অসীমের মাস্টার্স শেষ হয়েছে ।
তোড়জোড় করে মেয়ে দেখা হয়েছে ।
অসীমের মন মত একটা মেয়েও পায়নি ।
শেষমেষ অসীম বাবার দিকে তাকিয়ে বলেছিল "জীবনে বিয়ে করাটাই কি সব কিছু ? বিয়ে না করলে হয় না ? বিয়ে নামক প্যারার মধ্যে কে পড়তে চায় ? এমনিই তো ভালো আছি ।
সেদিন আমজাদ শেখ জুতো নিয়ে ধাওয়া করেছিলেন অসীম কে । দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বলেছিল "হারামী বদ ছেলে হতচ্ছাড়া এখন বিয়ে করতে চাইছিস না পড়ে তো ঠিকই বলবি আমার বাবা চাচা আমাকে বিয়ে করায়নি। সাড়া জীবন আমাকে সিঙ্গেল করে রেখেছে । তখন তো অভিশাপ দিবি দিন রাত ধরে ।
আজকের পর থেকে এই বাড়িতে তোর বিয়ের কথা উঠবে না । কেউ আর তোর বিয়ে নিয়ে মাথা ঘামাবে না। যে দিন যখন যাকে ইচ্ছে বিয়ে করে নিয়ে আসবি ।
তোকে আর তোর বউ কে সদরে গ্রহণ করা হবে ।
অনন্যা শেখ বলেছিলেন "ও হয়তো কাউকে ভালোবাসে কিন্তু আমাদের বলতে পারছে না । তাই বিয়ে না করার বাহানা তৈরী করে ।
অসীম মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেছিল "কচু, তোমার ছেলে অতটাও ভালো নয় যে, কোনো মেয়েকে ভালোবাসতে যাবে ।
আমজাদ শেখ জুতো ছুঁড়ে মে*রে*ছি*লেন ছেলের গায়ে ।
এক নাম্বারের বদ ছেলে । যেখানে অন্য ছেলেরা বিয়ে করার জন্য পা*গ*ল হয়ে যায় । কলেজে ওঠার আগেই প্রেম করে । অনার্স শেষ করার আগেই বিয়ে করে নেয় ।
সেখানে এই ছেলে এত বড় হয়েও বিয়ে করতে চায় না । বিয়ে না করার কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে "মন মত মেয়ে পেলে বিয়ে করবো ।
ওর সেই মন মত মেয়েই পাওয়া যায় না ।
মেয়ে দেখলে সেই মেয়ের কোনো না কোনো দোষ খুঁজে বের করবেই । খচ্চর ছেলে একটা ।
,
অনেক দিন ধরে বাবার বাড়ি যাওয়া হয় না মিলার ।
মিলার মা এসেছেন মিলা আর সমুদ্র কে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ।
মিলা তিন মাসের প্রেগনেন্ট । বাড়িতে নতুন অথিতি আসার খবরে পুরো বাড়ির সবাই ভীষণ খুশি ।
আস্তে আস্তে বাড়িটা ভরে উঠছে ।
খাওয়া দাওয়া সেরে আছিয়া বেগম মিলা সমুদ্র আর সন্ধ্যা কে নিয়ে বেরিয়ে যায় নিজের বাড়ির উদ্যেশ্যে ।
রাহা আকাশ অসীম কেও নিয়ে যেতে চেয়েছিল তবে আকাশের অফিস আছে আর অসীম বাড়ি থেকে কোথাও যাবে না । আর রাহা তো আকাশ কে ছেড়ে জীবনেও যাবে না । আকাশ কে ছেড়ে নিজের বাবার বাড়ি যায় না পর্যন্ত । সেই মেয়ে কিনা আকাশ কে ছেড়ে ফুপু শাশুরির বাড়িতে যাবে ! এটা অসম্ভব ।
অসীম ধ্রুব কে কোলে নিয়ে বসে সোফায় । বিকেল তিনটা বেজে গেছে । আজ আর মিলে বা গোডাউনে কোথাও যায়নি । বাবা চাচা কে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে বাড়িতে বসে থেকে গায়ে হাওয়া লাগাচ্ছে ।
ধ্রুবর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ আব্বা তুই বড় হইস না কিন্তু ।
ধ্রুব আধো বুলিতে বলে ,
_ কেনো ?
_ বড় হইলেই বিয়ে করানোর জন্য পুরো গুষ্টি তোর পেছনে লেগে যাবে ।
_ কেনো লাগবে ?
_ আল্লাহ বোঝেনা ! বিয়ে করানোর জন্য লাগবে ।
_ বিয়ে করলে কি হয় চাচ্চু ?
_ অনেক প্যারা ।
_ প্যারা কি ?
_ বুঝোস না ?
_ না ।
_ বোঝা লাগবো না ।
_ কেনো বোঝা লাগবো না ?
_ দুপুরে খাইছো আব্বা ?
_ হ্যাঁ ।
_ ঘুমাই ছিলা ?
_ না ।
_ ঘুমাও তাহলে ।
_ ঘুম নাই ।
_ কই গেছে ?
_ শশুর বাড়ী ।
_ শশুর বাড়ী ?
_ হুম শশুর বাড়ী ।
_ শশুর বাড়ী কোথায় ?
_ বনানী ।
_ ঐটা তো সমুদ্র ভাইয়ার শশুর বাড়ী ।
_ ওই বাড়িতেই তো গেছে ।
_ আমি তো ভাবছি তোর শশুর বাড়ী গেছে ।
_ নাই ।
_ কি নাই ?
_ শশুর বাড়ী ।
_ কার শশুর বাড়ী ?
_ আমার ।
_ কে বলছে ?
_ তুমি ।
_ কবে ?
_ এক বছর পর ।
_ এক বছর পর তোরে কেমনে কইছি ?
_ মুখ দিয়ে ।
_ কথা বলতে বলতে তোর মাথা আউলায়া গেছে । পাঁচ মিনিট চুপ চাপ বসে থাক আবার ঠিক হইয়া যাবো ।
_ ঠিক আছে ।
_ কি ?
_ মাথা ।
_ আব্বা চুপ কইরা তুই ঘুমা ।
_ নাই ।
_ কি নাই ?
_ ঘুম ।
_ আব্বারে মুখ টা বন্ধ কর ঘুম দৌড়াইয়া আইয়া পড়বো ।
বলেই ধ্রুবর মাথা নিজের কাঁধের উপর নিয়ে পিঠে হালকা করে চাপড় দিতে শুরু করে । ঘুমাচ্ছে না দেখে সোফা থেকে উঠে হাঁটতে শুরু করে । ড্রইং রুমে কেউ নেই খাবার খেয়ে সব গুছিয়ে রেখে যে যার রুমে চলে গেছে ।
রাহা রুমে গিয়ে রুম গোছাচ্ছে । ধ্রুব সব টেনে ফেলে এলোমেলো করে ফেলেছে আজ ।
দশ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার আগেই ধ্রুব ঘুমিয়ে যায়। ধ্রুব কে নিয়ে মায়ের রুমে যায় । অনন্যা শেখ বসে বসে ইসলামিক বই পড়ছিলেন । দুপুরে ঘুমোনোর অভ্যাস নেই তার । ধ্রুব কে নিয়ে আসতে দেখে বইটা বন্ধ করে বেড থেকে উঠে দাঁড়ায় ।
অসীম ধ্রুব কে বেডে শুইয়ে দেয় । চাদর টেনে ঢেকে দিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ ওকে দেখে রেখো খাট থেকে যেন পড়ে না যায় ।
_ এক কথা আর কত বার বলবি ?
_ যত দিন না ধ্রুব বড় হচ্ছে । ছোট বেলায় সন্ধ্যা ও একদিন পড়ে গিয়েছিল খাট থেকে । তারপর থেকে বাড়িতে থাকলে ওকে আমি পাহারা দিয়েছি দুপুরে ঘুমালে ।
_ এক ভুল মানুষ একবার করে বার বার না ।
_ ওকে দেখে রেখো আমি আসছি ।
_ কোথায় যাবি ?
_ ঘুরে আসি ।
_ কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই । গিয়ে ঘুমা ।
_ আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি এই অবেলায় ঘুমাবো ?
_ এই রোদের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করার কি দরকার ?
_ যাচ্ছি ঘুমাতে ।
বির বির করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসে । আকাশের রুম ক্রস করতেই পেছন থেকে রাহা ডেকে ওঠে ।
_ অসীম ধ্রুব কোথায় ?
_ মায়ের কাছে ঘুমাচ্ছে ।
_ ওহ ।
_ পেয়ারা খাবে ?
_ হুম ।
_ নিয়ে আসি তাহলে ?
_ নিয়ে আসো ।
_ ভাইয়া ঘুমিয়েছে ?
_ না ।
_ পেয়ারা নিয়ে আসছি আমি ।
রুমের দিকে যেতে গিয়েও আবার নিচে চলে যায় ।
লাঠি দিয়ে পেয়ারা পারে, কত গুলো বরই ও পারে ।
সিজন না থাকলেও বারো মাস বরই আর পেয়ারা ধরে।
সব নিয়ে উপরে উঠে আসে ।
আকাশের রুমের ডোর নক করে । অনুমতি পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে । এক চোখ দিয়ে তাঁকিয়ে আছে অন্য চোখ বন্ধ ।
দুই হাতে ছয় টা পেয়ারা ।
আকাশ ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ এরকম এক চোখ কানা করে রেখেছিস কেনো ?
_ আর বলো না ভাইয়া । বরই পারতে গিয়ে চোখের মধ্যে ময়লা ঢুকে গেছে আর বের হচ্ছে না ।
আকাশ এগিয়ে যায় অসীমের কাছে । রাহা অসীমের হাত থেকে পেয়ারা গুলো নিয়ে রেখে দেয় ।
আকাশ রাহার কাছে একটা টিস্যু চায় ।
টিস্যু এনে দিতেই আকাশ ছোট ভাইয়ের চোখের ভেতরে থাকা শুকনো পাতার অংশ টুকু বের করে নিয়ে আসে ।
অসীম শুকনো পাতা টুকু আঙ্গুলের ডগায় নিয়ে বলে ,
_ এখন তো ঠিকই বের হইলি । পাঁচ মিনিট ধরে বের করতে চাইলাম তখন বের হইলি না । চোখের ভেতরে খামচে ধরে বসে ছিলি ।
_ তোকে এসব কে পারতে বলেছে ?
_ আমার মন , মস্তিষ্ক ।
_ পা*গ*ল হয়েছিস নাকি ?
_ হয়তো ।
অসীম প্যান্টের পকেট থেকে বরই বের করে রাহার হাতে দেয় ।
ডোরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে ,
_ এগুলো তোমরা দুজন বসে বসে খাও । আমি বাহিরে যাচ্ছি ফিরতে রাত হবে ।
বলতে বলতে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় ।
আকাশ রাহার দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ তোমরা মানুষ দুজন হলেও পেট একটাই । এক জনের মনের কথা আরেক জনের পেটে থাকে । অসীম প্রেম করে তাইনা ?
_ না ।
_ মিথ্যে বলবে না কিন্তু । ওর হাব ভাব দেখে মাঝে মধ্যে তাই মনে হয় । আর অসীমের সব গোপন কথা তোমাকে বলে ।
_ সত্যি সত্যিই অসীম প্রেম করে না । আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ও সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রেম ট্রেম করে না । মন মত মেয়ে পাচ্ছে না তাই বিয়েতে রাজি হচ্ছে না ।
_ কেমন মেয়ে পছন্দ সেটাও বলে না তো ।
_ বলবে কিভাবে ? অসীম নিজেই তো জানে না কেমন মেয়ে ওর পছন্দ ।
আকাশ বির বির করতে করতে বেডে গিয়ে বসে ।
রাহা দুটো পেয়ারা ধুয়ে নিয়ে নিয়ে আকাশের পাশে বসে । একটা আকাশের দিকে বাড়িয়ে দেয় ।
_ ওসব আমি খাবো না দাঁত টক হয়ে যায় । তোমার ভাই তোমার জন্য এনেছে তুমিই খাও ।
_ পেয়ারা খেলে দাঁত টক হয় ?
_ না হয় না ? পানি পর্যন্ত খেতে পারি না টকের কারণে ।
_ স্পেশাল দাঁত ।
আকাশ মুচকি হেসে রাহা কে টেনে বেডে শুইয়ে দেয় । তার পর নিজে রাহার উপর ঝুঁকে যায় ।
__________
দুদিন পর সমুদ্র মিলা আর সন্ধ্যা বাড়ি ফিরে আসে ।
সন্ধ্যা দৌড়ে গিয়ে ভাইকে জড়িয়ে ধরে । ধ্রুব দুদিন পর আপুকে দেখে খুশিতে লাফিয়ে ওঠে ।
সকলের সাথে কুশল বিনিময় করে ভেতরে আগায় সমুদ্র আর মিলা । সন্ধ্যা ভাইকে নিয়ে সোফায় বসে পড়ে ।
,
রাতে সকলেই বসে আছে সোফায় । শুধু অসীম বাদে । ও এখনো নিজের রুম থেকে বের হয়নি । বিশ মিনিট আগেই বাড়ি ফিরেছে ।
অসীম নিচে নেমে বরাবরের মত দুই ভাই কে ঠেলে মাঝখানে বসে পড়ে । ছোট বেলার অভ্যাস টা এখনো রয়ে গেছে দুই ভাইয়ের মাঝখানে বসা ।
আদো এই ছেলে জীবনে বড় হবে কিনা আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন ।
আমজাদ শেখ অসীমের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ আমরা আগামী কাল মেয়ে দেখতে যাবো মিরপুর ।
অসীম নাক মুখ কুচকে তাকায় বাবার দিকে । সরু চোখে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে বলে ,
_ তুমি না বলেছিলে আমার বিয়ে নিয়ে মাথা ঘামাবে না। সেদিনের পর থেকে আমার বিয়ে নিয়ে এই বাড়িতে কথা হবে না । তাহলে আজকে আবার মেয়ে দেখতে যেতে চাইছো কেনো ?
_ আমার বাপেরে বিয়া করামু এর জন্যে ।
_ তোমার বাপ না ম*ই*রা গেছে ! তাও যখন আমি ছোট আছিলাম ওই সময় ।
_ আমার ছোট বাপেরেই বিয়া করাইমু ।
_ করবো না বিয়ে ।
_ একদম জেদ করবি না । আর এবারের মেয়ে তোর পছন্দ হবে আমি নিশ্চিত ।
_ মেয়েকে তুমি দেখেছো ?
_ তুইও দেখেছিস ।
_ আমিও দেখেছি ?
_ হুম ।
_ কোথায় ?
_ আমাদের বাড়িতে, আরো কয়েক বাড়িতে ।
_ কার কথা বলছো বলতো ।
_ মিলার ফুপাতো বোন শিখার কথা বলছি । ওনারা নিজে থেকেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন । শিখা শান্ত শিষ্ট ভদ্র একটা মেয়ে । অনার্স শেষ করেছে । আর শিখাও বিয়েতে মত দিয়েছে এখন তুই রাজি হলেই কথা আগাবো ।
অসীম ভাবুক ভঙ্গিতে তাকিয়ে থেকে বলে ,
_ ওই চার চোখ ওয়ালী মেয়ে টা ?
সবাই বিস্ফোরিত নয়নে তাকায় । শিখার আবার কবে চার চোখ হলো ? মানুষ তো বরাবর দুই চোখের অধিকারী হয় । এই বদ ছেলে চার চোখ দেখলো কোথায় ?
মিলা অবাক স্বরে বলে ,
_ তুই শিখার চার চোখ কোথায় দেখলি ?
_ চার চোখই তো ।
_ কোথায় ?
_ কেনো ! ওর দুই চোখ আর দুই চোখের উপর আরো দুই চোখ ।
অসীমের কথা শুনে মিলা ফিক করে হেসে ওঠে ।
_ ওর চোখে একটু পাওয়ার আছে তাই চশমা পড়ে । এই কারণে তুই ওকে চার চোখ ওয়ালী বলবি ?
_ চার চোখ ওয়ালী কে চার চোখ ওয়ালী বলবো না ?
আমজাদ শেখ রেগে সোফার কুশন তুলে ছুঁড়ে মা*রে অসীমের মুখে । দাঁতে দাঁত চেপে বলে ,
_ সব মেয়ের মধ্যে তোর দোষ খুত খুঁজে বের করতেই হবে ? বদ ছেলে একটা মে*রে দাঁত ফেলে দেবো তোর ।
আকাশ অসীমের দিকে তাকিয়ে বলে,
_ শিখা ভালো মেয়ে । আমাদের বাড়িতে ছোট বেলা থেকে অনেক বার এসেছে । তুই ছোট থেকেই ওকে চিনিস এবং জানিস । এখানে আপত্তি করার কি আছে ?
অসীম আকাশের দিক থেকে চোখ সরিয়ে বড় ভাইয়ের দিকে তাকায় । সমুদ্রের কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে ,
_ ওকে চুমু খাবো কিভাবে ? সব সময় চশমা পড়ে থাকে। চার চোখ ওয়ালীর দুই চোখ তো আমাদের দুজনের মাঝে বাংলাদেশ ভারতের বর্ডার তৈরি করবে ।
_ সমস্যা নেই তুই সেই বর্ডার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিবি ।
তারপর চুমু খাবি যা ইচ্ছে করবি কোনো সমস্যা হবে না।
শেষের কথা গুলো হেঁসে হেঁসে বলে ।
_ ছি ছি ছি বড় ভাই হয়ে ছোট ভাই কে এসব কথা বলতে লজ্জা করছে না তোমার ?
_ তোর লজ্জা করছে না ছোট ভাই হয়ে বড় ভাই কে এসব জিজ্ঞেস করতে ?
আকাশ বড় বড় চোখ করে দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে । নির্লজ্জের মতো ছোট ভাই বড় ভাই কি সব পরামর্শ করছে । এই দুজনের মধ্যে পড়ে ভদ্র সভ্য ছেলে টা লজ্জায় মরে কিন্তু এই দুজনের কিছু হয় না । কে বলবে এই দুজনের মধ্যে বয়সের কতটা ফারাক রয়েছে । এদের কথা শুনে মনে হয় এরা দুজন পিঠাপিঠি ।
সমুদ্র আকাশ কে নিজেদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আকাশের চোয়াল ধরে সামনের দিকে মুখ ঘুরিয়ে দিয়ে বলে ,
_ ওদিকে তাকিয়ে থাক, এদিকে কি দেখছিস ?
আকাশ কিছু না বলে বাবা চাচার দিকে তাকিয়ে রইলো।
অসীম সকলের মুখের দিকে একবার তাকিয়ে বাবার দিকে দৃষ্টি স্থির করে । তারপর মনে মনে বলে "চার চোখ ওয়ালী হলে কি হবে দেখতে কিউট আছে ।
তারপর মুখ ফুটে বলে ,
_ বিয়ের ডেট ফিক্সড করো ।
_ তুই বিয়েতে রাজি ?
_ ওই চার চোখ ওয়ালী কে আমি ছাড়া অন্য কেউ বিয়ে করবে নাকি ? তাই বাধ্য হয়েই রাজি হতে হলো ।
_ ভুল বললি । এটা বলে যে ওই চার চোখ ওয়ালী ছাড়া তোকে অন্য কেউ জীবনেও বিয়ে করতো না ।
_ সে জন্যই তো পুরো গুষ্টি আমার পেছনে লেগেছো দু বছর ধরে ।
সকলেই খুশি হয় । বদ ছেলে টা অবশেষে বিয়েতে রাজি হয়েছে ।
______________
আজ বাদে কাল অসীমের বিয়ে । পুরো শেখ বাড়ি বিয়ের সাঁজে সেজে উঠেছে । বাড়ি ভর্তি মেহমান । ছোট বড় কাজিনরা হইহুল্লোড় করছে ।
অসীম কে দেখে কেউ বলতেই পারবে না বিয়ে টা ওর । ওর অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ও নিজে অন্যের বিয়ে খেতে এসেছে ।
আর ঝামেলা রানী সে তো নিজের আগের ফর্মে ফিরে এসেছে । না চাইতেও সকাল থেকে বার বার ঝামেলা পাকিয়ে বসছে । বাড়ির সবাই কে সকালে চিনির বদলে লবণ দিয়ে চা বানিয়ে খাইয়েছে ।
সকলের মুখের কি এক্সপ্রেশন সেই চা খেয়ে ।
ঝামেলা রানী তো লজ্জায় শেষ । সকাল থেকে কি কি ঝামেলা করেছে হিসেব নেই ।
গায়ে হলুদের জন্য বাড়ির উঠোনে স্টেজ সাঁজানো হয়েছে ।
এখন বিকেল বেলা ।
রাহা তাড়াহুড়ো করে রান্না ঘরের দিকে যাচ্ছিল । সোফার পাশ কা*টিয়ে যাওয়ার সময় হুমড়ি খেয়ে পড়তে নেয় । ভয়ে যাকে সামনে পায় তাকেই খা*মচে ধরে পড়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য । সৌভাগ্য বশত নিজে বেঁচে গেলেও যাকে খামচে ধরেছিল সে বাঁচেনি ।
ধপাস শব্দ তুলে নিচে আছড়ে পড়েছে । মাজায় ব্যাথা পেয়ে চিৎকার করে উঠে বলে ,
_ কোন শা*লা*রে ? মাজাটা দিলোরে খেয়ে । আল্লাহ গো মাজাটা শেষ ।
ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাঁকিয়ে দেখে অসহায় মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে ঝামেলা রানী ।
অসীম মাজার ব্যাথা ভুলে পুরোপুরি রাহার দিকে ঘুরে বলে ,
_ ঝামেলা রানী তুমি ? আমিতো ভেবেছিলাম কে না কে ! তুমি হলে ঠিক আছে সমস্যা নেই ।
সকলেই দৌড়ে এগিয়ে এসেছে ওদের দুজনের কাছে ।
রিশাদ আর সমুদ্র অসীম কে টেনে তুলে দার করায় । বেচারা মাজায় সেই রকমের ব্যাথা পেয়েছে । সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছে না ।
ফ্লোরের দিকে খেয়াল করে দেখে জুস পড়ে আছে । জুসে পা দিয়ে রাহা পড়তে নিয়েছিল সেই জুসের উপরেই অসীম এসে দাঁড়িয়েছিল । রাহার থাবায় টাল সামলাতে না পেরে ধপাস করে পড়ে গেছে ।
রিশাদ বোনের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ দেখে শুনে হাটবি না ! সকাল থেকে কি শুরু করেছিস ? আজ বাদে কাল ছেলেটার বিয়ে আর আজকেই হসপিটালে নেওয়ার পাঁয়তারা করছিস ।
_ আমি কি ইচ্ছে করে ফেলেছি নাকি ?
রিশাদ কিছু বলবে তার আগেই অসীম থামিয়ে দিয়ে বলে ,
_ থামুন তো ভাইয়া । ঝামেলা রানী ঝামেলা না করলে করবে টা কে ? ঝামেলা রানী তুমি ঝামেলা করো কোনো সমস্যা নেই ।
রাহা লজ্জায় লাল হয়ে দ্রুত সরে যায় । অসীমের কথা শুনে উপস্থিত সকলেই হাসে ।
অসীম মাজা ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সোফায় গিয়ে বসে ।
,
এশারের পর অসীমের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয় ।
বাড়ির বউ মেয়েরা সবাই লাল পেড়ে হলুদ শাড়িতে সেজেছে । ছেলেরা লাল আর হলুদ রঙের পাঞ্জাবিতে সেজেছে ।
যথারীতি সবাই হলুদ ছোঁয়ায় অসীম কে । নিজেরাও হলুদ নিয়ে মাতামাতি করে ।
আকাশ রাহা কে নিজের সাথে করে নিয়ে স্টেজ থেকে নেমে এসেছে সাবধানে । কে জানে থাবা দিয়ে আবার কার পাঞ্জাবী জামা ছিঁড়ে উপুড় করে ফেলে দেয় । সেই ভয়ে আকাশ আগে ভাগেই ওকে নিয়ে নেমে এসেছে । আর ওর বউকে কেউ হলুদ লাগাক বা কোনো ছেলের ছোঁয়া ভুল ক্রমেও লেগে যাক আকাশ চায় না । তাই বউ নিয়ে আগেই নেমে এসেছে ।
ধ্রুব আর আজকে মা বাবার কাছে আসছে না । মামা নানা এসেছে আজ তাদের সাথেই রয়েছে । ধ্রুব নিজে ছোট হলেও ওর ছোট বাবু ভীষণ পছন্দ । রিশাদের এক বছরের মেয়ে রাশা । দেখতে একদম পুতুলের মতো । ধ্রুব সারাদিন রাশার সাথেই রয়েছে । ওকে ছেড়ে দু মিনিটের জন্য অন্য কারো কাছে যাচ্ছে না ।
আর বড় ঝামেলায় পড়তে হয়েছে রেজওয়ান মাহবুব কে । ধ্রুব রাশা কে অন্য কারো কাছে দিতেও দিচ্ছে না নিজেও কারো কাছে যাচ্ছে না । দুজন কে নিয়ে রেজওয়ান মাহবুব পড়েছেন মহা ঝামেলায় ।
রাত এগারোটায় অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয় । যদিও ছোটরা হইহুল্লোড় করতে চেয়েছিল তবে আমজাদ শেখ আর আজলান শেখ করতে দেয়নি । ওদের হইহুল্লোড়ে পাড়া প্রতিবেশীদের সমস্যা হবে । যেটা তারা চান না । তাই হইহুল্লোড় এখানেই সমাপ্ত ।
একে একে সবাই বাড়ির ভেতরের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে ।
আকাশ রাহার হাত ধরে ভেতরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । আকাশের পেছনে অসীম আসছে ।
রাহার ভাগ্য টা আজকে ওর সাথে ভীষণ শত্রুতামী করছে । আজ সকাল থেকে ও ঝামেলা না করতে চাইলেও বার বার হয়ে যাচ্ছে । ঝামেলা রানী ঝামেলা কে করলেও, ঝামেলা ঝামেলা রানী কে ছাড়ছে না কোনো ভাবেই । বার বার নিজ দায়িত্বে চলে আসছে ওর কাছে ।
এই যে এখন পিচ্ছিল কাদাতে পা দিয়ে নিজে তো পরেছেই সাথে আকাশ কেও ফেলেছে । আর আকাশের ধাক্কায় সামনের কয়েক জনও উপুড় হয়ে পড়েছে ।
মুহূর্তেই কয়েক জনের আর্তনাদ বেরিয়ে এসেছে । ওদের সাথে বেঁধে গিয়ে আরো কয়েক জন পড়েছে ।
অসীম শক্ত হয়ে দাড়িয়ে পড়েছে । ও আর পড়বে না এক আছাড় খেয়ে এখনো মাজায় জং ধরে আছে ।
আকাশ রাহার দিকে তাকায় । কাঁদায় লুটোপুটি খাচ্ছে সবাই । শাড়ি পাঞ্জাবি সব শেষ কাদা দিয়ে ।
অসীম চিৎকার করে বলে ,
_ আমার ঝামেলা রানী ফিরে এসেছে ।
সকলেই অসীমের দিকে তাকায় । সমুদ্র অসীমের মাথায় গাট্টা মে*রে বলে ,
_ রাহা আকাশের ঝামেলা রানী, তোর না ।
_ কে বলেছে তোমাকে ? ঝামেলা রানী , আমারও ঝামেলা রানী ভাইয়ারও ঝামেলা রানী । ঝামেলা রানী আগের ফর্মে ফিরে এসেছে ।
_ মুখ বন্ধ করে টেনে তোল আগে আমাকে ।
একে একে সবাই কে টেনে তোলা হয় । রাহা বেশ ব্যাথা পেয়েছে । ওর চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে ।
আকাশ রাহার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলে ,
_ অনেক ব্যাথা পেয়েছো ?
_ পেটে ।
তার পর হাত দেখায় । হাত ছুলে গেছে ।
আকাশ রাহা কে কাছে টেনে নেয় । ছুলে যাওয়া হাতে ফু দিয়ে দেয় । রাহার হাতের র*ক্ত দেখে অসীমের মেজাজ গরম হয় । হুংকার ছেড়ে বলে ,
_ এখানে কাদা করেছে কোন বলদ ?
যারা যারা কাদা করেছে তারা পগারপার হয়ে গেছে । তাদের আর পায় কে ! যাদের ফেলতে চেয়েছিল তাদের ফেলতে পারেনি । আর যারা পড়েছে তাদের ফেলতে চায়নি ।
আমজাদ শেখ বুঝতে পারছেন এই অকাজ কে কে করেছে । তারই চাচাতো মামাতো ভাইয়ের ছেলেরা করেছে এই অকাজ । একেক টাকে সামনে পেলে চাপকে পিঠের ছাল তুলে নেবে । বাঁদর ছেলে পেলে একেক টা । অসীমের থেকেও কয়েক কাটি উপরে ।
রাহা কে ধরে ভেতরের দিকে এগিয়ে যায় আকাশ ।
বাকি যারা আছাড় পাছার খেয়ে কাদাতে গড়াগড়ি খেয়েছে তারাও এগিয়ে যায় ভেতরের দিকে ।
আকাশ রাহা কে নিয়ে সোজা ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ।
ব্যাথা পেয়েছে রাহা কিন্তু আকাশের চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে রাহার বদলে ব্যাথা ও নিজেই পাচ্ছে । রাহা কে ওয়াসরুমে রেখে এসে রুমের ডোর লক করে দেয় ।
আলমারি থেকে দুজনের ড্রেস নিয়ে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে আবার ।
নিজেই রাহার শাড়ীর সব গুলো পিন খুলে দেয় ।
রাহার শাড়ি নিজের পাঞ্জাবী খুলে নিচে রেখে রাহার হাতের পায়ের কাদা ধুয়ে দিতে শুরু করে । রাহা আকাশের ব্যাথাতুর মুখের দিকে তাকায়। আহারে বেচারা বোধহয় অনেক ব্যাথা পেয়েছে ।
ওর জন্য কত জোরেই না আছাড় টা খেল ।
_ তুমিও অনেক ব্যাথা পেয়েছো ?
আকাশ রাহার মুখের দিকে তাকায় ।
দুদিকে মাথা নাড়ায় ।
_ তাহলে চোখ মুখ এমন করে রেখেছো কেনো ?
_ হাত পায়ের চামড়া ছিলে কি অবস্থা হয়েছে দেখেছো ?
_ ব্যাথা পেয়েছি আমি আর অনুভব করছো তুমি !
_ আমার ঝামেলা রানীর কিছু হলে যে আমার হৃদয় পুড়ে ।
_ আমি জানি তো । আমি আঘাত পেলে আমার থেকে বেশি ব্যাথা তুমি পাও । ধ্রুব যেদিন হলো সেদিন তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে কিভাবে কেঁদেছিলে তা আমি কোনো দিন ভুলবো না । আমাকে সাহস দিতে দিতে তুমি নিজেই সাহস হারিয়ে ফেলেছিলে সেদিন ।
আকাশ হঠাৎ করে রাহা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ।
বুকের মাঝে চেপে ধরে বলে ,
_ তুমি যেদিন বেবীর জন্য বায়না ধরলে আমার খুব রাগ হয়েছিল । তুমিই একটা বাচ্চা মেয়ে সেখানে আবার আরেকটা বেবী চাইছিলে । কিন্তু তোমার জেদের কাছে হেরে গিয়েছিলাম এক মাস পরেই যখন জানতে পারলাম আমি বাবা হবো । সেদিন বাবা হওয়ার আনন্দের চেয়ে তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় বেশি পেয়েছিলাম । একটা একটা করে দিন আগাচ্ছিল আর তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় ক্রমশ বেড়েই চলছিল ।
আমি রাতে ঘুমোতে পারতাম না দিনে কাজে মন বসাতে পারতাম না । সারাক্ষণ তোমার কথা মন মস্তিষ্কে ঘুরঘুর করতো । ডক্টর যখন জানালো নরমাল ডেলিভারি পসিবল নয় তখন আমার মনের মধ্যে ভয় জেঁকে বসে আরো বেশি । হয়তো তোমার সিরিয়াস কিছু হয়েছে এটা ভাবতেই আমার শ্বাস আটকে আসতো । সার্জারির দিন ভয়ে আমার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়েছিল । ওই সময় টুকু আমি কিভাবে পাড় করেছি কাউকে বোঝাতে পারবো না । তোমাকে ছাড়া আমি নিঃস্ব ঝামেলা রানী ।
আকাশের কথা গুলো শুনে রাহার চোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসে । রাহা ভোলেনি সেই আট মাসের কথা । যেই আট মাসে আকাশ রাহার চুল পরিমান অযত্ন হতে দেয়নি । বাড়িতে না থাকলে টাইম টু টাইম ফোন করে রাহার খোজ খবর নিয়েছে । বাড়িতে আসার পর রাহার সাথে ছায়ার মত থেকেছে । ঝামেলা রানী কখন কোন ঝামেলা করে বসে বলা যায় না । রাহার খাওয়া ঘুম গোছল সব দিকেই নজর রেখেছে আকাশ । সময় মত চেকআপ করাতে নিয়ে যাওয়া । ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হাসি খুশি রাখা । রাহার কি কি খেতে ভালো লাগে সেসব যেখান থেকেই পারুক জোগাড় করে এনেছে ।
দুজন দুজন কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে । আকাশ অনেক গুলো দিন পর আগের ঝামেলা রানী কে ফিরে পেয়েছে । যে ভুল করতে না চেয়েও বার বার ভুল করে ফেলে । নিজে ঝামেলায় পড়ে সাথে অন্য কেউফেলে । আর আকাশের একটু ভালোবাসায় মোমের মত গলে যায় সব সময় ।
,
রাত বারোটার পর নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আসে অসীম । সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে সোজা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে । ভেতরের সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে ।
একটা টু শব্দও নেই বাড়ির ভেতর ।
অসীম সোজা বাগানে চলে আসে । এক হাতে একটা ছোট সাইজের বক্স । অন্য হাতে ফোন ।
বাগানের শেষের দিকে অনেক আগাছা জন্মে গেছে । এগিয়ে যায় সেখানেই । আগাছার ভেতর থেকে ফোনের লাইট অন করে খুঁজে খুঁজে কিছু একটা বক্সের ভেতর রাখতে থাকে । বেশ কয়েক টা রাখার পর বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় । বক্সের মুখ লাগিয়ে বক্সের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে ,
_ বাড়ির দুই বউ আমার হাতে স্পেশাল গিফট্ পেয়েছে। তুমি কেনো বাদ পড়বে চশমা রানী ! তোমাকে গিফট্ না দিলে তো বৈষম্য হবে । কয়েক বছর আগেই না আমরা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন করলাম । তুমি আমার বউ বলে যে তোমাকে গিফট্ দেবো না তাতো হয় না চশমা রানী । তোমাকেও গিফট্ দেবো আমি । তোমার গিফট্ আরো বেশি স্পেশাল । কারণ তোমার হাসবেন্ড তোমাকে বাসর রাতে এমন স্পেশাল গিফট্ দেবে যা ইহজগতে এর আগে কেউ কোনো দিন পায়নি । তুমিই ফার্স্ট আর তুমিই বোধহয় লাস্ট ।
বলেই শ*য়*তা*নি হাসি হাসে । তারপর আবার বলে ,
_ তোমার জন্য বাবার কাছে বকা খেয়েছি জুতোর বারি পর্যন্ত খেয়েছি । আরো কত শত মা*র খেয়েছি হিসেব নেই । এর জন্য তুমিই দায়ী । আরো আগে যদি বিয়ের কথা বলতে তাহলে শুধু শুধু আমাকে এত কিছু সহ্য করতে হতো না । এর জন্য তোমাকে আরো একটা গিফট দেবো আমি পড়ে মিস চশমিশ , চার চোখ ওয়ালী, চশমা রানী ।
হঠাৎ হাতের ফোন কেঁপে ওঠে । স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে শিখার চাচাতো বোনের হোয়াটস অ্যাপ থেকে টুং ট্যাং ম্যাসেজ নোটিফিকেশন আসছে । একটু পর পিক আসতে থাকে । অসীম দেখে কিন্তু সিন করে না ।
ভেতরের দিকে এগিয়ে যেতেই আবার একটা ম্যাসেজ নোটিফিকেশন আসে "কি দুলাভাই ঘুমিয়ে পড়েছেন নাকি ফোন অনলাইন রেখে ? ম্যাসেজ সিন করছেন না কেনো ? হবু বউয়ের হলুদের সাঁজ দেখবেন না নাকি ? দয়া করে ম্যাসেজ সিন করেন দুলাভাই ।
অসীম ম্যাসেজ গুলো সিন করে । বউয়ের হলুদের সাঁজ তো সেই কখন দেখেছে । চশমা রানী কে হলুদের সাঁজে অনেক সুন্দর লাগছে ।
অসীম একটা ভয়েস পাঠায় "আপনাদের হবু দুলাভাই এখন ঘুমিয়ে আছে । আগামী কাল তার বাসর রাত । সারারাত জাগতে হবে তাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে । আপনাদের হবু দুলাভাইয়ের হবু বউ টাকেও দয়া করে ঘুমোতে দিন । তাকেও আগামী কাল সারারাত জাগতে হবে । অনুগ্রহ পূর্বক আগামী কাল কথা বলার জন্য সবাই কে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো । ধন্যবাদ ।
ভয়েস ম্যাসেজ টা সেন্ড করেই ইন্টারনেট কানেকশন অফ করে দেয় । হাসতে হাসতে হেলেদুলে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে ।