অনেক টা সময় কাদার পর রাহা শান্ত হয় । রাহা যতক্ষণ কেঁদেছে আকাশ ততক্ষণ রাহা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রেখেছিল বুকের মাঝে ।
রাহার কান্না বন্ধ হলে রাহার মুখ বুক থেকে তুলে ধরে ।
কাদতে কাদতে চোখ মুখ ফুলে উঠেছে । নিজের হাতে রাহার চোখের পানি মুছে দেয় । তারপর সারা মুখে অজস্র চুমু খায় । দুই হাতে আগলে ধরে রাহার মুখ । রাহার চোখে চোখ রেখে বলে ,
_ পা*গল মেয়ে এভাবে কেউ কাঁদে ? চোখ মুখের বেহাল দশা করে ফেলেছো । কাল ফোন করে ওই অসভ্য ইতর মেয়েটা কি বলেছিল ?
রাহা নোভার বলা কথা গুলো মনে করে আবার ফুঁপিয়ে ওঠে । মুখ দিয়ে কথা না বেরিয়ে কান্না বেরিয়ে আসে আবারো ।
আকাশ আবার জড়িয়ে ধরে রাহা কে ।
মাথায় চুমু খেয়ে পিঠে হাত বুলিয়ে বলে ,
_ থাক বলতে হবে না । বার বার এমন কান্না করছো কেনো ? তোমার আকাশ তোমার আছে, তোমারই থাকবে । তুমি আমার লাইফে আসার আগেও কোনো মেয়ে ছিল না, তুমি আসার পরেও নেই আর আসবেও না । তুমি আমার লাইফের এক এবং অদ্বিতীয় নারী ।
আমি আমার মা বোনের পড়ে যদি কোনো নারীকে নিজের থেকে বেশি ভালোবেসে থাকি সেটা তুমি ।
আমি আমার ঝামেলা রানী কে অনেক ভালোবাসি । আমার ঝামেলা রানী কান্না করলে আমার একটুও ভালো লাগে না খুব কষ্ট হয় । তুমি ওই ফালতু ইতর অসভ্য মহিলার কথা শুনে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারতে "কে ওই মহিলা ? তার সাথে আমার কিসের সম্পর্ক ? জিজ্ঞেস করার অধিকার তোমার আছে তো নাকি ? জিজ্ঞেস করোনি কেনো ? জিজ্ঞেস করলে তো তোমাকে এত কষ্ট পেতে হতো না । রাতেই সব ক্লিয়ার হয়ে যেতো । ওই ইতর অসভ্য মহিলা টা অফিস জয়েন করার পর থেকে আমার পেছনে লেগেছে জোকের মত। প্রথম দিনেই বলে দিয়েছি আমি ম্যারিড কিন্তু সে বিশ্বাস করতে নারাজ । কার কাছ থেকে যেন আমার নাম্বার জোগাড় করেছে । অফিসে বাড়িতে সব জায়গায় জ্বালিয়ে মা*র*ছে অসভ্য নির্লজ্জ ছ্যাচড়া মহিলা টা । আমি তোমাকেই ভালোবাসি তোমারই থাকবো সারাজীবন । আমার ঝামেলা রানীই আমার সব আমার দুনিয়া । কান্না বন্ধ করো এখন ঝামেলা রানী । এত কাঁদলে মাথা ব্যথা করবে ।
রাহা আকাশের বুক থেকে মুখ তুলে আকাশের মুখের দিকে তাকায় । এখনো হিঁচকি উঠছে । হিঁচকি তুলতে তুলতে বলে
_ তুমি কিন্তু কোনো দিন আমাকে ছেড়ে দেবে না । আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না কিন্তু । ম*রে যাবো তোমাকে ছাড়া । কাল থেকে আমার কত কষ্ট হচ্ছিল ।
_ ছাড়বো না তো । তোমাকে ছেড়ে আমি কিভাবে থাকবো ? তুমিই তো আমার সব কিছু । ঝামেলা রানী কে ছাড়া তো আকাশ নিজেই ম*রে যাবে । আকাশের ভালো থাকার মেডিসিনোই তো ঝামেলা রানী । ঝামেলা রানী কে ছাড়া আকাশ বাঁচবে কিভাবে ?
_ কোনো দিন ও কিন্তু আমার থেকে দূরে যাবে না তুমি ।
_ কোনো দিন ও যাবো না । একটু দূরে গিয়েই শিক্ষা হয়ে গেছে আমার । দুনিয়ার সব কিছু জলে ভেসে যাক আমার ঝামেলা রানী সব কিছুর আগে আমার কাছে ইম্পর্টেন্ট ।
_ ওই মহিলা খুব খারাপ । তোমাকে জান বলে ডেকেছিল ।
_ ওই বজ্জাত মহিলার জিহ্ববা আগামী কাল অফিসে গিয়েই ছিঁড়ে নেবো আমি । একটা চর খেয়ে শিক্ষা হয়নি । ওটাকে ভালো ভাবে শিক্ষা দিতে হবে ।
রাহা তখনো আস্তে আস্তে ফোঁপাচ্ছে । নোভার বলা রাতের কথা গুলো মনে হতেই কান্নার বেগ বাড়ছে একটু একটু করে ।
আকাশ রাহার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ বুঝেছি তোমার কান্না বন্ধ করার জন্য এখন ভিটামিন L K দিতে হবে তাইনা ?
বলেই রাহার ওষ্ঠদয় চেপে ধরে নিজের ওষ্ঠ দাড়া ।
অনেক টা সময় পেরিয়ে যায় । আকাশ ছেড়ে দেয় রাহা কে । রাহার কান্না , হিঁচকি, ফপানো সব বন্ধ হয়ে গেছে।
আকাশ ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটিয়ে বলে ,
_ ভিটামিন L K দেখি কাজে দিয়েছে । "নাও ইটস ইয়োর টার্ন" ঝামেলা রানী ।
_ পারবো না ।
_ পারবো না বললে হবে না পারতেই হবে তোমাকে । কয়েক দিনের টা জমা হয়ে গেছে সেগুলো পরিশোধ করো এখন । তোমার পাওনা পরিশোধ করেছি কিন্তু আমি । এখন তোমার পালা ।
বলেই রাহা কে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে ।
মুখ বাড়িয়ে দিয়ে বলে ,
_ শুরু করো । সময় কিন্তু কম ।
রাহা আকাশের গালে কপালে ঠোঁটে ছোট ছোট আলতো করে চুমু খেতে শুরু করে ।
এক মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর আকাশ আবার রাহার ওষ্ঠদয় চেপে ধরে নিজের ওষ্ঠ দাড়া ।
,
নিজের পড়া শেষ করে ব্যাগ রুমে রাখতে আসে রাহা ।
রুমে এসে দেখে আকাশ রুমে নেই । ব্যাগ রেখে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ।
সোফায় বসে আছে সবাই কিন্তু এখনো রাহার দেখা নেই । খাবার খাবে রাহার জন্যই অপেক্ষা করছে সবাই। অনন্যা শেখ আর সায়মা শেখ খাবার বাড়তে সোফা ছেড়ে উঠে চলে যায় । যাওয়ার আগে অসীম কে বলে রাহা কে ডেকে নিয়ে আসার জন্য ।
অসীম সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে গলা ছেড়ে ডেকে ওঠে ।
_ ঝামেলা রানী তারাতারি খাবার খেতে আসো ।
অন্য পাশে বসে থাকা আমজাদ শেখ তেঁতে উঠে বলেন ,
_ তোকে বলেছি না এই নামে রাহা কে ডাকবি না । তার পরেও ডাকছিস কেনো ?
_ ডাকলে কি সমস্যা ? আমি আবার ডাকবো , ঝামেলা রানী খাবার খেতে আসো ।
আমজাদ শেখ বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় । তেড়ে আসে অসীমের দিকে । অসীম সোফা থেকে উঠে দৌড় শুরু করে । দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে আরো কয়েক বার জোড়ে জোড়ে ঝামেলা রানী বলে ডাকে । আমজাদ শেখ ও পেছন পেছন দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বকাবকি করতে থাকে। সোফায় বসে থাকা সকলে উপভোগ করছে সেই দৃশ্য । এ যেন টম অ্যান্ড জেরির রেসিং হচ্ছে । এর আগেও বহু বার আমজাদ শেখ অসীম কে নিষেধ করেছেন রাহা কে ঝামেলা রানী বলে না ডাকতে । অনেক বার দৌড়ানিও দিয়েছেন । কিন্তু অসীম তো অসীমই সে ঝামেলা রানী ছাড়া ডাকেই না ।
দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে হাঁপিয়ে ওঠেন আমজাদ শেখ । দাঁড়িয়ে যায় সোফার সামনে এসে । সোফার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে অসীম ।
_ আজকে শুধু তোকে ধরতে পারি তারপর তোর খবর আছে ।
_ ধরতে পারলে না খবর করবে ।
_ তোকে তো আজকে ।
বলে আশে পাশে কিছু খোঁজে কিন্তু কিছুই পায় না ।
_ রাহা তোর বর ভাইয়ের বউ তোর ভাবী হয় । তারপরেও এভাবে সম্বোধন করিস কেনো ?
_ ভাইয়া যে ডাকে ।
_ ভাইয়ার বউ তাই ভাইয়া ডাকে । তুই কেনো ডাকবি ?
_ আমার ভাইয়ার বউ আমার ভাবী আমি যা খুশি ডাকবো তাতে তোমার সমস্যা কোথায় ?
আমজাদ শেখ রাগে ফেটে পড়েন । এই ছেলে জীবনেও সুধরাবে না ।
_ তুই শুধু আমার হাতের নাগালে আয় তারপর বোঝাচ্ছি আমার কোথায় সমস্যা ।
_ হরিণ কে দেখেছো কখনও নিজের ইচ্ছায় সিংহের সামনে যেতে ?
আমজাদ শেখ অসীম কে মা*রা*র জন্য আশে পাশে তাকিয়ে কিছু খুজতে শুরু করে । এই ছেলে কে দৌড়ে জীবনেও ধরা যাবে না ।
কিছু না পেয়ে সোফা থেকে কুশন তুলে নিয়ে ছুঁড়ে দেয় অসীমের গায়ে । কিন্তু অসীম সেটা ক্যাচ ধরে নেয় ।
_ একজন কিপারের লক্ষ্য কখনোই ভ্রষ্ট হয় না ।
_ ছেলে তুই শুধু আমার কাছে আয় তোকে আস্ত কাঁচা চিবিয়ে খাবো আমি ।
_ আল্লাহ আব্বা তুমি কি উপজাতিদের খাতায় নাম লিখিয়েছো নাকি ?
একটু চুপ হয়ে আবার বলে ,
_ আমাকে বড় করতে এত বছরে তোমার অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে । এখন যদি খেয়ে ফেলো আমাকে তাহলে তো তোমার সব টাকা গুয়ের ট্যাংকিতে যাবে ।
অসীমের এমন কথা শুনে আমজাদ শেখ বেলুনের মতো ফুলতে শুরু করে । একটু পরেই যেন বোমের মত ব্লাস্ট হয়ে যাবে । হুংকার দিয়ে বলে ,
_ দূর হ আমার চোখের সামনে থেকে ।
_ কোথায় যাবো ?
_ জাহান্নামে যা ।
_ ওখানে অনেক গরম ।
আমজাদ শেখ সোফায় বসে থাকা বড় ভাই আর দুই ছেলের দিকে তাকায় ।
_ ওকে সরা আমার চোখের সামনে থেকে ।
এর মধ্যে আবার রাহা নিচে নেমে আসে ।
রাহার পায়ের শব্দ পেয়ে অসীম সেদিকে তাকায় । এই সুযোগে সদ্ব্যবহার করতে আমজাদ শেখ অসীমের দিকে এগিয়ে যায় । ধরতে পারলে আজকে খবর আছে।
লাইটের আলোয় আমজাদ শেখের ছায়া পরে অসীমের সামনে । ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখে আর দুই হাত দুরত্ব আছে । দে দৌড় । এক দৌরে গিয়ে দাড়ায় রাহার পেছনে । রাহা কে সামনে রেখে নিজে পেছনে দাড়ায় রাহা কে ঢাল বানিয়ে ।
তার পর বলে ,
_ বোইনা বাঁচাও তোমার শ্বশুরের হাত থেকে । তোমার শশুর উপজাতিদের খাতায় নাম লিখিয়েছে ।
আমজাদ শেখ দাঁড়িয়ে যায় । অসীমের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ আজকের পর থেকে এই নামেই সম্বোধন করবি "বোইনা" বলে ।
_ ঝামেলা রানী তোমার শ্বশুর বললো আমাকে নাকি আস্ত কাঁচা চিবিয়ে খাবে ।
আমজাদ শেখের রাগ যত টুকু কমেছিল তার থেকে অনেক বেশি বেড়ে যায় ।
তেড়ে যায় আবার অসীমের দিকে । ধরার চেষ্টা করলে অসীম রাহা কে সামনে রেখে গোল গোল ঘুরতে শুরু করে । আমজাদ শেখ ধরতে ধরতেও ধরতে পারে না ।
শেষ মেষ আমজাদ শেখ খা*মচে ধরে অসীমের চুল ।
অসীম রাহা কে ছেড়ে নিজের চুল ছড়ানোর জন্য ছটফট শুরু করে । অবস্থা বেগতিক দেখে সোফা থেকে উঠে সবাই এগিয়ে আসে দুজনের কাছে ।
রাহা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে বুঝতে পারছে না কিছুই ।
কি হয়েছে এরা বাপ ব্যাটা এমন করছে কেনো ?
সবাই আমজাদ শেখ আর অসীম কে আলাদা করার চেষ্টা করে কিন্তু আমজাদ শেখ ছারে না , চুল ছেড়ে টিশার্ট খা*মচে ধরে আবার ।
_ আরো ডাকবি ঝামেলা রানী বলে ?
অসীম দুদিকে মাথা নাড়ায় ডাকবে না ।
_ তাহলে আমার সাথে সাথে বল ।
_ কি বলবো ?
_ বল আমি ।
_ আমি ।
_ আর কোনো দিন ।
_ ঝামেলা রানী ।
_ বলে ।
_ ডাকবো ।
_ না ।
_ আমি আর কোনো দিন ঝামেলা রানী বলে ডাকবো না।
_ আমি সারাজীবন ঝামেলা রানী বলে ডাকবো ।
কেমন ডা লাগে ? আমজাদ শেখের রাগ আকাশ চুম্বি ।
রাগে তার ফর্সা মুখটা লাল বর্ণ ধারণ করে আবার ।
হাত উচু করে অসীম কে চর দেওয়ার জন্য কিন্তু এত আদরের ছেলে কে চর দিতে পারে না । থেমে যায় তার হাত । ছোট থেকে ছেলে টাকে এত আদরে বড় করেছে সেই ছেলের গায়ে কিভাবে আঘাত করবে সে ?
_ অতি আদরে আদরে বাঁদর তৈরি হয়েছিস ?
_ তোমরাই তৈরি করেছো আমি তো নিজে থেকে হইনি।
_ তুই কোনো দিন ভালো হবি না ?
_ খারাপ ছিলাম কবে ?
_ আজ থেকে রাহা কে ভাবী বলে ডাকবি ।
অসীম আমজাদ শেখের হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিয়ে অন্য দিকে যেতে যেতে সুর ধরে গান গাইতে গাইতে বলে ,
_ পারবো না আমি ভাবী ডাকতে তাঁকে ।
কোনো দিন পারবো না বোইনা ডাকতে তাঁকে ।
সাড়া জীবন আমি ডাকবো তাঁকে ঝামেলা রানী বলে .......
লা লা লা লা লা লা লা লা লা.....
পারবো না আমি ভাবী ডাকতে তাঁকে ।
পারবো না , পারবো না , পারবো না , পারবো না .......
লা লা লা লা লা , হু হু হু হু হু , হি হি হি হি হি ,
হা হা হা হা হা , হে হে হে হে হে .......
অসীমের গান শুনে আমজাদ শেখ আবার দৌড়ে যায় ওকে ধরার জন্য ।
অসীম নিজেও জোরসে দৌড় শুরু করে । অসীম কে ধরা এতই সহজ নাকি ?
দৌড়ে হাঁপিয়ে উঠে সোফায় বসে পড়েন । অসীম আমজাদ শেখের থেকে দশ হাত দুরত্ব রেখে দাঁড়ায় ।
আমজাদ শেখের কাছে এসে দাঁড়ায় বাড়ির সবাই ।
আমজাদ শেখ নিজেকে স্বাভাবিক করার জন্য জোড়ে জোড়ে শ্বাস নেন চোখ বন্ধ করে ।
তারপর তাকায় অসীমের দিকে ।
_ তুই হয়েছিস কার মত ? আকাশ তোর বড় ভাই ও তো তোর মত হয়নি ?
_ আমার বড় ভাইয়া হয়েছে তোমার বড় ভাইয়ের মত । আর ভাইয়ার ছোট ভাই হয়েছে তোমার বড় ভাইয়ের ছোট ভাইয়ের মত । বুঝতে পেরেছো ?
বাড়ির সবাই অসীমের ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলা কথা বুঝতে পেরে হাসে । আমজাদ শেখ ভয়ংকর ভাবে তাকায় ছেলের দিকে । এই ছেলে কে কিনা তিনি এত ভালোবেসে ছিলেন ? ছোট বেলায় ছেলের চাঞ্চল্য স্বভাব তাঁকে মুগ্ধ করতো । কে জানতো সেই ছেলেই বড় হয়ে তার পিঠ পিছে ছু*রি বসাবে ? জানতে পারলে ছোট বেলাতেই ছেলেকে উদ্যম মাদ্যম দিয়ে সোজা করে ফেলতেন ।
আজলান শেখ বলেন ,
_ অসীম একদম ঠিক কথা বলেছে । ও তো তোর স্বভাবই পেয়েছে । যেখানে আকাশ আর অসীম ঝগড়া , খোঁচা খোচি, মা*রা*মা*রি, ধরাধরি করবে , সেখানে তুই বাপ হয়ে সারাদিন ছেলের পেছনে লেগে থাকিস শ*ত্রু*র মত । যেমন বাপ তেমন ছেলে ।
আমজাদ শেখ বড় ভাইয়ের দিকে তাকায় । তার ভাই টাও ছেলের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে ?
শান্ত পরিবেশ নিশ্চুপ নিরবতা ।
এতক্ষণের মা*রা*মা*রি , হানাহানি, ধরাধরি শেষ ।
অনন্যা শেখ সকল কে উদ্দেশ্য করে বলেন ,
_ সকলেই খাবার খেতে আসো খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।
আমজাদ শেখ জেদ ধরে বলেন ,
_ খাবো না আমি ।
_ জেদ না দেখিয়ে খেতে আসো ।
_ বলছি তো খাবো না ।
মাঝখান থেকে অসীম বলে ওঠে ,
_ জামাল সাহেবের নাতি পড়ে খাবে আগে আমি খেয়ে নেই । বলা তো যায় না খেতে বসে আবার আমার প্লেট ছিনিয়ে নিতে পারে ।
সকলেই ঠোঁট চেপে হাসে । অসীম যে ইচ্ছে করেই এমন করে সেটা সবাই খুব ভালো করেই জানে । আমজাদ শেখ যেমন কথায় কথায় ওকে ধমক দেয় ঠিক তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অসীম ইচ্ছে করেই ওর বাবা কে রাগায় । আমজাদ শেখ যতই রেগে যাক না কেনো ধমকা ধমকি তেই সীমাবদ্ধ থাকে । কখনোই প্রহার করেন না । তাই অসীম তাকে ভয় পেলেও তত বেশি ভয় পায় না । ছোট ছেলে হওয়ায় সকলের আদরের । বাড়ির বড়রা কেউ কখনো অসীমের গায়ে টোকা পর্যন্ত দেয়নি । কিন্তু খুনসুটির সময় বড় দুই ভাই আর বোনের হাতে মাঝে মধ্যে কিল চর খায় । তবে তারাও কখনো জোড়ে আঘাত করে না ।
সব কিছুর সমাপ্তি টেনে ডাইনিং টেবিলের কাছে এগিয়ে যায় সবাই ।
অসীম বড় দুই ভাইয়ের মাঝখানে বসে । কে জানে আমজাদ শেখ আবার যদি ওর চুল টানতে আসে তাহলে ভাই দুজনেই ওকে বাঁচিয়ে নেবে । ও শুধু এখন আরামসে খাবে দৌড়া দৌড়ি করে বেশ খিদে পেয়ে গেছে ।
__________________
সকালে আকাশ অফিসে এসেই নোভা কে বকাবকি করতে শুরু করে । যেই সেই বকাবকি না হাই লেভেলের বকাবকি ।
আকাশের তান্ডবে অফিসের সবাই জড়ো হয় ওদের দুজন কে ঘিরে । শান্ত চুপচাপ শান্তি প্রিয় মানুষ আকাশ । প্রয়োজনের বাইরে টু শব্দও করে না কখনো।
কারো সাথে কখনোই তর্কে জড়ায় না । অফিসে আসে কাজ শেষ করে আবার বাড়ি ফিরে যায় । কাজের বাইরে আকাশ কিছুই বোঝে না । কোনো ছেলের সাথেও আজ পর্যন্ত তর্ক বিতর্ক হয়নি আকাশের । সেই আকাশ কিনা একটা মেয়ে কে এভাবে বকছে ?
বকাবকির এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয় ।
নীলয় আকাশের সাথেই একই অফিসে জব করে । রাফির অন্য অফিসে জব হয়েছে ।
নীলয় আকাশ কে ছোট বেলা থেকেই চেনে । আকাশ কোনো দিন কোনো মেয়ের সাথে কথা বলেনি । সব সময় মেয়েদের এড়িয়ে চলতো । সেই আকাশ কিনা একটা মেয়ের সাথে এভাবে ঝগড়া করছে ? নোভা অফিসে জয়েন করেছে এখনো মাস হয়নি । সেই মেয়ের সাথে আকাশ এভাবে ঝগড়া করছে আদো কি তা বিশ্বাস যোগ্য ?
সকলেই শান্ত আকাশের অশান্ত রূপ দেখে বাক্য হারা হয়ে তাঁকিয়ে আছে । এ যেন ঘুমন্ত সিংহ জেগে উঠেছে।
শান্ত মানুষ অশান্ত হলে ঠিক কেমন হয় তা আকাশ কে দেখে বোঝা যাচ্ছে ।
অফিসের সিইও এসে এমন অবস্থা দেখে দ্রুত এগিয়ে যায় দুজনের কাছে । আকাশের রাগে লাল চোখ মুখ দেখেই বুঝতে পারে বড়সড় কোনো ঝামেলা হয়েছে ।
তবুও নিজের গম্ভীর্যতা বজায় রেখে বলে ,
_ মিস্টার আকাশ কি হয়েছে আপনি মিস নোভার সাথে এমন করছেন কেনো ?
আকাশ মুখ বন্ধ করে সিইওর দিকে তাকায় ।
নোভা ইনোসেন্ট ফেস করে কুমিরের কান্না কেঁদে বলে ,
_ দেখুন না স্যার মিস্টার আকাশ অফিসে এসেই আমার সাথে কেমন বাজে বিহেভ করছে ।
আকাশ গলা ফাটিয়ে চিৎ*কার করে নোভা কে ধমকে ওঠে । উপস্থিত সকলে কেঁপে ওঠে আকাশের চিৎ*কারে । নোভার তো ভয়ে চোখ মুখ শুকিয়ে শেষ ।
শান্ত আকাশের এমন রূপ দেখে ওর মনে ভয় ঢুঁকে গেছে ।
আকাশ মাথা ঠান্ডা করে ওর সাথে কি কি করেছে এই নোভা সব বলে ।
নোভা সাপটে না করে দেয় । সে এসব কিছুই করেনি । আকাশ মিথ্যে বলছে ।
আকাশ নোভার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে ,
_ তুই আমাকে এখনো চিনিসনি ছ্যাচড়া মহিলা । আমি আন্দাজ করেছিলাম এমন কিছুই হবে তাই সব প্রমাণ রেখে দিয়েছি ।
বলেই পকেট থেকে ফোন বের করে অডিও রেকর্ডিং চালু করে । যেখানে নোভার বলা প্রত্যেক টা কথা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে । কন্ঠস্বর নোভার সেটাতেও সবাই শিওর।
_ গত পরশু অফিসের কাজ শেষ করে ওয়াশরুমে যাচ্ছিলাম আমি । কিন্তু এই ফালতু ছ্যাচড়া মহিলা হঠাৎ করে কোথা থেকে এসে পেছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল । রাগে চর মেরে শাসিয়েও ছিলাম ।কিন্তু নি*র্লজ্জ ছ্যাচড়া মহিলার লজ্জা থাকলে তো ।
নোভা রেগে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে । এই অফিসে জয়েন করার পর অফিসের প্রায় সব ষ্টাফ নোভার আকর্ষণীয় ফিগার আবেদনময়ী রূপে মাতাল হয়ে তাকিয়ে থাকো । যা যাতে করে নোভার নিজেকে বিশেষ কেউ মনে হতো । সকলের নজর কাড়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতো সেভাবেই । হাতে গোনা কয়েক জন খুব একটা তাকাতো না নোভার দিকে । তাদের মধ্যে আকাশ ছিল অন্যতম । আকাশ কখনোই চোখ তুলে তাকায়নি নোভার দিকে । আকাশের এটিটিউট ওর ব্যক্তিত্ব সব কিছু নোভার নজর কাড়ে । সেই সাথে মনে জেদ চাপে আকাশ কে নিজের রূপের জালে ফেলবে । আকাশ কে নিজের প্রতি আকর্ষিত করার জন্য অনেক কিছু করে কিন্তু কোনো কিছুতেই কিছু হয়নি । তার পর থেকে নিজেই আগ বাড়িয়ে আকাশের সাথে কথা বলতে শুরু করে । ফোনে কল করতে শুরু করে । আকাশ নোভার ইন্টেনশন বুঝতে পেরে আগেই বলে দেয় ও ম্যারিড ।
আকাশ সকলের মাঝখান থেকে বেরিয়ে নিজের ডেস্কের দিকে এগিয়ে যায় । এখানে দাঁড়িয়ে থেকে আর কোনো কাজ নেই । এই মেয়ের ছায়াও দেখতে ইচ্ছে করছে না । ইচ্ছে করছিল ঠাটিয়ে কয়েক টা চর বসাতে। কিন্তু এই নোংরা ডাস্টবিন ছুঁতেও ঘেন্না হচ্ছে ।
সিইও নোভা কে বহিষ্কার করে । এরকম ষ্টাফের প্রয়োজন নেই । শুধু মেধা ভালো থাকলেই হবে না সাথে চরিত্র টাও ভালো করতে হবে । একজন বিবাহিত পুরুষ কিনা একটা মেয়ের কাছে এত দিন ধরে উত্যক্ত হয়ে আসছিল । ভাবলেই অবাক লাগে ।