আকাশ রাহা দের বাড়ি থেকে রাহার ক্লাস টেনের বই গুলো নিয়ে এসেছে । রাহা ক্লাস টেনে পড়ে শুনে কিছু সময় তব্দা খেয়ে বসে ছিল অসীম । অসীম তো ভেবেছিল রাহা ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার বা সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে ।
নিজের থেকে পাঁচ বছরের ছোট রাহা কে ভাবী ডেকে এসেছে এত দিন ভাবতেই কেমন লাগছে অসীমের ।
,
এখন দুপুর । অসীম বাদে বাড়ির অন্য চার জন পুরুষ বাড়ির বাইরে রয়েছে ।
রাহা সোফায় বসে আছে । অসীম শাওয়ার নিয়ে শীতের পোশাক দিয়ে নিজেকে ঢেকে রুম থেকে বের হয় । রোদ না ওঠার দারুন শীত জেঁকে বসেছে । তার মধ্যে বাহিরে হিম শীতল বাতাস বইছে ।
অসীম এসে রাহার পাশে বসে ।
_ কেমন লাগছে ভাবী শীতের মধ্যে ?
_ খুব ঠাণ্ডা ।
_ ভাবী আপনি তো আমার থেকে অনেক ছোট ।
_ হুম ।
_ আপনাকে আপনি আপনি ডাকতে কেমন যেন লাগে।
_ আমারো আপনি ডাক শুনে ভালো লাগে না ।
_ আচ্ছা আমরা দুজনেই দুজন কে আপনি আপনি না বলে তুমি তুমি বলতে পারি না ?
_ হুম বলতে পারি তো ।
_ আচ্ছা আজকের পর থেকে তুমি আমাকে তুমি করে বলবে আমিও তোমাকে তুমি করে বলবো ।
_ আচ্ছা ।
_ এখন বলো পড়াশোনা কেমন চলছে ?
_ একদম বাজে । পড়তে একটুও ভালো লাগে না ।
_ আমারো পড়তে একটুও ভালো লাগে না । শুধু শুধু সবাই জোর করে ধরে আমাকে পড়ায় ।
_ এই পড়াশোনা টা আবিষ্কার করেছে কে ?
_ জানিনা । পড়াশোনা আবিষ্কার করেছে ভালো কথা । এর মধ্যে ব্যাকরণ কেনো ঢোকাতে হবে ? আবার গণিত বইয়ের মধ্যে কি সব বীজ গণিত সূত্র জ্যামিতি দিয়ে ভরে রাখছে একটাও মাথায় ঢুকতো না । শা*লা বিএসসি স্যারের কাছে স্কুল জীবনে কত যে ব্যাতের বারি খাইছি জ্যামিতি বীজ গণিত আর সূত্রের কারণে ।
মনে হইলে এখনো কলিজাডা ফাইডা যায় । এই গুলা যে আবিষ্কার করছে আমাগো মত নিরীহ মানুষের ভালো থাকা কাইরা নিছে, অগো সামনে পাইলে এই সব পড়া রোল কইরা পেছন দিয়া ভইরা দিতাম । শা*লার জীবন ডা তেজ পাতা এই পড়াশোনা করতে যাইয়া । একটুও শান্তি নাই । আবার এর মধ্যে ইংরেজি তো আরেক প্যারা । তার থেকেও বড় প্যারা আইসিটি বইয়ের মধ্যে । মাঝে মধ্যে পড়াশোনার কারণে মনে হয় মঙ্গল গ্রহে চলে যাই ।
অসীমের কথা বলার ধরন দেখে হাসতে হাসতে শেষ রাহা । ছেলেটা সত্যিই অসাধারণ । বাড়ির সকলের থেকে আলাদা । আকাশ বাদে এই বাড়ির সকলের মধ্যে রাহার সব চেয়ে পছন্দের মানুষ অসীম । ছেলেটা সব সময় ফানি মুডে থাকে । নিজেও হাসে সকল কেও হাসায় । সেই সাথে সকলের মেজাজ বিগড়ে দেয় । নিয়ম করে দুই বেলা আমজাদ শেখের বকা হজম করে। মায়ের খুন্তির দৌড়ানি খায় । বাড়ির ছোট ছেলে হওয়ায় সকলের আদরও পায় অনেক ।
_ আচ্ছা ভাবী তোমার পছন্দের সাবজেক্ট কোন টা ?
_ সাবজেক্ট আবার পছন্দের হয় নাকি ? সব গুলোই অপছন্দের ।
অসীম হেঁসে বলে ,
_ একদম আমার মনের কথা বলেছো তো তুমি ।
আচ্ছা চলো গাছে পেয়ারা পেঁকেছে তোমাকে পেরে দেই ।
_ আচ্ছা চলো ।
,
ব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফিরে এসেছে সবাই ।
সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে ।
ড্রইং রুমে সোফায় বসে আছে সকলেই । আকাশ নিজের রুমে কাজ করছে । রান্না আগেই শেষ হয়ে গেছে ।
রাহা সোফা ছেড়ে উঠে রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ায় ।
_ ওদিকে কোথায় যাচ্ছো রাহা ?
_ রান্না ঘরে ভাবী ।
_ কিছু লাগবে ?
_ চা বানাবো ।
_ তোমাকে বানাতে হবে না আমি বানিয়ে আনছি ।
_ আমি পারবো ভাবী আপনি বসুন । সব সময় তো আপনিই বানান ।
_ সমস্যা নেই তুমি বসো ।
_ আমি পারবো ভাবী আপনি সকলের সাথে কথা বলুন।
_ রাহা যখন করতে চাইছে করুক । তুমি যাও রাহা ।
শাশুরি মায়ের কথা শুনে রান্না ঘরে চলে যায় ।
মিলার কাছ থেকে চা বানানো শিখেছে । একবার বানিয়েছিল ভালোই হয়েছিল খেতে ।
কিছু সময়ের মধ্যে চা বানিয়ে কাপে ঢেলে ট্রে তে করে সকলের জন্য নিয়ে আসে ।
কাপ এগিয়ে দেয় সকলের হাতে ।
আকাশের চায়ের কাপ টা ট্রে তে পড়ে রইলো ।
রাহা হাসি মুখে সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে । ওর বানানো চা কেমন হয়েছে সেটা জানার জন্য ।
আকাশ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে ।
আকাশ আসতেই রাহা চায়ের কাপ ওর হাতে তুলে দেয়।
কাপ হাতে সোফায় বসে বড় ভাইয়ের পাশে ।
চায়ের কাপে চুমুক দেয় ।
চুমুক দিতেই মুখের চা ফেলে দেয় । মুখ বিকৃতি করে চায়ের কাপের দিকে তাকায় । তার পর সকলের মুখের দিকে তাকায় । সকলের মুখভঙ্গি অদ্ভুত রকম হয়ে আছে ।
রাহা বুঝতে পারলো না আকাশের কি হয়েছে । এভাবে চা ফেলে দিল কেনো । আকাশ বলে ,
_ আজকে চা কে বানিয়েছে ?
রাহা মুখ মলিন করে বলে ,
_ আমি কেনো কি হয়েছে ?
_ কি দিয়ে চা বানিয়েছো ?
_ পানি চা পাতা আর চিনি । কেনো চিনি বেশি হয়েছে ?
_ তুমি চায়ের মধ্যে আধো চিনি দিয়েছিলে কি ?
_ হ্যাঁ অনেক খানি দিয়েছি তো ।
তার পর সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ চা ভালো হয়নি ?
সকলেই বলে ,
_ হ্যাঁ খুব ভালো হয়েছে ।
আকাশ অদ্ভুত ভাবে তাকায় সকলের মুখের দিকে ।
_ এই চা তোমাদের কাছে খুব ভালো মনে হচ্ছে ?
_ রাহা কষ্ট করে বানিয়েছে এটাই তো অনেক । ভালো না লাগার কি আছে ?
আকাশ রাহার দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ তুমি চা টেস্ট করেছো ?
_ না ।
দাঁড়িয়ে নিজের হাতের কাপ রাহার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে ,
_ নাও টেস্ট করে দেখো কত মজা হয়েছে ।
_ না খাবো না ।
_ চায়ের মধ্যে কি দিয়েছো আমাকে দেখাবে চলো ।
আকাশ চায়ের কাপ টেবিলের উপর রেখে রাহার হাত ধরে রান্না ঘরে আসে । পেছন পেছন মিলা আর অসীম ও আসে ।
চুলার পাশে রাখা চা পাতা আর চিনির কৌটা দেখায় রাহা ।
_ এগুলো দিয়েছি ।
আকাশ চিনির কৌটা হাতে তুলে নেয় ।
_ এটা কি ?
_ কেনো চিনি ।
_ এটা চিনি ?
_ হ্যাঁ ।
_ চিনি কেমন দেখতে তুমি জানো ?
_ কেনো সাদা রঙের গুড়ো গুড়ো ।
_ হা করো ।
_ কেনো ?
_ একটু চিনি খেয়ে দেখো কত মিষ্টি লাগে ।
রাহা হা করে । আকাশ চামচের সাহায্যে কৌটার ভেতর থেকে বের করে রাহার মুখে দেয় ।
মুখ বন্ধ করতেই রাহার চোখ মুখ কুচকে যায় । দ্রুত মুখের ভেতর থেকে থু থু করে ফেলে দেয় ।
_ এটা তো লবণ ।
_ এই লবণ দিয়ে মিষ্টি করে চা বানিয়েছো তুমি ।
_ ছি কেমন হয়েছে খেতে ?
_ বললাম তো একটু খেয়ে দেখতে তোমাকে তাহলেই বুঝতে পারতে কত ভালো হয়েছে খেতে ।
অসীম আর মিলা ভেতরে প্রবেশ করে ।
অসীম বলে ,
_ জীবনের প্রথম এত মিষ্টি চা খেলাম । আমার তো ডায়বেটিস হয়ে গেছে ।
রাহা মুখ ছোট করে বলে ,
_ আমি বুঝতে পারিনি এটা লবণ ছিল ।
মিলা বলে ,
_ সমস্যা নেই পরের বার ঠিক হবে । তোমরা যাও আমি চা বানিয়ে নিয়ে আসছি ।
,
রাতের খাবার খেয়ে আকাশ রাহা কে বলে ,
_ রাহা বই নিয়ে পড়তে বসো । আমার এখন কোনো কাজ নেই । যেটা না পারবে আমি দেখিয়ে দেবো ।
বলেই রাহার হাত থেকে ফোন নিয়ে বই সামনে দেয় । নিজেও বেডে উঠে বসে রাহার সামনে ।
_ বিয়ে হয়ে গেছে এখনো কেনো পড়তে হবে ?
আকাশ ছোট ছোট চোখ করে বলে ,
_ বিয়ের পর পড়তে হয় না বুঝি ?
_ নাহ্ ।
_ কে বলেছে তোমাকে ?
_ বিয়ে হয়ে গেছে পড়াশোনা এখন বাদ । স্বামী সন্তান সংসার সামলাবো এখন পড়াশোনা বাদ ।
_ স্বামী সন্তান সংসার বাদ আপাতত পড়াশোনা টাই সামলাও তুমি ।
_ কখনোই না আমি আর পড়বো না । পড়তে একটুও ভালো লাগে না । বিয়ে করেছি এখন কোনো পড়াশোনা হবে না ।
_ বিয়ের পর মিলা মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে ।
_ ওনার পড়তে ভালো লেগেছে তাই করেছে ।
_ ও করতে চায়নি ভাইয়া জোর করে করিয়েছে ।
_ তাই জন্য তুমিও আমাকে জোর করবে ?
_ কি মুসিবতরে । অন্তত HSC শেষ তো করবে ।
_ SSC শেষ করবো না আবার HSC ।
আকাশ গণিত বই টা হাতে নিয়ে একটা জ্যামিতি বের করে বলে ,
_ এটা মুখস্ত করো ।
_ এই সব আমার মাথায় কস্মিনকালেও ঢুকবে না ।
_ তোমাকে যারা টিউশন পরিয়েছে তারা কিভাবে পড়াতো ?
_ তুমি যেভাবে পড়ানোর চেষ্টা করো সেভাবেই ।
_ তুমি সবাইকে এভাবেই পা*গ*ল বানাতে ?
_ ওনাদের পা*গ*ল হতে আসতে বলেছে কে ?
_ সূত্র গুলো বলো ।
_ পারবো না ।
_ রাহা আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি ।
_ তো আমার কি ?
_ পড়বে না তুমি ?
_ নাহ্ ।
_ ঠিক আছে আমি তাহলে ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে আসছি । আজকে থেকে ভাইয়াই তোমাকে পড়াবো ।
বলেই বেড থেকে নামার জন্য উদ্যত হয় । রাহা দ্রুত আকাশের হাত টেনে ধরে বলে ,
_ ভাইয়া কে কেনো ডাকতে হবে ? পড়ছি তো ।
_ হুম পড়ো তাহলে ।
_ পড়াতে পড়াতে শহীদ করে ফেলো আমাকে ।
_ বেশি না বকে পড়ো ।
নয়টা থেকে এগারোটা পর্যন্ত রাহা কে পড়ায় আকাশ ।
রাহার চোখ দুটো এখন ছোট ছোট হয়ে গেছে । বন্ধ করলেই ঘুমিয়ে যাবে ।
_ আর পড়তে হবে না আবার আগামী কাল । এখন ফ্রেস হয়ে এসে ঘুমাও ।
_ আল্লাহ বাঁচলাম । আমি তো ভেবেছিলাম আজকে সারারাত পড়াবে ।
_ যাও ফ্রেস হয়ে আসো ।
রাহা বেড থেকে নেমে ওয়াসরুমে চলে যায় ।
আকাশ রাহার বই খাতা গুছিয়ে স্টাডি টেবিলের উপর নিয়ে রেখে দেয় ।
শোয়ার জন্য বেড রেডি করে ।
রাহা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ে ।
_ জ্যাকেট খুলে ঘুমাও না হলে ভালো ঘুম হবে না ।
_ খুলে কি হবে ? সকালে তো পড়তেই হবে ।
_ ঘুমিয়ে কি হবে ? সকালে তো উঠতেই হবে আবার । বসে থাকো ঘুমোনোর প্রয়োজন নেই ।
বলেই আকাশ ওয়াসরুমে প্রবেশ করে । রাহা আকাশের যাওয়ার পানে তাকিয়ে মুখ ভেংচি কা*টে । তার পর শোয়া থেকে উঠে বসে । গায়ের জ্যাকেট খুলে পুনরায় শুয়ে পড়ে ।
আকাশ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে গায়ের হুডি খুলে রাখে । লাইট অফ করে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ে রাহা কে জড়িয়ে ধরে ।
রাহা আকাশের হাত সরিয়ে দেয় নিজের গায়ের উপর থেকে । তার পর আকাশের টিশার্টের ভেতর দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে দেয় ।
_ কি করছো ?
মাথা বের করে গলার দিক দিয়ে।
_ এখানে কেনো ঢুকেছো টিশার্ট ঢিলে হয়ে যাবে তো ।
_ আমার থেকে টিশার্টের দাম বেশি ?
আকাশ জড়িয়ে ধরে বলে ,
_ নাহ্ । কিন্তু এখানে ঢুকেছো কেনো ?
_ ইচ্ছে করলো তাই ।
_ বের হও ।
_ কেনো ?
_ কেনো সেটা তোমাকে কিভাবে বোঝাই ।
_ বুঝালেই বুঝবো ।
_ বের হও ।
_ আদর করো ।
_ আগে বের হও ।
_ আগে আদর ।
_ রাহা ভালো হবে না কিন্তু বের হও বলছি ।
বলেই রাহা কে ভেতর থেকে বের করার চেষ্টা করে । রাহা বের তো হয়ই না উল্টো আকাশের বুকে গলায় চুমু খেতে শুরু করে ।
আকাশ প্রথমে শ্বাস আটকে রাখে । তার পর টিশার্ট খুলে ফেলে রাহা কে দূরে সরিয়ে ধমক দিয়ে বলে ,
_ পা*গ*ল হয়েছো নাকি ? এরকম করছো কেনো ?
রাহা কোনো কথা না বলে আবার গিয়ে জড়িয়ে ধরে আকাশ কে । আকাশের বুকে মুখ লুকিয়ে বলে ,
_ তুমি ভালো বর না । আমাকে একটুও আদর করো না তুমি ভালোবাসো না আমাকে ।
_ কে বলেছে ভালোবাসি না ?
_ তাহলে আদর করো না কেনো ?
_ আমি আদর করলে সামলাতে পারবে ?
_ কেনো পারবো না ? চুমু দেওয়া আদর করার সাথে সামলানোর কি সম্পর্ক ?
_ তোমার মাথায় বুদ্ধি কবে হবে বলো ?
_ জানিনা ।
_ তাহলে ছাড়ো আর জানতেও হবে না । শুধু শুধু আমার ফিলিংসের বারোটা বাজিয়েও না । মাথা খারাপ হচ্ছে কিন্তু ছাড়ো । আর কিন্তু নিজেকে আটকে রাখতে পারবো না একদিনও ।
রাহা শ*য়*তা*নির সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে আকাশের ঘাড়ে গলায় চুমু খেতে শুরু করে । আকাশ হতভম্ভ রাহার কার্য কলাপে । রাহা মুখ উচু করে নিয়ে চেপে ধরে আকাশের অধর যুগল । আকাশ রাহা কে দূরে সরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় । রাহা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে আকাশের ঘাড় ।
আকাশ নিজের ভেতর থেকে হারিয়ে যায় । এবার নিজেই রাহা কে কিস করতে শুরু করে । রাহা কে নিচে ফেলে নিজেই রাহার উপরে উঠে যায় । এত দিন ধরে নিজেকে কোনো ভাবে আটকে রাখলেও আজকে আর রাখতে পারে না ।
,
শেষ রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় রাহার । নড়া চড়া করে নিজেকে গুটিয়ে নেয় আকাশের বুকে । আকাশ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে । রাহা মুখ উচু করে আকাশের মুখের দিকে তাকায় । আকাশের মুখ দেখেই লজ্জায় মুখ লুকায় আকাশের বুকে ।
আকাশের লোমশ ফর্সা নগ্ন বুকে গাল ঠেকিয়ে কান পেতে হার্ট বিট শুনতে থাকে । আবার মাথা তুলে তাকায় । এখন আর ঘুম আসছে না । একা একা জেগে থাকতেও ভালো লাগছে না ।
আকাশ কে ছেড়ে পাশ ঘুরতেই গায়ের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরে যায় । নিজের দিকে তাকাতেই তারাতারি ব্ল্যাঙ্কেট টেনে গা ঢেকে নেয় ।
ব্ল্যাঙ্কেট টানাটানিতে আকাশের ঘুম হালকা হয়ে যায় । রাহার নড়া চড়াতে ঘুম ছুটে যায় । রাহা কে টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ঘুম জড়ানো গলায় বলে ,
_ নড়া চড়া করছো কেনো ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করছে তো ভেতরে ।
তার পর চোখ দুটো টেনে তাকায় । ড্রিম লাইটের নীল আলোয় রাহার ফর্সা লজ্জা রাঙ্গা মুখশ্রী দেখে ।
_ ব্যাথা করছে ?
রাহা দুদিকে মাথা নাড়ায় ।
_ আরো আদর চাই ?
দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বলে ।
_ কেনো ?
রাহা বুকে মুখ লুকায় । আকাশ মুচকি হাসে ।
রাহার নগ্ন পিঠে হাত বুলিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।
রাহা মুখ তুলে তাকায় । আকাশ রাহার ঠোঁটে আলতো স্পর্শে চুমু খায় । রাহা ও খায় ।
আকাশ চেপে ধরে রাহার ওষ্ঠদয় । রাহা খা*মচে ধরে আকাশের পিঠ ।
আবারো ডুবে যায় একে অপরের মাঝে ।
_______________
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে আসে রাহা । ওই সময় মিলাও রুম থেকে বেরিয়ে আসে ।
_ উঠে গেছো ?
_ জ্বি ভাবী । সন্ধ্যা ওঠেনি ?
_ উঠে ছিল আবার ঘুমিয়েছে ।
_ ওহ ।
মিলার চোখ যায় রাহার গলার দিকে । কেমন লাল লাল দাগ হয়ে আছে ।
মিলা ভালো ভাবে দেখার জন্য রাহার ওড়না সরিয়ে দেখতেই দেখে বাইটের দাগ ।
মুচকি হেসে বলে ,
_ আকাশ রাতে বুঝি অনেক আদর করেছে ?
রাহা লাজুক ভঙ্গিতে হাসে । মিলা দাগ ঢেকে দেয় ওড়না দিয়ে ।
রাহা মিলার সামনে থেকে সরে নিচে চলে যায় । রাতের কথা মনে হতেই লজ্জা করছে ভীষণ ।
মিলা রাহার যাওয়ার পথে তাকিয়ে বলে ,
_ আমার কথায় কাজ হয়েছে দেখছি ।
রুম থেকে বেরিয়ে আসে আকাশ । মিলার বলা কথা গুলো শুনে ফেলেছে ।
_ তুই রাহা কে এই সব উল্টা পাল্টা বুদ্ধি দিয়েছিলি ? তাইতো বলি ঝামেলা রানী এসব করছে কেনো ? এত দিন তো এমন কিছু করেনি ।
মিলা দ্রুত গতিতে নিচের দিকে যেতে যেতে বলে ,
_ তো লাভ টা কার হয়েছে আমার না তোর ?
বলেই দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায় ।
আকাশ মুচকি হাসে । বুদ্ধি জারই হোক শেষে লাভ টা তো ওর নিজেরই হয়েছে ।