❝তোমায় একটা প্রশ্ন করব আজ?উত্তর আমায় দিতে হবে না তুমি বরং নিজেই একটু ভেবে দেখো।আমি কি খুব বেশি চেয়ে ফেলেছিলাম তোমার কাছে?আমার ইচ্ছে গুলো কি এতটাই অসম্ভব ছিল তোমার কাছে যে তুমি আমায় তার বদলে বিচ্ছেদ উপহার দিলে?
আমি তোমার থেকে একটু সময় চেয়েছিলাম,তুমি আমায় তোমার ব্যস্ততার গল্প শোনালে।আমি তো তাও মানিয়ে নিয়েছিলাম।কিন্তু যেদিন বুঝলাম যে আমার অংশের সময়টুকু তুমি অন্য কাউকে দিচ্ছ সেদিন আর নিজেকে সামলাতে পারিনি।খুব অভিমান হয়েছিল তোমার ওপর।কিন্তু তুমি তো সেটাও বুঝলে না।তোমার মনে আছে আমাদের দেখা হওয়ার যেদিন এক বছর পূর্ণ হয়েছিল আমি তোমার দেওয়া শাড়ি পড়ে তোমার সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম?তুমিও পাঞ্জাবি পড়েছিলে।
তোমায় কিন্তু সেদিন অসম্ভব সুন্দর লাগছিল।আমি দ্বিতীয়বারের মতো সেদিন তোমার প্রেমে পড়েছিলাম।আমার তখন শাড়ি পড়ার অভ্যেস ছিল না।হাঁটতে হাঁটতে যখন শাড়ির কুঁচিটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলো আমি বিরক্তি নিয়ে বলেছিলাম,আর কখনো আমি শাড়ি পড়বো না।তখন তুমি আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আমার শাড়ির কুচিগুলো ঠিক করে দিয়ে বলেছিলে,"তোমার শাড়ি ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব আমার।আমি তোমাকে শাড়িতে দেখতেই পছন্দ করি।তাই আর কখনো শাড়ি না পড়ার কথা বলবেনা।"আমি সেদিন মুগ্ধ হয়ে তোমার কথাগুলো শুনেছিলাম।ভেবেছিলাম এই মানুষটা আমায় কতটা ভালোবাসে!আর আজ কতগুলো দিন হলো তুমি আমায় শাড়ি পড়তে বলো না,একটু মুখ তুলে তাকাওনা আমার দিকে।জানো তন্ময় তোমার দৃষ্টিতে না এখন আর ভালোবাসা দেখতে পাই না আমি।আমাকে ভালোবেসে ছোঁয়ার প্রবণতা দেখিনা আমি।তুমি আমাকে ছুঁতে চাও ঠিকই তবে ভালোবেসে না।আমি রাত জেগে না খেয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে তোমার জন্য অপেক্ষা করতাম অথচ তুমি বাহির থেকে খেয়ে আসতে।কত রাত আমি না খেয়ে কাটি/য়েছি কিন্তু তুমি আমায় একবার জিজ্ঞেসও করোনি যে,মিলি তুমি খেয়েছো?আমি ভেবেছিলাম এই দূরত্বের কারণটা বোধহয় আমি নিজেই।আমার কোনো ভুলের কারণেই হয়ত তুমি আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছ।কিন্তু আমি না বুঝতে পারিনি যে আমাদের মাঝের দূরত্বটা এতোটাই বেড়ে গিয়েছে যে সেখানে তৃতীয় একজন প্রবেশ করেছে।তোমার করা অবহেলা,তোমার দেয়া যন্ত্রণা আমি সহ্য করে নিতাম।কিন্তু আমায় কষ্ট দিয়ে আমার অংশের ভালোবাসাটুকু তুমি অন্য কাউকে দিচ্ছ এটা আমি কিভাবে মেনে নিতাম বলো তো?তুমি তো বলেছিলে তোমার জীবনের প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা আমি।তাহলে কি সেসব মিথ্যে ছিল তন্ময়?আমি কি আদৌও কখনো তোমার জীবনের ভালোবাসা ছিলাম?বিয়ের পর কেন সবটা বদলে গেল?আমাদের ইচ্ছেগুলো তো সব এক ছিল।তাহলে বিয়ের পর কেন সেগুলো বিপরীত হয়ে গেল?
কেন এতটা অবহেলা তন্ময়?ভালোবাসা কি এতই সস্তা যে বিয়ের দুই বছরেই শেষ হয়ে গেল।বিয়ের আগে আমার করা ভুলগুলোও তোমার কাছে ঠিক লাগতো অথচ বিয়ের পর আমার করা ঠিক কাজগুলোও তোমার কাছে ভুল মনে হতো।বিয়ের আগে আমার বায়নাগুলোকে তুমি ভালোবাসতে,প্রশ্রয় দিতে।
অথচ বিয়ের পর আমার সেই বায়নাগুলো তোমার কাছে বিরক্তিকর লাগতো।এতটা পরিবর্তন একটা মানুষের কিভাবে হয়?আমিও তো তোমায় ভালোবেসেছি তন্ময়।কই আমার ভালোবাসা তো কমলো না।বরং তোমার এতো এতো অবহেলা করা সত্ত্বেও তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা বেড়েছে।তাহলে কি বিয়ে করাটাই আমাদের ভুল ছিল?
বিয়ে না করলে কি তোমার ভালোবাসা শেষ হয়ে যেত না?হ্যাঁ,হয়ত এটাই ঠিক।কেননা বিয়ের আগে তুমি ভাবতে যে আমি হয়ত হারিয়ে যাবো,হয়ত তোমায় ছেড়ে দেব।কিন্তু বিয়ের পর তুমি বুঝতে পারলে যে আমি কখনোই তোমায় ছেড়ে যাব না।তুমি ভাবলে আমার তো যাওয়ার জায়গাই নেই।থাকবেই বা কিভাবে?
নিজের হাতে সবটা নষ্ট করেছি।তোমার হাত ধরতে গিয়ে নিজের বাবা-মার হাত ছেড়ে দিয়েছি।আমি তোমার জন্য সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলাম তন্ময়।বিনিময়ে তোমার থেকে কিছুই পেলাম না।আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় হচ্ছে তোমার সাথে কাটানো আমাদের বিয়ের প্রথম দুটো বছর।খুব সাধ ছিল তোমার বউ হয়ে তোমার সংসার করার,কিন্তু পারলাম না।তুমি এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক ছিলে কিন্তু স্বামী হিসেবে তুমি ব্যর্থ।আমি চাইবো প্রতিটা মেয়ে যেন তোমার মতো একজন প্রেমিক পায়,কিন্তু কোনো মেয়ে যেন তোমার মতো স্বামী না পায়।আমি আজ চলে যাচ্ছি।তোমায় ছেড়ে,আমার সাধের সংসার ছেড়ে অনেকদূর চলে যাচ্ছি।আমার না বুকটা ফে*টে যাচ্ছে।আমার কষ্টটা আমি কাউকে বোঝাতে পারছি না।সকালে তোমায় জড়িয়ে ধরার পর আর ছাড়তে ইচ্ছে করছিলো না।তোমায় জড়িয়ে ধরলে এত শান্তি কেন পাই আমি?কি আছে তোমার মাঝে যেটা আজও আমায় শান্তি দেয়?আর তুমি শান্তি পাও অন্য নারীর স্পর্শে।আমি কিভাবে তোমার সাথে অন্য নারীকে সহ্য করি বলোতো?আমার সাজানো সংসার অন্য কেউ নিয়ে নিল আমি এটা কিভাবে মেনে নেই?যে বিছানায় আমি আর তুমি একসাথে ঘুমিয়েছি,যে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তুমি আমায় নিজের ভালোবাসার কথা বলেছো,যে রান্নাঘরে আমি তোমার জন্য রান্না করেছি সেই সব কিছুদিন পর অন্য কারো হয়ে যাবে এটা আমি কিভাবে সহ্য করব তন্ময়?
তোমার কি একটুও মায়া হয় না এখন আমার ওপর?তুমি পারলে আমায় রেখে অন্য একজনকে ভালোবাসতে?যে হাতে তুমি আমায় স্পর্শ করেছো সেই হাত দিয়ে অন্য নারীকে স্পর্শ করতে তোমার একটুও বুক কাঁপ/লোনা?আমার থেকে সীমাহীন ভালোবাসা পাওয়ার পরেও অন্য নারীর কাছে গিয়ে নিজের মিথ্যে অসহায়ত্বের গল্প শোনাতে তোমার লজ্জা করলো না?একটাবারের জন্যও তোমার আমার কথা মনে পড়ল না তন্ময়?তুমি নাহয় নাই ভালোবাসলে কিন্তু আমার ভালোবাসার কথা মনে করেও কি তুমি নিজেকে সামলাতে পারলে না?তুমি তো আমায় সব দিক থেকে নিঃস্ব করে দিলে!তোমার সংসার করব বলে নিজের পরিবারকে ছেড়েছি,চাকরি ছেড়েছি,নিজের শখ-আহ্লাদগুলো বিসর্জন দিয়েছি,তুমি হাসতে বললে হেসেছি,কাঁদতে বললে কেঁদেছি,তুমি তোমার জীবনে যখন আমায় চেয়েছিলে আমি তখন এসেছিলাম আবার আজ যখন তুমি আমায় চাইছোনা তখন বেড়িয়ে গেলাম।সবকিছুই তো তোমার ইচ্ছেমতোই করেছি।তুমি তো আমায় ভুলে আবার নতুন করে সংসার করবে কিন্তু আমি কিভাবে তোমায় ভুলি?আমার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা তো আমি তোমায় দিয়েছিলাম।সেখানে আর অন্য কে দেওয়ার জন্য কিছুই অবশিষ্ট নেই।তুমি আমার জীবনটা এভাবে শেষ করলে?আমার নিজের বলতে এখন চোখের জল ছাড়া আর কিছুই নেই।না ভুল বললাম।আমার সন্তান আছে।হ্যাঁ,ও শুধু আমার সন্তান।জানো আমি চাই যেন আমার একটা ছেলে হয় যাকে আমি আমার শিক্ষায় বড় করবো।যে কোনো স্ত্রীর গর্ব হবে,কোনো সন্তানের গর্ব হবে,আমি যার গর্বিত মা হবো।
যদি আবার কখনো আমাদের দেখা হয় সেদিন তুমি আমার সাথে একটু ভালো করে কথা বলো!কিন্তু আমায় জিজ্ঞেস করবে না যে আমি কেমন আছি।আমিও তোমায় জিজ্ঞেস করব না যে তুমি কেমন আছো।কারণ আমরা দুজনেই জানি যে আমরা কেমন আছি।তুমি তো জানো যে আমি তোমায় ছাড়া কখনোই ভালো থাকতে পারি না।আর আমি তো জানি যে আমার তন্ময় ভালো থাকার জন্যই আমায় ছেড়ে দিয়েছিল।দেখেছো,আমি আজও বোকার মতন তোমায় আমার বলে সম্মোধন করলাম।অথচ তুমি কখনো আমার ছিলেই না।চিঠিটা লেখার সময় বারবার ভিজে যাচ্ছিলো আমার চোখের পানিতে।তুমি বুঝতেও পারবে না এই চিঠিটা লিখতে আমার কতটা কষ্ট হয়েছে।ভালো থেকো তুমি।আমি অনেক দূরে চলে যাচ্ছি,আরো দূরে চলে যাব।আর কখনো হয়ত আমাদের দেখা হবে না।আমি আমাদের সংসার থেকে শুধু একটা জিনিসই নিয়ে যাচ্ছি।আমাদের বিয়ের ছবি।যে ছবিতে তুমি তোমার দুহাত আমার কোমরে রেখে,আমার কপালে আলতো করে তোমার ঠোঁট ছুঁয়ে দিচ্ছিলে।আর আমি তোমার বুকে হাত রেখে চোখদুটো বন্ধ করে পরম আবেশে তোমার ঠোঁটের স্পর্শ অনুভব করছিলাম।তুমি জেনে বুঝে আমার হৃদয়ে আ*ঘাত করেছো।কিন্তু তুমি বুঝলেই না যে হৃদয়ে আঘাত করে তুমি সেটা ক্ষতবিক্ষত করে দিলে সেখানে কেবলমাত্র তোমার প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা ছিল,সেখানে কেবল তুমি ছিলে।তুমি ভাবছো আমি হেরে গেছি?
হ্যাঁ,আমি সত্যি হেরে গেছি।কিন্তু আমি এমনভাবে হেরে গেছি যে তুমি জিতেও একদিন পস্তাবে।আমি জানি তুমি একদিন অবশ্যই পস্তাবে।তুমি বুঝবে তন্ময় যে আজ তুমি কাকে হারালে।বুঝতে তো তোমাকে হবেই নাহলে যে আমার আল্লাহর দরবারে আমার সকল অভিযোগ,আমার বিসর্জন দেওয়া সকল অশ্রু মিথ্যে হয়ে যাবে।যার জন্য আজ তুমি আমায় জীবন্ত লাশ বানিয়ে ছাড়লে সে তোমাকে এর থেকেও জঘন্য ভাবে একদিন ছুঁড়ে ফেলে দেবে।আমি হয়ত তোমায় আমার গুরুত্ব কিংবা প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে পারিনি কিন্তু জেসির অবহেলা তোমায় বোঝাবে।আজ আমি যতটা কাঁদছি একদিন তুমি এর থেকেও অনেক বেশি কাঁদবে আমি জানি।তোমার চোখের পানি ফুরিয়ে যাবে কিন্তু তোমার কষ্ট আর আফসোস ফুরাবে না।তুমি যেন ভালো থাকো সেই দোয়া আমি করলাম ঠিকই তবে দেখো আমার এই দোয়াটা কবুল হবে না।তুমি একদিন খুঁজবে আমায় তন্ময়,পা/গলের মতন খুঁজবে।
আর সেই দিন আমি তোমাকে বোঝাবো অবহেলা কাকে বলে।আরেকটা কথা নিজের অযত্ন করোনা।তোমায় অনেকদিন বাঁচতে হবে।আমার বলা প্রত্যেকটা কথা বাস্তবে রুপ লাভ হতে দেখার জন্য তোমায় বাঁচতে হবে।তোমার বুক চিরে একের পর এক দীর্ঘশ্বাস বেড়োনোর জন্য তোমায় বাঁচতে হবে।চিঠির শুরুতেও তোমায় কিছু বলে সম্মোধন করিনি,চিঠির শেষে আমাকেও কিছু বলে সম্মোধন করলাম না।নিজেকে বা তোমাকে এখন ঠিক কি বলে সম্মোধন করবো সেটাই বুঝতে পারছিনা।
নিজের পরিচয় ভাবতে গেলে এখন মাথায় অনেক কিছু চলে আসে।আমি কে জানো তন্ময়?আমি সেই বাগানের ফুল যা তুমি নামক এক নিষ্ঠুর মালির অযত্নে ঝরে গেছে।আমি সেই রঙিন প্রজাপতি যে তোমার ভালোবাসায় নিজের সমস্ত রং হারিয়েছে।আমি সেই তৃষ্ণার্ত পথিক,যে তোমার থেকে এক বিন্দু পানি পাওয়ার আশায় ছটফট করেছে।আমি সেই শুকনো গোলাপের পাপড়ির মতো যাকে তুমি যত্ন করে বইয়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছিলে,কিন্তু পরে অযত্নে তার কথা ভুলে গিয়ে আবার নতুন গোলাপের পাপড়ির খোঁজে বেড়িয়ে পরেছিলে।আমি সেই গ্রীষ্মের রোদের তাপে পুড়ে যাওয়া চারা গাছের মতো,যে তোমার থেকে একটু ছায়া চেয়েছে।আমি সেই তীব্র শীতে জমে যাওয়া পাখির মতো যে তোমার থেকে একটু উষ্ণতা চেয়েছে।আমি সেই ভাঙা গিটারের মতো,যে তোমার ছোঁয়ায় নিজের সুর হারিয়েছে।আমি যুদ্ধের ময়দানের সেই পরাজিত সৈনিকের মতো,যে নিজের হার জানা সত্ত্বেও তোমাকে আবারো জয়ের চেষ্টা করেছে।আমি সেই হাজার হাজার ব্যর্থ স্ত্রীদের মতো,যে নিজের সবটুকু ভালোবাসা দিয়েও তার স্বামীকে নিজের করে রাখতে পারেনি।শেষ একটা কথা বলি তোমায় তন্ময়,আমি তো তোমার জীবন থেকে চলেই যাচ্ছি।
তোমায় কথাও দিচ্ছি কখনো আর কোনো রকম কোনো অভিযোগ কিংবা দাবি নিয়ে তোমার জীবনে পা রাখবো না।আর তুমি জানো আমি যেটা কথা দেই সেই কথা রাখি।আমাদের তো এখনো তালাক হয়নি।এটা না হয় না হোক।আমি তোমাকে দেওয়া আমার কথাটা রাখতে চাই।আমি তোমায় বলেছিলাম যে সারা জীবন তোমার স্ত্রী এর পরিচয়ে বাঁচবো।আমি আমার সেই কথাটা রাখতে চাই।তালাক দিও না আমায়।বিয়ে করে নিও।
আমি কখনো কোন দাবি নিয়ে তোমার সামনে দাঁড়াবো না।নিজের খেয়াল রেখো।❞
চিঠিটা পড়ে সেটা আবার ভাঁজ করে পূর্বের জায়গায় রেখে দিল তন্ময়।অবাক হলো না।কেননা তন্ময় জানতো আজ হয়তো আর বাড়ি গিয়ে মিলি কে পাবে না।সেটাই সত্যি হলো।নিজের অনুভূতির ব্যাপারে তন্ময় নিজেও বেশ দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছে।তবে এত দ্বিধা দ্বন্দ্ব কেন?তন্ময়ের তো এখন খুশি হওয়ার কথা ছিল।মিলি চলে গেছে মানে তন্ময়ের জীবন থেকে সব থেকে বড় ঝামেলাটা চলে গেছে।তাহলে তো তন্ময়ের খুশি হওয়ার কথা।এখন তো জেসি কে পাওয়ার পথে আর কোনরূপ বাঁধা নেই।
তবে হ্যাঁ এটাও ঠিক যে কষ্ট হচ্ছে না।তবে মিলির লেখা শেষের কয়েকটা লাইন পড়ার সময় কেন যেন হাতটা কাঁপছিল তন্ময়ের।মিলি কে কাগজে-কলমে ডিভোর্স দেয়ার কথা তো কখনো তন্ময়ের মাথা তে আসেনি।এই যে তন্ময় টাকাগুলো দিলো মিলি চাইলেই খুব সহজে অস্বীকার করতে পারতো,কেননা কোনো সাক্ষ্যী,প্রমাণ নেই।মিলি যদি কেস করত তবে তন্ময় বেশ বিপদে পড়তো কিন্তু মিলি সেসব করেনি।আচ্ছা ডিভোর্স দেয়াটা কি খুব জরুরী?তন্ময় এর উত্তর জানে না।অবশ্য এখন ডিভোর্স পেপার পাঠাবেই বা কোন ঠিকানায়?মিলি কোথায় আছে সেসব তো তন্ময় জানেনা।আচ্ছা মিলি কোথায় এখন?মেয়েটা কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছে?ও ঠিক আছে তো?একটা নিরাপদ জায়গায় আছে তো?হঠাৎ করে এসব চিন্তা তন্ময়ের মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।ভাবলো একবার জ্যোতি কে জিজ্ঞেস করা যায়।ও নিশ্চয়ই জানবে যে মিলি কখন গিয়েছিল।অনেক আমতা আমতা করে শেষে জ্যোতির ফ্ল্যাটে গেল।কলিং বেল বাজাতেই কিছু সময় পর জ্যোতি এসে দরজা খুলে দিল।তন্ময় কে দেখতেই রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।অগ্নি দৃষ্টিতে তন্ময়ের দিকে তাকিয়ে হুংকার ছেড়ে বলল,
“কোন সাহসে আমার ফ্লাটে এসেছেন আপনি?চোখের সামনে থেকে দূর হন।”
কথাটা বলে জ্যোতি ফ্ল্যাটের দরজা লাগিয়ে দিতে ধরলে তন্ময় বাঁধা দিল।নরম গলায় বলল,
“এক মিনিট।শুধু জানার ছিল যে মিলি কখন বেরিয়েছে?”
জ্যোতি পুনরায় হুংকার দিয়ে বলল,
“কি করবেন সে সব জেনে?আপনার কি আদৌ মিলির সাথে কোন লেনাদেনা আছে?লজ্জা করে না তাই না?এত কিছু করার পরেও ওর খোঁজ করছেন কোন মুখে?নির্লজ্জ,বেহায়া লোক কোথাকার।আর যদি কখনো আমার ফ্ল্যাটের দরজায় আপনাকে দেখেছি আমি কিন্তু কমপ্লেইন করবো আপনার নামে।বলবো যে আপনি আমায় বিরক্ত করেন যখন তখন ফ্ল্যাটে এসে।আর আপনার যে স্বভাব চরিত্র সবাই বিশ্বাসও করে নেবে সে কথা।”
কথাটা বলে জ্যোতি তন্ময়ের মুখের উপরে ঠাস করে ফ্ল্যাটের দরজাটা বন্ধ করে দিল।তন্ময় রাগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করল।এই অপমানের জন্য আরো একবার মিলিকেই দায়ী করলো।কে জানে সবাইকে কি সব আজেবাজে কথা বলেছে যার কারণে যে যা পারছে তাই বলে অপমান করে যাচ্ছে?ঘরের কথা বাইরে বলে বেড়াতে হবে কেন?কি দরকার ছিল এসব কথা পাঁচ কান করার?ওরা কি নিজেরা নিজেদের মাঝে সব সমাধান করে নিতে পারত না?মুহূর্তের মাঝে মিলির জন্য সব চিন্তা ভুলে গেল তন্ময়।ভাবলো কি আর হবে?নিশ্চয় কোন যাওয়ার জায়গা ঠিক করেই রেখেছিল।