রিক্ত বসন্ত

পর্ব - ২৪

🟢

প্রকৃতির নিয়ম ভীষণ অদ্ভুত।কখন কাকে হাসাবে,কাকে কাঁদাবে এটা আমরা কেউই জানি না।কখন যে কার থেকে সুখ কেড়ে নেবে আবার কখন যে কাকে প্রত্যাশার থেকে অধিক সুখ দেবে সেটাও আমরা কেউ জানি না।সত্যি প্রকৃতি ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না।আজ তন্ময় কাঁদছে।বুঝতে পেরেছে নিজের ভুল।অপরাধবোধে ভুগছে।তবে এমন সময় তন্ময়ের অপরাধ বোধটা হলো যখন আর কিছুই করার নেই।কেননা এখন যে মিলির মন একটুও নরম হতে চাইছে না।

তন্ময় ক্রন্দনরত গলায় বলল,

“আমি…আমি জানি মিলি তুমি ভালো নেই।বিশ্বাস করো আমিও ভালো নেই,একটুও ভালো নেই মিলি।”

ফোনের অপর পাশে থাকা মিলি শুধু হালকা হাসলো।আজ প্রথমবারের মতন খেয়াল করলো তন্ময়ের কান্নায় মিলির ভীষণ আনন্দ হচ্ছে।মিলির কেন যেন খুব ভালো লাগছে তন্ময়ের কান্নার আওয়াজটা শুনতে।প্রশান্তি বয়ে যাচ্ছে হৃদয়ে।মিলিকে চুপ করে থাকতে দেখে তন্ময় আবারো বলে উঠলো,

“প্লিজ একটু কথা বলো!কিছু অন্তত বলো!আমায় ক্ষমা করতে বলছি না তোমায়,আমি শুধু বলছি একটু কথা বলো।”

“যে মুহূর্তে তোমায় বলার জন্য আমার শব্দ ফুরালো তখন তোমার আমার কথা শুনতে ইচ্ছে হলো তন্ময়?তবে কোথায় ছিল এতদিন তোমার এই ইচ্ছে গুলো?”

তন্ময় ডুকরে কেঁদে উঠে বলল,

“আমার সব শেষ হয়ে গেল মিলি।আমি এখন কি নিয়ে বাঁচি বলোতো?আমি যেন বাঁচতে পারি এমন কোন একটা উপায় আমায় বলে দাও মিলি।”

মিলির শব্দ করে হেসে উঠে বলল

“ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমায় বলছো যেন আমি তোমায় বাঁচিয়ে নেই?তিলে তিলে যখন আমায় মেরে ফেলেছিলে তখন আমার কেমন লেগেছিল তন্ময় একবার ভাবো তো?”

"আর অপরাধী বানিও না আমায়।"

"তুমি তো অপরাধী নও তন্ময়,তুমি হলে পাপী।"

"এ পাপ থেকে আমায় রেহাই দাও তুমি।মিলি তুমি ফি...."

তন্ময়কে নিজের কথা শেষ করতে দিলো না মিলি।তার আগেই সাবধানী গলায় বলল,

"ভুলেও এর পরের শব্দটা উচ্চারণ করো না।নিজের মনের কথা মনের মাঝে চেপে রাখো তন্ময়।কেননা তুমি যদি সে শব্দটা উচ্চারণ করো তবে এমনও হতে পারে আমি হয়তো নিজের রাগটা সামলাতে পারবো না।"

তন্ময় ঠোঁট কামড়ে নিজের কান্নাটা আটকানোর চেষ্টা করছে তবে কেন যেন পারছে না।এক হাতে চোখের জল মুছে নিয়ে মিলিকে বলল,

"আমায় তুমি এত অভিশাপ দিয়েছিলে মিলি? তুমি আজ আমায় দেখলে বুঝতে আমি ঠিক কতটা বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছি।সব হারিয়ে আমি আজ নিঃস্ব।কিচ্ছু নেই আমার কাছে। আমি....আমি এখন শুধু নিজেকে হার মানাবাকে আমায় ক্ষমা কর।আমায় রেহাই দাও তোমার অভিশাপ থেকে,আমায় একটু বাঁচতে দাও।"

"তোমার কি মনে হয় তন্ময় তুমি এখন শুধরে গেছো?মোটেও না।তুমি শুধু একটা পরিস্থিতির চাপে পড়েছো।তোমার আজ কেন বোধদয় হয়েছে জানো?কারণ তুমি জেসির কাছে ঠকে এসেছো।যদি জেসি তোমায় না ঠকাতো তবে তুমি কোনদিনও তোমার ভুলটা উপলব্ধি করতে পারতে না।আজ জেসি তোমার সাথে অন্যায় করেছে জন্য তোমার মনে হচ্ছে যে আমার অভিশাপ তোমায় ভালো থাকতে দিচ্ছে না।তুমি একটুও বদলাও নি তন্ময়।তুমি যেমন অমানুষ ছিলে এখনও ঠিক তেমনি অমানুষই আছো।শুধু একটু ভালো মানুষের মুখোশ পড়ার চেষ্টা করছো। তবে একটা কথা তোমার স্পষ্ট বলে রাখি,এই আশায় থেকো না যে তুমি আবার মিলিকে ফিরে পাবে,তুমি এই আশায় থেকো না যে তোমার দু সেকেন্ডের কান্নায় এই মিলির মন আবারো নরম হয়ে যাবে।তুমি চেনো আমায়, খুব ভালো করে চেনো তুমি আমায়।আমি যখন একবার ঐ সংসার থেকে বেরিয়েছি তখন আর কক্ষনো আমার ছায়াও ওখানে যাবে না।"

তন্মান নির্জীব গলায় বলল,

"তোমার কি মনে হয় আমি আশা করে আছি যে তুমি আবার ফিরবে?ওই যে তুমি বললে আমি তোমায় খুব ভালো করেই চিনি।সত্যি আমি তোমায় চিনি আর আমি এটাও জানি তুমি কখনো ফিরবে না আর না আমি তোমাকে ফিরতে বলব।হ্যাঁ এটাও ঠিকই বলেছো যে জেসির কাছে ঠকেছি জন্য হয়তো আমার বোধদয় হয়েছে।তবে একটা সত্যি কথা বলি তোমায় মিলি,তুমি চলে যাওয়ার পর প্রতিটা ক্ষেত্রে আমি তোমার শূন্যতা অনুভব করেছি কিন্তু সেগুলো এড়িয়ে যেতে চেয়েছি।আমি অনুভব করেছি তোমার শূন্যতা।"

"আর কক্ষনো আমার সাথে কোন রকম যোগাযোগের চেষ্টা করো না।"

"আর কখনো আমাদের কথা হবে না?আর কোনদিন আমাদের দেখা হবে না?"

মিলি ফোনটা কান থেকে নামিয়ে হাসলো। কথাগুলোয় কেমন যেন সে পুরনো তন্ময়ের গলার মতন লাগছে।তবে মিলি জানে পুরনো তন্ময় কক্ষনো ফিরে আসবেনা।এখন ফোনের ওপর সে যে তন্ময় আছে সে শুধুমাত্র একটা মুখোশধারী মানুষ।ফোনটা আবারো কানে ধরে বলল,

"আর কি কোনো কথা বাকি আছে?"

"কিছুই কি অবশিষ্ট নেই আর?"

"আছে তো,আর সারা জীবন থাকবে।সেটা হচ্ছে তোমার প্রতি আমার এক রাশ ঘৃণা।"

তন্ময় খেয়াল করলো ওর বুকের বা পাশটায় যেন হালকা চিনচিনে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। মিলির কথাগুলো শুনেই বোধ হয় তন্ময় খেয়াল করলো,খুব অল্প দিনের ব্যবধানে মিলি নিজেকে খুব শক্ত করে নিয়েছে।এতটাই শক্ত করে তুলেছে যে তন্ময়ের কান্নাও আর ওর উপরে কোন প্রভাবই ফেলতে পারছে না।তন্ময় আবারো কিছু বলতে চাইলো তবে তার আগেই মিলি ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

"আর কোন কথা হোক আমি চাইনা।রাখছি।"

কথাটা বলে মিলি ফোনটা রাখতে নিলে অপর পাশ থেকে তন্ময় একবার করুণ গলাশ ওকে ডাকলো,

"মিলি!"

মিলি চাইলো এই ডাকটাকে উপেক্ষা করে যেতে।তবে কেন যেন উপেক্ষা করতে পারলো না।ভাবলো আজ শেষ বারের জন্য নাহয় তন্ময়ের ডাকে একটু সাড়া দেওয়া যাক।জোরে জোরে কয়েকটা শ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক করে গম্ভীর গলায় বলল,

"বলো।"

"ক্ষমা করবে না আমায়?"

তন্ময় প্রশ্নের প্রেক্ষিতে অপর পাশ থেকে কোন জবাব দিল না মিলি।তন্ময় অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে যে কখন একটু মিলি বলবে যে ওকে ক্ষমা করে দিয়েছে।তন্ময় যদিও জানে যে ক্ষমা করলেও হয়তো শুধু মুখে বলবে তবে মন থেকে হয়তো কখনোই ক্ষমা করা সম্ভব না।কেননা তন্ময় মিলির যে জায়গাটায় আঘাত করেছে সে আঘাত কখনোই সাড়বে না।তবু যদি মিলি একটু মুখে বলে যে ক্ষমা করে দিয়েছে হয়তো একটু শান্তি পাবে।

"কি হলো মিলি ক্ষমা করবে না?"

মিলি আলতো হেসে বলল,

"যখনই আমার সাথে করা অন্যায়ের কথা মনে করে তোমার দুচোখে জল গড়িয়ে পড়বে তখনই ভেবে নিও তুমি ক্ষমা পেয়ে গেছো।যখনই আমার শূন্যতা অনুভব করে তোমার নিজের উপর নিজের ঘৃণা হবে তখন ভেবে নিও ক্ষমা পেয়ে গেছো তুমি।"

মিলি হয়তো আরো কিছু বলতো তবে তার আগেই ফরহাদের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।

"মিলি,চলুন আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেই।আর এই ঠান্ডার মাঝে বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন কেন?গায়ে তো কোন গরম কাপড়ও নেই। গাড়িতে গিয়ে বসবেন না আপনি?চলুন, গাড়িতে গিয়ে বসুন।এমনিতেই অনেক রাত হয়ে গেছে।"

ফোনের অপর পাশে থাকা তন্ময়ের কানে ফরহাদের কন্ঠটা গেল।সেই সাথে ফরহাদের বলা প্রত্যেকটা কথা স্পষ্ট শুনতে পেল। কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করলো তন্ময়ের মাঝে।হয়তো ঈর্ষান্বিত হলো কিংবা বিরক্ত লাগলো।হয়তো বা রাগ হলো। প্রশ্ন জাগলো মনের মাঝে কে ওই পুরুষ যে মিলির জন্য এতটা চিন্তা করছে,কে মিলিকে বাড়ি পৌঁছে দিতে চাইছে,এত রাতে কোন পুরুষ মিলের সাথে কি করছ

"কার কন্ঠ মিলি?"

মিলি গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

"তোমার জানার কোন প্রয়োজন নেই।ভবিষ্যতে আর কখনো আমাকে বিরক্ত করার চেষ্টা করো না,তাহলে ভালো হবে না।আমায় জীবনে এগোতে দাও।তুমি জীবনে এগোবে না একই জায়গায় পড়ে থাকবে সে সব আমার দেখার বিষয় না।কিন্তু আমার জীবনে কোন সমস্যা তৈরি করার চেষ্টাও করো না তন্ময়। ভালো হবে না বলে দিলাম।"

কথাটা বলে মিলি ফোনটা রেখে দিল।ফরহাদ প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

"তন্ময় ফোন করেছিল?কিন্তু কেন?"

মিলি ফোনটা ব্যাগের ভেতর রাখতে রাখতে বলল,

"হঠাৎ করে ওর মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ জেগে উঠেছে।আমার সাথে ঠিক কতটা অন্যায় করেছে হঠাৎ করে সে বিষয়গুলো ভেবে বিবেকবোধ জেগে উঠেছে,তার তাড়নাতে ক্ষমা চাইতে এসেছে আমার কাছে।"

"আপনি কি বললেন?"

"কি বলেছে জানি না।তবে এতোটুকু বুঝিয়েছি যে ওকে ছাড়া আমি ভীষণ ভালো আছি।আমি আর ওর কাছে ফিরে যেতে চাই না।আমি জীবনে অনেকটাই এগিয়ে গেছি আর সত্যি বলতে আমি এটাই করতে চাই।"

মিলি ফোনটা কাটতেই তন্ময়ের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল।জ্যোতি উৎকণ্ঠিত গলায় বলল,

"কি হলো?"

তন্ময়ের কানে এখনো সে পুরুষালী কন্ঠটাই বাজছে।এর আগে তো তন্ময় ব্যতীত কোন পুরুষকে মিলির জন্য এতটা চিন্তিত হতে দেখেনি।সেজন্যই বোধহয় এতটা বিরক্ত লাগছে তন্ময়ের।মিলি তন্ময়ের থেকে এতটা দূরে,তন্ময় কোন খোঁজ খবর জানেনা কার সাথে আছে মিলি,কি করছে কিছু জানে না। সেখানে হঠাৎ করে একজন অপরিচিত পুরুষের কন্ঠটা তন্ময়কে খুব বেশি ঈর্ষান্বিত করলো।বোধহয় অস্পষ্ট স্বরে বলল,

"মিলি জীবনে এগিয়ে গেছে বোধহয়!"

_____

গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে।গাড়িতে ওঠার পর থেকে মিলি একটা টু শব্দ অব্দি করেনি।ফরহাদ বুঝতে পারছে যে মিলির মনটা বোধহয় ভালো নেই।কি বলবে,কি বলা উচিত সেসব বুঝতে পারছে না।মনটা যাকে নিয়ে খারাপ তাকে নিয়ে ফরহাদ কোন খারাপ কথা বলতে চায় না।যতই হোক একসময় তন্ময় মিলির ভালোবাসার মানুষ ছিল।ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে হয়তো অন্যের মুখ থেকে খারাপ কথা শুনতে মিলির ভালো লাগবে না।তবে মিলির এই মন খারাপটা ফরহাদের আর ভালো লাগছে না। আগবাড়িয়ে বলে উঠলো,

“মিলি আপনাকে একটা কথা জানানো হয়নি?”

মিলি বাইরে থেকে বৃষ্টি ঘুরিয়ে ফরহাদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

"কি?"

"নেক্সট উইক মিহাদের চিকিৎসার জন্য আমরা এব্রড যাচ্ছি।আমাদের ফিরতে সময় লাগবে।দেখুন এখন তো এখানে আমি আর থাকছি না আপনার খেয়াল রাখার জন্য তাই আমি আপনাকে বলছি অন্তত এই সময়টা আমার অনুপস্থিতিতে আপনার অফিসে আসার কোন দরকার নেই।কোন অসুবিধা হলে কে দেখবে বলুনতো?"

"আমায় নিয়ে চিন্তা বাদ দেন আপনি এখন।মিহাদ কে নিয়ে চিন্তা করুন।আচ্ছা আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?"

"আমি বিবাহিত সেটা আগে কেন জানায়নি তাই তো?

মিলি একটু থতমত খেলো।দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিয়ে বলল,

"হ্যাঁ মানে আসলে...."

ফরহাদ আলতো হেসে বলল,

"জানেন তো মিলি,যখন মিতুর সাথে আমার বিয়ে হয় খুব সুন্দর সংসার চলছিল আমার। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে ভীষণ সন্তুষ্ট।আমি সবাইকে বলতাম আমার সুখী সংসারের কথা।আমার খুব ভালো লাগতো সবার কাছে আমার বউয়ের প্রশংসা করতে,আমার সুখের সংসারে প্রশংসা করতে।এজন্য না আমার মা আমায় খুব বকা দিতো।বলতো আমার সুখে নাকি নজর লাগবে আর দেখুন ঠিক তাই হলো।হঠাৎ করে মিতু কেমন অসুস্থ হয়ে গেল। এত জায়গায় ওর এত টেস্ট করিয়েছি কিন্তু ওর অসুখটা ধরতে পারি না।জানিনা কোন কঠিন রোগ আছে কিনা।ওকে দেখে বুঝলেন তো যে ওর শরীরটা ঠিক নেই।তারপরে এলো আমাদের মিহাদ।আর দেখুন আমার ছেলেটাকেও এই অসুখ ছাড়লো না।জানেন তো এরপর আমার মনে হলো,সত্যিই আমার সুখে কারো নজর লেগে গেছে।তারপর থেকে আমি আমার পরিবারের গল্প আর কারো কাছে করি না।"

ফরহাদের কথা শুনে মিলির বুক চিড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসলো।একটা সময় তো মিলি তন্ময়কে নিয়েও খুব গর্ব করতো।সবার কাছে বলে বেরাতো তন্ময় আলাদা।মিলির তন্ময় ওকে খুব ভালোবাসে।তবে কি মিলির সুখেও কারো নজর পড়েছিল?হতেই পারে। সেই জন্যই তো আজ না আছে শান্তি,না আছে সেই সংসার আর না আছে সেই ভালোবাসার মানুষ।

মিলির নীরবতার মাঝে ফরহাদ আবারও বলল,

"জানেন মিলি,মিতু না খুব সহজ,সরল, বোকা।ও কিন্তু অনেক উচ্চ শিক্ষিত।কিন্তু তারপরও জানেন শুধুমাত্র ওর কথা,যে আমি ওর থেকে সুন্দর জন্য আমাকে নিজের মনের কথাটা জানাতে খুব ভয় পাচ্ছিলো।জানেন এখনো কত বোকামো করে?আর আমার ওর বোকামো গুলো খুব ভালো লাগে।ওর সাথে আমার অনেক দিনের বন্ধুত্ব ছিল কিন্তু সত্যিই কখনো বুঝতে পারিনি যে মিতু আমার প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণতি হয়েছে।আমার নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয় যে আমি ওর মতন একজন স্ত্রী পেয়েছি।"

মিলি মুগ্ধ হলো ফরহাদের প্রত্যেকটা কথায়।কে বলেছে যে পুরুষরা শুধু ঠকাতেই জানে? ফরহাদের মতন কিছু পুরুষরা নিজেদের স্ত্রীকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসতেও জানে।

______

বেশ সকাল সকাল দরজায় জোরে জোরে করাঘাতের শব্দে তন্ময়ের ঘুম ভাঙলো।কাল বেশ অনেক রাত করেই ঘুমিয়ে ছিল যার ফলে সকাল ১০ টা বাজছে তাও চোখ থেকে ঘুম সড়ছেনা।তবে কে এমন পা/গলের মতন কলিংবেল বাজিয়ে দরজায় কড়াঘাত করছে সেটাই ভাবনার বিষয়।গা থেকে কাঁথাটা সরিয়ে ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।দরজা খুলে সামনে কয়েকজন অপরিচিত মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একটু ভরকালো।একজনকে দেখেও তন্ময়ের ভদ্র বলে মনে হলো না।চোখে মুখে তাদের যেন এক অন্যরকম হিংস্রতা।তন্ময় প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করলো,

“কে আপনারা?”

“তোর বাপ।”

তন্ময় কি ভেবে যেন হেসে উঠলো।হাসতে হাসতে বলল,

“আমার মনে হয় আপনার ভুল ফ্ল্যাটে চলে এসেছেন।আমার বাবা গ্রামে থাকে।”

এবার একটা বলিষ্ঠ হাত তন্ময়ের কলার চেপে ধরল।মুহূর্তের মাঝে তন্ময়ের ঠোঁট থেকে হাসি উড়ে গেল।কিঞ্চিত রাগান্বিত গলায় বলল,

“কি করছেন?কলার ছাড়ুন।”

“বেশি বাড়াবাড়ি করলে না একদম গলা কে/টে রেখে যাবো।টাকা নিয়েছিস আজ কতদিন হলো মনে আছে?সুদ দেসনা,আসল দেসনা।জানিস তোর সেই চার লাখ টাকা এখন সুদে বেড়ে গিয়ে কত হয়েছে?আট লাখ টাকা।সেই সাথে প্রত্যেক মাসে ঠিক সময় টাকা পরিশোধ না করার জন্য আরো এক লাখ টাকা।মোটে নয় লাখ টাকা তুই এক্ষুনি দিবি না হলে তোকে সাথে করে নিয়ে যাব।”

“আরে অদ্ভুত তো।নয় লাখ টাকা এখন কোথায় থেকে দেবো আমি?আমি যদি এত বড়লোক হতাম তবে কি আপনাদের থেকে ধার নিতাম?আর নিলাম চার লাখ টাকা ফেরত নয় লাখ টাকা দেবো কেন?”

“কাগজে সই করার সময় হুঁশ ছিল না?তখন পড়ে সই করিস নি?”

“হ্যাঁ করেছিলাম তো।কিন্তু ওখানে তো শুধু লেখা ছিল যে চার লাখ টাকা এক বছরের মধ্যে ফেরত দিতে হবে যা সুদ সহ ছয় লাখ টাকা হবে।সেখানে আপনারা বলছেন আট লাখ টাকা আবার কিসের জরিমানা এক লাখ টাকা?”

বিজ্ঞাপন

“কানের নিচে একটা লাগালেই না ভুলভাল হিসাব করা তোর বের হবে।শা/লা মূর্খ নাকি তুই?আর তাছাড়া তোর বন্ধুকে তো ভাই সবকিছু ঠিকঠাক করে বুঝিয়ে দিয়েছিল তাহলে তুই বুঝছিস না কেন?”

এবারে যেন তন্ময় ব্যাপারটা বুঝতে পারলো।

তার মানে সবকিছু রাজীব ইচ্ছে করে করেছে।ইচ্ছে তো করছে এখন গিয়ে রাজীবের মাথাটা ফা/টিয়ে দিয়ে আসতে তবে কোন উপায় নেই তন্ময়ের হাতে।এবারে কন্ঠটা নরম করলো।অনুনয়ের গলায় বলল,

“দেখুন আমি তো পালিয়ে যাচ্ছি না কোথাও।পালিয়ে গেলেও আপনারা ঠিক ধরে ফেলবেন তাই এত চেঁচামেচি করার দরকার নেই।আমি দিয়ে দেবো টাকা।”

“শা/লা কু/ত্তার বাচ্চা এতদিনে এক টাকা শোধ করতে পারিসনি কোন মুখে বলছিস যে দিয়ে দিবি টাকা?আর কি ভেবেছিস পালিয়ে গেলে বেঁচে যাবি?যেখানে পাব ওখানে গিয়ে পুঁ/তে রেখে আসবো।আমাদের ভাইয়ের টাকা হজম করা অত সহজ না বুঝতে পেরেছিস?”

“করবো না হজম।আমি বলছি তো দিয়ে দেব এখন ছাড়ুন আমায়।কেউ দেখে ফেললে আমার সম্মানের কি হবে?আপনারা যান আমি দিয়ে দেব।”

বাইরে এত চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে পাশের ফ্ল্যাট থেকে জ্যোতি বেরিয়ে এসে তন্ময়ের এমন হাল দেখে আঁৎকে উঠলো।মৃদু চিৎকার করে উঠে বলল,

“মার/ছেন কেন ওনাকে?”

লোকটা জ্যোতির দিকে তাকিয়ে বলল,

“আপনার তাতে কি?আপনাকে তো কিছু করছি না।দরজা বন্ধ করে দিয়ে ঘরে গিয়ে বসে থাকুন।”

“বললেই হলো নাকি?আপনাকে ভেতরে ঢুকতে দিল কে?বাড়ির ভেতরে এসে গুন্ডামো শুরু করেছেন।”

“এই যে ম্যাডাম বেশি কথা বলবেন না।উনি সুদের ওপর টাকা নিয়ে সেগুলো শোধ করছে না তো ওনাকে কি আদর করবো?ওর কপাল ভালো যে এখনো ওর সাথে কিছুই করিনি শুধু এসে কলারটুকু ধরেছি।এরপর হাত সোজা গলায় যাবে।”

জ্যোতি বোধহয় আরো কিছু বলতে চাইলো তবে তন্ময় ওকে থামিয়ে দিল।

“আপনি ভিতরে যান জ্যোতি,আমি সামলে নেব।”

জ্যোতি রাগান্বিত গলায় তন্ময় কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“গা/ধা কোথাকার।জীবনে যদি একটা কোন কাজের কাজ করতেন তবুও বলতাম।মাথার মধ্যে বুদ্ধি আছে নাকি নেই?আপনার তো হাঁটুতেও বুদ্ধি নেই।বেয়া/দব, অসভ্য লোক কোথাকার।এরপর আবার মিলি কে ফোন করে বলে ফিরে আসতে।আসলে আপনাকে ইচ্ছেমত বাঁশ দেওয়া উচিত।”

তন্ময় আপাতত জ্যোতির কথায় কান দিল না।

লোকগুলোকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্নভাবে আকুতি মিনতি জানালো যেন আর একটু সময় দেয়।অবশেষে তারাও দয়া করে তন্ময়কে একমাস সময় দিল।সেই সাথে এটাও বলল যে এক মাস পর যদি টাকা ফেরত দিতে না পারে তাহলে অবস্থা খারাপ করবে।এর পরে আর কোন সুযোগ দেবে না।

লোকগুলো চলে যেতেই জ্যোতি আবারও তন্ময় কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“কিভাবে ফেরত দেবেন টাকা?”

“দিয়ে দেবো কোনমতে।”

“কিডনি বেঁচবেন নাকি?”

তন্ময় আঁৎকে উঠে বলল,

“কিডনি বেঁচতে যাব কেন?ওটা বেচলে বাঁচবো কি দিয়ে?”

“কেন কাল রাতে তো চেঁচাচ্ছিলেন যে আপনার নাকি আর বাঁচার ইচ্ছে নেই তবে ওটা বেঁচলেই সমস্যা কি?”

তন্ময় কিঞ্চিৎ বিরক্তিকর গলায় বলল,

“আপনি বড্ড বেশি কথা বলেন।”

“কাজের কথা বললাম তো সেজন্য আপনার গায়ে লাগলো বেশি।তা আপনার কি বাপ মা চৌদ্দগুষ্টি কেউ নেই?নাকি বাঁচানোর জন্য এক মিলিই ছিল?”

তন্ময় দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,

“সবাই ছিল কিন্তু মিলির সাথে সাথে সবাই চলে গেছে।”

“তাই যাবে।আমার এখন মনে হচ্ছে কিছুদিন পর আপনার কিডনিও চলে যাবে।শা/লা ব/লদ কোথাকার।”

কথাগুলো বলে জ্যোতি ঘরের ভিতরে চলে গেল।তন্ময়ও ভিতরে চলে গেল।এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে তো আর কোন উপায় বের হবে না টাকাগুলো শোধ করার।দেখা যাক বাড়িতে ফোন করে একটু আকুতি মিনতি করলে যদি জমি জমা বিক্রি করে কিছু টাকা দেয় তন্ময় কে।আর বাকি রইল রাজীব।ওকে তো পরে দেখে নেবে।সময় একদিন তন্ময়েরও আসবে সেদিন রাজীবকে বোঝাবে যে তন্ময় কি জিনিস।

______

মিলির মনটা আজ ভীষণ খারাপ।গতকাল ফরহাদরা চলে গিয়েছে বিদেশে মিহাদের চিকিৎসার জন্য।যাওয়ার আগে মিহাদের মুখটা দেখে মিলির ভীষণ খারাপ লেগেছে।আরো যেন অসুস্থ হয়ে গেছে বাচ্চাটা।শরীরের দুর্বলতা গুলো যেন আরো বেড়েছে।মিলির এসব ভাবনার মাঝেই ওর ফোনটা বেজে উঠল।হাতে নিয়ে দেখলো জ্যোতির নাম্বার থেকে কল এসেছে।মিলি হাসলো।মেয়েটা রোজ নিয়ম করে মিলির খোঁজ-খবর নেয়,নিজের খেয়াল রাখার জন্য মিলি কে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়।যদি শোনে মিলি কোন অনিয়ম করেছে তাহলে আবার বকাবকিও করে।

ফোনটা কানে ধরে বেশ কিছুক্ষণ দুজনে গল্পগুজব করল।একপর্যায়ে জ্যোতি একটু ইতস্তুত গলায় বলল,

“তোমায় একটা কথা বলবো মিলি তুমি আবার রাগ করবে না তো?”

“রাগ করতে যাব কেন?”

“আসলে অনেকদিন থেকেই তোমায় কথাটা বলতে চাইছিলাম কিন্তু বলতে পারছিলাম না।”

“আচ্ছা আজ বলো।”

“জানো তন্ময় না অনেক সমস্যার মধ্যে আছে।”

মিলি বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,

“তাতে আমি কি করবো জ্যোতি?”

“আরে না তোমায় কিছু করতে বলছি না।তুমি জানো কি হয়েছে ওর সাথে?তোমায় ডিভোর্স দেওয়ার জন্য ও সুদের ওপরে টাকা ধার করেছিল গুন্ডাদের কাছ থেকে।এক সপ্তাহ আগে বাসায় এসে ওকে মা/রধর করেছে,হুমকিও দিয়েছে।ওই গা/ধা তো কোথাও থেকে টাকা পাচ্ছে না।ওর বাড়িতে ফোন করেছিল ওর বাবা মা নাকি টাকা দিতে অস্বীকার করেছে।বলেছে ওর সাথে কোন সম্পর্কই নেই।আর চাকরি?সে তো ওর সাধ্যের বাইরে।মানে আমার মনে হয় ওর এখন কিডনি বেঁচা ছাড়া কোন উপায় নেই।”

ব্যাপারটা এবার মিলির কাছে একটু গুরুতর লাগলো।তবে পরক্ষণেই আবার হাসিও পেল।কতটা তাড়া ছিল তন্ময়ের মিলির থেকে ছাড়া পাওয়ার যে সুদের উপর থেকে টাকা ধার নিতে দ্বিতীয়বার ভাবেনি।

“তুমি নিশ্চিত যে ওর বাড়ি থেকে ওকে টাকা দেবে না বলেছে?”

“হ্যাঁ।ও নিজেই বলল ওর সাথে নাকি কেউ সম্পর্কই রাখেনি।এখন আমার তো ভয় করছে।ওকে এক মাস সময় দিয়েছে তার মধ্যে যদি ও নয় লাখ টাকা দিতে না পারে কি যে অবস্থা করবে কে জানে?যে লোকগুলো এসে ওকে মে/রেছিল না ওদেরকে দেখতে তো একটুও ভালো লাগেনি।দিনরাত মানুষ খু/ন করাই হয়তো ওদের কাজ।সত্যি বলতে মিলি ও মানুষটা যতই খারাপ হোক কিন্তু তাই বলে ম/রে যাবে কথাটা মনে হলে না খারাপ লাগছে।”

মিলি আঁৎকে উঠে বলল,

“ম/রে যাবে বলছ কেন?ম/রে যাওয়া এত সহজ নাকি?”

“ম/রাটা সহজ না হলেও মা/রাটা অনেক সহজ মিলি।”

“তাও ঠিক বলেছ।”

জ্যোতি আরো কিছু বলতে চাইলো তবে মিলি একটু তাড়া দেখিয়ে বলল পরে কথা বলবে।

বসা থেকে উঠে গিয়ে আলমারির ভিতর থেকে একটা ডায়েরি খুঁজে বের করলো।ডায়েরি থেকে একটা নাম্বার বের করে সেটা ফোনে তুলে কল লাগালো।

প্রথমবারেই অপর পাশ থেকে কলটা রিসিভ করলো।

“আসসালামু আলাইকুম বাবা।কেমন আছো?”

আমজাদ সাহেব থমকালেন।কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সন্দেহী গলায় বললেন,

“মিলি মা?”

“হ্যাঁ বাবা আমি মিলি।”

“কেমন আছো তুমি মা?এভাবে তাই বলে আমাদের সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় কেউ?মানছি আমার ছেলের জন্য তোমার জীবনটা শেষ হয়ে গেল তাই বলে আমরা কি তোমায় ভালোবাসিনি?আমাদের কোন মূল্য নেই?”

“জানি তো বাবা তোমরা আমায় ভালোবেসেছো। আমার কাছে তোমার গুরুত্ব অনেক বাবা।আমি জানি তোমাদের কাছে আমার গুরুত্ব আছে আর সেই থেকেই আজ তোমার কাছে একটা আবদার করতে এসেছি।রাখবে আমার আবদার?”

আমজাদ সাহেব অপরাধী গলায় বলল,

“জীবনটা তো তোমার শেষ হয়ে গেছে মা আমার ছেলের কারণে।বলতে গেলে আমার ছেলেকে দেওয়া হয়তো আমার শিক্ষাটাই ঠিক ছিল না সে দিক থেকে দেখতে গেলে আমিও কোন না কোন ভাবে দায়ী।এখন যদি তোমার কোন ইচ্ছে পূরণ করতে পারি তবে হয়তো আমি একটু শান্তি পাবো।”

“তন্ময় কে টাকাটা দিয়ে দাও বাবা।”

ফোনের অপর থেকে আমজাদ সাহেবের কন্ঠস্বর ভেসে এলো না।তিনি হয়তো ভাবছেন মিলির হঠাৎ এই আবদারের কারণ কি?হয়তো তিনি ভাবতেও পারেনি যে মিলি তন্ময় কে নিয়ে আবার কোন আবদার করতে পারে।তবে গম্ভীর গলায় বললেন,

“ও তো আমার কেউ হয় না মা যে আমি ওকে আমার কষ্টের উপার্জন করা টাকা দেব।”

“নিজের র/ক্ত কে তুমি অস্বীকার করতে পারো না বাবা।একটা জিনিস ভেবে দেখো দিনশেষে ও তোমাদের নিজের ছেলে,আমি তো পরের মেয়ে, তোমাদের ছেলের বউ।তুমি জানো তন্ময় তোমাদের কত ভালো ছেলে।জানিনা এখন কি হয়েছে তবে ও তোমাদের ভীষণ ভালোবাসে বাবা।ও মা এর কতটা আদরের একবার ভাবো তো।”

আমজাদ সাহেব তাচ্ছিল্য গলায় বললেন,

“সে তো দেখতেই পাচ্ছি মা যে ও তোমার মায়ের কতটা আদরের।এতটাই আদরের যে ছেলের সব অন্যায় ভুলে গিয়ে এখন ছেলেকে বাঁচানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছে।”

“দেখলে তো বাবা এজন্যই বলছিলাম যে তুমি নিজের র/ক্ত কে অস্বীকার করতে পারবেনা।আমি তোমাদের পর,আমার জন্য নিজেদের ছেলেকে কষ্ট দিও না।যাদের টাকাগুলো ধার নিয়েছে তারা ভালো মানুষ না বাবা।ওর ক্ষতি করতে ওরা দুবার ভাববে না।আমার কথা ছাড়ো।আমি বেশ ভালো আছি।তন্ময়কে ছাড়া আমি খুব ভালো আছি।আমি বলছি না যে ওকে তুমি ক্ষমা করে দাও,ওকে বুকে টেনে নাও।শুধু বলবো ওকে টাকাটা দিয়ে সাহায্য করো।তোমরা ছাড়া তো ওর আর কেউ নেই।”

“সে তো তোমারও তন্ময় ছাড়া কেউ ছিল না।ও কি তোমার কথা ভেবেছে?”

“তুমিও যদি সেই একই কাজটা করো বাবা তাহলে ওর আর তোমার মাঝে পার্থক্য কি থাকলো?আমি জানি তোমার মন যতই শক্ত হোক না কেন কিন্তু নিজের সন্তানের লা/শ বহন করার ক্ষমতা তোমার এখনো হয়নি।আমি তোমাকে অনুরোধ করছি না বাবা।তুমি তো আমাকে তোমার মেয়ে বলো তবে তোমার মেয়ে হওয়ার অধিকার থেকে বলছি তন্ময়কে টাকাটা দিয়ে দাও।তুমি যদি চাও আমি ভালো থাকি তবে বলব তন্ময়কে টাকাটা দিয়ে দাও।”

“এত কিছুর পরও কেন ওর হয়ে কথা বলছো মা?ওকে একটু শাস্তি পেতে দাও।”

“ওর শাস্তি আমি চাই বাবা কিন্তু মৃত্যু না।মৃত্যু কখনো কারো শাস্তি হতে পারে না।বরং মৃত্যু হলে ও দুনিয়ার সব শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে।ওকে টাকা না দিলে ও এর জন্য সারা জীবন আমায় দায়ী করবে।আর কত অপরাধের বোঝা আমি বইবো বলো?আমি সব রকম অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পেতে চাই বাবা।আমাকে মুক্তি দাও তুমি।”

অবশেষে মিলির জোড়াজুড়ি তে আমজাদ সাহেব রাজি হলো।একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,

“বেশ আমার যতটা সামর্থ্য সাহায্য করবো ওকে।তবে জানে তো মা আমার খুব আফসোস হচ্ছে ওর জন্য।আমি জানিনা ও নিজের ভুলটা বুঝতে পারে কিনা তবে আমার খুব আফসোস হচ্ছে ওর জন্য।আমার বোকা ছেলেটা বুঝলো না যে ও খাঁটি হীরা হারিয়ে ফেলেছে।”

মিলি আবারো তাচ্ছিল্য হেসে বলল,

“তোমার চোখ যদি কয়লার উপরে থাকে বাবা তবে খাঁটি হীরের মূল্য তুমি কি করে বুঝবে বলো?”

বিজ্ঞাপন
রিক্ত বসন্ত গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সামাজিক ও পারিবারিক উপন্যাস