ইনায়া আর আরিশ বাড়ির দিকে যেতে লাগল।ইনায়া স্কুলের কাছের এক কল থেকে চোখ মুখ ধুয়ে নিল। কান্না করার কারণে চোখ লাল হয়ে গেছে।আরিশ সম্পূর্ণ সময় তার পাশে থাকলো।এক নিরব আশ্বাস দিচ্ছিল যে সে আছে। দুজন মিলে বাড়িতে চলে গেল।
_______
বাড়ির উঠানে হইচই।সবাই রান্না করছে। রান্নার সুঘ্রাণ বের হয়েছে।ইনায়া বাড়িতে ঢুকে চুপচাপ একটি ঘরে চলে গেল।যেখান ইরিন শুয়ে ছিল।ইনায়া গিয়ে ইরিনের পাশে শুয়ে পড়লো তার মাথা ধরে আছে। এমনিতেই মাথা ব্যাথার সমস্যা। তারপর এতক্ষণ কান্না করা। আবার এত কষ্টের স্মৃতি মনে করা। সব মিলিয়েই ইনায়ার উপর অনেক ধকল গিয়েছে।ইনায়া চোখ বন্ধ করতেই তার চোখে ঘুম চলে আসলো।
অন্যদিকে আরিশ তার পকেটে থেকে রেড ঝান্ডু বাম বের করল।আসলে যেদিন আরিশ প্রথমবার ইনায়ার সাথে তার পড়ার টেবিলে বসে গল্প করেছিল সেদিন সে সব কিছু লক্ষ করেছিল।
আরিশের IQ 110. এর জন্য তো সে Cambridge University যে অনেক মেডেল পেয়েছিল।সেদিন যখন আরিশ ইনায়ার সাথে তার পড়ার টেবিলে বসে গল্প করছিল আরিশ ইনায়ার টেবিলে একবার ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিয়েছিল।আর এই একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া তার জন্য যথেষ্ট।সে ইনায়ার টেবিলের প্রত্যেকটি বই,কলম,কলমের রং, স্টিকি নোট এমনকি রেড ঝান্ডু বাম দেখেছিল।আর ইনায়া ও বলে ছিল মাথা ব্যথার জন্য ডাক্তার চশমা ব্যবহার করে।আরিশ বুঝতে পেরেছিল যে তার ইনুর যখন খুব বেশি মাথা ব্যথা করে তখন সে ঝান্ডু বাম ব্যবহার করে।তাই এর পর থেকে আরিশ ঝান্ডু বাম নিজের পকেটে রাখা শুরু করেছিল।ভাবতো যদি কাজে লেগে যায়। ঠিক যেমন এখন কাজে লাগবে তার। শুধু এইটুকুই না ইনায়ার মা যখন বলেছিল ইনায়ার হিল পরলে পা ছিলে যায় তা শুনার পর আরিশ তার পকেটে ব্যান্ডেজ নিয়ে ঘুরে।এমনকি সেদিন ইনায়া কে যখন সে বাইক দিয়ে কলেজে পৌছে দিয়েছিল তখনও তার পকেটে ব্যান্ডেজ ছিল।
আরিশ ইনায়া যেই রুমে ছিল সেই রুমের দরজার সামনেই গিয়ে দাঁড়ালো। কিছু একটা ভেবে রুমের ভেতর গেল না।সে ভাবল,,,
--"হয়তো ইনায়া এখন কম্ফোর্টেবল ভাবে শুয়ে আছে। হয়তো তার ঘোমটা ওয়ালির মাথায় এখন ঘোমটা নেই। যদি এই সময়ে সে ভিতরে যায় তাহলে তার ইনু অসস্থি বোধ করতে পারে।"
এইসব ভেবে আরিশ ভিতরে না গিয়ে বাইরে থেকে তার বোন কে হালকা স্বরে ডাকল।ইরিন ভাইয়ের ডাকে রুম থেকে বের হলেই আরিশ জিজ্ঞেস করল,,,
--"ইনু কি করছে রে? শুয়ে রয়েছে?"
ইরিন মুচকি হেসে বলল,,,
--"হ্যাঁ হ্যাঁ বাবা তোমার ইনু ঠিক আছে।এখন ঘুমাচ্ছে।"
আরিশ নিশ্চিন্ত হলো। তারপর ইরিনের দিকে ঝান্ডু বাম এগিয়ে দিয়ে আদেশের স্বরে বলল,,,
--"ওর মাথায় সুন্দর ভাবে লাগিয়ে মালিশ করে দিস আশা করি বুঝতে পেরেছিস।"
ইরিন ভদ্র মেয়ের মতোন শুধু মাথা নাড়ল এবং বলল,,,
--"হ্যাঁ হ্যাঁ আমি আমার ভাবির খেয়াল খুব ভালো করেই রাখব তোমার ভাবতে হবে না।"
এই বলে মুখ ভেংচি কেটে রুমে চলে গেল।আরিশ তার বোনের কর্ম কান্ড দেখে হাসলো।
আরিশের হাসির অবসান ঘটলো তার ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠা এক মেসেজ দেখে। সাদমান মেসেজ দিয়েছে।
মেসেজটি ছিল
--"Dude,,, We have to start the mission now. The game has started. And as you said, I am coming to Bangladesh. My flight is today."
(আমাদেরকে এখন মিশন শুরু করতে হবে। যারা শুরু হয়ে গেছে। আর তুমি যে রকম বলেছিলে আমি তোমার কথা মতো বাংলাদেশে আসছি। আজকে আমার ফ্লাইট।)
আরিশ রিপ্লাই দিল,,
--"Come very carefully. So that no one can understand. I need you very much in my absence here. You will handle this. I will handle everything in London. After coming to Bangladesh, come straight to Sreepur."
(খুব সাবধানে আস।যাতে কেউ বুঝতে না পারে।আমার এখানে অনুপস্থিতিতে তোমার খুব প্রয়োজন।তুমি এখানটা সামলাবে। লন্ডনে আমি সব সামলিয়ে নিব। বাংলাদেশ এসে সোজা শ্রীপুর চলে আস।)
আরিশ ফোন বন্ধ করে একটা চোয়ার নিয়ে এক পাশে বসল। ভাবতে থাকলো কিভাবে কি সামলাবে।
(চলুন আপনাদের কে আরিশের সিক্রেট মিশন সম্পর্কে বিস্তারিত ঘটনা বলি।)
_______
আরিশ লন্ডনে খান ইন্ডাস্ট্রিরর সিইও কিন্তু তা ছাড়াও তার আরেকটি পেশা আছে।সে হলো একজন সিক্রেট এজেন্ট। তাকে লন্ডনে সবাই ব্লাক ডায়মন্ড নামে জানে।সে যখন ছোট ছিল তখন থেকেই সে খুব বুদ্ধিমান ছিল। স্কুলে একবার মেমোরি গেম নামক একটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং আরিশ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল।তার বয়স ছিল তখন ১৬।সেই খেলায় সময় অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদেরকে অনেকগুলো জিনিস দেখানো হয়। সময় শেষ হয়ে গেলে জিনিসগুলো ঢাকা হয়। তারপর অংশগ্রহণকারীদেরকে সেই জিনিস গুলোর নাম লেখার জন্য সময় দেওয়া হয়। আরিশ সেই খেলায় একদম ভিন্ন ভাবে জয়ি হয়েছিল। ভিন্ন ভাবে কারণ সে শুধু জিনিস গুলোর নাম লেখেছে এমন না বরং জিনিসগুলো কোন ব্র্যান্ডের সেটি লিখে দিয়েছিল তাও আবার সময় শেষ হওয়ার আগে। আর এই ভাবে সে বিগত বছরের রেকর্ড ভেঙে ফেলে।
তারপর থেকে শিক্ষকদের নজর পরে আরিশের উপর।তার প্রতি শিক্ষকদের ব্যবহার ছিল ভিন্ন, যত্ন ময়, বিশেষ।
এরকম ভাবে আরো অনেক কঠিন প্রতিযোগিতায় আরিশ রেকর্ড ভেঙে ফেলে তাই তার IQ Level Certificate যে তার IQ_110 দেওয়া হয়।
আরিশের বয়স যখন ছিল ২৪ তখন সে সবে মাত্র অনার্স শেষ করেছিল।সে এক নির্জন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তারপর হঠাৎ গুলাগুলির শব্দ শুনে থেমে যায় এবং ভয় না পেয়ে সাহসীকতার সাথে এগিয়ে যায় দেখার জন্য। তারপর দেখতে একজন লোকের হাতে গুলি লেগেছে এবং সে ঢ্যালান দিয়ে বসে আছে। এবং তার সামনে দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে তার দিকে গুলি তাক করে।আরিশ আর বেশি কিছু না ভেবে তার পাশে কালো রঙের কাপড় ছিল যা দিয়ে একটি দোকানের সম্ভবত ফল বা অন্য কিছু ডাকা হয়।আরিশ সেই কালো কাপড় নিজেই মুখে বেঁধে নিল। তারপর আস্তে আস্তে ওই দু'জন লোকের পিছনে যেতে লাগলো।পাশের থেকে রড নিল। এবং বিনা শব্দে সাহসিকতার সাথে লোক দুটির মাথায় বাড়ি দিল।আর লোক দুটি সাথে সাথে অচেতন হয়ে পড়ে গেল।
আরিশ আর দেরি না করে ঢ্যালান দিয়ে বসে থাকা লোকটির কাছে গিয়ে বলল,,
--"Mr. Are You Alright?"
লোকটি আস্তে আস্তে বলল,,
--"Young Men You Saved My Life With your courage."
এই বলে লোকটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।আরিশ লোকটিকে নিয়ে হসপিটালে যায় এবং লোকটার জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। লোকটির জ্ঞান ফিরতেই লোকটা আরিশ কে ডাকে তারপর লোকটা তার সব সত্য আরিশ কে বলে।
--"My name is Alexander. I'm a secret agent of Diamond team.The two you killed were child traffickers. They trafficked children. I was looking for them for the last two years but couldn't find them. Today I found them but couldn't get to them.I thought my time was up. But you came and killed them and saved my life, like a brave warrior. I want you to join our team, we really need a brave person like you."
(আমার নাম আলেকজান্ডার। আমি ডায়মন্ড টিমের একজন সিক্রেট এজেন্ট। তুমি যাদের মেরেছো তারা শিশু পাচারকারী। তারা শিশু পাচার করত। আমি গত দুই বছর ধরে তাদের খুঁজছিলাম কিন্তু খুঁজে পাইনি। আজ আমি তাদের খুঁজে পেয়েছি কিন্তু তাদের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। আমার মনে হয়েছিল আমার সময় শেষ। কিন্তু তুমি এসে তাদের মেরে ফেললে এবং একজন সাহসী যোদ্ধার মতো আমার জীবন বাঁচিয়েছ। আমি চাই তুমি আমাদের দলে যোগ দাও, আমাদের সত্যিই তোমার মতো একজন সাহসী ব্যক্তির প্রয়োজন।)
এই ভাবেই আরিশ একজন সিক্রেট এজেন্ট হয়ে যায় এবং আরিশ কালো রঙের কাপড় পড়ে তার প্রথম কাজ করেছিল তাই আরিশের নাম "BLACK DIAMOND".