অচেনা ছায়া তুমি

পর্ব - ২২

🟢

দেড় ঘন্টা পর তারা এসে পৌঁছায় ঘাটে। ইনায়া আর ইরিন আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে আসে।আরিশ ওরা কাছে আসলে আগে নেমে পরে তারপর তার হাত বাড়িয়ে দেয়। এইবার ও আগে ইরিন নেমে আসে তারপর ইনায়াকে নামতে সাহায্য করে।

নদীর ঘাট থেকে বাড়ি বেশি দূর না। কয়েক দিক দিয়েই যাওয়া যায়।গ্ৰাম এলাকায় এটি খুবই স্বাভাবিক।এক বাড়িতে যেতে গেলেও কয়েক রাস্তা দিয়ে যাওয়া যায়।তারা স্কুলের দিক দিয়ে যাবে। কারণ এই দিক দিয়ে ইনায়া ভালো করে চেনে। এবং জঙ্গল না।বাকি দিক দিয়ে জঙ্গল।

আরিশ পিছনে হাঁটছে।ইনায়া এবং ইরিন কে সামনে হাঁটতে দিল। স্কুলের কাছে গিয়ে ইনায়া হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল।ইনায়ার হঠাৎ দাঁড়ানো তে আরিশ এবং ইরিনও দাঁড়িয়ে পড়ল।

ইনায়ার দৃষ্টি স্কুলের পাশের জঙ্গলে।আরিশ ইনায়ার দৃষ্টি লক্ষ্য করে যখন দেখল ইনায়া জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে আছে তখন সে বুঝতে পারল না কেন ইনায়া সেই দিকে তাকিয়ে আছে।যখন আরিশ ভালো করে দৃষ্টিপাত করে তখন দেখতে পায় সেখানে অনেক গুলো কবর। আরিশ বুঝতে পারল এইটা পারিবারিক কবরস্থান।আর এইটাও তার বুঝতে দেরি হল না যে এখানে ইনায়ার বাবার কবর আছে।

ইনায়ার খুব ইচ্ছে করছে কবরটি কাছ থেকে দেখতে। শুনেছে মেয়েদের কবরের কাছে যেতে নেই। কিন্তু কবর টা দেখা যাচ্ছে যায় ভালোভাবে অন্তত এতটুকু কাছে যেতে পারে।এইসব ভেবে ইনায়া এক পা বাড়ালো তারপর তার মনে পড়ল এখন সে যেতে পারবে না। সে অপবিত্র। আজকে মাত্র দু'দিন।ইনায়া থেমে গেল।

ইনায়ার থামা দেখে আরিশ তার দিকে তাকালো।আরিশ হয়তো বিষয় টা বুঝতে পারল।তাই সে কিছুটা ঝুঁকে ইনায়া কে নরম সুরে বলল,,,

--"ইনু মন খারাপ কর না।আমি কথা দিচ্ছি কিছু দিন পর তোমায় আবার নিয়ে আসব।আর হ্যাঁ আমি নামাজ শেষে কবর জিয়ারত করে যাব।আর তোমার বাবা নিতান্তই ভালো এবং সৎ ব্যক্তি ছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ উনার গুনাহ মাফ করে ওনাকে জান্নাতবাসী করেছে। এখন তুমি যদি কষ্ট পাও তাহলে তোমার বাবার রুহুও কষ্ট পাবে। তুমি কি চাও তোমার বাবা কষ্ট পাক? অবশ্যই চাও না। তাই মন খারাপ না করে উনার জন্য দোয়া কর।"

আরিশের কথা গুলো শুনে ইনায়ার মন কিছুটা শান্ত হলো।সে মনে মনে বলল,,,

--"এই লোকটি কি এসেছে আমার কষ্ট দূর করার জন্য?আসার পর থেকেই আমাকে কষ্ট থেকে দূরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।যখন মন খারাপ হয় তখনই পাশে এসে দাঁড়িয়ে মন ভাল করে দেয়।"

ইনায়া কর বেশি ভাবল না সে নিজেকে সামলিয়ে তারপর আরিশের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,,,

বিজ্ঞাপন

--"চলুন সবাই এতক্ষণে হয়তো এসে গেছে। আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

এই বলে ইনায়া ইরিন কে নিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলো।

আরিশ এখনো সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।সে ভাবছে,,

--"এই মেয়েটি এত শক্ত। খুব সহজেই নিজেকে সামলে নিল।"

তারপর আরিশ তার চিন্তা ভাবনা দূর করে তাদের পিছনে হাঁটতে লাগলো। ইনায়া যত বাড়ির দিকে এগোচ্ছে তত আশেপাশের মানুষ তার সাথে কথা বলছে।সবাই তার বাবাকে চিনে। তাদের মুখে এখনও তার বাবার গুণগান।এতেই যেন ইনায়ার গর্ব হচ্ছে। মানুষ যদি খারাপ হয় তাহলে তার মরার খবর শুনতে না শুনতেই অনেকে বলে অমুক তেমন ভালো মানুষ ছিল না। কিন্তু মানুষ যদি ভালো থাকে তাহলে তার মরার অনেক বছর পরেও তার গুণগান করে সবাই। এখন যেমনটি ইনায়ার বাবার গুণগান করছে।তার বাবা মারা গেছে আজ প্রায় তিন বছর হতে চলল কিন্তু এখনো সবাই তার বাবাকে মনে রেখেছে। ইনায়ান মন যেন আরো ভাল হয়ে গেল। মুখে ফুটে উঠল হাসি।

এই হাসি দেখে আরিশ মনে মনে বলল,,,

--"ইনু… তুমি আমার কালো অন্ধকার জগতের একমাত্র সূর্য,

আমার হৃদয়ের মরুভূমির জন্য জীবনদায়ী বৃষ্টি,

আমার মেঘালয় রাজ্যের আকাশে ঝলমল করা রংধনু।

তোমার মুখের এই হাসি… আমি শপথ করে বলছি—

কখনোই, কোনোদিনও, মুছে যেতে দেব না। যতদিন বেঁচে থাকব তোমাকে কষ্ট থেকে দূরে রাখব।আর মরার আগে ইন শা আল্লাহ্ আমার অনুপস্থিতিতে যেন তোমাকে কষ্ট না পেতে হয় সেই ব্যবস্থা করে তারপরেই মরবো।এইটা #আরিশ_ইহতেশাম_খান এর Promise."

বিজ্ঞাপন
অচেনা ছায়া তুমি গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও রোমান্টিক উপন্যাস