রিক্ত বসন্ত

পর্ব - ৯

🟢

“তৌফিক ভাই আসবো?

তৌফিক ল্যাপটপের উপর থেকে চোখ তুলে দরজার দিকে তাকালো।মিলিকে দেখেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো।

“আরে মিলি যে এসো।”

মিলি ভেতরে আসতেই তিনি চেয়ারে বসতে ইশারা করলেন।মিলি বসলো।

"তা এতদিন পর হঠাৎ অফিসে এলে যে।কোন দরকার ছিল নাকি?তুমি যে আসবে তন্ময় তো আমায় কিছু বলেনি।”

“আসলে প্রয়োজনটা আমার ছিল আপনার সাথে। তন্ময় জানেনা আমি এসেছি।”

“ও আচ্ছা।তা যখন এতই দরকার ছিল অফিসে না এসে আমার বাড়িতে আসতে।একদম খাওয়া দাওয়া আর জমিয়ে আড্ডা দিয়ে তারপর তোমার দরকারি কথা শুনতাম।তোমার ভাবি পরশুই আমায় তোমার কথা বলছিল যে একদিন যেন তোমাকে নিয়ে আসি।”

“ভাবি কে বলবেন অন্য কোন দিন সময় করে দেখা করে আসবো।”

“আচ্ছা।এবার বলো তোমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?"

“আসলে ভাই আপনার কাছে একটা অনুরোধ নিয়ে এসেছিলাম।”

“আহা অনুরোধ কেন বলছো?আবদার বল।”

“আচ্ছা আবদারই ধরে নিন।তন্ময় কে চাকরিটা থেকে বের করে দিতে পারবেন?”

তৌফিক এর মুখ থেকে হাসিটা উড়ে গেল।অন্য কেউ এই কথাটা বললে তাও মেনে নেওয়া যেত কিন্তু মিলির মুখ থেকে এই কথাটা একদমই মানা যাচ্ছে না।যেখানে মিলির অনুরোধে তৌফিক তন্ময় কে এই চাকরিটা দিয়েছিলো সেখানে কি না আজ মিলিই আবার বলছে যেন তন্ময়ের চাকরিটা কেড়ে নেয়!ব্যাপারটা বেশ করে গোলমেলে লাগল তৌফিকের কাছে।সন্দেহী গলায় বলল,

“কি হয়েছে একটু খুলে বলো তো আমায়?তুমি বলছো তোমার স্বামীকে যেন আমি চাকরি থেকে বের করে দেই?”

“আমার স্বামী তো এখন আর আমার নেই ভাই।সে তো পর হয়ে গেছে।কিছুদিন পর হয়তো আর ওকে নিজের স্বামী বলে পরিচয়ও দিতে পারবে না।”

“মানে?”

“আপনাদের অফিসের একটা মেয়ে এমপ্লয়ির সাথে তন্ময়ের অবৈধ সম্পর্ক চলছে,জেসি নাম।”

তৌফিকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো।মিলির কথাটা বিশ্বাসই করতে পারল না।অবিশ্বাস্য গলায় বলল,

“কি বলছো এসব?তন্ময় এসব করেছে?”

“বিশ্বাস হচ্ছে না তো?আমারও বিশ্বাস হয়নি জানেন তো।নিজের চোখকে আমি অবিশ্বাস করার চেষ্টা করেছি,কান কে অবিশ্বাস করার চেষ্টা করেছি কিন্তু যখন তন্ময় নিজে স্বীকার করলো তখন আমি অবিশ্বাস করি কি করে?বাধ্য হয়েছি বিশ্বাস করতে।”

“তন্ময় আর জেসির মাঝে যে একটা ভালো সম্পর্ক আছে সেটা আমিও খেয়াল করেছি।শুধু আমি না অফিসের সবাই খেয়াল করেছে হয়ত।কিন্তু সত্যি বলতে আমি ভেবেছি ওদের মাঝে নিতান্তই একটা স্বাভাবিক বন্ধুর সম্পর্ক।আমরা সবাই তন্ময়কে বউ পাগল হিসেবে চিনি।ওর মতন ছেলে যে এমন একটা কাজে জড়াবে আমি কল্পনাও করতে পারছি না মিলি।”

“সেসব কথা বাদ দিন না হয় ভাই।আমি জানিনা আপনার কাছে এই অনুরোধ বা আবদার করা ঠিক কিনা।তবে আমি শুধু তন্ময় কে একটু শাস্তি দিতে চাই।আমি ওকে বোঝাতে চাই যে আজ যে জেসি ওর হাত ধরেছে তার কারণ ওর কাছে বড় চাকরি আছে,কাল যদি চাকরিটা না থাকে জেসিও থাকবে না।আমি শুধু ওকে এতোটুকু বোঝাতে চাই যে আমি ওর জীবনে কি কি ভূমিকা রেখেছিলাম।শুধু তন্ময় না জেসিকেও চাকরি থেকে বের করতে হবে।এটা আমার আপনার কাছে অনুরোধ ভাই।”

“আহা এভাবে বলছ কেন?তবে একটা কথা,তন্ময়ের পারফরমেন্স অনেক ভালো।ওপর মহলে ওর বেশ পরিচিতি আছে ওর ভালো পারফরম্যান্সের জন্য।রিসেন্ট ও একটা বড় প্রজেক্ট হ্যান্ডেল করছে।এখন ওকে আমার পক্ষে চাকরি থেকে বের করা ঠিক সম্ভব হবে না।কারণ এই পুরো সিদ্ধান্তটা আমার উপরে থাকবে না।তন্ময় যদি উপর মহলে কমপ্লেইন করে তাহলে সমস্যা হতে পারে।এই প্রজেক্টটা শেষ হতে দাও। আমি তোমায় আশ্বস্ত করছি ওকে চাকরি থেকে আমি বের করব।ঠিক পথে করতে না পারলেও ভুল পথে করব।আর জেসি কে চাকরি থেকে বের করা কোন ব্যাপারই না।একেই তো সাত-আট মাস হলে জয়েন করেছে,তার উপরে পারফরমেন্স তেমন একটা ইম্প্রেসিভ না।ওকে বের করার ব্যবস্থা আমি করে দিতে পারি।”

“আমি শুধু জেসি কে একা শাস্তি দিতে চাই না।ওরা দুজনে সমান অপরাধী তাই শাস্তিও ওরা দুজনেই পাবে।আপনি চেষ্টা করতে চেয়েছেন এটাই আমার জন্য অনেক।আরেকটা কথা জেসির বাড়ির ঠিকানা একটু আমায় জোগাড় করে দিতে পারবেন।”

“আমি তোমার মেসেজ করে দেবো জোগাড় করে।আজ তোমায় একটা কথা জানাতে ইচ্ছে করছে মিলি।যদিও মাহবুব আমায় নিষেধ করেছিল এই কথাটা তোমায় বলতে।”

মিলির ভ্রুঁ দ্বয়ের মাঝে সূক্ষ্ম ভাঁজ সৃষ্টি হলো।প্রশ্নাত্মক গলায় বলল,

“কি?”

“শুধুমাত্র তোমার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি তন্ময় কে চাকরিটা দিতে পারতাম না তখন।তুমি আমায় অনুরোধ করার পর আমি মাহবুবের সাথে এই নিয়ে কথা বলেছিলাম।মাহবুবই এমডির সাথে কথা বলে তন্ময়ের চাকরির ব্যবস্থাটা করে দিয়েছিল।আমায় বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিল যেন আমি তোমাদের খেয়াল রাখি। ও চায়নি এই কথাটা তুমি কখনো জানো।সেজন্য তোমায় আমি কখনো জানায়নি।তবে আজ মনে হলো তোমায় জানানোটা দরকার।”

মিলির বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো।মাহবুব তবে কখনই মিলিকে ঘৃণা করতে পারেনি।

“এই কথাটা ভাইয়া কে জানাবেন না।তন্ময়ের ব্যাপারেও কিছু বলবেন না।আমি আগে জানাতে চাই ভাইয়াকে।”

“আচ্ছা ঠিক আছে জানাবো না।তোমায় আরেকটা কথা বলি মিলি কিছু মনে করো না কেমন?”

“হ্যাঁ বলুন।”

“মাহবুব চৌধুরীর বোন হয়ে কিন্তু তুমি অনেক বড় বোকামি করে ফেলেছ।আমি তোমায় প্রথম দিনই বলেছিলাম যে এভাবে তন্ময়ের জন্য সবকিছু ছেড়ে চলে আসা তোমার উচিত হয়নি।আমি জানি সেদিন তুমি আমার কথায় রাগও করেছিলে তবে আমি কিন্তু ভুল ছিলাম না”

“নিজের ভুলগুলো আর মনে করাবেন না ভাই।কি করব বলুন নিজেকে তো মানাতে পারছিলাম না।আমার এখন কি অবস্থা জানেন?না ম/রতে পারছি আমি আর না বাঁচতে পারছি।আর অনুরোধ করছি আমার ভাইয়া কে এই বিষয়ে কিছু জানাবেন না।”

“তোমাদের কোম্পানির সাথে আমাদের একটা ডিল হয়েছে।আর সেই প্রজেক্টটাই লিড করছে তন্ময়।দেখো আমি না চাইলেও তোমার ভাই কিন্তু খুব সহজেই তন্ময় কে চাকরি ছাড়া করতে পারে।উনি একবার ওপর মহলে কথা বললেই হয়ে যায়।এমনকি উনি চাইলে এমন ব্যবস্থাও করতে পারেন যেন তন্ময় আর কোন জায়গায় চাকরি না করতে পারে।”

“আসলে আমি আগে ভাইয়া কে সবটা জানাতে চাইছিলাম না।ভাইয়া বাড়াবাড়ি কিছু করে ফেলতে পারে।”

“আচ্ছা আমি কি তন্ময়ের সাথে একবার কথা বলবো?”

“না দরকার নেই।ও ফিরবে না।আর আমি চাইও না ও ফিরে আসুন।এখন ও ফিরতে চাইলেও আমি ওকে আর গ্রহণ করবো না।ও যার কাছে ভালো থাকতে চাইছে তার কাছে ভালো থাকুক।আমিও দেখি কতদিন ভালো থাকতে পারে।”

______

তৌফিক সাহেবের কেবিনের বাইরে চিন্তিত ভঙ্গিতে পায়চারি করছে তন্ময়।এক কলিগ গিয়ে যখন খবর দিল যে মিলি এসেছে তখন বিস্ময়ে তন্ময়ের মুখ হা হয়ে গিয়েছে।মিলি তো এখানে আসার কথা না।যদিও বা কখনো মিলি অফিস আসে তন্ময় কে বলে আসে।বেশিরভাগ সময় তন্ময়ের জন্য খাবার নিয়ে আসে কিন্তু আজ তন্ময় কিছু জানেও না,দেখাও করেনি মিলি।তবে কেন এসেছে মিলি?ওর উদ্দেশ্য কি?একেই টাকাগুলো জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।জানে না কি করে এতগুলো টাকা জোগাড় করবে তার ওপর আবার এখন এই চিন্তা।তন্ময়ের এসব ভাবনার মাঝে মিলি কেবিন থেকে বের হলো।তন্ময়কে দেখলো ঠিকই তবে খুব বেশি পাত্তা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলে না।চুপচাপ চলে যেতে চাইলে তন্ময় মিলির সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।

“এখানে কেন এসেছিলে?উত্তর দাও মিলি আমার অফিসে কেন এসেছিলে?”

“সবকিছু কে এত নিজের বলে দাবি করো কেন?তুমি এই অফিসের একটা সামান্য কর্মচারী মাত্র।আর আমি যে তোমাকে কৈফিয়ত দেবো সে আশা ছেড়ে দাও।”

“বাড়াবাড়ি করো না,বলো কি করতে এসেছিলে এখানে?”

“গেট আউট ফ্রম মাই ওয়ে।”

কথাটা বলে তন্ময় কে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে ধরলে তন্ময়ের কয়েকজন কলিগ মিলির সামনে এসে দাঁড়ালো।এদের চেনে মিলি,বেশ ভালো সম্পর্ক।বেশ কয়েকবার ওদের বাড়িতেও গিয়েছে।মিলি কিংবা তন্ময়ের জন্মদিনে কিংবা ওদের বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যখন খুব কাছের মানুষদেরকে নিমন্ত্রণ করা হতো তখন এরা যেত।বলা যায় অফিসের কম বেশি সবাই মিলি কে চেনে।কেননা সবার সাথেই তন্ময় বেশ ভালো সম্পর্ক সেই সূত্র ধরে মিলি কেও চেনে।আর তাছাড়া মিলির যে আরো একটা বড় পরিচয় আছে।এম এম গ্রুপের মালিকের মেয়ে।

“আরে ভাবি আমাদের সাথে দেখা না করে চলে যাচ্ছেন?আর কতদিন হলো আপনার হাতের রান্না খাই না বলুন তো?একটু কিছু রান্না করে আনবেন না আমাদের জন্য?”

মিলি আলতো হেসে বলল,

“এবার থেকে আর আমার হাতের রান্না খেতে হবে না ভাইয়া।এবার থেকে তো আপনারা নতুন ভাবির হাতের রান্না খাবেন।আর আমায় ভাবি বলে আর ডাকবেন না। আমি তো আপনাদের ভাবি থাকবো না বেশি দিন।”

ছেলে গুলো একটু চমকালো।আমতা আমতা করে বলল,

“ইয়ে মানে আসলে বুঝলাম না আপনার কথা।নতুন ভাবির হাতের রান্না খাবো মানে?”

“কেন তন্ময় আপনাদেরকে কিছু বলেনি?”

ছেলেগুলো একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বোধক উত্তর জানালো।তন্ময় বুঝলো মিলিকে এখানে বেশিক্ষণ রাখা যাবে না।ওদের সম্পর্কের কথা অফিসে কেউ জানে না।এখন জানাজানি হলে মান-সম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।মিলির হাত ধরে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বলল,

“চল এখান থেকে মিলি।”

“আরে দাঁড়াও না।তুমি তো দেখছি কিছু জানাওনি।কিন্তু কেন?এটা কিন্তু তুমি খুব বড় অন্যায় করেছো?”

“কি হয়েছে ভাবি?কোন সমস্যা?”

“না না ভাইয়া সমস্যা হতে যাবে কেন?আসলে তন্ময় তো খুব তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় বিয়ে করছে আপনারা জানেন না?”

তন্ময় বিস্ফোরিত নয়নে মিলির দিকে তাকালো।মিলি যে এভাবে অকপটে সবার সামনেই কথাটা বলবে সেটা তন্ময় ভাবেনি।আশেপাশের আরো অনেকে ওদের দিকে তাকিয়েছে।ছেলেগুলো আবারো একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে বিস্ময় ভরা কন্ঠে বলল,

“কি বলছেন এসব ভাবি?মজা করছেন নাকি?”

“না ভাইয়া।এখন আমার আর মজা করার মত মন মানসিকতা নেই।আপনাদের অফিসেরই একজন,জেসির সাথে তন্ময়ের দীর্ঘদিন যাবত পরকীয়ার সম্পর্কে চলছে।আর সেই জন্য তন্ময়ের এখন আমায় পছন্দ হচ্ছে না।ও আমায় ছাড়তে চাইছে।আসলে কুকুরের পেটে তো ঘি সহ্য হয় না।আমিও তাই আর বাধা দেইনি।খুব তাড়াতাড়ি আমরা আলাদা হয়ে যাবো আর তন্ময়-জেসি ওদের পরকীয়ার সম্পর্ক বৈধ সম্পর্কে পরিণত করবে।সেজন্যই বললাম আপনাদের এবার থেকে নতুন ভাবির হাতের রান্না খেতে হবে।এখন তবে আসি কেমন।ভালো থাকবেন।”

কথাটা বলে মিলি চলে গেল।বেশ অনেকগুলো দৃষ্টি একসঙ্গে তন্ময়ের উপরে পড়লো।অনেকের দৃষ্টিতে বিষ্ময়,অনেকের দৃষ্টিতে ঘৃণা।সেই ঘৃণা ভরা দৃষ্টি গুলো তন্ময় কে ভীষণ ভাবে আঘাত করলো।লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করলো।মিলি এভাবে সবার সামনে এই কথাগুলো বলে দেবে সেটা কখনো কল্পনা করেনি তন্ময়।মিলি যে এভাবে ওর সম্মান নষ্ট করতে পারে সেটাও কখনো কল্পনা করেনি।

_______

বেশ অনেকক্ষণ যাবৎ তন্ময় মিলির নাম্বারে কল করেই যাচ্ছে তো করেই যাচ্ছে কিন্তু মিলি কল ধরার নামই নিচ্ছে না।আর না কেটে দিচ্ছে ফোনটা।প্রায় আধা ঘন্টার বেশি হলো তন্ময় বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।কে জানে কোথায় গেছে।আজ তন্ময় নিজের সাথে করে চাবিটাও নিয়ে যেতে ভুলে গিয়েছিল জন্য এই বিপদটা বেঁধেছে।আর আজকেই মিলিকে অসময়ে বাড়িতে পাচ্ছে না।আরো দশ মিনিটে এভাবেই কাটলো।সব মিলিয়ে প্রায় চল্লিশ মিনিট পর পাশে জ্যোতির ফ্ল্যাট থেকে মিলি বের হলো।মিলিকে পাশের ফ্ল্যাটে দেখতেই তন্ময়ের মুখ হা হয়ে গেল।

“তুমি এখানে ছিলে?”

কন্ঠে তন্ময়ের একরাশ বিস্ময়।

“কেন দেখতে পাচ্ছ না?”

তন্ময় রাগান্বিত গলায় বলল,

“তুমি জানো না এখন আমার ফেরার সময় তারপরও কোন আক্কেলে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে বসে ছিলে?তখন থেকে যে আমি তোমায় ফোন করে যাচ্ছি ফোনটা ধরছো না কেন?এখন এই অজুহাতও দিতে পারবে না যে ফোন আমাদের ফ্ল্যাটে রেখে গেছ।তোমার হাতে আমি দেখতে পাচ্ছি।”

বিজ্ঞাপন

মিলি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,

“মিথ্যে অজুহাত দেওয়া তোমার স্বভাব,আমার না।আসলে কি বলোতো তোমার কন্ঠ শুনলেও এখন আমার বমি পায় সেজন্য ধরিনি।তার থেকেও বড় কথা তোমার ব্যাপারে এখন আর এত খোঁজ খবর রেখে আমি কি করবো?আর তোমার আক্কেল নেই?যাওয়ার সময় চাবি নিয়ে যাওনি কেন?”

দরজার কাছে দাঁড়িয়ে জ্যোতি মিলির কথা শুনছে আর ঠোঁট টিপে হাসসে।তন্ময় একবার আড় চোখে জ্যোতিকে দেখল।ভীষণ অপমানিত বোধ করল। এভাবে সবার সামনে তন্ময়কে অপমান না করলে কি হচ্ছিল না মিলির?অফিসেও আজ মান সম্মান সব শেষ করে দিয়ে এসেছে,এখন আবার ফ্ল্যাটের মানুষজনের কাছেও অপমান না করলে চলছে না।তন্ময়ের এসব ভাবনার মাঝেই মিলি দরজা খুলে ভেতরে চলে গিয়েছে।মিলির ওকে পাত্তা না দেওয়ায় তন্ময়ের ভীষণ রাগ হলো।তবে এখন আর কোন কথা বলার ইচ্ছে হলো না বা তর্ক করার ইচ্ছেও হলো না।ঘরে গিয়ে বিছানার উপর ব্যাগটা ছুড়ে মা/রল।তৎক্ষণাৎ ফোন বেজে উঠলো।ফোনটা হাতে নিতেই দেখলো জেসি কল করেছে।তাড়াহুড়ো করে রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে জেসির কান্নার শব্দ ভেসে এলো।তন্ময় ভরকালো।চিন্তিত গলায় বলল,

“কি হয়েছে?কাঁদছো কেন?”

জেসি ক্রন্দনরত গলায় বলল,

“তুমি আমায় কবে বিয়ে করবে তন্ময়?সত্যি করে বলোতো আদৌ তুমি আমায় বিয়ে করবে তো নাকি মিলির সাথে সংসার করবে আর শুধু আমার জীবনটা নষ্ট করছো?”

“কি আজেবাজে কথা বলছো?তোমায় বিয়ে করব জন্যই তো মিলিকে ডিভোর্স দিতে চাইছি।”

“তাহলে তাড়াতাড়ি ওকে ডিভোর্স দিয়ে আমায় বিয়ে করো।আমার ভাই ভাবি আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে।তোমার বউ এসে কি সব আজেবাজে কথা বলে গেছে।এখানে ওরা আমাকে আর কোনমতেই থাকতে দিতে চাইছে না।আমার ভাবি এই রাতেই আমাকে ব্যাগপত্র গুছিয়ে বেরিয়ে যেতে বলছে।আমি কোথায় যাবো বলো?”

তন্ময় বিস্মিত গলায় বলল,

“সে কি মিলি তোমার বাড়ি গিয়েছিল মানে?ঠিকানা কি করে জানলো তোমার বাড়ির?”

জেসি রাগান্বিত গলায় বলল,

“আমি এতকিছু জানি না তন্ময়।তোমার জন্য আমার বাড়ি ছাড়া হতে হচ্ছে।আমার এক্ষুনি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করো।আমার একাউন্টে টাকা পাঠাও।”

তন্ময় নিচু কন্ঠে বলল,

“আচ্ছা ঠিক আছে আমি পাঠাচ্ছি টাকা।কিন্তু তোমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছে কেন সেটাই তো বুঝলাম না?”

জেসি দাঁত পিষে বলল,

“তোমার স্ত্রী এসে আমার ভাবিকে বলে গেছে যে আমি একটা বিবাহিত পুরুষকে হাত করেছি,তার স্ত্রী-সংসার আছে জেনেও তার সাথে অবৈধ সম্পর্কের জড়িয়েছি।আর আমার ভাবি চায় না আমি এই বাড়িতে থেকে তার ছেলেমেয়েদের ওপর কোন খারাপ প্রভাব ফেলি।বুঝতে পেরেছো?দেরি না করে এক্ষুনি আমার একাউন্টে টাকা পাঠাবে না হলে আমি কিন্তু তোমার ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠবো বলে দিলাম।আর তুমি জানো আমি যা বলি সেটাই করি।”

“আরে না না আমার ফ্ল্যাটে আসতে হবে না।আমি টাকা পাঠাচ্ছি তোমার একাউন্টে।তুমি একটা হোটেলে গিয়ে ওঠ।”

জেসি ফোনটা রাখতেই পেছন থেকে এক মেয়েলি কর্কশ কণ্ঠ ভেসে এলো ওর কানে।

“তারমানে তুমি এই যে মাঝে মাঝে ক্লায়েন্ট মিটিং এর বাহানা তে হোটেলে যেতে,সেখানে নোংরামো করতে তাই না?ছিঃ!তোমার মতন একটা মেয়ের সাথে এতদিন এক ছাদের নিচে থেকেছি এটা ভাবলেই আমার গা গুলিয়ে উঠছে।এই মেয়ে বের হও আমার বাড়ি থেকে।”

জেসি অসহায় গলায় বলল,

“একটু তো আমায় সময় দাও ভাবি।এই রাতে তাই বলে একটা মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছো?যদি আমার কোন বিপদ হয়?”

ভদ্রমহিলা তাচ্ছিল্য গলায় বলল,

“তোর মত মেয়ের আর কি বিপদ হবে?এমনিতেই তো সম্মান নষ্ট করেছিস।নিজের সম্মান বলতে আর কিছু আছে?তাহলে হারাবি কি?”

কথাটা কেন যেন জেসির বুকে গিয়ে আঘাত করলো।নিজেকে ভীষণ সস্তা মনে হলো।ইচ্ছে করলো সামনে দাঁড়ানো তার ভাবিকে আচ্ছামত কয়েকটা কথা শোনাতে কিন্তু এখন মাথা গরম করলে চলবে না। অন্তত রাতটুকু যদি থেকে যাওয়া যায় তবে ভালো হয়।নরম গলায় বলল,

“প্লিজ ভাবি একটু বোঝার চেষ্টা করো।অন্তত আজকের রাতটা আমায় থাকতে দাও।আজ যদি আমি তোমার ননদ না হয়ে তোমার বোন হতাম তাহলে কি আমার সাথে এমনটা করতে পারতে?”

“তুই যদি আমার ননদ না হয়ে আমার বোন হতি তাহলে খাবারে বি/ষ মিশিয়ে তোকে মা/রতাম।এমনিতেই তোর স্বভাব চরিত্র আমার কোন দিনই পছন্দ ছিল না।ছেলেদের গায়ের উপর ঢলে ঢলে পরা,ছোট ছোট জামা কাপড় পড়ে বাইরে বেড়োনো,দিনরাত যখন তখন বাড়ি থেকে বের হওয়া,যখন তখন বাড়িতে ঢোকা,ছেলে বন্ধু-কলিগদের সাথে অতিরিক্ত মেলামেশা।তোকে দেখেই তো বোঝা যায় তুই চরিত্রহীন।এখন দয়া করে আমার ছেলে মেয়েকে নষ্ট করিস না।আর তোর ভাই কিন্তু বলে দিয়েছে যদি ও বাড়িতে ফিরে তোকে দেখে তাহলে তোকে আজ মে/রে ফেলবে।প্রাণে বাঁচতে চাইলে বের হ।”

“কি ভাবছো আমি কিছু বুঝিনা?আজ এই অজুহাতটা দিয়ে আমাকে বাড়ি থেকে বের করতে চাইছো তাই তো?তুমি যে কোন কালেই আমায় সহ্য করতে পারো না সেটা কিন্তু আমি খুব ভালো করেই জানি ভাবি।”

“এতই যখন জানিস তাহলে চোখের সামনে থেকে দূর হোস না কেন।একদম ঠিক বলেছিস আমি সুযোগের সদ্ব্যবহার করছি।তোর প্রতি ঘৃণার আসল কারণই তোর স্বভাব চরিত্র।আজকে একটা সুযোগ পেয়েছি তোকে বের করার আর এই সুযোগ আমি কোনমতেই হাতছাড়া করবো না।তোকে তো আজ আমি বের করেই ছাড়বো।”

“থাক তোমায় আর এত কষ্ট করতে হবে না।তন্ময় বলেছে আমার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেবে।তোমাদের মতন ভিখিরিদের সাথে আমার আর থাকারও কোনো ইচ্ছে নেই।তন্ময় আমার ফাইভ স্টার এ থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।”

“হ্যাঁ যা।যেটুকু নোংরামি বাকি আছে সেটুকুও কর।একটা কথা বলে রাখি তোকে।এটা পূর্বের কোন রাগ থেকে বলছি না একটা মেয়ে হয়ে বলছি,এই যে তুই একটা মেয়ের সংসার ভাঙ্গলি,ওর সর্বনাশ করলি, একটা বাচ্চাকে এতিম বানালি কি ভেবেছিস এর শাস্তি তুই পাবিনা?খোদা এমন ভাবে তোর থেকে সবকিছু কেড়ে নেবে,এমন ভাবে তুই মুখ থুবরে পড়বি যে কেঁদে কুল পাবি না।তোর মতন মেয়েরা শুধু সংসার ভাঙতে জানে।তুই আমার সংসারও ভাঙ্গার চেষ্টা করেছিলি শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের জন্য কিন্তু ভাঙতে পারিস না।সেজন্য এখন ওই নিষ্পাপ মেয়েটার সংসার ভাঙ্গলি।শোন শান্তি পাবি না তুই।আর সংসার করার স্বপ্ন দেখছিস না সেটা ভুলে যা।অন্যের সংসার ভেঙে কখনো নিজের সংসার গড়া যায় না।অন্তত তোর মতন মেয়েদের সংসার করা অসম্ভব।”

“ব্যস ভাবি।অনেক বলেছ আর না।এতদিন অনেক চুপ থেকেছি কিন্তু আজকে আমি চুপ থাকবো না।এখন তোমার বাড়িতেও আর থাকছি না তাহলে চুপ থাকবো কেন?আর একটা কথাও বলবে না।চলে যাচ্ছি আমি।”

আরো বেশ কিছুক্ষণ তর্কাতর্কির পর জেসি ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিয়ে রাতেই বেরিয়ে পড়লো।অ্যাকাউন্ট চেক করে দেখলো এখনো তন্ময় টাকা পাঠায়নি।আবার ফোন করল ওর নাম্বারে।তন্ময় ফোনটা রিসিভ করতেই জেসি রাগান্বিত গলায় বলল,

“এখনো টাকা পাঠাওনি কেন?”

“তুমি কি একটু ম্যানেজ করে নিতে পারবে না?আসলে জানোই তো তুমি মিলির টাকাগুলো দিতে হবে।এখনও ওর টাকা জোগাড় করিনি এর মাঝে আবার তোমাকে টাকা দিয়ে দিলে যা জমা আছে তা থেকেও তো কমে যাবে।দেখোনা তুমি যদি একটু অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করতে পারো।”

“আচ্ছা ঠিক আছে আমি দেখছি।তবে তুমি একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো তন্ময় আমি কিন্তু বেশিদিন এভাবে অন্যের বাড়িতে থাকতে পারবো না।যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব তোমার বউকে ডিভোর্স দিয়ে আমাকে বিয়ে করার ব্যবস্থা করে।”

“আচ্ছা ঠিক আছে।এত রাগ করতে হবে না।আমি করছি ব্যবস্থা।তুমি আগে রাতটা কারো ওখানে থাকার ব্যবস্থা করো।”

জেসি ফোনটা রেখে অনেক ভাবল যে কার ওখানে যাওয়া যায়।শেষে অনেক ভাবনা চিন্তার পর তার এক অফিসের কলিগের কথা মনে পড়ল।ওনার সাথে বেশ ভালো সম্পর্ক।কয়েকটা দিন অন্তত যদি সমস্যার কথা বলে তাহলে থাকতে দিতে পারে।দূরত্বটাও বেশি না এখান থেকে।দশ পনেরো মিনিটের মাঝে পৌঁছে যেতে পারবে।জেসি আর কিছু ভাবলো না।একটা সিএনজি ডেকে উঠে পড়ল।

বাড়িটা চিনতে জেসির অসুবিধা হলো না।কেননা এর আগেও কয়েকবার এখানে আসা হয়েছে।কলিং বেল বাজাতেই ভেতর থেকে এক ভদ্রমহিলা এসে দরজা খুলে দিল।ভদ্রমহিলার নাম ফারজানা।ফারজানাকে দেখতেই জেসি আলতো হাসলো।তবে এই অসময়ে জেসিকে দরজার সামনে দেখে ফারজানা বেশ অবাক হলো।প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

“তুমি এখন এখানে কি করছ?”

জেসি অসহায় গলায় বলল,

“তোমায় তো বলেছিলাম ফারজানা আমার বাড়ির কথা।আমার ভাই ভাবি আমাকে একটুও পছন্দ করে না।জানো আজ এত রাতে আমায় বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।কত অনুরোধ করলাম যেন শুধু আজ রাতটুকু থাকতে দেয় কিন্তু তাও থাকতে দিল না।আমার তো আর যাওয়ার কোন জায়গা নেই।তোমার এখানে একটু থাকতে দেবে কয়েকটাদিন?”

“কেন বের করে দিল?”

সত্যিটা ফারজানাকে বলা যাবে না।অজুহাত বানিয়ে বলল,

“তুমি তো জানো ভাবি আমাকে এমনিতেই পছন্দ করেনা।অনেকদিন থেকেই সুযোগটা খুঁজছিল। আজকে বের করে দিয়েছে।আর কতদিনই বা জোর করে থাকা যায় অন্যের বাড়িতে।”

“এমনি বের করে দিয়েছে নাকি তোমার নোংরামির খবর তোমার বাড়িতে পৌঁছে গেছে?”

“মানে?”

“মানেটা হলো তোমাকে যদি বের করে দেওয়ারই হতো অনেকদিন আগেই দিতে পারত।আজকেই তোমার সব নোংরামির কথা ফাঁস হলো আর আজকেই তোমাকে বের করে দিল ব্যাপার দুটো কেমন কাকতালীয় না?”

জেসির কথাগুলো আত্মসম্মানে লাগলো।তবে এখন ফারজানার সাথে বেশি তর্ক করলে চলবে না।দুর্বলতাটা ওর,দরকারও ওর।ফারজানার সামনে মাথা নত করতেই হবে।

“দেখো ফারজানা এসব কথা নাহয় থাক এখন।প্লিজ তুমি একটু তোমার বাসায় আমাকে কয়েকদিন থাকতে দেবে?”

ফারজানা মুখের উপরে নাকচ করে দিয়ে বলল,

“অসম্ভব।আমি আমার স্বামী নিয়ে একা থাকি বাড়িতে।তোমার মতন একটা চরিত্রহীন মেয়েকে আমার বাড়িতে থাকতে দেবো ভাবলে কি করে তুমি?তোমার মত মেয়েদের কোন ভরসা নেই।অন্তত আমি তো করতেই পারি না।এতদিন তোমায় ভালো ভাবতাম সেজন্য কথা বলেছি তোমার সাথে,ভালো সম্পর্ক ছিল আমাদের মাঝে কিন্তু এখন আমার ভয় করছে তোমায় দেখে। তুমি আমার হাজব্যান্ড কেও কয়েকদিন মেসেজ দিয়েছো কিন্তু আমি সেসব গুরুত্ব দেইনি।এখন বুঝতে পারছি তোমার উদ্দেশ্য কি ছিল।ভাগ্যিস ও আমায় জানিয়েছিল আর তোমায় পাত্তা দেয়নি।এখন আমার আফসোস হচ্ছে কেন আমি তোমাকে আমার বাড়িতে এনে ওর সাথে পরিচয় করিয়েছিলাম।”

“এসব কি বলছো বলোতো?আমি তো ভাইয়া কে এমনি টেক্সট করেছিলাম তোমার খোঁজ নেওয়ার জন্য।”

“যার জন্যই তুমি মেসেজ করে থাকো না কেন আমি তোমাকে আমার বাড়িতে রাখতে পারবো না।আ’ম রিয়েলি সরি।আমি তোমাকে একটুও ভরসা করতে পারিনা।তুমি অন্য কোথাও নিজের ব্যবস্থা করে নিয়ো।”

কথাটা বলে ফারজানা জেসির মুখের উপরে দরজাটা বন্ধ করে দিল।এবারে জেসির কান্না পাচ্ছে।এই রাতে ব্যাগ পত্র নিয়ে দরজায় দরজায় ঘুরছে অথচ একটা যাওয়ার জায়গা পাচ্ছে না।শেষে বাধ্য হয়ে আবার তন্ময়ের নাম্বারে ফোন দিল।ভেতরে থাকা সবটুকু রাগ এবার তন্ময়ের উপরে বেরিয়ে এলো,

“তোমার জন্য কেউ আমাকে নিজের বাড়িতে জায়গা দিচ্ছে না।সবাই শুধু আমাকে নোংরা বলছে,তোমার তো কিছু হচ্ছে না।তুমি তো নিজে বেশ সুন্দর ঘরে ঘুমিয়ে আছো।শোনো তন্ময় আমি আর কারো কাছে গিয়ে আশ্রয় ভিক্ষে চাইতে পারবো না।আমি তোমার ফ্ল্যাটে আসছি।”

জেসির কথাটা শুনতেই তন্ময় শোয়া থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসলো।আতঙ্কিত গলায় বলল,

“একদম এই কাজটা করো না জেসি।মিলি কেস করে দেবে আমাদের দুজনের নামে।”

জেসি চেঁচিয়ে উঠে বলল,

“তো কি করতে বলছো আমায়?কোথায় যাব আমি?”

তন্ময় এক হাতে মাথার চুল খাঁমচে ধরলো।অবশেষে বাধ্য হয়ে বলল,

“আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোমার একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি।তুমি আজ রাতটার জন্য কোন হোটেল থাকো,কাল সকালে আমি তোমার থাকার ব্যবস্থা করে দেব।”

“আমি আর কারো কাছে ভিক্ষে চাইতে পারবো না আশ্রয়।আমি তোমাকে পরিষ্কার ভাবে বলে দিচ্ছি যতদিন না আমার তোমার ফ্ল্যাটে ওঠার ব্যবস্থা করতে না পারছো আমি হোটেলেই থাকবো।”

“আচ্ছা ঠিক আছে তাই থেকো।আমি টাকা পাঠাচ্ছি।এখন রাগ করোনা।”

ফোনটা রেখে জেসির একাউন্টে তন্ময় দশ হাজার টাকা পাঠালো।এতগুলো টাকা পাঠাতে ভীষণ কষ্ট হলো তন্ময়ের।অনেক কষ্ট করে জমিয়েছিলে টাকাগুলো।একেই তো মিলির ছয় লাখ টাকা এখনো জোগাড় করতে পারেনি তার মাঝে আবার জেসির জন্য টাকা খরচ হচ্ছে।তন্ময় যেন মহা বিপদে পড়েছে।আর এই সব কিছু হয়েছে মিলির জন্য।কি দরকার ছিল অফিসে গিয়ে এসব নোংরা নোংরা কথা বলার?তারপরে সোজা জেসির বাড়িতে চলে যাওয়ারই বা কি দরকার ছিল?আর এর একটা বিহিত করতেই হবে।বেশি বার বেড়েছে মিলির।

বিজ্ঞাপন
রিক্ত বসন্ত গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সামাজিক ও পারিবারিক উপন্যাস