অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৬১

🟢

কিহহহহহহহহহহ। ছিঃ ছিঃ ইনায়া ছিঃ ছিঃ শেষমেষ কিনা খাট ভেঙে ফেললি? তোকে কত বার বললাম কম খা বোন কম খা দেখলি তো এখন কি হলো?দিন কে দিন খালি মোটা হয়ে যাচ্ছিস‌।ভাই রে ভাই একদম খাট ভেঙে গেল আয় হায় সর্বনাশ!কত মানুষে স্বপ্ন এইটা তুই জানিস?আর তুই কিনা হাজার মানুষের স্বপ্ন পূরণ করে ফেললি? কপাল।

এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে থামল রিফাত। রিফাতে কথা শুনে ইনায়া চরম বিরক্ত হলো। ছেলেটি সব সময় ফাজলেমি করে‌। অবশ্য এমন কথা শুনলে যে কেউই এমন করবে তা স্বাভাবিক।ইনায়া শুধু একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলে ছিল যে গতরাতে খাট ভেঙে গেছে তাইতেই কত গুলো কথা শুনিয়ে দিল।যদি আসল ঘটনা বলতো তাহলে তো ইনায়া মান ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে দিত রিফাত। তাই ইনায়া আর বেশি কিছু বলছে না তার রিফাত ভাই কে। নয়তো দেখা যাবে কথায় কথায় মুখ ফসকে সত্যি কথা বের হয়ে যাবে।

রিফাত আবার বলতে শুরু করল __

শ্রীপুরে এসছি গতকাল।ফ্রি থাকলে তোর জামাই রে নিয়ে দেখা করতে আয়। আড্ডা দেই।দেখি আমার ছোট বোনের চাচাতো ভাই না মানে থুক্কু, চাচাতো জামাই টা কেমন?

রিফাতে শেষের কথা শুনে ইনায়া কিছুটা লজ্জা পেল বটে কিন্তু তা প্রকাশ না করে বলল__

আচ্ছা ঠিক আছে এখন ছাড়ছি।পরে আমি টাইম মেসেজ করে জানিয়ে দিব কেমন।

তারপর কল কেটে দিল। ঘরে সে একা।আরিশ বাহিরে গেছে নতুন খাট কিনতে। এইবার সে নিজ দায়িত্বে সবকিছু দেখে শুনে কিনবে এই বলে গেছে। এবং যাওয়ার আগে আরো বলে গিয়েছে __

"চিন্তা কর না ইনু বাহিরে কেউ জিজ্ঞেস করলে বলব আমি ভারি কিছু রাখতে গিয়ে খাট ভেঙে নিয়ে পরেছি আর খাটের কাঠ ভালো না থাকায় এমনটা ঘটেছে। আর ভুলেও সত্য কথা বলব না যে বাসর করতে পারব এই খুশিতেই বাসর না করে খাট ভেঙে ফেলেছি।"

কথা গুলো বলে ইনায়া কে চোখ টিপ মেরে আরিশ রুম থেকে বের হয়ে গেল।

ইনায়া এইসব কথা মনে পড়তেই মুখ লাল হয়ে উঠলো। ভাগ্যিস সে শ্যামলা নয়তো যদি ফর্সা থাকতো তাহলে সে আরিশের সামনে এত লজ্জা পায় তা আরিশ বুঝে ফেলত এবং তাকে আরো বেশি লজ্জা দিত। গতরাতের কথা মনে পরতেই ইনায়া নিজের হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিল।গত রাতে তো আরিশ প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিল।ইনায়ার ঠোঁট ছাড়তেই চায় নি।আর যখন ছেড়েছে তখন ইনায়া জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে নিতেই আরিশ ইনায়ার গলায় মুখ গুঁজে দিয়েছিল‌।ইনায়া তো পাগল হয়ে যাবে এমন অবস্থা হয়েছিল। নিজের হাত দিয়ে আরিশের পিঠ খামচে ধরেছিল।এতেই যেন আরিশের হুঁশ ফিরে আসে এবং ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলিয়ে ছিল বেচারা। তারপর ইনায়ার কপালে চুমু খেয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়েছিল এবং ইনায়া কে ঘুমাতে বলেছিল।ইনায়া থামাতে চাইলেই বলে ছিল___

আমি থাকলে কিছু একটা ঘটে যাবে ইনু।ভয় পেয় না তোমাকে একা রেখে যাচ্ছি না রুম থেকে। বারান্দায় আছি আমি ঘুমিয়ে পর নিশ্চিন্তে তুমি।

এই বলে হনহনিয়ে বারান্দায় চলে গিয়েছিল আরিশ।ইনায়ার অবশ্য খুব খারাপ লেগেছিল কিন্তু সত্যি কথা বলতে সে এখনো এসব কিছুর জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না। যখন নিজেকে কিছুটা ধাতস্থ করেছিল তখন খাট কাবাব মে হাড্ডি হয়েছিল।আর এখন সে নিজেই। কিন্তু আরিশের ধৈর্য্য শক্তি দেখে সে অবাক না হয়ে পারছে।যত যাই হোক একজন পুরুষ মানুষ তো‌। আর তার উপর আবার নিজের ১৫ বছরের ভালোবাসার মানুষকে হালাল ভাবে পেয়েও নিজকে এতটা কন্ট্রোল করছে আরিশ। আসলেই সে জেন্টলম্যান।

বিজ্ঞাপন

এই সব ভাবতে ভাবতে ইনায়া আয়নার সামনে দাঁড়াল। পরনে তার ওড়না ছিলেন বিধায় গলায় হালকা লালচে দাগ দেখা যাচ্ছিলো যা গত রাতে আরিশের করা পাগলামির প্রমাণ। লালচে দাগ দেখে ইনায়ার ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়ে গেল।আবার নিজের হাত দিয়ে মুখ ঢেকে নিল।

__________________

সাদমান ছাদ নিজ হাতে ডেকোরেট করছে।আজ রাতেই সে ইরিন কে নিজের মনের কথা বলবে।সে আর অপেক্ষা করতে পারবে না আর না ইরিন কে অপেক্ষা করাবে‌।সে জানে ইরিন এখনো তাকে ভালোবাসে আর যা সাদমান কে প্রতিনিয়ত পাগল করে তুলছে। কারণ ইরিন আগে প্রকাশ করত কিন্তু এখন করে না যা সাদমানের মনকে ক্ষতবিক্ষত করে তুলে প্রতিনিয়ত।কথায় আছে না দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিতে হয়। সাদমান তা দেয় নি ফলস্বরূপ আজ তাকে কষ্ট পেতে হচ্ছে। কিন্তু দাঁত একদম পরে যাওয়ার আগেই সে আগলে নিবে অর্থাৎ নিজের করা ভুল শুধরে নিবে।তাই তো আজ এত পরিশ্রম।আজ সে ইরিন কে নিজের মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা সকল যন্ত্রণা,আশা সকল কিছু খুলে বলবে।ইরিনের সামনে একদম খোলা বই হয়ে নিজকে প্রকাশ করবে যাতে তার ইরিন তাকে পড়তে পারে, তাকে আগলে রাখতে পারে।আর তার বিশ্বাস যে ইরিন কখনো তাকে ফিরিয়ে দিবে না।আর দিলে সে আজই ইরিন কে বিয়ে করবে।আরিশ কে অবশ্য ফোন করে বলেছে সে এ কথা।আরিশ উল্টো বলছে যে বিয়ের সময় যাতে তাকে ভিডিও কলে রাখে।

__________________

ইনায়া তার ফুফুর ঘরে বসে আছে।তার সামনে বসে আছে ইমন খান এবং রেশমা খান আর তার পাশে তার স্বামী।ইনায়া মাথার ঘোমটা ঠিক করছে বার বার। তারপর হালকা স্বরে বলল__

কিছু কি বলবেন আন্টি?

রেশমা খান ইনায়ার কন্ঠ শুনে একটু নড়ে চড়ে বসলেন। একবার নিজের স্বামী এবং নিজের ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে তারপর ইনায়ার দিক মুখ ঘোরাল।ইনায়া এখনো নিজের ফুফুর দিকে প্রশ্নাত্মক ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। রেশমা খান গলা খাঁকারি দিয়ে ইনায়ার উদ্দেশ্যে বলল___

আরিশ বিদেশে বড় হয়েছে তার চিন্তা ধারা মন মানসিকতা একদম আলাদা। তখন তো হুশ হারিয়ে তার সাথে তোর বিয়ে দিতে রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভুল করেছি‌। বিদেশে তো তার অন্য কোনো সংসার থাকতে পারে।বয়স তো আর কম না তোর থেকে।এত গুলো বছর পার হয়ে গেল বিয়ে ছাড়া আছে কি? মনে হয় না।

ইনায়া সেই সব কথা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।সে তো ভাবছিল তার জীবন এখন সুন্দর হবে। তাহলে হঠাৎ এমন কিছু কেন এসে পরলো হঠাৎ।না সে আর ভাবতে পারছে না। এমন কিছু তো শোনার জন্য সে প্রস্তুত ছিল না।সে আর বসে থাকতে পারল না। উঠে পরলো।ইনায়া কে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে বসে থাকা তিন জনের ঠোঁট কিঞ্চিত হাসি ফুটে উঠল।তারা হয়তো ভাবছে তারা তাদের কাজে সাফল্য অর্জন করেছে কি আদৌও কি তা?

ইনায়ার কানে এখনো তার ফুফির বলা কথাগুলো বাজছে।তার ফুফু তকে উদ্দেশ্য করে আবার বলতে শুরু করল____

।তাই বলছি কি আবেগে গা না ভাসিয়ে আরিশ কে বল তোর নামে তার করা নতুন কম্পানি লিখে দিতে তার বাবা যাতে আমাদের অর্থাৎ তোদের জমিতে কোনো হস্তক্ষেপ না করে। কারণ তিনি তো এতদিন তো তারা এখানে ছিল না আর এইসব কিছু তোর চাচারা দেখেছে তাই আরিশের বাবা যাতে এইসব থেকে দূরে থাকে। নয়তো তো জানিসই ইমন ভাইয়ের ছেলেরা কত রাগী তারা কি করতে পারে।আর হ্যাঁ আরেকটি কথা।আরিশের কাছ থেকে যা যা নিজের জন্য নিবি তা এখনি নিজের নামে করে ফেলিস না কারণ এখনো তুই ছোট পরবর্তীতে দেখা যাবে ওরা তোর উপর চাপ সৃষ্টি করে তোর কাছ থেকে এসব আবার নিজেদের নামে করে নিবে। তাই এখন যা নিজের নামে করার সিদ্ধান্ত নিবি সেগুলা নিজের নামে না করে ইমন ভাইয়ার নামে করবি। যখন তুই উপযুক্ত হয়ে যাবি তখন ভাই তোকে ফেরত দিবে।

কথা গুলো বলে রেশমা খান নিজের ভাই এবং স্বামীর দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির হাসি দিলেন।তিনি ভাবছেন তার পরিকল্পনা সফল হয়ে গেল।

ইনায়া নীরব আর তার এই নিরবতা কে সম্মতি মনে করে রেশমা খান যেই না কিছু বলতে নিবেন তখনই ইনায়া বলে উঠলো _____

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস