ইনায়া আরিশের সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আরিশ কেবলা মার্কা হাসি দিচ্ছে।এতে যেন ইনায়ার সন্দেহ আরো বেরে যায়।
ইনায়া কোনো দ্বিধা ছাড়াই জিজ্ঞেস করল,,,,
--"Are you Gay?"
আরিশ আকাশ থেকে পড়ল সে চিকিৎসা করে বলল,,
--"What... Like seriously,,,ইনু!Are you lost your mind? মানে আমি Gay হতে যাব কেন। আস্তগফিরুল্লাহ।নাউজুবিল্লাহ।"
ইনায়া মুখ ভেংচি কেটে বলল,,,,
--"না মানে রিফাত ভাই কে চুমু খাওয়ার কথা বললেন তাই।"
আরিশ কপাল চাপড়ে বলল,,,
--"আরে আমার বোকা ইনু ওইটা তো মানে এমনি বলছি।তুমি Seriously নেও কেন?"
ইনায়া ভাব নিয়ে বলল,,,
--"বিশ্বাস নেই। বিদেশে বড় হয়েছেন। সেখানে সব কিছু নরমাল।"
আরিশ বলল,,,
--"আস্তগফিরুল্লাহ ইনু। বিশ্বাস কর এমন কিছু না। আমি একজন মুসলিম। বিদেশে সবকিছু নরমাল হলেও একজন মুসলিমের জন্য সবকিছু নরমাল না।"
ইনায়া মাথা নাড়ল তারপর শব্দ করে হেসে উঠলো। এবং বলল,,,
--"আরে আমি তো মজা করছিলাম। কিন্তু আপনি যেভাবে কথা বলছিলেন আমার এক মুহুর্তের জন্য মনে হয়েছিল নয় আপনি পাগল হয়ে গেছেন আর নয় আপনাকে ভুতে ধরেছে।"
এই কথা বলে আবার হাসতে শুরু করলো।
আরিশ লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকায়।আর ইনায়ার হাসি দেখতে থাকলো।
সেই মুহূর্তে শারমিন ঘরে ঢুকে বলতে লাগলো,,,
--''এই ইনায়া তোর রাফি ভাইয়া তো বিসিএস ক্যাডার হয়ে গেছে। বেচারা কবে ধরে চেষ্টা করছিল।তাই সে একটু আগে আমার ছাদ থেকে বলল যে কাল নাকি তোদের দাদু বাড়ি যাবে। সকালে যাবে বিকেলে ফিরে আসবে।সবাই আসবে আজকে।আর আরিশ রাও তাদের আগের বাড়ি দেখতে পারবে।"
ইনায়া খুশি হয়ে বলল,,,
--"What a great news আম্মু।আর আমার পরিক্ষাও শেষ। শান্তিতে যেতে পারব।আর আব্বুর কবর টাও দেখে আসতে পারব। কিন্তু আম্মু গাড়ি দিয়ে না গিয়ে নৌকা করে যাই।কত বছর হলো নৌকা দিয়ে যাই না।"
শারমিন বলল,,,
--"গাড়ি দিয়ে গেলে এক, দেড় ঘন্টার মধ্যে চলে যাওয়া যায় আর নৌকা দিয়ে গেলে কমপক্ষে ২ ঘন্টা লাগবে।তোর একার ইচ্ছের জন্য কে দেড়ি করবে বল?"
ইনায়া মন খারাপ হয়ে গেল।
তখনি আরিশ বলে উঠলো,,,
--"আমি দেড়ি করব তোমার জন্য।সবাই গাড়ি দিয়ে গেলেও আমি তোমাকে ইরিন কে নিয়ে নৌকা দিয়ে যাব। এইবার খুশি।"
ইনায়া খুশিতে লাফ দিয়ে উঠলো। তারপর বলল,,,
--"আজ অনেক মজা হবে বাড়িতে সবাই আসবে। আবার কাল সবাই মিলে ঘুরতে যাবো।আর কাল তো ভাইয়ারো বন্ধ।"
আরিশ ইনায়ার খুশি দেখে মুচকি মুচকি হাসছে।
শারমিন বলল,,,
--"হয়েছে আর লাফাতে হবে না এখন খেয়ে নে।আরিশ বাবা তুমিও খেয়ে নাও এই গরিবের ঘরে।"
আরিশ বলল,,,
--"এভাবে বলে লজ্জা দিও না চাচী মণি। আমিতো একদিনই বলেছি তুমি ভালোবেসে যা খেতে দেবে আমি তাই খাব।"
আরিশ গিয়ে খাবার টেবিলের মাঝখানে চেয়ার টেনে বসল।
ইনায়া চিৎকার করে বলল,,,
--"এই উগান্ডার জনগণ আপনি আমার চেয়ারে বসেছেন কেন? এই চেয়ার ছাড়া অন্য কোন চেয়ারে বসে আমি খাই না। তারাতাড়ি উঠুন।"
শারমিন রাগ দেখিয়ে বলল,,,,
--"আহ্ ইনায়া হচ্ছেটা কি? ছেলেটা বসেছে বসতেদে। এইটা কোন ধরনের ব্যবহার?"
আরিশ মুচকি হাসল। তার খুব ভালো লাগে যখন ইনায়া অধিকার দেখিয়ে কথা বলে।
তাই আরিশ বলল,,,
--"থাক না চাচি মণি।আমি জানতাম না তো যে এইটা ইনায়া মেডামের রেজিস্ট্রার করা চেয়ার।"
এই কথা বলে আরিশ মুচকি হেসে অন্য চেয়ারে বসল।
ইনায়া তার চেয়ারে বসে বলল,,,
--"আম্মু আজকে কি রান্না করছো?"
শারমিন বললেন,,,
--"তোর প্রিয় লাল শাক চিংড়ি মাছ দিয়ে,লাউ পাতলা ডাল।"
ইনায়া খুশি হয়ে বলল,,,
--"উফ্,,করেছকি আম্মু।সবই তো আমার প্রিয়। তারাতাড়ি খাবার দেও।"
আরিশ হাসল আর মনে মনে বলল,,,
--"এই মেয়েটি অল্পতেই খুশি হয়ে যায়।"
ইনায়া আরিশের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
--"আপনি এসব খেতে পারবেন তো? না খেতে পারলে জোর করে খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।"
আরিশ হাসল তারপর বলল,,,
--"আপনার এত চিন্তা করতে হবে না ম্যাডাম। আমি খেতে পারব।"
ইনায়া আর কিছু বলল না চুপচাপ তার খাবার উপভোগ করল।আরিশ খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে ইনায়ার খাওয়া দেখছে।কতো সুন্দর করে ছোট ছোট লোকমা করে খাচ্ছে।তারা দুজন খেয়ে উঠলো।
ইনায়া খাটে উঠে বসলো।ওর পেট আবার ব্যথা শুরু করেছে তাই সে পেট ধরে বসে আছে।
আরিশ বিষয়টি লক্ষ্য করে তার চাচি মনি কে বলল গরম পানি বসাতে। শারমিন গরম পানি বসলো।
ইনায়া চুপচাপ বিছানায় বসে আছে।
গরম পানি হলে শারমিন আরিশ কে বলল।
আরিশ বড় Hot water bag এ পানি ভরে নিল। তারপর ইনায়াকে দিল এবং বলল,,,
--"নেও ব্যাথা কিছুটা কমবে।"
ইনায়া আর না করল না নিয়ে নিল।আর মনে মনে ভাবছে,,,
--"এই লোকটি সবদিকে খেয়াল রাখে।"
ইনায়া চুপচাপ বসে আছে আর আরিশ তার পায়ের কাছে বসে আছে।
তখনি ইরিন আসল এবং তার ভাই কে বলল,,,
--"কি ব্যাপার ভাইয়া আজকাল দেখছি এই বাসা থেকে অন্য কোথাও যাওনা?"
আরিশ চোখ গরম করে বলল,,,
--"বেশি কথা বললে তোকে বিয়ে দিয়ে দিব।"
ইরিন মুখ ভেংচি কেটে বলল,,,
--"নিজের বিয়ের বয়স হয়েছে নিজে বিয়ে করো।আমার বিয়ের কথা ভাবতে হবে না।"
ইনায়া হাসছে ভাই বোনের ঝগড়া দেখে।
ইরিন এসে ইনায়ার পাশে বসল। তখনি শারমিন আইসক্রিমের বক্স নিয়ে আসলো। এবং বলল,,,
--"তোমরা বসে আড্ডা দেও আমি আইসক্রিম বাটিতে দিচ্ছি।"
আরিশ এবং ইরিন বলল,,,
--"না না। আইসক্রিম আমাদের জন্য না ইনায়ার জন্য।"
শারমিন বলল,,,
--"তো কি হয়েছে?ও একা খাবে নাকি?সবাই মিলে খাও।"
আরিশ কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইনায়া বলল,,,
--"থাক না আম্মু।উনি যেহেতু খেতে চাচ্ছে না তাহলে জোর করছো কেন? আইসক্রিমের বক্স আমাকে দেও আর দুটো চামচ দেও আমি আর ইরিন খাই।উনি উগান্ডা বাসী উনিতো ডায়েট করেন।উনার এসব হজম হবে না।"
ইরিন এবং শারমিন হাসছে।আরিশ ভ্রু কুঁচকে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে ।আর ইনায়া Don't care ভাব নিয়ে বসে আছে।
শারমিন ইনায়ার কথা মতো তাকে আইসক্রিমের বক্স এবং দুটি চামচ দিলেন।আর তিনি অন্য রুমে চলে গেলেন।
ইনায়া আর ইরিন মজা করে খেতে লাগল।
ইনায়া চামচে আইসক্রিম উঠিয়ে একটু খানি খেল এবং চামচে একটু খানি বাকি নিয়ে আরিশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলল,,,
--"কেউ যদি খেতে চায় তাহলে টেবিলের উপর থেকে আরেকটি চামচ নিয়ে এইখান থেকে খেতে পারে।"
ইনায়ার বলতে দেরি কিন্তু আরিশ আর দেরি না করে ইনায়া হাতের চামচ টা নিল এবং ইনায়ার খাওয়ার পর অবশিষ্ট বাকি আইসক্রিম খেয়ে ফেলল।
ইনায়া হা করে তাকিয়ে রইল।কি হলো কি করে হলো তার মাথার উপর দিয়ে গেল।আরিল এইটা কি করল।এই চামচ দিয়ে তো সে নিজে খেয়েছে।আর চামচে তার এঁটো আইসক্রিম ছিল।ইনায়ার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেল।কান দিয়ে ধোঁয়া বের হতে লাগলো।
ইরিন তার ভাইয়ের কান্ড দেখে মিটি মিটি হাসছে।
ইনায়া রাগ দেখিয়ে বলল,,,
--"এই খচ্চরে লোক এইটা কি করলেন? এই চামচ দিয়ে আমি খাচ্ছিলাম। আপনি কেন খেলেন?আর চামচে আমার এঁটো আইসক্রিম ছিল।Ewww,,,, আপনি কি করে খেলেন?"
আরিশ ইনোসেন্ট ভাব নিয়ে বলল,,,
--"ও আসলে লোভ সামলাতে পারলাম না তাই তারাতাড়ি খেয়ে ফেলেছি। Don't Mind my dear ইনু।"
ইনায়া তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।সে রাগ দেখিয়ে বলল,,,
--"এই অসভ্য উগান্ডা থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসা লোক। এক্ষুনি আমার চোখের সামনে থেকে বিদায় হোন। নয়তো আমি আপনাকে কাঁচা চিবিয়ে খাব।"
আরিশ ভয় পাওয়ার নাটক করে বলল,,
--"যা হুকুম মেরে মহারানী। I always listen to everything you say, madam."
এই বলে হাসতে হাসতে চলে গেল।
ইনায়া এতক্ষণ রাগ দেখালেও এখন তার অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। এমন ভাবে কখনো কেউ তার সাথে কথা বলেনি। এমন ব্যবহার করেনি। তার মনে এক নতুন অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু সে ধামাচাপা দিতে পারে নিজের অনুভূতিকে। তাই সেই নিজেকে স্বাভাবিক করল এবং আইসক্রিম খেতে লাগলো।
আর অন্যদিকে ইরিন ভাবছে যেখানে সবাই তার ভাইয়ের কথা শুনে। ভাইয়ের আদেশ পালন করে ।সেখানে তার ভাই তার থেকে ১১ বছরের একটি ছোট মেয়ের কথা শুনছে।ইনায়ার সামনে তার ভাই অন্যরকম। আসলে ইনায়া অনেক লাকি।"