রিক্ত বসন্ত

পর্ব - ২০

🟢

ফ্ল্যাটে এসে আগে একটা লম্বা শাওয়ার নিল তন্ময়।ভীষণ খিদে পেয়েছে।ইচ্ছে করছে একটু ঘরোয়া রান্না খেতে।বাইরের খাবার তন্ময়ের কখনো অতি প্রিয় ছিল না।বরং খেলে সমস্যা হয়।কিন্তু মাঝে বেশ কয়েক মাস হলো জেসির জন্য অভ্যেস করতে হয়েছে।তবে জেসির সাথে থাকলে শুধুমাত্র বাধ্য হয়েই খেত,নয়তো বাইরের খাবার একদমই অপছন্দ তন্ময়ের।শরীর সায় জানালো না তবুও জোর করে রান্না ঘরে গেল।ফ্রিজ খুলে দেখল ফ্রিজে মাছ মাংস কিচ্ছু নেই।কিছু সবজি পড়ে আছে সেগুলো পঁচে গেছে।বুঝল যে বাইরের খাবার না খেয়ে কোন উপায় নেই।তবে এখন আর বাইরে যাওয়ার ইচ্ছে হলো না।ভাবলো অনলাইনে অর্ডার করবে।ঠিক সেই উদ্দেশ্যে ফোনটা হাতে নিতেই জেসির নাম্বার থেকে কল এলো।তন্ময়ের মাঝে বিশেষ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না।না খুশি হলো,না রাগ করলো।ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে জেসি ব্যাতিব্যস্ত গলায় বলল,

“কেমন আছো তন্ময়?ঠিক আছো তো?জানো খুব চিন্তায় ছিলাম তোমায় নিয়ে।রাতে ঘুমোতে পারতাম না ঠিকমত।ওরা কি তোমায় মে/রেছে নাকি?ইচ্ছে তো করছে ওই মিলিকে গিয়ে আমি ঠাস ঠাস করে কয়েকটা লাগাই।ওর জন্য তোমায় কত কষ্ট করতে হলো।”

তন্ময় সহজ স্বাভাবিক গলায় প্রশ্ন করল,

“এতগুলো দিন কোথায় ছিলে তুমি?”

তন্ময়ের সরাসরি এমন প্রশ্নে জেসি একটু থতমত খেলো।খুব দ্রুত একটা অজুহাত বানিয়ে নিয়ে বলল,

“কোথায় থাকবো আমি?একটা বাড়ি ভাড়া নিয়েছি ওখানেই থাকছি।”

“খোঁজ পেলে কি করে যে আমি ছাড়া পেয়েছি?”

“আমি তো রাজিবের থেকে শুনলাম।ও তো আজ ছাড়া পেয়েছে।”

“এতদিন আমার খোঁজ নাওনি কেন?আমার চিন্তায় তোমার রাতের ঘুম হচ্ছিল না অথচ একটা বার আমায় তো দেখতেও গেলে না?তোমার পক্ষ থেকে আমাকে ছাড়ানোর জন্য কোন তাড়াই আমি দেখিনি।এসবই কি তোমার চিন্তার নমুনা?”

তন্ময়ের থেকে এই কথাগুলো জেসির জন্য একদমই অপ্রত্যাশিত ছিল।তন্ময় যে এসব বলতে পারে সেসব তো জেসি কল্পনাতেও ভাবেনি।ভেবেছিল ফোন করে একটু সোহাগ দেখালেই,দু'চারটে কথা বললেই হয়তো গলে যাবে তন্ময়।এখন তো মনে হচ্ছে তন্ময় বিগড়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।কিন্তু এমনটা হলে তো চলবে না।জেসি নিজেকে খুব তাড়াতাড়ি ভালো করে প্রস্তুত করলো যেন তন্ময়ের মাথা থেকে এই ভাবনা গুলো ছাটাই করতে পারে।

“আসলে আমি খুব অসুস্থ ছিলাম তন্ময়।আমি বিছানা থেকে উঠতে পারছিলাম না।আর তাছাড়া রাজিব আমায় বলে গিয়েছিল আমি যেন তোমার সাথে দেখা করতে না যাই।কারণ ওখানে আমি গেলে আমার নামেও কেস করে দিতে পারে।তখন আমরা কি করতাম বলো?আর আমি তোমার জন্য উকিল ঠিক করতে গিয়েছিলাম কিন্তু আমার কাছে উকিলের টাকা দেওয়ার মতন টাকা নেই।আমি কি করতাম বলো জান?”

“থাক বাদ দাও সেসব কথা।আমি বুঝে গেছি খুব ভালো করে আমার কিছু হয়ে গেলে তোমার কিচ্ছু যায় আসেনা।”

“কি বলছো তুমি এসব তন্ময়?আই লাভ ইউ।আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি তুমি জানো না?বুঝতে পেরেছি ফোনে তোমায় এসব কথা বললে হবে না।তুমি তোমার ফ্ল্যাটে আছো তো?”

তন্ময় ছোট্ট করে উত্তরে বলল,

“হ্যাঁ।”

“কিছু খেয়েছো?”

“না।বাড়িতে কোন খাবারই নেই অর্ডার করতে হবে।”

“অর্ডার করতে হবে না।আমি নিজের হাতে তোমার জন্য রান্না করে নিয়ে আসছি কেমন।আমি জানি আমার জান আমার উপরে অভিমান করেছে।চিন্তা করোনা আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে তোমার সব অভিমান দূর করে দেব।আ'ম কামিং বেইবি।”

_________

“কোথায় বাসা ভাড়া নিয়েছো তুমি?”

হঠাৎ তন্ময়ের এমন প্রশ্নে জেসি একটু থতমতো খেল। আগে থেকে তো ঠিক করে আসেনি যে কি ঠিকানা বলবে।এখন হঠাৎ করে মাথায় কোন ঠিকানাও আসতে চাইছে না।আবার কোথায় কি বলে দেবে তন্ময় হুট করে গিয়ে সেখানে খোঁজ করলে পাবে না তো জেসি কে।জেসিকে চুপ করে থাকতে দেখে তন্ময় একবার ওর মুখের দিকে তাকালো।কে জানে কি ভাবল?গম্ভীর গলাতে পুনরায় প্রশ্ন করল,

“এই প্রশ্নের উত্তর দিতে এত সময় লাগছে?”

জেসির ধ্যান ভাঙল।খুব কষ্টে মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে বলল,

“ওই তো আমি আগে যেখানে থাকতাম না,মানে আমার ভাইয়ের বাসা তার পাশেই যেই এলাকাটা আছে,কি যেন নাম আমার ঠিক মনে পড়ছে না।”

“ঠিকানাটা দিও আমায়।”

তন্ময়ের কথা শুনে জেসি তৎক্ষণাত বলল,

“ঠিকানা দিয়ে তুমি কি করবে?”

“যদি কখনো দরকার হয় দেখা করে আসবো গিয়ে।কেন সমস্যা আছে তোমার?”

“হ্যাঁ অবশ্যই সমস্যা আছে।ওটা লেডিস হোস্টেল। ওখানে তুমি গেলে ঢুকতে দেবে না তো।তাই তোমায় যেতে হবে না।আর তুমি ওখানে গিয়ে কি করবে?তোমার ওখানে যাওয়ার দরকার নেই।এখন তো তোমার বাসাটা ফাঁকা আছে যখন আমায় দেখতে মন চাইবে আমাকে বলবে আমি চলে আসবো।”

তন্ময় আর কথা বাড়ালো না।মাথা তুলে দেয়াল ঘড়িতে একবার সময় দেখে নিল।রাত নয়টা বাজে।জেসিকে তাড়া দিয়ে বলল,

“লেডিস হোস্টেলে থাকো বেশি রাত করলে তো ঢুকতে দেবে না।তুমি এখন যাও।”

তন্ময়ের এত নির্লিপ্ততা জেসির পছন্দ হলো না।যে ছেলে এতদিন জেসির সাথে একটু সময় কাটানোর জন্য কেমন পাগলামো করতো,দিনরাত অজুহাত খুঁজে বেড়াতো জেসি কে ছোঁয়ার আজ সেই ছেলে এমন করছে?জেসি আজ নিজেকে সপে দিতে চাইছে তন্ময়ের কাছে আর আজ কিনা সেই তন্ময়ের চোখ মুখে কোন আগ্রহ নেই,কোন পাগলামো কিচ্ছু নেই।

জেসির ভয় হলো।মনের মধ্যে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়ে গেল।তন্ময় ওর হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না তো?তন্ময় ছেড়ে দেবে না তো ওকে?মিলি তো বলেছিল যে যদি তন্ময়ের পছন্দ মিলির উপর থেকে ওর ওপরে যেতে পারে তবে জেসির ওপর থেকে অন্য কারোর উপরে যেতে সময় লাগবে না।তবে কি সেটাই সত্যি হচ্ছে?

নিজের ভাবনার উপরে জেসি নিজেই ভীষণ বিরক্ত হলো।এড়িয়ে যেতে চাইলো নিজের ভাবনাকে।মস্তিষ্কের এসব আজেবাজে কথায় খুবই বিরক্ত হলো।মিলির কথা কেন সত্যি হতে যাবে?ও কে?আর ওর কথার এত গুরুত্বই কেন দিচ্ছে জেসি?

যে করেই হোক তন্ময়ের চোখে জেসির গুরুত্ব আবার বাড়াতে হবে।জেসির জন্য তন্ময়ের পাগলামিটা ফিরিয়ে আনতে হবে।

তন্ময় তখন আলমারিতে কি যেন একটা খুঁজছে তবে কাঙ্খিত জিনিসটা কোনমতেই খুঁজে পাচ্ছে না।পাবে কি করে?বিয়ের পর থেকে তো নিজের কোন কিছুই গুছিয়ে রাখে না।সবটাই মিলি করতো।যখন যেটা প্রয়োজন হতো শুধু একবার মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতো অমনি হাতের কাছে এনে রেখে দিত মিলি ওর প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো।

কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা না পেয়ে বেশ বিরক্ত হলো তন্ময়।আলমারিটা বন্ধ করে পিছন ফিরতেই একদম বেশ নিকটে জেসি কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল।একটু চমকালও অবশ্য।

“এখানে কি করছো?”

জেসির ঠোঁটে তখন এক রহস্যময় হাসি।পরনে তার একদম আধুনিক পোশাক।স্লিভলেস ক্রপটপ তার সাথে একটা লং কটি আর ডেনিম জিন্স।এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে মেয়েটা দেখতে অত্যাধিক সুন্দরী।সেই সাথে আধুনিক এইসব পোশাকে মেয়েটাকে বেশ মানায়।হালকা কালার করা চুলগুলো এই পোশাকের সাথে জেসির সৌন্দর্য যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে তন্ময় অপেক্ষা করছে প্রশ্নের উত্তর শোনার জন্য।তবে জেসি সেসবের কোন উত্তর দিল না।পড়নে থাকা ফুলস্লিভ লং কটিটা খুলে ফেলল।উন্মুক্ত হলো তার শরীরের কিছুটা অংশ।স্লিভলেস ক্রপটপ পড়ায় বেশ অনেকটাই উন্মুক্ত হলো তার শরীর।তন্ময় যেন অবাক না হয়ে পারলো না।

“কি করছো?”

তন্ময়ের ঠিক যতটা কাছাকাছি দাঁড়ানো সম্ভব জেসি ঠিক ততটাই কাছাকাছি দাঁড়ালো।কন্ঠে একরাশ মাদকতা টেনে এনে বলল,

“এতদিন তো তুমি আমায় খুব কাছ থেকে চাইতে তাই না?তন্ময় দেখো আজ আমি তোমার একদম কাছে দাঁড়িয়ে আছি।এতদিন আমি তোমায় অনেক বাঁধা দিয়েছি কিন্তু আজ তোমায় কোন বাঁধা দেবো না।আমি আজ নিজেকে তোমার কাছে সপে দিলাম।আমার ভালোবাসায় আজ আমি তোমার কাছে হার মেনে নিলাম তন্ময়।”

তন্ময়ের নজর পরলো জেসির উন্মুক্ত বাহুর উপর।নজর পরলো জেসির কোমরের খানিকটা উন্মুক্ত অংশের দিকে।তবে কেন যেন খুব তাড়াতাড়ি দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল।তন্ময়ের এমন আচরণে জেসি যেমন অবাক হলো ঠিক তেমনি অবাক হলো তন্ময় নিজেও।বুঝতে পারছে না তন্ময় ওর সাথে হচ্ছেটা কি?তন্ময় এসবই তো চেয়েছিল।তবে আজ জেসি কে এত কাছে পাওয়ার পরও কেন দূরে ঠেলে দিচ্ছে?আবারও তন্ময়ের মনে শুধু প্রশ্নই রয়ে গেল কিন্তু উত্তর খুঁজে পেল না।

জেসি খুব তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিয়ে তন্ময়ের গালে হাত রেখে পুনরায় নেশালো গলায় বলল,

“মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছো কেন তন্ময়?দেখো এখন আর আমাদের মাঝে কোন বাঁধা নেই।আমি এতদিন তোমাকে আমার কাছে আসতে দেইনি তার কারণ আমি ভয় পেতাম যদি আমরা দুজনে এক না হতে পারি তখন আমার কি হবে।কিন্তু এখন তো আর কোন বাঁধা নেই বলো?দেখো সেই জন্য আমি তোমার কাছে দাঁড়িয়ে আছি।একবার আমার দিকে ভালো করে দেখো আমি জানি তুমি নিজের দৃষ্টি আর ফেরাতে পারবে না।তুমি নিজেকে সামলাতে পারবে না।আগে যেমন উম্মাদ হয়ে উঠতে তুমি আমার শরীরের গন্ধে ঠিক তেমনি আজও হবে।”

তন্ময় চাইলো,খুব করে চাইলো তাকাতে।জেসির কথাগুলো ওর মাঝে প্রভাব ফেলল বোধহয় একটু তবে কেন যেন চেয়েও তাকাতে পারল না।জেসি কে সামনে থেকে সরিয়ে দিয়ে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেল।জেসি হতভম্ব হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল।পিছন ফিরে তাকিয়ে বিস্ময় ভরা কন্ঠে তন্ময় কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তুমি আমাকে এভাবে ইগনোর করছো তন্ময়?”

জেসির দিকে তাকাতে পারল না তন্ময়।খেয়াল করলো ও ঘামছে।কেন ঘামছে জানে না।তবে ভীষণ অস্বস্তি বোধ হচ্ছে,অস্থিরতা কাজ করছে ভেতরে।

তাড়াহুড়ো কন্ঠে জেসিকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তুমি বাড়ি চলে যাও।এসব আজ সম্ভব না।যদি অন্য কোনদিন সম্ভব হয় তখন দেখা যাবে।আজ সম্ভব না।বাড়ি চলে যাও,অনেক রাত হয়েছে।”

জেসির এবারে ভীষণ রাগ হলো।তন্ময় ওকে ইগনোর করছে এই কথাটা ঠিক মেনে নিতে পারছে না।যেখানে হাজার একটা ছেলে ওর পেছনে ঘোরে,ওর সাথে একবার কথা বলার জন্য পাগল তারা সেখানে জেসি নিজে এগিয়ে এসে তন্ময়কে নিজেকে সঁপে দিতে চাচ্ছে আর তন্ময় এভাবে অপমান করছে।

সোজা গিয়ে তন্ময় এর মুখোমুখি দাঁড়ালো।দুহাতে টি-শার্টের কলার ধরে রাগান্বিত গলায় বলল,

‘তুমি কি আমাকে ছেড়ে দিতে চাইছ তন্ময়?তুমি আমাকে ঠকাতে চাইছো তাই না?”

“এর মাঝে এসব কথা কোথায় থেকে আসছে জেসি?আমি তোমাকে ছাড়তে চাইবো কেন?তোমাকে বিয়ে করতে চাই জন্যই তো মিলি কে ছেড়ে দিলাম।”

“তাহলে আমার কাছাকাছি আসতে তোমার কিসের এত অসুবিধা?আমি যখন চাইছি আমাদের মাঝে এই দেয়াল আর না থাকুক তাহলে তোমার অসুবিধা কেন হচ্ছে?তুমি তো আরো আগে চাইতে আমাদের মাঝে এসব হোক।”

তন্ময় এবার মৃদু রাগান্বিত গলায় বলল,

“আরে বাবা আমার হচ্ছে এখন অসুবিধা।আমার ইচ্ছে করছে না এখন এই সব।প্লিজ তুমি এখন এখান থেকে যাও।অনেক রাত হয়ে গেছে এমনিতেই।আমার ভালো লাগছে না এসব।”

“ঠিক আছে যাচ্ছি আমি আজ।তবে মনে রেখে তন্ময় আজ তুমি আমায় যে অপমানটা করলে তার দাম তোমায় দিতে হবে,অবশ্যই দিতে হবে।আমি সব ভুলি কিন্তু নিজের অপমান ভুলি না কথাটা মাথায় রেখো।”

কথাটা বলে জেসি বেরিয়ে গেল।তন্ময় একবারও আটকালো না।জেসি বেরিয়ে যেতেই তাড়াহুড়ো করে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে যেন একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।

তাড়াহুড়ো করে ঘরে এসে এক গ্লাস পানি খেল।হাত দিয়ে কপালের ঘাম টুকু মুছে নিল।এখন একটু হলেও যেন শান্তি লাগছে।তন্ময় নিজের কাছে নিজেই প্রতিজ্ঞা করলো যে আর কখনো জেসি কে বাড়িতে আসতে বলবে না।

অনেক রাত হয়েছে ভাবলো এখনো ঘুমোনো যাক।পাশ ফিরে তাকাতেই দেখল বিছানার উপর জেসির স্কার্ফটা রাখা।সেটা দেখে যেন তন্ময়ের মনে এক প্রকার আতংক ছেয়ে গেল।বিরক্তও লাগলো।জেসির কথা মনে হতেই একটু ঘৃণাও হলো বোধহয়।মেয়েরা যে এতটা নির্লজ্জ হতে পারে সেটা তন্ময়ের জানা ছিল না।আগে তো তন্ময় বুঝতে পারেনি।সবসময় জেসি তন্ময় কে একটু এড়িয়ে চলেছে।জেসি তখন বারণ করেছে বারবার,নিজের সম্মান এর কথা উল্লেখ করেছে তবে আজ জেসির হলোটা কি?তন্ময় ভাবলো মেয়েরা তো এমন হয় না।নিজেই বিড়বিড় করে বলল,

“মিলি তো এমন ছিল না।বিয়ের পরও তো প্রথম প্রথম আমায় দেখে লজ্জা পেতো।জেসিও তো আগে এমন ছিল,তবে আজ কি হলো?তাই বলে নিজের সম্মানের দিকে নজর দেবে না?”

হঠাৎ করে তন্ময় ভাবনার মাঝে নিজেই থমকে গেল।মিলি আর জেসির পার্থক্য করছে কেন?এইসব তো ঠিক না।নিজেই দুহাতে নিজের চুল খামচে ধরল তন্ময়।বিছানার উপর থেকে জেসির স্কার্ফটা তুলে সেটা বারান্দায় ছুঁড়ে ফেলল।লাইট বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে পড়লো।তবে বিছানার চাঁদর বালিশে কেমন যেন একটা ভ্যাপসা বাজে গন্ধ হয়ে গেছে।অনেকদিন বাড়িতে কেউ ছিল না,দরজা জানলা সব বন্ধ থাকার কারণে বোধহয় এমন হয়েছে।তন্ময় তো আসার পর বাড়ি ঘর কিছুই ঠিক করেনি।এই গন্ধের সাথে ঘুমোনো যাবে না।তন্ময় উঠে আবার ঘরের লাইট জালালো।আলমারি খুঁজে বিছানার চাদর বের করার চেষ্টা করল তবে সে এবারও ব্যর্থ হলো।আলমারি থেকে মিলির একটা সুতি ওড়না বের করল।

এই ওড়নাটা তন্ময় চেনে।ওর ভীষণ পছন্দের।

কলেজ জীবনে যখন মিলির সাথে নতুন নতুন প্রেম চলে তখন এই জামাটা পড়ে মিলি আসতো কলেজে।ভীষণ ভালো লাগতো মিলি কে দেখতে।জামাটা অবশ্য নষ্ট হয়ে গেছে কিন্তু মিলি এখনো ওড়নাটা যত্ন করে রেখে দিয়েছে।আর এর কারণটাও তন্ময় জানে।কিছুক্ষণ আগে ওড়নাটার দিকে তাকিয়ে থাকল তন্ময়।খুব তাড়াতাড়ি আবার নিজের ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে এসে আলমারিটা বন্ধ করে ওড়নাটা দিয়ে বালিশটা কোনরকমে পেঁচিয়ে শুয়ে পড়ল।খেয়াল করলো ওড়না থেকে মিলির গায়ের গন্ধ আসছে।তন্ময় জানে না এখনো মিলির গায়ের গন্ধ ভালো লাগে নাকি লাগেনা।তবে হ্যাঁ আজ ভালো লাগছে।ওই ভ্যাপসা গন্ধের থেকে অন্তত ভালো আছে।

ঘুমিয়ে পড়লে তন্ময়।খুব তাড়াতাড়ি ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল।অথচ একটু আগেও অস্থিরতা কাজ করছিলো।কে জানে সারা দিনের দুর্বলতার জন্য দুচোখে এত তাড়াতাড়ি ঘুম নামলো নাকি একদম খুব কাছাকাছি কোন প্রিয় সুগন্ধের কারণে?

_________

সন্ধ্যার পরে মিলির শরীরটা আজ ভীষণ খারাপ করল।শরীর এতটাই দুর্বল লাগছে যে ঠিকঠাক যেন বসেও থাকতে পারছে না।শুয়ে থাকলে মনে হচ্ছে গায়ে কোন বোধশক্তি নেই।এসব তবুও ঠিক ছিল কিন্তু তারপরে পেটের একপাশে হালকা একটু ব্যথা অনুভব করছে।সেই ব্যাথাটা নিয়ে এখন ভীষণ চিন্তায় পড়েছে।সময় তখন রাত দশটা পেরিয়ে গেছে।এই সময়ে এখানে গাড়ি পাওয়া যাবে না এখন আর।একেই তো সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে,রাস্তাঘাটের অবস্থাও খারাপ,তাছাড়া এমনিতেই এই জায়গাটাতে একটু কমই গাড়ি পাওয়া যায়।লাবিবা একটু পরপরই ঘরে এসে মিলির খোঁজখবর নিয়ে যাচ্ছে।অনেকবারই অবশ্যই মিলিকে বলেছে হাসপাতালে যাওয়ার কথা কিন্তু নিজেও জানেনা যে এখন কি করে নিয়ে যাবে।

মাহবুবের কল এলো মিলির ফোনে।নামটা দেখতেই মিলি চেষ্টা করলো নিজেকে যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখার কথা বলার সময়।কেননা মাহবুব যদি এখন বুঝতে পারে যে তার শরীরটা খারাপ করছে তাহলে ওখান থেকেই অস্থির হয়ে যাবে।বলা যায় না আবার যদি রাতে রওনা দিয়ে দেয়।

“হ্যাঁ ভাইয়া বলো?”

বিজ্ঞাপন

“ঠিক আছিস তুই?”

“হ্যাঁ ভাইয়া আমি ভালো আছি।তোমরা ভালো আছো সবাই?”

“বাকিদের খবর জানিনা তবে তোর চিন্তা আমায় ভালো থাকতে দেয় না।”

মিলি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“ফরহাদ স্যারকে অযথা আমার ব্যাপারে এসব কেন অনুরোধ করেছো?আমার জন্য কারো সামনে তোমায় ছোট হতে হবে না ভাইয়া।আর এমনিতেও এত মানুষের মাঝে যদি উনি আমাকে আলাদা সুযোগ সুবিধা দেন তাহলে পাঁচ লোকে পাঁচটা কথা বলবে।তুমি আর ওনাকে কিছু বলবে না আমার ব্যাপারে।”

“তার আগে তুই আমাকে বল তুই আমাকে মিথ্যে একটা কোম্পানির নাম কেন বলেছিলি?তুই এই কোম্পানির নামটা আগে বললে তো আমি আগেই জেনে যেতাম যে ফরহাদের কোম্পানিতে তুই কাজ পেয়েছিস।”

“এখন জানার পর তুমি ফরহাদ স্যারকে যে কারণে রিকুয়েস্ট করেছো সেই কারণে আমি তোমাকে আসল কোম্পানির নামটা বলিনি।দেখো ভাইয়া আমি জানি এসব কোম্পানির সাথে তোমার ভালো সম্পর্ক থাকবে এটাই স্বাভাবিক।আর আমি এটাও জানি তুমি কোন না কোন সময় ঠিক আমার জন্য কিছু একটা অনুরোধ করবে বা তুমি নিজ থেকে অন্য কারো মাধ্যমে আমাকে কোন সাহায্য করার চেষ্টা করবে যেটা আমি চাইনি।বা হয়ত ওরাও আমার পরিচয় জানার পর আলাদা সুযোগ দেবে।সেই কারণেই বলিনি তোমায়।”

“আমার থেকে সাহায্য নিতে তোর এত সংকোচ মিলি?”

“সংকোচ না ভাইয়া অপরাধবোধ।নিজেকে স্বার্থপর মনে হয় যে শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের জন্য তোমায় ব্যবহার করছে।যাই হোক বাদ দাও এসব কথা খেয়েছ রাতে?”

অপর পাশ থেকে মাহবুব উত্তর দেওয়ার আগে লাবিবা ঘরে প্রবেশ করতে করতে উৎকণ্ঠিত গলায় বলল,

“মিলি এখন ঠিক আছো?ব্যথাটা কমেছে?নাকি শরীর আরো বেশি খারাপ করলো?”

মিলি তাড়াহুড়ো করে ইশারায় লাবিবাকে চুপ করতে বলল।তবে কাজটা করতে বোধহয় দেরি হয়ে গেল।কেননা মাহবুব শুনে ফেলেছে।মিলি কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে অপর পাশ থেকে উৎকণ্ঠিত গলায় বলল,

“কি হয়েছে তোর?শরীর খারাপ করছে?”

“আরে না না ভাইয়া এমনিতেই একটু দুর্বল লাগছিল।তেমন কিছু না।”

“মিথ্যে বলিস না আমায় মিলি।আমি স্পষ্ট শুনলাম ব্যথার কথা বলছিলো।কি হয়েছে তোর আমায় বল?”

“বললাম তো ভাইয়া কিছু হয়নি।”

“তুই কথা দিয়েছিস আমার থেকে কিছু লুকবি না।”

অগত্যা মিলি বলল,

“তেমন কিছু না ভাইয়া পেটে একটু ব্যথা করছিল।”

অপর পাশ থেকে মাহবুব হালকা রাগান্বিত গলায় বলল,

“এটাকে তোর অল্প কিছু মনে হচ্ছে মিলি?প্রেগনেন্সির সময় তোর ভাবীর এই সমস্যাটার জন্য ডাক্তার কতটা গুরুতর কথা বলেছিল তোর মনে নেই?তুই এখন এটাকে এত হালকা ভাবে কি করে নিচ্ছিস?এক্ষুনি হসপিটালে যাবি।কে আছে তোর সাথে ওকে ফোনটা দে তো আমি বলে দিচ্ছি।”

“না ভাইয়া তার কোন দরকার নেই।তুমি চিন্তা করোনা।এমনিতে এখন এখানে কোন গাড়ি পাবো না।হাসপাতালও বেশ অনেকটা দূরে।”

“গাড়ি পাবি না মানে কি?জঙ্গলের ভিতরে বাসা ভাড়া নিয়েছিস যে গাড়ি পাবি না?”

“আরে না না ভাইয়া তেমনটা না।এই জায়গাটা একটু এমন।অনেক রাত হয়ে গেছে,তার মাঝে আজ সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে,রাস্তাঘাটও খুব একটা ভালো না।”

“ঠিক আছে ফোন রাখছি।”

কথাটা বলে মাহবুব ফোনটা কেটে দিল।মিলিও ঠিক বুঝতে পারলো না মাহবুব রেগে গেল নাকি অন্য কিছু কি করবে।কেননা মিলির শরীর খারাপের কথা শুনে তো এত তাড়াতাড়ি ফোনটা রেখে দেওয়ার কথা না।মিলি ফোনটা রাখতেই লাবিবা অপরাধী গলায় বলল,

“আমি কি কোন সমস্যা তৈরি করলাম?”

“আসলে ভাইয়াকে জানাতে চাচ্ছিলাম না যে আমার শরীরটা খারাপ লাগছে কিন্তু শুনে ফেলেছে।”

“আচ্ছা মিলি তোমার শরীরটা কি এখন বেশি খারাপ লাগছে?”

“খারাপ তো লাগছে,ব্যথাটা এখন হালকা আছে।তবে ভয় পাচ্ছি যদি মাঝরাতে ব্যাথা তীব্র হয়?”

মিলির কথার গুরুত্বটা লাবিবা বুঝতে পেরে কিছুক্ষণ ভাবনাচিন্তার পরে বলল,

“আচ্ছা ঠিক আছে তুমি তাহলে এখানে থাকো।আমি একটু দূরে গিয়ে দেখি যদি গাড়ির কোন ব্যবস্থা করতে পারি।দরকার পড়লে ডাবল ভাড়া দিয়ে দেব।”

লাবিবার কথার প্রেক্ষিতে মিলি চিন্তিত গলায় বলল,

“এই রাতের বেলা তুমি একা যাবে?ঠিক হবে না লাবিবা।”

“মাঝরাতে যদি অসুস্থতা বেড়ে যায় তখন কি হবে সেটা ভেবেছো?”

মিলি একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলল,

“দেখা যাক কি হয়।আজ রাতটা কষ্ট করে না হয় কোনোমতে পার করে দেবো।কিন্তু এখন তোমার একা যাওয়াটা একদমই ঠিক হবে না।এই জায়গাটা ভালো না।একেই দুটো মেয়ে একটা ফ্ল্যাটে একা থাকি বলে আমার ভীষণ চিন্তা হয়।তার মাঝে এভাবে তোমাকে একা একা আমি ছাড়তে পারবো না।আমার জন্য যদি তোমার কোন কিছু হয়ে যায় আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।”

ওদের কথার মাঝেই মিলির ফোনটা বেজে উঠলো।স্ক্রিনের নাম্বারটা অপরিচিত লাগলো।এত রাতের বেলা অপরিচিত কে কল করল ব্যাপারটা মিলিকে বেশ ভাবালো।তবে খুব বেশিক্ষণ ভাবনা চিন্তা না করে ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশে থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।সেই সাথে মানুষটা নিজের পরিচয় দিল।

“মিলি আমি ফরহাদ বলছি।”

এত রাতে ফরহাদ কল করেছে ব্যাপারটা মিলির কাছে একটু কম হজমযোগ্য বলে মনে হলো।ইতস্তত গলায় বলল,

“হ্যাঁ বলুন।এত রাতে কেন?”

“দেখুন মিলি,এই শহরটায় আপনি একা একটা মেয়ে থাকেন,আপনার শরীরের এই অবস্থা।কোন সমস্যা হলে আমাকে তো বলতে পারেন তাই না?আপনি আমার থেকে অনেকটা দূরে থাকেন।আপনি কোন সমস্যার কথা না বললে তো আমি সাহায্য করতে পারবো না।”

মিলি এবারে বুঝলো ফরহাদের কল করার কারণটা।তার মানে মাহবুব ফরহাদকে কল করে নিশ্চয়ই সবকিছু বলেছে।

“আপনাকে ভাইয়া কল করেছিল তাই না?”

“ভাগ্যিস কল করেছিল।আমি গাড়ি পাঠিয়েছি আমার।আসলে আমি যেতাম কিন্তু আমি একটু সমস্যার মাঝে আছি জন্য যেতে পারছিনা।আপনার সাথে তো মিস লাবিবা থাকে আপনি ওনাকে সাথে নিয়ে আসুন হসপিটালে।”

মিলি কেন যেন আর কোন আপত্তি জানালো না।ওর নিজেরও মনে হলো যে ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা দরকার।

“ধন্যবাদ আপনাকে।”

“আচ্ছা শুনুন আমি আপনাকে আমার গাড়ির নাম্বারটা পাঠাচ্ছি।চেক করে তারপর উঠবেন।”

মিলি ফোনটা রাখতেই লাবিবা উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ওকে প্রশ্ন করল,

“ফরহাদ স্যার কল করেছিল?”

“হ্যাঁ।”

লাবিবার আগ্রহ যেন এবার আরও দ্বিগুণ বেড়ে গেল।বিছানার উপরে মিলির মুখোমুখি বসে বলল,

“কেন কল করেছিল?”

“উনি বললেন গাড়ি পাঠাচ্ছেন হাসপাতালে যেন যাই।”

লাবিবা অবিশ্বাস্য গলায় বলল,

“সত্যি বলছ উনি তোমার জন্য গাড়ি পাঠাচ্ছেন?এই মিলি আমার না বিশ্বাস হচ্ছে না।যে মানুষটা অফিসে কোন এমপ্লয়ির সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা অবধি বলেন না সে কিনা নিজ থেকে তোমায় ফোন করে আবার গাড়িও পাঠাচ্ছেন।এখন তো আমার অসুস্থ হয়ে যেতে ইচ্ছে করছে।”

মিলি লাবিবার কথার ভাবভঙ্গি দেখে শব্দ করে হেসে ফেলল।মেয়েটা বোধহয় স্বপ্নের দুনিয়ায় বিচরণ করছে।সাধারণ বিষয় গুলো ওর কাছে খুবই অদ্ভুত লাগছে।

“ফরহাদ স্যারকে আমার ভাইয়া আগে থেকেই চেনেন, পরিচিত ওনারা।ভাইয়া ওনাকে ফোন করে বলেছেন জন্য উনি শুধু গাড়ি পাঠাচ্ছেন,নিজে আসছেন না।”

“তবুও গাড়ি তো পাঠাচ্ছে।এটাই কম কিসের?দেখো হাসপাতালে গেলে হয়তো ওখানেও চলে আসবে কাজ শেষ করে।”

“মনে হয় না।গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজে আছে ওনার।”

“আরে রাখো গুরুত্বপূর্ণ কাজ।তোমার থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ মনে হয় এখন আর ওনার কাছে নেই।”

কথাটা বলে লাবিবা এবার নিজেই দাঁত দিয়ে জিভ কাটলো।মিলির দিকে তাকিয়ে দেখলো মিলি ওর দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে।জোরপূর্বক মুখে একটা হাসি টেনে লাবিবা বলল,

“ইয়ে না মানে এমনি বলছিলাম আরকি।পরিচিত তো তোমার তাই।”

মিলি মৃদু গম্ভীর কন্ঠে বলল,

“ভাবনার মাঝে একটা সীমা রাখতে হয় লাবিবা।দয়া করে কখনো এমন কোন কথা বলোনা কিংবা এমন কোন ইঙ্গিত দিও না যাতে আমি কষ্ট পাই।অনেকদিন পর আবারো কাউকে বিশ্বাস করে তাকে বন্ধু বানিয়েছি।দয়া করে আমার বিশ্বাসের মর্যাদাটা রেখো।”

লাবিবা এবার একটু ভয় পেল।ওর কথায় মিলি মনে হয় কষ্ট পেয়েছে।অপরাধী গলায় বলল,

“আচ্ছা আ’ম রিয়েলি সরি।আর কখনো বলবো না।এমনি মজা করছিলাম।আসলে মানে আমি বলতে চাইছিলাম যে ওনার এমপ্লয়িদের সাথে খুব একটা বেশি মেশেন না উনি,তোমার জন্য এতটা কেয়ারিং হতে দেখে একটু ভাবনায় পরে গেছিলাম।”

“এখানে কেয়ারিং হওয়ার কিছুই নেই।আমার ভাইয়াকে উনি ভীষণ শ্রদ্ধা করেন জন্য আমার ভাইয়ার অনুরোধ ফেলতে পারেননি।এটাকে এক প্রকার তুমি দয়া হিসেবেও দেখতে পারো।এখানে কেয়ারিং এর কিছুই নেই।”

লাবিবা আর কথা বাড়ালো না।কেননা ওর যাই মনে হোক না কেন মিলি সে সবটাই নিজের যুক্তি দিয়ে ভেঙে ফেলবে।চুপচাপ অপেক্ষা করতে লাগলো গাড়ি আসার জন্য।

বিজ্ঞাপন
রিক্ত বসন্ত গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সামাজিক ও পারিবারিক উপন্যাস