আমার ঝামেলা রানী

পর্ব - ৬

🟢

শপিং মলের সামনে এসে দাঁড়ায় আকাশের কার । কার থেকে বেরিয়ে আসে রাহা আকাশ আর অসীম ।

ভেতরে প্রবেশ করে রাহা কে আকাশ বলে ,

_ কোনটা কোনটা পছন্দ হয় দেখো ।

রাহা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ আপনার যা পছন্দ হয় সেটাই নিন ।

_ ড্রেস আমি পড়বো না তুমি পড়বে তাই তুমিই পছন্দ করো ।

_ আমার ড্রেস সব সময় ভাইয়া আর আব্বু পছন্দ করে আন্তো । আমি কখনও ড্রেস পছন্দ করে পড়িনি ।

_ আজ করো ।

_ আমার পছন্দ খুবই বাজে । আমার পছন্দ করা ড্রেস আমি পড়লে ভালো লাগে না আমাকে । তাই সব সময় আব্বু আর ভাইয়া কে নিজেদের পছন্দ মত নিয়ে আসতে বলতাম ।

আকাশ আর কিছু বললো না নিজের পছন্দ মত কয়েক টা ড্রেস সিলেক্ট করে। পাশে তাকিয়ে রাহা কে খুঁজতেই দেখে রাহা নেই । অসীম কে খুঁজলে দেখে অসীম ও নেই।

আশে পাশে দুজন কে খুজতে শুরু করে ।

এদিক ওদিক তাকাতেই দেখে রাহা আর অসীম দাঁড়িয়ে আছে একটি শপের সামনে ।

ড্রেসের বিল পরিশোধ করে ওদের দুজনের কাছে এসে দাঁড়ায় । দুজনের চোখ অনুসরণ করে তাকিয়ে দেখে একটি কসমেটিক্সের শপ ।

আকাশ বুঝতে পারে না দুজন কি দেখছে এভাবে তাকিয়ে ।

_ কি হয়েছে ?

অসীম চমকে ওঠে ভাইয়ের কন্ঠ শুনে । রাহা আগের মতই তাকিয়ে আছে । অসীম রাহার হাত ধরে মৃদু ঝাঁকি দেয় ।

_ কিছু পছন্দ হয়েছে ?

রাহা ফটাফট দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বলে । অসীম রাহার মাথা দুই হাত দিয়ে সোজা করে ধরে বলে ,

_ ভাবীর ওটা ওটা ওটা পছন্দ হয়েছে কিনে দাও ।

রাহা দুদিকে মাথা নাড়ায় । আকাশ শপের ভেতরে তাকায় অসীমের দেখানো জিনিস গুলোর দিকে ।

অসীম শপের লোক টাকে ওর দেখানো জিনিস গুলো নামাতে বলে ।

রাহা আকাশের দিকে তাকায় । রাহা তো এখানে আসতে চায়নি । অসীম জোর করে ধরে নিয়ে এসেছে রাহাকে ।

লোক টা অসীমের দেখানো লাল, সাদা , নীল আর কালো রঙের রেশমি চুড়ি গুলো বের করে ।

তার পর স্টোনের কানের দুল টিকলি আর পায়েল ।

চুড়ি গুলো নিজেই রাহার হাতে মাপ দেয় । ঠিক ঠাক আছে দেখে প্যাকেট করে নেয় ।

ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ বিল পে করো ।

_ আমি কেনো বিল পে করবো ? তুই তোর ভাবীকে কিনে দিয়েছিস তুই বিল পে কর ।

অসীম রাহার হাত ধরে টেনে নিয়ে অন্য শপের দিকে যেতে যেতে বলে ,

_ তোমার পকেট থেকে টাকা বের করে বিল পে করার সময় মনে মনে ভাববে বিল টা অসীম দিচ্ছে । তোমার টাকা আমার টাকা একই হলো ।

শপের লোক টা মিটিমিটি হাসছে । আশে পাশে যে কয়েক জন ছিল তারাও হাসছে ।

আকাশ বিল পে করে ওদের দুজনের কাছে এগিয়ে যায়। অসীম একটা জ্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে । রাহা চুপ চাপ দাঁড়িয়ে আছে ।

_ হা করে কি দেখছিস ?

_ আমি মোটেও হা করে দেখছি না । ওই জ্যাকেট টা তে ভাবীকে মানাবে তাইনা ?

আকাশ তাকিয়ে দেখলো জ্যাকেট টা । পছন্দ হলো আকাশের । আর যাই হোক ছোট ভাইয়ের পছন্দ ভালো ।

রাহার সাথে সাথে অসীম কেও একটা জ্যাকেট কিনে দিল । পা মোজা টুপি আরো যা যা লাগবে সব কিনে নিয়ে মল থেকে বেরিয়ে আসে ।

মলের বাইরে ফুচকার দোকান দেখে রাহার ফুচকা খাওয়ার ইচ্ছে হয় । কিন্তু কিছু বলে না ।

অসীম নিজেই রাহার দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ ভাবী ফুচকা খাবেন ? এখান কার ফুচকা অনেক টেস্টি হয় ।

রাহার নীরবতা দেখে অসীম বলে ,

_ নীরবতা সম্মতির লক্ষণ । চলুন তাহলে ।

বলেই আকাশ কে ফেলে রাহার হাত ধরে টেনে ফুচকার দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায় ।

আকাশ শপিং ব্যাগ গুলো কারের ভেতর রেখে ওদের দুজনের কাছে এগিয়ে এসে দাঁড়ায় । অসীমের দিকে তাকিয়ে চাপা স্বরে বলে ,

_ ফুটপাতের খাবার অস্বাস্থ্যকর জানিস না ? এখান থেকে চল রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবি ।

মাছি তাড়ানোর মত করে হাত নাড়িয়ে অসীম বলে ,

_ রাখো তোমার অস্বাস্থ্যকর খাবার । ফুটপাতের দোকানের ফুচকার যেই টেস্ট সেটা রেস্টুরেন্টে খেলে পাওয়া যায় না । তুমি গিয়ে রেস্টুরেন্টে থেকে খাও আমরা এখানেই খাবো । মামা ঝাল বেশি দিয়ে দুই প্লেট ফুচকা দিন । ভাবী আপনি ঝাল বেশি খান না ?

_ হুম ।

আকাশ আগের মতই চাপা স্বরে বলে ,

_ তুই খাবি খা রাহা খাবে না । ছোটো মানুষ এসব খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে যাবে । আর ঝাল বেশি তো কখনোই না । বেশি ঝাল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় ।

_ ভাবী আপনি ছোট মানুষ ?

রাহা দুদিকে মাথা নাড়ায় ।

_ দেখেছো ভাবী ছোট মানুষ না ।

_ রাহা তুমি এসব খাবার খাবে না ।

রাহা মিন মিন করে বলে ,

_ আমি তো এর আগে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা চটপটি ঝাল মুড়ি খেয়েছি কিছু হয়নি ।

ফুচকা ওয়ালা ঝাল বেশি দিয়ে দুই প্লেট ফুচকা বানিয়ে অসীমের হাতে দেয় ।

অসীম এক প্লেট রাহার হাতে দিয়ে অপর প্লেট নিজের কাছে রাখে ।

দুজন একটু সাইটে এসে দাঁড়ায় । সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে অন্ধকারে তলিয়ে গেছে ধরণী । ল্যাম্প পোস্টের ঘোলাটে আলোয় আলোকিত চারো দিক ।

নিকাব তুলে ফুচকা খাওয়া শুরু করে রাহা । অসীম নিজেও গপাগপ গিলতে শুরু করে । খাওয়ার মাঝে বড় ভাই কে খাওয়ার জন্য অফার করে । আকাশ রেগে তাকাতেই আবার খাওয়া শুরু করে ।

ফুচকা শেষ হতে হতে ঝালে অবস্থা নাজেহাল রাহার ।

চোখ মুখ লাল হয়ে উঠেছে । ঠোঁট নাক আর চোখ দুটো বেশি লাল হয়ে উঠেছে । চোখ দুটো দিয়ে টপ টপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে । মুখ হা করে রয়েছে ঝালের কারণে । একই অবস্থা অসীমের ও । তবে রাহার মত অত বেশি না ।

রাহার হাত থেকে প্লেট নিয়ে রেখে দেয় । নিজের পকেট থেকে টাকা বের করে দিতে দিতে বলে ,

_ মামা এত ঝাল দিয়েছেন কেনো ?

_ মামা আপনিই তো বেশি করে ঝাল দিতে বললেন ।

_ তাই বলে এত বেশি ঝাল ? বাবা গো ভেতর টা জ্বলে গেল ।

দোকানী হাসে । সকলেই বেশি বেশি ঝাল দিতে বলে খাওয়ার পর অসীমের মতোই বলে "এত বেশি ঝাল কেনো ? কেউ কেউ তো ঝাল কম হয়েছে বলে আরো মরিচ কুচি নেয় । খাওয়ার পর আধা হাত জিহ্ববা বের করে হা করে থাকে ।

অসীম একটা পানির বোতল কিনে রাহার হাতে দেয় । কয়েক ঢোঁক খেতে বোতল অসীমের হাতে দেয় । পালা করে মুহূর্তেই হাফ লিটারের পানির বোতল খালি করে ফেলে ।

এক পাশে দাঁড়িয়ে চুপ চাপ দুজন কে দেখে চলেছে আকাশ । ওর কথা না শোনার শাস্তি ।

_ এখানেই থাকার ইচ্ছে আছে নাকি বাড়িতেও যেতে হবে ?

_ হুম ।

হুম বলে কারের দিকে এগিয়ে যায় দুজন ।

আকাশ কারের ডোর খুলে দিতেই রাহা সামনের সিটে উঠে বসে । অসীম পেছনে বসে সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে বলে ,

_ মাথা ভন ভন করছে ।

_ আরো খা ঝাল বেশি দিয়ে । নিয়ে আসবো নাকি আরেক প্লেট ?

_ আজকের মত এখানেই সমাপ্ত । আবার আগামী কাল খাবো ।

_ নি*র্ল*জ্জ কাকে বলে তোকে না দেখবে বুঝতেই পারতাম না ।

_ ও ভাইয়া গো ঝাল লেগেছে ।

আকাশ রাহার মুখের দিকে তাকায় । সিটে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে আছে । মুখ টা হা ।

গোলাপি ঠোঁট জোড়া লাল হয়ে ফুলে গেছে ।

আকাশ দ্রুত একটা দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায় ।

দ্রুত কয়েক টা জিনিস কিনে নিয়ে আবার কারের কাছে আসে ।

বিজ্ঞাপন

আকাশের হাতে দুটো চকলেট দুটো মিনারেল ওয়াটারের বোতল ।দুটো কাপ আইসক্রিম ।

একটা একটা করে দুজনের হাতে দেয় । তার পর নিজে গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে ।

চকলেট আইসক্রিম খাওয়ার পর ঝাল কমে যায় । পানি খেতে খেতে দুজনের পেট ফুলে ড্রাম ।

,

বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে আকাশের কার । দুজন কে নামিয়ে দিয়ে কার থেকে শপিং ব্যাগ আর লাগেজ বের করে অসীমের হাতে ধরিয়ে দেয় । কার পার্ক করে রেখে আসে আকাশ ।

_ এখনো দাঁড়িয়ে আছিস কেনো ?

_ এত গুলো আমি কিভাবে নিয়ে যাবো ?

_ সারাবাড়ি তো ঠিকই মাথায় নিয়ে ঘুরিস । আর এই দুটো জিনিসের ভর নিতে পারছিস না ?

আকাশ শপিং ব্যাগ গুলো নিজের হাতে তুলে নেয় ।

দুজন কে সাথে নিয়ে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে ।

ওদের তিন জন কে দেখে বাড়ির ছোটরা এগিয়ে আসে।

মিলা রাহার হাত ধরে ভেতরের দিকে আগায় ।

লাগেজ নিয়ে আকাশের রুমের দিকে চলে যায় অসীম। আকাশ বাড়ির সকলের সাথে কথা বলে নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যায় । রাহা সালাম দেয় সকল কে ।

মিলা রাহা কে সোফায় এনে বসায় ।

ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে সকলে ।

আস্তে আস্তে সকলের কথার উত্তর দেয় রাহা ।

_ রাহা কে ওর রুমে নিয়ে যাও বোরকা হিজাব খুলে ফ্রেস হয়ে নিক ।

মিলা নিয়ে যায় রাহাকে । রুমের সামনে রেখে চলে আসে নিচে ।

রাহা ডোর ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে । আকাশ পরনের পোশাক চেঞ্জ করে টিশার্ট ট্রাউজার আর হুডি পড়ে নিয়েছে । রাহা কে রুমে আসতে দেখে বলে ,

_ ফ্রেস হয়ে নাও ।

রাহা মাথা নাড়িয়ে সায় জানায় ।

আকাশ ফোন টা চার্জে লাগিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। রাহা বোরকা হিজাব খুলে ওয়াসরুমে প্রবেশ করে। ফ্রেস হয়ে এসে বেডে বসে রইলো । বাড়ির কথা ভীষণ মনে পড়ছে ।

আকাশের রুমের চারো দিকে নজর বুলিয়ে নেয় । খুব বেশি কিছু নেই রুমে । খোলা মেলা বড় সরো রুম টা ।

বাড়িটা বেশ পুরোনো । রং পরিবর্তন করার কারণে চকচকে ঝকঝকে হয়ে গেছে । বেশ বড় দুতলা বাড়ি । আকাশ দের জয়েন ফ্যামিলি । আকাশের বাবা সবার ছোট । শেখ বাড়ির বড় ছেলে আজলান শেখ । তার ছোট একটি বোন আছিয়া বেগম । সবার ছোট আকাশের বাবা আমজাদ শেখ ।

শেখ বাড়ির ছেলে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে তিন জনের এখন শুধু অসীম বাকি আছে । আর ওর বিয়ের ও অনেক দেরি ।

একা রুমে থাকতে রাহার এখন ভয় ভয় লাগছে । মনে হচ্ছে বেডের নিচে কেউ আছে । বেলকোনি থেকে কেউ ওকে দেখছে ।

দ্রুত বেড থেকে উঠে দাঁড়ায় । রুম থেকে বের হওয়ার জন্য পা বাড়াতেই কারেন্ট চলে যায় । সাথে সাথে পুরো বাড়ি ঘন কালো অন্ধকারে তলিয়ে যায় ।

রাহা আশে পাশে চোখ ঘুরিয়ে দেখে নেয় । এত টুকু আলো নেই রুমে । হঠাৎ কিছু একটা পড়ার শব্দ হয় ।

শব্দ হতে দেরি রাহার ভুবন কাপিয়ে চি*ৎকার করতে দেরি হয় না ।

এত জোড়ে রাহার চি*ৎকার করেছে যে ড্রইং রুমের সবাই ভয় পেয়ে গেছে । আকাশ দৌড়ে উপরে উঠে আসে । ওর পেছন পেছন বাড়ির সবাই ।

আকাশের ফোনের টর্চ অন করা ছিল । রুমের ভেতর প্রবেশ করে দেখে রাহা দুই হাতে মাথা চেপে ধরে চি*ৎকার করে চলেছে ।

আকাশ দ্রুত রাহার কাঁধে হাত রেখে বলে ,

_ রাহা কি হয়েছে ?

রাহা আকাশ কে এক ধাক্কায় নিচে ফেলে দেয় ।

_ আ আ আ ভূ*ত ।

আকাশ দ্রুত উঠে এসে রাহাকে ধরে বলে ,

_ আমি ভূ*ত না আমি আকাশ ।

_ না আ ভূ*ত আ বাঁচাও ভূ*ত খেয়ে ফেলবে আমাকে বাঁচাও আ আ আ ।

ততক্ষণে সবাই এসে উপস্থিত আকাশের রুমের সামনে।

আকাশ রাহার হাত টেনে ধরে । ফোনের টর্চ নিজের মুখের দিকে ধরে বলে ,

_ চোখ খোলো দেখো আমি আকাশ ভূ*ত না । ভূ*ত বলতে কিছু নেই ।

রাহা চোখ খুলে আকাশ কে দেখেই আকাশ কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে ,

_ ওখানে ভূ*ত ছিল আমি দেখেছি বড় বড় চোখ বানিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল ।

অসীম সমুদ্র নিঝুম টর্চ লাইট নিয়ে রুমে প্রবেশ করে । পুরো রুমে লাইট দিয়ে খুঁজেও ভূ*ত পায় না ।

আকাশের বুকে ঘাপটি মে*রে তখনো থরথর করে কাপছে রাহা ।

_ ভূ*ত নেই রাহা তুমি ভুল দেখেছো । দেখো রুমে কিছু নেই ।

_ আমি দেখেছি ছিল । বড় বড় দুটো জ্বলজ্বলে চোখ আমার দিকে তাকিয়ে ছিল ।

পেছন থেকে অনন্যা শেখ বলে ,

_ রাহাকে নিয়ে বিছানায় বসা আগে ।

আকাশ দাঁড়াতে নিলে রাহা খা*ম*চে ধরে আকাশের হুডি । আকাশ রাহার হাত ধরে বেডে নিয়ে বসায় । রাহা ছারে না আকাশ কে ।

আকাশের লজ্জা করছে বাড়ির সকলের সামনে এভাবে ওকে ধরে রাখায় । নিঝুম এক গ্লাস পানি এনে দেয় ।

আকাশ পানি রাহা কে খাইয়ে দেয় ।

সকলেই রাহার সামনে এসে দাঁড়ায় ।

রাহার হাত পা তখনো কাপছে ।

অনন্যা শেখ রাহার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে ,

_ মা ভূ*ত নেই আমাদের বাড়িতে । তুমি ভুল দেখেছো হয়তো ।

_ না মা ওখানে ছিল টেবিলের উপরে । আমার দিকে এত বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে ছিল ।

অনন্যা শেখ একটু ভেবে বলে ,

_ মা ওটা ভূ*ত ছিল না । ওটা তো সন্ধ্যার মিটি ছিল ।

_ ওই ভূ*তে*র নাম মিটি ?

রাহার মুখে এমন কথা শুনে ফিক করে হেসে ওঠে অসীম নিঝুম আর মিলা । সমুদ্র আর বাড়ির সকলে মুচকি মুচকি হাসছে । আকাশ চুপ চাপ দাঁড়িয়ে আছে । অনন্যা শেখ হাসি বন্ধ করে বলে ,

_ ওটা ভূ*ত না । সন্ধ্যার বি'ড়াল । বি'ড়ালের নাম মিটি ।

রাহা হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে নিয়ে নাক টেনে বলে ,

_ মিটির চোখে কি লাইট লাগানো হয়েছে ?

আবার হেসে ওঠে সবাই ।

_ তুমি জানো না অন্ধকারে বি'ড়ালের চোখে লাইট জ্বলে ?

_ না , ওদের চোখে কেনো লাইট জ্বলে ?

_ আল্লাহ তায়ালা ওদের অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা দিয়েছে তাই অন্ধকারে ওদের চোখ জ্বলজ্বল করে । এই রুমে হয়তো মিটি এসেছিল ।

_ হতে পারে ।

অসীম এদিক সেদিক চোখ বুলাচ্ছে । ডোরের দিকে তাকিয়ে দেখে মিটি ডোরের সামনে দাড়িয়ে রুমের ভেতরে উঁকি দিচ্ছে । অন্ধকারে চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে ।

অসীম মিটির দিকে তাকিয়ে বলে ,

_ বেচারা মিটি এতই ভয় পেয়েছে যে এখন আর রুমে আসছে না । বেচারা বোধহয় হার্টের রোগী হয়ে গেছে ভয় পেয়ে ।

অসীমের কথা শুনে সকলে ডোরের দিকে তাকায় । মিটি ডোরের মাঝ খানে দাঁড়িয়ে আছে ভেতরের দিকে তাকিয়ে । কারেন্ট চলে আসে । কারেন্ট চলে আসতেই মিটি এক দৌড়ে নীচে চলে যায় ।

আকাশ আর রাহা কে রুমে রেখে সবাই রুম থেকে বেরিয়ে যায় ।

সবাই চলে যেতেই অদ্ভুত চোখে তাকায় আকাশ রাহার দিকে । মেয়ের শক্তি আছে বলতে হয় । এমন জোড়ে ধাক্কা দিয়েছে যে পড়ে গিয়ে মাজায় ব্যাথা পেয়েছে ।

তবে রাহার মাঝে কোনো ভাবান্তর নেই । এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে টেবিলের দিকে যেখানে মিটি বসে ছিল।

কারেন্ট যাওয়ার আগে তো মিটি কে দেখলো না ।

আকাশ টেবিলের দিকে তাকায় । পেপার ওয়েট টা পড়ে গেছে নিচে । এগিয়ে গিয়ে সেটা তুলে রাখে । রাহা বুঝতে পারে তখন ওটা পড়ার শব্দ হয়েছিল ।

বুকে হাত দিয়ে জোড়ে শ্বাস নেয় । আল্লাহ কি ভয় টা না পেয়েছিল ।

রাহা ধনী বাবার মেয়ে । ছোট থেকে বিলাসিতায় বড় হয়েছে । বাড়িতে কখনও অন্ধকার হতো না । কারেন্ট চলে গেলে সাথে সাথেই আই পি এস চালু হতো । দীর্ঘ সময় কারেন্ট না আসলে জেনারেটর ছিল । তাই তো আজ এমন ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভয় পেয়ে গিয়েছিল । একা রয়েছে রুমে তার উপর জ্বলজ্বলে চোখ নিয়ে তাকিয়ে ছিল ওর দিকে আবার পেপার ওয়েট ফেলে দিয়েছিল । ভয়ে তো ওর আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যাচ্ছিল ।

বিজ্ঞাপন
আমার ঝামেলা রানী গল্পটি সানা শেখ-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সাংসারিক উপন্যাস