আমার ঝামেলা রানী

পর্ব - ৯

🟢

অফিস ছুটির পর বাড়ি ফিরে আসে আকাশ । ড্রইং রুমে উপস্থিত সকলের সাথে একটু সময় কথা বলে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় ।

ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে আসে। সোফায় বসে সমুদ্রের কোল থেকে সন্ধ্যাকে নিজের কোলে তুলে নেয় ।

আকাশের কোলে এসে আধো আধো বুলিতে তুতলে তুতলে কথা বলতে শুরু করে। আকাশও সন্ধ্যার সাথে তাল মিলিয়ে কথা বলতে শুরু করে।

মিলা আকাশের জন্য কফি নিয়ে আসে।

_ তাত্তু কপি কপি।

আকাশ হেসে সন্ধ্যার গালে চুমু খেয়ে বলে ,

_ হুম কপি তুমি খাবে ?

_ গলম ।

_ আমি ঠান্ডা করে দেবো ।

_ মা বকা দেয় ।

_ মা বকা দেয় ?

মাথা নাড়িয়ে বলে ,

_ হুম ।

আকাশ মিলার দিকে তাকিয়ে কিছুটা ধমক দিয়ে বলে ,

_ তোর তো সাহস কম না তুই আমার মাকে বকা দিস।

_ বকা দেবো না তো কি করব? চা কফি খেয়ে পরে আর ঘুমায় না অনেক সময়।

আকাশ সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ ঘুমাও না কেনো মা ?

_ গুম আতে না ।

_ গুম আতে না ?

দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বলে ।

_ তাহলে তো মা বকা দেবেই ।

_ আমি কপি খাব।

_ কেনো খাবে?

_ মজা।

_ মজা লাগে?

_ হুম।

মিলা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ আকাশ একটুও কফি দিবি না ওকে ।

_ আচ্ছা ।

_ তাত্তু আমি কপি খাব।

_ অসীমের কাছে যাও।

_ অতীম পঁচা । সালা দিন ফোন দেকে । আমাল সাতে খেলে না ।

_ ভেরি ব্যাড বয় অসীম ।

_ হুম , ওলে তুমি বকা দেও ।

আকাশ অসীমের দিকে তাকিয়ে কিছুটা রাগী স্বরে বলে ,

_ অসীম ফোন রাখ ।

অসীম ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ কেন?

_ কেনো আবার ? তুই সারাদিন ফোন দেখিস আমার মায়ের সাথে খেলিস না । এখন ফোন রেখে ওর সাথে খেল ।

_ ওর সাথে কি খেলব? আমার সাথে খেলতে আসলেই ঘোড়া বানিয়ে পিঠে চড়ে বসে । আমার হাঁটুতে ব্যাথা করে পারবো না আমি ।

_ মিত্তা কতা কয় তাত্তু ।

_ আমি মিথ্যা কথা বলি ?

উপর নিচ মাথা নাড়ায় সন্ধ্যা ।

অসীম হাতের ফোন সোফার উপরে রেখে আকাশের কোল থেকে সন্ধ্যা কে নিজের কোলে নেয় ।

বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় । সন্ধ্যাকে উচু করে ধরে বলে ,

_ চাচ্চুকি চামচি আমার নামে শুধু নালিশ করা ! আমি মিথ্যা কথা বলি ? তোর জন্য আমার দুই হাঁটু কালো হয়ে গেছে । তার পরেও শুধু আমার নামে নালিশ ! তোকে দেবো এখন এখান থেকে ফেলে ।

_ আব্বু বাতাও , তাত্তু বাতাও । অতীম মেলে ফেলল।

আকাশ উঠে দাঁড়ায় । অসীমের পিঠে বসিয়ে দেয় দু'ঘা।

সন্ধ্যা কে নিজের কোলে নিয়ে আরেকটা বসায় পিঠে ।

পিঠ বাঁকিয়ে অসীম আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ মা*র*ছো কেন?

_ তুই ওকে ভয় দেখাচ্ছিস কেন?

_ সব সময় শুধু সকলের কাছে আমার নামে নালিশ করে ।

_ ভুল কিছু তো বলে না ।

_ সত্যিই বা কোথায় বলে ?

সন্ধ্যা মিটিমিটি হাসছে ।

অসীম সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ চাচ্চুকি চামচি যখন চাচ্চু বাড়িতে না থাকবে তখন বোঝাবো মজা ।

_ পাপা আছে ।

_ পাপা কলেজে যাবে তখন ?

_ দাদু আছে ।

_ বাড়ির সবাই কে রুমে আটকে রাখবো । তার পর তোকে ধরে উদ্ধুম মাদ্ধুম দেব।

_ তোকেও তাক বানিয়ে দেবো গেচো অতীম ।।

_ ঠিক ভাবে তো কথাও বলতে পারিস না ।

_ তুইও তো টিক ভাবে চা বানাতে পালিস না ।

_ আমি বলছি কথা আর ও বলছে চা । আমি কথা তো ঠিক ভাবে বলতে পারি ।

_ তো কি হয়েতে ?

_ মে*রে তোর মুখ ভেঙ্গে দেবো ।

_ মেলে তোর দাঁত ফেলে দেবো ।

_ চুপ ।

_ তুই তুপ ।

অসীম মুখ বিকৃতি করে চোখ দুটো উল্টে দিয়ে সন্ধ্যাকে নকল করে বলে ,

_ তুই তুপ ।

বলেই সোফায় বসে ফোন হাতে নেয় ।

সন্ধ্যা আকাশের কাছ থেকে বির বির করে হেঁটে অসীমের গলা জড়িয়ে ধরে ।

অসীম ফোন রেখে জড়িয়ে ধরে সন্ধ্যাকে । সন্ধ্যার নাকে নাক ঘষে বলে ,

_ আমার কাছে এসেছিস কেনো ?

_ খেলবো ।

অসীম সন্ধ্যাকে চেপে ধরে গালে চুমু খেতে শুরু করে ।

,

রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসে অনন্যা শেখ । সোফার কাছে এসে দাঁড়ায় আকাশের সামনে । আকাশ বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলছে । মাকে সামনে দাঁড়াতে দেখে ভাইয়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে মায়ের দিকে তাকায় ।

_ কিছু বলবে ?

_ হ্যাঁ ।

_ বলো তাহলে ।

_ রাহা কে দেখতে গিয়েছিলি ?

কপাল ভ্রু কুঁচকে আসে আকাশের ।

_ না কেনো ?

_ কেনো যাসনি ?

_ কেনো আবার ? রাহা তো পনেরো দিন থাকবে ওই বাড়িতে । পনেরো দিন পর গিয়ে নিয়ে আসবো ।

_ তোকে তো রাহা কে নিয়ে আসতে বলিনি । তুই গিয়ে দেখে আসবি ।

_ এখানে দেখা দেখির আবার কি আছে ?

অনন্যা শেখ কিছুটা নারাজ হয়ে বলেন ,

_ নতুন বিয়ে হয়েছে । এখনো এক মাস পূরণ হয়নি । সাত দিন হয়ে গেছে মেয়েটা কে রেখে এসেছিস তোর উচিত ছিল না ওকে দেখতে যাওয়া ?

_ অফিসে বিজি ছিলাম দেখেইছো । যাবো টা কখন ?

_ এখন যা । কাল তো ছুটির দিন ।

_ সামনের সপ্তাহে গিয়ে নিয়ে আসবো ।

_ তুই আজকেই যাবি ।

আকাশ মায়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে ভাইয়ের দিকে তাকায় । সমুদ্র ও যাওয়ার জন্য বলে । আকাশ আবার মায়ের দিকে তাকায় ।

_ তৈরি হয়ে তারাতারি যা ।

_ খেয়ে যাই ।

_ খেতে খেতেই তো রাতের নটা বেজে যাবে ।

ওঠ ওখন ।

আকাশ সোফা ছেড়ে দিয়ে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় । অনন্যা শেখ রান্না ঘরের দিকে যেতে যেতে বির বির করে বলে ,

_ এই ছেলেটা এমন কেনো ? অন্য সব ছেলেদের দেখি বিয়ের পর বউয়ের পিছ ছারে না । আর এই ছেলে বউ কে গিয়ে দেখে আসবে তাও যায় না । বড় ভাইয়ের বাতাস একটু আকটু লাগতে পারে না এর গায়ে ।

,

আকাশ তৈরি হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে ।

সবাই কে বলে বাড়ি থেকে বের হয় । গ্যারেজ থেকে নিজের বাইক বের করে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

প্রথমে যায় একটা ফোনের শোরুমে । রাহার জন্য একটি ফোন কিনে নেয় । রাহার সাথে কথা বলার জন্য বাড়ির অন্যদের ফোনে কল করতে হয় ।

শোরুম থেকে বেরিয়ে মিষ্টি, বিভিন্ন ফল কিনে নিয়ে বাইকে চড়ে বসে ।

আকাশ রাহা দের বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়ায় । হর্ন দিতেই দারোয়ান গেট খুলে দেয় ।

বাইক পার্ক করে রেখে বাড়ির কলিং বেল চাপে ।

কেমন যেন লাগছে । লজ্জাও করছে । আনইজি ফিল হচ্ছে ।

একটু পরেই মেড এসে ডোর খুলে দেয় । আকাশ কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই চেঁচিয়ে উঠে বলে ,

_ রাহা মামণির বর এসেছে ম্যাডাম ।

সোফায় বসে থাকা সকলেই ডোরের দিকে তাকায় ।

মেড আকাশের হাত থেকে পকেট গুলো নিজের হাতে তুলে নেয় । ভেতরে প্রবেশ করার জন্য পথ ছেড়ে দাড়ায় ।

_ আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন সবাই ।

সকলেই সালামের জবাব দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে । রিশাদ সোফা থেকে উঠে এসে আকাশের সাথে কোলাকুলি করে । সকলের সাথে কুশল বিনিময় করে ।

রাহার মায়ের শরীর কেমন আছে সেসব শোনে ।

আকাশ সোফার দিকে তাকিয়ে দেখে রাহা নেই এখানে।

রাহার দাদি আকাশ কে রাহার রুমে চলে যেতে বলে ।

আকাশ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসে ।

রাহার রুমে প্রবেশ করে । রুমে কোথাও রাহা নেই ।

ওয়াসরুমের দিকে তাকিয়ে দেখে ডোর ভেতর থেকে লক করা । রাহা ওয়াসরুমে রয়েছে ।

রুমের ডোর ভিজিয়ে দিয়ে এসে বেডে বসে । রাহার জন্য আনা ফোন টা পাশে রাখে ।

রাহা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বেডের উপর আকাশ কে বসে থাকতে দেখে কিছু সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।

ভাবছে এটা ওর কল্পনা নাকি সত্যি । রাহা কে চুপ চাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আকাশ বলে ,

_ কি হলো ওভাবে দাড়িয়ে আছো কেনো ? ভালো আছো ?

রাহা দ্রুত এসে দাঁড়ায় আকাশের সামনে । হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিতেই বুঝতে পারে আকাশ সত্যিই এসেছে । এটা ওর কল্পনা না ।

খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরে আকাশ কে ।

বিজ্ঞাপন

বেকুব বোনে যায় আকাশ । রাহা এমন কিছু করবে কল্পনাতেও ছিল না । ও আসাতে রাহা খুশি হয়েছে বুঝতে পারে । নিজেও জড়িয়ে ধরে ।

অনেক ক্ষণ পর রাহা আকাশের বুক থেকে মুখ তুলে তাকায় ।

_ ভালো আছো তুমি ?

_ আলহামদুলিল্লাহ তুমি ভালো আছো ?

_ হুম । তুমি আসবে বললে না তো ।

_ সারপ্রাইজ ।

_ এত দিন আসলে না কেনো ?

_ মিস্ করেছো বুঝি ।

_ হুম ।

_ কত টুকু ?

_ অনেক ।

_ তুমি তো একবারও বললে না আমাকে আসার জন্য ।

_ তোমার তো অফিস ছিল ।

_ কালকে তো ছুটি তুমি জানতে । দুপুরে যখন কথা হলো তখন তো বললে না ।

_ তার আগেই তো দাদি ফোন করে মাকে বললো তোমাকে যেন পাঠিয়ে দেয় বিকেলে ।

আকাশ এখন বুঝতে পারে কেনো ওর মা ওকে জোর করে পাঠিয়ে দিল ।

আকাশেরও ইচ্ছে ছিল আজকে এখানে আসার । কিন্তু সবাই কি ভাববে কি বলবে । হয়তো ভাববে বউ পা*গ*ল । সেটা ভেবে মত পরিবর্তন করে ফেলেছিল ।

পাশ থেকে ফোনের প্যাকেট টা রাহার হাতে দেয় ।

_ কি ?

_ দেখো ।

প্যাকেট টা দেখে রাহা বুঝতে পারে ভেতরে কি থাকতে পারে । ভেতর থেকে ফোনের বক্স টা বের করে খুশি হয়ে আকাশের মুখের দিকে তাকায় ।

_ এটা আমার ?

_ হুম ।

খুশি হয়ে আবার জড়িয়ে ধরে ।

_ তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ।

_ বক্স খোলো আগে ।

রাহা আকাশ কে ছেড়ে দাড়ায় । আকাশের পাশে বসে ফোন আনবক্স করে ।

ফোন সেটআপ করে সিম কার্ড ভরে দেয় আকাশ । নিজের নাম্বার সেভ করে দেয় ।

রাহা উল্টে পাল্টে ফোন টা দেখতে শুরু করে ।

_ পছন্দ হয়েছে ?

_ খুব । ফোনটা অনেক সুন্দর ।

,

রাতের খাবার খাওয়ার জন্য নিলা এসে ডেকে যায় দুজন কে ।

খাবার খাওয়ার জন্য নিচে নেমে আসে ।

ডাইনিং টেবিলে বসে চুপ চাপ খেয়ে নেয় সবাই ।

একে একে যে যার রুমে চলে যায় ।

আকাশ রাহা দুজনেই রুমে চলে আসে ।

বেড ঠিক ঠাক করে শুয়ে পড়ে দুজনেই ।

রাহা আকাশের বুকে নিজেকে গুটিয়ে নেয় আদুরে বিড়াল ছানার মতো । আকাশের শরীরের ওমে উষ্ণ হতে শুরু করে রাহার দেহ । ঠান্ডা ঠান্ডা হাত আকাশের টিশার্টের ভেতরে গলিয়ে দেয় । চেপে ধরে আকাশের বুকে । আকাশের পুরো শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায় ঠান্ডা হাতের ছোঁয়ায় ।

তবে বলে না কিছু রাহা কে ।

_ ঠান্ডা লাগছে না তোমার ?

_ লাগছে ।

_ তাহলে কিছু বলছো না কেনো ?

_ কি বলবো ?

_ হাত সরাতে বলবে না ?

আকাশ রাহার হাত বুকে আরো শক্ত করে চেপে ধরে।

_ ঘুমাও ।

_ এত তাড়াতাড়ি ?

_ তারাতারি কোথায় ? সাড়ে নয়টা বেজে গেছে ।

_ তো কি হয়েছে ?

_ ঘুমাবে না ?

_ পড়ে ।

_ কত পড়ে ?

_ যখন ঘুম আসবে ।

_ আচ্ছা ।

রাহা কিছু সময় চুপ করে থেকে বলে ,

_ তুমি আমাকে আদর করো না কেনো ?

_ আদর করি না ?

_ নাহ্ ।

_ আদর না করলে এখন বুকে নিয়ে শুয়ে আছি ?

_ এটা আদর করা হলো ?

_ হলো না ?

_ নাহ্ ।

_ তাহলে আদর কিভাবে করে ?

_ চুমু খায় কোলে নেয় ।

_ কে বলেছে তোমাকে ?

_ আমি দেখেছি ।

_ কাকে ?

_ ভাইয়া ভাবী কে কোলে নিয়েছিল আবার অনেক গুলো চুমু খেয়েছিল ।

আকাশ চোখ দুটো বড় বড় করে তাকায় ।

_ তুমি এসব কোথায় দেখলে ?

_ আমি ছাদে গিয়েছিলাম তখন দেখেছি ।

আকাশ রাহা কে বুকে চেপে ধরে বলে ,

_ এসব আর কাউকে বলবে না কখনো । ভাইয়া ভাবী যেখানে একা থাকবে তুমি সেখানে যাবে না ।

_ কেনো ?

_ কবে বড় হবে তুমি ?

_ কেনো বড় হইনি আমি ?

_ হ্যাঁ অনেক বড় হয়েছো । এখন চুপ চাপ ঘুমাও ।

_ না ঘুমাবো না আগে আদর করো । সাইফা ছোট ওকেও সবাই কত আদর করে ।

_ তোমাকে কেউ আদর করে না ?

_ সবাই করে শুধু তুমি করো না ।

_ তুমিও তো আমাকে আদর করো না ।

রাহা মুখ উচু করে আকাশের গালে ঠোঁটে চুমু খায় ।

_ করেছি এখন তুমি করো ।

_ করতেই হবে ?

_ হুম ।

_ যদি আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে যাই তাহলে সব দোষ তোমার ।

_ কেনো হবে ?

_ সেটাই তো চাইছো তুমি ।

_ অত কিছু বুঝি না আদর করো ।

আকাশ রাহার দুই গালে চুমু খায় । রাহা ঠোঁট এগিয়ে দেয় । আলতো করে ঠোঁটেও চুমু খায় ।

অনেক গুলো চুমু খাওয়ার পর আকাশ রাহা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে ,

_ আর একটা কথাও না । চুপ চাপ ঘুমাও না হলে কিন্তু ভালো হবে না তোমার জন্য ।

,

পরের দিন বিকেলে আকাশ নিজের বাড়ি ফিরে আসবে সেজন্য তৈরি হচ্ছিল । রাহা গাল ফুলিয়ে বসে আছে বেডে । আকাশ তৈরি হয়ে রাহার সামনে এসে দাঁড়ায় ,

_ কি হয়েছে ?

_ তুমি যেও না থেকে যাও প্লিজ ।

_ কাল সকালে অফিস আছে তো ।

রাহা বেডে বসে থেকেই আকাশের কোমর জড়িয়ে ধরে।

_ তোমাকে ছাড়া ঘুম আসে না আমার ।

_ তাহলে চলো বাড়ি ফিরে যাই ।

_ এক সপ্তাহ পর তো আম্মু ইংল্যান্ড চলে যাবে ।

_ এই কয়েক দিন আম্মুর কাছে থাকো । একসপ্তাহ পর আমার সাথে থাকবে ।

_ তুমি আবার আসবে কিন্তু ।

আকাশ রাহার কপালে চুমু খেয়ে বলে ,

_ অবশ্যই আসবো । বেশি মিস করলে কল করবে আমাকে ।

_ আচ্ছা ।

_ তাহলে আসছি আমি । ভালো থেকো নিজের খেয়াল রেখো । দৌড় ঝাঁপ করবে না একদম । পরে গেলে ব্যাথা পাবে ।

_ আচ্ছা ।

আবার চুমু খায় রাহার কপালে । রাহা ঠোঁট দেখিয়ে দেয় । মুচকি হেসে ঠোঁটেও চুমু খায় ।

সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় নিজের বাড়িতে ।

রাহা মন খারাপ করে নিজের রুমে বসে রইলো । কয়েক দিনেই আকাশের প্রতি অনেক বেশি ভালোবাসা জন্মে গেছে । তাইতো ও চলে যাওয়ায় এত খারাপ লাগছে ।

ফোন টা হাতে নিয়ে গ্যালারি তে যায় । আকাশ ওর নিজের ফোন থেকে রাহার ফোনে অনেক গুলো পিক দিয়েছিল দুজনের । সেগুলোই দেখতে থাকে বসে বসে।

আকাশের মুচকি হাসি দেওয়া পিক টার উপর হাত বুলায় । পিক টা দেখতে দেখতে ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটে ওঠে ।

,

দেখতে দেখতে আয়শা খানমের ইংল্যান্ড যাওয়ার দিন চলে আসে ।

শেখ বাড়ির সকলেই এসেছে আয়শা খানম কে বিদায় জানাতে ।

সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এয়ারপোর্টে যাওয়ার উদ্যেশ্যে রওনা হয় । আয়শা খানম কে বিদায় জানাতে আকাশ রাহা নিলা আর আমজাদ শেখ এয়ারপোর্টে আসে । শেষ মুহূর্তে এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন আয়শা খানম । রাহা ও অনেক কাঁদে ।

আয়শা খানম কে ধরে ভেতরে চলে যায় রিশাদ আর রেজওয়ান মাহবুব ।

সকলের চোখেই পানি চিকচিক করছে । রাহা আকাশকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে হিচকী তুলে ফেলে ।

,

সকলেই বাড়ি ফিরে আসে । শেখ পরিবার নিজেদের বাড়ি ফিরে যাবে রাতেই ।

রাহা ও চলে যাবে তাই নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছে । সাথে একটু পর পর হিঁচকী তুলছে ।

রাহা কে আরো কয়েক দিন থেকে যেতে বলেছিল তবে রাহা থাকবে না । মা নেই তাই ওরো ভালো লাগবে না ।

রাহার দাদি আর নিলার সাথে নিলার মা থাকবে ।

সকলের থেকে বিদায় নিয়ে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসে শেখ পরিবার ।

রাতে যেহেতু রাহা দের বাড়ি থেকে খেয়ে এসেছে তাই কেউ আর খাবার খায় না । যে যার রুমে চলে যায় ।

আকাশ বেড তৈরি করে দেয় শোয়ার জন্য ।

রাহা ফ্রেস হয়ে এসে শুয়ে পড়ে । আকাশ লাইট অফ করে নিজেও শুয়ে পড়ে । রাহা আকাশের শরীর ঘেঁষে শোয় । আকাশ জড়িয়ে ধরে ।

_ খারাপ লাগছে ?

_ হুম ।

_ মা সুস্থ্য হয়ে খুব দ্রুতই ফিরে আসবে ।

_ হু ।

কান্না করে দেয় রাহা । আকাশ বুকের উপর তুলে নেয় রাহা কে । রাহার কপালে চুমু খেয়ে বলে ,

_ তোমাকে কান্নায় মানায় না রাহা ।

রাহা নাক টেনে বলে ,

_ কি করলে মানায় ?

_ হাসলে ।

_ তাহলে আদর করো ।

_ আচ্ছা তুমি কাঁদো, কাঁদলে তোমাকে অনেক সুন্দর দেখায় ।

আকাশের কথা শুনে রাহা জোড়ে কেঁদে ওঠে ।

আকাশ মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে ,

_ আরো জোড়ে কাঁদো ।

বিজ্ঞাপন
আমার ঝামেলা রানী গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক উপন্যাস