অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ১৭

🟢

বাড়ি ভরা মানুষ। অনেক হোইচোই। বাড়িতে‌ এসেছে ইমন খানের ছোট মেয়ে রূকসানা তার স্বামী এবং তার ছেলে আকিব।আকিবের বয়স ৯ বছর।

এবং ইমন খানের বড় ছেলে রামিম খানের দুই মেয়ে। একজনের নাম মারিয়া। ছোট মেয়ের নাম মিম।মারিয়া ৯ম শ্রেণীতে পড়ে এবং মিম এর ৫ বছর।তারা এতদিন তাদের নানু বাসায় ছিল।

শেজ চাচার বড় মেয়ে এসেছে তার নাম রুবিনা।তার দুই ছেলে। রমিম এবং রাদিফ।রমিমের বয়স ১১ বছর এবং রাদিফের বয়স ৬ বছর।

এবং ইমন খানের মেজ ছেলে রবি খানের দুই ছেলে যারা এই বাড়িতেই ছিল।বড় ছেলের নাম সাদাফ এবং ছোট ছেলের নাম সাফি। মানে ইনায়ার পুচু।

এমনিতে যতই জমি নিয়ে ঝগড়া হোক না কেন যখন সবাই এক হয় তখন অনেক আনন্দ হয়।

ইনায়ার পেট ব্যথা অনেকটা কমেছে।তাই সে ইরিন কে নিয়ে নিচে গিয়েছে এবং সবার সাথে ইরিনের পরিচয় করিয়ে দিল। সবাই ইরিনের সাথে ভালো ব্যবহার করছে। After all সেও এই বাড়ির একজন। এই বংশের।

সবাই মিলে রেশমা খানের বাড়িতে বসে আড্ডা দিচ্ছে।কাল কখন তাদের দাদু বাড়িতে যাবে, কিভাবে যাবে। সকালের নাস্তা করে যাবে নাকি সেখানে গিয়ে করবে এইসব।

আর বড়রা নিজেদের মধ্যে টুকিটাকি কথা বলছে। এখন সব স্বাভাবিক। ইমরান খান জমির ভাগ চাইনি তাই হয়তো।আর ইমন খান এবং রেশমা খান ভাবছেন ইমরখন খান বিদেশে থাকে যদি তার থেকে কিছু নেওয়া যায়।তাই তারা সব ভালো ব্যবহারের নাটক করছে ।

________

অবশেষে সিদ্ধান্ত নিল সবাই রিকশা রিজার্ভ করে যাবে।আর সকাল সকাল খেয়ে তারপর যাবে।আর সন্ধ্যা আগে চলে আসবে।

তখনি আরিশ ঘরে প্রবেশ করল। এতক্ষণ ঘরে সবাই ছিল শুধু মাত্র আরিশ বাদে।আরিশ রুমে প্রবেশ করে প্রথমে তার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে খুঁজতে লাগলো। এবং দেখল সে সোফায় বসে আছে। চোখাচোখি হতে ইনায়া মুখ ভেংচি কাটলো।আরিশ মুচকি হাসল তারপর একটি সোফায় বসল।

রাফি আরিশের সাথে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিল।আরিশ সবার সাথে ভালো করে কথা বলল।

আরিশের চোখ বারবার ইনায়ার দিকে।ইনায়ার সাথে সেই সোফতেই বসে ছিল রাদিফ।রাদিফের হাতে ছিল তার মায়ের ফোন। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো ইনায়া রাদিফের হাত থেকে ফোন নিল তার রুবিনা আপু(রাদিফের মা) কে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠা নাম দেখে ইনায়ার মুখ কালো হয়ে গেল। চোখের কোণে জল জমে গেল। নিজেকে সামলে সে ফোন টা দিয়ে দিল।

বিষয়টা আর কেউ খেয়াল না করলেও আরিশ করেছে।ইনায়ার চোখে পানি দেখে আরিশের ভিতর টা জলজল করে উঠলো।কথায় আছে প্রিয় মানুষের চোখ দেখেই বোঝা যায় সে কষ্টে আছে কিনা।আর প্রিয় মানুষের কষ্ট, চোখে পানি সহ্য করা যায় না। আরিশের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি।

সে ভাবছে কি এমন ঘটলো যার কারণে ইনায়ার হাস্যোজ্জ্বল মুখে অন্ধকার নেমে এলো।এমন কি হলো যে ইনায়ার চোখে পানি চলে এলো?আরিশ আর নিতে পারছে না। অনেক অপেক্ষা করেছে তার ভালোবাসার মানুষটির জন্য।না দেখে ভালোবেসে এসেছে।আর কত অপেক্ষা করতে হবে।আর কত এই দহনে পুড়তে হবে।তার মনে অনেক প্রশ্ন কিন্তু উত্তর নেই। উত্তর একজনের কাছে।সে হলো ইনায়া।

এসব চিন্তা করে আরিশ আবার ইনায়ার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল।এই মেয়েটি আবার হাসছে।এত তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিল।আরিশ মনে মনে বলল,,,

--"কি আছে তোমার অতীততে ইনু?যা তোমাকে কষ্ট দেয়।এত কিসের কষ্ট তুমি সহ্য করে এত শক্ত হয়ে পড়লে।জানি না, কিছু জানি না। কিন্তু হ্যাঁ এতটুকু জানি, তোমাকে আপন করে নিয়ে এত ভালোবাসব যে তুমি তোমার কোন অতীত ছিল কিনা সেই কথা ভুলে যাবে। I swear of God."

ইনায়া সেখান থেকে উঠে এসলো। বিষয়টি সবার চোখ এড়োলেও আরিশের চোখ এড়ায় নি।আরিশ চলে এলো ইনায়ার পিছনে।দেখল ইনায়া ছাদে যাচ্ছে।আরিশ ও তার পিছনে যেতে লাগলো। ইনায়া রেশমা খানদের ৫ তলা ছাদে চলে গেল।তার পিছনে আরিশ এসেছে এটা তার অজানা।

ছাদের একপাশে গিয়ে দাঁড়ালো ইনায়া। বিকেলের আকাশে সৌন্দর্য আলাদা।ছাদে এসে যেন তার মন ভালো হয়ে গেল। হঠাৎ মনে হলো কেউ তার পিছনে।ইনায়া পিছনে ফিরতেই আরিশ কে দেখতে পায়‌।আরিশ এইবার ইনায়ার চোখে কোনো কষ্ট দেখতে পায় না। তার চোখ দেখে মনে হচ্ছে সব স্বাভাবিক। আরিশ এসে ইনায়ার পাশে দাঁড়াল। কেউই কিছু বলল না।পিনপিন নীরবতা।

আরিশ নীরবতা ভেঙে বলল,,,

--"Everything is okay ইনু?"

ব্যাস এটুকুই যেন যথেষ্ট ছিল ইনায়ার শক্ত হয়ে নিজেকে সামলে রাখা কে নরম করে তোলা। ইনায়া চোখের কোণে পানি চলে আসলো। ইনায়ার কোনো এক সময়ে এমন মানুষের খুব প্রয়োজন ছিল যে এসে জিজ্ঞেস করবে সব ঠিক আছে?আর আজ আরিশ জিজ্ঞেস করছে। বিষয়টি এমন নয় যে এখন এই সহানুভূতির দরকার নেই। কিন্তু হ্যাঁ এখন ইনায়া নিজেকে শক্ত করে নিয়েছে। কিন্তু আজ,,আজ তার কী হলো যে সে আরিশের কথায় গলে গেল।

বিজ্ঞাপন

ইনায়ার কাছ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে আরিশ আবার বলল,,

--"ইনু,,শুনছো?"

এত মধুর ডাক কেউ না শুনে থাকতে পারে।ইনায়া আরিশের দিকে তাকালো তারপর মুচকি হেসে বলল,,,

--"Yes. Everything is perfect."

আরিশের কাছে ইনায়ার হাসি মিথ্যে লাগলো। কিন্তু সে বেশি ঘাটালো না।যদি তার ইনু আরো বেশি কষ্ট পায় তাই।

আরিশ কথা ঘুরিয়ে হঠাৎ বলল,,,

--"ইনু। একটা আবদার করব রাখবে?"

ইনায়া অবাক হলো।আরিশ এমন কি আবদার করবে তার কাছে। তারপর বলল,,,

--"চেষ্টা করব।"

আরিশ নির্দ্বিধায় বলল,,,

--"আমি যদি একটা উপহার দেই সেটা গ্ৰহন করবে? এবং কাল ঘুরতে যাওয়ার সময় পরবে?"

ইনায়া অবাক হলো।এই লোক কত কি উপহার করতে পারে। ইনায়ার এত খরচ পছন্দ না।সে চায় না কেউ তার জন্য টাকা অপচয় করুক। এটা তার সম্মানে লাগে। কিন্তু আরিশ যেভাবে বলছে তাকে না করা যায় না।তাই ইনায়া না করতে পারল না।

ইনায়া বলল,,

--"আচ্ছা ঠিক আছে।"

এইটা যেন আরিশের কাছে চাঁদ ছোঁয়া সমান।তাই সে অপেক্ষা না করে ইনায়া কে কিছু না বলে এক দৌড়ে নিচে যেতে লাগলো।

ইনায়া হা হয়ে গেল।কি হলো কি করে হলো সব তার মাথা থেকে দশ মিটার দূর দিয়ে গেল।

সে মনে মনে বলল ,,,,,

--"আমার সন্দেহ ঠিক।এই লোকটি নিশ্চিত উগান্ডা পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে এসেছে।"

আরিশ ২ মিনিটের ভিতর আবার দৌড়ে চলে এলো।তার হাতে একটি ব্যাগ।আরিশ ইনায়ার কাছে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে তার দিকে ব্যাগ বাড়িয়ে দিল।আরিশ এখনো হাঁপাচ্ছে।

ইনায়া ব্যাগ না নিয়ে আরিশ কে রাগি স্বরে বলতে লাগলো,,,

--"আপনি কি পাগল? এমন কেউ করে? যদি সিঁড়ি থেকে পরে যেতেন। আপনার কিছু হয়ে যেত?হাত পায়ে তো অনেক বড় হয়েছেন। বুদ্ধি কি লন্ডনে রেখে এসেছে? এখন হাঁপাচ্ছেন কেন?আজিব।"

আরিশ এক ধেনে ইনায়ার কথা শুনছে। তার ইনায়ার করা ছোট ছোট শাসন খুব ভালো লাগে। মনে হয় সে শুধু ইনায়ার। কিন্তু মনে হওয়ার কি আছে?সে তো ইনায়ারই।

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস