আমার ঝামেলা রানী

পর্ব - ১৮

🟢

অসীম রাহা কে ঝামেলা রানী বলে ডাকতে ডাকতে আকাশের রুমের দিকে এগিয়ে আসছে ।

রাহা তখন ড্রেসিং টেবিল টা গুছিয়ে রাখছিল ।

অসীমের ডাক শুনে ডোরের দিকে তাকিয়ে থাকে ।

এখন তিন টার বেশি বাজে ।

আজকে ছুটির দিন । দুপুরে খাবার খেয়ে আকাশ রাহা কে চেপে ধরে শুয়ে ছিল ঘুমোনোর জন্য । আকাশ ঘুমিয়ে গেলেও রাহার ঘুম আসে না । আকাশের বাহু বন্ধন থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিয়ে উঠে এসেছে ।

বসে বসে ভালো লাগছিল না তাই ড্রেসিং টেবিল টা গুছিয়ে রাখছিল ।

ডোরের দিক থেকে চোখ সরিয়ে বেডের দিকে তাকায় । চাদর দিয়ে কোমর অব্দি ঢেকে চিৎ হয়ে ঘুমিয়ে আছে আকাশ । অসীমের এই ডাকাডাকিতে না আবার ঘুম ভেঙ্গে যায় ।

অসীম রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরে উঁকি দেয় । রাহা কে দেখতে না পেয়ে মাথা ঢুকিয়ে দেয় ভেতরে । বেডের দিকে তাকিয়ে দেখে ভাইয়া ঘুমিয়ে আছে রাহা নেই । রুমের আশে পাশে নজর বুলাতেই দেখে রাহা ড্রেসিং টেবিলের সামনে হাঁটুতে ভর করে বসে আছে ।

অসীম ভেতরে প্রবেশ করে । এসে দাঁড়ায় রাহার পাশে।

_ কখন থেকে ডাকছি সাড়া দিচ্ছিলে না কেনো ?

_ তোমার ভাইয়া তো ঘুমিয়ে আছে সাড়া দিলে যদি উঠে যায় তাই ।

_ ওরে ঝামেলা রানী রে আমি এত জোড়ে জোড়ে ডাকছি সেই ডাকে উঠবে না আর তুমি একটু সাড়া দিলেই উঠে যাবে ?

_ ডাকছিলে কেনো ?

_ তোমার জন্য আইসক্রিম ফ্রিজে রেখেছি খেয়ে নিও । আপুর টা আপু নিয়েছে ।

_ তুমি খাবে না ?

_ খেয়েছি ।

_ আমার জন্য কয়টা রেখেছো ?

_ একটা ।

রাহা গাল ফুলিয়ে বলে ,

_ তোমাকে বলেছি না আমার জন্য দুটো করে নিয়ে আসতে ?

_ দোকানে আর ছিল না তো ।

_ অন্য দোকানে তো ছিল ।

_ না ছিল না ।

_ মিথ্যে কথা ।

_ সত্যি কথা বলছি ।

রাহা ফুলানো গাল ফুলিয়ে রেখেই ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে মেকআপ প্রোডাক্টস গুলো তুলে রাখতে শুরু করে । অসীম মুচকি হাসে । আইসক্রিম দুটোই রেখেছে রাহার জন্য । ও জানে একটা আইসক্রিম খেয়ে রাহার মন ভরবে না । ওর দুটোই লাগবে ।

অসীম নিচু হয়ে রাহার ফুলিয়ে রাখা দুই গাল চাপ দেয়। সাথে সাথেই মুখের ভেতরের হাওয়া বেরিয়ে যায় ফুস করে । অসীম হেসে ওঠে সাথে রাহা ও হাসে ।

অসীম রাহার লিপস্টিক আর আইলাইনার হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বলে ,

_ ঝামেলা রানী তুমি তো কখনো সাজো না ? মাঝে মধ্যে তো সাঁজতে পারো নাকি ।

_ আমার সাঁজতে ভালো লাগে না আর আমি সাজতেও পারি না ।

_ আসো আমি তোমাকে সাজিয়ে দেই আজকে ।

_ তুমি সাজাতে পারো ?

_ পারিনা তবে চেষ্টা করলে অবশ্যই পারবো । আসো আমার দিকে ঘুরে বসো আমি সাজিয়ে দিচ্ছি ।

রাহা তড়িঘড়ি করে বলে ,

_ জীবনেও না । আমি ভূ* ত সাঁজতে চাই না ভাই তুমি নিজেই সাজো ।

_ আরেহ আমি তো ছেলে মানুষ আর ছেলে মানুষ মেকআপ করে নাকি ? তুমি আমার দিকে ঘোরো আগে।

_ জীবনেও না ।

_ একটু সাজাবো বেশি না । ভালো না হলে ধুয়ে নিও পড়ে ।

_ না না তাও না । আমি সাজবো না ।

_ আমার ভেতরের মেকআপ আর্টিস্ট জেগে উঠেছে । সে এখন তোমাকে সাজিয়ে তবেই ঘুমাবে আবার ।

ঘুমের কথা শুনে রাহা আকাশের দিকে তাকায় । রাহার চোখ অনুসরণ করে অসীম ও তাকায় । ঘুমন্ত ভাই কে দেখেই অসীমের শ*য়*তা*নি মাথায় বদ*মা""য়ে*শি একটা বুদ্ধি আসে ।

ভাইয়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে রাহার দিকে তাকায় ।

দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বলে ,

_ চলো তাহলে ভাইয়া কে মেকআপ করিয়ে দেই ।

_ একদম না । ঘুম থেকে উঠে দুজন কেই গাছের সাথে বেঁধে রাখবে ।

_ আরে ভয় পাচ্ছো কেনো ? কিচ্ছু বলবে না । ভয় পাওয়ার কিছু নেই ।

_ না বকবে ।

_ বকবে না । ভাইয়া উল্টো খুশিই হবে এত সুন্দর সাজ দেখে ।

_ সত্যি বকবে না তো ?

_ না ।

_ যদি বকে ?

_ তাহলে তোমার ভাগের সব বকা আমি খেয়ে নেবো ।

_ সত্যি তো ?

_ একদম । এখন মেকআপ করতে কি কি লাগে সেসব নিয়ে আসো ।

বলেই বেডের দিকে এগিয়ে যায় । রাহা মেকআপ এর প্রয়োজনীয় সব কিছু নিয়ে বেডে চলে আসে ।

দুজন বসে আকাশের দুপাশে ।

অসীম ফিসফিস করে বলে ,

_ প্রথমে কোন টা দিতে হয় ?

রাহা ও ফিস ফিস করে বলে ,

_ প্রথমে মনে হয় ফাউন্ডেশন দিতে হবে ।

_ ওটা দাও ।

অসীম ফাউন্ডেশন নিয়ে অনেক খানি আকাশের দুই গালে মাখায় । অতিরিক্ত ফাউন্ডেশনের কারণে আকাশের দুই ভ্রু ঢেকে যায় । মুখে ছোঁয়া পেয়ে এদিক ওদিক মাথা নাড়ায় ।

_ এখন কোনটা ?

_ লুস পাউডার ।

_ দাও ওটা ।

_ এটা আমি লাগাবো ।

_ আচ্ছা লাগাও ।

রাহা পাউডার দিয়ে পুরো মুখ সাদা বানিয়ে দেয় ।

তার পর আরো যা যা লাগে সব কিছু দিয়ে দেয় ।

দুজনে সাঁজানো শেষ করে সব গুছিয়ে রেখে আলগোছে রুম থেকে বেরিয়ে যায় ।

,

আসরের পর আকাশের ফোন বেজে উঠলে ঘুম ভেঙ্গে যায় । ফোন হাতে নিয়ে নাম্বার না দেখেই রিসিভ করে কানে ধরে ।

উপর পাশ থেকে ভেসে আসে রাফির গলার স্বর ।

_ কি করছিস তুই ?

_ ঘুমিয়ে ছিলাম ।

_ এখন কোন টাইমের ঘুম ?

_ দুপুরে ঘুমিয়ে ছিলাম । বল কি বলবি ।

_ নিচে আয় ।

_ নিচে কেনো ?

_ দরকার আছে তুই আয় । আমি আর নীলয় ড্রইং রুমে বসে আছি ।

_ ফ্রেস হয়ে আসছি দশ মিনিট পর ।

_ এক্ষনি আসবি তুই ফ্রেস পড়ে হবি । খুব আর্জেন্ট তারাতারি আয় ভাই ।

_ আসছি ।

বলেই ফোন রেখে চোখ খুলে তাকায় । তারপর বেড থেকে নেমে সোজা এগিয়ে যায় ডোরের দিকে ।

আকাশ নিচে নেমে আসতেই ড্রইং রুমে উপস্থিত সকলে চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে থাকে । আকাশ বুঝতে পারে না এভাবে ভূ*ত দেখার মত করে তাকিয়ে থাকার কি আছে ? ওতো মানুষই ভূ*ত তো না ।

আকাশ কাছে এগিয়ে আসতেই সোফায় বসে থাকা সকলে হু হা করে দম ফাটা হাসিতে ফেটে পড়ে ।

রাহা অসীম একসাথে বসে আছে । দুজনের চোখ মুখে চোর চোর ভাব ।

মিলা সমুদ্র রাফি নীলয় হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। নীলয় হাসতে হাসতে সোফা থেকে নিচে পড়ে যায় তবুও ওর হাসি বন্ধ হয় না । নিচে শুয়েই হাসতে থাকে । অনন্যা শেখ আর সায়মা শেখ হাসতে হাসতে শ্বাস ও নিতে পারছে না ।

সকল কে এভাবে হাসতে দেখে আকাশের কপাল ভ্রু কুঁচকে যায় । এভাবে হাসছে কেনো সবাই ?

সকলের হাসির শব্দ শুনে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আসে নিঝুম । আকাশ কে দেখেই ফিক করে হেসে ওঠে। হাসতে হাসতে এগিয়ে যায় আকাশের কাছে । কিছু যে বলবে তাও বলতে পারছে না হাসির কারণে । হাসতে হাসতে আকাশের হাত ধরে ওর পায়ের কাছেই বসে পড়ে ।

হাসতে হাসতে সকলের পেটে খিল ধরে গেছে । হাসতে পারছে না আর কিন্তু কিছুতেই হাসি বন্ধ হচ্ছে না ।

একেক জনের চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে এসেছে তবুও দম ফাটা হাসি বন্ধ হচ্ছে না । প্রথম প্রথম রাহা আর অসীম চুপ চাপ বসে থাকলেও একটু পর থেকে ওরাও হাসছে হু হা করে ।

_ কি হয়েছে সবাই এভাবে হাসছো কেনো ?

সমুদ্র কোনো রকম হাসি চেপে বলে ,

_ ভাই তুই তুই আয়নায় নিজেকে

আর বলতে পারে না দম ফাটা হাসিতে ফেটে পড়ে আবার ।

_ নিঝুম কি হয়েছে রে ?

নিঝুম হাতের ইশারায় ভাইকে নিজের কাছে বসতে বলে । আকাশ নিচু হয়ে বসে বোনের কাছে ।

নিঝুম হাসতে হাসতে দুই হাত বাড়িয়ে আকাশের চুলে করে রাখা ঝুটি দুটো ধরে ।

আকাশ দ্রুত চুলে হাত দেয় । মাথার দুই পাশে দুটো শিং বানিয়ে দিয়েছে চুল দিয়ে ।

আকাশ রাহার দিকে তাকায় । রাহা ওর দিকেই তাকিয়ে হাসছে ।

নিঝুম নিজের ফোনের ক্যামেরা অন করে আকাশের মুখের সামনে ধরে ।

ফোনের স্ক্রিনে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে ছিটকে দূরে সরে যায় ।

তারপর আবার নিঝুমের কাছে এসে ওর হাত থেকে ফোন টা নিজের হাতে নেয় । নিজের এমন বেহাল দশা দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় । রাহার দিকে তাকিয়ে জোড়ে ডেকে ওঠে ,

_ রাহায়ায়ায়া.....

রাহার আত্মার পানি শুকিয়ে যায় ।

খপ করে চেপে ধরে অসীমের হাত । অসীম রাহা একে অপরের মুখের দিকে তাকায় ।

আকাশ রাহার দিকে তেড়ে যায় । রাহা ভয়ে বলে ওঠে ,

বিজ্ঞাপন

_ আমি করিনি অসীম করেছে ।

আকাশ রেগে অসীমের দিকে তাকায় ।

অসীম বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় । দে দৌড় , অসীম কে আর পায় কে ! একপ্রকার উড়ে গিয়ে বাড়ির বাইরে গিয়ে ল্যান্ড করে ।

আকাশের চুলে খাড়া খাড়া দুটো ঝুঁটি বেঁধে দিয়েছে লাল টুকটুকে রাবারব্যান্ট দিয়ে । ফাউন্ডেশন আর পাউডার দিয়ে পুরো মুখ দাড়ি সহ সাদা বানিয়ে দিয়েছে। ঠোঁটে মোটা করে লাল টুকটুকে লিপস্টিক । দুই গালে গাঢ় করে ব্লাসার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে লাল টুকটুকে লিপস্টিক । নাকে চোখের নিচে কপালে হলুদ আইশ্যাডো দিয়ে হলুদ বানিয়ে দিয়েছে । চোখের পাতায় মোটা করে কাজল নিয়ে আইশ্যাডো বানিয়েছে । দুই ভ্রু গাঢ় নীল আইশ্যাডো দিয়ে ভ্রু আর্ট করেছে । দেখতে জোকারের চেয়েও বেশি ফানি লাগছে ।

রাহা ভয়ে কাচুমাচু করে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে । আকাশের রাগী চোখ মুখ দেখে অনেক কষ্টে সকলে হাঁসি চেপে রেখেছে । নীলয় তখনো নিচেই বসে আছে । আকাশের দিকে তাকাচ্ছে আর একটু পর পর হাসছে ।

আকাশ রাহার হাত ধরে টেনে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় । রাহা ভয়ে পেছনের দিকে তাকিয়ে থাকে কেউ ওকে যেন আকাশের হাত থেকে বাঁচায় । অনন্যা শেখ সোফা ছেড়ে উঠে আকাশের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে ,

_ তোর এই অবস্থা করেছে অসীম । তুই অসীম কে না ধরে ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিস কেনো ?

_ অসীম একা করেনি সাথে এই ঝামেলা রানী ও ছিল ।

রাহা তড়িঘড়ি করে বলে ,

_ আমি অসীম কে অনেক বার না করেছিলাম কিন্তু অসীম শোনেনি আমার কথা । ওই জোর করে মেকআপ করেছে আমার কোনো দোষ নেই ।

_ অসীম করেছে আর তুমি এখন এগুলো তুলে দেবে ।

রাহা সিঁড়ির কাছে গিয়ে সিঁড়ির রেলিং টেনে ধরে । আকাশ না পেরে রাহা কে কোলে তুলে নিয়ে চলে যায় ।

রুমে এসে ডোর লক করে দেয় আকাশ । রাহা ভয়ে কাচুমাচু করে বলে ,

_ আমি সত্যি অসীম কে করতে নিষেধ করেছিলাম কিন্তু অসীম জোর করে মেকআপ করেছে ।

আকাশ কোনো কথা না বলে রাহা কে টেনে নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ায় ।

_ দেখেছো কি অবস্থা করেছো ?

_ আমি করিনি ।

_ সত্যি করোনি ?

_ একটু করেছি বাকি টা অসীম করেছে ।

নিজের শিংয়ের মত ঝুটি দুটো ধরে বলে ,

_ এ দুটো কে করেছে ?

রাহা এক আঙ্গুল তুলে নিজের দিকে দেখায় ।

_ আর এই হলুদ রঙ কে লাগিয়েছে ?

_ অসীম ।

_ আর এই লিপস্টিক ?

_ এটাও অসীম লাগিয়েছে ।

_ ভ্রু আর চোখের পাতার উপর কালি কে লাগিয়েছে ?

_ আমি ।

_ এত সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছো একটা শাড়িও পরিয়ে দিতে তাহলেই তো ষোলো কলা পূর্ণ হয়ে যেতো।

আকাশ থেকে আকাশী হয়ে যেতাম ।

রাহা ফিক করে হেসে ওঠে ।

_ আমার মানসম্মান খেয়ে দিয়ে এখন খুব হাসি পাচ্ছে ? এত গুলো মানুষের সামনে কি বেজ্জুতিটাই না হলাম ।

_ আমরা কি জানতাম নাকি তুমি ফ্রেস না হয়েই নিচে চলে যাবে ।

_ তা কিভাবে জানবে ? জানবে তো শুধু অকাজ করতে। তোমাদের দুজন কে গরু ছাগলের ঘরে রাখা উচিত । একজন ঝামেলা রানী অন্য জন অকাজের বাদশা । এই শিং খুলে দাও ।

আকাশ মাথা নিচু করে রাহা ঝুঁটি দুটো খুলে দেয় । চুল কয়েক টা ছিঁড়েও ফেলে । ঝুঁটি খুলে ফেলার পরেও চুল গুলো খাড়া খাড়া হয়ে থাকে ।

আকাশ রাহার মাথা ধরে টেনে নিয়ে আসে নিজের কাছে । নিজের গালের মেকআপ রাহার গালে ঘষে ঘষে দেয় । আকাশের খোঁচা খোঁচা দাড়ির ঘর্ষণে গালে ব্যাথা পায় রাহা ।

_ গালে ব্যাথা পাচ্ছি তো ছাড়ো ।

রাহার দুই গালে লিপস্টিক ঘষে দিয়ে রাহার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় । আকাশের ঠোঁটের লিপস্টিক রাহার ঠোঁটে লেপ্টে যায় ।

আকাশ নিজের আইভ্রু থেকে কাজল আঙ্গুলের ডগায় তুলে রাহার চোখের পাতায় ঘষে দিয়ে দেয় ।

দুজনেই তাকায় আয়নার দিকে । দুজনের মুখের এখন প্রায় একই অবস্থা ।

_ এখন ঠিক আছে তাইনা ?

_ আমাকে একা কেনো দিলে ? অসীম বেশি করেছে ওকে দিলে না কেনো ?

_ অসীম কি আমার বউ ? আমি আমার বউ কে সাজিয়েছি ভাইকে কেনো সাজাতে যাবো ?

রাহা কে আবার টেনে শক্ত করে ঠোঁটে চুমু খায় । তার পর জড়িয়ে ধরে উচু করে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ।

,

অসীম আর বাড়ি ফিরে আসেনি । পালিয়েছে ভাইয়ের হাতে মা*র খাওয়ার ভয়ে ।

মিলা সকলের জন্য চা বানিয়ে নিয়ে আসে ।

আকাশ বউ কে নিয়ে রুমে গেল আর ফেরার নাম গন্ধ নেই । কে জানে কি পানিশমেন্ট দিচ্ছে অবুঝ বউ টাকে !

দীর্ঘ সময় পর শাওয়ার নিয়ে ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে আসে আকাশ । রাহা আসেনি এখন ।

গিয়ে বসে দুই বন্ধুর পাশে । মিলা কাপে চা ঢেলে এনে দেয় আকাশ কে ।

_ বল কি এমন জরুরি কথা আছে তোদের ?

রাফি কাপে চুমুক দিয়ে আকাশের দিকে তাকায় ।

_ আগামী কাল আমার মেয়ের প্রথম জন্ম দিন উপলক্ষে ছোট একটা পার্টির আয়োজন করা হবে । তুই আর তোর পুরো পরিবার অবশ্যই আমার বাড়িতে আসবি আগামী কাল বিকেলে ।

_ আচ্ছা আসবো ।

_ শুধু আচ্ছা আসবো বললেই হলো না অবশ্যই আসতে হবে ।

_ অবশ্যই আসবো ।

_ এখন তাহলে আমরা আসছি । অনেক টা লেট হয়ে গেছে । দ্রুত করতে চেয়েছিলাম তাই এক ঘন্টা লেট হয়ে গেল । সারাদিন দৌড়া দৌড়ি করে ম*রা ম*রা ফিলিংস হচ্ছিল কিন্তু এখানে আসার পর হাসতে হাসতে আমি সত্যি সত্যিই ম*র*তে বসেছিলাম। একটুর জন্য বেঁচে আছি । যাই হোক ভাই আমার লেট হয়ে গেলেও এখন অনেক ভালো লাগছে । মাঝে মধ্যে ফ্রিতে বিনোদন পেতে এখানেই আসতে হবে ।

পাশ থেকে নীলয় বলে ,

_ বড় একটা ভুল করে ফেলেছি ?

রাফি ভ্রু কুচকায় । আকাশ বলে ,

_ কি ভুল করেছিস ?

_ মহা ভুল করে ফেলেছি ভাই । হাসতে হাসতে তোর একটা পিক তুলতে ভুলে গেছি । পিক টা তুলে রাখলে মাঝে মধ্যেই হাসতে পারতাম ।

_ হা*রা*মী তোলাচ্ছি তোর পিক ।

বলেই নীলয়ের ঘাড় চেপে ধরে এক হাতে ।

_ ছাড় এমনিতেই সকাল থেকে ঘাড় ব্যথা করছে ।

_ তোর ঘাড় টাই তো আলাদা করে নেওয়া উচিত । না থাকবে ঘাড় আর না করবে ব্যাথা ।

_ ভাই ঘাড় আলাদা হয়ে গেলেও কি মাথা আগের জায়গায় থাকবে ?

নীলয়ের এমন কথা শুনে হো হো করে হেসে ওঠে সবাই।

রাফি বলে ,

_ হ্যাঁ ভাই ঘাড় আলাদা হয়ে গেলেও মাথা আগের জায়গায় থাকবে । কয়েক দিন আগেই তো আমি ঘাড় আলাদা করেছিলাম মাথা আগের জায়গাতেই ছিল । কিন্তু ঘাড় ছাড়া ভালো লাগছিল না বলে আবার ঠিক করে নিয়েছি ।

সবাই আরেক দফা হাসে ।

এরা এত বড় হওয়া সত্ত্বেও ছোটদের মত কথা বার্তা বলে হাসাতে হাসাতে মানুষের পেটের নাড়ি ভুরি পেঁচিয়ে ফেলবে ।

___________________________

দেখতে দেখতে রাহার এসএসসি পরীক্ষা চলে আসে ।

দুদিন পর থেকে পরীক্ষা শুরু । রাহার পরীক্ষার প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে ।

সন্ধ্যার পর অফিস থেকে সোজা আকাশ দের বাড়িতে চলে এসেছে রেজওয়ান মাহবুব । রাহা কে নিয়ে যাবে নিজের সাথে করে পরীক্ষা শেষ হলে আবার চলে আসবে ।

রাত না বাড়িয়ে দ্রুতই রেজওয়ান মাহবুব কে খাবার খেতে দেওয়া হয় । বাড়ির সকল কে ছাড়া রেজওয়ান মাহবুব খাবার খাবেন না । তাই বাধ্য হয়েই বাকি সবাই খেতে বসে ।

খাওয়া শেষ করে সবাই এসে বসে সোফায় । রেজওয়ান মাহবুব রাহার দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ তোমার প্রয়োজনীয় সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছো রাহা ?

রাহা দুদিকে মাথা নাড়ায় ।

_ যাও গুছিয়ে নাও একটু পরেই বের হবো আমরা ।

_ আমি যাবো না আব্বু ।

রেজওয়ান মাহবুব অবাক হয়ে বলে ,

_ কেনো ?

_ আমি এখান থেকেই পরীক্ষা দেবো ।

_ এত দূর থেকে যাতায়াত করতে অসুবিধা হবে । তাছাড়া বোর্ড তো আমাদের বাড়ির কাছেই । দ্রুত সব গুছিয়ে নাও মা দুদিন পড়েই তো পরীক্ষা শুরু । এখন আর এমন জেদ করো না ।

_ তাহলে ওকেও যেতে হবে ।

আকাশ কে দেখিয়ে বলে । আকাশ বিরোধিতা করে বলে ,

_ পা*গ*ল হয়েছো ? আমার অফিস আছে ।

_ তো কি হয়েছে ওখান থেকেই অফিসে আসবে ।

_ ওখান থেকে অফিসে যাওয়া আসা করতেই তিন ঘণ্টা পেরিয়ে যাবে ।

_ আমি অত কিছু বুঝি না । হয় তুমি আমার সাথে ওই বাড়িতে যাবে নাহয় আমি এখান থেকেই পরীক্ষা দেবো ব্যাস ।

_ তোমাকে এখান থেকে রোজ কে নিয়ে যাবে পরীক্ষা বোর্ডে ? আমার অফিস আছে আমি তো যেতে পারবো না ।

_ কেনো অসীম নিয়ে যাবে ।

_ অসীমের ভার্সিটি ?

_ দুই সপ্তাহ কামাই করবে ।

_ পরীক্ষা বোর্ডে যাওয়া আসা করতেই তো তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা পেরিয়ে যাবে । তুমি একটু রেস্ট নেবে কখন ? পড়বে কখন ? খাবে কখন ? আর প্রত্যেক দিন তিন ঘণ্টা সাড়ে তিন ঘণ্টা জার্নি করলে তুমি সুস্থ্য থাকবে ?

_ তাহলে তুমি চলো আমার সাথে ।

_ ঘুরে ফিরে সেই এক কথা । আমার অফিস আছে তো। ছুটির সময় যাবো আমি তুমি এখন বাবার সাথে চলে যাও । দুদিন পরেই তো শুক্র বার বৃহস্পতিবার রাতেই চলে যাবো আমি ।

অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়েও রাহা কে কিছুতেই রাজি করানো যায় না । সে এখানেই থাকবে নয়তো আকাশ কে ওর সাথে যেতে হবে ।

সকলেই তাকিয়ে আছে রাহার দিকে ।

রেজওয়ান মাহবুব মেয়ে কে দেখে বেশ অবাক হন এক বছর যাবত । রাহা বিয়ের আগে নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যের বাড়িতে খুব কম রাত্রী যাপন করেছে । ওর নাকি নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও ঘুম আসে না ।ওনারা সবাই ভেবেছিল রাহা বিয়ের পর শশুর বাড়িতে থাকতেই চাইবে না । বাবার বাড়িতেই বেশি থাকবে ।

কিন্তু রাহা ওনাদের সকলের ধারণা বিয়ের কয়েক দিন পরেই পাল্টে দিয়েছে । রাহা শশুর বাড়িতেই বেশি হাঁসি খুশি থাকে । বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে শশুর বাড়ির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকে । শশুর বাড়ির লোকদের কথা বলতে গেলেই রাহার চোখ মুখ চকচক করে । আয়শা খানম ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসার পরেও কয়েক দিন থেকেই চলে এসেছে তার মধ্যে আকাশ দুদিন ওখানেই ছিল তাই । আকাশ কে ছাড়া গেলে দুদিনের বেশি রাহা কে রাখা যায় না ।

মেয়েটা একদম স্বামী ভক্ত হয়ে গেছে ।। স্বামীকে ছেড়ে একদিন থাকতে নারাজ ।

যেখানে ভেবেছিল মেয়েটা শশুর বাড়িতে থাকতেই পারবে না সেখানে এই মেয়ে শশুর বাড়ী থেকে বের হতেই চায় না ।

রাহা কে রাজি করাতে না পেরে শেষে আকাশ কেই রাজি হতে হয় শশুর বাড়ী যাওয়ার জন্য ।

ওখান থেকেই অফিসে যাওয়া আসা করতে হবে রাহার পরীক্ষা শেষ না হওয়া অব্দি ।

রাহার মুখে হাসি ফুটে ওঠে । আকাশ মুখটা বাংলার পাঁচ বানিয়ে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় তৈরি হওয়ার জন্য । হাসি মুখে রাহা ও এগিয়ে যায় রুমের দিকে । সোফায় বসে থাকা সকলেই হাসে ।

রেজওয়ান মাহবুব খুব হালকা ফিল করে নিজেকে । মেয়েটা শশুর বাড়িতে খুব সুখেই আছে ভালো আছে ।

বিজ্ঞাপন
আমার ঝামেলা রানী গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক উপন্যাস