আমার ঝামেলা রানী

পর্ব - ১৪

🟢

আকাশ অফিসের কাজ দ্রুত শেষ করে বারোটায় অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বেরিয়ে আসে ।

পার্কিং থেকে নিজের বাইক নিয়ে সোজা চলে আসে বাড়ি ।

অসময়ে আকাশ কে বাড়িতে দেখে বাড়ির তিন নারীর ভ্রু কুঁচকে আসে ।

চোখ মুখ দেখে তো অসুস্থ মনে হচ্ছে না । দেখে একদম সুস্থ্য ফিটফাট মনে হচ্ছে । অনন্যা শেখ কুচকে যাওয়া ভ্রু ঠিক করে বলেন ,

_ আজ এত দ্রুত অফিস ছুটি দিয়ে দিল ?

_ নাহ্ ।

_ তাহলে ?

_ ছুটি নিয়ে এসেছি ।

_ শরীর খারাপ লাগছে ?

_ নাহ্ ।

_ তাহলে কোথাও যাবি ?

_ হুম ।

_ কোথায় ?

আকাশ সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে ,

_ রাহার কাছে ।

কেউ আর কিছু বলে না ।

ওনারা ভুলেই গিয়েছিল আজ কে রাহার শেষ পরীক্ষা চলছে ।

আকাশ রুমে এসে দ্রুত ড্রেস চেঞ্জ করে আবার তৈরি হয়ে নেয় ।

তার পর ফোন বাইকের চাবি আর ওয়ালেট নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ।

মনে মনে ভীষণ খুশি আকাশ । রাহা ওকে দেখে সারপ্রাইজ হয়ে যাবে ।

,

আকাশ সোজা এসে দাঁড়ায় রাহার স্কুলের সামনে । গেটের থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে রাহাদের বাড়ির ড্রাইভার ।

সে আকাশ কে দেখেই এগিয়ে আসে ।

কথা হয় দুজনের মাঝে ।

এর মধ্যেই স্কুলের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে রাহা ।

প্রথমে আকাশ কে খেয়াল করে না । ড্রাইভার কে দেখে তার দিকে এগিয়ে আসে । কাছাকাছি আসতেই খেয়াল করে ড্রাইভারের সামনে আকাশ দাঁড়িয়ে আছে । মাথায় হেলমেট থাকার কারণে প্রথমে চিনতে পারেনি । আকাশ তো আগামী কাল আসতে চেয়েছিল ।

আকাশ কে দেখেই রাহার মুখে হাসি ফুটে ওঠে ।

ড্রাইভারের কথায় পেছন ফিরে তাকায় আকাশ ।

রাহা দুজনের কাছে এসে দাঁড়ায় । রাহার সাথে রাহার দুজন স্কুল ফ্রেন্ডও আছে ।

_ তুমি না বললে কাল আসবে ?

_ সারপ্রাইজ ।

_ কেমন আছেন ভাইয়া ?

আকাশ রাহার ফ্রেন্ড দুজনের দিকে তাকায় ।

_ আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনারা দুজন কেমন আছেন ?

_ এটা কি ভাইয়া ? আমরা আপনার থেকে বয়সে অনেক ছোট আপনি তুমি করেই বলেন ।

আকাশ একটু হাসে ।

মেয়ে দুজন আরো কিছু কথা বলে চলে যায় ।

আকাশ ড্রাইভার কে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় ।

ড্রাইভার চলে যায় রাহার পরীক্ষার ফাইল টা নিয়ে ।

বাইকে উঠে বসে দুজনেই ।

_ শক্ত করে ধরে বসো আবার পড়ে যেও না ।

_ ধরেছি তো ।

_ আরো ভালো করে ধরো ।

বাইক নিয়ে রাস্তায় উঠতেই রাহার চোখ পড়ে ফেরি করে বিক্রি করা আইসক্রিমের ভ্যানের দিকে ।

_ থামো থামো থামো ।

রাহার এমন জোড়ে জোড়ে বলা কথা শুনে আকাশ দ্রুত রাস্তার পাশে বাইক দার করায় ।

ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ কি হয়েছে ?

রাহা হাত উচু করে রাস্তার অপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আইসক্রিমের ভ্যানের দিকে দেখায় ।

_ খাবো ।

_ এগুলো ভালো না । ভালো আইসক্রিম কিনে দেবো ভালো দোকান থেকে ।

_ কে বলেছে ভালো না ? আমি এখান থেকেই খাবো তুমি এনে দাও ।

রাহার জেদ ধরে বলা কথা শুনে আকাশ বাইক থেকে নেমে দাড়ায় ।

রাহার দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ এখান থেকে এক চুলও নড়বে না আমি এক্ষনি নিয়ে আসছি । কোন ফ্লেভারের টা খাবে বলো ।

_ ভ্যানিলা ।

_ নিয়ে আসছি বসে থাকো । নামবে না কিন্তু বাইক থেকে ।

রাহা মাথা নাড়ায় , নামবে না সে ।

আকাশ রাস্তা পাড় হয়ে আইসক্রিমের ভ্যানের কাছে যায় ।

দুটো ভ্যানিলা ফ্লেভারের আইসক্রিম দিতে বলে ।

বাইকের উপর বসে থেকে রাহা খেয়াল করে ভ্যানের উপর কুলফি আইসক্রিমও আছে । ওর চোখ দুটো আরো চকচক করে ওঠে ।

বাইক থেকে নেমে দাড়ায় । এগিয়ে যেতে শুরু করে ভ্যানের দিকে ।

আকাশ আইসক্রিম হাতে নিয়ে রাহার দিকে তাকিয়ে দেখে রাহা ওর দিকে আসছে ।

আকাশ হাত উচু করে রাহা কে ওখানেই দাঁড়াতে বলে ।

কিন্তু রাহা আকাশের বারণ না শুনে কোনো দিকে না তাকিয়ে দৌড় দেয় ।

মুহূর্তেই দ্রুত গতিতে ছুটে আসা বাইকের সাথে ধাক্কা লেগে যায় । দ্রুত গতিতে ছুটে আসা বাইকের ধাক্কায় রাহা প্রায় উড়ে গিয়ে পড়ে আরেক টা বাইকের নিচে । আগের বাইকে থাকা দুজন ছেলেও আরো অনেক টা দূরে গিয়ে পড়ে বাইকের সাথে ।

রাস্তায় থ হয়ে দাঁড়িয়ে যায় আকাশ । মুহূর্তেই চোখের পলকে কি হয়ে গেল বুঝতেই পারলো না ।

ওর হাত পা অসার হয়ে গেছে । চোখে পলক ও পড়ছে না । মুখ দিয়ে কথাও বের হচ্ছে না ।

রাস্তায় ভিড় জমে যায় । সকল মানুষ দৌড়ে এগিয়ে যায় এক্সিডেন্ট হওয়া বাইক দুটো আর রাহার কাছে ।

মানুষ জনের চিল্লাচিল্লি আর ছোটাছুটি তে আকাশের হুশ ফিরে আসে । হাতের আইসক্রিম ফেলে দৌড়ে যায় রাহার কাছে ।

র*ক্তে লাল হয়ে গেছে রাহার সাদা হিজাব আর ড্রেস ।

দ্রুত হাটু গেড়ে বসে রাহার কাছে । উপুড় হয়ে পড়ে থাকা র*ক্তা*ক্ত রাহা কে টেনে নিজের দিকে ফেরায় ।

অজ্ঞান হয়ে গেছে । থরথর করে কাঁপতে থাকা হাত দিয়ে রাহার গালে আস্তে আস্তে চাপড় দিয়ে নাম ধরে ডাকতে শুরু করে । অনেক বার ডাকার পরেও রাহা তাকায় না কথা বলে না ।

আকাশের দিন দুনিয়া যেন ওলট পালট হয়ে যায় ।

রাহা কে টেনে বুকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে ।

কি করবে না করবে কিছুই ওর মাথায় ধরছে না ।

হতবুদ্ধি হয়ে রাহা কে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বসে রইলো । সাধারণ মানুষ জন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে ।

কয়েক জন বাইকার তিন জনের কাছে গিয়ে তাদের ধরে ধরে দার করাচ্ছে । যেই বাইকের সাথে রাহার প্রথম ধাক্কা লেগেছিল সেই বাইকের একজন অজ্ঞান হয়ে গেছে । হেলমেট না থাকার দরুন মাথা ফেটে গেছে। র*ক্তে রাস্তা লাল হয়ে গেছে ।

বিজ্ঞাপন

দুজন কিছুটা সুস্থ্য থাকলেও রাহা আর ওই ছেলেটির বেশ গুরতর অবস্থা ।

ওখানে থাকা একজন এম্বুলেন্স ডাকে । হসপিটাল কাছেই খুব বেশি দেরি হবে না আসতে ।

এর মাঝে আকাশ আরো অনেক বার ডাকে রাহা কে । তবে ছটফটে চঞ্চল দুরন্ত রাহা এখন নিস্তেজ হয়ে আছে। আকাশের শত ডাক ওর কানে পৌঁছাচ্ছে না ।

পা*গল প্রায় আকাশের করুন ডাক রাহার কান অব্দি পৌঁছাচ্ছে না এখন ।

,

হসপিটালের করিডোরে চেয়ারে বসে আছে আকাশ ।

গাঁয়ের শার্ট রাহার র*ক্তে মাখামাখি । দুই হাতে মুখ ঢেকে রেখেছে । মুখ তুলছে না কারো সাথে কথাও বলছে না । রাহা ওটিতে রয়েছে । আকাশের পাশেই বসে আছেন অনন্যা শেখ । তিনি ছেলেকে সান্তনা দিচ্ছেন । ছেলে তার হসপিটালে আসার পর থেকে একটা কথাও বলেনি । কেমন পাথরের মূর্তির মতো চুপ করে রয়েছে । শেখ বাড়ির সকলেই উপস্থিত আছে হসপিটালে ।

উন্মাদের মতো পায়চারি করছে রিশাদ । চোখে মুখে আতঙ্ক, চুল গুলো এলোমেলো উস্কখুস্ক । ওর পাশে পাশে হাঁটছে নীলা । বার বার শান্ত হয়ে এক জায়গায় বসতে বলছে । প্রাণের আদরের ছোট বোনটার এমন অবস্থায় পা*গল হয়ে গেছে সে । একদিকে মা অন্য দিকে আবার বোনটা ।

রাহার দাদি এখনো জানেনা রাহার এ*ক্সি*ডে*ন্টের কথা ।

সে মেইডের সাথে বাড়িতেই রয়েছেন ।

দীর্ঘ সময় পর ওটি থেকে বেরিয়ে আসে ডক্টর ।

ডক্টর কে দেখেই সকলে এগিয়ে যায় ।

আকাশ আর রিশাদ ডক্টরের সামনে দাঁড়ায় ।

_ ডক্টর আমার বোন ?

_ এখন বিপদ মুক্ত আছে । খুব বেশি ক্ষতি না হলেও কমও হয়নি । ডান সাইটে বেশি আঘাত পেয়েছে । ডান পায়ের একটা হার ভেঙ্গে গেছে সম্ভবত । মাথার ডান পাশে বাইকের কোনো একটা কিছুর সাথে জোড়ে আঘাত লেগে মাথার স্ক্যাল্পে কিছুটা গর্ত হয়ে গিয়েছিল। যার কারণে মাথা থেকে এত ব্লিডিং হচ্ছিল । চব্বিশ ঘন্টা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখতে হবে । পাঁচ ছয় ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসবে ।

আকাশ বলে ,

_ রাহার কিছু হবে না তো ?

_ সেরকম আর কোনো বিপদ নেই । আল্লাহ তায়ালা চাইলে খুব শীগ্রই সুস্থ্য হয়ে যাবে । আল্লাহর কাছে দোয়া করুন । আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি বাকিটা আল্লাহর হাতে ।

ডক্টর চলে যায় ।

কিছুক্ষণ পর রাহা কে ওটি থেকে বের করে আনা হয় ।

সকলেই ঘিরে ধরে রাহা কে । বোন কে এমন অবস্থায় দেখে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে রিশাদের চোখ থেকে । আকাশ দুর্বল নয়নে তাকিয়ে থাকে রাহার দিকে । সকলের চোখ দুটো পানিতে টুইটুম্বর হয়ে উঠেছে ।

রাহা কে সকলের কাছ থেকে আবার নিয়ে যাওয়া হয় এক্সরে করানোর জন্য ।

এক ব্যাগ র*ক্ত দিতে হয়েছে । কারো সাথেই রাহার ব্লাড গ্রুপ ম্যাচ করছিল না । শেষে অসীমের সাথে ম্যাচ করেছে । দুজনের স্বভাব চরিত্রই শুধু এক নয় দুজনের ব্লাড গ্রুপও এক ।

_________________

পরের দিন রাহা কে কেবিনে শিফট্ করা হয় ।

সকলেই যায় দেখা করার জন্য ।

আকাশ কোনো কথা না বলে চুপ চাপ দাঁড়িয়ে আছে এক পাশে । ওর চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে গেছে । সিল্কি চুল গুলো এলোমেলো উস্কখুস্ক । গায়ের শার্ট টা কুচকে গেছে । মুখের রং ফ্যাকাশে হয়ে আছে ।

সকল কে দেখলেও রাহার চোখ দুটো আকাশ কে খোঁজে ।

দেখে এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে অন্য দিকে তাকিয়ে ।

রিশাদ বোনের সাথে অনেক কথা বলে । বকা ঝকাও করে রাস্তায় দৌড় দেওয়ার জন্য । নিজের তো বেহাল দশা করেছেই বাড়ির সকল কে পা*গল বানিয়েছে । গত কাল থেকে কেউ একটুও ভালো ভাবে শ্বাস নিতে পারেনি । নিজের সাথে সাথে আরো তিন জন ব্যক্তিকে বিপদে ফেলেছে । একজনের তো এক পা ভেঙ্গে গেছে ।ওনার চিকিৎসার পুরো খরচ রিশাদ বহন করবে । আকাশ দিতে চাইলেও রিশাদ দিতে দেয়নি । এমনিতেই রাহার চিকিৎসার পুরো খরচ আকাশ দিচ্ছে । রাহার ডান পায়ের একটা হার ভেঙ্গে গেছে । ডান হাতের হার ফেটে গেছে । বুকের ডান দিকে চাপ লাগার কারণে র*ক্ত জমাট বেঁধে গেছে ভেতরে । ডান হাত আর পা প্লাস্টার করা হয়েছে ।

একে একে সকলেই কথা বলে রাহার সাথে ।

কিন্তু রাহার মন আকাশের সাথে কথা বলার জন্য উতলা হয়ে উঠেছে ।

অনন্যা শেখ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ তোরা কথা বল আমরা বাইরে আছি ।

অনন্যা শেখের কথা শুনে সবাই বেরিয়ে যায় কেবিন থেকে ।

আকাশ মাথা ঘুরিয়ে মায়ের দিকে তাকায় তারপর রাহার দিকে তাকায় । আকাশের রাগী চোখ মুখ দেখেই ঢোঁক গিলে নেয় রাহা । অনন্যা শেখ বাইরের দিকে এগিয়ে যেতে নিলেই রাহা ডেকে ওঠে ।

_ মা কোথায় যাচ্ছো তুমি ? এখানেই বসে থাকো ।

_ তোমরা কথা বলো আমি বাইরে আছি ।

_ না না না তুমি কোথাও যাবে না । তুমি এখানেই বসে থাকো কোনো রকম সমস্যা হবে না ।

অনন্যা শেখ ছেলের মুখের দিকে তাকায় । ছেলের রাগি চোখ মুখ আর শক্ত চোয়াল দেখেই বুঝতে পারে রাহা কেনো ওনাকে বাইরে যেতে দিতে চাইছে না ।

এই ছেলে যে ভয়ংকর রকমের রেগে আছে ।

গত কাল থেকে কারো সাথেই কথা বলেনি । কিছু খায়ওনি । দুপুরে অনন্যা শেখ জোর করে ধরে অল্প খাবার খাইয়ে দিয়েছিল ।

রাহার জ্ঞান ফেরার পর রাতে একবার আইসিইউতে দেখা করতে গিয়েছিল । তার পর আর যায়নি ।

আকাশের চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে রাহা কে মাথায় তুলে আছাড় মা*র*বে একটা ।

আকাশ এগিয়ে যায় রাহার কাছে । টুল টেনে বসে পাশে।

গম্ভীর থমথমে কন্ঠে বলে ,

_ এখন কেমন লাগছে ?

রাহা দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বলে ,

_ ভালো ।

_ শুধু ভালো ?

_ কেনো ?

_ অনেক ভালো লাগার কথা না ?

রাহা বলে না কিছু ।

আকাশ ধমকে বলে ,

_ শান্তি হয়েছে বাড়ির প্রত্যেক টা মানুষ কে পা*গল বানিয়ে ? একেক জনের কি অবস্থা হয়েছে দেখেছো?

ভাইয়া কে দেখেছো ? তোমার এ*ক্সি*ডে*ন্টের কথা শুনে ভাইয়ার কেমন অবস্থা হয়েছিল তোমার কোনো ধারণা আছে ? তোমার বাবা মা তোমার এই এ*ক্সি*ডেন্টের কথা শুনলে কেমন অবস্থা হবে তাদের কোনো ধারণা আছে তোমার ? বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও বাইক থেকে নেমে গেছো । নেমেছো তো নেমেছো অন্ধের মতো কোনো দিকে না তাকিয়ে আবার দৌড় দিয়েছো । নিজের সাথে সাথে আরো কয়েক জন কে যমের দুয়ারে নেওয়ার ইচ্ছে ছিল নাকি ?

ঝামেলা না করলে তোমার বোধহয় ভালো লাগে না তাইনা ? যদি কিছু একটা হয়ে যেতো কি হতো তখন ?

আকাশের ধমকে ধমকে বলা কথা শুনে ঠোঁট উল্টে কেঁদে দেয় রাহা । কেঁদে কেঁদেই বলে ,

_ তুমি বলেছিলে আমাকে আর বকবে না ।

আকাশ আবার ধমকে উঠে বলে ,

_ বকবো না বলেছি বলে এমন একটা কাজ করবে ?

_ আমি বুঝতে পারিনি তো ।

_ কোন জিনিসটা বুঝতে পারো তুমি ?

রাহা ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাদতে শুরু করে । কোথায় একটু আদর করবে ভালোবাসবে সেখানে অগ্নি রূপ ধারণ করে বকা ঝকা করছে ।

অনন্যা শেখ আকাশ কে উদ্দেশ্য করে বলেন ,

_ মেয়েটার এমনিতেই এই অবস্থা তার উপর তুই এভাবে বকছিস কেনো ? মেয়েটা ভয়ে কেঁদেই দিয়েছে ।

বকা ঝকা না করে ভালো ভাবে কথা বল আমি বাইরে যাচ্ছি ।

নিজের কথা শেষ হতেই বাইরে বেরিয়ে যান অনন্যা শেখ ।

_ কাদঁছো কেনো ?

_ বকছো কেনো ?

_ বকবো না ? কাল থেকে আমার কেমন লাগছে তুমি বুঝবে কিভাবে ? তোমার ঐ রকম অবস্থা দেখে আমার শ্বাস আটকে গিয়েছিল । বুকের ভেতর অসহনীয় যন্ত্রণা হচ্ছিল । আমার কেমন ফিল হচ্ছিল কিভাবে বোঝাবো কাউকে ! তোমার কিছু হয়ে গেলে আমার কি হতো ? কাকে নিয়ে বাঁচতাম আমি ? তোমাকে ছাড়া কিভাবে থাকতাম আমি ?

রাহা আকাশের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । আকাশের চোখ দুটো চিকচিক করছে । গলা ভারী হয়ে এসেছে ।

রাহা নিজের চোখের পানি বাম হাত দিয়ে মুছে নেয় । বাম হাত টা বাড়িয়ে দেয় আকাশের দিকে । আকাশ রাহার হাত টা চেপে ধরে । হাতের উলটো পিঠে চুমু খায়। বুকের বা পাশে চেপে ধরে বলে ,

_ এখান টায় অনেক ব্যাথা হচ্ছে কাল থেকে । তোমাকে এত বার করে বলি তার পরেও তুমি এমন বেখেয়ালি ভাবে কেনো চলাফেরা করো ? কাল যদি বড় ধরনের কিছু একটা হয়ে যেতো ! কি হতো তাহলে ?

বুক থেকে রাহার হাত টা তুলে আবার হাতের উল্টো পিঠে চুমু খায় । নিজের গালে রাহার হাত টা চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে নেয় ।

বিজ্ঞাপন
আমার ঝামেলা রানী গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক উপন্যাস