আমার ঝামেলা রানী

পর্ব - ২০

🟢

অসীমের মাস্টার্স শেষ হয়েছে ।

তোড়জোড় করে মেয়ে দেখা হয়েছে ।

অসীমের মন মত একটা মেয়েও পায়নি ।

শেষমেষ অসীম বাবার দিকে তাকিয়ে বলেছিল "জীবনে বিয়ে করাটাই কি সব কিছু ? বিয়ে না করলে হয় না ? বিয়ে নামক প্যারার মধ্যে কে পড়তে চায় ? এমনিই তো ভালো আছি ।

সেদিন আমজাদ শেখ জুতো নিয়ে ধাওয়া করেছিলেন অসীম কে । দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বলেছিল "হারামী বদ ছেলে হতচ্ছাড়া এখন বিয়ে করতে চাইছিস না পড়ে তো ঠিকই বলবি আমার বাবা চাচা আমাকে বিয়ে করায়নি। সাড়া জীবন আমাকে সিঙ্গেল করে রেখেছে । তখন তো অভিশাপ দিবি দিন রাত ধরে ।

আজকের পর থেকে এই বাড়িতে তোর বিয়ের কথা উঠবে না । কেউ আর তোর বিয়ে নিয়ে মাথা ঘামাবে না। যে দিন যখন যাকে ইচ্ছে বিয়ে করে নিয়ে আসবি ।

তোকে আর তোর বউ কে সদরে গ্রহণ করা হবে ।

অনন্যা শেখ বলেছিলেন "ও হয়তো কাউকে ভালোবাসে কিন্তু আমাদের বলতে পারছে না । তাই বিয়ে না করার বাহানা তৈরী করে ।

অসীম মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেছিল "কচু, তোমার ছেলে অতটাও ভালো নয় যে, কোনো মেয়েকে ভালোবাসতে যাবে ।

আমজাদ শেখ জুতো ছুঁড়ে মে*রে*ছি*লেন ছেলের গায়ে ।

এক নাম্বারের বদ ছেলে । যেখানে অন্য ছেলেরা বিয়ে করার জন্য পা*গ*ল হয়ে যায় । কলেজে ওঠার আগেই প্রেম করে । অনার্স শেষ করার আগেই বিয়ে করে নেয় ।

সেখানে এই ছেলে এত বড় হয়েও বিয়ে করতে চায় না । বিয়ে না করার কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে "মন মত মেয়ে পেলে বিয়ে করবো ।

ওর সেই মন মত মেয়েই পাওয়া যায় না ।

মেয়ে দেখলে সেই মেয়ের কোনো না কোনো দোষ খুঁজে বের করবেই । খচ্চর ছেলে একটা ।

,

অনেক দিন ধরে বাবার বাড়ি যাওয়া হয় না মিলার ।

মিলার মা এসেছেন মিলা আর সমুদ্র কে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ।

মিলা তিন মাসের প্রেগনেন্ট । বাড়িতে নতুন অথিতি আসার খবরে পুরো বাড়ির সবাই ভীষণ খুশি ।

আস্তে আস্তে বাড়িটা ভরে উঠছে ।

খাওয়া দাওয়া সেরে আছিয়া বেগম মিলা সমুদ্র আর সন্ধ্যা কে নিয়ে বেরিয়ে যায় নিজের বাড়ির উদ্যেশ্যে ।

রাহা আকাশ অসীম কেও নিয়ে যেতে চেয়েছিল তবে আকাশের অফিস আছে আর অসীম বাড়ি থেকে কোথাও যাবে না । আর রাহা তো আকাশ কে ছেড়ে জীবনেও যাবে না । আকাশ কে ছেড়ে নিজের বাবার বাড়ি যায় না পর্যন্ত । সেই মেয়ে কিনা আকাশ কে ছেড়ে ফুপু শাশুরির বাড়িতে যাবে ! এটা অসম্ভব ।

অসীম ধ্রুব কে কোলে নিয়ে বসে সোফায় । বিকেল তিনটা বেজে গেছে । আজ আর মিলে বা গোডাউনে কোথাও যায়নি । বাবা চাচা কে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে বাড়িতে বসে থেকে গায়ে হাওয়া লাগাচ্ছে ।

ধ্রুবর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ আব্বা তুই বড় হইস না কিন্তু ।

ধ্রুব আধো বুলিতে বলে ,

_ কেনো ?

_ বড় হইলেই বিয়ে করানোর জন্য পুরো গুষ্টি তোর পেছনে লেগে যাবে ।

_ কেনো লাগবে ?

_ আল্লাহ বোঝেনা ! বিয়ে করানোর জন্য লাগবে ।

_ বিয়ে করলে কি হয় চাচ্চু ?

_ অনেক প্যারা ।

_ প্যারা কি ?

_ বুঝোস না ?

_ না ।

_ বোঝা লাগবো না ।

_ কেনো বোঝা লাগবো না ?

_ দুপুরে খাইছো আব্বা ?

_ হ্যাঁ ।

_ ঘুমাই ছিলা ?

_ না ।

_ ঘুমাও তাহলে ।

_ ঘুম নাই ।

_ কই গেছে ?

_ শশুর বাড়ী ।

_ শশুর বাড়ী ?

_ হুম শশুর বাড়ী ।

_ শশুর বাড়ী কোথায় ?

_ বনানী ।

_ ঐটা তো সমুদ্র ভাইয়ার শশুর বাড়ী ।

_ ওই বাড়িতেই তো গেছে ।

_ আমি তো ভাবছি তোর শশুর বাড়ী গেছে ।

_ নাই ।

_ কি নাই ?

_ শশুর বাড়ী ।

_ কার শশুর বাড়ী ?

_ আমার ।

_ কে বলছে ?

_ তুমি ।

_ কবে ?

_ এক বছর পর ।

_ এক বছর পর তোরে কেমনে কইছি ?

_ মুখ দিয়ে ।

_ কথা বলতে বলতে তোর মাথা আউলায়া গেছে । পাঁচ মিনিট চুপ চাপ বসে থাক আবার ঠিক হইয়া যাবো ।

_ ঠিক আছে ।

_ কি ?

_ মাথা ।

_ আব্বা চুপ কইরা তুই ঘুমা ।

_ নাই ।

_ কি নাই ?

_ ঘুম ।

_ আব্বারে মুখ টা বন্ধ কর ঘুম দৌড়াইয়া আইয়া পড়বো ।

বলেই ধ্রুবর মাথা নিজের কাঁধের উপর নিয়ে পিঠে হালকা করে চাপড় দিতে শুরু করে । ঘুমাচ্ছে না দেখে সোফা থেকে উঠে হাঁটতে শুরু করে । ড্রইং রুমে কেউ নেই খাবার খেয়ে সব গুছিয়ে রেখে যে যার রুমে চলে গেছে ।

রাহা রুমে গিয়ে রুম গোছাচ্ছে । ধ্রুব সব টেনে ফেলে এলোমেলো করে ফেলেছে আজ ।

দশ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার আগেই ধ্রুব ঘুমিয়ে যায়। ধ্রুব কে নিয়ে মায়ের রুমে যায় । অনন্যা শেখ বসে বসে ইসলামিক বই পড়ছিলেন । দুপুরে ঘুমোনোর অভ্যাস নেই তার । ধ্রুব কে নিয়ে আসতে দেখে বইটা বন্ধ করে বেড থেকে উঠে দাঁড়ায় ।

অসীম ধ্রুব কে বেডে শুইয়ে দেয় । চাদর টেনে ঢেকে দিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ ওকে দেখে রেখো খাট থেকে যেন পড়ে না যায় ।

_ এক কথা আর কত বার বলবি ?

_ যত দিন না ধ্রুব বড় হচ্ছে । ছোট বেলায় সন্ধ্যা ও একদিন পড়ে গিয়েছিল খাট থেকে । তারপর থেকে বাড়িতে থাকলে ওকে আমি পাহারা দিয়েছি দুপুরে ঘুমালে ।

_ এক ভুল মানুষ একবার করে বার বার না ।

_ ওকে দেখে রেখো আমি আসছি ।

_ কোথায় যাবি ?

_ ঘুরে আসি ।

_ কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই । গিয়ে ঘুমা ।

_ আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি এই অবেলায় ঘুমাবো ?

_ এই রোদের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করার কি দরকার ?

_ যাচ্ছি ঘুমাতে ।

বির বির করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসে । আকাশের রুম ক্রস করতেই পেছন থেকে রাহা ডেকে ওঠে ।

_ অসীম ধ্রুব কোথায় ?

_ মায়ের কাছে ঘুমাচ্ছে ।

_ ওহ ।

_ পেয়ারা খাবে ?

_ হুম ।

_ নিয়ে আসি তাহলে ?

_ নিয়ে আসো ।

_ ভাইয়া ঘুমিয়েছে ?

_ না ।

_ পেয়ারা নিয়ে আসছি আমি ।

রুমের দিকে যেতে গিয়েও আবার নিচে চলে যায় ।

লাঠি দিয়ে পেয়ারা পারে, কত গুলো বরই ও পারে ।

সিজন না থাকলেও বারো মাস বরই আর পেয়ারা ধরে।

সব নিয়ে উপরে উঠে আসে ।

আকাশের রুমের ডোর নক করে । অনুমতি পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে । এক চোখ দিয়ে তাঁকিয়ে আছে অন্য চোখ বন্ধ ।

দুই হাতে ছয় টা পেয়ারা ।

আকাশ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ এরকম এক চোখ কানা করে রেখেছিস কেনো ?

_ আর বলো না ভাইয়া । বরই পারতে গিয়ে চোখের মধ্যে ময়লা ঢুকে গেছে আর বের হচ্ছে না ।

আকাশ এগিয়ে যায় অসীমের কাছে । রাহা অসীমের হাত থেকে পেয়ারা গুলো নিয়ে রেখে দেয় ।

আকাশ রাহার কাছে একটা টিস্যু চায় ।

টিস্যু এনে দিতেই আকাশ ছোট ভাইয়ের চোখের ভেতরে থাকা শুকনো পাতার অংশ টুকু বের করে নিয়ে আসে ।

অসীম শুকনো পাতা টুকু আঙ্গুলের ডগায় নিয়ে বলে ,

_ এখন তো ঠিকই বের হইলি । পাঁচ মিনিট ধরে বের করতে চাইলাম তখন বের হইলি না । চোখের ভেতরে খামচে ধরে বসে ছিলি ।

_ তোকে এসব কে পারতে বলেছে ?

_ আমার মন , মস্তিষ্ক ।

_ পা*গ*ল হয়েছিস নাকি ?

_ হয়তো ।

অসীম প্যান্টের পকেট থেকে বরই বের করে রাহার হাতে দেয় ।

ডোরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে ,

_ এগুলো তোমরা দুজন বসে বসে খাও । আমি বাহিরে যাচ্ছি ফিরতে রাত হবে ।

বলতে বলতে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় ।

আকাশ রাহার দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ তোমরা মানুষ দুজন হলেও পেট একটাই । এক জনের মনের কথা আরেক জনের পেটে থাকে । অসীম প্রেম করে তাইনা ?

_ না ।

_ মিথ্যে বলবে না কিন্তু । ওর হাব ভাব দেখে মাঝে মধ্যে তাই মনে হয় । আর অসীমের সব গোপন কথা তোমাকে বলে ।

_ সত্যি সত্যিই অসীম প্রেম করে না । আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ও সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রেম ট্রেম করে না । মন মত মেয়ে পাচ্ছে না তাই বিয়েতে রাজি হচ্ছে না ।

_ কেমন মেয়ে পছন্দ সেটাও বলে না তো ।

_ বলবে কিভাবে ? অসীম নিজেই তো জানে না কেমন মেয়ে ওর পছন্দ ।

আকাশ বির বির করতে করতে বেডে গিয়ে বসে ।

রাহা দুটো পেয়ারা ধুয়ে নিয়ে নিয়ে আকাশের পাশে বসে । একটা আকাশের দিকে বাড়িয়ে দেয় ।

_ ওসব আমি খাবো না দাঁত টক হয়ে যায় । তোমার ভাই তোমার জন্য এনেছে তুমিই খাও ।

_ পেয়ারা খেলে দাঁত টক হয় ?

_ না হয় না ? পানি পর্যন্ত খেতে পারি না টকের কারণে ।

_ স্পেশাল দাঁত ।

আকাশ মুচকি হেসে রাহা কে টেনে বেডে শুইয়ে দেয় । তার পর নিজে রাহার উপর ঝুঁকে যায় ।

__________

দুদিন পর সমুদ্র মিলা আর সন্ধ্যা বাড়ি ফিরে আসে ।

সন্ধ্যা দৌড়ে গিয়ে ভাইকে জড়িয়ে ধরে । ধ্রুব দুদিন পর আপুকে দেখে খুশিতে লাফিয়ে ওঠে ।

সকলের সাথে কুশল বিনিময় করে ভেতরে আগায় সমুদ্র আর মিলা । সন্ধ্যা ভাইকে নিয়ে সোফায় বসে পড়ে ।

,

রাতে সকলেই বসে আছে সোফায় । শুধু অসীম বাদে । ও এখনো নিজের রুম থেকে বের হয়নি । বিশ মিনিট আগেই বাড়ি ফিরেছে ।

অসীম নিচে নেমে বরাবরের মত দুই ভাই কে ঠেলে মাঝখানে বসে পড়ে । ছোট বেলার অভ্যাস টা এখনো রয়ে গেছে দুই ভাইয়ের মাঝখানে বসা ।

আদো এই ছেলে জীবনে বড় হবে কিনা আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন ।

আমজাদ শেখ অসীমের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ আমরা আগামী কাল মেয়ে দেখতে যাবো মিরপুর ।

অসীম নাক মুখ কুচকে তাকায় বাবার দিকে । সরু চোখে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বলে ,

_ তুমি না বলেছিলে আমার বিয়ে নিয়ে মাথা ঘামাবে না। সেদিনের পর থেকে আমার বিয়ে নিয়ে এই বাড়িতে কথা হবে না । তাহলে আজকে আবার মেয়ে দেখতে যেতে চাইছো কেনো ?

_ আমার বাপেরে বিয়া করামু এর জন্যে ।

_ তোমার বাপ না ম*ই*রা গেছে ! তাও যখন আমি ছোট আছিলাম ওই সময় ।

_ আমার ছোট বাপেরেই বিয়া করাইমু ।

_ করবো না বিয়ে ।

বিজ্ঞাপন

_ একদম জেদ করবি না । আর এবারের মেয়ে তোর পছন্দ হবে আমি নিশ্চিত ।

_ মেয়েকে তুমি দেখেছো ?

_ তুইও দেখেছিস ।

_ আমিও দেখেছি ?

_ হুম ।

_ কোথায় ?

_ আমাদের বাড়িতে, আরো কয়েক বাড়িতে ।

_ কার কথা বলছো বলতো ।

_ মিলার ফুপাতো বোন শিখার কথা বলছি । ওনারা নিজে থেকেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন । শিখা শান্ত শিষ্ট ভদ্র একটা মেয়ে । অনার্স শেষ করেছে । আর শিখাও বিয়েতে মত দিয়েছে এখন তুই রাজি হলেই কথা আগাবো ।

অসীম ভাবুক ভঙ্গিতে তাকিয়ে থেকে বলে ,

_ ওই চার চোখ ওয়ালী মেয়ে টা ?

সবাই বিস্ফোরিত নয়নে তাকায় । শিখার আবার কবে চার চোখ হলো ? মানুষ তো বরাবর দুই চোখের অধিকারী হয় । এই বদ ছেলে চার চোখ দেখলো কোথায় ?

মিলা অবাক স্বরে বলে ,

_ তুই শিখার চার চোখ কোথায় দেখলি ?

_ চার চোখই তো ।

_ কোথায় ?

_ কেনো ! ওর দুই চোখ আর দুই চোখের উপর আরো দুই চোখ ।

অসীমের কথা শুনে মিলা ফিক করে হেসে ওঠে ।

_ ওর চোখে একটু পাওয়ার আছে তাই চশমা পড়ে । এই কারণে তুই ওকে চার চোখ ওয়ালী বলবি ?

_ চার চোখ ওয়ালী কে চার চোখ ওয়ালী বলবো না ?

আমজাদ শেখ রেগে সোফার কুশন তুলে ছুঁড়ে মা*রে অসীমের মুখে । দাঁতে দাঁত চেপে বলে ,

_ সব মেয়ের মধ্যে তোর দোষ খুত খুঁজে বের করতেই হবে ? বদ ছেলে একটা মে*রে দাঁত ফেলে দেবো তোর ।

আকাশ অসীমের দিকে তাকিয়ে বলে,

_ শিখা ভালো মেয়ে । আমাদের বাড়িতে ছোট বেলা থেকে অনেক বার এসেছে । তুই ছোট থেকেই ওকে চিনিস এবং জানিস । এখানে আপত্তি করার কি আছে ?

অসীম আকাশের দিক থেকে চোখ সরিয়ে বড় ভাইয়ের দিকে তাকায় । সমুদ্রের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে ,

_ ওকে চুমু খাবো কিভাবে ? সব সময় চশমা পড়ে থাকে। চার চোখ ওয়ালীর দুই চোখ তো আমাদের দুজনের মাঝে বাংলাদেশ ভারতের বর্ডার তৈরি করবে ।

_ সমস্যা নেই তুই সেই বর্ডার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিবি ।

তারপর চুমু খাবি যা ইচ্ছে করবি কোনো সমস্যা হবে না।

শেষের কথা গুলো হেঁসে হেঁসে বলে ।

_ ছি ছি ছি বড় ভাই হয়ে ছোট ভাই কে এসব কথা বলতে লজ্জা করছে না তোমার ?

_ তোর লজ্জা করছে না ছোট ভাই হয়ে বড় ভাই কে এসব জিজ্ঞেস করতে ?

আকাশ বড় বড় চোখ করে দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে । নির্লজ্জের মতো ছোট ভাই বড় ভাই কি সব পরামর্শ করছে । এই দুজনের মধ্যে পড়ে ভদ্র সভ্য ছেলে টা লজ্জায় মরে কিন্তু এই দুজনের কিছু হয় না । কে বলবে এই দুজনের মধ্যে বয়সের কতটা ফারাক রয়েছে । এদের কথা শুনে মনে হয় এরা দুজন পিঠাপিঠি ।

সমুদ্র আকাশ কে নিজেদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আকাশের চোয়াল ধরে সামনের দিকে মুখ ঘুরিয়ে দিয়ে বলে ,

_ ওদিকে তাকিয়ে থাক, এদিকে কি দেখছিস ?

আকাশ কিছু না বলে বাবা চাচার দিকে তাকিয়ে রইলো।

অসীম সকলের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে বাবার দিকে দৃষ্টি স্থির করে । তারপর মনে মনে বলে "চার চোখ ওয়ালী হলে কি হবে দেখতে কিউট আছে ।

তারপর মুখ ফুটে বলে ,

_ বিয়ের ডেট ফিক্সড করো ।

_ তুই বিয়েতে রাজি ?

_ ওই চার চোখ ওয়ালী কে আমি ছাড়া অন্য কেউ বিয়ে করবে নাকি ? তাই বাধ্য হয়েই রাজি হতে হলো ।

_ ভুল বললি । এটা বলে যে ওই চার চোখ ওয়ালী ছাড়া তোকে অন্য কেউ জীবনেও বিয়ে করতো না ।

_ সে জন্যই তো পুরো গুষ্টি আমার পেছনে লেগেছো দু বছর ধরে ।

সকলেই খুশি হয় । বদ ছেলে টা অবশেষে বিয়েতে রাজি হয়েছে ।

______________

আজ বাদে কাল অসীমের বিয়ে । পুরো শেখ বাড়ি বিয়ের সাঁজে সেজে উঠেছে । বাড়ি ভর্তি মেহমান । ছোট বড় কাজিনরা হইহুল্লোড় করছে ।

অসীম কে দেখে কেউ বলতেই পারবে না বিয়ে টা ওর । ওর অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ও নিজে অন্যের বিয়ে খেতে এসেছে ।

আর ঝামেলা রানী সে তো নিজের আগের ফর্মে ফিরে এসেছে । না চাইতেও সকাল থেকে বার বার ঝামেলা পাকিয়ে বসছে । বাড়ির সবাই কে সকালে চিনির বদলে লবণ দিয়ে চা বানিয়ে খাইয়েছে ।

সকলের মুখের কি এক্সপ্রেশন সেই চা খেয়ে ।

ঝামেলা রানী তো লজ্জায় শেষ । সকাল থেকে কি কি ঝামেলা করেছে হিসেব নেই ।

গায়ে হলুদের জন্য বাড়ির উঠোনে স্টেজ সাঁজানো হয়েছে ।

এখন বিকেল বেলা ।

রাহা তাড়াহুড়ো করে রান্না ঘরের দিকে যাচ্ছিল । সোফার পাশ কা*টিয়ে যাওয়ার সময় হুমড়ি খেয়ে পড়তে নেয় । ভয়ে যাকে সামনে পায় তাকেই খা*মচে ধরে পড়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য । সৌভাগ্য বশত নিজে বেঁচে গেলেও যাকে খামচে ধরেছিল সে বাঁচেনি ।

ধপাস শব্দ তুলে নিচে আছড়ে পড়েছে । মাজায় ব্যাথা পেয়ে চিৎকার করে উঠে বলে ,

_ কোন শা*লা*রে ? মাজাটা দিলোরে খেয়ে । আল্লাহ গো মাজাটা শেষ ।

ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাঁকিয়ে দেখে অসহায় মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে ঝামেলা রানী ।

অসীম মাজার ব্যাথা ভুলে পুরোপুরি রাহার দিকে ঘুরে বলে ,

_ ঝামেলা রানী তুমি ? আমিতো ভেবেছিলাম কে না কে ! তুমি হলে ঠিক আছে সমস্যা নেই ।

সকলেই দৌড়ে এগিয়ে এসেছে ওদের দুজনের কাছে ।

রিশাদ আর সমুদ্র অসীম কে টেনে তুলে দার করায় । বেচারা মাজায় সেই রকমের ব্যাথা পেয়েছে । সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছে না ।

ফ্লোরের দিকে খেয়াল করে দেখে জুস পড়ে আছে । জুসে পা দিয়ে রাহা পড়তে নিয়েছিল সেই জুসের উপরেই অসীম এসে দাঁড়িয়েছিল । রাহার থাবায় টাল সামলাতে না পেরে ধপাস করে পড়ে গেছে ।

রিশাদ বোনের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ দেখে শুনে হাটবি না ! সকাল থেকে কি শুরু করেছিস ? আজ বাদে কাল ছেলেটার বিয়ে আর আজকেই হসপিটালে নেওয়ার পাঁয়তারা করছিস ।

_ আমি কি ইচ্ছে করে ফেলেছি নাকি ?

রিশাদ কিছু বলবে তার আগেই অসীম থামিয়ে দিয়ে বলে ,

_ থামুন তো ভাইয়া । ঝামেলা রানী ঝামেলা না করলে করবে টা কে ? ঝামেলা রানী তুমি ঝামেলা করো কোনো সমস্যা নেই ।

রাহা লজ্জায় লাল হয়ে দ্রুত সরে যায় । অসীমের কথা শুনে উপস্থিত সকলেই হাসে ।

অসীম মাজা ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সোফায় গিয়ে বসে ।

,

এশারের পর অসীমের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয় ।

বাড়ির বউ মেয়েরা সবাই লাল পেড়ে হলুদ শাড়িতে সেজেছে । ছেলেরা লাল আর হলুদ রঙের পাঞ্জাবিতে সেজেছে ।

যথারীতি সবাই হলুদ ছোঁয়ায় অসীম কে । নিজেরাও হলুদ নিয়ে মাতামাতি করে ।

আকাশ রাহা কে নিজের সাথে করে নিয়ে স্টেজ থেকে নেমে এসেছে সাবধানে । কে জানে থাবা দিয়ে আবার কার পাঞ্জাবী জামা ছিঁড়ে উপুড় করে ফেলে দেয় । সেই ভয়ে আকাশ আগে ভাগেই ওকে নিয়ে নেমে এসেছে । আর ওর বউকে কেউ হলুদ লাগাক বা কোনো ছেলের ছোঁয়া ভুল ক্রমেও লেগে যাক আকাশ চায় না । তাই বউ নিয়ে আগেই নেমে এসেছে ।

ধ্রুব আর আজকে মা বাবার কাছে আসছে না । মামা নানা এসেছে আজ তাদের সাথেই রয়েছে । ধ্রুব নিজে ছোট হলেও ওর ছোট বাবু ভীষণ পছন্দ । রিশাদের এক বছরের মেয়ে রাশা । দেখতে একদম পুতুলের মতো । ধ্রুব সারাদিন রাশার সাথেই রয়েছে । ওকে ছেড়ে দু মিনিটের জন্য অন্য কারো কাছে যাচ্ছে না ।

আর বড় ঝামেলায় পড়তে হয়েছে রেজওয়ান মাহবুব কে । ধ্রুব রাশা কে অন্য কারো কাছে দিতেও দিচ্ছে না নিজেও কারো কাছে যাচ্ছে না । দুজন কে নিয়ে রেজওয়ান মাহবুব পড়েছেন মহা ঝামেলায় ।

রাত এগারোটায় অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয় । যদিও ছোটরা হইহুল্লোড় করতে চেয়েছিল তবে আমজাদ শেখ আর আজলান শেখ করতে দেয়নি । ওদের হইহুল্লোড়ে পাড়া প্রতিবেশীদের সমস্যা হবে । যেটা তারা চান না । তাই হইহুল্লোড় এখানেই সমাপ্ত ।

একে একে সবাই বাড়ির ভেতরের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে ।

আকাশ রাহার হাত ধরে ভেতরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । আকাশের পেছনে অসীম আসছে ।

রাহার ভাগ্য টা আজকে ওর সাথে ভীষণ শত্রুতামী করছে । আজ সকাল থেকে ও ঝামেলা না করতে চাইলেও বার বার হয়ে যাচ্ছে । ঝামেলা রানী ঝামেলা কে করলেও, ঝামেলা ঝামেলা রানী কে ছাড়ছে না কোনো ভাবেই । বার বার নিজ দায়িত্বে চলে আসছে ওর কাছে ।

এই যে এখন পিচ্ছিল কাদাতে পা দিয়ে নিজে তো পরেছেই সাথে আকাশ কেও ফেলেছে । আর আকাশের ধাক্কায় সামনের কয়েক জনও উপুড় হয়ে পড়েছে ।

মুহূর্তেই কয়েক জনের আর্তনাদ বেরিয়ে এসেছে । ওদের সাথে বেঁধে গিয়ে আরো কয়েক জন পড়েছে ।

অসীম শক্ত হয়ে দাড়িয়ে পড়েছে । ও আর পড়বে না এক আছাড় খেয়ে এখনো মাজায় জং ধরে আছে ।

আকাশ রাহার দিকে তাকায় । কাঁদায় লুটোপুটি খাচ্ছে সবাই । শাড়ি পাঞ্জাবি সব শেষ কাদা দিয়ে ।

অসীম চিৎকার করে বলে ,

_ আমার ঝামেলা রানী ফিরে এসেছে ।

সকলেই অসীমের দিকে তাকায় । সমুদ্র অসীমের মাথায় গাট্টা মে*রে বলে ,

_ রাহা আকাশের ঝামেলা রানী, তোর না ।

_ কে বলেছে তোমাকে ? ঝামেলা রানী , আমারও ঝামেলা রানী ভাইয়ারও ঝামেলা রানী । ঝামেলা রানী আগের ফর্মে ফিরে এসেছে ।

_ মুখ বন্ধ করে টেনে তোল আগে আমাকে ।

একে একে সবাই কে টেনে তোলা হয় । রাহা বেশ ব্যাথা পেয়েছে । ওর চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ।

আকাশ রাহার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলে ,

_ অনেক ব্যাথা পেয়েছো ?

_ পেটে ।

তার পর হাত দেখায় । হাত ছুলে গেছে ।

আকাশ রাহা কে কাছে টেনে নেয় । ছুলে যাওয়া হাতে ফু দিয়ে দেয় । রাহার হাতের র*ক্ত দেখে অসীমের মেজাজ গরম হয় । হুংকার ছেড়ে বলে ,

_ এখানে কাদা করেছে কোন বলদ ?

যারা যারা কাদা করেছে তারা পগারপার হয়ে গেছে । তাদের আর পায় কে ! যাদের ফেলতে চেয়েছিল তাদের ফেলতে পারেনি । আর যারা পড়েছে তাদের ফেলতে চায়নি ।

আমজাদ শেখ বুঝতে পারছেন এই অকাজ কে কে করেছে । তারই চাচাতো মামাতো ভাইয়ের ছেলেরা করেছে এই অকাজ । একেক টাকে সামনে পেলে চাপকে পিঠের ছাল তুলে নেবে । বাঁদর ছেলে পেলে একেক টা । অসীমের থেকেও কয়েক কাটি উপরে ।

রাহা কে ধরে ভেতরের দিকে এগিয়ে যায় আকাশ ।

বাকি যারা আছাড় পাছার খেয়ে কাদাতে গড়াগড়ি খেয়েছে তারাও এগিয়ে যায় ভেতরের দিকে ।

আকাশ রাহা কে নিয়ে সোজা ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ।

ব্যাথা পেয়েছে রাহা কিন্তু আকাশের চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে রাহার বদলে ব্যাথা ও নিজেই পাচ্ছে । রাহা কে ওয়াসরুমে রেখে এসে রুমের ডোর লক করে দেয় ।

আলমারি থেকে দুজনের ড্রেস নিয়ে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে আবার ।

নিজেই রাহার শাড়ীর সব গুলো পিন খুলে দেয় ।

রাহার শাড়ি নিজের পাঞ্জাবী খুলে নিচে রেখে রাহার হাতের পায়ের কাদা ধুয়ে দিতে শুরু করে । রাহা আকাশের ব্যাথাতুর মুখের দিকে তাকায়। আহারে বেচারা বোধহয় অনেক ব্যাথা পেয়েছে ।

ওর জন্য কত জোরেই না আছাড় টা খেল ।

_ তুমিও অনেক ব্যাথা পেয়েছো ?

আকাশ রাহার মুখের দিকে তাকায় ।

দুদিকে মাথা নাড়ায় ।

_ তাহলে চোখ মুখ এমন করে রেখেছো কেনো ?

_ হাত পায়ের চামড়া ছিলে কি অবস্থা হয়েছে দেখেছো ?

_ ব্যাথা পেয়েছি আমি আর অনুভব করছো তুমি !

_ আমার ঝামেলা রানীর কিছু হলে যে আমার হৃদয় পুড়ে ।

_ আমি জানি তো । আমি আঘাত পেলে আমার থেকে বেশি ব্যাথা তুমি পাও । ধ্রুব যেদিন হলো সেদিন তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে কিভাবে কেঁদেছিলে তা আমি কোনো দিন ভুলবো না । আমাকে সাহস দিতে দিতে তুমি নিজেই সাহস হারিয়ে ফেলেছিলে সেদিন ।

আকাশ হঠাৎ করে রাহা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।

বুকের মাঝে চেপে ধরে বলে ,

_ তুমি যেদিন বেবীর জন্য বায়না ধরলে আমার খুব রাগ হয়েছিল । তুমিই একটা বাচ্চা মেয়ে সেখানে আবার আরেকটা বেবী চাইছিলে । কিন্তু তোমার জেদের কাছে হেরে গিয়েছিলাম এক মাস পরেই যখন জানতে পারলাম আমি বাবা হবো । সেদিন বাবা হওয়ার আনন্দের চেয়ে তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় বেশি পেয়েছিলাম । একটা একটা করে দিন আগাচ্ছিল আর তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় ক্রমশ বেড়েই চলছিল ।

আমি রাতে ঘুমোতে পারতাম না দিনে কাজে মন বসাতে পারতাম না । সারাক্ষণ তোমার কথা মন মস্তিষ্কে ঘুরঘুর করতো । ডক্টর যখন জানালো নরমাল ডেলিভারি পসিবল নয় তখন আমার মনের মধ্যে ভয় জেঁকে বসে আরো বেশি । হয়তো তোমার সিরিয়াস কিছু হয়েছে এটা ভাবতেই আমার শ্বাস আটকে আসতো । সার্জারির দিন ভয়ে আমার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল । ওই সময় টুকু আমি কিভাবে পাড় করেছি কাউকে বোঝাতে পারবো না । তোমাকে ছাড়া আমি নিঃস্ব ঝামেলা রানী ।

আকাশের কথা গুলো শুনে রাহার চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসে । রাহা ভোলেনি সেই আট মাসের কথা । যেই আট মাসে আকাশ রাহার চুল পরিমান অযত্ন হতে দেয়নি । বাড়িতে না থাকলে টাইম টু টাইম ফোন করে রাহার খোজ খবর নিয়েছে । বাড়িতে আসার পর রাহার সাথে ছায়ার মত থেকেছে । ঝামেলা রানী কখন কোন ঝামেলা করে বসে বলা যায় না । রাহার খাওয়া ঘুম গোছল সব দিকেই নজর রেখেছে আকাশ । সময় মত চেকআপ করাতে নিয়ে যাওয়া । ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হাসি খুশি রাখা । রাহার কি কি খেতে ভালো লাগে সেসব যেখান থেকেই পারুক জোগাড় করে এনেছে ।

দুজন দুজন কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে । আকাশ অনেক গুলো দিন পর আগের ঝামেলা রানী কে ফিরে পেয়েছে । যে ভুল করতে না চেয়েও বার বার ভুল করে ফেলে । নিজে ঝামেলায় পড়ে সাথে অন্য কেউফেলে । আর আকাশের একটু ভালোবাসায় মোমের মত গলে যায় সব সময় ।

,

রাত বারোটার পর নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আসে অসীম । সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে সোজা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে । ভেতরের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে ।

একটা টু শব্দও নেই বাড়ির ভেতর ।

অসীম সোজা বাগানে চলে আসে । এক হাতে একটা ছোট সাইজের বক্স । অন্য হাতে ফোন ।

বাগানের শেষের দিকে অনেক আগাছা জন্মে গেছে । এগিয়ে যায় সেখানেই । আগাছার ভেতর থেকে ফোনের লাইট অন করে খুঁজে খুঁজে কিছু একটা বক্সের ভেতর রাখতে থাকে । বেশ কয়েক টা রাখার পর বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় । বক্সের মুখ লাগিয়ে বক্সের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে ,

_ বাড়ির দুই বউ আমার হাতে স্পেশাল গিফট্ পেয়েছে। তুমি কেনো বাদ পড়বে চশমা রানী ! তোমাকে গিফট্ না দিলে তো বৈষম্য হবে । কয়েক বছর আগেই না আমরা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন করলাম । তুমি আমার বউ বলে যে তোমাকে গিফট্ দেবো না তাতো হয় না চশমা রানী । তোমাকেও গিফট্ দেবো আমি । তোমার গিফট্ আরো বেশি স্পেশাল । কারণ তোমার হাসবেন্ড তোমাকে বাসর রাতে এমন স্পেশাল গিফট্ দেবে যা ইহজগতে এর আগে কেউ কোনো দিন পায়নি । তুমিই ফার্স্ট আর তুমিই বোধহয় লাস্ট ।

বলেই শ*য়*তা*নি হাসি হাসে । তারপর আবার বলে ,

_ তোমার জন্য বাবার কাছে বকা খেয়েছি জুতোর বারি পর্যন্ত খেয়েছি । আরো কত শত মা*র খেয়েছি হিসেব নেই । এর জন্য তুমিই দায়ী । আরো আগে যদি বিয়ের কথা বলতে তাহলে শুধু শুধু আমাকে এত কিছু সহ্য করতে হতো না । এর জন্য তোমাকে আরো একটা গিফট দেবো আমি পড়ে মিস চশমিশ , চার চোখ ওয়ালী, চশমা রানী ।

হঠাৎ হাতের ফোন কেঁপে ওঠে । স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে শিখার চাচাতো বোনের হোয়াটস অ্যাপ থেকে টুং ট্যাং ম্যাসেজ নোটিফিকেশন আসছে । একটু পর পিক আসতে থাকে । অসীম দেখে কিন্তু সিন করে না ।

ভেতরের দিকে এগিয়ে যেতেই আবার একটা ম্যাসেজ নোটিফিকেশন আসে "কি দুলাভাই ঘুমিয়ে পড়েছেন নাকি ফোন অনলাইন রেখে ? ম্যাসেজ সিন করছেন না কেনো ? হবু বউয়ের হলুদের সাঁজ দেখবেন না নাকি ? দয়া করে ম্যাসেজ সিন করেন দুলাভাই ।

অসীম ম্যাসেজ গুলো সিন করে । বউয়ের হলুদের সাঁজ তো সেই কখন দেখেছে । চশমা রানী কে হলুদের সাঁজে অনেক সুন্দর লাগছে ।

অসীম একটা ভয়েস পাঠায় "আপনাদের হবু দুলাভাই এখন ঘুমিয়ে আছে । আগামী কাল তার বাসর রাত । সারারাত জাগতে হবে তাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে । আপনাদের হবু দুলাভাইয়ের হবু বউ টাকেও দয়া করে ঘুমোতে দিন । তাকেও আগামী কাল সারারাত জাগতে হবে । অনুগ্রহ পূর্বক আগামী কাল কথা বলার জন্য সবাই কে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো । ধন্যবাদ ।

ভয়েস ম্যাসেজ টা সেন্ড করেই ইন্টারনেট কানেকশন অফ করে দেয় । হাসতে হাসতে হেলেদুলে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে ।

বিজ্ঞাপন
আমার ঝামেলা রানী গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক উপন্যাস