি।ইনায়ার বাবার যা সম্পদ ছিল তার থেকে কিছুটা হয়তো ইমন রাখতে পেরেছে। কিন্তু ভাই চলে যাওয়ার পর ওর সব সম্পত্তি তো ইনায়া আর ইশানের। দুজন মিলে ভালোই সম্পদ পাবে।এত সম্পদ দিয়ে ওরা কি করবে? তার থেকে ভালো না হয় ওরা আমার ভাই টাকে দিয়ে দেক। তাহলে তো সে নিজের দুই ছেলে আর মেয়েকে সুন্দর করে দিতে পারে।আর শারমিন অনেক চালু মেয়ে। শারমিন কে বিয়ে করার পর থেকেই তো আমার ছোট ভাই বদলে গেছে। আগে তো আমার কথায় উঠত বসত। শারমিন আর যাই হোক নিজের সন্তানের অধিকার অন্য কাউকে দিবে না।আর এখন এসেছে আরিশ।সে তো ইনায়ার জন্য রুক্ষে দাঁড়াতে দ্বিতীয় বার ভাববে না।ওর চোখ আমি ইনায়ার জন্য সত্যি কারের ভালবাসা দেখেছি যা ইনায়া নিজের জন্য তল্লাশ করছিল।ইনায়া নরম মনের।একটু ভালোবাসা পেলেই গলে যায়।আরিশের দূর্বলতা যেমন ইনায়া তেমনি ইনায়ার দূর্বলতাও আরিশ। কিন্তু আরিশ অনেক বুদ্ধিমান তাই তাকে ব্যবহার করা অসম্ভব। আমাকে ইনায়ার দূর্বলতা ব্যবহার করতে হবে।
রেশমা খানের স্বামী বলল__
তাহলে এক কাজ কর। তুমি আর ইমন ভাই মিলে ইনায়া কে নিয়ে বস।ইনায়া কে ভয় দেখাও আরিশ কে নিয়ে। হয়তো তোমাদের কাজ হাসিল হবে।
রেশমা খান স্বামীর পরামর্শ শুনে খুশি হলেন। তারপর বলল____
তুমি ঠিক বলেছ।যাই হোক এখন ঘুমাও।
______________________
ইনায়া সাদমান যেই রুমে থাকতো সেই রুমে এসে বিছানা করে লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়েছে।দরজা খুলে রেখেছে সে।আরিশ নিঃশব্দে এসে দরজা লাগিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে খাটে উঠে পড়লো। এইবার খাট ভেঙে গেল বউ তাকে এই বিল্ডিংএ হয়তো যায়গায় দিবে না।আর সে এই রিস্ক নিতে চায় না। আস্তে আস্তে শুয়ে ইনায়া কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল।ইনায়াও মিশে গেল আরিশের সাথে।ইনায়ার পিঠ ঠেকল আরিশের উন্মুক্ত বুকের সাথে।আরিশ মুখ গুঁজে দিল ইনায়ার ঘাড়ে। ইনায়া কেঁপে উঠলো। শক্ত করে চোখ বন্ধ করে ফেলল।আরিশ ইনায়া কে কাঁপতে দেখে ইনায়ার ঘাড়ে মুখ গুঁজে রেখেই হাসলো।আরিশের গরম নিঃশ্বাস আঁচড়ে পড়ছে ইনায়ার ঘাড়ে।তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।আরিশ একই ভাবে শুয়ে থেকে ফিসফিস করে বলল____
বউ কন্ট্রোল ইউর সেল্ফ।আমি কিছু করছি না।আর যাই হোক এইসব ডুবলিকেট খাটে তো একদম না।তাই ঘুমাও। তোমার স্বামীর যথেষ্ট ধৈর্য্য ক্ষমতা আছে। তুমি বললে তো আজীবন তোমাকে না ছুঁয়ে ভালোবেসে যাবে।
আরিশের কথা শুনে ইনায়ার চোখ ভরে এলো। চোখ থেকে দু এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। তাকে কেউ এত ভালোবাসতে পারে তা তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না।হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে আরিশের দিকে ফিরল। তারপর কিছু না বলেই হঠাৎ নিজের মুখ উঁচু করে আরিশের কপালে চুমু খেল।
আরিশ যেন সাত আকাশ ছুঁয়ে এত উঁচুতে উঠে গেল।তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না তার ইনু নিজ থেকে তাকে ভালোবাসার পরশ দিয়েছে।
আরিশ কে অবাক করে ইনায়া আরিশের নাকে চুমু খেল। তারপর দু গালে। এবং অনেক সাহস নিয়ে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল আরিশের গোলাপী ঠোঁটে।আরিশ যেন উম্মাদ হয়ে গেল। ইনায়ার কোমড় নিজের দু হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে দিল। দুজনের মাঝে বিন্দুমাত্র দূরত্ব নেই।আরিশ নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল ইনায়ার ঠোঁটের সাথে।