অফিস ছুটির পর বাড়ি ফিরে আসে আকাশ । ড্রইং রুমে উপস্থিত সকলের সাথে একটু সময় কথা বলে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় ।
ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে আসে। সোফায় বসে সমুদ্রের কোল থেকে সন্ধ্যাকে নিজের কোলে তুলে নেয় ।
আকাশের কোলে এসে আধো আধো বুলিতে তুতলে তুতলে কথা বলতে শুরু করে। আকাশও সন্ধ্যার সাথে তাল মিলিয়ে কথা বলতে শুরু করে।
মিলা আকাশের জন্য কফি নিয়ে আসে।
_ তাত্তু কপি কপি।
আকাশ হেসে সন্ধ্যার গালে চুমু খেয়ে বলে ,
_ হুম কপি তুমি খাবে ?
_ গলম ।
_ আমি ঠান্ডা করে দেবো ।
_ মা বকা দেয় ।
_ মা বকা দেয় ?
মাথা নাড়িয়ে বলে ,
_ হুম ।
আকাশ মিলার দিকে তাকিয়ে কিছুটা ধমক দিয়ে বলে ,
_ তোর তো সাহস কম না তুই আমার মাকে বকা দিস।
_ বকা দেবো না তো কি করব? চা কফি খেয়ে পরে আর ঘুমায় না অনেক সময়।
আকাশ সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ ঘুমাও না কেনো মা ?
_ গুম আতে না ।
_ গুম আতে না ?
দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বলে ।
_ তাহলে তো মা বকা দেবেই ।
_ আমি কপি খাব।
_ কেনো খাবে?
_ মজা।
_ মজা লাগে?
_ হুম।
মিলা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ আকাশ একটুও কফি দিবি না ওকে ।
_ আচ্ছা ।
_ তাত্তু আমি কপি খাব।
_ অসীমের কাছে যাও।
_ অতীম পঁচা । সালা দিন ফোন দেকে । আমাল সাতে খেলে না ।
_ ভেরি ব্যাড বয় অসীম ।
_ হুম , ওলে তুমি বকা দেও ।
আকাশ অসীমের দিকে তাকিয়ে কিছুটা রাগী স্বরে বলে ,
_ অসীম ফোন রাখ ।
অসীম ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ কেন?
_ কেনো আবার ? তুই সারাদিন ফোন দেখিস আমার মায়ের সাথে খেলিস না । এখন ফোন রেখে ওর সাথে খেল ।
_ ওর সাথে কি খেলব? আমার সাথে খেলতে আসলেই ঘোড়া বানিয়ে পিঠে চড়ে বসে । আমার হাঁটুতে ব্যাথা করে পারবো না আমি ।
_ মিত্তা কতা কয় তাত্তু ।
_ আমি মিথ্যা কথা বলি ?
উপর নিচ মাথা নাড়ায় সন্ধ্যা ।
অসীম হাতের ফোন সোফার উপরে রেখে আকাশের কোল থেকে সন্ধ্যা কে নিজের কোলে নেয় ।
বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় । সন্ধ্যাকে উচু করে ধরে বলে ,
_ চাচ্চুকি চামচি আমার নামে শুধু নালিশ করা ! আমি মিথ্যা কথা বলি ? তোর জন্য আমার দুই হাঁটু কালো হয়ে গেছে । তার পরেও শুধু আমার নামে নালিশ ! তোকে দেবো এখন এখান থেকে ফেলে ।
_ আব্বু বাতাও , তাত্তু বাতাও । অতীম মেলে ফেলল।
আকাশ উঠে দাঁড়ায় । অসীমের পিঠে বসিয়ে দেয় দু'ঘা।
সন্ধ্যা কে নিজের কোলে নিয়ে আরেকটা বসায় পিঠে ।
পিঠ বাঁকিয়ে অসীম আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ মা*র*ছো কেন?
_ তুই ওকে ভয় দেখাচ্ছিস কেন?
_ সব সময় শুধু সকলের কাছে আমার নামে নালিশ করে ।
_ ভুল কিছু তো বলে না ।
_ সত্যিই বা কোথায় বলে ?
সন্ধ্যা মিটিমিটি হাসছে ।
অসীম সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ চাচ্চুকি চামচি যখন চাচ্চু বাড়িতে না থাকবে তখন বোঝাবো মজা ।
_ পাপা আছে ।
_ পাপা কলেজে যাবে তখন ?
_ দাদু আছে ।
_ বাড়ির সবাই কে রুমে আটকে রাখবো । তার পর তোকে ধরে উদ্ধুম মাদ্ধুম দেব।
_ তোকেও তাক বানিয়ে দেবো গেচো অতীম ।।
_ ঠিক ভাবে তো কথাও বলতে পারিস না ।
_ তুইও তো টিক ভাবে চা বানাতে পালিস না ।
_ আমি বলছি কথা আর ও বলছে চা । আমি কথা তো ঠিক ভাবে বলতে পারি ।
_ তো কি হয়েতে ?
_ মে*রে তোর মুখ ভেঙ্গে দেবো ।
_ মেলে তোর দাঁত ফেলে দেবো ।
_ চুপ ।
_ তুই তুপ ।
অসীম মুখ বিকৃতি করে চোখ দুটো উল্টে দিয়ে সন্ধ্যাকে নকল করে বলে ,
_ তুই তুপ ।
বলেই সোফায় বসে ফোন হাতে নেয় ।
সন্ধ্যা আকাশের কাছ থেকে বির বির করে হেঁটে অসীমের গলা জড়িয়ে ধরে ।
অসীম ফোন রেখে জড়িয়ে ধরে সন্ধ্যাকে । সন্ধ্যার নাকে নাক ঘষে বলে ,
_ আমার কাছে এসেছিস কেনো ?
_ খেলবো ।
অসীম সন্ধ্যাকে চেপে ধরে গালে চুমু খেতে শুরু করে ।
,
রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসে অনন্যা শেখ । সোফার কাছে এসে দাঁড়ায় আকাশের সামনে । আকাশ বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলছে । মাকে সামনে দাঁড়াতে দেখে ভাইয়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে মায়ের দিকে তাকায় ।
_ কিছু বলবে ?
_ হ্যাঁ ।
_ বলো তাহলে ।
_ রাহা কে দেখতে গিয়েছিলি ?
কপাল ভ্রু কুঁচকে আসে আকাশের ।
_ না কেনো ?
_ কেনো যাসনি ?
_ কেনো আবার ? রাহা তো পনেরো দিন থাকবে ওই বাড়িতে । পনেরো দিন পর গিয়ে নিয়ে আসবো ।
_ তোকে তো রাহা কে নিয়ে আসতে বলিনি । তুই গিয়ে দেখে আসবি ।
_ এখানে দেখা দেখির আবার কি আছে ?
অনন্যা শেখ কিছুটা নারাজ হয়ে বলেন ,
_ নতুন বিয়ে হয়েছে । এখনো এক মাস পূরণ হয়নি । সাত দিন হয়ে গেছে মেয়েটা কে রেখে এসেছিস তোর উচিত ছিল না ওকে দেখতে যাওয়া ?
_ অফিসে বিজি ছিলাম দেখেইছো । যাবো টা কখন ?
_ এখন যা । কাল তো ছুটির দিন ।
_ সামনের সপ্তাহে গিয়ে নিয়ে আসবো ।
_ তুই আজকেই যাবি ।
আকাশ মায়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে ভাইয়ের দিকে তাকায় । সমুদ্র ও যাওয়ার জন্য বলে । আকাশ আবার মায়ের দিকে তাকায় ।
_ তৈরি হয়ে তারাতারি যা ।
_ খেয়ে যাই ।
_ খেতে খেতেই তো রাতের নটা বেজে যাবে ।
ওঠ ওখন ।
আকাশ সোফা ছেড়ে দিয়ে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় । অনন্যা শেখ রান্না ঘরের দিকে যেতে যেতে বির বির করে বলে ,
_ এই ছেলেটা এমন কেনো ? অন্য সব ছেলেদের দেখি বিয়ের পর বউয়ের পিছ ছারে না । আর এই ছেলে বউ কে গিয়ে দেখে আসবে তাও যায় না । বড় ভাইয়ের বাতাস একটু আকটু লাগতে পারে না এর গায়ে ।
,
আকাশ তৈরি হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে ।
সবাই কে বলে বাড়ি থেকে বের হয় । গ্যারেজ থেকে নিজের বাইক বের করে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।
প্রথমে যায় একটা ফোনের শোরুমে । রাহার জন্য একটি ফোন কিনে নেয় । রাহার সাথে কথা বলার জন্য বাড়ির অন্যদের ফোনে কল করতে হয় ।
শোরুম থেকে বেরিয়ে মিষ্টি, বিভিন্ন ফল কিনে নিয়ে বাইকে চড়ে বসে ।
আকাশ রাহা দের বাড়ির গেটের সামনে এসে দাঁড়ায় । হর্ন দিতেই দারোয়ান গেট খুলে দেয় ।
বাইক পার্ক করে রেখে বাড়ির কলিং বেল চাপে ।
কেমন যেন লাগছে । লজ্জাও করছে । আনইজি ফিল হচ্ছে ।
একটু পরেই মেড এসে ডোর খুলে দেয় । আকাশ কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই চেঁচিয়ে উঠে বলে ,
_ রাহা মামণির বর এসেছে ম্যাডাম ।
সোফায় বসে থাকা সকলেই ডোরের দিকে তাকায় ।
মেড আকাশের হাত থেকে পকেট গুলো নিজের হাতে তুলে নেয় । ভেতরে প্রবেশ করার জন্য পথ ছেড়ে দাড়ায় ।
_ আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন সবাই ।
সকলেই সালামের জবাব দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে । রিশাদ সোফা থেকে উঠে এসে আকাশের সাথে কোলাকুলি করে । সকলের সাথে কুশল বিনিময় করে ।
রাহার মায়ের শরীর কেমন আছে সেসব শোনে ।
আকাশ সোফার দিকে তাকিয়ে দেখে রাহা নেই এখানে।
রাহার দাদি আকাশ কে রাহার রুমে চলে যেতে বলে ।
আকাশ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসে ।
রাহার রুমে প্রবেশ করে । রুমে কোথাও রাহা নেই ।
ওয়াসরুমের দিকে তাকিয়ে দেখে ডোর ভেতর থেকে লক করা । রাহা ওয়াসরুমে রয়েছে ।
রুমের ডোর ভিজিয়ে দিয়ে এসে বেডে বসে । রাহার জন্য আনা ফোন টা পাশে রাখে ।
রাহা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বেডের উপর আকাশ কে বসে থাকতে দেখে কিছু সময় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ।
ভাবছে এটা ওর কল্পনা নাকি সত্যি । রাহা কে চুপ চাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আকাশ বলে ,
_ কি হলো ওভাবে দাড়িয়ে আছো কেনো ? ভালো আছো ?
রাহা দ্রুত এসে দাঁড়ায় আকাশের সামনে । হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিতেই বুঝতে পারে আকাশ সত্যিই এসেছে । এটা ওর কল্পনা না ।
খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরে আকাশ কে ।
বেকুব বোনে যায় আকাশ । রাহা এমন কিছু করবে কল্পনাতেও ছিল না । ও আসাতে রাহা খুশি হয়েছে বুঝতে পারে । নিজেও জড়িয়ে ধরে ।
অনেক ক্ষণ পর রাহা আকাশের বুক থেকে মুখ তুলে তাকায় ।
_ ভালো আছো তুমি ?
_ আলহামদুলিল্লাহ তুমি ভালো আছো ?
_ হুম । তুমি আসবে বললে না তো ।
_ সারপ্রাইজ ।
_ এত দিন আসলে না কেনো ?
_ মিস্ করেছো বুঝি ।
_ হুম ।
_ কত টুকু ?
_ অনেক ।
_ তুমি তো একবারও বললে না আমাকে আসার জন্য ।
_ তোমার তো অফিস ছিল ।
_ কালকে তো ছুটি তুমি জানতে । দুপুরে যখন কথা হলো তখন তো বললে না ।
_ তার আগেই তো দাদি ফোন করে মাকে বললো তোমাকে যেন পাঠিয়ে দেয় বিকেলে ।
আকাশ এখন বুঝতে পারে কেনো ওর মা ওকে জোর করে পাঠিয়ে দিল ।
আকাশেরও ইচ্ছে ছিল আজকে এখানে আসার । কিন্তু সবাই কি ভাববে কি বলবে । হয়তো ভাববে বউ পা*গ*ল । সেটা ভেবে মত পরিবর্তন করে ফেলেছিল ।
পাশ থেকে ফোনের প্যাকেট টা রাহার হাতে দেয় ।
_ কি ?
_ দেখো ।
প্যাকেট টা দেখে রাহা বুঝতে পারে ভেতরে কি থাকতে পারে । ভেতর থেকে ফোনের বক্স টা বের করে খুশি হয়ে আকাশের মুখের দিকে তাকায় ।
_ এটা আমার ?
_ হুম ।
খুশি হয়ে আবার জড়িয়ে ধরে ।
_ তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ।
_ বক্স খোলো আগে ।
রাহা আকাশ কে ছেড়ে দাড়ায় । আকাশের পাশে বসে ফোন আনবক্স করে ।
ফোন সেটআপ করে সিম কার্ড ভরে দেয় আকাশ । নিজের নাম্বার সেভ করে দেয় ।
রাহা উল্টে পাল্টে ফোন টা দেখতে শুরু করে ।
_ পছন্দ হয়েছে ?
_ খুব । ফোনটা অনেক সুন্দর ।
,
রাতের খাবার খাওয়ার জন্য নিলা এসে ডেকে যায় দুজন কে ।
খাবার খাওয়ার জন্য নিচে নেমে আসে ।
ডাইনিং টেবিলে বসে চুপ চাপ খেয়ে নেয় সবাই ।
একে একে যে যার রুমে চলে যায় ।
আকাশ রাহা দুজনেই রুমে চলে আসে ।
বেড ঠিক ঠাক করে শুয়ে পড়ে দুজনেই ।
রাহা আকাশের বুকে নিজেকে গুটিয়ে নেয় আদুরে বিড়াল ছানার মতো । আকাশের শরীরের ওমে উষ্ণ হতে শুরু করে রাহার দেহ । ঠান্ডা ঠান্ডা হাত আকাশের টিশার্টের ভেতরে গলিয়ে দেয় । চেপে ধরে আকাশের বুকে । আকাশের পুরো শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায় ঠান্ডা হাতের ছোঁয়ায় ।
তবে বলে না কিছু রাহা কে ।
_ ঠান্ডা লাগছে না তোমার ?
_ লাগছে ।
_ তাহলে কিছু বলছো না কেনো ?
_ কি বলবো ?
_ হাত সরাতে বলবে না ?
আকাশ রাহার হাত বুকে আরো শক্ত করে চেপে ধরে।
_ ঘুমাও ।
_ এত তাড়াতাড়ি ?
_ তারাতারি কোথায় ? সাড়ে নয়টা বেজে গেছে ।
_ তো কি হয়েছে ?
_ ঘুমাবে না ?
_ পড়ে ।
_ কত পড়ে ?
_ যখন ঘুম আসবে ।
_ আচ্ছা ।
রাহা কিছু সময় চুপ করে থেকে বলে ,
_ তুমি আমাকে আদর করো না কেনো ?
_ আদর করি না ?
_ নাহ্ ।
_ আদর না করলে এখন বুকে নিয়ে শুয়ে আছি ?
_ এটা আদর করা হলো ?
_ হলো না ?
_ নাহ্ ।
_ তাহলে আদর কিভাবে করে ?
_ চুমু খায় কোলে নেয় ।
_ কে বলেছে তোমাকে ?
_ আমি দেখেছি ।
_ কাকে ?
_ ভাইয়া ভাবী কে কোলে নিয়েছিল আবার অনেক গুলো চুমু খেয়েছিল ।
আকাশ চোখ দুটো বড় বড় করে তাকায় ।
_ তুমি এসব কোথায় দেখলে ?
_ আমি ছাদে গিয়েছিলাম তখন দেখেছি ।
আকাশ রাহা কে বুকে চেপে ধরে বলে ,
_ এসব আর কাউকে বলবে না কখনো । ভাইয়া ভাবী যেখানে একা থাকবে তুমি সেখানে যাবে না ।
_ কেনো ?
_ কবে বড় হবে তুমি ?
_ কেনো বড় হইনি আমি ?
_ হ্যাঁ অনেক বড় হয়েছো । এখন চুপ চাপ ঘুমাও ।
_ না ঘুমাবো না আগে আদর করো । সাইফা ছোট ওকেও সবাই কত আদর করে ।
_ তোমাকে কেউ আদর করে না ?
_ সবাই করে শুধু তুমি করো না ।
_ তুমিও তো আমাকে আদর করো না ।
রাহা মুখ উচু করে আকাশের গালে ঠোঁটে চুমু খায় ।
_ করেছি এখন তুমি করো ।
_ করতেই হবে ?
_ হুম ।
_ যদি আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে যাই তাহলে সব দোষ তোমার ।
_ কেনো হবে ?
_ সেটাই তো চাইছো তুমি ।
_ অত কিছু বুঝি না আদর করো ।
আকাশ রাহার দুই গালে চুমু খায় । রাহা ঠোঁট এগিয়ে দেয় । আলতো করে ঠোঁটেও চুমু খায় ।
অনেক গুলো চুমু খাওয়ার পর আকাশ রাহা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে ,
_ আর একটা কথাও না । চুপ চাপ ঘুমাও না হলে কিন্তু ভালো হবে না তোমার জন্য ।
,
পরের দিন বিকেলে আকাশ নিজের বাড়ি ফিরে আসবে সেজন্য তৈরি হচ্ছিল । রাহা গাল ফুলিয়ে বসে আছে বেডে । আকাশ তৈরি হয়ে রাহার সামনে এসে দাঁড়ায় ,
_ কি হয়েছে ?
_ তুমি যেও না থেকে যাও প্লিজ ।
_ কাল সকালে অফিস আছে তো ।
রাহা বেডে বসে থেকেই আকাশের কোমর জড়িয়ে ধরে।
_ তোমাকে ছাড়া ঘুম আসে না আমার ।
_ তাহলে চলো বাড়ি ফিরে যাই ।
_ এক সপ্তাহ পর তো আম্মু ইংল্যান্ড চলে যাবে ।
_ এই কয়েক দিন আম্মুর কাছে থাকো । একসপ্তাহ পর আমার সাথে থাকবে ।
_ তুমি আবার আসবে কিন্তু ।
আকাশ রাহার কপালে চুমু খেয়ে বলে ,
_ অবশ্যই আসবো । বেশি মিস করলে কল করবে আমাকে ।
_ আচ্ছা ।
_ তাহলে আসছি আমি । ভালো থেকো নিজের খেয়াল রেখো । দৌড় ঝাঁপ করবে না একদম । পরে গেলে ব্যাথা পাবে ।
_ আচ্ছা ।
আবার চুমু খায় রাহার কপালে । রাহা ঠোঁট দেখিয়ে দেয় । মুচকি হেসে ঠোঁটেও চুমু খায় ।
সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় নিজের বাড়িতে ।
রাহা মন খারাপ করে নিজের রুমে বসে রইলো । কয়েক দিনেই আকাশের প্রতি অনেক বেশি ভালোবাসা জন্মে গেছে । তাইতো ও চলে যাওয়ায় এত খারাপ লাগছে ।
ফোন টা হাতে নিয়ে গ্যালারি তে যায় । আকাশ ওর নিজের ফোন থেকে রাহার ফোনে অনেক গুলো পিক দিয়েছিল দুজনের । সেগুলোই দেখতে থাকে বসে বসে।
আকাশের মুচকি হাসি দেওয়া পিক টার উপর হাত বুলায় । পিক টা দেখতে দেখতে ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটে ওঠে ।
,
দেখতে দেখতে আয়শা খানমের ইংল্যান্ড যাওয়ার দিন চলে আসে ।
শেখ বাড়ির সকলেই এসেছে আয়শা খানম কে বিদায় জানাতে ।
সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এয়ারপোর্টে যাওয়ার উদ্যেশ্যে রওনা হয় । আয়শা খানম কে বিদায় জানাতে আকাশ রাহা নিলা আর আমজাদ শেখ এয়ারপোর্টে আসে । শেষ মুহূর্তে এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন আয়শা খানম । রাহা ও অনেক কাঁদে ।
আয়শা খানম কে ধরে ভেতরে চলে যায় রিশাদ আর রেজওয়ান মাহবুব ।
সকলের চোখেই পানি চিকচিক করছে । রাহা আকাশকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে হিচকী তুলে ফেলে ।
,
সকলেই বাড়ি ফিরে আসে । শেখ পরিবার নিজেদের বাড়ি ফিরে যাবে রাতেই ।
রাহা ও চলে যাবে তাই নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছে । সাথে একটু পর পর হিঁচকী তুলছে ।
রাহা কে আরো কয়েক দিন থেকে যেতে বলেছিল তবে রাহা থাকবে না । মা নেই তাই ওরো ভালো লাগবে না ।
রাহার দাদি আর নিলার সাথে নিলার মা থাকবে ।
সকলের থেকে বিদায় নিয়ে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসে শেখ পরিবার ।
রাতে যেহেতু রাহা দের বাড়ি থেকে খেয়ে এসেছে তাই কেউ আর খাবার খায় না । যে যার রুমে চলে যায় ।
আকাশ বেড তৈরি করে দেয় শোয়ার জন্য ।
রাহা ফ্রেস হয়ে এসে শুয়ে পড়ে । আকাশ লাইট অফ করে নিজেও শুয়ে পড়ে । রাহা আকাশের শরীর ঘেঁষে শোয় । আকাশ জড়িয়ে ধরে ।
_ খারাপ লাগছে ?
_ হুম ।
_ মা সুস্থ্য হয়ে খুব দ্রুতই ফিরে আসবে ।
_ হু ।
কান্না করে দেয় রাহা । আকাশ বুকের উপর তুলে নেয় রাহা কে । রাহার কপালে চুমু খেয়ে বলে ,
_ তোমাকে কান্নায় মানায় না রাহা ।
রাহা নাক টেনে বলে ,
_ কি করলে মানায় ?
_ হাসলে ।
_ তাহলে আদর করো ।
_ আচ্ছা তুমি কাঁদো, কাঁদলে তোমাকে অনেক সুন্দর দেখায় ।
আকাশের কথা শুনে রাহা জোড়ে কেঁদে ওঠে ।
আকাশ মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে ,
_ আরো জোড়ে কাঁদো ।