এক মিনিট আন্টি প্রথমত আপনার ভুল ধরিয়ে দেই।
হঠাৎ ইনায়ার এই কথাটি শুনে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে গেল।ইনায়া কি বলবে তা শোনার জন্য উপস্থিত সবাই অধির আগ্রহে বসে আছে।ইনায়া আবার সোফায় বসে পড়লো। নিজের ফুফুর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। ইমন খান একবার নিজের বোনের দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার বোন জামাইয়ের দিকে তাকাচ্ছে। সবাই ইনায়া কি বলবে তা শোনার অপেক্ষায় আছে এমনকি আরিশ নিজেও। হ্যাঁ আরিশও শুনছে তাদের কথা।ইনায়ার ফুফু যখন আরিশ কে নিয়ে কথা বলা শুরু করল ইনায়া আর বিন্দুমাত্র সময় অপচয় না করে আরিশ কে কল দিল এবং নিজের ফোন মিউট করে রাখল যাতে আরিশ কিছু বললে তা শোনা যায় না।আরিশ ফোন ধরে হ্যালো বলতে যাবে এমন সময় অপর পাশ থেকে রেশমা খানের কথা শুনে তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।চোখ রক্ত বর্ণ ধারণ করল। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করল আরিশ কারণ এখন সে রেগে গিয়ে যদি কিছু করে তা হিতে বিপরীত হতে পারে।আর ইনায়ার বুদ্ধি এবং তার প্রতি বিশ্বাস দেখে আরিশ বেশ মুগ্ধ হলো।এই না হলো সিক্রেট এজেন্টের ওয়াইফ।সে চুপচাপ বসে রেশমা খানের কথা শুনল এবং এখন তার ইনু কি বলতে চলেছে সেটি শোনার জন্য সে অধির আগ্রহে বসে আছে।
______________
টুং টুং করে নোটিফিকেশন বাজল ইরিনের ফোনে।ফোন হাতে নিয়ে দেখল সাদমান মেসেজ করেছে। লিখেছে__
এক্ষুনি ছাদে আসো।৫ মিনিটের মধ্যে না আসলে আমি নিজে যাব তোমাকে আনতে।আর আমি আসলে আশা করি হেঁটে আনাব না। আমার সুস্থ, সক্ষম হাত আছে কোলে করে আনতে আমার অসুবিধা হবে না।
মেসেজ পড়ে ইরিনের চক্ষু চড়কগাছ। এমন মেসেজ সে সাদমানের কাছ থেকে কখনো আশা করেনি।তার জানামতে সে হলো ভন্ড কিন্তু সাদমান তো নিতান্তই একজন ভদ্র, শান্তশিষ্ট, লাজুক ছেলে আর সেই লাজুক ছেলে কিনা রাতবিরেতে তাকে এমন মেসেজ দিচ্ছে। ভাবতেই ইরিনের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে।
ইরিনের ভাবনার মাঝে ছেদ ঘটালো আবার সাদমানের পাঠানো মেসেজের নোটিফিকেশনের শব্দে। এইবার সাদমান লিখেছে ___
আমাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে অবার ৫ মিনিট সময় অপচয় করে ফেল না যেন। অবশ্য আমার কোনো সমস্যা নেই কিন্তু তোমার ভালোর জন্যই বলছি।
মেসেজ পড়ে ইরিন যেন চারশো চল্লিশ ভোল্টের ঝটকা খেল। তাড়াতাড়ি বিছানার উপর থেকে নিজের ওড়না নিল। তারপর সুন্দর করে মাথায় জড়িয়ে নিয়ে রুম থেকে বের হলো ছাদের উদ্দেশ্য। ছাদে গিয়ে দেখল পুরো ছাট লাল গোলাপ আর মোমবাতি দিয়ে ডেকোরেট করা। আর ছাদের মাঝখানে বেলুন আর গোলাপ ফুলের পাপড়ি দিয়ে লেখা আছে আইএম সরি ইরিন।
ইরিন আস্তে আস্তে ছাদে প্রবেশ করল। এমন কিছু দেখবে তা সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি।তার চোখ জ্বলজ্বল করছে মোমবাতির আলোয়।ছাদের মাঝ বরাবর আসতেই দেখতে পেল সেখান একটি টেবিল রাখা।যা মোমবাতি আর গোলাপ ফুল দিয়ে ডেকোরেট করা। একদম ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের মত। টেবিলটির পাশে পকেটে নিজের দুই হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে এক পুরুষ। পরনে তার কালো পেন্ট, সাদা শার্ট আর কালো কোর্ট। ইরিন আস্তে আস্তে সাদমানের দিকে এগিয়ে গেল। চারপাশ মোমবাতি দিয়ে ডেকোরেট থাকার কারণে মোমবাতির আলোয় দুজনের চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।ইরিন একদম সাদমানের সামনাসামনি দাঁড়াল। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।
______________
আপনি যে বললেন না যে আমি আরিশ কে যেন বলি তার বাবা অর্থাৎ আমার শশুর নিজের হকের জমি থেকে দূরে থাকতে কারণ উনার অবর্তমানে সব কিছু আমার চাচারা দেখা শোনা করেছে। কিন্তু সকল কিছু তো আব্বু দেখতো।চাচারা কি করেছে? তো এই কথাটি আপনার ভুল যে উনার অবর্তমানে সব কিছু আমার চাচারা সামলিয়েছে। বরং সকল কিছু আমার বাবা সামলিয়েছে।আর বাবা মানে আমার শশুর মশাই কি কিছুই করেনি? তিনি তো বিদেশে থেকে টাকা পাঠাতো আব্বুর কাছে কিন্তু তা আপনার প্রিয় ইমন ভাই নিয়ে নিজের টাকা বলূ মহান হতো। কিছু সংসারে দিলে বাকি সব নিজের জন্য সঞ্চয় করত।আর কি যেন বলছিলেন আরিশ বিদেশে বড় হয়েছে তার চিন্তা ভাবনা অন্যরকম মানলাম। কিন্তু আপনার মাথায় এই কথা আগে কেন এলো না আন্টি? আপনি না আমাকে নিয়ে অনেক চিন্তা করেন তাহলে বিয়ের মতোন এত বড় সিদ্ধান্ত এত তাড়াতাড়ি নিয়ে নিলেন? আর আপনার লজ্জা করছে না আমার সামনে আমার স্বামীর চরিত্র নিয়ে কথা বলতে? সবার স্বামীকে কি আপনি নিজের স্বামীর মতো ভাবেন?
ইনায়া কথা গুলো বলে থামলো।আরিশের ঠোঁট হাসি ফুটে উঠল নিজের ইনুর এমন কঠিন রূপ দেখে। কারণ সে যতটুকু জানে ইনায়া কখনো কারোর মুখের উপর কথা বলা তো দূরের কথা চোখ তুলে পাল্টা জবাব দেয়নি। অথচ আজ কতগুলো কথা শুনিয়ে ফেলল।ইনায়া কথা শুনে উপস্থিত সবার চোখ বের হয়ে আসার উপক্রম। রেশমা খান ভাবতে পারেনি ইনায়ার জন্য করা ফাঁদে নিজেই পরে যাবে।ইনায়া যে তার দূর্বল জায়গায় আঘাত করবে তা সে কল্পনাও করতে পারেনি।ইনায়া তো আগে নিজেই দূর্বল ছিল কিন্তু এখন যে এত কঠোর হবে তা সবার চিন্তা ধারনার বাইরে।রেশমা খান দাঁতে দাঁত চেপে ধমকানো স্বরে বলে উঠলো ___.
ইনায়া!!
ইনায়া বাঁকা হেসে বলল ___
আস্তে কথা বলুন আমার সাথে।আমি জানি সত্য কথা আবার আপনার সহ্য হয় না। কিন্তু জানেন কি সবার স্বামী তো আপনার স্বামীর মতোন না তাই সে যদি জানতে পারে আপনি আপনার সাথে চিৎকার করে কথা বলছেন তাহলে আপনার জিভ কেটে আপনার হাতে ধরিয়ে দিবে।
এই কথাগুলো বলে ইনায়া দাঁড়িয়ে পড়ল।তার বলা কথাগুলো শুনে আরিশ ফোনের অপর পাশ থেকে খুব গর্ব বোধ করছে।আরিশ খুশিতে নিজে নিজেই বলল___
উফ্ ইনু আমি এত গর্ব বোধ করছি তোমার উপর যে ইচ্ছে করছে তোমাকেই গর্ভবতী বানিয়ে দেই।
আরিশ নিজে নিজে কথা গুলো বলে একা একাই হেসে উঠলো।
ইমন খান, রেশমা খান এবং তার স্বামী সবাই স্তব্ধ।ইনায়া দরজার দিকে যেতে যেতে আবার দাঁড়িয়ে পড়ল তারপর পেছন ফিরে বলল____
আর কি যেন বলছিলেন? আপনার ভাতিজাদের মাথা গরম তারা যা কিছু করে ফেলতে পারে। তাহলে শুনে রাখুন আপনার ভাতিজারা জেল খেটেছে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য তার মানে এই না যে আমার স্বামীকে তাদের ভয় পেতে হবে।আমার স্বামী জেল না খাটলেও জেল খাটিয়েছে অনেক।তাই আপনি,আপনার ভাগ এবং তার ছেলেরা যাতে সাবধানে থাকে আমার স্বামী থেকে।আর হ্যাঁ দ্বিতীয় বার আমার স্বামীর চরিত্র নিয়ে কথা বলার আগে কমপক্ষে হাজার কোটি বার ভাববেন।আমি কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না।আর না এইটা দেখব যে আমার স্বামীর সম্পর্কে বাজে কথা বলা ব্যক্তিটি আমার থেকে বড় নাকি ছোট।যা করার আমি তাই করব। আপনাদের ভালোর জন্যই আপনাদের কি লাস্ট ওয়ার্নিং দিলাম।
এই কথাগুলো বলে ইনায়া হনহনিয়ে বের হয়ে গেল।আর পিছনে রেখে গেল কিছু অবাক হয়ে থাকা মুখশ্রী।