তারা বাড়িতে গিয়ে দেখল সবাই এসে পরেছে।বড়রা কাজে লেগে পড়েছে।আর অন্যরা বসে গল্প করছে।ইনায়া ইরিন কে নিয়ে সবার মাঝে গেল।আরিশ রাফির কাছে গিয়ে বসল।আরিশ লক্ষ্য করল ইমন খান রাগি দৃষ্টিতে ইনায়ার দিকে তাকিয়ে আছে।আরিশেল চোখ মুখ লাল হয়ে গেল।তার ইচ্ছে করছে চোখ তুলে ফেলতে।
আরিশ নিজেকে সামলে মনে মনে বলল,,,
--"আপনার সাহস আমাকে অবাক না করে পারছে না ইমন খান।আমি তো এসেছি শুধু মাত্র আপনার সত্য সামনে আনব বলেই। নয়তো কবেই আপনাকে আমি আপনার কু-কাজের শাস্তি দিতাম।অবশ্য আমার সপ্তদর্শীর জন্য আসতাম কিন্তু তখন আসতাম যখন সে অষ্টাদশী হতো।তখন এসে তাকে বিয়ে করে নিতাম।আর এখন এসে শুধু তাকে দেখেই যাচ্ছি। ইশ্ আর যে এই জ্বালা সহ্য হয়।মনে শুধু ভয় কখন জানি হারিয়ে ফেলি।এই ভয় নিয়ে কি থাকা যায়?"
আরিশ নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করল তারপর ইনায়া মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তর পেয় গেল। তারপর আবার নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজেই বের করল সবসময়ের মতোন আর নিজেকে উত্তর দিল,,,
--"এই মায়াবী চোখ, হাঁসি, মুখশ্রী দেখলে সব জ্বালা,যন্ত্রণা, কষ্ট সব কিছু সহ্য করা যায়। হ্যাঁ হ্যাঁ সব পারব আমি শুধু মাত্র আমার ঘোমটা ওয়ালি কে দেখতে পেলে। আমার নয়ন, আত্মা সবে শান্তি মেলে। মনে হয় আল্লাহ আমার সকল ক্লান্তি দূর করার জন্য, আমার অশান্তি দূর করার জন্য, আমার কষ্ট, যন্ত্রণা দূর করার জন্যই তোমাকে বানিয়েছে। হ্যাঁ হ্যাঁ শুধু মাত্র আমার জন্য তোমাকে বানিয়েছে আর তোমার জন্য আমাকে।এই আরিশ ইহতেশাম খান শুধু মাত্র ইনায়া ইফরাহ খানের। শুধুমাত্র ঘোমটা ওয়ালির।"
________
সবাই মিলে খুব আনন্দ করছে।গ্ৰামের পরিবেশ যেমন আরকি।আরিশ,ইরিন,তার মা বাবা কে নিয়ে আসে পাশে ঘুরছে।ইমরান খানের চোখ পানি চলে এসেছে তার জন্মস্থান দেখে।আরিশের খুব ভালো লাগছে। তার বাবার চোখের পানি দেখে? না বরং তার বাবার চোখে খুশির পানি দেখি। এইটাই তো সে চাইতো।তারা চারপাশ ঘুরলো।ইরিন আর আরিশের খুব ভালো লাগলো গ্ৰামের পরিবেশ। তারা যেই বাড়িতে এসেছে সেই বাড়িটি আগে মাটির বাড়ি ছিল কিন্তু বছর খানিক আগেই মাটির বাড়ি ভেঙে ইটের বাড়ি করা হয়েছে। কিন্তু এখনো একটা মাটির ঘর আছে । আশেপাশে ধান ক্ষেত, তাদের নিজস্ব পুকুর, বিভিন্ন গাছ। ডাব গাছ ,কলা গাছ, জাম গাছ ,জাম্বুরা গাছ, লিচু গাছ। পরিবেশ একদম দৃষ্টি আকর্ষণ-কৃত। থমথমে পরিবেশ। দূরে দূরে সবার বাড়ি।এক শীতল হাওয়া যাতে আছে গ্ৰামের মিষ্টি ঘ্রাণ, গোবরের গন্ধ। আশেপাশে পোকার,পাখির ডাক।বাড়ির সামনেই এক বকুল ফুলের গাছ। সেই তীব্র ঘ্রাণ চারপাশ মাতাল করে রেখেছে। গাছের কাছে যেতেই উপর থেকে ফুল পরছে। মনে হচ্ছে গাছটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ক্ষমতা দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নিচ্ছে।
_________
তারা আবার বাড়িতে চলে আসল।ইমন খান এবং রেশমা খান তাদের সাথেই ছিল। তাদের ভয় ছিল যদি জমি দেখার পরে লোভ করে জমি নিতে চায়। কিন্তু এমন কিছু না হতে দেখে একটু শান্তি পায়।
আরিশ এসে সবার মাঝে দাঁড়ালো কিন্তু তার চোখ দিয়ে ইনায়া কে খুঁজতে লাগলো। যতক্ষণ না সে তার প্রিয়সী কে দেখবে ততক্ষণ তার শান্তি হবে না।
কিন্তু ইনায়ার দিকে তাকিয়ে তার হৃদস্পন্দন কিছু সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল ।দেখল ইনায়ার চোখে পানি।আরিশ আর কিছু না ভেবে ইনায়া কাছে দৌড়ে গেল তার ব্যস্ত এবং চিন্তিত কন্ঠে বলল,,,
--"ইনু,,ও ইনু,,কি হয়েছে গো তোমার? কাঁদছো কেন ইনু?বল আমায়।Why are your eyes filled with tears? তোমার আরিশ কে বল ইনু।বলো কে তোমার চোখে জল এনেছে, আমি কাউকে জেন্ত রাখব না। শুধু একবার বলো।"
সবাই আরিশের এত যত্ন,এত চিন্তিত হওয়া দেখে অবাক হয়ে গেল। সবচেয়ে বেশি অবাক হলো ইনায়া।আবার সেই আদর মিশ্রিত ডাক।ইনু।এই এক ডাক যেন ইনায়াকে সব কষ্ট ভুলিয়ে দিতে পারবে। আর আরিশের নিজ থেকে দেওয়া অধিকার।বার বার বলা তার আরিশ।এত যত্ন এত চিন্তা,এত ভালো"""ইনায়া থেমে গেল। এইটা কে কি ভালোবাসা বলে?না না ইনায়া তুই কি যা না তাই ভাবছিস।
তারপর নিজেকে স্বাভাবিক করে আরিশে দিকে তাকিয়ে বলল,,,
--"পেঁয়াজ।"
আরিশ আশ্চর্য কন্ঠে শুধাল ,,,
--"What!?"
ইনায়া আগের মতই স্বাভাবিক কন্ঠে বলল,,,
--"onion. পেঁয়াজ করছে আমার এই অবস্থা। কিন্তু পেঁয়াজ অলরেডি জেন্ত না তাই তাকে জেন্ত না রাখার প্রশ্নই আসছে না।আর হ্যাঁ তাই আপনি পেঁয়াজ কুঁচি কুঁচি করে কেটে দিতে পারেন কিন্তু এখন আর এইটারও প্রয়োজন নেই। কারণ পেঁয়াজ কেটে আমার এই অবস্থা। আরেকটু আগে আসলে এই কাজটি আপনাকেই দিতাম মি. উগান্ডিয়ান।"
আরিশ যেন শান্ত হলো। তার কলিজা ঠান্ডা হলো। মনে হলো বুকের উপর থেকে সব বোঝা নেমে গেছে।ইনায়ার চোখে পানি দেখে তার এই অবস্থা হয়েছিল।আরিশ নিজেকে সামলে তারপর বলল,,,
--"পেঁয়াজ কাটতে গেছ কেন তুমি? যেহেতু পেঁয়াজ কাটলে চোখে পানি আসে তাহলে কাটার কোন প্রয়োজন আছে? যদি চোখে পানি আসার কারণে তুমি ভালো করে দেখতে না পেরে পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলতে? আমাকে বললে হতো আমি কেটে দিতাম।"
আরিশের এমন স্পষ্ট কথায় ইনায়া সহ উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে গেল। আরিশের বোন ইরিন ভাবছে তার যেই ভাইয়ের কথায় পুলিশ চলে সে নাকি তার ভালোবাসার মানুষটির জন্য পেঁয়াজ কাটবে। ইরিনের হাসি পেল।
শারমিন খান মনে মনে বলল,,,
--"এই ছেলে টি আসার পর থেকে ইনায়ার জন্য কিছু না কিছু না করেই যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ইনায়া তার সব। বিষয়টি আগে এড়িয়ে গেলেও আজ পারছি না। আর ওর ব্যবহার অনেক টাই ইনায়ার বাবার মতোন।ইনায়া সবসময় বলতো যে ছেলে তার বাবার স্বভাবের হবে তাকেই সে বিয়ে করবে।উনি সবসময় বলতো উনার মেয়ের জন্য নাকি দেশের বাইরে থেকে রাজপুত্র আসবে। তাহলে কি উনি আরিশের কথাই বলত।"
আর ইনায়া আরিশের চোখের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলল,,
--"একটু তো বুঝে শুনে কথা বলুন। এখানে বাড়ির সবাই এবং বড়রা উপস্থিত আছে। সবাই কি মনে করবে।"
আরিশ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,,,
--" I only Care About You.I Don't Care About Others. Only You."