বেশ ধারালো একটা ছুরি হাতে নিয়ে বসে আছে তন্ময়। ছুরিতে যে বেশ ধার আছে সেই বিষয়ে তন্ময় নিশ্চিত কেননা দুদিন আগেই ছুরিটা কিনে এনেছিল কোন এক প্রয়োজনে। তবে সেদিনের প্রয়োজনের তুলনা আজকের প্রয়োজনটা আরো বেশি। তন্ময় ভাবতেও পারেনি যে এই ছুরিটা তন্ময়ের কখনো এতটা কাজে লাগতে পারে।
তন্ময় ডান হাতে ছুরিটা শক্ত করে ধরে সেটা বাম হাতের কব্জির ওপর রাখলো। দাঁতে দাঁত চেপে চোখটা বন্ধ করে নিজেকে মনে মনে তৈরি করল হাতটা কাটার জন্য। বেশ কিছুক্ষণ এভাবে অতিবাহিত হলো। তবে তন্ময় পারল না। মুহূর্তের মাঝে হাত থেকে ছুরিটা পড়ে গেল। খেয়াল করলো হাত দুটো কাঁপছে। তন্ময় পারবে না এই কাজ করতে। এতটা সাহসী তন্ময় না।
যখন মনে মনে ঠিক করলো যে এই কাজটা করবে না তখনই আবার পাশে রাখা ডিভোর্স পেপারটার উপরে নজর গেল। তন্ময় কাঁপা কাঁপা হাতে ডিভোর্স পেপার টা হাতে নিল। যখন চোখ পড়লো মিলির সাইন এর দিকে তখনই আবার বুকটা কেঁপে উঠল। হৃদয়টা হাহাকার করে উঠলো।
এক মুহূর্তের জন্য তন্ময়ের আবারো বাঁচার ইচ্ছাটা ম'রে গেল। মনে হলে কি হবে এ জীবন রেখে যে জীবনে একাকীত্ব, হতাশা, অনুশোচনা ছাড়া আর কিছুই নেই, যে জীবনে দুঃখ কষ্টের বলার মতন একটা মানুষ নেই, যে জীবনে একটা কেউ খোঁজ নেওয়ার নেই তন্ময়ের। তন্ময় এখন ম'রে পড়ে থাকলেও কেউ তার খোঁজ করবে না। অন্য কারো থেকে তো তন্ময় আশা করেনা। কষ্ট তখন লাগে যখন মনে হয় যে মিলিও খোঁজ নেবে না। একটাবার ভুলেও মিলি তন্ময়কে কল করে একটু জানতে চাইবে না যে তন্ময় কেমন আছে। সেদিন যে তন্ময় কে একা ফেলে রেখে গেল আর ফিরেও তাকালো না মিলি। মিলির বদলে তন্ময়ের হাতে এলো ডিভোর্স পেপারটা যেখানে মিলি সাইনও করে দিয়েছে।
তন্ময় খুব অবাক হয়েছে এতে। মিলি কি করে পারলো তন্ময় কে ডিভোর্স দিতে? মিলি তো চিঠিতে বলেছিল সারা জীবন তন্ময়ের স্ত্রী হয়ে বাঁচতে চায়। তবে পরবর্তীতে তন্ময়ের কর্মকাণ্ডগুলো কি এতটাই জঘন্য ছিল যে মিলি সেই ইচ্ছেটাও হারিয়ে ফেলেছিল? হ্যাঁ, তাই হবে। পুলিশ স্টেশনে তো বলেছিল যে মিলির এখন ঘৃণা হচ্ছে নিজের বলা সেই কথার উপরে।
না, তন্ময়ের বেঁচে থেকে কোন লাভ নেই, বেঁচে থাকার কোন ইচ্ছেই নেই তন্ময়ের। ডিভোর্স পেপারটা পাশে রেখে মেঝেতে পড়ে যাওয়া ছুরিটা আবার হাতে তুলে নিল। এবারে তন্ময়ের ভেতরে কোন ভয় কাজ করছে না, নিজেকে অনুভূতি শুন্য মনে হচ্ছে। আবার শক্ত করে ছুরিটা অন্য হাতের কব্জিতে খুব জোরে চেপে ধরলো। তন্ময় নিশ্চিত যে এরপরে আর তাকে কোনো কষ্ট পেতে হবে না, এরপরে তার কোন আফসোস হবে না, কোন অনুশোচনা থাকবে না, মিলির স্মৃতিগুলো তাকে বিরক্ত করতে পারবে না, নিজের ছেলেকে কাছে না পাওয়ার কষ্ট গুলো তন্ময়কে ধুঁকে ধুঁকে মা'রতে পারবে না। এসব কষ্ট যন্ত্রণা থেকে সে একেবারের জন্য মুক্তি পাবে।
খুব জোরে ছুরিটা চেপে ধরলো। একটু বোধহয় কে'টেও গেল জায়গাটা। একটু জ্বা'লা অনুভব করলো তন্ময় তবে টানটা আর বসাতে পারলো না, তার আগেই একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। মিলি অনুনয় করে তন্ময়কে বলল,
"কি করছো তন্ময় তুমি? এভাবে যে সব যন্ত্রণা থেকে তুমি মুক্তি পাবে না।"
তন্ময় চট করে চোখ খুলে দেখলো সামনে মিলি দাঁড়িয়ে আছে তবে আজ মিলির মুখে কোন হাসি নেই বরং দুচোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে, চোখে মুখে একটা তীব্র কষ্ট ভেসে উঠেছে। তন্ময়ের অস্থিরতা বাড়লো, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বাড়লো। মনের মাঝে যে অস্থিরতা টা তৈরি হয়েছে সেটা চাইছে মিলিকে বোঝাতে, তবে পারলো না। তন্ময় মুখে কিছু বলতে চাইলো তবে কন্ঠটা বারবার আটকে আসছে। তবুও অনেক কষ্ট বলল,
"আমি মুক্তি পেতে চাই মিলি। আর....আর পারছি না এসব সহ্য করতে।"
"মৃত্যু কখনো মুক্তির পথ হয় না তন্ময়। তুমি জানো না আত্মহত্যা মহাপাপ? তুমি আরেক বন্দি জীবনের দিকে পা বাড়াচ্ছো। এমনটা করোনা।"
"না মিলি তুমি বুঝতে পারছো না, এ ছাড়া আমার কাছে আর কোন উপায় নেই। আমাকে এমনটা করতেই হবে না হলে তোমার স্মৃতি আমাকে বাঁচতে দেবে না, আমাকে পা'গল বানিয়ে ছাড়বে। লোকে কিছুদিন পর আমাকে পা'গল বলবে।"
মিলি করুণ কন্ঠে তন্ময় কে বলল,
"এমনটা করো না তন্ময়, আমার কষ্ট হবে। তোমার কিছু হলে আমার কষ্ট হবে।"
তন্ময়ের চোখে মুখে বিস্ময় ভাব ফুটে উঠলো। খুব জোরে করে ধরে রাখা ছুরিটা দ্বিতীয়বারের মতন মেঝেতে পড়ে গেল। মৃদু একটা শব্দ হলো তাতে। বদ্ধ ঘরের চার দেওয়ালের মাঝে সে মৃদু শব্দটাও কোন বাদ্যযন্ত্রের ঝংকারের মতো লাগলো। তবে তন্ময়ের সেসবে খেয়াল নেই। ধীরে ধীরে তন্ময়ের দুচোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো। খেয়াল করল একটু একটু করে তন্ময়ের কান্নার তোপ বাড়ছে। কান্নার তোপে ঠোঁট দুটো তিরতির করে কাঁপছে। এক পর্যায়ে তন্ময়ের ভেতরে থাকা কষ্টগুলো আর চেপে রাখতে পারলো না। শব্দ করে কেঁদে উঠে মিলিকে বলল,
"হবে না তোমার কষ্ট মিলি, আমার কিছু হয়ে গেলে তোমার একটুও কষ্ট হবেনা। যদি তোমার কষ্ট হতো তবে তুমি আমার কাছে ফিরে আসতে। তুমি এর আগেও আমায় বলেছিলে যে আমার বাঁচতে তবে আফসোস করার জন্য। তবে আজ কেন বলছো যে তোমার কষ্ট হবে?"
মিলি আবারও সেই একই কথা আওড়ালো,
"আমার কষ্ট হবে, তোমার কিছু হলে আমার কষ্ট হবে তন্ময়। তোমার মৃত্যুর সংবাদ পেলে আমার গোটা দুনিয়াটা এলোমেলো হয়ে যাবে। আমি নিঃস্ব, আমি এই দুনিয়াতে একা কিন্তু তবুও মনে হয় কোথাও তুমি আছো। তুমি আমার না হলে তবুও তুমি আছো। কখনো যদি জানতে পারি যে তোমার অস্তিত্বই দুনিয়া থেকে বিলীন হয়ে গিয়েছে তবে আমার কষ্ট হবে তন্ময়।"
তন্ময় বিছানা থেকে উঠে মিলির দিকে এগিয়ে যেতে ধরলো। তবে পথিমধ্যেই থেমে গেল। আজ আর তন্ময় সেই একই ভুল করবে না। আজ আর মিলিকে হারিয়ে যেতে দেবে না। অনেক ভুল করেছে তন্ময়। কিন্তু এখন থেকে আর কোন ভুল করবে না। তন্ময়ের পা থেমে গেল। মিলির দিকে দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে ভিক্ষে চাইলো মিলিকে।
"ফিরে এসো মিলি। জীবন তো একটাই, আর তো কখনো ফিরে পাবো না এই জীবন, আর তো কখনো দেখা হওয়ার সুযোগও নেই তোমার সাথে, আর কখনো হয়তো তোমাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পাওয়ার সুযোগটাও আমার হবে না, তবে ফিরে এসো না। এত অভিযোগ, অভিমান রেখে লাভটা কি? ফিরে এসো না মিলি!"
"তুমি আমার আর নেই। তুমি এখন তোমার পথে আর আমি আমার পথে। আমাদের দুজনের পথ আলাদা হয়ে গেছে। ফিরে আসার কোন পথ নেই। তুমি শুধু ভুল কোন সিদ্ধান্ত নিও না। তুমি জানো তোমার মিলি তোমায় ভালোবাসে, তুমি জানো তোমার মিলি সব সময় তোমার আগে নিজের মৃত্যু কামনা করতো, তবে আজ তুমি আগে নিজের মৃত্যুকে এভাবে ডেকে এনো না। তোমার মিলির ভীষণ কষ্ট হবে তন্ময়।"
তন্ময় হাঁটু ভেঙে বসে কান্নায় ভেঙে পড়লো। আর কত অনুনয় করলে মিলি ফিরবে? তন্ময়কে আর ভিক্ষে চাইতে হবে মিলির কাছে, আর কি বললে মিলি বুঝবে তন্ময় মিলির অভাবটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে। মিলির শূন্যতা তন্মধ্যে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। কেন তন্ময়ের অসহায়ত্ব নরম করতে পারছে না মিলির মনটা? এতটা পাথর কেন বানিয়ে তুললো সৃষ্টিকর্তা মিলির মনকে যে আজ তন্ময় সেটা নরম করতে পারছে না?
আরো অনেক অনুনয় করলো তন্ময়, অনেক বার করে ভিক্ষে চাইলো মিলি আর নিজের সন্তানকে। তবে মিলির থেকে আর কোন উত্তর পেলো না। তন্ময়ের ধ্যান ভাঙলো একটা বিকট বজ্রপাতের শব্দে। কেঁপে উঠলো তন্ময়। সামনে তাকিয়ে দেখল মিলি আর দাঁড়িয়ে নেই। জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখল আকাশটা কালো মেঘে ঢেকে এসেছে। তীব্র বেগে বাতাস বইছে, যে কোন সময় বৃষ্টি নামবে।
তন্ময় ঘাড় ঘুরিয়ে মেঝেতে পড়ে থাকে ছুরিটা হাতে নিল। বেলকনিতে গিয়ে ছুরিটা নিচে ছুঁড়ে মারলো। হঠাৎ করে তন্ময়ের মধ্যে থেকে ম'রার ইচ্ছেটা চলে গেল। কেন বাঁচতে হবে সে জানেনা। তবে মনে হলো মিলি তাকে বলে গিয়েছে বাঁচতে হবে, তাই তাকে বাঁচতে হবে। অনেক অবাধ্য হয়েছে মিলির, অনেক তো কষ্ট দিয়েছে এবার নাহয় একটু মিলির কথাটা রাখুক। তন্ময়ের মনে পড়লো মিলি ওকে বলতো মিলি তন্ময়ের আগে ম'রতে চায়। তন্ময় আর কষ্ট দিতে চায় না মিলিকে। মিলির অজান্তেই নাহয় তন্ময় ওর সেই আবদার টুকু রাখলো।
________
"বাইরে যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে এর মাঝে কি করে যাই বলতো? অয়নের মাথায় বৃষ্টির পানি পড়লেই ছেলেটার জ্বর আসবে। আমি বরং লাবিবা কে ফোন করে বলে দেই যে আমরা যেতে পারব না, তুমি গিয়ে ঘুরে এসো।"
তাকদীর গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,
"আহা চিন্তা করছেন কেন? ওকে একটা পলিথিনের মধ্যে প্যাকেট করে নেব।"
"আর আমাদের কি হবে? আমরা তো ভিজে যাব?"
"আমার এসব বৃষ্টিতে ভেজা নিয়ে কোন সমস্যা নেই তবে আপনার যদি সমস্যা থাকে তবে আপনাকেও নাহয় পলিথিনে প্যাকেট করে নেব।"
"ধ্যাত! সবসময় মজা ভালো লাগেনা। আমি চিন্তায় আছি না গেলে লাবিবা রাগ করবে, আবার এই বৃষ্টির মাঝে যাওয়াও যাচ্ছে না। বৃষ্টির মাঝে আমার বাড়ি থেকে বেরোতে খুব বিরক্ত লাগে, গা খিতখিত করে।"
তাকদীর আপন মনে কিছু একটা ভেবে প্রশ্ন করলো,
"আপনার লাভ ম্যারেজ ছিল না?"
হঠাৎ তাকদীরের মুখ থেকে এমন প্রশ্ন শুনে মিলি একটু চমকালো। তাকদীর কখনো তার বিয়ে নিয়ে কিংবা তন্ময়ের সাথে সম্পর্ক নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করে না। মিলি নিজ থেকে টুকটাক যা দু একটা কথা বলে না হলে তো একদিনি কখনো জিজ্ঞেস করে নি।
"হঠাৎ এই প্রশ্ন?"
"আরে বলুন না।"
"হ্যাঁ লাভ ম্যারেজ ছিল।"
"তবে আপনি এতটা আনরোম্যান্টিক মানুষ কি করে হতে পারেন? সত্যি করে বলুন তো প্রেম করার সময় কখনো বৃষ্টিতে ভেজেন নি আপনার প্রেমিকের সাথে? আর যেহেতু লাভ ম্যারেজ ছিল তার মানে বিয়ের পরও নিশ্চয়ই বৃষ্টিতে ভিজেছেন। তবে বৃষ্টি আপনার এত বিরক্তিকর লাগতে পারে কি করে?"
মিলি পুরনো স্মৃতির মাঝে ডুব দিল। মনে পড়ে গেল তন্ময়ের সাথে বৃষ্টিতে ভেজা কিছু দিনের কথা। সত্যি তো কলেজে প্রেম চলাকালীন অনেকদিন তন্ময়ের সাথে বৃষ্টিতে ভিজেছে। বৃষ্টি ভেজা রাস্তায় হাতে হাত রেখে দুজনে হেঁটেছে। তন্ময় তো কোনদিনই ছাতা নিয়ে আসতো না তবে মিলি ছাতা নিয়ে যেত। বৃষ্টি শুরু হলে মিলিকেও ছাতা মেলতে দিত না। নিজে তো ভিজতোই সেই সাথে মিলিকেও ভেজাতো। ওদের সাথে সিয়াম আর নীলিমাও যোগ দিত। কি সুন্দর ছিল সেই দিনগুলো। চারজনে মিলে কত সুন্দর ভাবে কাটতো দিনগুলো। সে চার জনের মাঝে তিনজন এখনো আগের মতনই আছে তবে একটা মানুষ বদলে গেছে। যার ফলে পুরো সম্পর্কটাতেই তার প্রভাব পড়ে গেছে।
মিলিকে ভাবনার জগতে নিমগ্ন থাকতে দেখে তাকদীর একটু চিন্তার মাঝে পড়ে গেল। ভাবলো মিলি কে আবার নিজের অজান্তেই কষ্ট দিয়ে ফেলল কিনা?
“এই সিনিয়র চুপ করে গেলেন কেন? আমি কি কষ্ট দিয়ে ফেললাম?”
মিলির ধ্যান ভাঙ্গলো। হালকা একটু হাসার চেষ্টা করে বলল,
“না। কষ্ট দেবে কেন?”
“তবে চুপ করে গেলেন কেন?”
“এমনিতে।”
“আচ্ছা বুঝতে পেরেছি আমি বোধহয় আজেবাজে কিছু বলে ফেলেছি। সরি আর কখনো বলবো না।”
ওদের কথাবার্তার মাঝেই তাকদীরের ফোনটা বেজে উঠল। পকেট থেকে বের করে দেখলো লাবিবা কল করেছে। বিরক্ত হলো তাকদীর। ফোনটা রিসিভ না করে বিরক্তিকর গলায় বলল,
“না যাওয়া পর্যন্ত এই মুটকি শান্তি পেতে দেবে না। মুটকি বিয়ে করলো তো করলো এই বৃষ্টির দিনেই করতে হলো? তার থেকেও বড় কথা ওকে বিয়েটা করলো কে? সেই লোকটাকে দেখার জন্য হলেও আমায় আজ যেতেই হবে। যদি রাস্তাঘাট বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় তারপরও আমি নৌকা নিয়ে যাব।”
মিলি কিঞ্চিৎ বিরক্তিকর গলায় বলল,
“এত আজেবাজে কথা না বলে ফোনটা রিসিভ করো। মেয়েটা আমাদেরকে ভালোবাসে জন্যই বারবার কল করে আসতে বলছে। আসলেই যারা আমাদের ভালোবাসে আমরা তাদের গুরুত্ব দিতে জানি না সেটা আরো একবার আমি প্রমাণ পেলাম।”
তাকদীর বেশ ভালো একটা সুযোগ পেল মিলিকে কিছু বোঝানোর। মিলিকে বোঝাতে হবে যে আসলে যারা আমাদের ভালোবাসে আমদের তাদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে। লাবিবার ফোনটা রিসিভ করলো না। মিলি কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“একদম ঠিক বলেছেন যারা আমাদের বেশি ভালোবাসে আমরা তাদের গুরুত্ব দিতে জানি না। ঠিক যেমন আমার গুরুত্ব একজন দেয় না।”
“হ্যাঁ। ঠিক তেমন ভাবেই যেমন তুমি তোহার ভালোবাসাকে গুরুত্ব দাও না।”
তাকদীরের ভালো মেজাজটা আবার বিগড়ে গেল। কিছু বলতে নিল তবে তার আগেই লাবিবা আবারও কল করলো। মেজাজটা একেবারে চটে গেল। কলটা রিসিভ করে ঝারি মে'রে বললো
“কি হয়েছে রে তোর মুটকি?”
লাবিবাও চুপ থাকার মানুষ না। পাল্টা রাগ দেখিয়ে বলল,
“আর একবার এই নামে ডাকলে ঠা'স করে একটা চ'ড় লাগাবো। বিয়ে শেষ হলে আসবি তোরা? বিয়ের দাওয়াত দিয়েছি তোদেরকে, বৌভাতের না।”
“ও তার মানে তুই বলছিস বৌভাতের দিন যেন আমরা না যাই তাই তো?”
“আগে বিয়ে তে তো আয়। তাড়াতাড়ি আয় না হলে খাবার কিন্তু সব শেষ হয়ে যাবে।”
“কেন রে টাকা-পয়সার এত অভাব ছিল যে কম করে খাবার-দাবারের আয়োজন করেছিস?”
লাবিবার আর কথা বাড়াতে ইচ্ছে করলো না তাকদীরের সাথে। মিলিকে ফোনটা দিতে বলল। তাকদীরেরও আর কথা বলার কোন ইচ্ছে নেই তাই মিলি কে ফোনটা দিয়ে দিল।
“হ্যাঁ লাবিবা বলো।”
“কখন আসবে তোমরা? আমি অপেক্ষা করছি তো।”
“যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বসে আছি কিন্তু যা বৃষ্টি শুরু হয়েছে এখন গাড়ি পাওয়া মুশকিল। কি করে যাই বলোতো?”
“ওই গাধা কে ছাতা নিয়ে পাঠাও গাড়ি আনতে। ও ভিজলে ভিজুক সমস্যা কি?”
মিলি ঠোঁট টিপে হাসলো। মিলির সেই হাসি দেখেই তাকদীর কিছু সন্দেহ করলো। সন্দেহী গলায় বলল,
“ও আমার নামে কিছু আজেবাজে কথা বলছে তাই না?”
মিলি দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বোধক উত্তর জানালো। তারপর আবার লাবিবা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আচ্ছা ঠিক আছে। তোমার বিয়ে আজকে, এত বেশি চাপ নিও না। আমরা আসছি।”
কথাটা বলে ফোনটা রেখে দিল। তাকদীরকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“না গেলে মেয়েটা মন খারাপ করবে তাকদীর। তুমি বরং ছাতা নিয়ে গিয়ে একটা গাড়ি নিয়ে এসো।”
“আচ্ছা যাচ্ছি। তবে আমি না ডাকা পর্যন্ত আপনি নিচে আসবেন না। বৃষ্টির পানি যেন না পড়ে গায়ে।”
“আচ্ছা ঠিক আছে যাও তো এখন। খুব বেশি কথা বলো তুমি।”
তাকদীর যেতে যেতে বলল,
“একটু যত্ন নেই তো সেজন্য আমায় যত্ন পছন্দ হয় না। একদিন যখন আমি থাকবো না তখন এই তাকদীরের যত্নের কথা মনে পড়বে আপনার হু।”
কথাটা বলে তাকদীর চলে গেল। তবে যাওয়ার আগে মিলি কে ভাবনার জগতে ফেলে রেখে গেল। খুব গভীর একটা কথা বলে গেল ছেলেটা। মিলি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো,
“সত্যি কি তাকদীর কখনো না থাকলে ওর যত্নগুলো আমার মনে পড়বে?”