রিক্ত বসন্ত

পর্ব - ১৪

🟢

চারটে বছর পর নিজের বাড়িতে পা রাখলো মিলি।অনুভূতিটা ভীষণ অদ্ভুত।চেনা জায়গাটা আজ ভীষণ অচেনা মনে হচ্ছে।নিজের বাড়ি তে আজকে অস্বস্তি হচ্ছে।নিজেকে আর এ বাড়ির সদস্য মনে হচ্ছে না।মনে হচ্ছে অতিথি কিংবা দয়া করে আশ্রয় পাওয়া কোন আশ্রিতা যে নিজের করুন সময়ে এবাড়ির মানুষগুলোর কাছে একটু আশ্রয় চেয়েছে।তারাও সহৃদয়বান এর পরিচয় দিয়ে মিলিকে আশ্রয় দিয়েছে নিজেদের বাড়িতে।এই বাড়িতে মিলি কতদিন থাকবে জানে না তবে হ্যাঁ যতটা তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বাড়ি থেকে চলে যেতে চায়।কোনোমতে যদি নিজের একটা আশ্রয়স্থল খুঁজে বের করতে পারে তবে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে।খুব বেশি বিরক্ত করবেনা এবাড়ির মানুষগুলোকে।মাহবুব পুরো বাড়িটা খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে।মিলির পছন্দের ফুল দিয়ে সাজিয়েছে।ছোটবেলায় মিলির জন্মদিনেও ওর পছন্দের ফুল দিয়ে পুরো বাড়ি সাজানো হতো।আজকেও তাই করেছে মাহবুব।মিলি মাহবুব কে জিজ্ঞেস করল আজকেও কেন এই ফুল দিয়ে বাড়িটা সাজিয়েছে?আজ তো মিলির জন্মদিন না।মাহবুব আলতো হেসে বলল,

“আজকেও তোর জন্মদিন।আমি সত্যিই জানিনা যে তোর সাথে কি হয়েছে কিন্তু আমি বুঝতে পারছি তুই সব ছেড়ে এসেছিস।তার মানে কি আজকে তোর জন্মদিন না?আজ থেকে তোর জীবনের একটা নতুন যাত্রা শুরু তার মানেই তো আজ তোর জন্মদিন।”

মিলি হাসলো।নিজের কাছে তো আজ ওর মৃত্যু দিবস মনে হচ্ছে আর মাহাবুব কিনা ওর জন্মদিন ভেবে পালন করছে আজকের দিনটাকে?হাসি পেল মিলির।

জাহিদ চৌধুরী বিশ্রামহীন ভাবে ড্রয়িং রুমে পায়চারী করে যাচ্ছেন।ছেলের সাথে তিনি কোনমতেই পেরে উঠছেন না,কোনমতেই নিজের সিদ্ধান্তের সাথে ছেলেকে একমত করতে পারছেন না।ওনার কথা অমান্য করে মাহবুব মিলিকে এগিয়ে আনতে গিয়েছে।ঘরের ভেতরে আগেই পা রাখার সাহস হলো না মিলির।দরজায় দাঁড়িয়ে দেখল জাহিদ চৌধুরী বিরতিহীনভাবে পায়চারী করে যাচ্ছে।চোখমুখে তার কাঠিন্য ভাব।দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভীষণ রেগে আছে,সেই সাথে বিরক্তও।মিলি জানে কখন তিনি এভাবে পায়চারী করেন।যখন তার মনের মতন কোন কিছু না হয়,যখন তার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না বা তিনি নিজের সম্মানহানির কথা ভাবেন ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি এমন অস্থির বোধ করেন।

মিলিকে দেখেই মিথিলা ছুটে এলো।চারটে বছর পর মেয়েকে দেখল।সন্তানেরা যতই অপরাধ করুক না কেন মা বোধহয় তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারেন না।যদি একটু তাদেরকে কষ্টে দেখে তবে নিজের সব অভিমান,সব দুঃখ ভুলে গিয়ে তাদেরকে আপন করে নিতে চায়।মেয়েকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি।সারা মুখে অজস্র চুমু খেলেন।মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন,আর্তনাদ করলেন মিলির ভুলের জন্য।

জাহিদ চৌধুরী এক জায়গায় স্থির হলেন।মাহবুব বুঝতে পারছে না যে এখন কি হবে।এতক্ষণ যা বলেছেন সেগুলো না হয় মিলির কান অব্দি যায়নি কিন্তু এখন তো মিলি সব শুনবে।মাহবুব পিউকে ইশারা করলো মিলিকে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার জন্য।পিউ মিলিকে সোজা ওর ঘরে নিয়ে যেতে ধরলে মিলি থামল।থামলো বললে অবশ্য ভুল হবে জাহিদ চৌধুরী সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।ওনার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস হলো না,নাকি লজ্জায় তাকাতে পারলো না সে সব জানে না মিলি।তবে ওনার চোখে মুখে মেয়ের জন্য একটুও ভালোবাসা দেখা যাচ্ছে না।একটুও করুণা সেখানে নেই।আছে শুধু রাগ আর ঘৃণা।

“কেন এসেছো এই বাড়িতে?”

মাহবুব কিছু বলতে নিলে মিলি ওকে থামালো।মিলি নিজেও জানে যে ওর এসব প্রাপ্য।

“বাবাকে বলতে দাও ভাইয়া।আমার এইসব প্রাপ্য।বলো বাবা কি বলতে চাও।”

জাহিদ চৌধুরী হুংকার দিয়ে বললেন,

“খবরদার আমায় বাবা বলে ডাকবে না।আমার একটা মেয়ে ছিল কিন্তু চার বছর আগে সে আমার কাছে ম/রে গেছে।তার জানাজা হয়ে গেছে আমার কাছে আর আমি তাকে এতটাই ঘৃণা করি যে কখনো তার মৃত্যু নিয়ে আফসোস অব্দি করিনি।”

মিলি যতই চুপ করে থাকতে বলুক না কেন মাহবুব চুপ থাকতে পারলো না।রাগী গলায় বলল,

“এসব কি ধরনের কথা?তুমি কিন্তু রাগের মাথায় ভুলভাল কথা বলছো বাবা।”

জাহিদ চৌধুরী ছেলেকে পাল্টা রাগ দেখিয়ে বললেন,

“ভুল ঠিক এখন আমি তোমার থেকে শিখব?আর এই যে মেয়ে তোমায় বলছি যার হাত ধরে চলে গিয়েছিলে এই বাড়ি ছেড়ে,আমাদের সবাইকে ছেড়ে আজ।সে তোমার হাত ছেড়ে দিল?আবার দিলোই যখন আমাদের কাছে ফিরে আসতে লজ্জা করল না?কোন মুখে পা রাখলে তুমি এই বাড়িতে?খুব তো বড় মুখ করে বলে গিয়েছিলে ওই ছেলের সাথে সংসার করবে,সুখে থাকবে তা আজ কি হলো?মনে পড়ে তখনকার আমাদের বলা কথাগুলো।হাজার বার করে বলেছিলাম যেওনা।ওর মতন নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে তোমার কদর করতে পারবে না।ওদের সাথে আমাদের ভাবনা,স্ট্যাটাস কিচ্ছু মিলবে না।শুনেছিলে তখন আমাদের কথা?তবে আজ স্বার্থপরের মতন বিপদে পড়ে আমাদেরকেই আবার দরকার পড়লো কেন?”

চোখ বন্ধ করে খুব কষ্টে মিলি কথা গুলো হজম করলো।প্রতিটা কথা একদম বুকে আঘাত করছে।মিলির তো এখন মনে হচ্ছে এর থেকে তন্ময়ের কথাগুলো ওকে কম আঘাত করতো।

“আমি জানি বাবা আমি অপরাধ করেছি।আমি ক্ষমা চাইছি তোমাদের কাছে।আর আমি এখানে সারা জীবন জন্য থাকবো না।কয়েকটা দিন আমার সময় দাও। আমি নিজের একটা ব্যবস্থা করেই চলে যাব।”

“কেন সময় দেবো তোমায় কয়েকটা দিন?আমার বাড়িতে তোমায় কয়েকটা দিন রাখবো কেন আমি?তোমার জন্য আমার মান সম্মান শেষ হয়ে গেছে।আত্মীয়-স্বজনের সামনে মুখ দেখাতে পারি না।আমার মেয়ে,চৌধুরী বংশের মেয়ে,জাহিদ চৌধুরীর মেয়ে কিনা একটা ছোটলোক ঘরের ছেলের হাত ধরে পালিয়ে বিয়ে করেছিল।এই সোসাইটি তে তুমি আমায় মুখ দেখানোর অবস্থায় রাখোনি।আমি তোমাকে স্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছি আমার বাড়িতে তোমার কোন জায়গা হবে না।”

মাহবুব এগিয়ে এসে মিলিকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে বলল,

“তুমি একা এই সিদ্ধান্তটা নিতে পারো না বাবা।এই বাড়িতে আমরা সবাই থাকি।আমাদের সিদ্ধান্তেরও তো একটা গুরুত্ব আছে।”

“এই বিষয়ে নেই।”

“তুমি কিন্তু আমায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছ।তুমি যদি এমন ব্যবহার করতে থাকো আমি কিন্তু মিলিকে নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হব।তখন কিন্তু আমিও আর এই বাড়িতে পা রাখবো না।”

জাহিদ চৌধুরী তাচ্ছিল্য হেসে মিলি কে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“নিজে তো আমাদেরকে পর করে দিয়ে চলে গিয়েছিলে এখন ফিরে এসে আবার ছেলেকেও পর বানাতে চাইছো।চাও কি তুমি বলোতো?তোমার কি জন্মই হয়েছিল আমাদের ধ্বংস করার জন্য,এই পরিবারের অশান্তি করার জন্য?আগে যদি জানতাম যে তুমি আমাদের পরিবারে এভাবে অশান্তি করবে,এভাবে আমার সম্মান নষ্ট করবে তাহলে তোমাকে জন্মই দিতাম না।”

মাহবুব অনেক কষ্ট নিজের রাগটুকু সংযত করে পিউ কে উদ্দেশ্য করে আদেশের গলায় বলল,

“মিলিকে নিয়ে ঘরে যাও পিউ।এক্ষুনি যাবে।আর দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেবে যেন বের হতে না পারে ও।”

মাহবুবের কথা অনুযায়ী পিউ মিলি কে নিয়ে যেতে চাইলো তবে মিলি যেতে চাইলো না।মাহবুব বকাঝকা করলো তবুও গেল না।ঠিক যেমন করে মাহবুবের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছিল তেমন করে জাহিদ চৌধুরীর পা ধরেও ক্ষমা চাইলো।পায়ের কাছে বসে দু হাতে পা দুটো ধরে ক্রন্দনরত গলায় বলল,

“আমি তোমাদের কাছে একটু আশ্রয় ভিক্ষে চাইছি বাবা।আমার কোন যাওয়ার জায়গা নেই।আমি একা হলে নিজেকে নিয়ে এত ভাবতাম না।আমি একা হলে হয়তো বাঁচার ইচ্ছেটাই থাকতো না।কিন্তু আরেক জনকে জন্ম দেয়া যে আমার দায়িত্ব।ওর জন্য তো নিজেও ম/রতে পারছি না।কয়েকটা দিন আমায় থাকতে দাও বাবা।তুমি তো নিজে একজন বাবা তুমি তো বোঝো সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা।আমি ওকে নিয়ে কোথায় যাবো বলো?”

জাহিদ চৌধুরী তার কন্ঠে গাম্ভীর্যতা বজায় রেখে বললেন,

“পা ছাড়ো আমার।”

মিলি ছাড়লো না।এবার শব্দ করে কেঁদে উঠলো।মিলির চোখের জলে জাহিদ চৌধুরীর পা দুটো ভিজিয়ে দিল।মনটা তো তারও কাঁদছে কিন্তু তার বোধহয় সম্মান নিয়ে একটু বেশি চিন্তা।হৃদয়টাও বোধহয় একটু বেশি পাষাণ হয়ে উঠেছে।আদরের মেয়ে ছিল যে মিলি,সেই আদরের মেয়ে যখন এতটা কষ্ট দিয়েছে,সম্মান শেষ করেছে হৃদয়টা যে পাথর হয়ে যাবে এটাই তো স্বাভাবিক।

“আমায় একটু ভালোবাসো না বাবা।আমার জীবনে এখন আর কোনো ভালোবাসা নেই।আমার জীবনে এখন আছে শুধু অপরাধবোধ।তন্ময় বদলে গেছে বাবা। তোমরা ঠিক বলেছিলে আমি ভুল ছিলাম।ও এখন আমায় ভালোবাসে না,আমার বাচ্চাটাকেও ভালোবাসে না,মে/রে ফেলতে চেয়েছিল আমার বাচ্চাটাকে।অনেক যাওয়ার জায়গা খুঁজেছি কিন্তু তোমরা ছাড়া আর কাউকে পাইনি।আমার একটু ভালোবাসার দরকার বাবা।আমায় একটু ভালোবাসা দাও না।আমার বাচ্চাটার কেউ নেই আমি ছাড়া,ওর বাবা নেই।ওকে একটু তোমাদের ভালোবাসা দেবে?একটা সুস্থ পরিবেশে আমায় একটু বড় করে তুলতে দেবে ওকে?ক্ষমা করে দাও আমায় বাবা।ছোটবেলায় কত ভুল ক্ষমা করে দিয়েছো,তোমার মেয়ের শেষ একটা ভুল ক্ষমা করতে পারবে না?দাওনা আমায় ক্ষমা করে।কোথায় যাব আমি এখন?”

উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষকে অবাক করে দিয়ে জাহিদ চৌধুরী নিজেও এবারে কেঁদে উঠলেন।পেছনে থাকা সোফার উপরে ধপ করে বসে পড়লেন।উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষের চোখে পানি দেখা দিল।কেউ শব্দ করে কাঁদছে তো কেউ নিঃশব্দে কাঁদছে।মিলি এখনো মেঝের উপরে ঠাঁয় বসে আছে।জাহিদ চৌধুরী কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

“আরে মেয়েটা তো আমার,আমার কি কষ্ট হয় না?আমি যে ঠিক কতটা কষ্ট নিয়ে আমার মেয়েকে কথাগুলো বলছি সেগুলো তো কেউ বুঝবে না।আমি কি আমার মেয়ের খারাপ চেয়েছিলাম?ওর সুখের জন্যই তো অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।আমি মানুষ চিনি।ছোটবেলা থেকে এত আদর ভালোবাসা দিয়ে যাকে বড় করে তুললাম সে তার দু দিনের ভালোবাসার জন্য আমার সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে চলে গেল।লোকসমাজে মুখ দেখাতে পারিনা আমি।”

মিলি চুপচাপ কথাগুলো শুনলো।একটা কথাও ভুল বলেনি ওর বাবা।মিলি এখন এই কথাটা বিশ্বাস করে যে ওর কাছের মানুষগুলোকে কষ্ট দেওয়ার জন্যই বোধহয় আজ ও কষ্ট পাচ্ছে।আজ তন্ময় মিলিকে কষ্ট দেয়ার জন্য যেমন মিলি ভাবছে যে তন্ময় একদিন ঠিক কষ্ট পাবে ঠিক তেমনি মিলিও এই মানুষগুলোকে একদিন কষ্ট দিয়েছিল আর তার পরিবর্তে আজ মিলি নিজেও কষ্ট পাচ্ছে।কিন্তু কি করতো?তখন তন্ময় তো এমন ছিল না।মিলি কি করে সবাই কে বোঝাবে আজকের তন্ময় আর সেই তন্ময় যে দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ।যারা তন্ময়ের সেই পাগলামি গুলো দেখেছে তারা তন্ময়ের এখনকার রূপের কথা বিশ্বাসই করতে চায় না।মিলি আবারো অপরাধী গলায় বলল,

“আমি জানি বাবা আমি ভুল করেছি কিন্তু আর কিভাবে ক্ষমা চাইবো বলো?আমি আর সহ্য করতে পারছি না।আমার চোখের জল শুকিয়ে গেছে।আর কাঁদতে পারছি না আমি।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।তোমাদেরকে যতটা না কষ্ট দিয়েছিলাম তার থেকেও হাজার গুণ বেশি কষ্টে এখন আমি আছি।আমার শাস্তি কি যথেষ্ট হয়নি?যাকে ভালোবেসে ছিলাম তার ভালোবাসা হারিয়েছি,আমার সংসার হারিয়েছি,সম্মান হারিয়েছি,সবার কাছে অবহেলার পাত্রী হয়েছি। এগুলো কি আমার যথেষ্ট শাস্তি নয়?এখন কি চাইছো ম/রে যাই?”

মিথিলা এবার স্বামীর দিকে এগিয়ে গেলেন।অনুনয়ের গলায় বললেন,

“ক্ষমা করে দাও আমার মেয়েটাকে।ও নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে।এটাতো আমারও সংসার বলো। আমার সিদ্ধান্তর কি কোন মূল্য নেই এখানে?ক্ষমা করে দাও অনুরোধ করছি তোমায়।”

জাহিদ চৌধুরী মেয়ের দিকে তাকালেন।স্বভাবসুলভ গম্ভীর গলায় বললেন,

“বেশ ক্ষমা করব তোমায়।তবে আমার একটা কথা রাখতে হবে?”

বিজ্ঞাপন

মিলির মনে একটা ক্ষুদ্র আশার আলো দেখা দিল। অবশেষে জাহিদ চৌধুরী ক্ষমা করতে রাজি হয়েছেন।বিনিময়ে তিনি কিই বা চাইবেন?মিলির কাছে দেওয়ার মতন আছেই বা কি?নিশ্চয়ই খুব সহজ কিছুই চাইবেন যা মিলি সহজেই দিয়ে দিতে পারবে।

“হ্যাঁ বাবা বল কি চাও?তুমি যা চাইবে আমি তোমাকে তাই দেবো।তুমি শুধু আমায় ক্ষমা করে দাও।”

“ওই জানোয়ারের বাচ্চার কোন অংশ আমি আমার বাড়িতে রাখবো না।নিজের জীবনটা আবার নতুন করে শুরু করো।সংসার স্বামী সব যখন হারিয়েছো বাচ্চাটাকে রেখে কি করবে?ওই ছেলের মায়া যখন ছেড়ে আসতে পেরেছো এই বাচ্চাটার মায়াও ছাড়তে পারবে।ভুলে যাও বাচ্চাটার কথা।আমি তোমার ভালো একটা জায়গায় বিয়ে দেবো।নতুন করে তুমি সংসার করবে সব ভুলে গিয়ে।”

জাহিদ চৌধুরী কথায় সায় জানিয়ে মিথিলা বলে উঠলো,

“হ্যাঁ মা তোর বাবার কথা শোন।বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেল।এই বাচ্চাটার জন্য তোর জীবনটা থমকে যাবে,নষ্ট হয়ে যাবে তোর পুরো জীবন।কতই বা বয়স হয়েছে তোর?জীবনের কি দেখেছিস এখনই তুই?তোর বাবার কথা শোন।আমরা ভালো একটা ছেলে দেখে তোর বিয়ের ব্যবস্থা করে দেব।এবারে আর আমাদের কথার অমান্য করিস না মা।”

মিলি বাক শক্তি হারিয়ে ফেলল।কথা বলার মতন শব্দ খুঁজে পেল না।মিলি অবাক দৃষ্টিতে নিজের মা বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।যে মানুষগুলো নিজে মা-বাবা তারা কি করে অন্য একজন মা কে নিজের সন্তানকে মে/রে ফেলার কথা এভাবে অকপটে বলে দিতে পারল?এই বাচ্চাটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই তো তন্ময়ের সাথে কত অশান্তি করলো,গায়ে হাত তুলল,এই বাচ্চাটার কথা ভেবেই তো শেষ কয়েকদিন নিজের সংসার টাও বাঁচানোর চেষ্টা করল।আর আজকে এখানে এসেও সেই একই কথা শুনতে হচ্ছে।ওই ছোট্ট একটা বাচ্চা মিলির ভবিষ্যতে কি সমস্যা তৈরি করবে?আর সংসার!সবেমাত্র একটা সংসার ভাঙলো এর মাঝে আবার সংসার করার কথা বলছে কিভাবে?ওরা কি বুঝতে পারছে না যে এখন মিলি এসব কথা শোনার মতন মানসিকতাই নেই?

“তোমাদের কাছে আমার বাচ্চাটাই বেশি হয়ে গেল?তোমরা আমাকে মেনে নিতে পারছো কিন্তু আমার বাচ্চাটাকে মেনে নিতে পারছ না?ওর অপরাধ ওর শরীরে তন্ময়ের র/ক্ত বইছে এটাই?আর আমি যে ওকে আমার গর্ভে ধারণ করছি তার কোন মূল্য নেই?”

মিথিলা বেগম উঠে মেয়ের পাশে এসে বসলেন।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বোঝানোর ভঙ্গিতে বললেন,

“তুই বুঝতে পারছিস না মা আমরা তো ভালোর জন্য বলছি।এই বাচ্চাটা থাকলে কি তোর ভালো কোন জায়গায় বিয়ে দিতে পারব?তোর বাকি জীবনটা কাটবে কি করে একা একা?আমরা মা-বাবা,ভাই কতদিন থাকবো?তারপর তোর কি হবে ভেবেছিস একবারও?”

মিলি মাথা থেকে মিথিলার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলল,

“আমার বাচ্চাটা ছাড়া তো আমি আমার পরবর্তী জীবনের কথা ভাবতেও পারছি না মা।আমিতো শুরুতেই বললাম ও না থাকলে আমি বাঁচার ইচ্ছেটাই হারিয়ে ফেলতাম।যে আমার বাঁচার কারণ তোমরা তাকে মে/রে ফেলতে বলছো?তোমরা কি বুঝতে পারছ না যে আমি আর কখনো এসব সংসারে জড়াবো না?তোমরা আমার বাচ্চা কে মে/রে ফেলার কথা বলতে পারো না মা।এই অধিকার আমি কাউকে দেইনি,এমনকি ওর বাবা কেও না।”

জাহিদ চৌধুরীর অভিব্যক্তি আবারো বদলে গেল। পুনরায় ক্ষিপ্ত কন্ঠে মাহবুবকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“শুনেছো তোমার বোনের কথা?ও এখনো বদলায়নি।আজও ও আমাদের সিদ্ধান্তের অবাধ্যতা করছে,আজও আমাদের সিদ্ধান্তের উপর প্রশ্ন তুলছে। ও কোনদিনও ভালো হবে না।আমাদের সিদ্ধান্তগুলো সব সময় উপেক্ষা করে চলে,অপমান করেছে।আমরা কি ওর খারাপের জন্য এই কথাটা বলেছি?”

মাহবুব পাল্টা রাগ দেখিয়ে বলল,

“তোমাদেরই বা এখনই এসব আলোচনা করা কি খুব দরকার?কারো মানসিক অবস্থা বোঝো না তোমরা?আমি তো তোমাদের কথাবার্তা শুনে অবাক হচ্ছি।ও বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়িতে পা রেখেছে,একেবারের জন্য শেষ করে দিতে চাইছো?

“ভুল কিছুই বলিনি ওকে।শেষ একটা সুযোগ দিয়েছিলাম এ বাড়িতে থাকার।আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি,ওই জানোয়ারের বাচ্চার কোন অংশ আমি আমার বাড়িতে রাখবো না।আর তোমার বোনের জীবনটা নতুন করে শুরু করার কথা বলে আমি কোন অন্যায় করিনি।ও এই বাড়িতে তখনই থাকতে পারবে যখন আমাদের কথায় রাজি হবে।আমি আর আমার সম্মান নষ্ট করতে পারবো না।ওর জন্য আবারো লোকে কথা শোনাবে।আমার কাছে আমার সম্মান সবার আগে।”

কথাটা বলে জাহিদ চৌধুরী ভিতরে চলে গেলেন। মিলিও আর আটকালেন না ওনাকে।মিথিলা সমানে মিলিকে বোঝাতে লাগলো যেন বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলে।বিভিন্নভাবে বোঝালো যে বাচ্চাটা মিলির ভবিষ্যৎ জীবনে কতটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।ওর পরবর্তী জীবনটা এই বাচ্চাটা ছাড়া অনেক সুন্দর ভাবে গুছিয়ে উঠতে পারে কিন্তু এই বাচ্চাটা থাকলে সে সবকিছু হবে না।

মিলি কিছুতেই বুঝতে পারছে না সবার এই বাচ্চাটার সাথে এত কিসের সমস্যা যেখনে ও এখনো পৃথিবীতেই আসেনি।মিলির যখন কোন অসুবিধা নেই তবে বাকি মানুষদের এত কিসের অসুবিধা?

মাহবুব মিলিকে মেঝে থেকে তুলল।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,

“চিন্তা করিস না কিচ্ছু হবে না।আমি আছি তো।বাবা এখন রেগে আছে পরে ঠিক হয়ে যাবে।আর শোন আমার তিন দিনের জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে।বিশ্বাস কর আমি খুব চেষ্টা করেছি যেন আমাকে যেতে না হয় কিন্তু আমাকে যেতেই হবে।দু ঘন্টা পর আমার ফ্লাইট তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।তুই চিন্তা করিস না আমার অনুপস্থিতিতে তোকে কেউ কিছু বলবে না। তুই ঘর থেকে বেরোবি না।তোর খাবার দাবার সবকিছু আমি ঘরে দিয়ে আসতে বলবো পিউকে।এই তিনটে দিন বাবা যা বলে চুপচাপ শুধু শুনে যাবি।আমি এলে আর কারো কোনো খারাপ কথা শুনতে হবে না তোকে।”

মিলি নির্জীব দৃষ্টিতে শুধু মাহবুবের দিকে তাকিয়ে থাকলো,কিচ্ছু বলল না।কোন কথার উত্তর দিল না।মাহবুব চলে গেল।পিউ মিলিকে ওর ঘরে নিয়ে গেল।

দুপুর পর্যন্ত মিলি নিজের ঘরেই বসে থাকলো,বের হলো না।জাহিদ চৌধুরী আর কোন প্রকার চেঁচামেচি করেননি।দুপুরের পর বেশ কিছু আত্মীয় মিলিকে দেখতে এলেন।মেয়ে আসার খুশির সংবাদ মিথিলা বোধহয় সবাইকেই দিয়ে দিয়েছেন।মেয়ের বাড়িতে ফেরার সংবাদ তার কাছে ভীষণ আনন্দের তাই তিনি চেপে রাখতে পারেননি।সবাই সেটার সুযোগ নিতে এসেছে।মিলির খালা,মামিরা এলো।তাদের সাথে অনেক বছর হলো মিলির কোন যোগাযোগ নেই।এসেই তারা হা হুতাশ করতে করতে মিলির ঘরে ঢুকলো।তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে মিলির লা/শ বাড়িতে এসেছে।আত্মীয়রা লাশটা দেখতে এসেছে এতটাই জঘন্য ছিল তাদের আহাজারি।মিলি চোখ তুলে একবার তাদেরকে দেখল কিন্তু কোন কথা বলল না তাদের সাথে।মিলির খালা বিছানায় ওর পাশে বসে আহাজারি করতে করতে বললেন,

“কি হাল করে ছেড়েছে মেয়েটার আমাদের।এজন্য বলি বড়দের কথা শোন।তোর বাবা মায়ের পছন্দ করা ছেলেকে নাহয় নাই বিয়ে করলি,কতবার করে বললাম আমার ছেলেটাকে বিয়ে কর।ওর সাথে তো তোর ভালোই মিল ছিল।সংসারটা তো টিকে যেত।এখন এই সংসার ভাঙ্গা মেয়ে,তার উপরে পেটে আবার বাচ্চা কি হবে তোর?যতই তোর বাপের টাকা থাকুক তাও কি আর মেয়েকে ভালো কোন জায়গায় বিয়ে দিতে পারবে?”

পাশ থেকে মিলির মামিও সায় জানিয়ে বলল,

“একদম ঠিক বলেছো আপা।আরে এখনকার যুগের ছেলেদের ভালোবাসায় বিশ্বাস করতে আছে নাকি?নিজের কাজ শেষ ছেড়ে দিয়েছে।তা হ্যাঁ রে মিলি ভালোবেসেই তো বিয়ে করেছিলি তাও আটকাতে পারলি না স্বামীকে?নাকি ছেড়ে দিয়ে রেখেছিলি?”

মিলি নির্জীব কণ্ঠে বললো,

“যার থাকার না তাকে ধরে রাখলেও থাকবে না মামি।”

“আমার তো মনে হয় তোর দিক থেকেও কোন কমতি ছিল।না হলে অন্তত বাচ্চাটার কথা শুনে তোর সংসারটা টিকিয়ে রাখার দরকার ছিল।হ্যাঁ রে তা ঝামেলা শুরু হয়েছিল কি নিয়ে?শুধু কি ছেলেরই দোষ ছিল নাকি তোরও আবার কোথাও সমস্যা ছিল?শুনেছি তো ওই ছেলে নাকি খুব গরীব।তুই আবার বড় লোকের খোঁজ করতে যাসনি তো?”

মিলি দাঁত চেপে কথাগুলো চুপচাপ হজম করে গেল।এত কথা এখন আর ওর বলতে ইচ্ছে করে না।এদিকে পিউ এখন মাহবুবের কমতি ভীষণ ভাবে অনুভব করছে।তবে অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর শেষে আর কোনমতেই চুপ থাকতে পারলো না।মৃদু রাগান্বিত গলায় বলল,

“আপনারা কি একটু বেশি কথা বলছেন না?ওকে সান্ত্বনা দিতে এসেছেন না কি কষ্টটা আরো বাড়াতে এসেছেন?আর খালা আপনাকে বলছি আপনার কিসে বেশি কষ্ট হচ্ছে বলুন তো মিলির সংসারটা ভাঙ্গাতে নাকি আপনার ছেলের সাথে বিয়ে দিতে পারেননি তার জন্য?”

ভদ্রমহিলা বোধহয় একটু অপমানিত বোধ করলেন।রাগান্বিত গলায় বললেন,

“তুমি এই বাড়ির বউ তোমার মুখে এত কথা কেন?”

“আপনি এই বাড়ির কেউ না হয়ে যদি এত কথা বলতে পারেন সেখানে তো আমি এই বাড়ির বউ।কথা বলাটা কি স্বাভাবিক না?মিলি ওর নিজের বাড়িতে এসেছে আপনাদের এত সমস্যা কিসের?আপনাদের বাড়িতে কি গিয়েছে যে আপনাদের এত আফসোস হচ্ছে?ও এইবাড়ির মেয়ে,ওর বাবা-মা ভাইয়ের কাছে এসেছে।নিজের মানুষদের কাছে এসেছে পরের কাছে আসেনি যে এভাবে অপমান করবেন?আপনাদের কোন অধিকারই নেই ওকে এভাবে অপমান করার।এখন এই ঘর থেকে বেরিয়ে যান।ওকে একটু একা থাকতে দিন।সান্ত্বনা দিতে এসে মানসিক শান্তি নষ্ট করছেন।”

দুজনের কেউই আর সেখানে বসে রইলেন না।মিথিলার কাছে তার ছেলের বউয়ের নামে অভিযোগ করতে গেলেন।বড্ড বার বেড়েছে পিউয়ের।বাড়ি বয়ে আসা অতিথিদের সাথে কিরকম আচরণ করতে হয় সেসব সে জানেনা?তারা বেরিয়ে যেতেই পিউ মিলিকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল,

“ওদের কথায় কান দিও না।ওদের কাজেই এসব বলা।”

“সান্ত্বনা দিও না ভাবি।ওরাই ঠিক বলেছে।নিশ্চয় আমার মাঝে কোন কমতি ছিল যার কারণে তন্ময় অন্য কারো কাছে গিয়েছে।”

“অন্য কোন নারীর কাছে যাওয়ার জন্য তোমার মাঝে কমতি থাকতে হবে এটা জরুরি না মিলি।কমতি সবার মাঝেই থাকে তাই বলে কি সব স্বামী অন্য নারীর কাছে গেছে নিজের স্ত্রীকে ফেলে?যার যাওয়ার সে যাবেই।আর যে একবার কোন কিছু ফেলে চলে যায় তাকে আর ফিরিয়ে আনতে নেই।”

কথাটা বলে পিউ চলে গেল।পিউয়ের কথাটাকে মিলি নিজের মতন করে ভেবে নিল।সত্যি একবার কোন জায়গা থেকে চলে গেলে সেখানে ফিরে আসতে নেই।এই যেমন মিলি এখান থেকে চলে গিয়েছিল,আবার ফিরে আসাটা উচিত হয়নি।অনেক বড় একটা ভুল করে ফেলেছে।মিলির জীবনটাই যেন ভুলে ভরা।এখন তো মনে হয় এই পৃথিবীতে জন্মানোটাই ওর ভুল হয়েছে।

____

ফুটপাতের উপরে বসে আরো একবার কথা গুলো মনে করলো মিলি।রাত হয়ে গেছে।চৌধুরী বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে এসেছে সে বিকেলে।পিউ কিংবা মিথিলাকে বললে হয়তো আসতে দিত না সেজন্য কাউকে কিছু না জানিয়েই সবার আড়ালে চলে এসেছে।মিলি বুঝতে পেরেছে ওই বাড়িতে পা দেয়াটা ওর জীবনের আরেকটা ভুল।থাকতে পারবে না মিলি ওখানে।একটা দিনও যেখানে কাটাতে পারেনি সেখানে বাকি দিনগুলো কাটানোর কথা ভাবতেও পারে না।ফোনটা সুইচ অফ করে রেখেছে না হলে হয়তো এতক্ষণে মাহবুবের অনেকগুলো কল চলে আসতো।মিলি জানে না এখন কোথায় যাবে,কোথায় ওর যাওয়া উচিত।তবে বুঝতে পেরেছে ওই বাড়িতে থাকতে চাওয়া উচিত হবে না।মিলি অবশ্য এই সিদ্ধান্তটা এত তাড়াহুড়ো করে নিতে চায়নি কিন্তু নিতে বাধ্য হয়েছে।ওর খালা আর মামি মিথিলাকে সমানে উস্কাচ্ছিল যেন মিলির অজান্তেই এই বাচ্চাটা নষ্ট করার ব্যবস্থা করে ফেলে।একটা ওষুধ খাইয়ে দিলেই তো হলো।ঠিক যে কাজটা তন্ময় করতে চেয়েছিল ওরাও সেই একই কাজটা করতে চায়।মিলি জানে না ওর মা এই কাজটা করবে কিনা তবে বিশ্বাস করে আর থাকতে পারেনি সেজন্য বেরিয়ে এসেছে।ওরা সবাই মিলির জীবন গোছাতে চেয়ে একটা নিষ্পাপ বাচ্চা কে শেষ করে দিতে চাইছে।কিন্তু কেউ এটা বুঝতে চাইছে না যে মিলি এই বাচ্চাটাকে কেন্দ্র করে নিজের জীবনটা আবার গোছাতে চাইছে।মিলি তো সংসার করবে না কারো সাথে।

মিলির মস্তিষ্কে হঠাৎ করে সিয়াম আর নীলিমার কথা ভেসে উঠলো।ওদেরকে তো কিছুই জানানো হয়নি।সেই যে সেদিন একবার সিয়ামের সাথে কথা হয়েছিল তারপর না সিয়াম কল করেছে না মিলি কিছু জানানোর সময় পেয়েছে।মনে ছিল না।ওদের বাড়িতে গেলে তো নিশ্চয়ই থাকতে দেবে।ওরা নিশ্চয়ই ফিরিয়ে দেবেনা মিলি কে।উঠে দাঁড়ালো মিলি।একটা সিএনজি দাঁড় করিয়ে নীলিমাদের বাসার ঠিকানা বলে উঠে পড়ল।

বিজ্ঞাপন
রিক্ত বসন্ত গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সামাজিক ও পারিবারিক উপন্যাস