আমার ঝামেলা রানী

পর্ব - ১০

🟢

আকাশ রাহা দের বাড়ি থেকে রাহার ক্লাস টেনের বই গুলো নিয়ে এসেছে । রাহা ক্লাস টেনে পড়ে শুনে কিছু সময় তব্দা খেয়ে বসে ছিল অসীম । অসীম তো ভেবেছিল রাহা ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার বা সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে ।

নিজের থেকে পাঁচ বছরের ছোট রাহা কে ভাবী ডেকে এসেছে এত দিন ভাবতেই কেমন লাগছে অসীমের ।

,

এখন দুপুর । অসীম বাদে বাড়ির অন্য চার জন পুরুষ বাড়ির বাইরে রয়েছে ।

রাহা সোফায় বসে আছে । অসীম শাওয়ার নিয়ে শীতের পোশাক দিয়ে নিজেকে ঢেকে রুম থেকে বের হয় । রোদ না ওঠার দারুন শীত জেঁকে বসেছে । তার মধ্যে বাহিরে হিম শীতল বাতাস বইছে ।

অসীম এসে রাহার পাশে বসে ।

_ কেমন লাগছে ভাবী শীতের মধ্যে ?

_ খুব ঠাণ্ডা ।

_ ভাবী আপনি তো আমার থেকে অনেক ছোট ।

_ হুম ।

_ আপনাকে আপনি আপনি ডাকতে কেমন যেন লাগে।

_ আমারো আপনি ডাক শুনে ভালো লাগে না ।

_ আচ্ছা আমরা দুজনেই দুজন কে আপনি আপনি না বলে তুমি তুমি বলতে পারি না ?

_ হুম বলতে পারি তো ।

_ আচ্ছা আজকের পর থেকে তুমি আমাকে তুমি করে বলবে আমিও তোমাকে তুমি করে বলবো ।

_ আচ্ছা ।

_ এখন বলো পড়াশোনা কেমন চলছে ?

_ একদম বাজে । পড়তে একটুও ভালো লাগে না ।

_ আমারো পড়তে একটুও ভালো লাগে না । শুধু শুধু সবাই জোর করে ধরে আমাকে পড়ায় ।

_ এই পড়াশোনা টা আবিষ্কার করেছে কে ?

_ জানিনা । পড়াশোনা আবিষ্কার করেছে ভালো কথা । এর মধ্যে ব্যাকরণ কেনো ঢোকাতে হবে ? আবার গণিত বইয়ের মধ্যে কি সব বীজ গণিত সূত্র জ্যামিতি দিয়ে ভরে রাখছে একটাও মাথায় ঢুকতো না । শা*লা বিএসসি স্যারের কাছে স্কুল জীবনে কত যে ব্যাতের বারি খাইছি জ্যামিতি বীজ গণিত আর সূত্রের কারণে ।

মনে হইলে এখনো কলিজাডা ফাইডা যায় । এই গুলা যে আবিষ্কার করছে আমাগো মত নিরীহ মানুষের ভালো থাকা কাইরা নিছে, অগো সামনে পাইলে এই সব পড়া রোল কইরা পেছন দিয়া ভইরা দিতাম । শা*লার জীবন ডা তেজ পাতা এই পড়াশোনা করতে যাইয়া । একটুও শান্তি নাই । আবার এর মধ্যে ইংরেজি তো আরেক প্যারা । তার থেকেও বড় প্যারা আইসিটি বইয়ের মধ্যে । মাঝে মধ্যে পড়াশোনার কারণে মনে হয় মঙ্গল গ্রহে চলে যাই ।

অসীমের কথা বলার ধরন দেখে হাসতে হাসতে শেষ রাহা । ছেলেটা সত্যিই অসাধারণ । বাড়ির সকলের থেকে আলাদা । আকাশ বাদে এই বাড়ির সকলের মধ্যে রাহার সব চেয়ে পছন্দের মানুষ অসীম । ছেলেটা সব সময় ফানি মুডে থাকে । নিজেও হাসে সকল কেও হাসায় । সেই সাথে সকলের মেজাজ বিগড়ে দেয় । নিয়ম করে দুই বেলা আমজাদ শেখের বকা হজম করে। মায়ের খুন্তির দৌড়ানি খায় । বাড়ির ছোট ছেলে হওয়ায় সকলের আদরও পায় অনেক ।

_ আচ্ছা ভাবী তোমার পছন্দের সাবজেক্ট কোন টা ?

_ সাবজেক্ট আবার পছন্দের হয় নাকি ? সব গুলোই অপছন্দের ।

অসীম হেঁসে বলে ,

_ একদম আমার মনের কথা বলেছো তো তুমি ।

আচ্ছা চলো গাছে পেয়ারা পেঁকেছে তোমাকে পেরে দেই ।

_ আচ্ছা চলো ।

,

ব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফিরে এসেছে সবাই ।

সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে ।

ড্রইং রুমে সোফায় বসে আছে সকলেই । আকাশ নিজের রুমে কাজ করছে । রান্না আগেই শেষ হয়ে গেছে ।

রাহা সোফা ছেড়ে উঠে রান্না ঘরের দিকে পা বাড়ায় ।

_ ওদিকে কোথায় যাচ্ছো রাহা ?

_ রান্না ঘরে ভাবী ।

_ কিছু লাগবে ?

_ চা বানাবো ।

_ তোমাকে বানাতে হবে না আমি বানিয়ে আনছি ।

_ আমি পারবো ভাবী আপনি বসুন । সব সময় তো আপনিই বানান ।

_ সমস্যা নেই তুমি বসো ।

_ আমি পারবো ভাবী আপনি সকলের সাথে কথা বলুন।

_ রাহা যখন করতে চাইছে করুক । তুমি যাও রাহা ।

শাশুরি মায়ের কথা শুনে রান্না ঘরে চলে যায় ।

মিলার কাছ থেকে চা বানানো শিখেছে । একবার বানিয়েছিল ভালোই হয়েছিল খেতে ।

কিছু সময়ের মধ্যে চা বানিয়ে কাপে ঢেলে ট্রে তে করে সকলের জন্য নিয়ে আসে ।

কাপ এগিয়ে দেয় সকলের হাতে ।

আকাশের চায়ের কাপ টা ট্রে তে পড়ে রইলো ।

রাহা হাসি মুখে সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে । ওর বানানো চা কেমন হয়েছে সেটা জানার জন্য ।

আকাশ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে ।

আকাশ আসতেই রাহা চায়ের কাপ ওর হাতে তুলে দেয়।

কাপ হাতে সোফায় বসে বড় ভাইয়ের পাশে ।

চায়ের কাপে চুমুক দেয় ।

চুমুক দিতেই মুখের চা ফেলে দেয় । মুখ বিকৃতি করে চায়ের কাপের দিকে তাকায় । তার পর সকলের মুখের দিকে তাকায় । সকলের মুখভঙ্গি অদ্ভুত রকম হয়ে আছে ।

রাহা বুঝতে পারলো না আকাশের কি হয়েছে । এভাবে চা ফেলে দিল কেনো । আকাশ বলে ,

_ আজকে চা কে বানিয়েছে ?

রাহা মুখ মলিন করে বলে ,

_ আমি কেনো কি হয়েছে ?

_ কি দিয়ে চা বানিয়েছো ?

_ পানি চা পাতা আর চিনি । কেনো চিনি বেশি হয়েছে ?

_ তুমি চায়ের মধ্যে আধো চিনি দিয়েছিলে কি ?

_ হ্যাঁ অনেক খানি দিয়েছি তো ।

তার পর সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ চা ভালো হয়নি ?

সকলেই বলে ,

_ হ্যাঁ খুব ভালো হয়েছে ।

আকাশ অদ্ভুত ভাবে তাকায় সকলের মুখের দিকে ।

_ এই চা তোমাদের কাছে খুব ভালো মনে হচ্ছে ?

_ রাহা কষ্ট করে বানিয়েছে এটাই তো অনেক । ভালো না লাগার কি আছে ?

আকাশ রাহার দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ তুমি চা টেস্ট করেছো ?

_ না ।

দাঁড়িয়ে নিজের হাতের কাপ রাহার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে ,

_ নাও টেস্ট করে দেখো কত মজা হয়েছে ।

_ না খাবো না ।

_ চায়ের মধ্যে কি দিয়েছো আমাকে দেখাবে চলো ।

আকাশ চায়ের কাপ টেবিলের উপর রেখে রাহার হাত ধরে রান্না ঘরে আসে । পেছন পেছন মিলা আর অসীম ও আসে ।

চুলার পাশে রাখা চা পাতা আর চিনির কৌটা দেখায় রাহা ।

_ এগুলো দিয়েছি ।

আকাশ চিনির কৌটা হাতে তুলে নেয় ।

_ এটা কি ?

_ কেনো চিনি ।

_ এটা চিনি ?

_ হ্যাঁ ।

_ চিনি কেমন দেখতে তুমি জানো ?

_ কেনো সাদা রঙের গুড়ো গুড়ো ।

_ হা করো ।

_ কেনো ?

_ একটু চিনি খেয়ে দেখো কত মিষ্টি লাগে ।

রাহা হা করে । আকাশ চামচের সাহায্যে কৌটার ভেতর থেকে বের করে রাহার মুখে দেয় ।

মুখ বন্ধ করতেই রাহার চোখ মুখ কুচকে যায় । দ্রুত মুখের ভেতর থেকে থু থু করে ফেলে দেয় ।

_ এটা তো লবণ ।

_ এই লবণ দিয়ে মিষ্টি করে চা বানিয়েছো তুমি ।

_ ছি কেমন হয়েছে খেতে ?

_ বললাম তো একটু খেয়ে দেখতে তোমাকে তাহলেই বুঝতে পারতে কত ভালো হয়েছে খেতে ।

অসীম আর মিলা ভেতরে প্রবেশ করে ।

অসীম বলে ,

_ জীবনের প্রথম এত মিষ্টি চা খেলাম । আমার তো ডায়বেটিস হয়ে গেছে ।

রাহা মুখ ছোট করে বলে ,

_ আমি বুঝতে পারিনি এটা লবণ ছিল ।

মিলা বলে ,

_ সমস্যা নেই পরের বার ঠিক হবে । তোমরা যাও আমি চা বানিয়ে নিয়ে আসছি ।

,

রাতের খাবার খেয়ে আকাশ রাহা কে বলে ,

_ রাহা বই নিয়ে পড়তে বসো । আমার এখন কোনো কাজ নেই । যেটা না পারবে আমি দেখিয়ে দেবো ।

বলেই রাহার হাত থেকে ফোন নিয়ে বই সামনে দেয় । নিজেও বেডে উঠে বসে রাহার সামনে ।

_ বিয়ে হয়ে গেছে এখনো কেনো পড়তে হবে ?

আকাশ ছোট ছোট চোখ করে বলে ,

_ বিয়ের পর পড়তে হয় না বুঝি ?

_ নাহ্ ।

_ কে বলেছে তোমাকে ?

_ বিয়ে হয়ে গেছে পড়াশোনা এখন বাদ । স্বামী সন্তান সংসার সামলাবো এখন পড়াশোনা বাদ ।

_ স্বামী সন্তান সংসার বাদ আপাতত পড়াশোনা টাই সামলাও তুমি ।

বিজ্ঞাপন

_ কখনোই না আমি আর পড়বো না । পড়তে একটুও ভালো লাগে না । বিয়ে করেছি এখন কোনো পড়াশোনা হবে না ।

_ বিয়ের পর মিলা মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে ।

_ ওনার পড়তে ভালো লেগেছে তাই করেছে ।

_ ও করতে চায়নি ভাইয়া জোর করে করিয়েছে ।

_ তাই জন্য তুমিও আমাকে জোর করবে ?

_ কি মুসিবতরে । অন্তত HSC শেষ তো করবে ।

_ SSC শেষ করবো না আবার HSC ।

আকাশ গণিত বই টা হাতে নিয়ে একটা জ্যামিতি বের করে বলে ,

_ এটা মুখস্ত করো ।

_ এই সব আমার মাথায় কস্মিনকালেও ঢুকবে না ।

_ তোমাকে যারা টিউশন পরিয়েছে তারা কিভাবে পড়াতো ?

_ তুমি যেভাবে পড়ানোর চেষ্টা করো সেভাবেই ।

_ তুমি সবাইকে এভাবেই পা*গ*ল বানাতে ?

_ ওনাদের পা*গ*ল হতে আসতে বলেছে কে ?

_ সূত্র গুলো বলো ।

_ পারবো না ।

_ রাহা আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি ।

_ তো আমার কি ?

_ পড়বে না তুমি ?

_ নাহ্ ।

_ ঠিক আছে আমি তাহলে ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে আসছি । আজকে থেকে ভাইয়াই তোমাকে পড়াবো ।

বলেই বেড থেকে নামার জন্য উদ্যত হয় । রাহা দ্রুত আকাশের হাত টেনে ধরে বলে ,

_ ভাইয়া কে কেনো ডাকতে হবে ? পড়ছি তো ।

_ হুম পড়ো তাহলে ।

_ পড়াতে পড়াতে শহীদ করে ফেলো আমাকে ।

_ বেশি না বকে পড়ো ।

নয়টা থেকে এগারোটা পর্যন্ত রাহা কে পড়ায় আকাশ ।

রাহার চোখ দুটো এখন ছোট ছোট হয়ে গেছে । বন্ধ করলেই ঘুমিয়ে যাবে ।

_ আর পড়তে হবে না আবার আগামী কাল । এখন ফ্রেস হয়ে এসে ঘুমাও ।

_ আল্লাহ বাঁচলাম । আমি তো ভেবেছিলাম আজকে সারারাত পড়াবে ।

_ যাও ফ্রেস হয়ে আসো ।

রাহা বেড থেকে নেমে ওয়াসরুমে চলে যায় ।

আকাশ রাহার বই খাতা গুছিয়ে স্টাডি টেবিলের উপর নিয়ে রেখে দেয় ।

শোয়ার জন্য বেড রেডি করে ।

রাহা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ে ।

_ জ্যাকেট খুলে ঘুমাও না হলে ভালো ঘুম হবে না ।

_ খুলে কি হবে ? সকালে তো পড়তেই হবে ।

_ ঘুমিয়ে কি হবে ? সকালে তো উঠতেই হবে আবার । বসে থাকো ঘুমোনোর প্রয়োজন নেই ।

বলেই আকাশ ওয়াসরুমে প্রবেশ করে । রাহা আকাশের যাওয়ার পানে তাকিয়ে মুখ ভেংচি কা*টে । তার পর শোয়া থেকে উঠে বসে । গায়ের জ্যাকেট খুলে পুনরায় শুয়ে পড়ে ।

আকাশ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে গায়ের হুডি খুলে রাখে । লাইট অফ করে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ে রাহা কে জড়িয়ে ধরে ।

রাহা আকাশের হাত সরিয়ে দেয় নিজের গায়ের উপর থেকে । তার পর আকাশের টিশার্টের ভেতর দিয়ে মাথা ঢুকিয়ে দেয় ।

_ কি করছো ?

মাথা বের করে গলার দিক দিয়ে।

_ এখানে কেনো ঢুকেছো টিশার্ট ঢিলে হয়ে যাবে তো ।

_ আমার থেকে টিশার্টের দাম বেশি ?

আকাশ জড়িয়ে ধরে বলে ,

_ নাহ্ । কিন্তু এখানে ঢুকেছো কেনো ?

_ ইচ্ছে করলো তাই ।

_ বের হও ।

_ কেনো ?

_ কেনো সেটা তোমাকে কিভাবে বোঝাই ।

_ বুঝালেই বুঝবো ।

_ বের হও ।

_ আদর করো ।

_ আগে বের হও ।

_ আগে আদর ।

_ রাহা ভালো হবে না কিন্তু বের হও বলছি ।

বলেই রাহা কে ভেতর থেকে বের করার চেষ্টা করে । রাহা বের তো হয়ই না উল্টো আকাশের বুকে গলায় চুমু খেতে শুরু করে ।

আকাশ প্রথমে শ্বাস আটকে রাখে । তার পর টিশার্ট খুলে ফেলে রাহা কে দূরে সরিয়ে ধমক দিয়ে বলে ,

_ পা*গ*ল হয়েছো নাকি ? এরকম করছো কেনো ?

রাহা কোনো কথা না বলে আবার গিয়ে জড়িয়ে ধরে আকাশ কে । আকাশের বুকে মুখ লুকিয়ে বলে ,

_ তুমি ভালো বর না । আমাকে একটুও আদর করো না তুমি ভালোবাসো না আমাকে ।

_ কে বলেছে ভালোবাসি না ?

_ তাহলে আদর করো না কেনো ?

_ আমি আদর করলে সামলাতে পারবে ?

_ কেনো পারবো না ? চুমু দেওয়া আদর করার সাথে সামলানোর কি সম্পর্ক ?

_ তোমার মাথায় বুদ্ধি কবে হবে বলো ?

_ জানিনা ।

_ তাহলে ছাড়ো আর জানতেও হবে না । শুধু শুধু আমার ফিলিংসের বারোটা বাজিয়েও না । মাথা খারাপ হচ্ছে কিন্তু ছাড়ো । আর কিন্তু নিজেকে আটকে রাখতে পারবো না একদিনও ।

রাহা শ*য়*তা*নির সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে আকাশের ঘাড়ে গলায় চুমু খেতে শুরু করে । আকাশ হতভম্ভ রাহার কার্য কলাপে । রাহা মুখ উচু করে নিয়ে চেপে ধরে আকাশের অধর যুগল । আকাশ রাহা কে দূরে সরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় । রাহা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে আকাশের ঘাড় ।

আকাশ নিজের ভেতর থেকে হারিয়ে যায় । এবার নিজেই রাহা কে কিস করতে শুরু করে । রাহা কে নিচে ফেলে নিজেই রাহার উপরে উঠে যায় । এত দিন ধরে নিজেকে কোনো ভাবে আটকে রাখলেও আজকে আর রাখতে পারে না ।

,

শেষ রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় রাহার । নড়া চড়া করে নিজেকে গুটিয়ে নেয় আকাশের বুকে । আকাশ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে । রাহা মুখ উচু করে আকাশের মুখের দিকে তাকায় । আকাশের মুখ দেখেই লজ্জায় মুখ লুকায় আকাশের বুকে ।

আকাশের লোমশ ফর্সা নগ্ন বুকে গাল ঠেকিয়ে কান পেতে হার্ট বিট শুনতে থাকে । আবার মাথা তুলে তাকায় । এখন আর ঘুম আসছে না । একা একা জেগে থাকতেও ভালো লাগছে না ।

আকাশ কে ছেড়ে পাশ ঘুরতেই গায়ের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরে যায় । নিজের দিকে তাকাতেই তারাতারি ব্ল্যাঙ্কেট টেনে গা ঢেকে নেয় ।

ব্ল্যাঙ্কেট টানাটানিতে আকাশের ঘুম হালকা হয়ে যায় । রাহার নড়া চড়াতে ঘুম ছুটে যায় । রাহা কে টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ঘুম জড়ানো গলায় বলে ,

_ নড়া চড়া করছো কেনো ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করছে তো ভেতরে ।

তার পর চোখ দুটো টেনে তাকায় । ড্রিম লাইটের নীল আলোয় রাহার ফর্সা লজ্জা রাঙ্গা মুখশ্রী দেখে ।

_ ব্যাথা করছে ?

রাহা দুদিকে মাথা নাড়ায় ।

_ আরো আদর চাই ?

দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বলে ।

_ কেনো ?

রাহা বুকে মুখ লুকায় । আকাশ মুচকি হাসে ।

রাহার নগ্ন পিঠে হাত বুলিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।

রাহা মুখ তুলে তাকায় । আকাশ রাহার ঠোঁটে আলতো স্পর্শে চুমু খায় । রাহা ও খায় ।

আকাশ চেপে ধরে রাহার ওষ্ঠদয় । রাহা খা*মচে ধরে আকাশের পিঠ ।

আবারো ডুবে যায় একে অপরের মাঝে ।

_______________

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে আসে রাহা । ওই সময় মিলাও রুম থেকে বেরিয়ে আসে ।

_ উঠে গেছো ?

_ জ্বি ভাবী । সন্ধ্যা ওঠেনি ?

_ উঠে ছিল আবার ঘুমিয়েছে ।

_ ওহ ।

মিলার চোখ যায় রাহার গলার দিকে । কেমন লাল লাল দাগ হয়ে আছে ।

মিলা ভালো ভাবে দেখার জন্য রাহার ওড়না সরিয়ে দেখতেই দেখে বাইটের দাগ ।

মুচকি হেসে বলে ,

_ আকাশ রাতে বুঝি অনেক আদর করেছে ?

রাহা লাজুক ভঙ্গিতে হাসে । মিলা দাগ ঢেকে দেয় ওড়না দিয়ে ।

রাহা মিলার সামনে থেকে সরে নিচে চলে যায় । রাতের কথা মনে হতেই লজ্জা করছে ভীষণ ।

মিলা রাহার যাওয়ার পথে তাকিয়ে বলে ,

_ আমার কথায় কাজ হয়েছে দেখছি ।

রুম থেকে বেরিয়ে আসে আকাশ । মিলার বলা কথা গুলো শুনে ফেলেছে ।

_ তুই রাহা কে এই সব উল্টা পাল্টা বুদ্ধি দিয়েছিলি ? তাইতো বলি ঝামেলা রানী এসব করছে কেনো ? এত দিন তো এমন কিছু করেনি ।

মিলা দ্রুত গতিতে নিচের দিকে যেতে যেতে বলে ,

_ তো লাভ টা কার হয়েছে আমার না তোর ?

বলেই দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায় ।

আকাশ মুচকি হাসে । বুদ্ধি জারই হোক শেষে লাভ টা তো ওর নিজেরই হয়েছে ।

বিজ্ঞাপন
আমার ঝামেলা রানী গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক উপন্যাস