আমার ঝামেলা রানী

পর্ব - ১৫

🟢

হসপিটাল থেকে রাহা কে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে ।

আকাশ ওকে কোলে করে সোজা নিজের রুমে নিয়ে আসে । পেছন পেছন বাড়ির সবাই আসে ।

রাহা কে বেডে শুইয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাড়ায় আকাশ।

রাহার দিকে তাকিয়ে শাসিয়ে বলে ,

_ সারাদিন উল্টা পাল্টা কাজ , ঝামেলা করা ছাড়া তো আর কোনো কাজ কর্ম নেই তোমার । পারলে বেড থেকে নামতে গিয়ে আরেকটা পা ভেঙ্গে নিও ।

রাহা মুখটা ছোট করে বলে ,

_ বকছো কেনো ?

_ ভালো ভাবে বললে তো কথা তোমার মস্তিষ্ক অব্দি পৌঁছায় না কান অব্দি গিয়েই আটকে যায় সেই জন্যই ।

_ নামবো না বেড থেকে জীবনেও নামবো না ।

_ হুম মনে থাকে যেন ।

_ সারা জীবন মনে থাকবে ।

_ সারা জীবন মনে রাখতে হবে না , চব্বিশ ঘণ্টা মনে থাকলেই হলো ।

আকাশ বেডের কাছ থেকে সরে আলমারির সামনে এসে দাঁড়ায় । টিশার্ট ট্রাউজার টাওয়াল নিয়ে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ।

সায়মা শেখ আর অনন্যা শেখ রান্না করার জন্য চলে যায় । মিলা যায় সকলের জন্য লেবু দিয়ে ঠান্ডা শরবত তৈরি করার জন্য ।

রিশাদ রাহা কে এই বাড়িতে পৌঁছে দিয়েই অফিসে চলে গেছে । বোনের এক্সিডেন্ট এর কারণে টেনশনে অফিসের কাজে মন বসাতে পারেনি দুদিন । অফিসেও যায়নি । তাই আজকে যেতেই হলো ।

নীলা আর রাহার দাদি এসেছে রাহার সাথে । বিকেলে রিশাদ এসে নীলা কে নিয়ে যাবে । দাদি কয়েক দিন থাকবে রাহার কাছে ।

,

দুপুরে খাবার খেয়ে নেয় সবাই ।

অনন্যা শেখ নিজের হাতে রাহা কে খাইয়ে দেয় ।

মেডিসিন খাইয়ে দিয়ে ঘুমোতে বলে ।

সবাই বিশ্রাম নিতে রুমে চলে যায় । দুদিন ধরে সকলের উপরেই বেশ ধকল গেছে । একটা মেয়ের জন্য দুইটা ফ্যামিলির মানুষ পা*গল হয়ে গিয়েছিল ।

এই মুহূর্তে ঘুমে আকাশের দুই চোখ বন্ধ হয়ে আসছে অটোমেটিক । ঝামেলা রানীর জন্য দুই রাত ঘুমোতে পারেনি । ডোর ভিড়িয়ে দিয়ে জানালা লাগিয়ে দিয়ে এসে বেডে উঠে বসে ।

রাহা চিৎ হয়ে শুয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আকাশ কে দেখে চলেছে । আকাশ যে দিকে যায় রাহা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় ।

_ মাথায় আঘাত লেগেছে মনে নেই ? ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এদিক সেদিক তাকাচ্ছো কেনো ?

_ তোমার চোখ মুখ কেমন শুকিয়ে গেছে ।

_ আমার চিন্তা না করে নিজের চিন্তা করো । কি হাল করেছো নিজের !

_ আবার বকছো !

_ কোথায় বকলাম ?

রাহা মুখ ছোট করে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলো । আকাশ রাহার গা ঘেঁষে শুয়ে মাথাটা উচু করে রাহার গালে কপালে চুমু খায় ।

তার পর সোজা হয়ে শুয়ে বলে ,

_ এখন ঘুমাও আর কোনো কথা না ।

রাহা আবার আকাশের দিকে ঘুরে তাকায় ।

_ একটু জড়িয়ে ধরো ।

_ নিজের অবস্থা দেখেছো ? জড়িয়ে ধরবো কোথায় ? মাথায় ব্যান্ডেজ হাতে প্লাস্টার পায়ে প্লাস্টার বাম হাতের জায়গায় জায়গায় ব্যান্ডেজ । ধরার মত কোনো জায়গা বাদ আছে ?

_ পেটের উপর দিয়ে ধরবে, এখানে তো কিছু হয়নি ।

_ মাথার সব তার ছিঁড়ে টিরে গেছে নাকি ? চুপ চাপ ঘুমাও ।

রাহা গাল ফুলিয়ে অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয় । কত গুলো দিন ধরে জড়িয়ে ধরে ঘুমায় না, ওর কি ভালো লাগে নাকি ? একটু জড়িয়ে ধরলে কি হয় ?

রাহার দুই চোখ পানিতে টুইটুম্বর হয়ে যায় । পাষাণ লোক একটা একটু জড়িয়ে ধরতে বললো তাও ধরবে না । আবার ধমকও দিল ।

আকাশ আবার রাহার গা ঘেঁষে শোয় । আলতো করে রাহার উপরে হাত উঠিয়ে জড়িয়ে ধরে । রাহার ঘাড়ে মুখ গুঁজে বলে ,

_ ঘুমের ঘোরে ব্যাথা দিলে কিন্তু আমার দোষ নেই । তখন বলতে এসো না আমি ব্যাথা দিয়েছি ।

_______________________

কে*টে গেছে অনেক গুলো দিন ।

রাহা এখন পুরোপুরি সুস্থ্য । আয়শা খানম কে ইংল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছে দুই মাস আগে ।

উনিও অনেক টা সুস্থ্য হয়ে গিয়েছেন । চার টা সার্জারির কারণে শরীর স্বাস্থ্য অনেক টা শুকিয়ে গেছে।

তবে এখন মোটামুটি সুস্থ্য আছেন ।

এখন রাত নয়টা । সকলের রাতের খাবার শেষ করে সবাই নিজেদের রুমে চলে গেছে । আকাশ রাহা কে রুমে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। রান্না ঘরে এসে সসপ্যানে পানি গরম হতে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো ।

রাহা রুমে আসতেই আকাশের ফোন বেজে ওঠে ।

এগিয়ে যায় ফোনের কাছে । ফোন হাতে নিয়ে দেখে অপরিচিত একটা নাম্বার, সেভ করা নেই ।

ভ্রু কুঁচকে কিছু সময় তাকিয়ে থাকার পর মনে পড়ে রিশাদের একটা নাম্বার শেষে 78 । হয়তো আকাশ এই নাম্বার সেভ করেনি । রিসিভ করবে করবে অমনি লাইন কে*টে যায় ।

ফোনের লক খুলতে নিতেই আবার রিং বেজে ওঠে ।

সময় অপচয় না করে তাড়াতাড়ি রিসিভ করে ।

কানে ধরে কিছু বলবে তার আগেই ওপর পাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠস্বর ভেসে আসে ।

_ হ্যালো বেঈব । কখন থেকে ফোন করছি আকাশ রিসিভ করছো না কেনো ? রাগ করেছো ? সরি এমন ভুল আর কখনো করবো না এবারের মত মাফ করে দাও প্লিজ ।

রাহা মেয়েটির কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় । মুখ দিয়ে একটা কথাও বের হয় না । হাত পা ঠকঠক করে কাঁপতে থাকে ।

অপর পাশ থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে মেয়েটি আবার বলে ,

_ কথা বলছো না কেনো আকাশ ? সরি বলছি তো ? প্লিজ কথা বলো । আমি তোমাকে ওয়েট করতে বলেছিলাম আমার জন্য । ওয়েট না করে চলে গেছো কেনো ?

_

_ আকাশ, আকাশ শুনতে পাচ্ছো আমার কথা ? উত্তর দিচ্ছো না কেনো জান ? কথা বলো আকাশ প্লিজ। এমন ভুল আর কখনো করবো না প্রমিজ । একটা বার কথা বলো প্লিজ । তোমার গলার স্বর না শুনলে আমার ঘুম আসবে না আকাশ ।

কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ফোন কে*টে দেয় ।

রাহা যেন বরফের ন্যায় জমে গেছে । হাত পা নড়ছে না।

কে ছিল এই মেয়েটি ? আকাশের সাথে কি সম্পর্ক ?

হাত কাঁপতে কাঁপতে ফোন নীচে পরে যায় । ফোন পড়ার শব্দে হুশ ফিরে আসে । দ্রুত ফোন টা কুড়িয়ে নেয় । স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখে গ্লাস পেপার ফেটে গেছে । ফোনটা যেখানে ছিল সেখানেই রেখে দেয় দ্রুত।হেঁটে গিয়ে বসে বেডে । হাত পা অস্বাভাবিক ভাবে কাপছে । ভেতর টা পুড়ছে ভীষণ ।

গত কয়েক দিনের আকাশের আচরণের কথা ভাবে ।

গত কয়েক দিন ধরে আকাশ আগের মত রাহার সাথে কথা বলে না । রাহা বলতে গেলেও বলার সুযোগ দেয় না । বাড়িতে যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ ফোন ল্যাপটপ আর অফিসের পেপার নিয়েই বিজি থাকে । রাহা আকাশের সাথে খুনসুঁটি করার চেষ্টা করলেও আকাশ বিরক্ত হয়ে রাহা কে নিজের থেকে সরিয়ে দেয়। রাতেও বারোটা একটা পর্যন্ত ল্যাপটপ নিয়ে বসে থাকে । রাহার কাছাকাছি যাওয়ারও চেষ্টা করে না । রাহা আসতে চাইলেও আসতে দেয় না । আগের থেকে অনেক টা পরিবর্তন হয়ে গেছে ।

এর আগেও অনেক বার অফিসের কাজ করেছে কখনো এমন অদ্ভুত আচরণ করেনি ।

আকাশের এমন অদ্ভুত আচরণের মানে কি এই মেয়েই ? এই মেয়ের সাথে কি কোনো সম্পর্ক আছে ?

রাহা নিজেকে স্বাভাবিক করার জন্য হা করে বড় বড় শ্বাস টেনে নেয় । কেনো হচ্ছে ? কি করতে ইচ্ছে করছে ? কি করবে ? কিছুই মাথায় আসছে না । সব কিছু কেমন এলোমেলো লাগছে ।

বেড থেকে উঠে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাড়ায় । চুলের ঝুটি খুলে চুল ব্রাশ করতে শুরু করে ।

অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপতে থাকা হাত কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে ।

তবে বুকের মধ্যে অদ্ভুত যন্ত্রণা হচ্ছে । মনটা বড্ড ছটফট করছে ।

কফির মগ হাতে রুমে আসে আকাশ । রুমে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে সেদিকে একবার তাকায় রাহা । আকাশ কে দেখতেই বুকের ভেতরের অস্থিরতা কষ্ট যন্ত্রণা বাড়তে থাকে ।

বিজ্ঞাপন

আকাশ কফির মগ হাতে বেডে গিয়ে বসে ।

রাহার দিকে তাকিয়ে কফির মগে চুমুক দেয় ।

রাহা দ্রুত চুল গুলো বেঁধে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ।

আয়নার দিকে তাকাতেই নিজের অস্থির হয়ে থাকা মুখশ্রী দেখে । চোখ দুটো পানিতে টুইটুম্বর ।

শাওয়ার অন করে দুই হাতে পানি নিয়ে মুখে দিতে শুরু করে । এতক্ষণের আটকে রাখা কান্না ঠেলে বেরিয়ে আসে । মুখে হাত চেপে কান্না বন্ধ করতে ব্যার্থ চেষ্টা চালিয়ে যায় ।

দশ মিনিট পর নিজেকে স্বাভাবিক করে নেয় । ফ্রেস হয়ে হাত মুখ ধুয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয় ।

আকাশের কফি খাওয়া শেষ । বেড ঠিক করে দাঁড়িয়ে আছে ।

রাহা টাওয়াল নিয়ে হাত মুখ মুছে নেয় ।

টাওয়াল রেখে পেছন ঘুরতে নেবে তার আগেই আকাশ এসে দাঁড়ায় রাহার পেছনে । হাত বাড়িয়ে রাহা কে টেনে নেয় নিজের বাহু বন্ধনে । মুখ ডুবায় রাহার ঘাড়ে ।

রাহা আকাশের হাত থেকে নিজেকে আলাদা করে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ে চাদর মুড়ি দিয়ে ।

আকাশ শুধু তাকিয়ে দেখে রাহা কে । কি হলো বোঝার চেষ্টা করে । এভাবে চলে গেল কেনো ?

অন্য সময় তো নিজেই আকাশের আলিঙ্গনে আসার জন্য ছটফট করে । আর এখন এভাবে চলে গেল ?

পাঁচ টা চুমুর জায়গায় দুটো চুমু কম দিলে গাল ফুলিয়ে কাঁদে । দশ মিনিট জড়িয়ে ধরে রাখার জায়গায় পাঁচ মিনিট জড়িয়ে ধরে রেখে ছেড়ে দিলে ঠোঁট উল্টে কাঁদে।

পাঁচ টা চুমুর জায়গায় দশ টা চুমু দিতে হয় । দশ মিনিটের জায়গায় পনেরো মিনিট জড়িয়ে ধরে রাখতে হয় ।

সেই মেয়ে কিনা এভাবে ওকে দূরে সরিয়ে চলে গেল ?

কি হয়েছে রাহার ? ভ্রু কুঁচকে রাহার কাছে এগিয়ে যায়।

_ তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে রাহা ?

রাহা কিছু বলে না ।

_ কথা বলছো না কেনো ? অসুস্থ লাগছে ?

_ নাহ্ ।

_ তাহলে এভাবে চলে আসলে কেনো ?

_ এমনি ভালো লাগছে না ঘুমাবো ।

আকাশ আর কিছু বলে না । তবে রাহার গলার স্বর আজ অন্য রকম । হয়তো কয়েক দিন ধরে আকাশ ওর থেকে দূরে দূরে আছে সেজন্যই অভিমান করেছে ।

লাইট অফ করে বেডে গিয়ে শুয়ে পড়ে রাহা কে জড়িয়ে ধরে । রাহা মোচড়া মোচড়ি শুরু করে ।

_ ঘুমাবে বলে ? তাহলে এভাবে নড়ছো কেনো ?

_ ছাড়ো এভাবে ঘুম আসছে না ।

রাহা নিজেই আকাশের থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিয়ে অন্য পাশ ফিরে শোয় ।

আকাশের কুচকে যাওয়া কপাল ভ্রু আরো কুচকে যায়। এই মেয়ে এখন এমন অদ্ভুত আচরণ করছে কেনো ?

কি হলো একটু সময়ের মধ্যে ? সব তো ঠিকই ছিল ।

রাহা কে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলেও করে না । নিজেও উল্টো দিকে ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করে ।

,

সকালে আকাশের ঘুম ভাঙ্গতেই নিত্য দিনের মত হাত ছড়িয়ে রাহা কে খোঁজে চোখ বন্ধ রেখেই । হাতের নাগালে রাহা কে না পেয়ে চোখ খুলে তাকায় । বেড ফাঁকা পড়ে আছে রাহা নেই । ওয়াশরুমের দিকে তাকায় । ডোর খোলা ভেতরের লাইট অফ করা ।

শোয়া থেকে উঠে বসে । এলোমেলো চুল গুলো হাত দিয়ে ঠিক করার চেষ্টা করে । অলস ভঙ্গিতে দুই হাত দুদিকে মেলে দেয় ।

তার পর বেড থেকে নেমে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ।

রাহা শাশুরি মায়ের সাথে সাথে টুকটাক কাজ করছে । এটা সেটা ধুয়ে দিচ্ছে এগিয়ে দিচ্ছে হাতের কাছে ।

যেটা রান্না শেষ হচ্ছে সেটা ডাইনিং টেবিলে গিয়ে রেখে আসছে ।

আজকে কোনো কাজে ঝামেলা করেনি ।

আজ ছুটির দিন সবাই বাড়িতেই আছে । নিঝুম এসেছে শশুর বাড়ী থেকে । মিলা সন্ধ্যা কে খাইয়ে দিচ্ছে ওদের পাশেই বসে মিলার সাথে কথা বলছে নিঝুম । রাহা কে বার বার ডাকছে ওর কাছে এসে বসার জন্য কিন্তু রাহার মাথায় আজ কাজ করার ভূ*ত চেপেছে ।

ডাকতে ডাকতে হয়রান হয়ে ডাকা বন্ধ করে দিয়েছে নিঝুম । এই রাহার মাথায় কখন কিসের ভূ*ত চেপে বসে বোঝা মুশকিল । একবার রান্নার ভূ*ত চাপে , আবার ঘর মোছার ভূ*ত চাপে । তো আবার রান্না শেখার ভূ*ত চাপে ।

আকাশ রুম থেকে বের হতেই মুখোমুখি হয় বড় ভাইয়ের । দুজন এক সাথে কথা বলতে বলতে নিচে নেমে আসে । অসীম এখনো নিজের রুমে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে । তার ঘুম দুপুরের আগে ছুটবে না ডাক না দেওয়া পর্যন্ত ।

সমুদ্র গলা ছেড়ে মায়ের কাছে চা চায় দুজনের জন্য ।

অনন্যা শেখ সসপ্যানের বাকি চা টুকু আবার চুলায় বসায় গরম করার জন্য ।

রাহা দুটো কাপ নিয়ে আসে ।

অনন্যা শেখ কাপে চা ঢেলে চিনি দিয়ে নেড়ে রাহা কে বলে দিয়ে আসার জন্য ।

বিনা বাক্যে কাপ দুটো দিয়ে আসে ।

,

বিকেলে বাহির থেকে বাড়ি ফিরে আসে আকাশ ।

নীলয় আর রাফি জোর করে ধরে নিয়ে গিয়েছিল । বিয়ে করার পর থেকে ব্যাটা ছুটির দিনেও বাহিরে বের হয় না । সারা দিন রাত বউয়ের পেছনে শুধু ঘুর ঘুর ।

তাই ধরে নিয়ে গিয়েছিল একটু সময় কা*টানোর জন্য ।

আকাশ ড্রইং রুমে আসতেই দেখে ছোটরা সবাই উপস্থিত থাকলেও রাহা নেই ।

ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে ,

_ তোমরা সবাই এখানে আমার ঝামেলা রানী কোথায় ?

অসীম বলে ,

_ দেখো গিয়ে তোমার ঝামেলা রানী কোথায় গিয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছে ।

_ ভাই তুই তোর বউয়ের নাম টা কিন্তু সেই দিয়েছিস একেবারে জামিলা রাহা থেকে ঝামেলা রানী । রাহার ব্যক্তিত্বের সাথে নাম টা একশো পার্সেন্ট মানানসই ।

উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে ওঠে ।

অসীম জোরে জোরে ডেকে বলে ,

_ ঝামেলা রানী কোথায় তুমি ? তোমার রাজা এসেছে দ্রুত আসো ।

পাশ থেকে নিঝুম অসীমের মাথায় গাট্টা মে'রে বলে ,

_ ভাবী হয় তোর । এভাবে ডাকছিস কেনো ?

_ ঝামেলা রানী আমার থেকে পাঁচ বছরের ছোট ওকে আমি ভাবী ডাকতে পারবো না ।

_ তাহলে রাহা বলে ডাকবি ।

_ ঝামেলা রানী ডাকতেই বেশি ভালো লাগে।

পাশ থেকে অসীমের চাচাতো ভাই সমুদ্র চাটি মা*রে অসীমের মাথায়।

অসীম মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,

_ সমস্যা কি ? এমন করে মা*র*ছো কেনো সবাই ?

আকাশ কোনো কথা না বলে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। কে জানে ওর ঝামেলা রানী কোথায় গিয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছে । এর তো আবার ঝামেলা করা ছাড়া কোনো কাজ নেই । ওর কাজ একটাই সেটা হলো ঝামেলা করা । তবে আজ সকাল থেকে একটাও ঝামেলা করেনি ।

আকাশ নিজের রুমে এসে দেখে রাহা আলমারির সব কাপড় নিচে ফেলে আবার ভাঁজ করে করে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখছে ।

এমন দৃশ্য দেখে আকাশের চোখ কপালে । ঝামেলা রানী ঝামেলা না করে কাজ করছে ?

কাল থেকে ঝামেলা রানীর হয়েছে কি ? প্রয়োজনের তুলনায় কথা বলছে না । হাসছে না । কারো সাথে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করছে না । কোনো ঝামেলাও করছে না । অসীমের সাথে মিলে বাঁদরামিও করছে না ।

একদম ম্যাচিউর মানুষের মত আচরণ করছে ।

ঠিক ঠাক ভাবে সব কাজ করছে ।

এক দিনের মধ্যে এত পরিবর্তন কিভাবে আসলো ?

বিজ্ঞাপন
আমার ঝামেলা রানী গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক উপন্যাস