"আর কতক্ষন এভাবে চোখ বেঁধে রাখবেন আমার আরিশ? এইবার তো চোখ খুলুন।"
ইনায়া ধৈর্য্য হারিয়ে কথা গুলো বলল আরিশকে।সেই কখন থেকে আরিশ তাল চোখ বেঁধে রেখেছে। গত আধঘন্টা যাবত কেবল বলে যাচ্ছে আর ৫ মিনিট, আর ৫ মিনিট। কিন্তু এই ৫ মিনিট আর শেষ হচ্ছে না।
আজ সকালের ঘটনা______________
আরিশ ইনায়ার হাতে একটি প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে
বলল___
"ইনু চট করে শাড়িটা পরে আসোতো।"
ইনায়া অবাক দৃষ্টিতে আরিশের পানে চেয়ে তারপর জিজ্ঞেস করল ___
"শাড়ি পরতে যাব কোন দুঃখে? আর শাড়ি কেন এনেছেন? কাহিনী কি?আর শাড়ি কোথার থেকে কিনেছেন?কখন কিনলেন? আমাকে ছাড়া মার্কেটে গিয়েছিলেন? বললেন না যে।আর কখনই বা গেলেন? দেখলাম না তো।"
আরিশ কপাল চাপড়ালো। এমনিতেই আজ দেরি হয়ে গেছে। তাদের তো পৌঁছিতেও হবে।আর এমন সময় মেয়েটি এত প্রশ্ন করছে।আরিশ কি করে তার ইনু কে এতগুলো মিথ্যা বলবে।আরিশ হতাশার শ্বাস ছেড়ে ইনায়া কে শান্ত কন্ঠে বলল ____
"শোন ইনু এত প্রশ্ন না করে শাড়ি পরে আসো। আস্তে আস্তে সব জানতে পারবে।বাট ফর নাও প্লিজ আর কিছু জিজ্ঞাসা করো না।"
ইনায়া হাতে থাকা প্যাকেট থেকে শাড়ি বের করে মুগ্ধ নয়নে কিছুক্ষণ শাড়িটা দেখল। তার ঠোঁট হাসি ফুটে উঠল শাড়ি দেখে।লাল খয়েরি রঙের শাড়ি।তার খুব ইচ্ছে ছিল এই রঙের শাড়ি পরার। কিন্তু পরক্ষণেই সন্দিহান দৃষ্টিতে আরিশের দিকে তাকিয়ে বলল___
"কাকে নিয়ে শাড়ি কিনতে গিয়েছিলেন? আমি যাই নি।মাও বাড়িতেই ছিল।আর আপনি পুরুষ মানুষ হয়ে আর যাই হোক এত সুন্দর শাড়ি কিনতে পারবেন না। সত্যি সত্যি বলুন তো।"
আরিশের ইনায়া কথাবার্তা শুনে ইচ্ছে করলে নিজের গালে চারটে চড় বসাতে।সে তো যখন প্রথম প্রথম বাংলাদেশ এসেছিল তখন ইরিন কে নিয়ে বসুন্ধরা থেকে এই শাড়িটা কিনেছিল। মূলত ইরিনই পছন্দ করে দিয়েছিল।আরিশ অসহায় কন্ঠে ইনায়া কে একদম দিন, তারিখ, বার সহ বলল। আরিশের নিজেরও কোন তারিখ মনে নেই। কেবল বাংলাদেশে কবে এসেছিল মনে আছে।সেই আন্দাজে একটি তারিখ বার বলল এখন ইনায়া কে।ইনায়া আরিশের কাছ থেকে উত্তর পেয়ে নিজের বত্রিশ দাঁত বের করে হাসলো। অবশ্য তার এখন বত্রিশ দাঁত হয়নি।আরিশ মনে মনে
বলল ____
"সিঙ্গেলই ভালো ছিলাম।এখন বউ একদম বউ গিরি দেখায়।"
ইনায়া আমতা আমতা করে বলল___
" আমি শাড়ি পরতে পারি না।"
ইনায়ার কথা শুনে আরিশ ঠোঁট কামড়ে হাসলো। তারপর আস্তে আস্তে ইনায়ার নিকটে চলে এলো।আরিশের মুখের নিঃশ্বাস ইনায়ার মুখের উপর আছড়ে পড়ছে।আরিশ ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল ____
"আমি চাইলেই পরিয়ে দিতে পারি। কিন্তু কি জানো বউ এখন যদি আমি শাড়ি পরিয়ে দেই তাহলে কন্ট্রোল লেইস হয়ে যাব শিওর।আর আজ যেখানে যাওয়ার কথা সেখানে যেতে পারবো না। আমার থেকে সেখানে তোমার যাওয়াটা বেশি জরুরি।তাই আজ না হয় আমি শাড়ি নাই পরিয়ে দিলাম।"
কথা গুলো বলে আরিশ ইনায়ার কপালে চুমু খেয়ে কিছু পিছিয়ে এলো ।ইনায়ার দৃষ্টি ফ্লোরের দিকে। ঠোঁট কামড়ে সে হাসছে।আরিশ বুঝল তার ইনু লজ্জা পাচ্ছ।তাই গলা খাঁকারি দিয়ে বলল___
"আমি মাকে পাঠাচ্ছি তোমাকে শাড়ি পরিয়ে দেওয়া জন্য।"
এই বলে রুম থেকে বের হওয়ার জন্য পা বাড়াল। দরজার কাছে গিয়ে থেমে গেল এবং ইনায়ার দিকে তাকিয়ে দুষ্টু কন্ঠে বলল ___
শা"ড়ি মা পরিয়ে দিলেও খুলব কিন্তু আমি।"
আরিশের কথা শুনে ইনায়া আরিশের দিকে বড় বড় চোখে তাকালো। লজ্জায় গাল, কান গরম হয়ে গেছে তার।আরিশ ইনায়াকে চোখ মেরে রুম থেকে বের হয়ে গেল।আর ইনায়া লজ্জায় নিজের হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল।
ইনায়া কে তার শাশুড়ি শাড়ি পরিয়ে দেওয়ার পর নিজের ফ্ল্যাটে চলে গেল তৈরি হাওয়ার জন্য।ইনায়া শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে হিজাব পরে নিল।আরিশ পাশের রুমেই ছিল।রেডি হয়ে একেবারে নিজের রুমে এলো। পরনে তার কালো শার্ট পেন্ট এবং কালো কোর্ট। একদম ফর্মাল পোশাক।ইনায়া আয়নার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল আরিশ রুমে প্রবেশ করতেই নজর গেল খয়েরি রঙের শাড়ি পরিহিত তার প্রিয়শীর দিকে।আরিশ সেখানেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।ইনায়ার এই রূপ যেন তাকে জ্বলিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে।ইনায়া আয়না থেকে আরিশের দৃষ্টি লক্ষ্য করল।আরিশের চাহনি বুঝতে পেরে তার শরীর শিউরে উঠলো। বয়ঃসন্ধির ঢেউ খেলে গেল।ইনায়া সঙ্গে সঙ্গে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে ফেলল।আরিশ আস্তে আস্তে ইনায়ার দিকে এগিয়ে এলো।আরিশ যত কাছে আসতে লাগলো ইনায়ার শ্বাস তত ঘন হতে লাগল।আরিশ একদম ইনায়ার কাছে চলে এলো। নিজের বলিষ্ঠ হাত দিয়ে পেছন থেকে ইনায়া কোমর জড়িয়ে ধরলো।ইনায়া কেঁপে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে আরিশের হাত খামচে ধরলো।আরিশ ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল____
"আর দূরে থাকতে পারছি না তোমার থেকে ইনু। আমাকে নিজের করে নাও প্লিজ বউ জান।আর বাঁধা দিও না। খুব চাচ্ছে এই মন আজ তোমায়। তোমাকে নিজের সকল ভালোবাসা উজাড় করে দেওয়ার সুযোগ দাও প্লিজ। বিশ্বাস কর কষ্ট দিব না। কেবল ভালোবাসা দিব।"
আরিশের কথা শুনে ইনায়ার নিঃশ্বাস ঘন হয়ে উঠলো।সে ঘনঘন নিশ্বাস নিতে লাগলো।যা দেখে আরিশ যেন বেশি উম্মাদ হয়ে উঠল। হিজাবের উপর দিয়েই ইনায়ার ঘাড়ে নিজের মুখ ডুবিয়ে দিলো।ইনায়া আরিশের হাত শক্ত করে খামচে ধরলো । ফলস্বরূপ আরিশের হাতে খামচির দাগ পরে গেল কিন্তু আরিশের যেন সেখানে কোনো ভুক্ষেপ নেই। সে নিজের ইনুতে আজ ব্যস্ত। কিন্তু তাদের রোমাঞ্চে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ফোন কল। ফোনের রিংটোন বেজে ওঠার ফলে ইনায়া আর আরিশ দুজনেরই হুঁশ ফিরল।ইনায়া আরিশের থেকে তড়িঘড়ি করে কিছুটা দূরে সরে গেল।আরিশ বিরক্ততে মুখ থেকে চ শব্দ করে পকেট থেকে ফোন বের করল। জরুরী কল দেখে ইনায়া দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে
বলল ___
"সরি বউ রাগ করো না এখন রোমান্স করতে পারবো না। কিন্তু ডোন্ট ওয়ারি পরে পুষিয়ে দেব কেমন।এখন ঠিকঠাক হয়ে নিচে আসো গাড়ি বের করাই আছে।"
এই বলে হনহনিয়ে আরিশ রুম থেকে বের হয়ে গেল।
বর্তমান ____
গাড়ি থামলো।আরিশ নিজে আগে গাড়ি থেকে বের হয়ে তারপর ইনায়া কে ধরে ধরে বের করল।ইনায়ার চোখ এখনো বাঁধা। তখন বাড়ি থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠতেই আরিশ গাড়ি চালানো শুরু করেছিল।ইনায়া কোথায় যাচ্ছে তারা এই কথা জিজ্ঞেস করতেই আরিশ বলেছিল সারপ্রাইজ।ইনায়াও তাই আর বেশি ঘাটায়নি।আরিশ ইনায়া কে এক নতুন ব্লিডিং এর সামনে দাড়া করালো।ইনায়া কানে তার পুরো পরিবারের সদস্যদের কথা বার্তা ভেসে আসছে।আরিশ আর ইনায়া আরিশের গাড়িতে আসলেও বাকিদের জন্য আরিশ হাইস বুক করেছিল তারা সেটি দিয়েই এসেছে।আরিশ আস্তে আস্তে ইনায়ার চোখের বাঁধন খুলে দিতে লাগলো।তারা যখন ঢাকায় আসে তখন আরিশ কিছুক্ষণের জন্য গাড়ি থামিয়ে ইনায়ার চোখে কাপড় বেঁধে দিয়েছিল এবং বলেছিল কিছুক্ষণের ব্যাপার।সেই কিছুক্ষণ আধ ঘন্টায় রূপ নিল।আধ ঘন্টা পর আরিশ ইনায়ার চোখের বাঁধন খুলে দিল।ইনায়ার চোখ থেকে কাপড় সরে যেতে ইনায়া আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকালো। এতক্ষণ চোখে অন্ধকার দেখার ফলে এখন আলোতে তাকানো কষ্ট সাধ্য হচ্ছে তার জন্য।সে নিজের চোখ জোড়া পরিপূর্ণ ভাবে খুলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠা দৃশ্য দেখে সে থমকে গেল। অজান্তেই তার চোখ দিয়ে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল। ঠোঁট আনন্দের হাসি ফুটে উঠলো। কানে আরিশের ফিসফিস করে বলা কথাটি___
ইটস্ ইউর বার্থডে গিফট ওয়াইফি।