আমার ঝামেলা রানী

পর্ব - ৫

🟢

পরদিন দুপুরে আকাশের বাবা আমজাদ শেখ । ছেলে আর ছেলের বউকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য । ওনার সাথে অসীম ও এসেছে ।

দুজনকে রিশাদ বাড়ির ভেতর নিয়ে আসে । সকলের সাথে কুশোলদারী শেষে সোফায় বসতে দেওয়া হয় দুজন কে । আকাশ রাফি আর নীলয় ছাদ থেকে নেমে আসে । ছাদে দাঁড়িয়ে থেকেই দেখেছে বাবা ভাই কে আসতে ।

রাহা ও নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আসে ।

শশুর আর দেবর কে দেখে সালাম দিয়ে এগিয়ে যায় ।

সালামের জবাব দিয়ে আমজাদ শেখ রাহা কে নিজের পাশে বসার জন্য জায়গা করে দেয় ।

রাহা শশুরের পাশে বসে । অসীম বাড়ির চারো দিকে নজর বুলাচ্ছে । বাড়ির সকল মেহমানরা চলে গেছে । তাই বাড়ি ফাঁকা হয়ে আছে ।

সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় আকাশ দেখতে পায় ওর বাবা রাহা আর রাহার দাদীর সাথে কথায় মশগুল হয়ে গেছে। অসীম এদিক সেদিক তাকাচ্ছে । মিলা ট্রে হাতে এগিয়ে আসছে কিচেন থেকে । মিলার পেছন পেছন রাহার মা আয়শা খানম ।

ড্রইং রুমে আর কেউ নেই । আকাশ নীলয় আর রাফি এগিয়ে এসে দাঁড়ায় সোফার কাছে । আকাশ ওর বাবা কে সালাম দেয় । সাথে নীলয় আর রাফি ও ।

সালামের জবাব নেন আমজাদ শেখ । মিলা ওদের তিন জন কে সোফায় বসতে বলে ।

সেমাই, পায়েশ, মিষ্টি আর দই এগিয়ে দেয় সোফায় বসে থাকা সকলের দিকে । আমজাদ শেখ রিশাদের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ রিশাদ বাবা বেয়াই কে দেখতে পাচ্ছি না যে !

_ আব্বু একটু অফিসে গিয়েছেন । একটু পরেই চলে আসবে । আমিই যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু আব্বু আমাকে বাড়িতে থাকতে বলে নিজেই চলে গেল ।

_ ওহ্ । বেয়াই আসুক আমি বেয়াই এর সাথে খাবো ।

আয়শা খানম দ্রুত বলে ,

_ একেমন কথা ভাই সাহেব ! আপনি কেনো পড়ে খাবেন ? এখন হালকা খাবার খান , রাহার আব্বু আসলে নাহয় লাঞ্চ করবেন ।

_ সমস্যা নেই বেয়ান । ওরা খেয়ে নিক । আমি একটু পরেই খাবো ।

_ তা বললে চলবে না খেতেই হবে আপনাকে ।

আমজাদ শেখ হেসে বলেন ,

_ ঠিক আছে খাচ্ছি । আপনিও খান তাহলে ।

_ না না ভাই সাহেব আমার মিষ্টি খাওয়া বারণ । আপনি খান সমস্যা নেই ।

_ আপনার শরীর এখন কেমন আছে ?

_ আলহামদুলিল্লাহ আগের থেকে বেটার ।

_ ভালো থাকলেই ভালো । আল্লাহ তায়ালা আপনাকে দীর্ঘজীবী করুক , আমীন ।

_ দোয়া করবেন ভাই সাহেব । আর কটা বছর যেন বেঁচে থাকি ।

শেষের কথা গুলো বলতে যেয়ে আয়শা খানমের চোখ দুটো চিকচিক করে ওঠে । রিশাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে শাসনের সুরে বলে ,

_ আম্মু কি বলছো এসব ? এরকম কথা বলতে নিষেধ করেছি না ? কিচ্ছু হবে না তোমার । সামনের মাসেই ইংল্যান্ড নিয়ে যাবো তোমাকে । ওখান থেকে একদম সুস্থ্য হয়ে ফিরবে তুমি । শুধু শুধু এসব কথা বলবে না আর ।

আয়শা খানম ছেলের কথা শুনে আর কিছু বলে না । দুই ছেলে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । এত সুখী একটা পরিবার থাকতেও ওনার কপালে সুখ হয়তো বেশি দিন টিকবে না । তাই তো আল্লাহ তায়ালা এই বয়সে এত গুলো রোগ সৃষ্টি করেছেন ওনার শরীরের ভেতর । সেই সব রোগ ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে ওনাকে ভেতর থেকে । ওনার দুটো আশা পূরণ হয়ে গেছে । এখন ছেলে মেয়ের ঘরে নাতি নাতনী দেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে আর কোনো অপূর্ণ ইচ্ছা থাকবে না । পূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে বিদায় নেবেন পৃথিবী থেকে। ওনার হাসবেন্ড ছেলে শুধু শুধু ওনার পেছনে এত টাকা খরচ করছে । উনি তো জানেন খুব বেশি সময় নেই ওনার জীবনে ।

তাই তো তাড়াহুড়া করে ছোট মেয়ে টাকেই বিয়ে দিয়ে দিল । আকাশের ব্যাপারে সব খোঁজ খবর নিয়েই সম্পর্ক করতে এগিয়েছেন । আকাশ যেমন ভালো ছেলে তেমন আকাশের ফ্যামিলিও ভালো । উনি জানেন আকাশের ফ্যামিলি ওনার আদরের মেয়ে টাকে যত্ন করেই রাখবে । আয়শা খানমের কথা আর ওনার অবস্থা বিবেচনা করে রিশাদ আর রাহার বাবা রেজওয়ান মাহবুব ও রাহার বিয়ে দিতে রাজি হয়েছে । না হলে এত ছোট রাহা কে তারা কখনোই বিয়ে দিত না। তারা তো জানেন রাহা কেমন মেয়ে ! এক গ্লাস পানি ঢেলে পর্যন্ত খায় না রাহা। ওর সব কাজ মেড আর বাড়ির সবাই করে দেয় । রাহার কাজ সারাদিন বাড়িতে দৌড়াদৌড়ি করা আর অকাজ করা ।

আকাশের বাবা মা রাহার ব্যাপারে সবই জানেন রাহা কেমন ছটফটে চঞ্চল দুরন্ত একটা মেয়ে । রাহাকে ওনাদের বেশ মনে ধরেছিল তাই তো আর দ্বিমত পোষণ করেনি । আকাশ রাহার বয়স জানার পর দ্বিমত করবে ভেবে রাহার বয়সও বলেনি , মেয়ে দেখার জন্য জোরও করেনি । বয়সের সাথে সাথে রাহাও চেঞ্জ হয়ে যাবে । এই আশায় ছোট রাহাকেই ছেলের বউ করে নিয়ে এসেছেন ।

রিশাদের কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারে না আকাশ । তাইতো তাকিয়ে আছে শাশুরি আর রিশাদের দিকে । কিছু জিজ্ঞেস করবে সেটাও করে না । শাশুরির দিকে ভালো ভাবে তাকায় । দেখে অসুস্থ মনে হচ্ছে না ।একদম সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষের মতোই লাগছে ।

কি হয়েছে ওনার ? বড় ধরনের কোনো অসুখ হয়েছে কি ?

আকাশ ঠিক করে পড়ে ওর বাবা নয়তো রিশাদের কাছে জিজ্ঞেস করবে ,কি হয়েছে শাশুরি মায়ের !

খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে রাহার বাবা রেজওয়ান মাহবুব । ভেতরে প্রবেশ করতে করতেই হাঁসি মুখে সালাম দেন মেয়ের শশুর কে ।

আমজাদ শেখ ও হাসি মুখেই সালামের জবাব নেন ।

সোফা থেকে দাঁড়িয়ে কোলাকুলি করে কুশল বিনিময় করেন দুজন ।

_ বেয়াই মশাই আপনি পাঁচ মিনিট বসুন আমি চেঞ্জ করে আসছি ।

_ আচ্ছা আসুন ।

রেজওয়ান মাহবুব রুমের দিকে এগিয়ে যায় ।

খালি প্লেট বাটি প্রিজ গুছিয়ে নিয়ে যায় মিলা । আয়শা খানম কিচেনের দিকে এগিয়ে যেতে নিতেই পেছন ডেকে ওঠেন আমজাদ শেখ ।

_ বেয়ান ওদিকে কোথায় যাচ্ছেন ?

_ কিচেনে ।

_ আমি তো সেটাই বলছি কিচেনে যাচ্ছেন কেনো ?

_ দেখে আসি সব ঠিক ঠাক হলো কিনা !

_ দেখতে হবে না । আপনি বসুন এখানে । আসার পরেও দেখলাম কিচেন থেকে বেরিয়ে আসছেন ।

_ সারাদিন বসেই থাকি । বসে বসে কি আর সময় কা*টে ?

পাশ থেকে রাহার দাদি বলেন ,

_ আর বোলো না বাবা । আমাদের কোনো কথাই শোনে না । নিষেধ করলেও বার বার কিচেনে চলে যায় ।

আয়শা খানম মেয়ের পাশে বসে । মেয়ের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখে নিজের হাতের মুঠোয় । ওনার আদরের সখের মেয়েটা । কত যত্ন করে বড় করেছেন তিনি । মেয়েটা কে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দূরে পাঠিয়ে দিলেন। তার পরেও মনে কেমন শান্তি শান্তি লাগছে । মনে হচ্ছে বুকের উপর থেকে টন ওজনের একটা পাথর নেমে গেছে । ষোলো বছর কম না । ওনারও ষোলো বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল । তবে ওনার মেয়েটা ওনার মত হয়নি । ছটফটে চঞ্চল দুরন্ত হলেও বুদ্ধি নেই ছটাক খানিকও। যা বুদ্ধি আছে সব অকাজের । তবুও সকলের চোখের মণি ।

,

দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে সোফায় বসে গল্প জুড়ে বসেছেন আমজাদ শেখ আর রেজওয়ান মাহবুব ।

রাহা নিজের রুমে লাগেজ গোছাচ্ছে । গোছাচ্ছে বললে ভুল হবে দলা মোচড়া করে ভরে রাখছে । বেডের উপর বসে রাহার কাজ দেখছে আকাশ । বলছে না কিছু মুখ দিয়ে । চুপ চাপ ফোন চাপছে আর বউয়ের কাজ দেখছে । মাঝে মাঝে মুচকি মুচকি হাসছে ।

অসীম নীলয় আর রাফি গেস্ট রুমে এসে শুয়ে আছে । এখান থেকে যে যেতে হবে সেদিকে কারো খেয়াল নেই। ওদের ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে এটা ওদেরই বাড়ি । এখান থেকে যেতে হবে না কোথাও । চেঞ্জ করা নেই তৈরি হওয়া নেই তিন জন লম্বা হয়ে শুয়ে আছে ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে । নীলয় আর রাফি আকাশের ফ্রেন্ড হলেও অসীম ফ্রী মাইন্ডের হওয়ায় ওর সাথেও ভালো সক্ষতা আছে দুজনের । তাইতো ছয় বছরের ছোট হওয়া সত্ত্বেও দুজনের মাঝ খানে শুয়ে আছে অসীম । শুধু শুয়ে নেই অসীম কোন কোন মেয়ের সাথে কি কি চ্যাট করেছে ম্যাসেঞ্জারে সে সব দেখাচ্ছে দুজন কে । তবে কোনো অশ্লিল চ্যাট করেনি । সব ফানি ফানি চ্যাটিং । তিন জন চ্যাট পড়ছে আর হু হা করে হাসছে ।

তিন জন এক গোয়ালের গরু তাইতো বড় দুজন ছোট জনকে আরো উস্কানি দিচ্ছে ।

রাহা সব কিছু লাগেজে ভরে নেয় । আরেক টা ব্যাগ নামিয়ে আলমারি থেকে ড্রেস বের করে ভরতে নিলেই আকাশ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে ,

বিজ্ঞাপন

_ ওগুলো ব্যাগে ভরছো কেনো ?

_ নিয়ে যাবো সে জন্য ।

_ নিতে হবে না ।

_ কেনো ? তাহলে কি পড়বো ? আমি তো শাড়ী সামলে রাখতে পারি না ।

_ বাড়ি ফেরার সময় শপিং মল থেকে ড্রেস কিনে দেবো। ওগুলো নিতে হবে না ।

_ এগুলো তাহলে কে পড়বে ?

_ এখনে যখন আসবে তখন পড়বে ।

কিছু না বলে মুখ বাঁকিয়ে ব্যাগ টা আলমারির ভেতর রেখে লাগিয়ে দেয় । অন্য দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রইলো ।

আকাশ রাহার দিকে তাকিয়ে থেকেই বলে ,

_ সব কিছু গোছগাছ হয়ে গেলে তৈরি হয়ে নাও । আবার মলেও যেতে হবে ।

রাহা কিছু না বলে আলমারি খুলে বোরকা হিজাব বের করে রেখে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ।

বোরকা হিজাব দেখে আকাশের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে । ওতো চাইছিল আজকেই মল থেকে রাহাকে বোরকা হিজাব কিনে দেবে । আজকে মলে গেলেও ওর বউ অন্য ছেলেরা দেখবে এটা নিয়েও ভাবছিল । আবার রাহা কি বোরকা হিজাব পড়তে চাইবে ? ব্যাপার টা নিয়েও ভাবছিল । কিন্তু রাহা তো আগে থেকেই বোরকা হিজাব পরে । তাই ওর মনের খচখচানি কমে যায় ।

ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে রাফির নাম্বার বের করে ডায়াল করে । রিং হতেই রিসিভ হয় অপর পাশ থেকে ।

_ কি করছিস ?

_ কেনো ?

_ কেনো আবার ? বাড়ি ফিরতে হবে না ?

_ এখনই ?

_ নাহ্ এক বছর পর ।

_ ফাজলামি করছিস ?

_ তৈরি হয়ে নে । একটু পরেই বের হবো । অসীম কোথায় ?

_ কাছেই ।

_ তিন শ*য়*তা*ন এক জায়গায় হয়েছিস তাইতো সব ভুলে গেছিস । তৈরি হয়ে নিচে আসবি সোজা ।

_ আচ্ছা বস রাখছি ।

বলেই ফোন রেখে দেয় রাফি । অসীমের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ তোর ভাইটা এমন কেনো ?

_ সেটা ভাইয়াকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো । আমি কিভাবে বলবো ।

_ নীলয় ওঠ বের হতে হবে একটু পর ।

_ দুর শা*লা ঠাণ্ডার মধ্যে বের হতে ইচ্ছে করে নাকি ?

_ তোর বউ ঠাণ্ডার মধ্যে একা একা শুয়ে আছে । তারাতারি উঠে বউয়ের কাছে গিয়ে শুয়ে থাক ।

_ ঠিক বলেছিস ভাই ,আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম ।

বলেই লাফিয়ে বেড থেকে উঠে দাঁড়ায় । ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ফ্রেস হওয়ার জন্য ।

,

পাঁচটা নাগাদ রুম থেকে বেরিয়ে আসে রাহা আর আকাশ । নিচে আসতেই দেখে সবাই উপস্থিত আছে ড্রইং রুমে ।

মেয়েকে দেখে এগিয়ে যায় আয়শা খানম । দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ওঠেন । মায়ের কান্না শুনে দুই হাতে জড়িয়ে ধরে রাহা নিজেও কেঁদে ওঠে ।

মা মেয়ের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে ড্রইং রুম । মা বোনের কান্না দেখে রিশাদের চোখেও পানি চলে এসেছে ।

উপস্থিত সকলের মন ভারী হয়ে ওঠে দুজনের কান্নায় । প্রিয়তমা স্ত্রী আর আদরের মেয়ের কান্না সহ্য করতে না পেরে উল্টো দিকে ফিরে বাড়ির বাইরের দিকে এগিয়ে যায় রেজওয়ান মাহবুব । যেতে যেতে হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে নেয় বারংবার ।

কাদতে কাদতে আয়শা খানমের অবস্থা খারাপ হয়ে যায় । রিশাদ মাকে জড়িয়ে ধরে রাহার কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেয় । এক হাতে বোন অন্য হাতে মাকে জড়িয়ে ধরে রাখে । ভাইকে জড়িয়ে ধরে কাদতে লাগলো রাহা ।

মা বোনের কান্না বন্ধ করার জন্য রিশাদ বলে ,

_ কি শুরু করেছো আম্মু ? ডক্টর তোমাকে বেশি কান্না করতে নিষেধ করেছে তো । মাথা ব্যাথা শুরু হবে আবার । শান্ত হও বুকে ব্যথা করবে । রাহা তুই কেনো কাদছিস ? দুদিন পর তো আবার গিয়ে নিয়ে আসবো ।কাদছিস কেনো এখন ? চুপ কর তোর কান্না দেখে আম্মু আরো বেশি কাদঁছে ।

নিলা এসে রাহাকে ধরে । রাহা ভাবীকে জড়িয়ে ধরে কান্না বন্ধ করার চেষ্টা করে । রিশাদ ওর মাকে ধরে সোফায় বসায় । মেড এক গ্লাস পানি এনে দেয় ।

পানি খাইয়ে দিয়ে চোখের পানি মুছে দেয় । মায়ের দুই হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে ,

_ কাদঁছো কেনো আম্মু ? দুদিন পর আবার নিয়ে আসবো । বেশি দূরে তো না ।

আকাশ চুপ চাপ দুজন কে দেখে চলেছে । বিয়ের দিন বিদায়ের সময় রাহার আম্মু আব্বু ভাই ভাবি কান্না করলেও রাহা কান্না করেনি । কিন্তু সেই রাহা আজ এভাবে কান্না করছে গলা ছেড়ে !

একে একে সবাই বাড়ির বাহিরে বেরিয়ে আসে । রাহাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ওঠে রাহার দাদি । হাসবেন্ড মা*রা যাওয়ার পর থেকে গত দশ টা বছর যাবত রাহা তার ঘুমের সঙ্গী । কত শত রাত গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে রাহাকে ঘুম পারিয়েছে । জড়িয়ে না ধরলে মেয়েটা ঘুমোতেই চায় না । তার বুকের ওমেই ঘুমিয়ে থাকতো নাতনী টা । একটা রাত তাঁকে ছেরে কোথাও থাকতো না । সেই নাতনী গত দুই রাত ধরে তার কাছে ঘুমায় না।

আবার কত দিন পর দেখতে পাবে তারও ঠিক নেই । এখন বিয়ে দিয়েছে চাইলেই যখন তখন নিয়ে আসতে পারবে না ।

ভাই ভাবী দাদি আব্বু সবাইকে জড়িয়ে ধরেই কান্না করে অনেক টা সময় ধরে । রিশাদ নিজেই বোন কে কারে বসিয়ে দেয় । আকাশের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে অশ্রু টলমল চোখে বলে ,

_ আকাশ আমার বোনটা হাতে পায়ে বড় হলেও বুদ্ধি শুদ্ধি হয়নি তেমন । ওর সব কিছুতেই বেখেয়ালি পনা। নিজের কাজ নিজে করতে জানে না । ষোলো বছরের হলেও পাঁচ বছরের বাচ্চাদের মত কাজ কর্ম করে । তবে বুঝিয়ে বললে সবই বোঝে । ওকে তুমি যা বলবে যেভাবে বলবে সবই করবে ঠিক ভাবেই । তবে পরে আবার ভুলে যায় সব । ছটফটে চঞ্চল প্রকৃতির তো তাই গুলিয়ে ফেলে সব । আঙ্কেল আন্টি সবই জানে রাহার বিষয়ে । আমরা ওর ব্যাপারে কিছুই লুকাইনি সবই বলেছি । ভাই আমার বোন টা ছোট ওর খেয়াল রেখো তুমি । আমাদের সকলের বড় আদরের মেয়ে রাহা । ছোট বেলা থেকে আল্লাদেই বড় হয়েছে । আম্মুর অসুস্থতার জন্য এত তাড়াতাড়ি ওকে বিয়ে দিয়েছি । এখন থেকে ওর দায়িত্ব তোমার । তুমি ওকে নিজের মত করে গড়ে নিও। বেশি জ্বা'লালে আমাকে ফোন করে বোলো । আমি বুঝিয়ে বলে দেবো দুষ্টামি না করতে । সব শেষে একটা কথাই বলতে চাই আমার বোন টাকে যত্নে রেখো। আমি জানি তুমি ওকে ভালো রাখবে যত্নে রাখবে । কিন্তু রাহা আর পাঁচটা মেয়ের মত হলে আমার এত টেনশন হতো না ।

_ আপনি টেনশন করবেন না ভাইয়া আমি খেয়াল রাখবো রাহার । আপনি টেনশন ফ্রী থাকুন ।

_ তুমি ভালো থেকো । নিজের খেয়াল রেখো সাথে ফ্যামিলির । বিশেষ করে আঙ্কেল আন্টির প্রতি যত্নশীল হইয়ো । ওনাদের বয়স হয়েছে ।

_ আপনিও ভালো থাকবেন ভাইয়া । সকলের খেয়াল রাখবেন । আন্টিকে ভালো ডক্টরের কাছে নিয়েন ।

_ ইনশা আল্লাহ ।

সকলেই বিদায় নিয়ে চলে যায় ।

কারে বসেও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদে রাহা ।

পেছন থেকে অশ্রু সিক্ত নয়নে তাকিয়ে আছে রাহার বাড়ির সবাই ।

স্ত্রীকে ধরে ভেতরের দিকে আগায় রেজওয়ান মাহবুব ।

সাথে রিশাদ নিলা আর রাহার দাদি ।

বিজ্ঞাপন
আমার ঝামেলা রানী গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক উপন্যাস