ইনায়া তার মা,চাচি, বোনদের সাথে সবকিছু গুছিয়ে রাখছে।কলা পাতা ধুয়ে সাজিয়ে রাখছে।সবাই মিলে বাড়ির উঠানে পাটি বিছিয়ে এক সাথে বসে খাবে।
ছেলে এবং পুরুষেরা নামাজ পড়তে গেলে। নামাজ পড়ে কবরস্থান যাবে কবর জিয়ারত করে তারপর বাড়ি আসবে।
সময় গড়াতে লাগলো।সব পুরুষেরা বাড়ি ফিরে এলো।সবাই একে একে পাটিতে বসে পড়ল। প্রথম বাড়ির পুরুষ, বাচ্চা এবং ছোট মেয়েরা খাবে।আর মহিলারা খাবার বেড়ে দিবে।সবাই খেতে বসলো শুধু মাত্র ইনায়া বাদে।আসলে পুচু তার কাছে আবদার করেছে তার হাতে খাবে তাই ইনায়া আগে পুচুকে খাইয়ে তারপর মহিলাদের সাথে খাবে।
আরিশ যখন সবার সাথে খেতে বসে ইনায়া কে দেখতে না পেল সে তার বোন কে জিজ্ঞেস করল সব জানতে পারল। সবাই খাবার নিয়েছে কলা পাতায় এমনকি আরিশও। কিন্তু কলা পাতা প্লেটের ওপর রাখা। কারণ সবার প্লেটে খাওয়ার অভ্যাস তাই সবাই কলা পাতা প্লেটের ওপর রাখে।
আরিশ তার খাবারের প্লেট নিয়ে ঘরে চলে গেল।যেই রুমে ইনায়া,পুচু ছিল।
সবাই ভাবলো হয়তো আরিশ নিচে বসে খেতে পারবে না তাই রুমে চলে গেছে কিন্তু আসলে আরিশ রুমে গেছে কারণ যেই যায়গায় তার ইনু না খেয়ে আছে সে কি করে খেয়ে উঠবে।
আরিশ রুমে গিয়ে দেখল ইনায়া গল্প বলে নানা ভাবে পুচু কে খাবার খাওয়ানো চেষ্টা করছে।আরিশ দেখে মুচকি হাসলো।
তারপর ইনায়া সামনের গিয়ে পাশ থেকে একটা চেয়ার টেনে ইনায়ার সামনে বসল।পুচু এবং ইনায়া দুজনেই আরিশের দিকে তাকালো।আরিশ ভাবহীন ভঙ্গিতে বলল,,,
--"আমি কি জয়েন করতে পারি না? এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?আমি জানি আমি খুব হ্যান্ডসাম একদম দেখতে,,,,
আরিশের কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে ইনায়া বলল,,,
--"একদম উগান্ডা পাগলা গারদ থেকে পালিয়ে আসা মি. উগান্ডিয়ানের মতোন।"
আরিশের চোখ বড়বড় হয়ে গেল।পুচু কি বুঝলো জানে না কিন্তু হেসে উঠল।ইনায়া আরিশের দৃষ্টি কে উপেক্ষা করে পুচু কে খাওয়ানোর দিকে মনোযোগ দিল। কিন্তু বাচ্চাদের খাওয়ানো যে এত সহজ না। ইনায়া বার খাবার মুখে পুরে দেওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু পুচু দুষ্টুমি করে মুখ বার বার ঘুরিয়ে নিচ্ছে।
ইনায়া বিরক্ত হয়ে বলল,,,
--"ওরে আমার কুচু,মুচু,পুচু,দয়া করে খাবার খেয়ে আমাকে উদ্ধার কর রে বাপ।আমার প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছে।"
আরিশ এইসব দেখে মিটি মিটি হাসছে তারপর যখন ইনায়া যখন আবার পুচুকে খাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে তখন আরিশ ভাতের লোকমা করে ইনায়ার মুখের সামনে ধরল।
ইনায়া আরিশের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো।আরিশ শান্ত স্বরে বলল ,,
--"আমি জানি তোমার খুব ক্ষুধা পেয়েছে তাই জেদ না করে খেয়ে নাও ইনু।বেলা কম হয়নি।আর পুচু কে খাওয়াতে খাওয়াতে অনেক দেরি হবে ততক্ষণে তোমার খিদে চলে যাবে।তাই একটা ভালো মেয়ের মতোন খেয়ে নাও।"
ইনায়া কি বলবে বুঝতে পারছে না। এভাবে কি আরিশের হাতে খাওয়া ঠিক হবে? আর মুখের ওপর না কি করে করবে? ইনায়া দোটানায় পড়ে গেল।আরিশ বিষয়টি বুঝতে পেরে বলল,,,
--"আমার কিন্তু খুব ক্ষুধা পেয়েছে ইনু। তোমাকে খাইয়ে দিয়ে আমি নিজে খাব।আমার আবার খিদে সহ্য হয় না।তাই প্লিজ না কর না।"
ইনায়া আর না করতে পারলো না। এভাবে বললে কি করে না করবে সে।আরিশ ইনায়ার নিরবতা কে সম্মতি মনে করে নিল।
ইনায়া পুচু কে খাইয়ে দিতে লাগল এবং আরিশ ইনায়া কে যত্ন করে খাইয়ে দিতে লাগল।ইনায়াও চুপচাপ খেতে লাগলো। তার প্রচন্ড খিদে পেয়েছিল। তারপর আরিশের দিকে তাকিয়ে দেখল আরিশ তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মানুষ বলে ভালোবাসা চোখ দিয়ে প্রকাশ পায়।আর আরিশের চোখে এমন কিছু ইনায়া স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু ইনায়া যে এই কথায় বিশ্বাসী নয় যে ভালোবাসা চোখের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এই কথা যে ইনায়ার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।
ইনায়া নিজের চিন্তা ভাবনা দূর করে আরিশ কে বলল,,,
--"আপনিও খান। আপনারো তো খিদে লেগেছে।"
আরিশ মুচকি হাসল তার ইনায়া সবসময় সবার কথা ভাবে। আরিশ যখন আরেক লোকমা খাবার তুলে দিল ইনায়ার মুখে তখন কিছু ভাত ইনায়ার ঠোঁটের সাথে লেপ্টে গেল। ইনায়া পুচু কে খাওয়াতে ব্যস্ত ছিল তাই খেয়াল করেনি।
আরিশ বেশি কিছু না ভেবে ইনায়ার ঠোঁটের সাথে লেপ্টে থাকা ভাত হাত দিয়ে নিয়ে নিজে খেয়ে নিল।এই বিষয়টি ইনায়া লক্ষ্য না করলেও পুচু দেখল কিন্তু সে নিষ্পাপ শিশু কিছু বুঝতে পারল না শুধু হাসলো।আরিশ পুচু কে চোখ টিপ দিল।