আমার ঝামেলা রানী

পর্ব - ১৩

🟢

অফিস শেষে বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যায় আকাশের । আজকেও ড্রয়িং রুম নিস্তব্ধ শান্ত । অন্য দিনের মত কোলাহল হইহই নেই আজকেও ।

সোফার দিকে তাকায় । অসীম সন্ধ্যা কে নিয়ে খেলছে আর মিলা খাইয়ে দিচ্ছে সন্ধ্যাকে । রাহা আর সমুদ্র নেই । মা চাচী রান্না শেষ করে টেবিলে খাবার সাজিয়ে রাখছে ।

আকাশ সন্ধ্যার জন্য আনা কেকের প্যাকেট টা দিয়ে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় ।

রুমে এসে ড্রেস চেঞ্জ করে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে । শাওয়ার নিয়ে ফ্রেস হয়ে বেরিয়ে আসে । কিছু সময় বেডে বসে থাকে । রুমের চারো দিকে নজর বুলায় ।

তারপর রুম থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে আসে । সোফায় বসে ছোট ভাইয়ের পাশে । অসীম মনের ভুলেও ভাইয়ের দিকে তাকায় না । ওকে ধমক দিয়েছিল গত কাল ভোলেনি ও এখনো । কথা বলবে না ভাইয়ার সাথে শুধু শুধু ধমক দিয়েছিল । খাওয়ার জন্য শুধু ডেকেছিল তাও মায়ের কথা শুনে । না হলে জীবনেও যেতো না তখন ভাইয়ের সামনে । কি জোরেই না ধমক টা দিয়েছিল । বেচারার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যাচ্ছিল একটুর জন্য জানে বেঁচে গেছে ।

আকাশ দেখলো ছোট ভাই তার দিকে তাকাচ্ছে না । বুঝলো গতকাল ধমক দেওয়ার কারণে অভিমান করেছে । তখন মাথা ঠিক ছিল না তার মধ্যে এই বান্দা গিয়ে খাবার খাওয়ার জন্য ঘ্যান ঘ্যান শুরু করেছিল । মেজাজের পারুদ তখন মহাবিশ্ব ছাড়িয়ে গিয়েছিল ।

তাইতো মুখ দিয়ে আপনাআপনি ধমক বেরিয়ে গিয়েছিল ।

সন্ধ্যা বড় চাচ্চুকে দেখেই অসীমের কোল থেকে নেমে আসে । গিয়ে আকাশের গলা জড়িয়ে ধরে ।

অসীম সোফা থেকে উঠে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় । অনন্যা শেখ ছেলের জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে আসে ।

রান্না শেষ তাই হাত মুখ ধোয়ার জন্য নিজেদের রুমের দিকে এগিয়ে যায় দুই জা । গরমে ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা । ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনমানব ।

,

রাতের খাবার খেতে সবাই আসলেও রাহা আসে না ।

সমুদ্র কে রাহার কথা জিজ্ঞেস করলে বলে ,

_ ওর দুটো অংক করা বাদ আছে সেগুলোই করছে । আসতে বললাম আসলো না বললো পড়ে খাবে পড়া শেষ করে । আমিও পড়ে খেতে চাইলাম কিন্তু জোর করে আমাকে পাঠিয়ে দিল ।

কেউ আর কিছু বলে না । সবাই বুঝতে পারছে রাহা আকাশের ভয়েই আসছে না । পড়া লেখা তো শুধুমাত্র বাহানা । অনন্যা শেখ আর সায়মা শেখ সকল কে খাবার বেড়ে দেয় । তারা দুজন রাহার সাথে খাবে তাই আর বসে না খাওয়ার জন্য । মিলাও পড়ে খেতে চায় কিন্তু অনন্যা শেখ ওকেও জোর করে বসায় খাওয়ার জন্য । মিলা যত দেরি করবে ঘুমাতে সন্ধাও তত দেরিতে ঘুমাবে ।

চুপ চাপ সবাই খেয়ে যার যার রুমে চলে যায় ।

সমুদ্র নিজের রুমে চলে আসে সন্ধ্যাকে নিয়ে ।

রাহা বেডে বই খাতা ছড়িয়ে বসে বসে অংক কষছে । সমুদ্র এসে রাহার সামনে বসে ।

_ কত দূর ?

_ এই তো শেষ ভাইয়া আর এক মিনিট ।

অংক শেষ করে খাতা এগিয়ে দেয় সমুদ্রের সম্মুখে ।

সমুদ্র খাতা হাতে নিয়ে চোখ দাবিয়ে দেখে ।

কোথাও ভুল হয়নি একদম ঠিক ঠাক হয়েছে ।

_ খুব ভালো হয়েছে , আজকে একটুও ভুল হয়নি । আজকে বিশের মধ্যে বিশ নাম্বার পেয়েছো তুমি ।

রাহা খুশি মনে বই খাতা ব্যাগে ভরে নেয় । তার পর সন্ধ্যার সাথে টুকটাক কথা বলে রুম থেকে বেরিয়ে আসে । ব্যাগ করিডোরে রেখে সোজা নিচে নেমে আসে। ওর জন্য অপেক্ষা করছে অনন্যা শেখ আর সায়মা শেখ । ড্রইং রুমে আর কেউ নেই , যে যার রুমে চলে গেছে ।

মিলা এসেছে আকাশের রুমে । আকাশ বেডে বসে রয়েছে মিলা ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে ।

_ কিছু বলবি নাকি ? এমন খাম্বার মত দাঁড়িয়ে আছিস কেনো ?

_ বলতেই তো আসলাম ।

_ তো বলে ফেল , এমন দাঁড়িয়ে আছিস কেনো ?

_ তুই এমন করছিস কেনো ?

_ কেমন করেছি ?

_ বুঝতে পারছিস না ? তুই রাহার সাথে কথা বলছিস না কেনো ? কাল থেকে কেঁদে কে*টে একসা অবস্থা মেয়েটার । কাল সারাদিন কেঁদেছে রাতেও কেঁদেছে আজ সারাদিন একটু পর পর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছে।

তোর ভয়ে খেতেও আসলো না । একটু কথা বললেই তো মেয়েটা স্বাভাবিক হয় ।

আকাশ মিলার মুখের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে ,

_ একটু শাস্তি প্রয়োজন । ওর ভুল ক্ষমা করলে হবে না । ওর সব কাজে আস্কারা দেওয়া যাবে না । অকাজের শাস্তি না পেলে বার বার ঘুরে ফিরে একই ভুল করবে । এমন কাজ করার জন্য এখন শাস্তি পেলে কষ্ট অনুভব করলে দ্বিতীয় বার এই রকম কাজ করতে যাবে না আর। গেলেও হাজার বার ভাববে । ওকে আমি কতবার নিষেধ করেছি তার পরেও ও ঠিকই ভুল কাজ টা করেছে । গত কাল ফাইল টা নষ্ট না করে যদি আজ সকালে করতো তাহলে কি হতো ?

_ ওতো না বুঝেই করেছে । আর আজ সকালে তো করেনি ।

_ সেজন্যই তো শাস্তি টা আরো বেশি প্রয়োজন ।

ও না বুঝেই অনেক বড় বড় ভুল করে ফেলে । আজ সকালে করেনি ঠিক আছে কিন্তু পরের বার ও ঠিকই এমন কিছু করতো । একটু কাদলে কেউ ম*রে না । সব কষ্ট রাতে ভুলিয়ে দেবো তুই যা তোর জামাইয়ের কাছে ।

মিলা অদ্ভুত চোখে তাকায় ।

_ তুই এমন ছিলি না ।

_ কোনো দিন পরিবর্তন হবো না কথা ছিল নাকি ?

মিলা বির বির করতে করতে বেরিয়ে আসে রুম থেকে ।

খাওয়া শেষ করে রাহা উপরে উঠে আসে । অনন্যা শেখ বাকি খাবার ফ্রিজে তুলে রাখে ।

রাহা করিডোর থেকে নিজের ব্যাগ তুলে নেয় হাতে ।

তার পর ধীরে ধীরে রুমের দিকে এগিয়ে যায় ।

ভয়ে ভয়ে রুমের ভেতর প্রবেশ করে দেখে আকাশ রুমে নেই । এতক্ষণ যেন দম বন্ধ করে ছিল তাই ফোস করে শ্বাস ছারে । দ্রুত ব্যাগ টা স্টাডি টেবিলের উপর রেখে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে । আকাশ রুমে আসার আগেই শুয়ে পড়বে ।

ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ায় । চুল গুলো ব্রাশ করে নিয়ে বেঁধে নেয় ।

এখন চাদর টা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লেই হলো । ব্যাস আকাশের সামনে আর পড়তে হবে না ।

বেডের দিকে ঘুরতেই দেখে আকাশ সটান হয়ে দাঁড়িয়ে বুকে দুই হাত গুঁজে ওর দিকে তাকিয়ে আছে । আকাশের গম্ভীর মুখ দেখে ভয়ে রাহার আত্মারাম খাঁচাছাড়া ।

দ্রুত চোখ সরিয়ে নেয় আকাশের দিক থেকে ।

পাশ কা*টিয়ে বেডের দিকে এগিয়ে যেতে নেয় । আকাশ টেনে ধরে রাহার হাত । রাহা ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিয়ে তড়িঘড়ি করে বলে ,

_ জীবনেও আর করবো না, কোনো কিছুতেই হাত দেবো না আর কোনো দিন ।

আকাশ রাহার হাত ধরে নিজের সামনে দার করায় । তাকায় রাহার ভয়ে কুঁকড়ে থাকা চোখ মুখের দিকে ।

ভীষণ খারাপ লাগে আকাশের । মায়াও হয় ভীষণ । মেয়েটা এখনো ওকে যমের মত ভয় পাচ্ছে ।

দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে ,

_ ভয় পাচ্ছো কেনো ? কিছু বলবো না আর ।

রাহা বলে না কিছু ।

আকাশ বুক থেকে রাহার মুখ তুলে নিজের মুখের দিকে ধরে । রাহার গালে কপালে ঠোঁটে অসংখ্য চুমু খায় ।

আবার জড়িয়ে ধরে বুকের মাঝে ।

_ কখন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি ।

রাহা বুকে মুখ গুজে রেখেই বলে ,

_ পড়ছিলাম তো ।

_ এখনো ভয় পাচ্ছো কেনো ? কিছু বলবো না তো ।

স্বাভাবিক হও ।

রাহা জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে থাকে ।

এতক্ষণ ভয় করলেও এখন আর ভয় করছে না । বরং আকাশের আদর ভালোবাসা পেয়ে কান্না উপচে বেরিয়ে আসতে চাইছে ।

আকাশ আবার রাহার মুখ বুক থেকে তুলে দুই হাতে আগলে ধরে ।

_ অনেক ব্যাথা পেয়েছিলে গালে ?

আকাশের আদর মাখা বুলিতে রাহা এবার কেঁদেই দেয়। উপর নীচ মাথা নাড়ায় ।

বিজ্ঞাপন

আকাশ রাহার যেই গালে চর মে*রে*ছিল সেই গালে চুমু খায় । বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে গালে স্লাইড করে ।

অপরাধীর ন্যায় বলে ,

_ তখন রাগের মাথায় মে*রে বসেছিলাম । আমার ছোট্ট বউ টা কত ব্যাথা পেয়েছিল । আর কখনো মা*র*বো না । প্রমিজ করছি আর জীবনেও মা*র*বো না ।

রাহা কেঁদে কেঁদে বলে ,

_ রাগ উঠলে ?

_ রাগ উঠলেও মা*র*বো না । #আমার_ঝামেলা_রানী কে আমি আর কোনো দিন ফুলের টোকাও দেবো না ।

তোমাকে আঘাত করে যে আমিও ভালো নেই ঝামেলা রানী । মাথা ঠাণ্ডা হওয়ার পড়েই বুঝতে পেরেছি কত বড় ভুল করেছি আমি । আমার ঝামেলা রানী তো ঝামেলা করবেই তাই বলে কি এত রাগ করা যাবে ? উঁহু জীবনেও না ।

_ আমি আর কোনো দিন ঝামেলা করবো না ।

_ তুমি তো ঝামেলা রানী ঝামেলা তোমার শিরায় উপশিরায় মিশে আছে । একটু আকটু ঝামেলা করলে সমস্যা নেই আমি মানিয়ে নেবো । শুধু কেউ যখন নিষেধ করবে "ওটা ধরো না নষ্ট করো না" তুমি সেটা করবে না ধরবেও না । কারো ইম্পর্টেন্ট কিছুতে হাত দেবে না । আমি জানি তো তুমি ইচ্ছে করে কিছু করো না ভুল করেই হয়ে যায় । সেই ভুল যেন না হয় সেজন্য সেই সব কিছু এড়িয়ে চলবে কেমন ?

_ হুম ।

_ আর আমার কাছ থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছো কেনো ? কত সুন্দর করে বউ টাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছিলাম সকালে উঠে দেখি আমার বউ নেই । একটু ছেড়ে ওপাশ ফিরেছি আর অমনি উঠে পালিয়ে গেছো ।

_ তুমি আমাকে তোমার কাছে নিয়েছিলে ?

_ হ্যাঁ ।

_ আমি তো ভেবেছিলাম আমিই ভুল করে তোমার কাছে চলে গেছি । তাইতো,,,

_ তাইতো উঠে পালিয়ে গেছো তাইতো ?

রাহা আকাশের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । আকাশ রাহার চোখের পানি মুছে দেয় ।

_ আমার ছোট্ট বউ টাকে মে*রে*ছি কষ্টে আমার বুক টা ফেটে যাচ্ছিল কাল থেকে । কাজের চাপে বউ টাকে আর আদর করাও হয়নি কাল । রাতে শোয়ার পর কত কষ্ট হচ্ছিল আমার । তার পর বউ টাকে জড়িয়ে ধরে কত আদর করলাম চুমু খেলাম । বুকে আগলে ধরে ঘুমালাম । আর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বউ নেই ।

রাহা আবার জোড়ে শব্দ করে কেঁদে ওঠে ।

কেঁদে কেঁদেই বলে ,

_ কাল থেকে আমার কত কষ্ট হচ্ছিল । কত কেঁদেছি ।

_ মা*রা*র পর আদর করিনি বলে ?

রাহা উপর নীচ মাথা নাড়ায় ।

_ তুমি তো ভয়ে আমার কাছেই আসছিলে না।

_ আদর করোনি বলেই তো আরো বেশি ভয় করছিল ।

আকাশ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে । মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে বলে ,

_ আর কখনও মা*র*বো না ভয় দেখাবো না ।

অনেক রাত হয়ে গেছে ঘুমাবে চলো । কাল আবার তোমাকে দিয়ে আসতে হবে ।

_ তুমি যাবে না আমার সাথে ?

_ আমিই তো দিয়ে আসবো ।

_ আমার সাথে থাকবে তুমি ।

_ আমার অফিস ? কালকের জন্য ছুটি পেয়েছি শুধু ।

আকাশ রাহা কে ছেড়ে বেডের দিকে এগিয়ে যায় । বেডের বালিশ ঠিক ঠাক করে রাহা কে ডাকে শোয়ার জন্য । রাহা বেডে ওঠার সময় আকাশের হাতের দিকে খেয়াল করে ।

উতলা হয়ে বলে ,

_ তোমার হাতে কি হয়েছে ?

আকাশ তাকায় হাতের দিকে । এই হাত দিয়েই রাহা কে চড় মে*রে*ছিল । আর এই চড়ের কারণেই ওর রাহা ওকে ভয় পাচ্ছিল , ওর সামনে আসছিল না । ওর বাচ্চা বউ টা ওকে কত ভয় পাচ্ছিল । রাত হয়ে যাওয়ার পরেও ওর ভয়ে রুমে আসছিল না । সেই রাগে হাত দিয়ে দেওয়ালে পাঞ্চ মে*রে*ছিল যার কারণে হাতের উল্টো দিকে চামড়া ছিলে র*ক্ত বেরিয়ে গিয়েছিল।

রাহার গালে হাত রেখে বলে ,

_ কিছু হয়নি ঘুমাও ।

_ কে বলেছে কিছু হয়নি ? এমন হয়েছে কিভাবে ?

এ*ক্সি*ডে*ন্ট করেছো ?

আকাশ হাসে । রাহার গালে চুমু খেয়ে রাহা কে কোলে তুলে বেডে শুইয়ে দেয় । লাইট অফ করার জন্য এগিয়ে যেতে যেতে বলে ,

_ হাত টা ভুল করেছিল তাই শাস্তি দিয়েছি ।

রাহা বুঝতে পারে না কিছু । হাত আবার ভুল করে কিভাবে ? হাতের আবার জ্ঞান বুদ্ধি আছে নাকি ?

কি জানি থাকতেও পারে রাহার জানা নেই ।

আকাশ লাইট অফ করে ডিম লাইট অন করে বেডে এসে শুয়ে পড়ে রাহা কে জাপটে ধরে । রাহাও আকাশের বুকে মুখ গুঁজে দেয় ।

________________

সকালে বেশ বেলা করে ঘুম থেকে ওঠে আকাশ রাহা ।

দুজনেরই খুব ভালো ঘুম হয়েছে ।

ফ্রেস হয়ে নিচে নামতে নামতে নয়টা পেরিয়ে যায় ।

রাহার হাঁসি হাঁসি মুখ দেখে মিলা অনন্যা শেখ আর সায়মা শেখ বুঝতে পারে দুজনের মধ্যে সব মিটমাট হয়ে গেছে । রাহার মুখের ঝলমলে ভাব তাই বলে দিচ্ছে।

মিলা সোফা থেকে উঠে যায় খাবার বেড়ে দেওয়ার জন্য ।

,

খাবার খেয়ে তৈরি হয়ে নেয় দুজনেই ।

পরিপাটি হয়ে ব্যাগ প্যাক নিয়ে নিচে নেমে আসে দুজন।

সকলের থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির বাহিরে বেরিয়ে আসে । আকাশ গ্যারেজ থেকে কার বের করে ।

রাহা কার দেখে বলে ,

_ কার কেনো ?

_ তো কিসে করে যাবো ?

_ কেনো বাইকে ।

_ পা*গ*ল হয়েছো ? দুটো ব্যাগ আর তুমি বাইকে আটবে নাকি ? বাইকে অত জায়গা হবে না ।

কারেই যেতে হবে ।

_ না আমি বাইকে যাবো ।

_ জেদ করে না রাহা । পরের বার বাইকে করে নিয়ে যাবো এখন কারে উঠে আসো ।

গাল ফুলিয়ে কারে উঠে বসে রাহা । আকাশ সিট বেল্ট লাগিয়ে দেয় রাহার ।

কার স্টার্ট করে গেটের বাইরে বেরিয়ে যায় ।

সামনের দিকে দৃষ্টি রেখেই বলে ,

_ দুঃখ পেও না তোমাকে বাইকে বসিয়ে পুরো ঢাকা ঘুরে বেড়াবো ।

_ কবে ?

_ তোমার পরীক্ষা শেষ হলেই ।

রাহা বেশ খুশি হয় । কোথায় কোথায় ঘুরতে যাবে সেসব জায়গার নাম বলতে থাকে ।

আকাশ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় রাহার মুখের দিকে ।

হাত বাড়িয়ে রাহার মাথায় হাত রাখে ।

বিজ্ঞাপন
আমার ঝামেলা রানী গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক উপন্যাস