অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ৬৬

🟢

ইনায়ার সামনে ইংরেজিতে বড় বড় করে লেখা ভেসে আছে। IKC "Iftekharul Khan Corporation" নিচেই বাংলাতে লেখা ইফতেখারুল খান কর্পোরেশন।ইনায়ার চোখ পানিতে টলমল করছে।ইনায়ার মা শারমিন এবং ইনায়ার ভাই ইশানও বেশ অবাক হলো এবং পাশাপাশি ইমোশনাল হলো।

ইনায়া অস্পষ্ট স্বরে বলল ___

আম,,আমাল বা,,বাবা, বাবার নাম।

আর বেশি কিছু বলতে পারলো না‌। খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেল সে। ঠোঁট তার কাঁপছে।আরিশ ইনায়ার কাছে এসে বলল ___

হুম ইনু এইটা হলো তোমার জন্মদিন উপলক্ষে একটি ছোট্ট উপহার তোমার স্বামী এবং শশুরের পক্ষ থেকে। তোমার বাবার নামের এক কম্পানি।

ইনায়া অবাক দৃষ্টিতে তাকালো আরিশের পানে তারপর কম্পিত কন্ঠে বলল___

এইটাই ছোট্ট? না না আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আরিশ হাসলো ইনায়া কথা শুনে।ইনায়া আবার বলল __

"তবে আপনার পরে। আপনি হলেন আমার জীবনের সব চেয়ে বড় প প্রাপ্তি যা আল্লাহ আমার জন্য লিখে রেখেছিল আমার নসিবে।আমাকে পূর্ণ করলেন আপনি।"

ইনায়া কথাগুলো আরিশ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে শুনলো।তার ইনু হয়তো মুখ ফুটে বলেনি কখনো নিজের মনের কথা। কিন্তু ব্যবহারে, কাজে কর্মে ঠিকই বুঝিয়েছে সে আরিশ কে কতটা ভালোবাসে ফেলেছে।

দেখছো? আরিশ নিজের বউ কে তার বাবার নামের কম্পানি খুলে দিয়েছে। অথচ তুমি আমাকে আজ পর্যন্ত স্বর্নের হার উপহার দিতে পারলে না? শেখ কিছু আমার ছোট বোনের স্বামীর কাছ থেকে।

রূকসানা মুখ কালো করে নিজের স্বামীকে কথা গুলো বলল।তার স্বামী বউয়ের সবসময়ের মতোন অন্যেরটা দেখে চাহিদা করায় অতীষ্ট হয়ে বলল____

তুমিও তো পারো নিজের ছোট বোনের থেকে কিছু শিখতে? অল্প বয়সে যথেষ্ট বুদ্ধিমতি। মেয়ে হিসেবেও তো ভালো। তোমরা ওর বয়সে কত প্রেম করেছো আর ও করল না‌।বলবে খোঁটা দিচ্ছি ,না আমি খোঁটা দিচ্ছি না । কেবল তোমার কথার প্রতি উত্তর করছি। তোমার বোন যা পায় তাতেও সন্তুষ্ট হয় আর কিছু না পেলেও সন্তুষ্ট হয়।তাই ও এখন অনেক কিছু পাচ্ছে। কিন্তু তুমি তো কখনোই সন্তুষ্ট হও না কোনো কিছুতেই।

স্বামীর এমন রূঢ় কথায় মুখ চুপসে গেল রূকসানার। প্রতি উত্তরের কিছু বলার মতো পেল না তুই চুপ থেকে ইনায়াকে দেখে হিংসে করতে লাগলো।

বাড়ির কিছু সদস্য খুশি হলেও বেশিরভাগ মানুষ হিংসা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। রেশমা খান আর ইমন খান বেশিক্ষণ টিকতে না পেরে দুজন মিলে হাইসে চড়ে বসলেন।

আরিশ সবার মনোযোগ পেতে গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলো।সকলেই আরিশের দিকে দৃষ্টিপাত করলো।আরিশ ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করল ___

ইনুর যখন জন্মদিন ছিশ তখন আমি বাংলাদেশ ছিলাম না। তারপর হুট করেই আলহামদুলিল্লাহ আমাদের বিয়ে হয়ে যায়। ফলস্বরূপ তার জন্মদিন সবসময়ের মতোনই নিরামিষ ভাবে পার হয়ে যায়।আগে ইনু নিজের জন্মদিন কতটা দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা নিয়ে কাটিয়েছে তা আমি জানলেও হয়তো বদলাতে পারবো না। কিন্তু এখন ইনায়ার প্রত্যেকদিন আনন্দময় করে তুলতে পারবো।তাই আমার স্ত্রী মিসেস ইনায়ার জন্য এই সামান্য উপহার।

বিজ্ঞাপন

সবাই তালি বাজালো। হঠাৎ করে কেউ একজন এসে ইনায়া কে জড়িয়ে ধরলো। আকস্মিক ঘটনায় ইনায়া দু কদম পিছিয়ে গেল এবং সবাই অপ্রস্তুত হয়ে গেল।কেল আরিশ স্বাভাবিক থাকলো। ইনায়া কে যে জড়িয়ে ধরেছে সে আর কেউই নয় বরং ইরিন।আরিশ গতকালকেই সাদমান কে বলেছিল যাতে গতকালেই তারা রওনা দেয় যাতে আজকে নতুন কম্পানি উদ্বোধনের সময় তারা উপস্থিত থাকতে পারে।তাই সাদমান ইরিন কে নিয়ে চলে এসেছে।

ইনায়া ইরিন কে দেখে অবাক হলো সাথে খুশিও হলো। তারপর শক্ত করে ইরিন কে জরিয়ে ধরে বলল____

আই মিসড ইউ ননদিনী।

ইরিনও ইনায়া কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল___

আই মিসড ইউ ঠু ভাবি।

তাদের মধুর সম্পর্ক দেখে আরিশ,তার বাবা, মা, সাদমান, শারমিন, ইশান সহ পরিবারের আরো কিছু মানুষ খুশি হলো। কিন্তু বাকি কিছু সদস্য বেজার হলো। তাদের যেন ইনায়ার এত সুখ সহ্য হচ্ছে না।

আরিশ নিজের বোনের মাথায় গাট্টা মেরে বললো__

হয়েছে ছাড় আমার বউ কে।এখন অফিসের উদ্বোধন হবে।আর ইনু নিজ হাতে করবে।ইরিন ইনায়া কে ছেড়ে দিয়ে নিজের মা বাবার বাবার কাছে চলে গেল।ইনায়া তো খুশিতে আত্মহারা।তার মনে হচ্ছে আরিশ আসার পর যেন তার সুখের কোনো শেষ নেই ‌।

সবাই মিলে অগ্রসর হলো অফিসের দিকে। অফিসের গেইটের সামনে লাল ফিতা বাঁধা ছিল‌। কিছু কর্মচারী কাঁচি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।আরিশ ইনায়া কে ইশারায় কাঁচি নিতে বলল।ইনায়া কাঁচি হাতে নিয়ে আরিশের দিকে তাকালো।আরিশ মুচকি হেসে বলল___

এই কাজটি তুমি তোমার মা এবং ভাই কে নিয়ে করো।

ইনায়ার চোখ খুশিতে ভরে উঠল।চোখ থেকে দু ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পরল।আরিশ সঙ্গে সঙ্গে ইনায়ার গাল থেকে পরম যত্নে পানি মুছে দিয়ে বলল___

আর কান্না নয়। হাসতে হাসতে নতুন কিছু শুরু করতে হয়।

ইনায়া মাথা ঝাঁকায়।আরিশ মুচকি হেসে নিজের শাশুড়ি কে বলে__

আসুন মা আপনার অধিকার সবার আগে।

শারমিন খুশিতে কেঁদে উঠলো।তার মেয়ের কপালে এত সুখ থাকবে তা সে কখনো কল্পনা করেনি। আবার জীবিত অবস্থায় নিজের মেয়ের সুখ স্ব চোখে দেখে যাচ্ছে এ যেন তার পরম সৌভাগ্য।আরিশের মাথা হাত বুলিয়ে দিয়ে সামনে এগিয়ে যান। মাঝখানে ইনায়া তার এক পাশে তার বড় ভাই ইশান এবং অন্য পাশে তার মা শারমিন। তিনজন মিলে কাঁচি ধরেন।ইনায়া আরিশের দিকে তাকাতেই আরিশ ইশারা দেয় ফিতা কাটার জন্য। সাদমান ফোনে এই সুন্দর মুহূর্ত বন্দি করতে ব্যস্ত।ইনায়া মুচকি হেসে নিজের শ্বশুর শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে তাদের অনুমতি নিয়ে নতুন কম্পানির উদ্বোধন করে‌। চারিদিক তালির শব্দে কেঁপে উঠে।একে একে সবাই অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে।ইনায়া আরিশের হাত ধরে অফিস ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে।ইনায়া ঠোঁটে হাসি দেখে আরিশ ইনায়ার কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে ____

এতেই এতো খুশি হয়ে গেলে? এখনো যে হানিমুনে যাওয়া বাকি।

ইনায়া হানিমুনের কথা শুনে লজ্জায় মিলিয়ে যায়।আরিশ তা দেখে শব্দ করে হেসে উঠে।

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস