ডোরের ধাক্কা ধাক্কিতে ঘুম ভেঙ্গে যায় আকাশের । চোখ বন্ধ রেখেই উঠে বসার চেষ্টা করলে পারে না । ফট করে চোখ খুলে বুকের দিকে তাকাতেই দেখে ওর পিচ্চি বউ টা এখনো ওর বুকেই লেপ্টে ঘুমিয়ে আছে । হালকা আলোতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সব । রাহার চুল গুলো এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে গেছে । মুখ দেখা যাচ্ছে না আকাশের বুকে আড়াল হয়ে আছে ।
রাতের মত রাগ ও হচ্ছে না আর । হাত দিয়ে সরিয়ে দেয় এলোমেলো হয়ে থাকা চুল গুলো ।
তখনই রুমের বাহির থেকে ভেসে আসে ডোর ধাক্কানোর শব্দ সেই সাথে একজনের কন্ঠস্বর যে কিনা আকাশের নাম ধরে ডাকছে ।
_ আসছি ত্রিশ মিনিট পর ।
ডোরের অপর পাশের ব্যক্তি চলে যায় ।
আকাশ রাহা কে বুক থেকে সরিয়ে উঠে বসে । ব্ল্যাঙ্কেট সরে যেতেই নজরে আসে রাহার উন্মুক্ত ফর্সা বুক গলা।
চোখ সরিয়ে নিয়ে অলস ভঙ্গিতে দুই হাত মেলে ধরে দুদিকে । পাশ থেকে ফোন টা হাতে নিয়ে সময় দেখে নেয় । সাত টা বেজে গেছে ।
ফোন টা রেখে পুনরায় তাকায় রাহার দিকে ।
_ রাহা , রাহা ।
রাহার মাঝে কোনো ভাবান্তর নেই । আকাশের ডাক ওর কানে পৌঁছেছে বলে মনে হয় না ।
আকাশ পুনরায় ডাকে আবার । তবুও রাহার ঘুম ভাঙ্গে না । গায়ে ধাক্কা দিয়ে ডাকতেই রাহা নড়ে চড়ে ওঠে ।
আকাশ আবার ডাকে । গায়ের উপর থেকে ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে দেয় কিছুটা । কিন্তু ঘুম কাতুরে রাহার ঘুম ভাঙ্গে না । আকাশ রাহার দিকে ঝুঁকে রাহার গালে হালকা ভাবে চাপড় দিয়ে বলে ,
_ রাহা ওঠো সকাল হয়ে গেছে ফ্রেস হয়ে নিচে যেতে হবে ।
_ উঠবো না যাবো না নিচে ।
ঘুম জড়ানো গলায় বলে । আকাশ সরু চোখে তাকিয়ে আবার ডেকে বলে ,
_ সকাল হয়ে গেছে ওঠো এখন , বাড়ির সবাই কি ভাববে? পরে আবার ঘুমিয়ো এখন ওঠো ।
রাহা ওঠে তো নায়ী উল্টো ব্ল্যাঙ্কেট মুড়ি দিয়ে আকাশের কোমর জড়িয়ে ধরে শক্ত করে ।
_ এতো সকালে উঠেছো কেনো শুয়ে থাকো । এখন তো ছুটির দিন সকাল সকাল ওঠার কি দরকার ।
আকাশ চোখ বড় বড় করে তাকায় । আকাশ বুঝতে পারে রাহা এটা ওর নিজের বাড়ি ভাবছে ।
ব্ল্যাঙ্কেট সরিয়ে দিয়ে আবার ডেকে বলে ,
_ রাহা ওঠো সবাই নতুন বউ দেখতে আসবে ।
_ বউ দেখতে আসবে ভালো কথা আমি গিয়ে কি করবো ?
_ আশ্চর্য বউ টা তো তুমি নিজেই । তুমি না গেলে যাবে কে ?
আকাশের মুখ থেকে এমন কথা শুনে জোর করে দুই চোখ মেলে তাকায় রাহা । আকাশের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে । আর ও নিজেই আকাশের কোমর জড়িয়ে ধরে আছে । ছিটকে দূরে সরে যায় আকাশের কাছ থেকে ।
দ্রুত উঠে বসে বেডে । পরনের পোশাক কোন দিকে আছে খেয়াল নেই । শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো ।
ওর যে বিয়ে হয়েছে সেটা তো ভুলেই গিয়েছিল ।
আকাশ রাহার দিকে তাকায় আর তাকাতেই চোখ দুটো স্থির হয়ে যায় রাহার দিকে ।
শাড়ির আঁচল বেডে লুটোপুটি খাচ্ছে । গায়ে শুধু ব্লাউজ রয়েছে । বড় গলার ব্লাউজ টাও উন্মুক্ত করে দিয়েছে গলা কাঁধ আর কোমর পেট । রাহার এমন দশা দেখে আকাশ বিষম খেয়ে যায় । দ্রুত বেড থেকে নেমে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে ।
রাহা বুঝতে পারলো না আকাশ হঠাৎ বিষম খেল কেনো ? আর এভাবে পালিয়েই বা চলে গেল কেনো ?
এলোমেলো শাড়ি নিয়ে বেড থেকে নেমে আসে । নিচে নামতেই শাড়ি খুলে নিচে পড়ে যায় । বাকি টুকু নিজে খুলে ফেলে দেয় । বিরক্ত হয়ে শাড়ির দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ এই সব কেনো পড়ে কে জানে ?
বলেই লাথি দিয়ে সরিয়ে দেয় ।
পেটিকোট আর ব্লাউজ পড়ে দাঁড়িয়ে রইলো । কিন্তু শীত লাগছে ভীষণ । তখনই ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে আকাশ । বউয়ের অবস্থা দেখে চোখ দুটো ছানাবড়া । দ্রুত টাওয়াল ট্রাউজার আর টিশার্ট নিয়ে ওয়াসরুমে ডুকে যায় ।
বির বির করে বলে ,
_ এই মেয়ের মাথায় সমস্যা আছে নাকি ? নাকি বুদ্ধি শুদ্ধি হয়নি । কি এক ইমম্যাচিউর বউ এনে দিল আমার বাবা মা । এভাবে শাড়ি খুলে কেউ দাঁড়িয়ে থাকে ?
রাহার শীত শীত লাগায় বেডে বসে ব্ল্যাঙ্কেট মুড়ি দিয়ে ।
শাড়ির দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ আমি তো ড্রেস নিয়ে আসিনি । এখন কি পড়বো ? শাড়ি পরলে যদি আবার খুলে যায় ?
,
শেখ বাড়ি জুড়ে বিয়ের ব্যস্ততা ।
গত কাল নব বধূ তুলে এনেছে । আজ আবার রিসেপশন পার্টির আয়োজন করা হবে । সে সব নিয়েই ব্যস্ত বাড়ির ছোট বড় সকলে ।
ইতি মধ্যেই পারা প্রতিবেশী অনেকেই চলে এসেছে নব বধূ দেখার জন্য ।
বাড়ির ড্রইং রুম জুড়ে ছোটদের হইহুল্লোড় । বাড়ির বিশাল উঠোনে প্যান্ডেল সাঁজানো হচ্ছে পার্টির জন্য ।
সোফায় মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে আছে বাড়ির বড় সমূদ্র শেখ । তার পাশেই ক্লান্ত হয়ে শুয়ে আছে বাড়ির ছোট ছেলে অসীম শেখ । দুই ভাই সকাল সকাল কাজ করে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েছে । দুজনের জন্য পানি এনে দেয় বাড়ির বড় ছেলে সমুদ্র শেখের বউ মিলা ।
ভাবীর হাতে পানির গ্লাস দেখে শোয়া থেকে উঠে বসে অসীম । বড় ভাইয়ের দিকে একবার তাকিয়ে আবার তাকায় ভাবীর দিকে । অসীম ভাবীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ,
_ এখন গ্রীষ্ম কালের গরম পড়েনি যে তুমি পানি নিয়ে এসেছো । এখন পৌষ মাসের কনকনে শীত পড়েছে । পানি না এনে একে কাপ চা নিয়ে আসতে তাহলে খুশি হয়ে দোয়া করতাম ।
ছোট ভাইয়ের সাথে তাল মিলিয়ে বড় ভাইও বলে ,
_ অসীম ঠিকই বলেছে পানি রেখে চা নিয়ে আসো । এই কনকনে শীতের মধ্যে গরম চা দরকার ।
মিলা মুখ বেঁকিয়ে বলে ,
_ এত ব্যস্ততার মাঝেও যে পানি এনে দিয়েছি এতেই তোমাদের সাত কপাল । চা খেতে ইচ্ছে করলে বানিয়ে খাও আমার আরো কাজ আছে ।
বলেই আবার কিচেনের দিকে এগিয়ে যায় । পেছন থেকে অসীম সুর ধরে ডেকে বলে ,
_ যাইয়ো না যাইয়ো না ভাবি গো । এক কাপ চা বানিয়ে দাও না গো ।
_ বানিয়ে খা ।
অসীম সোফা থেকে উঠে দৌড়ে যায় ভাবীর পেছন পেছন । ভাবীর ওড়নার আঁচল ধরে পেছন পেছন হাঁটতে হাঁটতে বলে ,
_ দাও না বানিয়ে । কলিজা পর্যন্ত ঠান্ডা হয়ে গেছে বাহিরে কাজ করে ।
_ মা কে গিয়ে বল ।
_ মা ঝাড়ি মা*রবে তো । দেখো হাত কি ঠান্ডা হয়ে গেছে ।
বলেই মিলার গালে ঠান্ডা হাত চেপে ধরে ।
ছ্যাত করে ওঠে মিলার পুরো শরীর । ঝাড়ি মে*রে সরিয়ে দেয় অসীমের হাত ।
_ কম্বলের নিচে গিয়ে শুয়ে থাক যা ।
_ আমি কম্বলের নিচে কি করবো ? আমার তো আর বউ নেই । যার বউ আছে সে এখনো কম্বলের নিচে শুয়ে আছে । আর তার বিয়ের কাজ আমাকে করতে হচ্ছে ঠাণ্ডার মধ্যে ।
মিলা ফিরে তাকায় অসীমের মুখের দিকে ।
_ তোরো কি বউ চাই ? চিন্তা করিস না খুব শীগ্রই তুইও বউ নিয়ে শীতের সকালে কম্বলের নিচে শুয়ে থাকবি আর আকাশ সব কাজ করবে ।
_ সেগুরে বালি ।
_ কেনো ?
_ আমার বিয়ে করতে এখনো অনেক দেরি ।
_ তো কি হয়েছে ? করবি তো একদিন নাকি ?
_ অত কথা বাদ চা বানিয়ে দাও ।
_ বানিয়ে খা । আমি রাহাকে তৈরি করে দিতে যাবো এখন ।
_ ওরা ওঠেনি তো ।
_ উঠেছে অনেক আগেই । তুই থাক আমি গেলাম ।
বলেই মিলা গ্লাস দুটো রেখে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায় । দুই হাত কোমরে গুজে দাঁড়িয়ে রইলো অসীম । মা চাচী মামী সবাই সকালের খাবার তৈরি করছে আর গল্প করছে ।
অসীম কিছু সময় সকলের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে ,
_ আব্বু বড় আব্বু সবাই চা খেতে চাইছে দ্রুত বানিয়ে দিতে বললো ।
অসীমের কথা শুনে অসীমের মা মিসেস অনন্যা শেখ চায়ের জন্য পানি ফুটতে দেয় ।
দূরে দাঁড়িয়ে দুই হাত হুডির পকেটে ভোরে মুচকি মুচকি হাসে । বকা না শুনে কিভাবে কৌশলে চা বানিয়ে নিচ্ছে। এখন এক কাপের বদলে পাঁচ কাপ খাবে । আহা কী মজা ।
,
মিলা আকাশের রুমের ডোর নক করে ।
একটু পরেই ডোর খুলে দেয় আকাশ । মিলার সাথে শেখ বাড়ির একমাত্র মেয়ে নিঝুম প্রবেশ করে । সাথে আছে আরো কাজীন বোন ।
আকাশ ট্রাউজার টিশার্ট আর হুডি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাহা বেডে বসে আছে শাড়িটা কোনো রকম পেঁচানো রয়েছে । শাড়ির উপর দিয়ে চাদর দেওয়া ।
আকাশ কোনো কথা না বলে নিজের ফোনটা নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় ।
সকলেই রাহার সামনে গিয়ে দাড়ায় । এত গুলো মানুষ দেখে মাথা উচু করে তাকায় সকলের দিকে । এখানে যারা দাঁড়িয়ে আছে সকলেই রাহার থেকে বয়সে বড় ।
মিলা রাহা কে ধরে দাঁড় করায় । সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় ।
মিলা রুমে থেকে বাকি সবাইকে নিচে পাঠিয়ে দেয়।
নিঝুম নিজের রুম থেকে হেয়ার ড্রায়ার নিয়ে আসে। ডোর লক করে দেয় ভেতর থেকে ।
নিঝুম হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করে রাহার চুল গুলো শুকিয়ে দেয় ।
মিলা লাগেজ খুলে একটি শাড়ি বের করে ।
রাহার গা থেকে চাদর আর শাড়ি খুলে রাখে ।
নতুন শাড়ি পড়ানোর সময় রাহার গলার দিক আর মাজার দিকটা খেয়াল করে মিলা ।
অবাক হয়ে তাকায় নিঝুমের দিকে তার পর আবার তাকায় রাহার মুখের দিকে ।
নিজের অবাক ভাব ধরে রেখেই রাহাকে বলে ,
_ তোমাদের মধ্যে কিছু হয়নি রাতে ?
রাহা অবুঝের মতো তাকায় মিলার মুখের দিকে ।
_ কি হবে ?
_ আকাশ তোমাকে আদর করেনি ?
এমন কথা শুনে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইলো ।
_ কি হলো বলছো না কেনো ? আদর করেনি ?
রাহা দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বলে ।
অবাক স্বরে নিঝুম বলে ,
_ কেনো ?
_ আমার ঘুম পেয়ে গিয়েছিল তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম ।সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে ।
_ ভাইয়া তোমাকে ঘুমোতে দিল ?
_ উনিই তো বললো ক্লান্ত হয়ে গেছো ফ্রেস হয়ে বিশ্রাম নাও ।
_ তাহলে শাওয়ার নিয়েছো কেনো ?
_ আমি নিতে চেয়েছি নাকি উনিই তো জোর করলো । আমি তো এই শীতের সকালে শাওয়ার নিতে চাইনি ।
দুই ননদ ভাবি একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে ।চোখে চোখে কথা হয় । রাহা বুঝতে পারে না তাদের ইশারায় বলা কথা ।
দুজনেই সময় নিয়ে আস্তে ধীরে সুন্দর করে শাড়ি পরিয়ে সাজিয়ে দেয় । তার পর শাড়ির উপর দিয়ে চাদর দিয়ে দেয় । নিঝুম বসে থাকে রাহার সাথে মিলা নিচে যায় রাহার জন্য খাবার আনার জন্য ।
,
খাওয়া দাওয়ার পর রাহা কে নিচে নিয়ে আসে । অনেকেই বসে আছে সোফায় ।
সকল কে উদ্দেশ্য করে সালাম দেয় । রাহাকে সোফায় বসানো হয় । সকলেই বউ দেখে প্রশংসা করে ।
অসীম এসে বসে রাহার পাশে । ছোট একটা বক্স দেয় রাহার হাতে ।
_ ভাবি এটা আপনার জন্য নিয়ে আসলাম । অনেক কষ্টে এই গিফট টা জোগাড় করেছি ।
পাশ থেকে অসীমের মামাতো বোন নীরা বলে ,
_ কি গিফট্ আনেছিস রে নতুন ভাবীর জন্য ?
_ তোকে কেনো বলবো রে শা*ক*চু*ন্নি ?
_ তুই শা*ক*চু*ন্নি তোর বউ শা*ক*চু*ন্নি ।
_ ঝগড়া বন্ধ কর তো ।
_ ভাবি বক্স টা খুলুন । অনেক কষ্টে এনেছি আপনার জন্য । খুলে দেখুন কেমন হয়েছে ?
রাহা বক্সের পেপার খুলতে শুরু করে । সকলেই উচ্ছুক হয়ে তাকিয়ে আছে রাহার হাতের দিকে । কি আছে বক্সের ভেতর দেখার আগ্রহ নিয়ে কয়েক জন রাহার সামনে এসে দাঁড়ায় । অসীম একটু দূরে দাঁড়িয়ে ফোনের ক্যামেরা অন করে ধরে সকলের দিকে ।
অনেক গুলো পেপার খোলার পরেও পেপার শেষ হচ্ছে না । রাহা কয়েক বার ঝাঁকি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে ভেতরে কি আছে । তবে বুঝতে পারে না ।
খুলতে খুলতে সব গুলো পেপার খোলা হয়ে যায় ।
সকলের উচ্ছুঁক চাহনি ।
বক্সের মুখ খুলে দেখে এক চি*ৎ*কা*রে ভুবন কা*পিয়ে তোলে রাহা । হাতের বক্স ছুঁড়ে দেয় সামনের দিকে । চি*ৎ*কা*র করতে করতে সোফা থেকে উঠে দৌড় শুরু করে না দেখেই ।
রাহার সামনে দাড়িয়ে থাকা মেয়ে গুলোও এখন লাফাতে লাফাতে চি*ৎ*কার করছে ।
রাহা দৌড়ে যাওয়ার সময় আকাশের সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে গেছে ।
ড্রইং রুমে উপস্থিত সকলেই বোঝার চেষ্টা করছে হলোটা কি ? প্রথমে নতুন বউ আর এখন মেয়েরা ।
আকাশ টেনে ওঠায় রাহাকে । সমুদ্র সোফার কাছে এগিয়ে যায় দ্রুত । আকাশ রাহাকে দার করিয়ে জিজ্ঞেস করছে, কি হয়েছে ? কিন্তু ভয়ের কারণে বলতে পারছে না কিছুই । রাহার দিক থেকে চোখ সরিয়ে আবার তাকায় সোফার দিকে । এখনো লাফাচ্ছে মেয়েরা সাথে তো কানের পো*কা মা*রার চিৎ*কার আছেই ।
সমুদ্র কাছে এগিয়ে আসতেই দেখে মেঝেতে অনেক গুলো কেঁচো পড়ে আছে । আর কয়েক জন মেয়ের গায়েও রয়েছে । লাফাতে লাফাতে কত গুলো কে ভর্তাই বানিয়ে ফেলেছে ।
সমুদ্র সব গুলো মেয়ের গা থেকে কেঁচো নিচে ফেলে দেয় । সবাই দৌড়ে সরে যায় ।
অসীম তো ফোনটা শক্ত করে ধরে জানপ্রাণ লাগিয়ে দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় । এখানে থাকলে নির্ঘাত সবার হাতের মা*র পড়বে ওর পিঠেই ।
_ এত গুলো কেঁচো এখানে কেনো ? কে এনেছে এগুলো ?
_ অসীম , অসীম এনেছে ।
_ কেনো এনেছে ?
_ কেঁচো বক্সের ভেতর ভরে নতুন ভাবীকে গিফট করেছিল ।
_ তো ওদের গায়ের উপর গেল কিভাবে ?
_ নতুন ভাবী ভয় পেয়ে ছুঁড়ে ফেলে আর ভুল বশত ওরা সামনে থাকায় ওদের উপরে গিয়ে পড়েছে ।
বলেই হাসতে শুরু করে । অনেকেই হু হা করে হাসছে । কেউ কেউ হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে । যাদের গায়ের উপর কেঁচো পড়েছিল তারা এখনো থরথর করে কাপছে । কয়েক জন তো কেঁদেই দিয়েছে । আবার দু এক জন হাসছে নিজেদের করা কর্মের কথা স্মরণ করে। বাড়ির মহিলারা সবাই ড্রইং রুমে এসে দাঁড়িয়েছে । সেই সাথে বাড়ির ভেতর থেকে এত জোরে জোরে চিৎ*কার শুনে বাড়ির বাহির থেকেও দৌড়ে এসেছে অনেক পুরুষ ।
সকলেই অসীম কে খুঁজছে, কিন্তু অসীম কোথায় ?
অনেক আগেই পগারপার হয়ে গেছে ।
একটু আগেও বাবা গো বলে চিৎ*কার করা রাহা এখন হু হা করে হাসছে । সকলে রাহার দিকে তাকায় । সকলের তাকানো দেখে খুব কষ্টে হাঁসি আটকে রাখে । কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দম ফাটা হাসিতে ফেটে পড়ে । হাসতে হাসতে নিচে বসে পড়ে ।
আকাশ সকলের দিকে তাকিয়ে আবার তাকায় বউয়ের দিকে । হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেওয়ার মত অবস্থা হয়ে গেছে ।
মানসম্মান সব শেষ ? নতুন বউ এভাবে হাসছে , সকলে কি ভাবছে কে জানে ?