অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ১৯

🟢

আরিশের কাশি উঠে পড়ল।সে কাশতে কাশতে ইনায়ার দিকে তাকালো।দেখল ইনায়া তার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। তারপর কাশি থামিয়ে বললো,,,,

--"আসলে খুব বেশি পিপাসা লেগেছিল তাই।এমন করে তাকাও কেন ইনু?"

ইনায়া হাঁফ ছেড়ে বলল,,,

--"আপনি ভিষন অদ্ভুত।"

আরিশ হাসল। তারপর বলল,,,

--"আচ্ছা থাক ইনু।আমি চললাম।আশা করছি কালকে আমার দেওয়া উপহার পরবে।"

ইনায়া ভাব নিয়ে বলল,,,

--"দেখা যাবে।"

আরিশ দড়জার দিকে যেতে যেতে বলল,,,

--"দেখার জন্যই অপেক্ষা করছি মিস.ঘোমটা ওয়ালি।"

ইনায়া আরিশের দিকে তাকালো।আরেক নিক নেইম। অবশ্য আরিশের দেওয়া নিক নেইম গুলো তার বেশ ভালোই লাগে।

আরিশ চলে গেল।ইনায়া পিছন থেকে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর আরিশের দেওয়া উপহার গুলো হাতে নিল। সুন্দর ভাবে গুছিয়ে রাখল।যাতে কাল সকালেই হাতের কাছে পায়।

তারপর ইনায়া ওয়ার্ড ড্রপের উপর থেকে জান্নাত কে পাত্তে" একটি জনপ্রিয় উর্দু উপন্যাস, যা নিমরা আহমেদ লিখেছেন।সেই বইটি নিল। ইনায়া অনেক গুলো পৃষ্ঠা পড়ল। যেই যেই লাইন তার খুব ভালো লাগলো সেই লাইনগুলো হাইলাইটেড দিয়ে মার্ক করল। তারপর বইটি বন্ধ করে ভাবতে লাগলো সে যত বেশি এই বইয়ের ভিতর ঢুকছে ওর তত বেশি পর্দা করার প্রতি আকর্ষিত হচ্ছে।ভাবা যায় এক সময় ইনায়া কতো চুল ছেড়ে রেখে বাইরে ঘুরতো‌। বিষয়টি এমন নয় যে সে ছেলেদের সাথে ঘুরতে যেত। কিন্তু হিজাব পরতো না।কত শাড়ি পরে স্কুলের অনুষ্ঠানে যেত।আর এখন হয়তো পর্দা করে না। কিন্তু আর যাই হোক নিজেকে উজাড় করে দিয়ে মানুষকে দেখায় না। যথেষ্ট পরিমাণে নিজেকে কভার করে।ইনায়ার খুব ইচ্ছে পর্দা করার। এবং ইনায়া নিয়ত করেছে সে খুব তারাতাড়ি তার ইচ্ছা পূরণ করবে।

__________

অন্যদিকে আরিশ তার ফ্ল্যাটে এসে ভাবতে লাগলো কি এমন ঘটেছে ইনায়ার অতীতে।আরিশের খুব শিগগিরই সব জানতে হবে।

হঠাৎ আরিশের ফোনে একটা কল আসল।

আরিশ কল‌ ধরে বলল

--"হ্যালো সাদমান।বলো। ওই দিকের খবর কি?সব ঠিক আছে?কোনো সমস্যা হয়নি তো?"

সাদমান বলল,,,

--"Bro nothing is good. I think something will get wrong. Please come as soon as possible. You Know Our Team and our Mission is Impossible without you."(ভাই, কিছুই ভালো না। আমার মনে হয় কিছু একটা ভুল হবে। দয়া করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে আসুন। আপনি জানেন আমাদের দল এবং আমাদের লক্ষ্য আপনাকে ছাড়া অসম্ভব।")

আরিশ তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,,,

--"তুমি যান আমি এখানে কেন এসেছি। You know everything, Every single part. যাই হোক আমার যদি লন্ডন ফিরত যেতে হয় তাহলে যে তোমার বাংলাদেশ আসতে হবে।"

সাদমান বলল,,

--"R you lost your mind dude? Listen...This mission is too risky. আমি তোমাকে কি করে এত বড় বিপদে একা ফেলে দেই?"

আরিশ বলল,,,

--"আশা করি তুমি তোমার বসের কথা শুনবে।আর আমার নিজের জীবনের কোনো চিন্তা নেই।আমি লন্ডনে চলে গেলে যদি কেউ আমার অনুপস্থিতিতে,,,

আরিশ থামল তারপর আবার বলতে লাগলো,,,

বিজ্ঞাপন

--"তুমি যখন বুঝবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে,

তখন বাংলাদেশ চলে আসবে। I Hope you understand?"

সাদমন বলল,,,

"Yes ."

তারপর ফোন কেটে দিল।

আরিশ মনে মনে কিছু একটা ভাবছে।

(সাদমান কে,আরিশের সিক্রেট মিশন কি,সব আস্তে আস্তে জানতে পারবেন।)

_______________

রাত এভাবেই চলে গেল।আজ ইনায়া মাঝরাতে উঠল না। পড়বে না তাই। ইনায়ার ঘুম ভাঙল সকাল ৬ টায়। তারপর তারাতাড়ি ওঠে ফ্রেশ হয়ে নিল। তারপর হালকা কিছু নাস্তা করে গোসল করে নিল।কারণ আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হবে।তাই গোসল করে যাওয়া ভালো।

ইনায়া‌ গোসল করে আরিশের দেওয়া কাপড় পড়ল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল।

তারপর মনে মনে বলল,,

--"মি. উগান্ডিয়ানের পছন্দের প্রশংসা করতে হবে।কত সুন্দর একটা ড্রেস এনেছে।আর রং টাও‌ খুব সুন্দর।"

তারপর ইনায়া আরিশের জন্য তার দেওয়া নিক নেইম শুনে নিজেই হেসে উঠলো। মি. উগান্ডিয়ান।

শারমিন ইনায়ার পিছন থেকে বলল,,,

--"আরিশের পছন্দ তো বেশ ভালো। খুব মানিয়েছে তোকে।মা‌ শা আল্লাহ্।"

ইনায়া মুচকি হাসলো। আসলে কাল রাতেই ইনায়া তার মাকে আরিশের দেওয়া উপহার দেখিয়ে দিয়েছিল।

ইনায়া হাসি নিজের চুল দেখে উড়ে গেল। মনে মনে বলল,,,

--"ঢেউ খেলানো লম্বা চুল মনে হয় শুধু মাত্র গল্পের নায়কা দের হয়।"

আর ইনায়া কাঁধ বরাবর ছোট চুল।তাও এত ঘন না। কোনো এক সময় তার চুল খুব ঘন ছিল। কিন্তু দিন যত যায় তার চুল তার থেকে বেশি পড়ে।তাই এই দশা।"

ইনায়া আর সাত পাঁচ না ভেবে তারাতাড়ি মাথা বেঁধে নিল। চুল ছোট এবং কম হওয়ার কারণে খুব তাড়াতাড়ি ভেজা চুল শুকিয়ে গেল। মুখে ক্রিম লাগালো। ঠোঁটে নুড কালার লিপ জেল লাগালো।

মানুষ বলে শ্যামলা মেয়েদের কে নাকি এইসব রঙে মানায় না। কিন্তু ইনায়া কে বেশ মানায়।

তারপর সে সুন্দর ভাবে ওড়না পিন করল। এবং হিজাব পরে নিল। তারপর জুতা পরতে গিয়ে পরলো বিপদে।

এই সব জুতা যেমন দেখতে সুন্দর তেমনি পরতে ঝামেলা।ইনায়া জুতার ফিতে বাধতে পারে না। তার মাও গোসলে গেছে।

ইনায়া জুতা পরে বসে রইল। এখনো ফিতা বাঁধা বাকি।

_______________

অন্যদিকে আরিশ সকাল সকাল তৈরি হয়ে নিল।বাদামি রঙের old money ব্যান্ডের শার্ট এবং কালো কটন পেন্ট।হাতে ঘরি। চুল সেটিং স্প্রে দিয়ে সুন্দরভাবে সেট করা। তারপর পারফিউম হাতে নিয়ে শরীরে দিতে যাবে এমন সময় কিছু একটা মনে পড়ে যায় তাই পারফিউম না দিয়ে আতরের কৌটা পকেটে ভরে নেয়।আর একটা নামাজের টুপি।

সে ইনায়ার কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেও।সে আর অপেক্ষা করতে পারছে না ইনায়া কে নিজের পছন্দ করে কিনে দেওয়া কাপড়ে দেখতে।

আরিশ ইনায়া দের ঘরের সামনা গিয়ে দেখে দড়জা খোলা।এক মেয়ে মাথায় বাদামি রঙের হিজাব পরিহিত।সে মাথা নিচু করে জুতার ফিতে বাধার চেষ্টা করছে।

আরিশ মুচকি হাসল তার বুঝতে দেরি হল না এইটা তার প্রিয়সী। তারপর আরিশ তার দিকে চলে গেল।

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস