ইনায়া ভয় পেয়ে উঠলো যখন সে বুঝতে পারল হঠাৎ কেউ তার পা নিজের পায়ের রানের উপর রেখেছে।ইনায়া তাকিয়ে দেখল আরিশ।
আসলে আরিশ তখন ইনায়া কে জুতার ফিতা বাঁধা নিয়ে কষ্ট করতে দেখে মুচকি হেসে এগিয়ে আসে এবং ইনায়ার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে। কিন্তু ইনায়া তার মাথা ঝুঁকে এমন ভাবে বসে ছিল যে সে আরিশ কে দেখতে পারেনি।আরিশ ইনায়ার জুতা পরিহিত পা উপরে তুলে নিজের পায়ের রানের উপর রাখল। নতুন জুতা হওয়ায় তার প্যান্টে ময়লা ভরলো না।
ইনায়া রাগ দেখিয়ে বলল,,,
--"কি করছেন টা কি আপনি?দেখেন সব সময় অতিরিক্ত কিছু ভালো লাগে না। আপনি,,, আপনি আমার থেকে বড়। আমার পা ছাড়ুন তাড়াতাড়ি। ভালো হচ্ছে না কিন্তু।"
আরিশ নিজের ঠোটের ওপর আঙ্গুল রেখে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,,,,
--"শশশশ,,, আমাকে করতে দাও ইনু। I don't like anyone to interfere with my work. And that's much I can do for you." (কেউ আমার কাজের মাঝে বাধা তৈরি করুক তা আমি পছন্দ করি না। আর তোমার জন্য আমি এতটুকু তো করতেই পারি।)
ইনায়া চুপ হয়ে গেল।সে জানে এই লোকের সাথে কথা বারিয়ে লাভ নেই ।
আরিশ সুন্দর করে ইনায়ার জুতার ফিতে বেঁধে দিচ্ছে।
কিন্তু ইনায়ার চোখ গেল আরিশের হাতের দিকে
জুতার ফিতে বাঁধতে শুরু করলে সেই মুহূর্তে তার হাতের শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠল— মজবুত, তবু সুন্দর এক টানটান রেখার মতো, ত্বকের নিচে যেন নীরব নদীর স্রোত বয়ে চলেছে। আলো পড়ে শিরাগুলোকে আরও গভীর আর জীবন্ত করে তুলেছিল।আঙুলের ডগা দিয়ে ফিতে গুলো ঠিক করতে গিয়ে তার হাতে টান পড়ল, আর সেই টানের সাথে সাথে শিরাগুলো স্পষ্ট ভেসে উঠল— সবুজাভ নীল রেখাগুলো যেন জীবন্ত, ত্বকের নিচে ধুকপুক করে বয়ে চলেছে।
ইনায়া অবচেতনে তাকিয়ে রইল— হাতের আঙুলের হাড়ের গঠন, শক্ত অথচ নিখুঁত নড়াচড়া, আর সেই শিরাগুলোর স্পন্দন যেন আলাদা এক আকর্ষণ তৈরি করছিল।
ফিতে বাঁধা শেষ করে আরিশ মাথা তুলে তাকাল, কিন্তু ইনায়া তখনও তার হাতে আটকে আছে।
আরিশ ইনায়া দিকে তাকিয়ে বলল,,,
--"মেডাম হয়ে গেছে।"
ইনায়া তারাতাড়ি তার চোখ আরিশের হাত থেকে সরিয়ে তার পা আরিশের রানের উপর থেকে তুলে নিল। তারপর মিনমিন করে বলল,,,,
--"আপনি যানি কেমন?"
আরিশ জিজ্ঞেস করল,,,
--"কেমন? Handsome? Dashing, attractive? What name would you like to call me?
ইনায়া মুখ ভেংচি কেটে বলল,,,
--"মি. উগান্ডিয়ান।"
আরিশ অবাক হয়ে চিৎকার করে বলল,,,
--"What? Like seriously ইনু? ধ্যাত।কি আর করার আপনি আমাকে যা বলবেন তাই আমি মেডাম।"
ইনায়া হেসে উঠলো।
ঠিক তখনই পাশের রুম থেকে ইনায়ার বড় ভাই ইশান আসল।
আরিশ তার দিকে তাকিয়ে হাসলো তারপর ইশানের দিকে এগিয়ে গেল। দুজন মিলে কুশল বিনিময় করল।আরিশ এসেছে তারপর থেকে তার ইশানের সাথে দেখা হয় নি।ইশান বেশিরভাগ রাত ১২ টায় ফিরে তাই। কিন্তু আজ ভাগ্যক্রমে ছুটির দিন হওয়াতে দেখা হয়ে গেল।
ইশান আরিশের পছন্দের খুব প্রশংসা করল কারণ তার দেওয়া উপহারগুলো খুব পছন্দ হয়েছে ইশানের।
আরিশ মনে মনে বলল,,,,
--"আমার পছন্দ যে সুন্দর তা তোমার বোন কে দেখেই বোঝা যায়।"
আরিশ আনমনে হেসে উঠলো।আর আড় চোখে ইনায়া কে দেখছিল। আর ইনায়া আয়নায় নিজের হিজাব দেখছিল কি সব ঠিক আছে কিনা।
___________
৮ টায় বাড়ির সবাই খাওয়া-দাওয়া করে রেডি হয়ে বাড়ি থেকে বের হল। সবাই মোটামুটি সেজেছে। শুধুমাত্র ইনায়া বাদে। এত সকাল সকাল সাজার মত এনার্জি বা ইচ্ছে কোনটাই তার নেই। অনেকেই তার কাপড়ের প্রশংসা করল। কিন্তু যখন জানতে পারল আরিশ দিয়েছে সবাই মনে মনে ঈর্ষান্বিত হলো। কেউই আরিশের সাথে ইনায়ার মিলামিশা তেমন ভালো চোখে দেখছে না। সবাই মনে মনে ভয় পাচ্ছে যদি আরিশের সাথে ইনায়ার কোন সম্পর্ক হয়ে যায় তাহলে ইনায়ার সুখ চলে আসবে। অনেক টাকা হয়ে যাবে ইনায়ার।আরিশ বিষয়টি খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে এবং মজা নিচ্ছে। কারণ সে তার ইনায়াকে সব দিবে যা ইনায়া ডিজার্ভ করে।
সকলের মতে রিকশা রিজার্ভ করে বড়মা ব্রিজের ওপর দিয়ে ডিরেক্ট তাদের গ্রামের বাড়িতে যাওয়া ভালো তাই তারা সেভাবেই যাবে। যা শুনে ইনায়ার তো মন খারাপ হয়ে যায়। কারণ তার নৌকা দিয়ে যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সে মুখ ফুটে কিছু বলল না।
ইমন খান কয়েকটা রিকশা রিজার্ভ করলো যখন সবাই রিকশায় উঠছিল তখন আরিশ বলে উঠলো,,,
--"ইরিন নদী দিয়ে ঘুরে যেতে চেয়েছিল তাই আমি ওকে নিয়ে নৌকা দিয়ে আসছি। আর ইনায়া তুমিও আস।"
ইমন খান তেতে উঠল এবং বলে উঠলো,,,
--"তোমরা যা ইচ্ছা কর।ইনায়া আমাদের সাথে যাবে।"
ইনায়া নরম স্বরে বলল,,,
--"আমারো ইচ্ছে ছিল নৌকা দিয়ে যাওয়ার।তাই আপনারা যান আমি ওদের সাথে আসছি।"
ইমন খানের বড় ছেলে রামিম রেগে বলল,,
--"তোর আবার কিসের ইচ্ছে? বেশি কথা না বলে চুপচাপ গাড়িতে ওঠ।"
আরিশের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। চোখ লাল রক্ত ধারণ করল। কিন্তু সে নিজেকে সামলালো। কারণ সে চায় ইনায়া নিজের জন্য প্রতিবাদ করুক।আরিশ ইনায়ার দিকে তাকালো।
ইনায়া আরিশের দিকে তাকিয়ে দেখল আরিশও তার দিকে তাকিয়ে আছে।আরিশের চোখ বলছে,,,
--"ভয় পেও না ইনু। তোমার আরিশ তোমার পাশে আছে। তোমার কোনো ক্ষতি হতে দেবে না।"
ব্যাস ইনায়া যেন ভরসা পেল।সে রামিমের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,,,
--"আমার মা, ভাইয়া আমার ইচ্ছের দাম দেয়।তাই আমার মনে হয় না আমার অন্য কারোর অনুমতির প্রয়োজন। আপনারা সাবধানে যান।আমি ওনাদের সাথে আসছি।আর আমি জানি আম্মু কিছু বলবে না।"
শারমিন বলল,,,
--"তুই যা আরিশের সাথে কোনো সমস্যা নেই।"
ইনায়া খুশি হয়ে আরিশের দিকে তাকালো।আরিশও মুচকি হাসলো।
ইমন খান রাগি চোখে ইনায়ার দিকে তাকালো।আরিশ তা লক্ষ্য করল।
ইমন খানদের রিকশা চলতে লাগল।
ইনায়া আরিশের দিকে ফিরল। মনে মনে বলল,,,
--"তাহলে এই লোক টা মনে রেখেছে।
আর আরিশ মনে মনে বলল,,
--"যাক আজকে আমার কথা রেখেছে। নিজের জন্য প্রতিবাদ করেছে।আমি কথা দিচ্ছি ইনু তোমাকে আরো সাহসী করে তুলব।"